× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
This time the Shabi students in the movement boycotted the class examination
hear-news
player
print-icon

এবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে শাবি ছাত্রীরা

এবার-ক্লাস-পরীক্ষা-বর্জন-করে-আন্দোলনে-শাবি-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে ছাত্রীরা। ছবি: নিউজবাংলা
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শামীমা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আজ থেকে ক্লাস পরীক্ষাও বর্জন করেছি আমরা।’

তিন দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন চতুর্থ দিনের মতো অব্যাহত রেখেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা।

মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছে তারা।

এতে বন্ধ হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়কের যান চলাচল। কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ বা বের হতে পারছে না।

সেখানে অবস্থানরত ছাত্রীরা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। এ ছাড়া তাদের শনিবারের কর্মসূচিতে হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করে জড়িতদের বিচারও দাবি করছেন।

সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা ও সহকারী প্রাধ্যক্ষদের পদত্যাগ, অবিলম্বে হলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর করে সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ছাত্রীবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রাধ্যক্ষ কমিটি নিয়োগ দেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলন করছেন সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা।

শুক্রবার উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে দাবি মেনে নেয়ার জন্য শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময় বেধে দেয় তারা।

এরপর শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে ছাত্রীরা। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ ওঠে।

যদিও ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে শাবি ছাত্রীরা

রাতে আন্দোলনরত ছাত্রীদের সাথে কথা বলতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির।

তারা ছাত্রীদের দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের হলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে ছাত্রীরা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত হলে না গিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানায়।

রাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে তারা।

নিউজবাংলাকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শামীমা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আজ থেকে ক্লাস পরীক্ষাও বর্জন করেছি আমরা।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আলমগীর কবির বলেন, ‘ছাত্রীদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তাদের হলে ফিরে যাওয়ারও অনুরোধ করেছি। তবু তারা শোনেনি।’

দু’একটি বিভাগ ছাড়া বাকি সব বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।

ছাত্রীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে শাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকায় হলে ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ হিসেবে আরেকজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর ছাত্রীদের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন করবে শাবি ছাত্রীরা
শাবিতে ছাত্রীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগের ‘হামলা’
২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে হলে ফিরলেন শাবি ছাত্রীরা
প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ফের আন্দোলনে শাবি ছাত্রীরা
মধ্যরাতে শাবিতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ কেন?

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Complaint of removing the patient from the emergency department

জরুরি বিভাগ থেকে রোগী বের করে দেয়ার অভিযোগ

জরুরি বিভাগ থেকে রোগী বের করে দেয়ার অভিযোগ
চিকিৎসক রুবিনা বলেন, ‘রোগী তাড়াহুড়া করায় তাকে হাসপাতালের সহকারী মেডিক্যাল অফিসার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। কারণ তিনিই প্রেশার মাপেন। আর সাংবাদিকের বিষয়টা হলো, তখন আমার মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই ওভাবে বলেছি।’

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে জরুরি বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জরুরি বিভাগের ওই চিকিৎসক রুবিনা আক্তার বলছেন, তিনি রোগীকে বের করে দেননি। প্রেশার মাপতে চাওয়ায় সহকারী মেডিক্যাল অফিসার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছিলেন।

চিকিৎসা নিতে যাওয়া মুন্সী মহাসীন আলী নামের ওই রোগীর বাড়ি জীবননগর পৌর এলাকার হাইস্কুলপাড়ায়।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আমি জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যাই। সেখানে ডাক্তার রুবিনা আক্তার ছিলেন। ব্যথা বাড়তে থাকায় আমি দ্রুত চিকিৎসা দিতে বলি। তিনি তা না শুনে ওষুধ কোম্পানির এক রিপ্রেজেন্টেটিভের সঙ্গে গল্পে ব্যস্ত ছিলেন।

‘দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর প্রেশার মাপার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, প্রেশার মাপা তার কাজ না। যিনি প্রেশার মাপবেন তিনি বাইরে গেছেন। তিনি এসে প্রেশার মাপবেন।’

মহাসীন আরও বলেন, “আমার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমি তাকে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে অনুরোধ করি। তখন তিনি আমার ওপর রেগে যান। খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। আমি তার নাম জানতে চাইলে বলেন, ‘নাম শুনে কী করবি? এমপি টগরকে বলবি? বলগে যা। বলে যদি কিছু করতে পারিস করগে যা। এখান থেকে বের হয়ে যা।’”

পরে সেখান থেকে বেরিয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন মহাসীন।

তিনি বলেন, ‘একজন নাগরিক হিসেবে চিকিৎসা সেবা পাওয়া আমার অধিকার। সেখান থেকে আমাকে বের করে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার আমি ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেব।’

রোগীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ শুনে চিকিৎসক রুবিনার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন জীবননগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এম আর বাবু।

বাবু বলেন, “আমি ফোন দিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকে আপনি এভাবে প্রশ্ন বা জেরা করতে পারেন না। আপনার যা ইচ্ছা তা লিখতে পারেন।’ এই কথা বলে তিনি আমার কল কেটে দেন। ওই চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে জীবননগর প্রেসক্লাব থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পাঠানো হবে।”

এসব অভিযোগের বিষয়ে রুবিনা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোগী তাড়াহুড়া করায় তাকে হাসপাতালের সহকারী মেডিক্যাল অফিসার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। কারণ তিনিই প্রেশার মাপেন। আর সাংবাদিকের বিষয়টা হলো, তখন আমার মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই ওভাবে বলেছি।’

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। আমি অফিসের জরুরি কাজে ঢাকায় আছি। ফিরে এসে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
মৌলিক অধিকার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে
কুষ্টিয়া হাসপাতালে ইন্টার্নশিপের জন্য টাকা চাওয়ার অভিযোগ
ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল: ১৮ মাসের কাজে ৩ বছর পার
রোগীর স্বজনদের পেটাল হাসপাতালের আনসাররা
দুর্নীতির খোঁজে হাসপাতালে দুদক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hashem Alis dream has sunk

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন জামালপুরে বন্যায় ২০ গ্রামের পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা
‘প্রতি বছর সাধারণ ধান কাটা শেষে আষাঢ়ের মাঝামাঝি বন্যা আসে। এ বছর কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ যমুনার পানি ঢুকে পড়ে। বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুত না থাকায় এ এলাকার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।’

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের কাপাসহাঁটিয়া গ্রামের প্রান্তি কৃষক হাশেম আলী। কষ্টার্জিত জমানো টাকায় ১২ বিঘা জমিতে লাগিয়েছিলেন বোরো ধান। গত শনিবারের আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে তার স্বপ্নের ধান। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি।

শুধু হাশেম আলী নন। মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ও ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের কাপাসহাঁটিয়া, শেখ সাদি, টুপকারচর, ফকিরপাড়া, বেলতৈল, বাগবাড়ি, পূর্ব কাপাসহাটিয়া, তালুকপাড়াসহ ২০ গ্রামের আশপাশের কয়েক হাজার একর জমিতে বোরো আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত শত শত কৃষক।

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

শনিবার রাতে উজানের ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আকস্মিক বন্যায় এই ২০ গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার জমির পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দিশাহারা এসব কৃষক যে যেভাবে পারছে ধান কাটার চেষ্টা করছে। কিন্তু শ্রমিক আর নৌকা সংকটের কারণে বেশির ভাগ ক্ষেতের ধান ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। আবার উৎপাদন খরচ না উঠায় অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন ধানের আশা।

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

কৃষক হাকিম আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পানিতে তলানো ধান কাটার জন্যে দেড় হাজার টাকা দিয়েও কামলা পাওয়া যাইতাছে না। যাগর একটু টাকা-পয়সা আছে, খালি তারাই ধান কাটতাছে। যাগর টাকা নাই তারা আর ধান কাটতে পারতাছে না। আমরা খুব কষ্টে আছি।’

কৃষক জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘তলায় থাকা ধান কাটার পর রাস্তা পর্যন্ত যে আনমু, এহন নৌকা পাওয়া যাইতাছে না। এডা নৌকা আনবের গেলে এক ঘণ্টার জন্যে ১০০০ হাজার টাকা দেওয়া লাগে। কামলা খরচ দিয়ে, নৌকা খরচ দিয়ে ধান কাইটে পুষাইতাছে না। তাই বেশির ভাগ ধান ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাইতাছে।’

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

কাপাসহাঁটিয়া গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি সাত বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। পানিতে ডুবে গেছে পুরো জমির ধান। দিনে দেড় হাজার টাকা মজুরি দিয়ে শ্রমিক আর ঘণ্টায় হাজার টাকার চুক্তিতে নৌকা ভাড়া নিয়ে দুই বিঘার ধান কেটে রাস্তায় তুলেছেন। বাকি ধান এখনও পানির নিচে ডুবে আছে।

কৃষক আকবর আলী বলেন, ‘আমরা যে ক্ষতির শিকার হয়েছি, এহন যদি সরকার আঙ্গরে সাহায্য না করে তাইলে সারা বছর না খায়ে থাকা লাগব।’

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

ঝাউগড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিল্লোল সরকার বলেন, ‘প্রতি বছর সাধারণত ধান কাটা শেষে আষাঢ়ের মাঝামাঝিতে বন্যা আসে। এ বছর কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ যমুনার পানি ঢুকে পড়ে। বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুত না থাকায় এ এলাকার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।’

মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, উপজেলায় এ বছর ২০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে ঝাউগড়া ও ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নেই আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর।

তলিয়ে গেছে হাশেম আলীদের স্বপ্ন

জামালপুর কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক শাখাওয়াত ইকরাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিমজ্জিত ধান কাটতে কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ দেয়া ছাড়াও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
সারা দেশে বৃষ্টি আরও কয়েক দিন
বোরোর মৌসুমে ধান সংগ্রহ শুরু
ঘূর্ণিঝড় আসানি: আধাপাকা ধান কাটছেন চাষি
ঘুম ভাঙাল বৃষ্টি
শীতলতার পরশ নিয়ে এলো বৃষ্টি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Arrest of fraud showing greed for government job

সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে ‘প্রতারণা’, গ্রেপ্তার ২

সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে ‘প্রতারণা’, গ্রেপ্তার ২
ডিবির ওসি মাহাব্বুর বলেন, ‘শান্ত আগে বিজিবির বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। সরকারি চাকরি দেয়ার নামে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালিক হয়েছেন।’

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরির লোভ দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মুক্তিপাড়া ও ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বুধবার রাত ১টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই দুই যুবক হলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী রাশেদুজ্জামান শান্ত ও সদর উপজেলার পিরোজখালী গ্রামের ৩০ বছর বয়সী বিল্লাল হোসেন।

ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, শান্ত দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে এনএসআইয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পরিচয় দিতেন। এই পরিচয়ে তিনি চাকরি দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ করতেন।

সম্প্রতি এনএসআইয়ের জুনিয়র ফিল্ড অফিসার ও এরিয়া অফিসার পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে শান্ত কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেন।

এরপর আলমডাঙ্গা উপজেলার কাবিলনগর গ্রামের আব্দুল লতিফ বুধবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় শান্ত ও বিল্লালসহ দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মামলা করেন।

পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুক্তিপাড়ায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে শান্তকে গ্রেপ্তার করে। তার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় ১৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরে ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তার সহযোগী কাঠমিস্ত্রি বিল্লালকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি মাহাব্বুর বলেন, ‘শান্ত আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুর সবুরকে চাকরি দেয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর শান্ত ও বিল্লালের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

‘শান্ত আগে বিজিবির বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। সরকারি চাকরি দেয়ার নামে তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে তোলা হবে।’

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, দুজন গ্রেপ্তার
গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের জায়গা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ
ভূমি অধিগ্রহণে প্রতারণা, সার্ভেয়ারকে বরখাস্তের সুপারিশ
১০ লাখ টাকা আত্মসাতে বিআইডব্লিউটিএ কর্মচারীর কারাদণ্ড
এয়ার টিকিট বিক্রির প্রতারক চক্র, হোতা গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Due to lack of space the truck terminal will be the bus terminal

জায়গা স্বল্পতায় ট্রাক টার্মিনাল হবে বাস টার্মিনাল

জায়গা স্বল্পতায় ট্রাক টার্মিনাল হবে বাস টার্মিনাল বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। ছবি: নিউজবাংলা
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রয়েছে সেখানে বাস রাখার জন্য জায়গার স্বল্পতা রয়েছে। তাই মেয়র মহোদয় ট্রাক টার্মিনালে বাস টার্মিনাল স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অস্থায়ীভাবে সেখান থেকেই বাস চলাচল করবে।’

জায়গা স্বল্পতার সমস্যা মেটাতে অস্থায়ীভাবে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি করপোরেশন।

আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বাস টার্মিনালটি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ট্রাক টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সিটি সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। বুধবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে তিনি বিষয়টি জানান।

জেলা বাস মালিক গ্রুপের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় পাঁচ বছর আগেও অভ্যন্তরীণ রুটে ৯০টি বাস ছিল। বর্তমানে সেই বাসের সংখ্যা ১৯০টি এবং দূরপাল্লার রুট মিলিয়ে এই টার্মিনালে বাস আছে তিন শতাধিক। তবে এত বাস রাখার জন্য যথেষ্ট জায়গা নেই এই কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে।

জায়গা না পেয়ে বাস রাখা হয় টার্মিনাল সংলগ্ন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সামনের সড়কে। এতে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে সড়ক। বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল।

পাশাপাশি বাস মালিক ও শ্রমিকরা রয়েছেন চুরির আতঙ্কে। খোলা জায়গায় বাস রাখায় বিভিন্ন সময় ব্যাটারিসহ নানা যন্ত্রাংশ চুরির মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ।

সাদি পরিবহনের চালক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাস টার্মিনালের যে বর্তমান অবস্থা, তাতে বাস রাখা অনেক কষ্টের। বাস একবার টার্মিনালের মধ্যে ঢুকালে বের করতে জান-পরান বের হয়ে যায়। জরুরি ট্রিপ থাকলে তো ভোগান্তির শেষ নাই। তাই বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর বাস রাখতে হয়। টার্মিনালে যে জায়গা রয়েছে, তার থেকে দ্বিগুণ জায়গা প্রয়োজন। তাহলে ভোগান্তি কমে যাবে।’

তুফান মেল পরিবহনের চালক সুমন বলেন, ‘রাস্তার ওপরে গাড়ি রাখলে নানা সমস্যা হয়। অনেক বাসের ব্যাটারি চুরি হইছে। বাইরে বাস রাখাটা রিস্ক। শুনছি ট্রাক টার্মিনালের জন্য যে জায়গা করছিল ওই জায়গায় বাস স্ট্যান্ড নেবে। বাস স্ট্যান্ডের চাইতে ট্রাক টার্মিনালের জায়গা বড়। সব বাস রাখাও সম্ভব হবে। এইটা হইলে ভোগান্তি মনে হয় কমবে।’

জায়গা স্বল্পতায় ট্রাক টার্মিনাল হবে বাস টার্মিনাল

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বলেন, ‘দিন দিন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসের সংখ্যা বাড়ছেই। পদ্মা সেতু চালু হলে নতুন অনেক কোম্পানির বাস এই টার্মিনালে থাকবে। এখন যে বাস রয়েছে সেই বাসগুলোকেই জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। টার্মিনালের সামনে যানজটও অনেক বেড়েছে।

‘জনগণের ভোগান্তি তো হচ্ছেই, বাস মালিকরাও ভোগান্তিতে রয়েছে। এমন অবস্থায় মেয়র সেরনিয়াবাত জনভোগান্তির কথা বিবেচনা করে কাশিপুরে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ট্রাক টার্মিনালে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

কিশোর জানান, যন্ত্রাংশের দোকানগুলোও সেখানে স্থানান্তর করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই বাস টার্মিনাল ট্রাক টার্মিনালে স্থানান্তর হবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রয়েছে সেখানে বাস রাখার জন্য জায়গার স্বল্পতা রয়েছে। মেয়র মহোদয় ট্রাক টার্মিনালে বাস টার্মিনাল স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অস্থায়ীভাবে সেখান থেকেই বাস চলাচল করবে। বাসগুলো আর ঝুঁকি নিয়ে বাইরে কোথাও রাখতে হবে না। সব বাসই ট্রাক টার্মিনালে রাখা সম্ভব।

‘তা ছাড়া সিটি করপোরেশনের প্ল্যান অনুযায়ী বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রয়েছে সেখানে নগর ভবন এবং গড়িয়ারপারে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণের কথা রয়েছে। গড়িয়ারপারে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থায়ীভাবে স্থানান্তর হলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’

আরও পড়ুন:
বাইপোলার ডিজঅর্ডার কতটা প্রভাব ফেলে যৌনতায়
ঈদের পরও রেমিট্যান্সে সুবাতাস
লাইসেন্সের দাবিতে ইজিবাইক চালক‌দের বি‌ক্ষোভ
বিয়ের দাবিতে কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে জর্ডান প্রবাসী নারী
দেশে নার্স সংকট সোয়া দুই লাখ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
My village my city sure dream ambulance

‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স

‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্মীপুরে মানুষকে সেবা দিতে প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে যাচ্ছে স্বপ্নযাত্রা নামের অ্যাম্বুলেন্স। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে চাই। আমরা শহরের সুবিধা গ্রামেরও পৌঁছাতে চাই। সে লক্ষেই এই উদ্যোগ। আমরা এতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। সারা দেশে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে পারলে গ্রামীণ জনপদে মৃত্যুর হার অনেক কমে আসবে।’

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ও জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন। অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সেবা দিতে প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে যাচ্ছে ‘স্বপ্নযাত্রা’ নামের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।

এতে সাধারণ মানুষ সহজে সেবা নিতে পারবে। কমবে দুর্ভোগসহ নানা হয়রানি। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে লক্ষ্মীপুরে গ্রামীণপর্যায়ে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে শুরু হওয়া কার্যক্রমটি এখন পরিচালিত হচ্ছে ১০টি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে। এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো জেলার ৫৮টি ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে কেনা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সগুলো। ২৪ ঘণ্টায় সদরসহ জেলার ৫টি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাচ্ছে ‘স্বপ্নযাত্রা’।

‘আমার গ্রাম, আমার শহর’ নিশ্চিতে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স

সহজেই মানুষ অ্যাপের মাধ্যমে এই সার্ভিস ব্যবহারও করতে পারছেন। সে জন্য গুগল প্লে স্টোরে দেয়া হয়েছে স্বপ্নযাত্রা নামের একটি অ্যাপ, যা ডাউনলোড করে সেবার বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

সদর উপজেলার হামছাদীর আয়েশা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, হঠাৎ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিতে বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজে না পেয়ে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সেবা কার্যক্রমে কল দেন স্বজনরা। স্বল্প খরচে অল্প সময়ে বাড়িতে পৌঁছে যায় অ্যাম্বুলেন্স। স্বল্প সময়েই পৌঁছান হাসপাতালে। কয়েক দিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন তিনি।

উত্তর হামছাদীর নাজমুল করিম টিপু বলেন, ‘প্রতি কিলোমিটার রোগীদের কাছ থেকে এসি গাড়ি ২০ টাকা হারে নেয়া হচ্ছে। যেখানে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স করে ভাড়া দিতে হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। সেখানে এ সার্ভিসের মাধ্যমে নেয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।’

এমন সেবায় খুশি তারা। তাদের ভাষ্য, তারা সহজে যেমন সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি স্বল্প খরচে সবাই সেবাও নিতে পারছেন।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সালাউদ্দিন টিপু বলেন, ‘কম খরচে ও সঠিক সময়ে এ সেবা পেয়ে খুশি সাধারণ মানুষ। এ সেবা কার্যক্রম জেলাজুড়ে ব্যাপক সাড়া মিলেছে।’

প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনিও। তার দাবি, এ ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষগুলো স্বাস্থ্যসেবা নিতে সহজ হবে। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার দাবি জানান তিনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, 'আমার গ্রাম, আমার শহর’ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে লক্ষ্মীপুরে গ্রামীণপর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে। সরকারি অনুদানে নয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে চলছে এ কার্যক্রম।’

জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে চাই। আমরা শহরের সুবিধা গ্রামেও পৌঁছাতে চাই। সে লক্ষেই এই উদ্যোগ। আমরা এতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। সারা দেশে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে পারলে গ্রামীণ জনপদে মৃত্যুর হার অনেক কমে আসবে।’

এটি অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি এ কার্যক্রমে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
ভারতের উপহারের আরও ৪০ অ্যাম্বুলেন্স বেনাপোলে
মোদির উপহারের ৪০ অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা আসছে বৃহস্পতিবার
বেনাপোল ছেড়েছে ভারতের উপহারের ৩০ অ্যাম্বুলেন্স
ভারতের উপহারের ৩০ অ্যাম্বুলেন্স বেনাপোলে
চট্টগ্রামে বিনা মূল্যে মিলবে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Who was here thousands of years ago

হাজার বছর আগে কারা ছিল এখানে

হাজার বছর আগে কারা ছিল এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘কপিলমুনি ঢিবি’। ছবি: নিউজবাংলা
খুলনা শহর থেকে সড়কপথে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের ওই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটিতে গিয়ে দেখা গেছে, ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৮০ মিটার প্রস্থজুড়ে খননকাজ হয়েছে। সমতল থেকে মাটির প্রায় ৭ ফুট গভীরে খনন করা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।

টেরাকোটা, মূর্তি, মাটির তৈরি বড় কড়াইয়ের আংটা, কড়ি, চাল, ইটের মতো আরও অসংখ্য নিদর্শন একে একে বেরিয়ে এসেছে। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের রেজাকপুর গ্রামে প্রত্নতাত্তিক খননের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসে হাজার বছরের পুরোনো এসব নিদর্শন।

গত ১২ মার্চ থেকে শুরু করে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত এই খননকাজ চলে। খননে বেরিয়ে আসা প্রত্নতাত্ত্বিক ওই স্থানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘কপিলমুনি ঢিবি’।

খননকাজে নিয়োজিত দলটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা।

তিনি বলেন, ‘রেজাকপুর গ্রামে আমরা যে নিদর্শনগুলো পেয়েছি, ধারণা করা হচ্ছে তা এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ বছরের পুরোনো।’

হাজার বছর আগে কারা ছিল এখানে

তিনি জানান, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা অঞ্চলে আগেও অনেক নিদর্শন পাওয়া গেছে। সেসব নিদর্শনের সঙ্গে কপিলমুনি ঢিবির নিদর্শনের অনেক মিলও রয়েছে। বিশেষ করে যশোর জেলার কেশবপুরের ভরতভায়নার নিদর্শনের সঙ্গে অনেক মিল। সেখানকার ইটগুলোর সঙ্গে কপিলমুনিতে পাওয়া ইটগুলোর খুবই সাদৃশ্য রয়েছে।

খুলনা শহর থেকে সড়কপথে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের ওই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটিতে গিয়ে দেখা গেছে, ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৮০ মিটার প্রস্থজুড়ে খননকাজ হয়েছে। সমতল থেকে মাটির প্রায় ৭ ফুট গভীরে খনন করা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে।

ওই ঢিবিতে একটি বর্গাকার স্থাপত্যকাঠামো আবিষ্কৃত হয়েছে। বর্গাকার এই স্থাপনার চারপাশে দেয়ালঘেরা একটি প্রদক্ষিণ পথও রয়েছে।

এখানে পাওয়া বিভিন্ন মাটির পাত্র ও পাত্রের ভাঙা অংশের মধ্যে হাঁড়ি, কলস, বাটি, থালা, বদনা, কড়াই, প্রদীপ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও পোড়ামাটির ফলকের ভাঙা অংশ, পোড়ামাটির প্রতিমার ভগ্নাংশ, অলঙ্কৃত ইট, কড়িসহ বিভিন্ন ধরনের প্রত্নতাত্ত্বিক উপকরণও পাওয়া গেছে।

বর্গাকার স্থাপত্যকাঠামোর উত্তর-পশ্চিম কোণ ও উত্তর-পূর্ব কোণের প্রদক্ষিণ পথের বাইরের দেয়ালসংলগ্ন মাটিতে মিশ্রিত অবস্থায় এক ধরনের কালো রঙের চাল পাওয়া গেছে। একে পোড়া চাল বলছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

এই চাল নিয়ে গবেষণা করলে এখানকার প্রাচীন আমলের ধানের প্রজাতিসহ প্রকৃতি-প্রতিবেশ সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে বলে তাদের ধারণা।

হাজার বছর আগে কারা ছিল এখানে

এই ঢিবি এলাকা এখন ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি। বহুকাল ধরেই স্থানীয়রা এখানকার টালিসদৃশ বিশেষ ইট নিজেদের কাজে ব্যবহার করেছেন।

কপিলমুনি ও সংলগ্ন সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার একাধিক জায়গায় এমন আরও ঢিবি রয়েছে। এ থেকে অনুমান করা হচ্ছে, এখানে আরও অনেক নিদর্শন পাওয়া যেতে পারে।

তবে হাজার বছর আগে এই অঞ্চলটিতে কারা বসবাস করেছিল, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আফরোজা খান মিতা বলেন, ‘এখনও নিশ্চিত না হওয়া গেলেও যেসব স্থাপনা ও নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে- সেখানে এমন কোনো জনগোষ্ঠী ছিল যাদের সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মের নিবিড় সংযোগ ছিল।’

সুন্দরবনসংলগ্ন এই অঞ্চলে বহুদিন আগে থেকেই মানুষের বসতি বলে ধারণা করা হয়। মহাকাব্য রামায়ণে কপিলেশ্বর মুনি ও বিশাল জলাভূমি বনের উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া সতীশচন্দ্র মিত্রের শত বছরের পুরোনো গ্রন্থ ‘যশোহর-খুলনার ইতিহাস’-এ কপিলমুনিতে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও স্থানের উল্লেখ রয়েছে। এই এলাকায় একাধিক ঢিবি থাকার কথাও অনেকে জানিয়েছেন।

অতীতে একটি পুকুর খননের সময় এই অঞ্চলে একটি বুদ্ধ প্রতিমা পাওয়া গিয়েছিল। আর কপিলমুনি বাজারের মন্দিরে থাকা বিষ্ণু মূর্তিটিও ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কপিলমুনি ঢিবিতে খনন শুরুর পর থেকে এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, গবেষকসহ বিদেশি প্রতিনিধিদলও ঘুরে গেছেন।

স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে অনুসন্ধিৎসু পাঠক, আইনজীবী বিপ্লব কান্তি মণ্ডলও কিছুদিন পর পর ওই খননস্থলটিতে ঘুরতে যান। তিনি বলেন, ‘অনেক পরে হলেও রেজাকপুরে খননকাজ করে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ একটি যথাযথ কাজ করেছে। তবে এই খননকাজটি আরও অনেক বিস্তৃত হওয়া উচিত। এত দিনে অনেক নিদর্শন হারিয়ে গেছে। যা আছে, তা রক্ষা করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
খানজাহানের ভিটা খননে সুলতানি আমলের নিদর্শন
মোগল আমলের মসজিদে লতাগুল্মের রাজত্ব
৫০০ কেজির বেলে পাথর জব্দ, গ্রেপ্তার ২
উঠান খুঁড়তে উঠে এল ১৪০০ বছর আগের নিদর্শন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
4 killed in truck crash in Laguna

লেগুনায় ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ৫ শ্রমিক

লেগুনায় ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ৫ শ্রমিক লেগুনায় ট্রাকের ধাক্কায় পাঁচ যাত্রী নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি লুৎফর রহমান জানান, হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে যাত্রী নিয়ে লেগুনাটি নাটোরের দিকে যাচ্ছিল। গোজা ব্রিজ এলাকায় পাথরবোঝাই একটি ট্রাক একে ধাক্কা দেয়।

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় পাথরবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় লেগুনার পাঁচ যাত্রী নিহত হয়েছেন। তারা সবাই কৃষি শ্রমিক ছিলেন।

হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের গোজা ব্রিজ এলাকায় বুধবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ছোটপাকা গ্রামের মকুল হোসেন ও মনির হোসেন, বাসাবাড়িয়া গ্রামের মকবুল হোসেন ও আব্দুল হালিম এবং গুরুদাসপুর উপজেলার জুমাইগর গ্রামের হায়দার আলী।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে যাত্রী নিয়ে লেগুনাটি নাটোরের দিকে যাচ্ছিল। গোজা ব্রিজ এলাকায় পাথরবোঝাই একটি ট্রাক একে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত ও ছয়জন আহত হন।

আহতদের সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাজশাহীতে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

ওসি আরও জানান, লেগুনা ও ট্রাক থানা হেফাজতে রাখা আছে। ট্রাকের চালক পলাতক। মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:
রাস্তা পারের সময় বাসের ধাক্কায় পথচারী ‍নিহত
বাসের ধাক্কায় বাইকচালকের মৃত্যু
অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার
আলমসাধুর ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক নিহত
মজুরির ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ২ শ্রমিক নিহত

মন্তব্য

p
উপরে