৭৫ টাকার ইনজেকশন ‘তিন হাজার’

player
৭৫ টাকার ইনজেকশন ‘তিন হাজার’

ডক্টরস কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল। ছবি: নিউজবাংলা

রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘বেলা ২টার দিকে টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে গেলে রোগীকে সাইনোকর্ট নামের ইনজেকশন পুশ করতে হবে বলে জানান ডাক্তার। এর দাম জানতে চাইলে তিন হাজার টাকা বলে জানান তিনি। আমি তিন হাজার টাকা দিলে ডাক্তারের টেবিলে থাকা ইনজেকশন ডাক্তার নিজেই পুশ করে দেন। পরে অন্য ফার্মেসিতে গিয়ে জানতে পারি, এই ইনজেকশনের দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।’

বরগুনার ডক্টরস কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ৭৫ টাকার ইনজেকশন পুশ করে তিন হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই চিকিৎসকের নাম মো. শিহাব উদ্দিন শিহাব। তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থো সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

অভিযোগকারী আবদুর রাজ্জাক জেলার সদর উপজেলার লাকুরতলা এলাকার ও রিয়াজুল ইসলাম সদর উপজেলার কুমড়াখালী এলাকার বাসিন্দা।

নিউজবাংলাকে তারা জানান, শিহাব উদ্দিন বরগুনার কলেজ রোডের ডক্টরস কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে প্রতি মাসে দুইবার রোগী দেখেন। সাইনোকর্ট (Cynocort) নামের একটি ইনজেকশন পুশ করতে তাদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে আদায় করেন তিনি। পরে তারা ফার্মেসিতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ইনজেকশটির দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।

ওই চিকিৎসকের দাবি, ইনজেকশনটির দাম কম। কিন্তু এটি পুশ করতে সিনিয়র চিকিৎসকরা তিন হাজার থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। রোগীর টাকা দেয়ার সামর্থ্য না থাকলে ফ্রিতেও পুশ করা হয়।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার স্ত্রী ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত। তার মেরুদণ্ড এবং পায়ে ব্যথা। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে ৬০০ টাকা ভিজিট দিয়ে স্ত্রীকে ডক্টরস কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসক শিহাব উদ্দিনকে দেখাই।

‘ডাক্তার আমার স্ত্রীকে দেখে দুটি এক্স-রে এবং তিনটি রক্তের পরীক্ষা দেন। এ জন্য ১ হাজার ৮০০ টাকা খরচ হয়। ​পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি আমার স্ত্রীকে সাইনোকর্ট (Cynocort) নামের একটি ইনজেকশন পুশ করার কথা বলেন।’

ভুক্তভোগী আরও বলেন, ‘ইনজেকশনটির দাম তিন হাজার টাকা উল্লেখ করে ডাক্তার বলেন, পুশ করার জন্য কোনো চার্জ দিতে হবে না। আমার কাছে টাকা না থাকায় আমি বাহিরে থেকে ইনজেকশনটি কিনে পুশ করতে চাই। এ জন্য ইনজেকশনটির নাম লিখে দিতে বললে তিনি রাজি হননি।

‘ইনজেকশনের জন্য বিকাশের মাধ্যমে টাকা চান তিনি। আমি বিকাশে ডাক্তারের দেয়া নম্বরে তিন হাজার টাকা দেই। এরপর ডাক্তার নিজেই আমার স্ত্রীকে ইনজেকশন পুশ করেন।’

‘পরে আমি ফার্মেসিতে গিয়ে ইনজেকশনটির দাম জেনে অবাক হই। একজন চিকিৎসকের এ কেমন প্রতারণা, তা কিছুতেই বুঝতে পারছি না।’

এই ঘটনায় ওই চিকিৎসকের বিচার চান আবদুর রাজ্জাক।

মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আমি আমার স্ত্রীর বোনকে নিয়ে শিহাব উদ্দিন ডাক্তারের কাছে যাই। তিনি একটি এক্স-রেসহ চারটি টেস্ট দেন। এ টেস্টের জন্য এক হাজার ৭৫০ টাকা খরচ হয়।

‘বেলা ২টার দিকে টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে রোগীকে সাইনোকর্ট নামের ইনজেকশন পুশ করতে হবে বলে জানান। এর দাম জানতে চাইলে তিন হাজার টাকা বলে জানান তিনি।’

রিয়াজুল বলেন, ‘আমি তিন হাজার টাকা দিলে ডাক্তারের টেবিলে থাকা ইনজেকশন ডাক্তার নিজেই পুশ করে দেন। পরে অন্য ফার্মেসিতে গিয়ে জানতে পারি, এই ইনজেকশনের দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিউজবাংলাকে চিকিৎসক মো. শিহাব উদ্দিন শিহাব মোবাইল ফোনে বলেন, ‘সাইনোকর্ট ইনজেকশনটির দাম কম। বাহিরে এটি ৫-৬ শ টাকায় পুশ করা হয়। তবে এটি পুশ করতে সিনিয়র চিকিৎসকরা তিন হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। আবার গরিব রোগীদের ফ্রিতেও পুশ করা হয়।’

এ বিষয়ে ডক্টরস কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘সাইনোকর্ট নামের ইনজেকশনটির দাম ৭৫ টাকা। এটার দামসহ পুশ করার জন্য ডা. শিহাব উদ্দিন তিন হাজার টাকা নেন।

‘এই ইনজেকশন তার কাছেই থাকে। এই ইনজেকশনের কথা ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ করা হয় না। তবে এই টাকার কোনো ভাগ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পায় না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চিকিৎসক বলেন, ‘এই ইনজেকশন পুশ করার জন্য ঢাকাতেও ৬-৮ শ টাকা নেয়া হয়। সিনিয়র ও উচ্চ ডিগ্রিধারী চিকিৎসরাও এই ইনজেকশন পুশ করার জন্য এক হাজার টাকার বেশি নেয় বলে জানা নেই।’

নিউজবাংলাকে এ বিষয়ে বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ ফজলুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
৪৬ হাজার টাকা নিয়ে চোখে ইনজেকশনের বদলে পানি
দানের অর্থে কেনা হলো ১৬ কোটি রুপির ইনজেকশন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সিদ্ধিরগঞ্জে পিটিয়ে হত্যা, ৩ আসামি কারাগারে

সিদ্ধিরগঞ্জে পিটিয়ে হত্যা, ৩ আসামি কারাগারে

সিদ্ধিরগঞ্জে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি জানান, সুফিয়ান নামের এক যুবককে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার তিন আসামিকে গুলিস্তান সিটি প্লাজা মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে মোটরসাইকেলকে পিকনিক বাসের সাইড না দেয়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে মোহাম্মদ সুফিয়ান নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত তিন জনকে সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন চেয়ে আদালতে নেয় পুলিশ। বিচারক শুনানির দিন ধার্য করে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

এর আগে সকালে রাজধানীর গুলিস্তান থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তরকৃতরা হলেন, মুন্সিগঞ্জের লৌহগঞ্জের কলমা এলাকার মো. সবুজ, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রহমতপুর এলাকার মো. শাকিল এবং শরীয়তপুরের সখীপুরের চরপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলাম।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, সুফিয়ান নামের এক যুবককে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার তিন আসামিকে গুলিস্তান সিটি প্লাজা মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিকেলে তিন জনকে সাত দিন করে পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বিচারক শুনানির দিন ধার্য করে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়ের পিডিকে পেট্রোল পাম্পের সামনে মোটরসাইকেলকে বাসের সাইড না দেয়া নিয়ে পিকনিক যাত্রীদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয় মোহাম্মদ সুফিয়ান নামে এক যুবকের। এক পর্যায় তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে পিকনিকের গাড়ির চালক-হেলপার ও যাত্রীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে সুফিয়ানের চাচা জজ মিয়া বাদী হয়ে গাড়ির চালক-হেলপারসহ ২০-২৫ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

আবু সুফিয়ান সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া এলাকার আহাম্মদ আলীর ছেলে।

আরও পড়ুন:
৪৬ হাজার টাকা নিয়ে চোখে ইনজেকশনের বদলে পানি
দানের অর্থে কেনা হলো ১৬ কোটি রুপির ইনজেকশন

শেয়ার করুন

সড়কে প্রাণ গেল শিশুর, নানা-নানিসহ আহত ৩

সড়কে প্রাণ গেল শিশুর, নানা-নানিসহ আহত ৩

প্রতীকী ছবি

পুলিশ জানায়, সন্ধ্যায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নানা-নানির সঙ্গে এক স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল নাঈম। পথে একটি ভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষে ছিটকে পড়ে নাঈম। তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকার ধামরাইয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে নাঈম খান নামের তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের শাইলবাড়ী এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

রাতে ধামরাই থানার উপপরিদর্শক রশিদ উদ্দিন নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নাঈম মানিকগঞ্জ সদরের ফাঁড়িরচর গ্রামের রফিক খানের ছেলে। সে ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের কাইজার কুণ্ডু গ্রামে নানা দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে থাকতো। শিশুটি কাইজার কুন্ডু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল।

রশিদ উদ্দিন জানান, সন্ধ্যায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নানা মোজাম্মেল হক ও নানির সঙ্গে এক স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল নাঈম। ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের শাইলবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে একটি ভ্যানের সঙ্গে তাদের অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়।

এতে অটোরিকশার সামনে বসা নাঈম ছিটকে সড়কে পাশে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

এ সময় সিএনজিতে থাকা তার নানা, নানি ও ভ্যানচালকও আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক নাঈমকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা রশিদ উদ্দিন বলেন, ‘মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে আইনে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
৪৬ হাজার টাকা নিয়ে চোখে ইনজেকশনের বদলে পানি
দানের অর্থে কেনা হলো ১৬ কোটি রুপির ইনজেকশন

শেয়ার করুন

‘প্রভাষককে পিটিয়ে অব্যাহতিপত্রে সই নিলেন অধ্যক্ষ’

‘প্রভাষককে পিটিয়ে অব্যাহতিপত্রে সই নিলেন অধ্যক্ষ’

চৌরাট-শিবপুর বরেন্দ্র ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ দীপক কুমার সরকার। ছবি: সংগৃহীত

রশিদের ফোনে রেকর্ড করা অডিওতে শোনা যায়, দীপক কুমার তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন এবং অব্যাহতিপত্রে সই করতে চাপ দিচ্ছেন। ১৫ মিনিটের ওই অডিওতে অধ্যক্ষ তাকে চড়থাপ্পড় মারছেন, এমন শব্দও শোনা যায়।

নওগাঁর পত্নীতলার চৌরাট-শিবপুর বরেন্দ্র ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ দীপক কুমার সরকারের বিরুদ্ধে ওই কলেজের প্রভাষক আবদুর রশিদকে মারধর করে অব্যাহতিপত্রে সই নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক আবদুর রশিদ অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের জন্য ঘটনার সময় ধারণ করা ১৫ মিনিটের অডিও উপস্থাপন করেছেন।

আবদুর রশিদ বলেন, ‘অধ্যক্ষ দীপক কুমার সরকারের বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাওশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করায় রোববার বেলা ২টার দিকে কলেজে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি আমার শরীরেও আঘাত করেন বেশ কয়েকবার।

‘এ রকম কিছু ঘটতে পারে, আঁচ করতে পেরে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশের আগেই মোবাইল ফোনের অডিও রেকর্ড চালু রাখি। আমাকে মারধর করে অব্যাহতিপত্রে সই নিয়ে দ্রুত নওগাঁ ছাড়ার নির্দেশ দেন তিনি।’

রশিদ আরও বলেন, ‘থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করলে মেরে ফেলার হুমকিও দেন অধ্যক্ষ। প্রাণভয়ে বিকেলে নওগাঁ ছেড়ে মানিকগঞ্জে আমার গ্রামের বাড়িতে রওনা দিয়েছি।

‘বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে পত্নীতলার ইউএনও এবং থানার ওসিকে জানিয়েছি। তারা অভিযোগটি লিখিতভাবে জানাতে বলেছেন। দু-একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে থানা এবং কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করব।’

নওগাঁয় নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা বোধ করছেন বলে জানান প্রভাষক আবদুর রশিদ।

রশিদের ফোনে রেকর্ড করা অডিওতে শোনা যায়, দীপক কুমার তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন এবং অব্যাহতিপত্রে সই করতে চাপ দিচ্ছেন। ১৫ মিনিটের ধারণ করা অডিওতে অধ্যক্ষ তাকে চড়থাপ্পড় মারছেন, এমন শব্দও শোনা যায়।

চৌরাট-শিবপুর বরেন্দ্র ডিগ্রি কলেজ সূত্রে জানা যায়, আবদুর রশিদের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে। তিনি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইসলাম শিক্ষা বিভাগে ডিগ্রির তৃতীয় শিক্ষক হিসেবে ২০১৫ সালের ৭ নভেম্বর যোগদান করেন। ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর মাওশি প্রকাশিত তালিকায় ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক হিসেবে তার নাম রয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, আবদুর রশিদ ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার পর দীপক কুমার তার জায়গায় অন্য একজনকে নিয়োগ দেয়ার পাঁয়তারা করেন। তাকে কলেজে যেতে নিষেধ করে দেন। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর তিনি মাউশি মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের অনুলিপি তিনি কলেজের সভাপতি ইউএনও এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে দীপক কুমার সরকার বলেন, ‘আবদুর রশিদ পদত্যাগ করেছেন। দুপুরে অবশ্য আমাদের মধ্যে হালকা কথাকাটাকাটি হয়েছে। তাকে মারধর বা গালিগালাজ কিছুই করা হয়নি।’

মারধর করে অব্যাহতিপত্রে সই নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আবদুর রশিদ- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘এসব ভিত্তিহীন’ বলেই ফোন কেটে দেন।

ওই কলেজের সভাপতি ইউএনও লিটন সরকার বলেন, ‘প্রভাষক আবদুর রশিদ লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ দিলে এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এর আগেও একজন একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বলে জানান ইউএনও।

আরও পড়ুন:
৪৬ হাজার টাকা নিয়ে চোখে ইনজেকশনের বদলে পানি
দানের অর্থে কেনা হলো ১৬ কোটি রুপির ইনজেকশন

শেয়ার করুন

‘ধর্ষণ’: শিশুকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা তদন্তে কমিটি

‘ধর্ষণ’: শিশুকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা তদন্তে কমিটি

এই মাদ্রাসা থেকে ভর্তির তিন দিন পর বের করে দেয়া হয় ‘ধর্ষণের শিকার’ শিশুকে। ছবি: নিউজবাংলা

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জয়া বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা ঘটনাটি তদন্ত করব। আমরা বাচ্চাটিকে সেখানে পড়ারও ব্যবস্থা করে দেব। কেন সে সেখানে পড়তে পারবে না? এটি তার অধিকার।’

রাজশাহী নগরীতে ‘ধর্ষণের শিকার’ হওয়ায় মাদ্রাসা থেকে শিশু শিক্ষার্থীকে বের করে দেয়ার ঘটনা তদন্তে কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারীয়া পেরেরা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনকে রোববার তদন্তের এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এ ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর নজরে আসে। ঘটনা তদন্তে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই উদ্যোগ নেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জয়া বলেন, ‘ওই ছাত্রীর বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা ঘটনাটি তদন্ত করব। আমরা বাচ্চাটিকে সেখানে পড়ারও ব্যবস্থা করে দেব। কেন সে সেখানে পড়তে পারবে না? এটি তার অধিকার।

‘জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ আমরা সোমবারই সেখানে যাব, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গেও কথা বলব। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

জয়া জানান, তদন্ত শেষে ওই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

‘ধর্ষণের শিকার’ শিশুটি পড়ার সুযোগ পেল না মাদ্রাসাতেও শিরোনামে এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

ওই শিশুটির বয়স ৮। দুই বছর আগে তাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় প্রতিবেশী এক কিশোরকে, যে এখন আছে কারাগারে।

শিশুর মা নিউজবাংলাকে জানান, চলতি মাসের শুরুতে নগরীর হড়গ্রাম মুন্সিপাড়া এলাকার উম্মাহাতুল মুমিনীন মহিলা মাদ্রাসায় মেয়েকে ভর্তি করিয়েছিলেন। ভর্তির তিন দিন পরই শিশুটিকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। ফেরত দেয়া হয় ভর্তি ও আবাসিকের জন্য জমা দেয়া টাকাও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়েটার ব্যাপারে অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এসে অভিযোগ করে আমাকে বলেছিল যে, তার সমস্যা আছে। আমি নাকি যাকে-তাকে ভর্তি নিয়ে নিচ্ছি। অভিভাবকদের আপত্তি থাকায় এই মেয়েটার ভর্তি বাতিল করতে হয়েছে। টাকাও ফেরত দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
৪৬ হাজার টাকা নিয়ে চোখে ইনজেকশনের বদলে পানি
দানের অর্থে কেনা হলো ১৬ কোটি রুপির ইনজেকশন

শেয়ার করুন

ট্রলারে ডাকাতি, হামলায় আহত ৩ ব্যবসায়ী

ট্রলারে ডাকাতি, হামলায় আহত ৩ ব্যবসায়ী

মেঘনার চাঁদপুর সদরের লঞ্চঘাটে ট্রলারে ডাকাতি হয়। ছবি: নিউজবাংলা

ট্রলারচালক উজ্জল শেখ বলেন, ‘ট্রলারে ডাকাতরা উঠেই মারধর শুরু করে। কয়েকজন ব্যবসায়ী আমার কাছে ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদপুরের পার্টিদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য দেন। সব টাকা ডাকাতরা নিয়ে গেছে।’

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে ট্রলারে ডাকাতদের হামলায় চালক ও দুই যাত্রী আহত হয়েছেন। ট্রলারযাত্রীদের কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চাঁদপুর সদরের মেঘনার সফরমালী লঞ্চঘাট এলাকায় রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

আহতরা হলেন ট্রলারচালক উজ্জল শেখ এবং ব্যবসায়ী আক্কাস শেখ ও হাকিম গাজী। এদের মধ্যে আক্কাস ও উজ্জলকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ট্রলারচালকের বরাতে নৌ পুলিশ জানায়, মতলব উত্তর উপজেলার আমিরাবাদ ও গৌরাঙ্গ বাজারের ১৫-১৬ জন ব্যবসায়ীকে নিয়ে চাঁদপুর সফরমালী লঞ্চঘাটের দিকে আসছিল ট্রলারটি। ঘাটের কিছুটা দূরে থাকা অবস্থায় তাতে হামলা চালায় ডাকাত দল।

আহত ব্যবসায়ী হাকিম আলী গাজী জানান, স্পিডবোট নিয়ে ৮ থেকে ৯ জন মুখোশধারী ডাকাত কাটা রাইফেল, শটগান, রামদা ও রড নিয়ে তাদের ট্রলারে হামলা চালায়।

তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের কাছে থাকা টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোনগুলো নিয়ে যায়। পরে তারা মেঘনা নদীর উত্তর দিকে চলে যায়। ওদের সবার গায়ে লাইফ জ্যাকেট ছিল।’

ট্রলারচালক উজ্জল শেখ বলেন, ‘ট্রলারে ডাকাতরা উঠেই মারধর শুরু করে। কয়েকজন ব্যবসায়ী আমার কাছে ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদপুরের পার্টিদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য দেন। সব টাকা ডাকাতরা নিয়ে গেছে।’

আহত পাইকারি মুদি ব্যবসায়ী আক্কাস শেখ বলেন, ‘আমার কাছে ৯ লাখ টাকা ছিল। টাকা দিতে দেরি করায় রড দিয়ে আমার হাত ভেঙে ফেলে, টাকা ছিনিয়ে নেয়।’

তেলের ডিলার আতাউর রহমান সবুজও ছিলেন ওই ট্রলারে। জানান, তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার লুট করা হয়।

নৌ পুলিশ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমি খবর পেয়েই চাঁদপুর সদর ও মোহনপুর নৌ পুলিশের ওসিকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। ব্যবসায়ীদের মিসিং মোবাইলের নম্বর আমার কাছে চলে আসছে। আমি সেগুলো নিয়ে ডাকাতদের ধরার বিষয়ে যা যা করণীয় সবই করছি।’

তিনি আরও জানান, অর্ধকোটি টাকা লুট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ট্রলারযাত্রীরা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
৪৬ হাজার টাকা নিয়ে চোখে ইনজেকশনের বদলে পানি
দানের অর্থে কেনা হলো ১৬ কোটি রুপির ইনজেকশন

শেয়ার করুন

বাবার মৃত্যু সইতে পারেনি ছেলে

বাবার মৃত্যু সইতে পারেনি ছেলে

বাবা-ছেলের মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেন, ‘ছেলে জুলমত আলী সিঙ্গাপুর থেকে ১৮ দিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন। শনিবার দুপুরে তার বাবা ছেলের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যান। আজ (রোববার) তার কাবিন হওয়ার কথা ছিল।’

ময়মনসিংহের ফুলপুরে বাবার মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে প্রবাসফেরত ছেলে জুলমত আলীর মৃত্যু হয়েছে। ফুলপুর উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের গাইরা গ্রামের বাসিন্দা তারা।

শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা আব্দুল জলিল আকন্দ ও রোববার ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ছেলে জুলমত।

রামভদ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে ৭৫ বছর বয়সী আব্দুল জলিল আকন্দ নিজ এলাকায় ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিল শুনে বাড়িতে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাত ২টার দিকে তিনি মারা যান।

পরে জলিলের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এলে কান্নাকাটি করে অজ্ঞান হয়ে যান তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে জুলমত আলী।

এ অবস্থায় জুলমতকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টার দিকে তারও মৃত্যু হয়।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘ছেলে জুলমত আলী সিঙ্গাপুর থেকে ১৮ দিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন। শনিবার দুপুরে তার বাবা ছেলের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যান। আজ (রোববার) তার কাবিন হওয়ার কথা ছিল।’

চেয়ারম্যান জানান, বাবা-ছেলের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার বিকেলে আসরের পর একসঙ্গে জানাজা শেষে বাবা-ছেলের মরদেহ দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন:
৪৬ হাজার টাকা নিয়ে চোখে ইনজেকশনের বদলে পানি
দানের অর্থে কেনা হলো ১৬ কোটি রুপির ইনজেকশন

শেয়ার করুন

গরুর গাড়ি দৌড়িয়ে টেলিভিশন পেলেন নজরুল

গরুর গাড়ি দৌড়িয়ে টেলিভিশন পেলেন নজরুল

ঝিনাইদহ সদরে গরুর গাড়িদৌড়ে দুই প্রতিযোগী। ছবি: নিউজবাংলা

গান্না ইউনিয়নের বেতাই গ্রামে গরুর গাড়িদৌড়ের এই প্রতিযোগিতা হয় প্রতি বছরই। কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে গ্রাম হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

কনকনে ঠান্ডা সত্ত্বেও নিজ নিজ গরু ও গরুর গাড়ি নিয়ে সকাল থেকে ঝিনাইদহ সদরের বেতাই গ্রামে জড়ো হতে থাকেন কয়েক হাজার প্রতিযোগী। গরুর গাড়ির দৌড়ের আয়োজন হয় সেখানে।

রোববার দিনভর প্রতিযোগিতা শেষে জয়ী হন যশোরের বাঘারপাড়া থেকে যাওয়া নজরুল মুন্সি। পুরস্কার হিসেবে পেয়ে যান একটি টেলিভিশন।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ঝিনাইদহের মহেশপুরের দোলন হোসেন ও যশোরের রহমত আলী পান বাইসাইকেল ও ফ্যান।

গান্না ইউনিয়নের বেতাই গ্রামে গরুর গাড়িদৌড়ের এই প্রতিযোগিতা হয় প্রতি বছরই। এবারেরটি আয়োজন করেছেন ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আতিকুল হাসান মাসুম। কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে গ্রাম হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রাম থেকে প্রতিযোগিতা দেখতে যান কলেজছাত্র রাব্বি হোসেন।

তিনি বলেন, ‘গ্রামবাংলার ঐহিত্য এই গরুর গাড়ির দৌড়। সত্যিই খুব মনোমুগ্ধকর। মানুষের মাঝে এক ধরনের আনন্দ কাজ করছে। প্রতি বছর এই আয়োজন অব্যাহত রাখা উচিত।’

ঝিনাইদহ শহর থেকে প্রতিযোগিতা দেখতে যাওয়া অন্তর মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে দেখতে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে খেলা দেখতে। গ্রামের মানুষের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। খেলাটা সত্যিই উপভোগ্য। এ জন্য আয়োজকদের আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

গরুর গাড়ি দৌড়িয়ে টেলিভিশন পেলেন নজরুল

ঝিনাইদহ সদরের জিয়ালা গ্রাম থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসেন কবির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সারা বছর চাষাবাদ করি। বছরের এ সময়ে অপেক্ষায় থাকি এই খেলায় অংশ নেয়ার জন্য। মানুষ আমাদের খেলা দেখে আনন্দ পায়। তা দেখে আমরাও আনন্দ পাই। আনন্দের জন্যই আমরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিই।’

চেয়ারম্যান আতিকুলও জানান, গ্রামবাসীর আনন্দের জন্যই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন। আগামীতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন হবে বলে তিনি আশা করেছেন।

আরও পড়ুন:
৪৬ হাজার টাকা নিয়ে চোখে ইনজেকশনের বদলে পানি
দানের অর্থে কেনা হলো ১৬ কোটি রুপির ইনজেকশন

শেয়ার করুন