× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

বাংলাদেশ
Three wild cat cubs lose their mother in Lauyachhara
hear-news
player
print-icon

লাউয়াছড়ায় মা হারা তিন বনবিড়াল শাবকের মৃত্যু

লাউয়াছড়ায়-মা-হারা-তিন-বনবিড়াল-শাবকের-মৃত্যু-- বন বিভাগের লোকজন শাবকগুলোকে মাটিচাপা দেয়। ছবি: নিউজবাংলা
ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার খোকন থৌনাউজাম বলেন, ‘দুটি শাবক সম্ভবত ঠান্ডা ও অনাহারে মারা গেছে। হয়তো মাকে ওরা হারিয়ে ফেলেছিল। বাচ্চা দুটি একে-অপরকে জড়িয়ে ছিল। সম্ভবত শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছিল। অন্যটি একটু দূরে ঝোপের মধ্যে পড়েছিল। কোনো প্রাণির হামলার শিকার হয়েছিল এটি।

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে বনবিড়ালের তিনটি মৃত শাবক উদ্ধার হয়েছে। বাঘমারা ক্যাম্পের বিপরীতে একটি টিলা থেকে শুক্রবার সকালে এগুলো উদ্ধার হয়।

ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার খোকন থৌনাউজাম ছবি তুলতে ওই স্থানে গেলে শাবকগুলোকে মৃত অবস্থায় পান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘দুটি শাবক সম্ভবত ঠান্ডা ও অনাহারে মারা গেছে। হয়তো মাকে ওরা হারিয়ে ফেলেছিল। বাচ্চা দুটি একে-অপরকে জড়িয়ে ছিল। সম্ভবত শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছিল।

অন্যটি একটু দূরে ঝোপের মধ্যে পড়েছিল। কোনো প্রাণির হামলার শিকার হয়েছিল এটি। মাথায় কামড়ের চিহ্ন ছিল। তবে মৃত্যুর পর হামলার শিকার হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত না। বন বিভাগের লোকজন এগুলোকে মাটিচাপা দেয়।’

আশপাশের লোকজন জানান, তিনদিন আগে স্থানীয় আজগর আলীর বাড়ি থেকে একটি হাঁস নিয়ে যায় বনবিড়াল। এরপর থেকে সেটিকে আর দেখা যায়নি।

আজগর আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এতে আমার কোনো ক্ষোভ ছিল না। রিজিকে ছিল না, তাই নিয়ে গেছে।’

রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মা বনবিড়ালটিকে কেউ মেরে ফেলেছে কিংবা গাড়িচাপায় মৃত্যু হয়েছে। বাচ্চগুলো মায়ের অপেক্ষায় ছিল। এক সময় বাইরে বেরিয়ে আসে খাবারের সন্ধানে। ক্ষুধা আর ঠান্ডায় এদের মৃত্যু হয়। এদের মায়ের দেহ খোঁজা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
তিন যুবক বাঁচালেন বিরল বনবিড়ালের ৫ ছানা
বনবিড়াল হত্যা করায় ২ জনের নামে মামলা
চট্টগ্রামে বিপন্ন প্রজাতির বনবিড়াল উদ্ধার
ধানক্ষেতে বনবিড়ালের ছানা  

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Ear locks while reading bricks on the school grounds

স্কুলমাঠে ইটের খোয়া, পড়ার সময় কানে তালা

স্কুলমাঠে ইটের খোয়া, পড়ার সময় কানে তালা
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দেয়ার কোন বিধান নেই। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি জেবিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এক ঠিকাদারের কাছে ভাড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়টির মাঠজুড়ে রাখা হয়েছে ইট, খোয়াসহ নানা ধরণের নির্মাণ সামগ্রী। আর মেশিন দিয়ে ইট ভাঙার শব্দে পাঠগ্রহণে প্রতিদিনই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. কামাল হোসেন দাবি করেছেন, উপজেলার নাগরা-বান্ধাবাড়ি-রাশমীল সড়কের নির্মাণ সামগ্রী রাখতে বান্ধাবাড়ি জেবিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠটি ৭ লাখ টাকায় ভাড়া দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদার মো. জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে এই টাকা গ্রহণ করেছেন বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক।

ক্ষোভ প্রকাশ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘মাঠটিতে জেবিপি উচ্চ বিদ্যালয় ও বান্ধাবাড়ি হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়- দুই স্কুলের শিক্ষার্থীরাই খেলাধুলা করে। কিন্তু নির্মাণ সামগ্রী রাখার কারণে তাদের খেলাধুলা এখন বন্ধ। আর বিদ্যালয় চলার সময়ে মেশিন দিয়ে ইট ভাঙার শব্দে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও সমস্যা হচ্ছে।’

খেলাধুলা ও পড়াশোনায় সমস্যা হওয়ার কথা জানিয়েছে বান্ধাবাড়ি হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির কয়েক শিক্ষার্থীও। এ স্কুলের ছাত্র-অভিভাবক সবুজ ঘরামী বলেন, ‘আমরাও শুনেছি, ঠিকাদারের কাছ থেকে জেবিপি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হান্নান মোল্লা ও প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুর রশিদ ৭ লাখ টাকা নিয়েছেন। এতে দুই স্কুলেরই শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’

এ বিষয়ে বান্ধাবাড়ি জেবিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুর রশিদ বলেন, ‘যে মাঠটি ভাড়া দেয়া হয়েছে সেটি আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করে না। মাঠটি আমাদের হলেও ব্যবহার করে বান্ধাবাড়ি হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।’

তবে ভাড়া হিসেবে সাত লাখ টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, নির্মাণ সামগ্রী রাখতে ৫০ হাজার টাকা ও একটি সিসি টিভি মনিটরের বিনিময়ে ঠিকাদার জসিমউদ্দীনকে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘৭ লাখ টাকা নেয়ার বিষয়টি ভিত্তিহীন।’

সাত লাখ টাকা দেয়ার কথা অস্বীকার করেন ঠিকাদার জসিমউদ্দীনও। তিনি বলেন, ‘আমি ৩ মাসের জন্য মাঠটি ভাড়া নিয়েছি। বিনিময়ে বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকা ও ১টি সিসি টিভি মনিটর দিতে হবে।’

তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দেয়ার কোন বিধান নেই। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
অল্প বৃষ্টিতেই স্কুলের মাঠে জমে হাঁটু পানি
স্কুলে একাকার গোয়ালঘর পড়ার ঘর
স্কুলে ছাত্র একজন
স্কুলের পরিত্যক্ত ঘর ধসে ৪ শিশু আহত
প্রবেশ পথে বেড়া, বন্ধ হওয়ার পথে স্কুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The power terminal of the bus terminal is disconnected due to arrears

বিল বকেয়া: বাস টার্মিনালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

বিল বকেয়া: বাস টার্মিনালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
বাগেরহাট ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) জানিয়েছে, বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পক্ষে মেয়র বাগেরহাট পৌরসভার ব্যাংক হিসেবে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৫৬ টাকা বিল বকেয়া রয়েছে। অপরদিকে বাগেরহাট বাস মালিক সমিতির দাবি, বিদ্যুৎ বিলের টাকা নিয়মিত পৌরসভাকে দেয়া হয়েছে। আর বাগেরহাট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি তাদের জানা নেই। পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের জন্য চেষ্টা করা হবে।

বছরের পর বছর বিদ্যুৎ বিল না দেয়ায় বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৫৬ টাকা বকেয়া থাকায় সোমবার বিকেলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বাগেরহাট ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)।

ওজোপাডিকোর দাবি, ২০১৬ সাল থেকে বাগেরহাট পৌরসভার মালিকানাধীন জেলার এই বাস টার্মিনালের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে।

অপরদিকে বাগেরহাট বাস মালিক সমিতি বলছে, বিদ্যুৎ বিলের টাকা নিয়মিত পৌরসভাকে দেয়া হয়েছে। আর বাগেরহাট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি তাদের জানা নেই। তবে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের জন্য চেষ্টা করা হবে।

ওজোপাডিকো সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পক্ষে মেয়র বাগেরহাট পৌরসভার ব্যাংক হিসেবে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৫৬ টাকা বিল বকেয়া রয়েছে। শুধু বাগেরহাট বাস টার্মিনাল নয়, বাগেরহাট পৌরভবন, স্ট্রীট লাইটসহ বিভিন্ন ধরণের ১৮টি হিসেবে বাগেরহাট পৌরসভার কাছে আরও প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে ওজোপাডিকোর।

পৌরসভার বাইরেও বাগেরহাট জেলা পুলিশের কাছে ২৫ লাখ ১৯ হাজার, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ৪ লাখ ২১ হাজার, পিসি কলেজে ৩ লাখ ২০ হাজার, বাগেরহাট মেডিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজে ২ লাখ ২২ হাজার, রেলরোড জামে মসজিদে ৩ লাখ, শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরে ৪৪ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে ওজোপাডিকোর।

এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বাস শ্রমিক-কর্মচারীরা।

বাস শ্রমিক রানা শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাগেরহাট বাস স্ট্যান্ডে একদিন বাস রাখলে ঢাকার পরিবহনের জন্য ৮০ টাকা এবং লোকাল পরিবহনের জন্য ৫০ টাকা দিতে হয়। এখানের টয়েলেটগুলোও আমাদের টাকা দিয়ে ব্যবহার করতে হয়। তাহলে কেন টাকার জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবে? আসলে আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, আমাদের টাকার কোন দাম নেই।’

জামাল শেখ বলেন, ‘এই স্ট্যান্ড থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের বাস ছাড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে, পুন সংযোগ স্থাপনের দাবি জানাই।’

নিউজবাংলাকে বাগেরহাট বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার আব্দুল বাকি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিদ্যুৎ বিলের জন্য প্রতি মাসে পৌরসভার মার্কেটিং কর্মকর্তার কাছে ২০ হাজার টাকা দেয়া হত। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে এই টাকা নিয়মিত দেয়া হয়নি।

‘বিদ্যুৎ না থাকায় কয়েক হাজার বাস শ্রমিক ও যাত্রী ভোগান্তিতে রয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ভোগান্তি লাঘবে অতি দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার দাবি জানাই।’

বাগেরহাট পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মুছাব্বেরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাগেরহাট বাস টার্মিনালে যাতে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া যায়, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

প্রতি মাসের বিদ্যুৎ বিলের টাকা নিয়মিত পৌরসভার কাছে দেয়া হত- বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার আব্দুল বাকির এমন দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাস টার্মিনাল থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল বাবদ টাকা দেয় বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে।’

সাড়ে চার কোটি টাকা বকেয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য হিসেবে যে সাড়ে চার কোটি টাকা রয়েছে ওই টাকার বিপরীতে মাঝে মাঝে কিছু টাকা দেয়া হয়। এছাড়া জুন মাসের শেষে রাজস্ব খাতের হিসেব করে বিদ্যুৎ বিভাগের বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।’

বাগেরহাট ওজোপাডিকোর সহকারি প্রকৌশলী সাইদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকের কাছে ওজোপাডিকোর প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়া থাকা গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের নোটিশ দেয়া হয়েছে।

অনেকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং কারও কারও বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের বকেয়ার পরিমাণ অনেক বেশি, তাদের বিষয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কিমিটির সভায়ও বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা চেষ্টা করছি যাতে দ্রুত বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় করতে পারি।’

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে আরও বিনিয়োগ চায় সরকার
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু
শিয়াল মারার ফাঁদে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের
ডিশ সংযোগের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
লোহাগড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The chairman sold the goods of 2 bridges to Bhangari

২ সেতুর মালামাল ‘বেচে দিলেন চেয়ারম্যান’

২ সেতুর মালামাল ‘বেচে দিলেন চেয়ারম্যান’ ঝালকাঠির পোনাবালীয়া খেয়াঘাট এলাকায় সোমবার দুপুরে সেতুর মালামাল জব্দ করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
ঝালকাঠি সদর থানার এসআই খোকন বলেন, ‘সোমবার বিকেলে গোপন তথ্যে পোনাবালিয়া খেয়াঘাটে যাই। সেখান থেকে সরকারি সেতুর লোহার ১১টি রড, ৫টি ছোট বিম, ২০টি অ্যাঙ্গেলসহ একটি ট্রাক জব্দ করে ঝালকাঠি থানায় নিয়ে আসি।’

ঝালকাঠি সদরের পোনাবালিয়া ইউনিয়নে দুটি লোহার সেতুর মালামাল ভাঙারির কাছে বেচে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল বাসার খানের বিরুদ্ধে।

সোমবার ট্রাকে তুলে ওই মালামাল পাচারের সময় জব্দ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি, কেউ গ্রেপ্তারও হননি।

স্থানীয়রা জানান, পোনাবালিয়া ইউনিয়নে নয়াখালের ওপর এবং আলমগীর হাওলাদারের বাড়ির সামনে খালে লোহার সেতু দুটি ভেঙে পড়লে চলতি বছর নতুন করে নির্মাণ করে দেয় এলজিইডি। পুরোনো সেতু দুটির লোহার মালামাল খুলে ইউপি চেয়ারম্যান নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।

সোমবার দুপুরে সেতুর মালামাল ট্রাকে তুলে নলছিটি নিয়ে যাচ্ছিলেন ভাঙারি ব্যবসায়ী। এ সময় পোনাবালিয়া খেয়াঘাট এলাকায় স্থানীয় লোকজন ট্রাকটি আটক করে পুলিশে দেন।

মালামাল আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন। তিনি বলেন, ‘সোমবার বিকেলে গোপনে তথ্য পেয়ে পোনাবালিয়া খেয়াঘাটে যাই। সেখান থেকে সরকারি সেতুর লোহার ১১টি রড, ৫টি ছোট বিম, ২০টি অ্যাঙ্গেলসহ একটি ট্রাক জব্দ করে ঝালকাঠি থানায় নিয়ে আসি।’

চেয়ারম্যান আবুল বাসার খানের বিরুদ্ধে সেতুর মালামাল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নান্না খলিফা।

তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান আবুল বাসার পুরোনো সেতুর লোহার মালামাল বেশ কিছুদিন আগে নিজ বাড়িতে রেখেছিলেন। সোমবার গোপনে ভাঙারিদের কাছে সেসব বিক্রি করে দেন। মালগুলো ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা আটক করে থানায় জানালে পুলিশ গিয়ে জব্দ করে।’

সেতুর মালামাল কেনা ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. মুনছুর বলেন, ‘পোনাবালিয়ার চেয়ারম্যান আবুল বাসার খান আমাকে ডেকে কিছু মালামাল বিক্রির কথা বলেন। আমি ৬৭ হাজার ৫০০ টাকায় সেতুর লোহার মালামাল কিনেছি।

‘তার গ্রামের বাড়ির পাশের একটি খোলা জায়গায় রাখা মালামাল ট্রাকে তুলে নলছিটি যাচ্ছিলাম। স্থানীয় লোকজন আমার ট্রাক ধরে পুলিশে দিয়েছে। ঘটনার পর চেয়ারম্যান আমার ফোন ধরেন না।’

গ্রাম পুলিশ মিন্টু হাওলাদার বলেন, ‘পুরোনো সেতুর মালামাল চেয়ারম্যানের বাড়িতেই ছিল। সেগুলো কীভাবে বাইরে এলো, জানা নেই।’

দুটি পুরোনো সেতুর মালামাল জব্দ করার এক দিন পেরিয়ে গেলেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কেউ আটক হননি, মামলাও হয়নি।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি খলিলুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভাঙারি ব্যবসায়ী মুনছুরকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।’

এ বিষয়ে পোনাবালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাসার খান বলেন, ‘আমার কাছে সেতুর মালামাল ছিল না, আমি এগুলো বিক্রিও করিনি। একটি চক্র আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’

আরও পড়ুন:
‘ধর্ষণচেষ্টায়’ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
চেয়ারম্যানের সন্তান হত্যায় সন্দেহভাজনের মরদেহ উদ্ধার
‘নদের মাটি ভাটায় বিক্রি’ চেয়ারম্যানের
ইউপি মেম্বারের হামলায় চেয়ারম্যান আহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Arrested on charges of child rape 1

কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’: দোকানি কারাগারে

কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’: দোকানি কারাগারে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার আসামি নাসির হাওলাদার। ছবি: নিউজবাংলা
মোংলা থানার পরিদর্শক বিকাশ বলেন, ‘কিশোরীর বাবা প্রায় চার বছর আগে মারা যান। মা সৌদি প্রবাসী। অভিযুক্ত ৫২ বছরের নাসির হাওলাদার দূর সম্পর্কের আত্মীয় মেয়েটির। সে তার ছোট বোনকে নিয়ে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে নাসিরের পরিবারের সঙ্গেই থাকত।’

বাগেরহাটের মোংলায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

সোমবার করা মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারের পাঠিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে আসামিকে মুখ্য বিচারিক হাকিম খোকন হোসেনের আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মোংলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিকাশ চন্দ্র ঘোষ নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কিশোরীর বাবা প্রায় চার বছর আগে মারা যান। মা সৌদি প্রবাসী।অভিযুক্ত ৫২ বছরের নাসির হাওলাদার মেয়েটির দূর সম্পর্কের আত্মীয়। সে তার ছোট বোনকে নিয়ে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে নাসিরের পরিবারের সঙ্গেই থাকত।

এজাহারে বলা হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রের পাশে নাসিরের একটি চায়ের দোকান আছে। ওই দোকানে রোববার রাতে ধর্ষণের শিকার হয় মেয়েটি। বিষয়টি কাউকে না জানাতে তাকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান নাসির।

মেয়েটি বিষয়টি আশ্রয়কেন্দ্রের এক ব্যক্তিকে জানায়। এ ঘটনায় পরদিন মোংলা থানায় মামলা করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

থানার পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সোমবার রাতেই চাঁদপাই ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য বাদী হয়ে মামলা করেন। রাতেই ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাসিরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

মেয়েটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
অবৈধ ওয়াকিটকি ব্যবহার করে নানা অপরাধ
ধর্ষণ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
ধর্ষণ-মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩
বন্ধুকে বেঁধে তার স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
পাঁচবিবিতে শিশু ‘ধর্ষণচেষ্টা’ মামলায় গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Three ACC officials acquitted of defamation suit

মানহানির মামলা থেকে দুদকের তিন কর্মকর্তাকে অব্যাহতি

মানহানির মামলা থেকে দুদকের তিন কর্মকর্তাকে অব্যাহতি
মামলার এজাহারে বলা হয়, নোয়াখালী জজ আদালতের নাজির মো. আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদক একটি মামলা করে। ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সময় টিভি এ ঘটনায় একটি সংবাদ প্রচার করে। এরপর আলমগীর ছয়জনের নামে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন।

মানহানির একটি মামলা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নোয়াখালী শাখার তিন কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

নোয়াখালীর যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক মাশফিকুল হক সোমবার বিকেলে মামলা থেকে তাদের অব্যাহতির আদেশ দেন।

দুদকের আইনজীবী আবুল কাশেম মঙ্গলবার দুপুরে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওই তিন কর্মকর্তা হলেন নোয়াখালী দুদকের সাবেক উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং সহকারী পরিচালক মশিউর রহমান ও সুবেল আহমেদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, নোয়াখালী জজ আদালতের নাজির মো. আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদক একটি মামলা করে। ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সময় টিভি এ ঘটনায় একটি সংবাদ প্রচার করে। এরপর আলমগীর সময় টিভির বিশেষ প্রতিনিধি আফজাল হোসেন, প্রধান বার্তা সম্পাদক মনোয়ার হোসেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ জুবায়েরসহ দুদকের তিন কর্মকর্তার নামে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন।

আইনজীবী কাশেম বলেন, ‘সোমবার আদালত শুনানি শেষে তিন কর্মকর্তাকে মানহানির মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। বাকিদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।’

আরও পড়ুন:
সেই জেলারকে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তারের নির্দেশ
১২৬ কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’: ব্যাংক কর্মকর্তা জেলে
দুর্নীতির খোঁজে হাসপাতালে দুদক
সাবেক মেয়র ও স্ত্রীর নামে দুদকের মামলা
দুদকের অভিযান, বালুখেকো সেলিমের হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির তথ্য

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Arna lost her parents together

অর্ণাকে ঘিরে বাঁচার স্বপ্ন দাদা-দাদির

অর্ণাকে ঘিরে বাঁচার স্বপ্ন দাদা-দাদির অর্ণা বিশ্বাস তার দাদী সুন্দরী বিশ্বাসের সঙ্গে। ছবি: নিউজবাংলা
অর্ণার দাদা অসীম বিশ্বাস বলেন, ‘একসময়ে আমাদের পরিবারে অনেক অভাব ছিল। এসএসসি পরীক্ষার ফি জমা না দিতে পেরে ছেলে অভিজিত লেখাপড়া ছেড়ে দেয়। পরে সে সংসারের হাল ধরে। ছেলের অনেক শখ ছিল তাদের মেয়ে অর্ণাকে অনেক লেখাপড়া শেখাবে। এখন অর্ণাকে নিয়ে আমরা আছি। সে কিছু বুঝছে না, কাঁদছেও না। অর্ণাকে নিয়ে ছেলে যে স্বপ্ন দেখত, আমি যতদিন বেঁচে থাকি ছেলের স্বপ্ন পূরণ করব, অনেক লেখাপড়া শেখাব।’

মায়াভরা মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছে চার বছর বয়সী অর্ণা বিশ্বাস। সে জানে না তার মা-বাবা আর নেই। কেউ জিজ্ঞেস করলে কখনও সে উত্তর দিচ্ছে তার মা-বাবা হাসপাতালে, আবার কখনও উত্তর দিচ্ছে না।

খুলনার ডুমুরিয়ার কুলটি গ্রামে নিজ ঘরে গত বুধবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে মারা যান অর্ণার বাবা অভিজিত বিশ্বাস ও মা কেয়া বিশ্বাস। ওই সময় আহত হয় অর্ণাও।

সম্প্রতি অর্ণাদের বাড়িতে যান নিউজবাংলার প্রতিবেদক। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে বসে আছেন অর্ণার দাদা অসীম বিশ্বাস ও দাদি সুন্দরী বিশ্বাস।

সেই উঠানে খেলা করছে অর্ণা। তার ডান হাত ও ডান পায়ে রয়েছে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ক্ষত। ব্যথায় হাত নাড়াতে না পারলেও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে অর্ণা।

ঘটনার দিন কী হয়েছিল জানতে চাইলে অর্ণার দাদি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকে ছেলে ও বউমা একসঙ্গে ধান মাড়াই করছিল। পরে গোসল করে এসে ভাত খেয়ে ছেলে, বউমা ও অর্ণা একত্রে ঘরে যায়। আমি ও আমার স্বামী তখন বাড়ির উঠানে ধান মাড়াই করছিলাম।

‘হঠাৎ বউমা আমাকে ডেকে একটা চিৎকার দেয়। পরে আর কোনো শব্দ করেনি। আমি ও আমার স্বামী তাৎক্ষণিক সেখানে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি ছেলে ঘরের বারান্দায় মাথা গুটিয়ে বসে টিনের বেড়া ধরে কাঁপছে। বউমা তার পাশে শুয়ে একইভাবে কাঁপছে। অর্ণা পড়ে আছে তার মায়ের কোলে।’

তিনি জানান, সন্তান ও বউমার এমন পরিস্থিতি দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি। আগে অর্ণাকে টেনে তাদের কাছ থেকে আলাদা করে পরে ছেলে ও বউমাকে ছাড়াতে গেলে বিদ্যুতের শক খেয়ে বাইরে ছিটকে পড়েন তিনি।

অর্ণাকে ঘিরে বাঁচার স্বপ্ন দাদা-দাদির

পরে প্রতিবেশীরা এসে বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে দেয়। ছেলে ও তার বউকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

অর্ণার দাদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে হাসপাতাল থেকে ছেলে ও বউমার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে শ্মশানঘাটে নিয়ে তাদের সৎকার করা হয়।’

‘বাবা হয়ে সন্তানের চিতায় আগুন দেয়া যে কত কষ্টের, তা যে বাবা দিয়েছে শুধু সেই জানে। আমার সেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। ছেলে আমাদের কত আশা দেখাত। এর আগেই আমাদের সব আশা শেষ হয়ে গেল। তার মৃত্যুতে আমিও যেন মারা গেলাম।’

তিনি জানান, অভিজিত তার একমাত্র ছেলে। তার দুই মেয়ে আছে, তারা বিবাহিত।

তিনি বলেন, ‘একসময়ে আমাদের পরিবারে অনেক অভাব ছিল। এসএসসি পরীক্ষার ফি জমা না দিতে পেরে ছেলে অভিজিত লেখাপড়া ছেড়ে দেয়। পরে সে সংসারের হাল ধরে। ছেলের অনেক শখ ছিল তাদের মেয়ে অর্ণাকে অনেক লেখাপড়া শেখাবে।

‘এখন অর্ণাকে নিয়ে আমরা আছি। সে কিছু বুঝছে না, কাঁদছেও না। অর্ণাকে নিয়ে ছেলে যে স্বপ্ন দেখত, আমি যতদিন বেঁচে থাকি ছেলের স্বপ্ন পূরণ করব, অনেক লেখাপড়া শেখাব।’

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শরীফ আসিফ রহমান বলেন, ‘আমি অর্ণার কাছে গিয়েছিলাম। তার দাদা-দাদির সঙ্গেও দেখা করেছি। তখন ওই পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে।’

যেভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন অর্ণার বাবা-মা

অর্ণার বাবা-মা টিনের ঘরে থাকতেন। ঘরের ভেতর মাঝামাঝি এক স্থানে একটি বিদ্যুতের সার্কিট র‍য়েছে। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে বিদ্যুতের তার।

মৃত অভিজিতের ভগ্নিপতি দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, ‘ঘরের মাঝামাঝি যে সার্কিটটি আছে, সেখানে মেইন সুইচ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ এসেছে। সেই সার্কিটটি ভালো করে ফিটিং ছিল না।’

‘ওই সার্কিট থেকে একটি তার বের হয়ে টিনের বেড়ার সঙ্গে বিদুৎসংযোগ লেগে যায়। এতে পুরো ঘর বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। ’

তিনি বলেন, ‘দুপুরে খাবার খেয়ে অর্ণার বাবা-মা ঘরের ভেতরে খাটে ছিল। ওই খাটের পাশেও টিনের বেড়া আছে। সেই বেড়া থেকে তারা প্রথমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে সেখান থেকে ছিটকে বারান্দায় পড়ার পর আবারও টিনের বেড়ায় হাত লাগায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তারা।’

আরও পড়ুন:
লোহাগড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
বিদ্যুৎস্পর্শে শ্বশুর-জামাইয়ের মৃত্যু
ইজিবাইকে চার্জ, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পথচারীর মৃত্যু
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু
ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
UN High Commissioner for Refugees in Bhasanchar

ভাসানচরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার

ভাসানচরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার
ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের অবস্থান পর্যবেক্ষণে ভাসানচরে এসেছে। তারা বিভিন্ন ক্লাস্টারে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলছে এবং রোহিঙ্গাদের খোঁজখবর নিচ্ছে। ভাসানচরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে প্রতিনিধিদল।’
নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসেছেন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে ভাসানচর এসে পৌঁছায়।

ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ‘প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের অবস্থান পর্যবেক্ষণে ভাসানচরে এসেছে। তারা বিভিন্ন ক্লাস্টারে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলছে এবং রোহিঙ্গাদের খোঁজখবর নিচ্ছে। ভাসানচরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে প্রতিনিধিদল।’
ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা ও সেবা সরেজমিনে দেখেছে তারা। ভাসানচর থানা পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তায় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রয়েছে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ফলে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ রোহিঙ্গা দেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা এসে কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেয়।

এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের চাপ সামলাতে সরকার এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৩ ধাপে কক্সবাজার থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে পৌঁছেছে ২৯ হাজার ১১৬ জন রোহিঙ্গা।

আরও পড়ুন:
অস্ত্র-গুলিসহ ‘রোহিঙ্গা ডাকাত দলের প্রধান’ আটক
রোহিঙ্গা ইস্যুতে অপপ্রচারে জাতিসংঘের সংস্থা: সরকার
ক্যাম্প থেকে পালানোর চেষ্টা, ২০৩ রোহিঙ্গা আটক
সমুদ্রে গোসল করতে নেমে রোহিঙ্গার মৃত্যু
‘রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে’

মন্তব্য

p
উপরে