নেচে-গেয়ে কোলদের পৌষ বিদায়

player
নেচে-গেয়ে কোলদের পৌষ বিদায়

পৌষ বিদায়ে কোল সম্প্রদায়ের ঝুমুর নাচ। ছবি: নিউজবাংলা

ফিল্টিপাড়ার কোল নারী কল্পনা মুরমু বলেন, ‘সাকরাইত হচ্ছে কোলদের প্রধান উৎসব। এদিন বাড়িতে দই-চিড়া, মুড়ি-মুড়কির সঙ্গে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের পিঠা-পুলির।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদরের ঝিলিম ইউনিয়নের কয়েক গ্রামজুড়ে বাস কোল সম্প্রদায়ের। তাদের পৌষসংক্রান্তি উদযাপন বরাবরই জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন।

ঝিলিম ইউনিয়নের চাতরাপাড়া, ফিল্টিপাড়া, বিলকৈলঠাসহ কোলদের কয়েকটি গ্রামে শুক্রবার উদযাপন করা হয়েছে পৌষ বিদায়ের উৎসব। তারা একে বলে সাকরাইত।

সকাল থেকেই কোল গ্রামগুলো ছিল উৎসবমুখর। প্রতিটি বাড়িতে রান্না হয় মুখরোচক নানা খাবার। উঠান-দেয়াল তারা রাঙিয়ে তোলেন আলপনায়।

নেচে-গেয়ে কোলদের পৌষ বিদায়

বিকেলে পাড়ার মাঠ মেতে ওঠে কোলদের ঐতিহ্যবাহী খেবেলখেচা বা ঝুমুর নাচে।

ফিল্টিপাড়ার কোল নারী কল্পনা মুরমু বলেন, ‘সাকরাইত হচ্ছে কোলদের প্রধান উৎসব। এদিন বাড়িতে দই-চিড়া, মুড়ি-মুড়কির সঙ্গে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের পিঠা-পুলির।

‘আত্মীয়স্বজন বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সবাই একসঙ্গে আনন্দ করি। সব মিলিয়ে এবার ভালোই কাটল সাকরাইত।’

এই সাকরাইত উৎসব দেখতে শুক্রবার জেলা শহর থেকে দর্শনার্থীরা যান ঝিলিম ইউনিয়নে।

নেচে-গেয়ে কোলদের পৌষ বিদায়

এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফারাহ উলফাৎ রহমান অর্পিতা বলেন, ‘শুক্রবার হওয়ায় কোলদের গ্রামে আসা। তারা অনেক আন্তরিক। তাদের ঐতিহ্যবাহী নাচে অংশগ্রহণ করে ভালো লেগেছে। কোলদের নিজস্ব ভাষার কয়েকটা শব্দও জানা হয়েছে আমার। সব মিলিয়ে বিকেলটা ভালোই কেটেছে।’

আরও পড়ুন:
পৌষ পার্বণ উৎসবের ক্যানভাসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লরিচাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত

লরিচাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর জানান, চট্টগ্রামমুখী লরির চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীদের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। মরদেহ থানায় নেয়া হয়েছে। লরি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় চালককে আটক করা যায়নি।

কুমিল্লায় লরিচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার আলেখারচর বিশ্বরোডের আমতলী এলাকায় শনিবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ২৫ বছর বয়সী রুবেল হোসেন ও ২২ বছর বয়সী শাওন তকি। তাদের বাড়ি আমতলী এলাকায়।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, চট্টগ্রামমুখী লরির চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীদের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। মরদেহ থানায় নেয়া হয়েছে। লরি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় চালককে আটক করা যায়নি। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

আরও পড়ুন:
পৌষ পার্বণ উৎসবের ক্যানভাসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব

শেয়ার করুন

রাস্তা নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫০

রাস্তা নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫০

বানিয়াচংয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, বাড়িতে যাতায়াতের একটি রাস্তা নিয়ে ওই গ্রামের মিজানুর রহমানের সঙ্গে ওয়াহিদ মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে সকালে দুই পক্ষ কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রামগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, বাড়িতে যাতায়াতের একটি রাস্তা নিয়ে ওই গ্রামের মিজানুর রহমানের সঙ্গে ওয়াহিদ মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে সকালে দুই পক্ষ কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

এক পর্যায় পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় সংঘর্ষ থামায়। আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় শাহিদ মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মিয়াধন মিয়া, মোতাহের হোসেন, রুবেল মিয়া, আব্দুল্লাহ, দাইমুদ্দীন, ওয়াহদুজ্জামান ও মনুরা বেগম।

বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরান হোসেন জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আরও পড়ুন:
পৌষ পার্বণ উৎসবের ক্যানভাসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব

শেয়ার করুন

ববিতে সশরীরে চলবে পরীক্ষা, খোলা থাকবে হল

ববিতে সশরীরে চলবে পরীক্ষা, খোলা থাকবে হল

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

প্রক্টর ড. মো. খোরশেদ আলম জানান, শিক্ষার্থীদের সেশনজট ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কার্যক্রম অনলাইনে হবে। তবে ঘোষিত বা চলমান সেমিস্টার/বর্ষ ফাইনাল, ল্যাব পরীক্ষাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আপাতত সশরীরে হবে।

আবাসিক হল চালু রেখে সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জরুরি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় শনিবার সকাল ১১টায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

এ সময় ঘোষিত ও চলমান সেমিস্টার, বর্ষ ফাইনাল এবং ল্যাব পরীক্ষা সশরীরে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. খোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সেশনজট ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কার্যক্রম অনলাইনে হবে। তবে ঘোষিত বা চলমান সেমিস্টার/বর্ষ ফাইনাল, ল্যাব পরীক্ষাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আপাতত সশরীরে হবে।

সভায় জানানো হয়, মিডটার্ম পরীক্ষা ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে হবে। পরে মিডটার্মের বিষয়ে বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে।

এ ছাড়া আবাসিক হল খোলা থাকবে। পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহণ সেবাও চালু থাকবে। প্রথম বর্ষে ভর্তি কার্যক্রম যথারীতি চলবে। ক্লাস কার্যক্রমের বিষয়ে পরে জানিয়ে দেয়া হবে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন ও শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো মাথায় রেখে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সব সিদ্ধান্ত নেয়।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার থেকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেয় সরকার। এ দিন সংক্রমণ রোধে পাঁচটি জরুরি নির্দেশনা জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

আরও পড়ুন:
পৌষ পার্বণ উৎসবের ক্যানভাসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে অনলাইনে ক্লাস, পরীক্ষা সশরীরে

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে অনলাইনে ক্লাস, পরীক্ষা সশরীরে

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আখতার শনিবার বলেন, ‘শুক্রবার রাতে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস চললেও পরীক্ষা সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।’

দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে (চমেক) সশরীরে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ করে অনলাইনে পাঠদান শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার থেকে অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে।

অনলাইনে ক্লাস চললেও পরীক্ষা সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজবাংলাকে চমেকের অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আখতার শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাতে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।

‘অনলাইনে ক্লাস চললেও পরীক্ষা সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এই নির্দেশনা শুক্রবার থেকে থেকেই কার্যকর হয়।

এ ছাড়া আরও চারটি নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এতে আরও বলা হয়েছে, স্কুল-কলেজের মতো এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সমাবেশ বা অনুষ্ঠানসমূহে ১০০ জনের বেশি জনসমাগম করা যাবে না।

এসব ক্ষেত্রে যারা যোগদান করবেন তাদের অবশ্যই করোনা প্রতিরোধী টিকা সার্টিফিকেট বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরটি পিসিআর টেস্টের ফল সাথে আনতে হবে।

আরও পড়ুন:
পৌষ পার্বণ উৎসবের ক্যানভাসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব

শেয়ার করুন

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অমরণ অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার থেকে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজনের বাবা হার্ট অ্যাটাক করায় তিনি চলে গেছেন। এখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে আছেন ১১ জন। তাদেরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সবার স্যালাইন চলছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিন শিক্ষার্থী আবারও ক্যাম্পাসে এসে অনশনে যোগ দিয়েছেন।

হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন আছেন ১২ শিক্ষার্থী। তারা সেখানেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার থেকে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজনের বাবা হার্ট অ্যাটাক করায় তিনি চলে গেছেন। এখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে আছেন ১১ জন। তাদেরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সবার স্যালাইন চলছে।

অনশনরত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের একটি দল। এই দলের সদস্য নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘শীতেই বেশি কাতর হয়েছেন অনশনকারীরা। তাদের অনেকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। জ্বরও আসছে। এ ছাড়া পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে।’

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার বিরুদ্ধে খাবারের খারাপ মান, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তারা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

এরপর মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ।

বিকেলে তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। শিক্ষার্থীরাও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। এরপর পুলিশ উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায়।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর রোববার অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রোববার রাতে উপাচার্য ফরিদ প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগের বিষয়টি জানান। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে নামেন।

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


এর মাঝে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীকে আসামি করে সোমবার রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানায় মামলা করে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য পুলিশকে সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগের সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে এ দাবি মানা না হলে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ আন্দোলন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল করেন।

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরাতে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে একাধিকবার তাদের কাছে যান শিক্ষকদের একাংশ। তবে শিক্ষকদের প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে অনড় থাকেন।

এ অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ঢাকায় এসে আলোচনা করার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীরা প্রথমে রাজি হলেও পরে ঢাকায় যেতে সম্মত হননি। শিক্ষামন্ত্রীকে সিলেটে আসার অথবা ভার্চুয়ালি আলোচনা করার প্রস্তাব দেন শিক্ষার্থীরা। তবে আলোচনা করতে ঢাকায় গেছেন শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল।

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


শুক্রবার রাতে তারা ঢাকায় যান। আজ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তারা আলোচনায় বসতে পারেন বলে জানা গেছে।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস। তিনি শনিবার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনায় যেতে শিক্ষামন্ত্রী আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাকায় আসতে রাজি হননি। আমরাই এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উনার (শিক্ষামন্ত্রীর) সঙ্গে কথা বলব।’

প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন ফিজিক্যাল সায়েন্সের অনুষদ ডিন অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহিবুল আলম, অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম, বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক খায়েরুল ইসলাম রুবেল।

আরও পড়ুন:
পৌষ পার্বণ উৎসবের ক্যানভাসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব

শেয়ার করুন

বাঁশশিল্প নিয়ে হতাশায় কারিগর

বাঁশশিল্প নিয়ে হতাশায় কারিগর

বাঁশের ডালা বানাচ্ছেন দেবীরভাঙ্গা গ্রামের এক নারী। ছবি: নিউজবাংলা

বিনোনাদ দাস বলেন, ‘এটা হামার বাপ-দাদার পেশা। তাই আঁকড়ি ধরি আছি। ছাওয়াগুলা (সন্তানরা) এখন আর এ পেশায় কাজ করবের চায় না। পরিশ্রম বেশি, কিন্তু লাভ একনা (একটু) কম।’

কেউ তৈরি করছেন বাঁশের চাটাই, কেউ ডালা, আবার কারো হাতে তৈরি হচ্ছে কুলা। নানা আকারে ও নকশায় একেকটি পণ্য গড়ে উঠছে।

বাঁশ দিয়ে বাহারি সামগ্রী তৈরিতে যেন কোনো ক্লান্তি নেই নীলফামারীর ডোমারের বড়রাউতা দেবীরভাঙ্গা গ্রামের মানুষের। বাঁশের সঙ্গে এ গ্রামের মানুষের যেন নাড়ির সম্পর্ক।

তাদের সকাল শুরু হয় বাঁশ কাটা, চাঁছা, বাঁধা, শুকানোর মাধ্যমে। সংসারের কাজ শেষ করে বাড়ির উঠানে বা মেঠোপথের পাশে নারীরা বসে পড়েন বাঁশের সামগ্রী বানাতে। বাড়ির ছোট ছেলেমেয়েরাও এ কাজে তাদের সাহায্য করে।

তবে যুগ যুগ ধরে করে আসা এই কাজ নিয়ে হতাশ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। কারণ বাঁশের সামগ্রী তৈরি তো শুধু শখের বসে নয়; এটি তাদের জীবিকারও উপায়।

বাজারে এখন প্লাস্টিকের পণ্যের চাহিদাই বেশি। ফলে দিন দিন চাহিদা হারাচ্ছে বাঁশের সামগ্রী। তা ছাড়া বাঁশের দামের সঙ্গে পণ্যের দাম না বাড়ায় লাভের মুখ দেখছেন না কারুশিল্পীরা।

বাঁশশিল্প নিয়ে হতাশায় কারিগর

স্থানীয়রা জানান, আগে যে বাঁশ ২০ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যেত, সেই বাঁশ এখন কিনতে হচ্ছে দুই শ থেকে আড়াই শ টাকায়।

কারিগর পলাশ দাস নিউজবাংলাকে জানান, একটি বাঁশ থেকে ১০-১২টি ডালা তৈরি হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি পণ্য থেকে ১০ থেকে ২০ টাকা লাভ থাকে। এই সীমিত লাভ দিয়ে পরিবার চালানো কষ্টকর।

দেবীরভাঙ্গা গ্রামের অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। যাদের আয়-রোজগারের আর কোনো পথ নেই, তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই এখনও বাঁশের পণ্য বানিয়ে চলেছেন।

বাড়ির উঠানে কাজ করতে করতে বিনোনাদ দাস বলেন, ‘এটা হামার বাপ-দাদার পেশা। তাই আঁকড়ি ধরি আছি। ছাওয়াগুলা (সন্তানরা) এখন আর এ পেশায় কাজ করবের চায় না। পরিশ্রম বেশি, কিন্তু লাভ একনা (একটু) কম।’

শিমুল রানী দাস বলেন, ‘হামার জমিজমা নাই। এই কাজই হামার কৃষি। সারা বছর ধারদেনা করি চলার লাগে।’

বাঁশশিল্প নিয়ে হতাশায় কারিগর

মানবী দাস নামের আরেক কারিগর বলেন, ‘ধারদেনা আর বিভিন্ন সমিতি থেকে বেশি সুদে টাকা নিয়ে কোনো রকমে টিকি আছি আমরা। হামাক যদি সরকারিভাবে অল্প সুদে ঋণ দেয়, তাহলে এই কাজ করি হামরা বাঁচমো।’

বাঁশ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং বাঁশের পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধিতে ২০১৮ সাল থেকে কাজ করছে ব্যাম্বু প্রজেক্ট বাংলাদেশ (ব্রিফ)।

ব্রিফের নির্বাহী পরিচালক শাহ আহসান হাবিব জানান, বাঁশের উৎপাদন বৃদ্ধি, চাষিদের প্রশিক্ষণ, বাঁশের পণ্য বাজারজাতকরণ ও এই পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করতে তারা কাজ করছেন। এ ছাড়া নিয়মিত বিভিন্ন সেমিনার ও মেলায় বাঁশের পণ্যের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন।

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যারা বাঁশশিল্পের সঙ্গে জড়িত, তারা অর্থনৈতিক কারণে পিছিয়ে রয়েছেন। তাদের বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেয়া হচ্ছে যেন সেখান থেকে সহযোগিতা পান।’

বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী গোলাম রব্বানী বলেন, ‘অনেকেই আমাদের ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত। যারা অর্থ সহযোগিতা চান আমরা তাদের ঋণ দিয়ে পাশে থাকি। পাশাপাশি পণ্য উৎপাদন ও নকশা তৈরিতেও সহায়তা করি।’

আরও পড়ুন:
পৌষ পার্বণ উৎসবের ক্যানভাসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব

শেয়ার করুন

নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. বন্দে আলী বলেন, সদর উপজেলার আন্ধারিয়া গ্রামের কৃষক ফরমান আলী শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার ক্ষেতে ধানের চারা রোপণ করতে গিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পান।

শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়ন থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ইউনিয়নের আন্ধারিয়া গ্রাম থেকে শনিবার সকাল ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. বন্দে আলী বলেন, ‘সদর উপজেলার আন্ধারিয়া গ্রামের কৃষক ফরমান আলী শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার ক্ষেতে ধানের চারা রোপণ করতে গিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পান।

‘শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ হান্নান মিয়াসহ আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করি। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

মৃতের বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। তার পরনে নীল রঙের বোরকা ছিল। মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হান্নান মিয়া বলেন, ‘অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ শনাক্ত করতে পিবিআই আঙুলের ছাপ নিয়েছে। এ ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় হত্যা মামলা হবে।’

আরও পড়ুন:
পৌষ পার্বণ উৎসবের ক্যানভাসে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ
হাশেম উৎসবে পদক পাচ্ছেন দুই বিশিষ্ট নাগরিক
‘আগস্ট ১৯৭৫’-এ শুরু ‘আগামীকাল’-এ শেষ
সারা দেশে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই
ঢাবির চারুকলায় শুরু জয়নুল উৎসব

শেয়ার করুন