সেই ৭ বিদেশি কারাগারে

player
সেই ৭ বিদেশি কারাগারে

ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালত। ফাইল ছবি

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিলেন। ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে তারা নানা কৌশলে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাত বিদেশিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ শেখ সাদী শনিবার তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

সাত আসামি হলেন ওডেজে ওবিন্না রিবেন, নটোম্বিকনা, ইফুইন্নয়া ভিভান, সানডে ইজিম, চিনেডু নিয়াজি, কোলিমন্স তালিকে ও চিঢিম্মা ইলোফোর। এদের মধ্যে ছয়জন নাইজেরিয়ান ও একজন দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শনিবার সাত আসামিকে আদালতে হাজির করেন। মামলার বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাতজনকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন তিনি।

আবেদনের পর আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এ সময় সাত বিদেশি নাগরিকের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে ছিলেন না।

এর আগে বৃহস্পতিবার সাত বিদেশির প্রত্যেককে এক দিনের রিমান্ড দেয় মহানগর হাকিম আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তার নাহিদুল ইসলাম ও সোনিয়া আক্তারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুদিনের রিমান্ড দেয়া হয়। এই দুজনকে রোববার আদালতে হাজির করা হবে।

অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় আটটি পাসপোর্ট, ৩১টি মোবাইল, তিনটি ল্যাপটপ, একটি চেক বই ও লক্ষাধিক টাকা।

পরে তাদের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানায় মামলা করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিলেন। ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে তারা নানা কৌশলে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এই নয়জন আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের সদস্য বলে পুলিশ প্রমাণ পেয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
সাত বিদেশিসহ ৯ জন রিমান্ডে
ফেসবুকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নামে প্রতারণা
বাংলাদেশিকে নিয়ে নাইজেরীয়র প্রতারণার ফাঁদ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পুলিশের কাছে প্রত্যাশা আকাশচুম্বী: আইজিপি

পুলিশের কাছে প্রত্যাশা আকাশচুম্বী: আইজিপি

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘যারা পুলিশে পদোন্নতি পেয়ে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছেন, তাদের বাহিনী থেকে তেমন কিছু পাওয়ার নেই। এখন শুধু দেয়ার পালা। আপনারা এখন দেশ, জনগণ এবং পুলিশ বাহিনীর জন্য কাজ করবেন।’

পুলিশের কাছে মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী বলে মনে করেন বাহিনীপ্রধান ড. বেনজীর আহমেদ। নানা সীমাবদ্ধতায় সে আশার সবকিছু পূরণ সম্ভব না হলেও পুলিশ বাহিনী আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

সদ্য পদোন্নতি পাওয়া সাতজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠানে রোববার তিনি এ কথা বলেন।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অফ প্রাইডে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মহাপরিদশর্ক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নিজেদের অতিক্রম করে সেবা দিতে হবে। পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

‘যারা পুলিশে পদোন্নতি পেয়ে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছেন, তাদের বাহিনী থেকে তেমন কিছু পাওয়ার নেই। এখন শুধু দেয়ার পালা। আপনারা এখন দেশ, জনগণ এবং পুলিশ বাহিনীর জন্য কাজ করবেন।’

পুলিশের কাছে প্রত্যাশা আকাশচুম্বী: আইজিপি
আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ মতবিনিময় করেন পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের সঙ্গে। ছবি: নিউজবাংলা

আইজিপি পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের আন্তরিক অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ এবং অতিরিক্ত আইজি (এঅ্যান্ডআই) ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী।

অতিরিক্ত আইজি হিসেবে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের আবু হাসান মুহম্মদ তারিক, পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক ড. হাসান উল হায়দার, স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, শিল্পাঞ্চল পুলিশের মো. মাহাবুবর রহমান ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশিদ।

অনুষ্ঠানে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা দেশ ও জনগণের কল্যাণে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন।

আরও পড়ুন:
সাত বিদেশিসহ ৯ জন রিমান্ডে
ফেসবুকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নামে প্রতারণা
বাংলাদেশিকে নিয়ে নাইজেরীয়র প্রতারণার ফাঁদ

শেয়ার করুন

জেলা পরিষদে প্রশাসক, সংসদে বিল

জেলা পরিষদে প্রশাসক, সংসদে বিল

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সদস্যরা। ফাইল ছবি

বিলে বলা হয়েছে, পরিষদের মেয়াদ শেষে পরবর্তী পরিষদ গঠনের আগ পর্যন্ত কার্যক্রম সম্পাদনে সরকার একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে। প্রশাসকের মেয়াদ ও অব্যাহতি সরকার নির্ধারণ করবে।

জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল-২০২২ সংসদে উত্থাপন হয়েছে। রোববার সকালে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

বিলটি পরীক্ষার জন্য স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। স্থায়ী কমিটি সাত দিনের মধ্যে বিলটির ওপর প্রতিবেদন দেয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে বর্তমান অধিবেশনেই বিলটি পাস হতে পারে।

বিদ্যমান জেলা পরিষদ আইনে কোনো পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক নিয়োগের বিধান নেই। নতুন বিলে জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে সরকার কর্তৃক প্রশাসক নিয়োগের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সরকার একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে। প্রশাসকের মেয়াদ ও অব্যাহতি সরকার নির্ধারণ করবে।

জেলা পরিষদে সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন নির্বাহী কর্মকর্তা।

বিলটিতে জেলা পরিষদ সদস্য সংখ্যায়ও কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। বর্তমান আইনে প্রতিটি জেলা পরিষদে ১৫ জন সাধারণ সদস্য এবং পাঁচজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকার কথা বলা আছে। সংশোধিত বিলে জেলার প্রতিটি উপজেলা পরিষদের একজন সদস্য এবং চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্যসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে।

বিলটিতে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদের সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর মেয়রগণ অংশ নিতে পারবেন। তবে তারা ভোট দিতে পারবেন না।

জেলা পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন।

বিলে আরও বলা হয়েছে, পরিষদ প্রতি অর্থবছর শেষে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সরকারকে সম্পাদিত কার্যাবলির ওপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন দেবে।

বিলটি উত্থাপন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যমান আইনে জেলার আয়তন, জনসংখ্যা, উপজেলার সংখ্যা ইত্যাদি নির্বিশেষে সব জেলা পরিষদে সমসংখ্যক মোট ২১ জন সদস্য রয়েছে। কিন্তু বৃহৎ আয়তনের তুলনায় ক্ষুদ্র আয়তনের জেলা পরিষদগুলোর রাজস্ব আয়ের সংস্থান খুবই কম।

‘ফলে ক্ষুদ্র জেলার পরিষদের পক্ষে সদস্যদের সম্মানী পরিশোধ ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহের পর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ সম্ভব হয় না। এ সমস্য থেকে উত্তরণে প্রতিটি জেলা পরিষদের সদস্যসংখ্যা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যমান আইনে জেলা পরিষদগুলোর মেয়াদ পাঁচ বছর শেষ হওয়া সত্ত্বেও নতুন পরিষদের প্রথম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত আগের পরিষদ দায়িত্ব পালন করতে পারে। এ শর্তটি সংশোধন করে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে পরবর্তী নতুন পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগ করা প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন:
সাত বিদেশিসহ ৯ জন রিমান্ডে
ফেসবুকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নামে প্রতারণা
বাংলাদেশিকে নিয়ে নাইজেরীয়র প্রতারণার ফাঁদ

শেয়ার করুন

পঞ্চগড়ে ধর্ষণের মামলায় কুড়িগ্রামের এএসআইয়ের নামে পরোয়ানা

পঞ্চগড়ে ধর্ষণের মামলায় কুড়িগ্রামের এএসআইয়ের নামে পরোয়ানা

বাদীর অভিযোগ, একটি জিডির তদন্তে গিয়ে পঞ্চগড় সদর থানার তৎকালীন এএসআই জলিল তার সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলেন, যা পরে শারীরীক সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায়।

পঞ্চগড়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরি ও ধর্ষণের অভিযোগে এক নারীর করা মামলায় কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শকের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার রোববার দুপুরে এই পরোয়ানা জারি করেন।

পরোয়ানার আসামি হলেন কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল জলিল। তিনি আগে পঞ্চগড় সদর থানায় ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী মেহেদী হাসান মিলন।

বাদী এজাহারে অভিযোগ করেছেন, জমির বিরোধ নিয়ে তিনি ২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল পঞ্চগর সদর থানায় সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেন। সে সময় থানা এএসআই ছিলেন জলিল।

বাদীর অভিযোগ, জিডির তদন্ত করতে গিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলেন জলিল। এরপর ভুয়া কাবিবনামা তৈরি করে শারীরীক সম্পর্কেও তাকে জড়ান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

ওই নারী জানান, বিয়ের কাবিননামা চাইলে জলিল তা অস্বীকার করেন। এ কারণে প্রতারণা ও বিয়ের কথা বলে ধর্ষণের অভিযোগে তিনি ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর জলিলের নামে পঞ্চগড় নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন।

আদালত মামলা তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেন। গত ২০ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জলিলের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

আরও পড়ুন:
সাত বিদেশিসহ ৯ জন রিমান্ডে
ফেসবুকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নামে প্রতারণা
বাংলাদেশিকে নিয়ে নাইজেরীয়র প্রতারণার ফাঁদ

শেয়ার করুন

সেন্টমার্টিন বাসের চালক রিমান্ডে, সহকারী কারাগারে

সেন্টমার্টিন বাসের চালক রিমান্ডে, সহকারী কারাগারে

শনিবার দেলোয়ার হোসেনকে এবং কোরবান আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার মানিকগঞ্জ সদর থানার চিকারঘোনা থেকে দেলোয়ার হোসেনকে এবং যাত্রাবাড়ী থানার মীরহাজিরবাগ থেকে কোরবান আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রাজধানীর মাতুয়াইলে সেন্টমার্টিন পরিবহনের বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহতের মামলায় বাসের চালক দেলোয়ার হোসেন দিনারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এক দিনের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম তরিকুল ইসলাম রোববার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত একই সঙ্গে বাসটির চালকের সহকারী কোরবান আলীর রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে।

এদিন যাত্রাবাড়ী থানায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ সরকার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেককে তদন্তের স্বার্থে পাঁচ দিন করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন।

দেলোয়ারের পক্ষে আইনজীবী মারুফ বিল্লাহ রহিম এবং কোরবান আলীর পক্ষে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন মুন্সী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দেলোয়ারের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। আর কোরবান আলীর রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের পরিদর্শক শাহ আলম এসব তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

এর আগে শনিবার মানিকগঞ্জ সদর থানার চিকারঘোনা থেকে দেলোয়ার হোসেনকে এবং যাত্রাবাড়ী থানার মীরহাজিরবাগ থেকে কোরবান আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২১ জানুয়ারি সকাল সোয়া ৭টার দিকে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন আব্দুর রহমান বেপারী, তার মেয়ে ৩৮ বছর বয়সী শারমিন আক্তার এবং জামাতা ৪০ বছর বয়সী রিয়াজুল ইসলাম।

আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগে নেয় পুলিশ। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। শারমিনের মেয়ে বৃষ্টি এবং সিএনজিচালক রফিকুল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় আব্দুর রহমান বেপারীর ছেলে নজরুল ইসলাম ওই দিনই যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
সাত বিদেশিসহ ৯ জন রিমান্ডে
ফেসবুকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নামে প্রতারণা
বাংলাদেশিকে নিয়ে নাইজেরীয়র প্রতারণার ফাঁদ

শেয়ার করুন

পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তির শর্ত কঠিন হচ্ছে

পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তির শর্ত কঠিন হচ্ছে

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন বিল ২০২২ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। ফাইল ছবি

পৌরসভা ঘোষণার জন্য প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে দুই হাজারজন থাকার শর্ত দেয়া হয়েছে। আগের আইনে এই সংখ্যা ছিল দেড় হাজার। বিলে ১২ মাস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া থাকলে পৌরসভা পরিষদ বাতিল করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তির শর্ত কঠিন করতে যাচ্ছে সরকার। নানা নতুন শর্ত যোগ করে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন বিল ২০২২ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে।

রোববার সকালে বিলটি তোলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। পরে সেটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে। সাত দিনের মধ্যে স্থায়ী কমিটি বিলটির ওপর প্রতিবেদন দেবে।

বিলটিতে পৌরসভা ঘোষণার জন্য প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে দুই হাজার জন থাকার শর্ত দেয়া হয়েছে। আগের আইনে এই সংখ্যা ছিল দেড় হাজার। বিলটিতে পৌরসভা সচিবের পদের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা।’

বিলে পৌরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন পরিষদ গঠনের আগ পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি কোনো কর্মকর্তা অথবা সরকার মনোনীত কোনো ব্যক্তিকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া যাবে।

বিলে ১২ মাস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া থাকলে পৌরসভা পরিষদ বাতিল করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নতুন করে কোনো পৌরসভা গঠন হলে বিলুপ্ত ইউনিয়নে কর্মরতরা পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাবেন।

বিলটি আনার উদ্দেশ্য বর্ণনা করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত জীবন ও পর্যাপ্ত নাগরিক সেবার প্রত্যাশায় অধিকসংখ্যক মানুষ শহরমুখী হচ্ছে। একই সঙ্গে শহর এলাকার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‘নতুন নতুন অনেক পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর দেখা যায় যে পৌরসভার নাগরিক সেবা প্রদান এবং নিজস্ব প্রশাসন পরিচালনার সক্ষমতা থাকে না। সুশাসন নিশ্চিত ও পর্যাপ্ত সেবা প্রদানের শহরগুলোকে বাসযোগ্য করতে শহর গঠনে জনসংখ্যার ঘনত্বের মান পরিবর্তন প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান আইনে পৌরসভাসমূহের মেয়াদ পাঁচ বছর শেষ হওয়া সত্ত্বেও নতুন পরিষদ প্রথম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত, পূর্বের পরিষদ দায়িত্ব পালন করতে পারে। অনেক সময় পৌরসভার মেয়াদ শেষ হলেও বিভিন্ন কারণে রিট বা অন্য কোনো মামলা করে মেয়াদোত্তীর্ণ পরিষদ অনির্ধারিত সময়ের জন্য পৌর প্রশাসন পরিচালনা করে।

‘ফলে আইনের এ শর্তটি সংশোধনক্রমে মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভার ক্ষেত্রে নতুন পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগ করা প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন:
সাত বিদেশিসহ ৯ জন রিমান্ডে
ফেসবুকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নামে প্রতারণা
বাংলাদেশিকে নিয়ে নাইজেরীয়র প্রতারণার ফাঁদ

শেয়ার করুন

পল্লবীর ওসির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

পল্লবীর ওসির বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

রাজধানীর পল্লবী থানা। ছবি: সংগৃহীত

অভিযোগে বলা হয়, ওসি পারভেজ ইসলামের নেতৃত্বে আসামিরা বাদীর ঘরের মালামাল তছনছ এবং শাড়ি, টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এতে বাদীর ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। বাদীকে না পেয়ে পুলিশ তার ভাই দুলারাকে গ্রেপ্তার করে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেয়।

রাজধানীর পল্লবী থানার ওসির বিরুদ্ধে আসামির বাসা থেকে মালামাল লুটের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন রোববার এ আদেশ দেন।

মামলার বাদী পারভেজ আহম্মদ বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

ব্যবসায়ী পারভেজ আহম্মদ গত বৃহস্পতিবার পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পারভেজ ইসলামসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে রোববার আদেশের জন্য রাখেন।

আবেদন খারিজের আদেশে বিচারক বলেন, ‘আসামিদের সঙ্গে বাদীর পূর্বশত্রুতার তথ্য নালিশি দরখাস্তে উল্লেখ নেই। আসামিরা সরকারি দায়িত্ব পালন করছিলেন বলেই দেখা যায়। তাদের বিরুদ্ধে মামলায় সরকারি অনুমোদন নেই।

‘মাদক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা ও বাদীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলার কারণে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের সৃষ্টি। সার্বিক বিবেচনায় এ মামলা অগ্রসর হওয়ার কোনো কারণ নেই। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারা মতে মামলাটি খারিজ করা হলো।’

পারভেজ আহম্মদ আবেদনে অভিযোগ করেন, গত বছর ৩১ অক্টোবর সন্ধ্যায় পরিবারসহ তিনি বিয়ের দাওয়াতে যান। রাত সাড়ে ১০টার পর তার পল্লবীর বাসা ও দোকানের চারদিকে পুলিশ অবস্থান নেয়।

রাত একটায় বাসায় ফিরে তিনি দেখতে পান বাসার সব মালামাল এলোমেলো। ঘরের বিভিন্ন গোপন স্থানে থাকা কাপড়, টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা বাসার সিসিক্যামেরা ভাঙচুর করেছেন। এতে তার ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

পুলিশ তার ভাইকে ধরে নিয়ে যায় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পল্লবী থানায় মামলা দেয় বলে পারভেজ অভিযোগে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন:
সাত বিদেশিসহ ৯ জন রিমান্ডে
ফেসবুকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নামে প্রতারণা
বাংলাদেশিকে নিয়ে নাইজেরীয়র প্রতারণার ফাঁদ

শেয়ার করুন

প্রশ্নফাঁস: সেই চেয়ারম্যানকে জেলা আ.লীগের পদ থেকে অব্যাহতি

প্রশ্নফাঁস: সেই চেয়ারম্যানকে জেলা আ.লীগের পদ থেকে অব্যাহতি

বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা নাসরীন রুপা। ছবি: নিউজবাংলা

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজি জুয়েল বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহের সঙ্গে রুপার জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।’

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহ এবং দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে বগুড়ার সেই নারী ভাইস চেয়ারম্যানকে জেলা আওয়ামী লীগের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজি জুয়েলের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রোববার দুপুরে বিষয়টি জানানো হয়।

দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা নাসরীন রুপা জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।

জুয়েল বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহের সঙ্গে রুপার জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

‘তার এ ধরনের কাজে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।’

শুক্রবার রাজধানীর তিনটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারী ভাইস চেয়ারম্যান রুপাসহ ১০ জন আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।

দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হাসান জানান, শনিবার সন্ধ্যায় রুপাসহ ১০ জনের নামে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় সবাইকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাত বিদেশিসহ ৯ জন রিমান্ডে
ফেসবুকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নামে প্রতারণা
বাংলাদেশিকে নিয়ে নাইজেরীয়র প্রতারণার ফাঁদ

শেয়ার করুন