ভোটের প্রস্তুতি: দল ও সরকারে পরিবর্তন আনছে আওয়ামী লীগ

player
ভোটের প্রস্তুতি: দল ও সরকারে পরিবর্তন আনছে আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে পরিবর্তনের পাশাপাশি গুঞ্জন আছে মন্ত্রিসভা থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেয়ার। বিতর্কিত আমলাদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আসন্ন জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও বার্তা থাকছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এর অংশ হিসেবে প্রথমেই দলের বিতর্কিতদের ছেঁটে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দলকে অধিক সক্রিয় করে তুলতে পরিবর্তন আসছে সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও সুবিধাবঞ্চিতদের সামনে আনার কথা ভাবা হচ্ছে।

গুঞ্জন আছে মন্ত্রিসভা থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেয়ারও। বিতর্কিত আমলাদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আসন্ন জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও বার্তা থাকছে।

সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক সূত্র, সিনিয়র মন্ত্রী, দায়িত্বশীল সিনিয়র আমলা ও আওয়ামী লীগ নেতা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছেন কমপক্ষে চারজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী। মন্ত্রিত্ব হারানোর পাশাপাশি তারা দলীয় পদ থেকেও বাদ পড়তে পারেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব বিষয়ে দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতিমধ্যে তিনি কয়েকজন মন্ত্রী ও সচিবকে মন্ত্রিসভা ও একনেক বৈঠকে সতর্ক করেছেন। তাতেও সংবিত না ফেরায় তারা বাদ পড়ছেন দায়িত্বশীল পদ থেকে।

সূত্র মতে, বাদ পড়াদের তালিকায় রয়েছেন কমপক্ষে চারজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী। মন্ত্রিত্ব হারানোর পাশাপাশি তারা দলীয় পদ থেকেও বাদ পড়তে পারেন।

মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন

ভোটের প্রস্তুতি: দল ও সরকারে পরিবর্তন আনছে আওয়ামী লীগ
প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো মুরাদ হাসান। ফাইল ছবি

সম্প্রতি মন্ত্রিসভা থেকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ বাদ পড়ার পর নতুন করে মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন শুরু হয়।

বর্তমান মন্ত্রিসভা গঠিত হয় ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি। ইতিমধ্যে তিন বছর পার করেছে এই মন্ত্রিসভা। এরপর থেকে এতে খুব বড় ধরনের রদবদল আসেনি। এক দফায় কেবল কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন হয়েছিল। সেই রদবদলে অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিমকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

দ্বিতীয় দফায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মৃত্যুর পর ওই মন্ত্রণালয়ে নতুন প্রতিমন্ত্রী দেয়া হয়েছিল। আর শেষ পর্যায়ে মন্ত্রিসভায় ড. শামসুল আলমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে।

বাস্তবতা হলো, বিভিন্ন সময় মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের কথা আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীদেরকে সুযোগ দিয়ে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মুরাদের ঘটনার পর যেসব তথ্য বেরিয়ে আসছে তাতে মন্ত্রিসভার রদবদল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যে নির্বাচনি অঙ্গীকার তা পূরণের তাগিদ অনুভব করছে সরকার। অনেক মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা বিরাজ করছে। অনেক মন্ত্রী রুটিন কাজও ঠিকমতো করতে পারছেন না। সবাই তাকিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রীর দিকে।

সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন!

নির্বাচন সামনে রেখে দল গোছানোর প্রক্রিয়ায় সাধারণ সম্পাদক পদেও পরিবর্তন আসার খবর ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ওই দায়িত্ব কে পাচ্ছেন তা নিয়েও চলছে আলোচনা।

২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর অষ্টমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেবার সভাপতি পদে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। সমর্থন করেন সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য মোশাররফ হোসেন। পরে কাউন্সিলররা তা গ্রহণ করেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করেন বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তা সমর্থন করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর গঠিত কমিটিতেও দলের শীর্ষ দুই পদে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

তবে এবার সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন দেখছেন দল ও সরকারের অনেকেই। এ জন্য বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের শারীরিক অসুস্থতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যান্য পদেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ হিসেবে করোনা মহামারিতে অনেক দায়িত্বশীল নেতা ও সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে পদ শূন্য হওয়া এবং অভিজ্ঞদের মধ্যে বয়সজনিত নিয়মিত অসুস্থতাকে কারণ হিসেবে তুলে ধরছেন তারা।

অন্যদিকে দলে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে বড় বড় পদে থাকা বেশকিছু নেতাকে সরিয়ে ত্যাগী ও সুবিধাবঞ্চিতদের সামনে আনার কথা বলছেন অনেকে। আওয়ামী লীগ সভাপতিরও তেমনটাই ইচ্ছা বলে জানাচ্ছে দলীয় সূত্র।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুশাসন নিশ্চিত করতে দুর্নীতিবিরোধী যে সংগ্রাম করছি আমরা তা বাস্তবায়নের পথে আছি। দুর্নীতি-সংশ্লিষ্ট কেউ যেন আমাদের দলে ঢুকতে না পারেন এবং যারা ঢুকে পড়েছেন তাদের বের করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ‘রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আমরা এটা করছি। যারা বিতর্কিত, অজনপ্রিয়, মাদক-সম্রাট ও মাদকসেবী, যারা জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, আইন ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, যারা সাম্প্রদায়িক তাদেরও আমরা দল থেকে বের করে দেয়ার কাজ শুরু করেছি।’

তৃণমূলে সুশাসনের নির্দেশনা আসছে

ভোটের প্রস্তুতি: দল ও সরকারে পরিবর্তন আনছে আওয়ামী লীগ
সম্মেলনে বিভিন্ন জেলার প্রশাসকরা। ফাইল ছবি

ঢাকায় আগামী ১৮ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন। করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ আড়াই বছর পর এই সম্মেলন হচ্ছে। এবারের সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের ওপর তৃণমূলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কঠোর নির্দেশনা আসতে যাচ্ছে।

সচিবালয় সূত্র জানায়, ডিসি সম্মেলনের যাবতীয় নথিপত্র ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের প্রতি সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর মনোভাব প্রদর্শনের নির্দেশনা থাকছে।

সম্মেলনে চলমান চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জনেও দিকনির্দেশনা থাকবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবিলার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সরকার-সংশ্লিষ্টরা।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভালো। আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। তবে এটা যেন কেবল কথার কথা না হয়। কেবল যেন স্লোগানে আবদ্ধ না থাকে।

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স- স্লোগানটা বাস্তবায়নে সুশাসন অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানবাধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। মানুষের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি কার্যক্রমে মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যাবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে নির্বাচনি চাপ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের রাজনীতি বা নির্বাচনে আমাদেরকে সবার আগে দেশের জনগণের ওপরই নির্ভর করা উচিত।’

কারা নেতৃত্ব দেবেন নির্বাচনি মাঠে

ভোটের প্রস্তুতি: দল ও সরকারে পরিবর্তন আনছে আওয়ামী লীগ
প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। ছবি: ফেসবুক

প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এইচ টি ইমামকে বলা হতো আওয়ামী লীগের নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণের প্রাণভোমরা। প্রচলিত আছে, নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন সাজানো থেকে শুরু করে জয়ের কৌশল ঠিক করতেন তিনি। সাবেক এই আমলার মৃত্যু দলের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে বলে মনে করেন অনেকে।

তবে একাধিক সূত্র জানায়, আগামীতে এইচ টি ইমামের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে তূলনামূলক কম আলোচিত একজনকে। তিনি দায়িত্ব সামলাবেন একটি টিম হিসেবে। ফলে নির্বাচনের মাঠে কৌশল নির্ধারণ ও জয় বের আনতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন দলটির দায়িত্বশীলরা।

সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার গভর্নমেন্ট নয়, গভর্নেন্সকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনি কৌশল ঠিক করছে সরকার। ফলে কে এতে লিড দেবে সেটা বড় কিছু নয়। হয়তো ছোটখাটো অবয়বের কেউই নেতৃত্ব দেবেন। তবে ফলটা খারাপ হবে না।

‘ইতিমধ্যে প্রশাসন ও সচিবালয় গোছানোর কাজ শুরু হয়েছে। বিতর্কিত, কর্তৃত্ববাদী, আত্মপ্রচারমুখী ও স্বার্থপর শ্রেণির কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দায়িত্বে আনা হবে।’

বিদেশি শক্তির প্রভাব বলয় ভেঙে নির্বাচন

নির্বাচন সামনে রেখে সরকার যে কাজ শুরু করছে তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় নতুন বছর ও বর্তমান মেয়াদের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক উন্নয়নে টানা ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকার কথা উল্লেখ করে আরো সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

তবে আগামী নির্বাচন অতটা সহজ হবে না বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট একটি মহল। তারা এ ক্ষেত্রে বিদেশি শক্তির প্রতিবন্ধকতার কথা বলেন। সম্প্রতি পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নিষেধাজ্ঞাকে এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।

সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাবলিক ডিপ্লোমেসি উইং ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপ এরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন তুলে ধরার নির্দেশনাও একটি কৌশল বলে মনে করছেন অনেকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ অবশ্য এ বিষয়ে পুরোপুরি একমত নন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে নির্বাচনি চাপ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ ওরা বলুক আর না-ই বলুক, আমরা নিজেরাই তো জানি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। এতে আমেরিকা কী বলল, তাতে কী আসে যায়! তাদের বলায় সব হলে তো এতদিনে অনেক কিছুই হতো; বা বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রের জন্ম হতো না।’

ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি বা নির্বাচনে আমাদেরকে সবার আগে দেশের জনগণের ওপরই নির্ভর করা উচিত। আর জনগণ বলতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন বাহিনী, সংগঠন, দল-উপদল যা আছে, তারাই নির্বাচন সম্পর্কে ভালো জানে। এই স্টেক হোল্ডাররাই ঠিক করবে নির্বাচন কেমন হবে। কারা ক্ষমতায় আসবে।

‘এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা দুর্বল। একটি দেশের বয়স ৫০, রাতারাতি এখানে নির্বাচন ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে না। আমরা কিন্তু ভারত বা আমেরিকায়ও খারাপ নির্বাচন দেখি। আমাদের এখানে যত পরিবর্তন এসেছে, তা জনগণের হাতেই হয়েছে। শুনতে হয়তো ভালো লাগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, কিন্তু এ দেশের সব পরিবর্তন কিন্তু এসেছে জনগণের হাত ধরে। এখানে কিন্তু ওয়াশিংটন বা দিল্লি কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।’

আরও পড়ুন:
সেই পিস্তলধারী গ্রেপ্তার, বোমা উদ্ধার
সব সমস্যার সমাধান হবে সংলাপে: কাদের
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের শীতবস্ত্র বিতরণ
উন্নয়ন সহযোগীদের ভুল বোঝানোর অপচেষ্টা হচ্ছে: শেখ হাসিনা
নৌকাবিরোধী এমপি-মন্ত্রীদের তালিকা হচ্ছে: নাছিম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সরকারের ওপর ক্ষোভ কমানোর উপায় জানালেন গয়েশ্বর

সরকারের ওপর ক্ষোভ কমানোর উপায় জানালেন গয়েশ্বর

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: নিউজবাংলা

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। এতে দেশের মানুষের আপনাদের ওপর যত ক্ষোভ আছে, আপনাদের যতটা ঘৃণা করে, তা কমে যেতে পারে।’

পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর জনগণের ক্ষোভ কমবে বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। এতে দেশের মানুষের আপনাদের ওপর যত ক্ষোভ আছে, আপনাদের যতটা ঘৃণা করে, তা কমে যেতে পারে।’

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়া নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘অনেক দিন ধরে উপলব্ধি করেছি, ঘরে বসে সমস্যার সমাধান হবে না। তবে পরিস্থিতি ভেদে রাজপথের পাশাপাশি ঘরকে অবহেলা করারও সুযোগ কম।’

করোনাভাইরাসকে সরকার রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে সরকারের বিধিনিষেধ দীর্ঘকাল মানতে আমরা বাধ্য নয়। সময়ই আমাদের বলে দেবে কখন কী করতে হবে।

‘খালেদা জিয়ার মুক্তি বা বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সরকারের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে কর্মসূচি হয়েছে। বিএনপির শক্তি সরকার পরিমাপ করতে পেরেছে। এ কারণেই সরকার করোনা নামক বিধিনিষেধের অস্ত্রটি ব্যবহার করেছে।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের জরিপেও ৮৮ শতাংশ মানুষ বলছে, রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার দিকে ইঙ্গিত করে গয়েশ্বর বলেন, ‘বিদেশিরা কাকে অপছন্দ করছে বা করছে না, তা বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু যাদের নাম তালিকায় ছিল না তারাও ঝাঁকে ঝাঁকে ফেরত আসছেন। আবার বিদেশিরা যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাদের সরকার পুরস্কারও দিচ্ছে। এসব করে সরকার বিশ্ব বিবেককে চ্যালেঞ্জ করছে।’

তিনি বলেন, 'সুনির্দিষ্টভাবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, সরকার যদি তাদের বিচারের আওতায় আনত, তাহলে বিশ্ববাসীর রুষ্টতা কিছুটা কমত। কিন্তু তারা চ্যালেঞ্জ করেছে। আসলে এদের বুদ্ধি কম বলে মনে হচ্ছে।'

সরকারের মন্ত্রী-এমপি নানা দুর্নীতি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, ‘হয়তো বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কারাগারে যাওয়ার পর্বটা শেষ হবে। তবে কারাগার ফাঁকা থাকবে না। দুর্নীতি, সন্ত্রাসসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাসীনদের কারাগারে যেতে হবে। দ্বিগুণ বড় করতে হবে কারাগার।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘এই সরকারের জাতীয় সংসদে যারা আছেন, তাদের দেশের মানুষ ভোটচোর বলে। চোর কখনও সাহসী হয় না। চোরদের যারা সাহসী ভাবে তারা কাপুরুষ। আশা করি আমরা কাপুরুষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হব না। জিয়াউর রহমান সম্মুখভাগে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন, তেমনি সব বাধা মোকাবিলা করে জনগণের অধিকার আমরা প্রতিষ্ঠা করব।’

সংগঠনের সভাপতি মিয়া মোহা. আনোয়ারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম জামানের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
সেই পিস্তলধারী গ্রেপ্তার, বোমা উদ্ধার
সব সমস্যার সমাধান হবে সংলাপে: কাদের
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের শীতবস্ত্র বিতরণ
উন্নয়ন সহযোগীদের ভুল বোঝানোর অপচেষ্টা হচ্ছে: শেখ হাসিনা
নৌকাবিরোধী এমপি-মন্ত্রীদের তালিকা হচ্ছে: নাছিম

শেয়ার করুন

আ.লীগের অধীনে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন সম্ভব নয়: মোশাররফ

আ.লীগের অধীনে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন সম্ভব নয়: মোশাররফ

জেডআরএফের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচনে বিএনপি নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সরকার যে আইন করছে, তা জাতির সঙ্গে আরেকটি নাটক শুরু করতে যাচ্ছে। আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি কখনও কোনো নির্বাচনে যাবে না।’

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বলেছেন, দেশের চলমান সংকট নিরসনে আওয়ামী লীগের পতন ঘটানোর বিকল্প নেই।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেডআরএফ।

সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সরকার যে আইন করছে, তা জাতির সঙ্গে আরেকটি নাটক শুরু করতে যাচ্ছে। আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি কখনও কোনো নির্বাচনে যাবে না।

‘কেননা আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন কমিশন সরকারের স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। সুতরাং এসব সংকট সমাধানে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের কোনো বিকল্প নেই।’

দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মোশাররফ হোসেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে সে রাতের প্রথম প্রহরে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বিএনপি শুরু থেকেই জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দাবি করে আসছিল। তবে ২০০৯ সালের ২১ জুন হাইকোর্ট এক রায়ে বলে, স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

আদালত রায়ে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উপস্থাপন করে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, দলিলপত্র’-এর তৃতীয় খণ্ড বাতিল ঘোষণা করে। খণ্ডটি দেশ-বিদেশের সব স্থান থেকে বাজেয়াপ্ত ও প্রত্যাহারেরও নির্দেশও দেয় হাইকোর্ট।

তার পরও বিএনপি নেতা মোশাররফ জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে বলেন, ‘শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা নয়, দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য সব সেক্টরে অবদান রেখেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার জন্মবার্ষিকীতে জেডআরএফের আলোচনার জন্য ধন্যবাদ।’

এ সময় তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাকে দেশের স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দাবি করে বলেন, ‘আমি বলব দেশের জন্য বিশেষ দুটি দিন। একটি ২৫ মার্চ পাকহানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘উই রিভোল্ট’ বলে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তৎকালীন সেনাবাহিনীর তরুণ মেজর জিয়াউর রহমান। আজকে অনেকেই জিয়াউর রহমানকে হিংসা করেন। তার নাম মুছে ফেলার জন্য এমন কোনো কাজ নেই তারা করছে না।

‘যারা জিয়াউর রহমানের অবদান স্বীকার করেন না, তারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করেন না। অন্যরা তো তখন ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। কেউ ইচ্ছা করলে ইতিহাস মুছে দিতে পারে না।’

এ ছাড়া তিনি ৭ নভেম্বরকে আরেকটি স্মরণীয় দিন হিসেবে দাবি করেন। বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন তারা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ধ্বংস করেছিল। কথা বলার স্বাধীনতা বন্ধ করেছিল। রক্ষীবাহিনী দিয়ে মানুষ হত্যা করে প্রথম মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছিল। তখন ক্যু আর পাল্টা ক্যু হচ্ছিল। তখন ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লব যে সংঘটিত হলো, সেটা হলো ইতিহাসের আরেকটি টার্নিং পয়েন্ট।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘সে সময় জাতিসত্তার পরিচয় দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। দেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনেন। মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির নামে লুটপাট চলছিল।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়া দেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ বারবার গণতন্ত্র হত্যা করেছে, আর বিএনপি তা বারবার পুনরুদ্ধার করেছে। এগুলো ইতিহাস। চাইলেই মুছে ফেলা যাবে না।’

মোশাররফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে বিশ্বাস করে না। কেননা অতীতে জনগণ তাদের লালকার্ড দেখিয়েছে। যে কারণে তারা ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন, ২৯ ডিসেম্বর রাতেই করেছে। এখন চারদিক থেকে সরকারের বিরুদ্ধে ওয়ার্নিং দিচ্ছে। র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ জাতিসংঘ আমলে নিয়েছে।’

জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও প্রকৌশলী মাহবুব আলমের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, জেডআরএফের অধ্যাপক. আবুল হাসনাত মো. শামীম, ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, কৃষিবিদ ড. আকিকুল ইসলাম আকিক, ডা. মেহেদী হাসান, প্রকৌশলী উমাশা উমায়ন মনি চৌধুরী, প্রকৌশলী সুমায়েল মো. মল্লিক, অ্যামট্যাবের বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লবসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
সেই পিস্তলধারী গ্রেপ্তার, বোমা উদ্ধার
সব সমস্যার সমাধান হবে সংলাপে: কাদের
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের শীতবস্ত্র বিতরণ
উন্নয়ন সহযোগীদের ভুল বোঝানোর অপচেষ্টা হচ্ছে: শেখ হাসিনা
নৌকাবিরোধী এমপি-মন্ত্রীদের তালিকা হচ্ছে: নাছিম

শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন ছিল খুবই ষড়যন্ত্রমূলক: আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন ছিল খুবই ষড়যন্ত্রমূলক: আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

আইভী বলেন, ‘এবারের নির্বাচন কঠিন ছিল। তিনটি মেয়র নির্বাচন করেছি। তিন নির্বাচনের ফ্লেভার তিন রকম ছিল। কোনো নির্বাচনেই ষড়যন্ত্রের বাইরে ছিলাম না। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে নির্বাচন করেছি। যদিও আমার দল আওয়ামী লীগ সরকারে ছিল, কিন্তু প্রতিবারই বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হয়ে সাধারণ জনগণকে আস্থায় এনে নির্বাচনে জিততে হয়েছে।’

এবারের নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন খুবই ষড়যন্ত্রমূলক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হওয়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। বলেছেন, চতুর্মুখী ষড়যন্ত্রের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে তাকে।

শনিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘জনপ্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং অভিজ্ঞতা শীর্ষক’ এক ভার্চুয়াল সংলাপে এসব কথা বলেন আইভী। জানান, ষড়যন্ত্রে পড়লেও জনগণের আস্থা আর ভালোবাসার কারণে সেখান থেকে বের হতে পেরেছেন তিনি।

গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের ভোটে নৌকা প্রতীকে আইভী ৬৬ হাজার ৯৩১ ভোটে মেয়র হিসেবে টানা তৃতীয়বার জয় পান।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯২টি কেন্দ্রে আইভীর প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাতি মার্কার তৈমূর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৬৬ ভোট।

আইভী বলেন, ‘এবারের নির্বাচন কঠিন ছিল। তিনটি মেয়র নির্বাচন করেছি। তিন নির্বাচনের ফ্লেভার তিন রকম ছিল। কোনো নির্বাচনেই ষড়যন্ত্রের বাইরে ছিলাম না। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে নির্বাচন করেছি। যদিও আমার দল আওয়ামী লীগ সরকারে ছিল, কিন্তু প্রতিবারই বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হয়ে সাধারণ জনগণকে আস্থায় এনে নির্বাচনে জিততে হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সঙ্গে দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গটি ইঙ্গিত করে আইভী জানান, তার কোনো বাহিনী নেই। অনেক বাধা এসেছে, এমনকি তাকে হত্যার প্রচেষ্টাও করা হয়েছে। এরপরও কখনই বাহিনী তৈরি করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমার আস্থা আমার জনগণ। আমার লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ করা। তাই সারাক্ষণ মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করেছি। আমি কখনও কারো কাছ থেকে বেনিফিট নেইনি।’

এবারের নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন হয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। এই ভোটে আপত্তি জানিয়েছেন পরাজিত প্রার্থী তৈমূর আলম।

ইভিএমে ভোট কম পড়েছে বলে জানালেন আইভী। তিনি বলেন, ‘ইভিএমের কারণে ভোট কমেছে, এটা সত্য। এমন না যে ভোটাররা ভোট দিতে আসেননি। আমার অসংখ্য ভোটার ফেরত গেছে।’

দেশে সিটি করপোরেশনের প্রথম নারী মেয়র বলেন, ‘আমি এবার একটি বিষয় দেখলাম, নারী ভোটারদের তিন-চার তলায় নেয়া হয়েছে। কী কারণে নেয়া হলো, আমি জানি না। অনেক ভোটকেন্দ্রে বুথ কমিয়ে দেয়া হয়েছে রহস্যজনকভাবে। কেন করা হলো আমি জানি না। আরও কিছু কারণ আছে, যা আমি এখানে বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি না।’

তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরে ইন্টারনাল কিছু সমস্যা আছে- এটা সবার জানা। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই নির্বাচন করতে হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের মেয়র ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইভী। তিনি বলেন, ‘আসলে সিটি করপোরেশন চালানো কঠিন। রাজউক আমার নাকের ডগায় অনেক কিছু করছে। দূষণ রোধে আমার কোনো কাজ নেই। শিশুবান্ধব খেলার মাঠ করতে দিচ্ছে না আমাকে। মিডিয়াতে আমাকে ভূমিদস্যু বানানো হয়েছে।

‘অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড সরাতে দিচ্ছে না। রেল মন্ত্রণালয়, রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে কাজ করছে আমাকে না জানিয়েই। এসব হচ্ছে সমন্বয় না থাকার ফলে। আমার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মিটিং ডাকলে কমিটির সদস্যরা আসে না। ফলে এই কমিটি নামসর্বস্ব কমিটিতে পরিণত হয়েছে। সিটি গভর্ন্যান্স না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকার কখনও শক্তিশালী হবে না।’

নিজের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অপপ্রচারও হচ্ছে জানিয়ে আইভী বলেন, ‘একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটাচ্ছে।’

সংলাপে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন, সংসদ সদস্য আরোমা দত্ত ও রাশেদ খান মেনন।

আরও পড়ুন:
সেই পিস্তলধারী গ্রেপ্তার, বোমা উদ্ধার
সব সমস্যার সমাধান হবে সংলাপে: কাদের
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের শীতবস্ত্র বিতরণ
উন্নয়ন সহযোগীদের ভুল বোঝানোর অপচেষ্টা হচ্ছে: শেখ হাসিনা
নৌকাবিরোধী এমপি-মন্ত্রীদের তালিকা হচ্ছে: নাছিম

শেয়ার করুন

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের অবস্থা ‘কিছুটা’ ভালো

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের অবস্থা ‘কিছুটা’ ভালো

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ছেলে মাহবুব শফিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৮ জানুয়ারি রাতে বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই ভর্তি আছেন। আগের থেকে এখন অবস্থা কিছুটা ভালো। যদিও বাবাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে, তবে আইসিইউ সাপোর্ট লাগছে না।’

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের অবস্থা এখন ‘কিছুটা’ ভালো বলে জানিয়েছেন তার ছেলে মাহবুব শফিক।

শফিক আহমেদ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত মঙ্গলবার রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের ছেলে মাহবুব শফিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৮ জানুয়ারি রাতে বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই ভর্তি আছেন। আগের থেকে এখন অবস্থা কিছুটা ভালো। যদিও বাবাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে, তবে আইসিইউ সাপোর্ট লাগছে না।’

তিনি বলেন, ‘বাবা ডা. বরেন চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধায়নে আছেন। মাঝে কেবিনে নেয়া হয়েছিল। পরে আবার তার পরামর্শে আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। তবে বাবা অনেকটা ভালো আছেন। যদিও উন্নতি করতে কিছুটা সময় লাগবে।’

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদকে গত মঙ্গলবার চেকআপের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় তার কিছু সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নেয়া হয়। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে কেবিনে নেয়া হয়। পরে আবার আইসিইউতে নেয়া হয় তাকে।

ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত সময়ে আইনমন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
সেই পিস্তলধারী গ্রেপ্তার, বোমা উদ্ধার
সব সমস্যার সমাধান হবে সংলাপে: কাদের
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের শীতবস্ত্র বিতরণ
উন্নয়ন সহযোগীদের ভুল বোঝানোর অপচেষ্টা হচ্ছে: শেখ হাসিনা
নৌকাবিরোধী এমপি-মন্ত্রীদের তালিকা হচ্ছে: নাছিম

শেয়ার করুন

খালেদা জিয়া দেশের ওপর অবরোধ চেয়েছিলেন: সেলিম মাহমুদ

খালেদা জিয়া দেশের ওপর অবরোধ চেয়েছিলেন: সেলিম মাহমুদ

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ। ফাইল ছবি

‘বিএনপি ও তার দলীয়প্রধান খালেদা জিয়া দেশের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব বিদেশিদের কাছে বিকিয়ে দিতে মোটেও কুণ্ঠিত ননl ওয়াশিংটন টাইমসের প্রবন্ধে খালেদা জিয়া সে কথাই পরিষ্কারভাবে বলেছেনl’

যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকায় কলাম লিখে বাংলাদেশের ওপর পশ্চিমাদের অবরোধ আরোপের অনুরোধ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কলাম লেখার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ।

যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ নিয়ে সরকার ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে শুক্রবার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ডাটাবেস টিমের এক সভায় তিনি এ কথা বলেনl

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘বিএনপি ও তার দলীয়প্রধান খালেদা জিয়া দেশের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব বিদেশিদের কাছে বিকিয়ে দিতে মোটেও কুণ্ঠিত ননl ওয়াশিংটন টাইমসের প্রবন্ধে খালেদা জিয়া সে কথাই পরিষ্কারভাবে বলেছেনl

‘২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন টাইমস পত্রিকায় খালেদা জিয়া দ্য থ্যাঙ্কসলেস রোল ইন সেভিং ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ শিরোনামে এক প্রবন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই অনুরোধ করেছিলেনl’

সেলিম মাহমুদ বলেন, ‘ওই প্রবন্ধে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র উদাসীন থাকলে তাকেও এর দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবেl কারণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আনুগত্য অন্যান্য উদীয়মান পরাশক্তির দিকে ধাবিত হচ্ছেl

‘তারপর তিনি লেখেন, তার মানে এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য এজেন্সি কিছুই করছে নাl ছয় মাস পূর্বে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্প পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন প্রত্যাহার করেছে এবং এই প্রকল্পে দুর্নীতি ও অর্থ তছরুপের তদন্ত করার পরামর্শ দিয়েছে।’

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার এই মন্তব্যে বোঝা যায়, পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিল হওয়ার বিষয়টি তার কাছে অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক বিষয় ছিলl’

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জিএসপি সুবিধা বাতিলের পেছনে যে লবিস্টের মাধ্যমে বিএনপি এবং তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্র ছিল, এটি খালেদা জিয়ার লেখাতেই পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছেl’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া তার লেখায় বাংলাদেশের ওপর বিভিন্ন পর্যায়ের স্যাংশন (অবরোধ) আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের অনুরোধ জানানl পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিচার করার সমালোচনা করেনl’

সেলিম মাহমুদ জানান, প্রবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার ছয় মাস পর বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে লেখাটি খালেদা জিয়ার নয়l তবে ওয়াশিংটন টাইমসে ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত নিবন্ধটি খালেদা জিয়ার— এটি নিশ্চিত হয়েই তা ছাপানো হয়েছে বলে জানান মার্কিন দৈনিকটির নির্বাহী সম্পাদক ডেভিড এস জ্যাকসন। তিনি জানান, মার্ক পার্সি নামে লন্ডনভিত্তিক একজন এজেন্টের মাধ্যমে ওয়াশিংটন টাইমস নিবন্ধটি পেয়েছে।

আরও পড়ুন:
সেই পিস্তলধারী গ্রেপ্তার, বোমা উদ্ধার
সব সমস্যার সমাধান হবে সংলাপে: কাদের
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের শীতবস্ত্র বিতরণ
উন্নয়ন সহযোগীদের ভুল বোঝানোর অপচেষ্টা হচ্ছে: শেখ হাসিনা
নৌকাবিরোধী এমপি-মন্ত্রীদের তালিকা হচ্ছে: নাছিম

শেয়ার করুন

জাতিসংঘে চিঠি দেয়া সংগঠনগুলো নামসর্বস্ব: তথ্যমন্ত্রী

জাতিসংঘে চিঠি দেয়া সংগঠনগুলো নামসর্বস্ব: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন । ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে র‍্যাবকে বাদ দিতে যে ১২টি সংগঠন চিঠি দিয়েছে সেখানে দুই-তিনটি ছাড়া বাকিগুলো নামসর্বস্ব। এগুলোর নাম আমরা আগে শুনিনি, আপনারাও শুনেছেন কিনা আমার জানা নেই।’

শান্তিরক্ষা মিশন থেকে র‌্যাবকে বাদ দিতে জাতিসংঘে চিঠি দেয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে দু-তিনটি ছাড়া বাকিগুলো নামসর্বস্ব বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী এমনটা দাবি করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নকে (র‌্যাব) বাদ দিতে যে ১২টি সংগঠন চিঠি দিয়েছে সেখানে দুই-তিনটি ছাড়া বাকিগুলো নামসর্বস্ব। এগুলোর নাম আমরা আগে শুনিনি, আপনারাও শুনেছেন কিনা আমার জানা নেই।’

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে র‍্যাবকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক ১২টি সংস্থা জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়ের ল্যাকোঁয়ারকে চিঠি দেয়।

বৃহস্পতিবার মানবাধিবার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে এটি প্রকাশ করা হয়। গত বছরের ৮ নভেম্বর জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারিকে এই চিঠি পাঠায় সংগঠনগুলো।

এই চিঠির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তারা এই চিঠি দিয়েছে গত বছরের ৮ নভেম্বর। দুই মাসের বেশি সময় পর এটি হঠাৎ মিডিয়ায় কেন নিয়ে এল? এটির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।’

বিদেশে বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে, তাদের অবৈধ অর্থ লবিস্ট ফার্মে লগ্নি করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে।’

দেশের বিরুদ্ধে বিএনপির বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সরকারের কাছে আছে বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘বিএনপির নয়াপল্টন অফিসের ঠিকানা দিয়ে তারা লবিস্ট ফার্মের সঙ্গে চুক্তি করেছে।’

লবিস্ট নিয়োগে বাংলাদেশ থেকে অর্থ কীভাবে গেল তা তদন্তের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘জনগণের ওপর বিএনপির কোনো আস্থা নেই। তাই তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের মধ্যে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে বিদেশে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ।

‘একটি রাজনৈতিক দল দেশের বিরুদ্ধে যখন এ ধরনের ষড়যন্ত্র করে, তারা দেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে কিনা সেই প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি দেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থ পাচার করে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে, দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রকে হেয় করতে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করার তথ্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সংসদে বলার পর থেকে বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তাদের নেতাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার জন্য এফবিআইয়ের এজেন্ট ভাড়া করেছিল। সেই এজেন্টকে পরে যুক্তরাষ্ট্রে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।

‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য বিএনপি-জামায়াত লবিস্ট নিয়োগ করেছিল। বিএনপি কি এগুলো অস্বীকার করতে পারবে? তাদের অপকর্ম যখন বেরিয়ে এসেছে তখন তারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার জন্য আবোল-তাবোল বকছে।’

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে যে আইন করা হচ্ছে সেটা জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে না- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির সংলাপে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল একটা আইন করার কথা বলেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে। পুরো বিষয়টি হচ্ছে রাজনৈতিক।

‘টিআইবি কাজ করে দুর্নীতি নিয়ে, এটির সঙ্গে তো দুর্নীতির কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক ইস্যুতে বিবৃতি দিয়ে টিআইবি প্রমাণ করেছে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে দেখেছি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বিবৃতি দিতে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যুদ্ধপরাধীদের রক্ষায় নানাভাবে চেষ্টা করেছে।

‘অথচ এসব সংগঠন যেসব দেশে বসে কাজ করে সেসব দেশসহ পৃথিবীর অন্য জায়গায় যখন এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় তখন কোনো বিবৃতি দেয় না। এসব সংগঠন ইতোমধ্যে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। র‌্যাবকে জাতিসংঘ শান্তি মিশন থেকে বাদ দেয়ার তাদের এই আহ্বান খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

এ সময় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম চিশতি, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী শাহ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মনওয়ার রিয়াদ মুন্নাসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সেই পিস্তলধারী গ্রেপ্তার, বোমা উদ্ধার
সব সমস্যার সমাধান হবে সংলাপে: কাদের
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের শীতবস্ত্র বিতরণ
উন্নয়ন সহযোগীদের ভুল বোঝানোর অপচেষ্টা হচ্ছে: শেখ হাসিনা
নৌকাবিরোধী এমপি-মন্ত্রীদের তালিকা হচ্ছে: নাছিম

শেয়ার করুন

বিএনপি নয়, দেড় যুগ আগে লবিস্ট নিয়োগে আ.লীগ: বিএনপি

বিএনপি নয়, দেড় যুগ আগে লবিস্ট নিয়োগে আ.লীগ: বিএনপি

বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম লবিস্ট ‘অ্যালক্যাডে অ্যান্ড ফো’কে নিয়োগে দেয়া হয় ২০০৪ সালের ২৯ নভেম্বর, যা কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি ২০০৫ থেকে। ২০০৫ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত এই ফার্মকে মাসে ৩০ হাজার ডলার হিসেবে সাড়ে ১২ লাখ ডলার দেয়া হয়েছে।

বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ভাড়া করে সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে- এমন অভিযোগ আনার পর দলটি পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেছে, তাদের শাসনামলে আওয়ামী লীগ লবিস্ট ভাড়া করেছে। এর পেছনে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ও করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই দাবি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ভাড়া করা নিয়ে সম্প্রতি অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করছে সরকার ও বিএনপি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, বিএনপির লবিস্ট ভাড়া করার তথ্য প্রমাণ সরকারের কাছে আছে। তিনি চুক্তির নথিপত্রও দেখান। এই লবিস্ট নিয়োগে ৩৭ লাখ ডলার খরচ করা হয়েছে বলেও পরে জানান তিনি।

এই অর্থ পাঠাতে কোনো অনুমতি নেয়া হয়েছে কি না, বিষয়টি জানতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠিও দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই অবস্থায় বিএনপি পাল্টা অভিযোগ আনল।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম লবিস্ট ‘অ্যালক্যাডে অ্যান্ড ফো’কে নিয়োগে দেয়া হয় ২০০৪ সালের ২৯ নভেম্বর, যা কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি ২০০৫ থেকে।”

২০০৫ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত এই ফার্মকে মাসে ৩০ হাজার ডলার হিসেবে সাড়ে ১২ লাখ ডলার দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন বিএনপি নেতা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির লবিস্ট ফার্ম ‘অ্যালক্যাডে অ্যান্ড ফো’ এবং ‘ফ্রিডল্যান্ড’ এর সঙ্গে ‘চুক্তির তথ্য প্রমাণ’ও তুলে ধরেন খন্দকার মোশাররফ।

২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ক্ষমতায় ছিল বিএনপি সরকার। সে সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগের।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সে সময়ের রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিলেও তাতে বিএনপির নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পষ্ট।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পর ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিলে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে দূরে চলে যায়। এরপর তারা আর অবস্থান ফিরে পায়নি।

সরকারও এখন লবিস্ট নিয়োগ করেছে বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর দুর্ভাগ্য যে, তাদের ওপর নির্মম অত্যাচার, গুম, খুন, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে এই জুলুমবাজ অবৈধ সরকার যে অপরাধ করেছে, তা ধামাচাপা দেয়ার লক্ষ্যে লবিস্টদের নিয়োগের জন্য সেই নিপীড়িত দেশবাসীরই ট্যাক্সের টাকা ব্যয় করছে।

‘জনগণের এই অর্থ ব্যয় করে সরকার ও সরকারি দল লবিস্ট নিয়োগের নামে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে এবং তার উৎস কী? তার স্বচ্ছ তদন্ত করে তার রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।’

মোশাররফের দাবি, বহু বছর ধরে নিয়মিত চুক্তিতে কাজ করা লবিস্ট প্রতিষ্ঠান বিজিআর ছাড়াও গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন ও সফর বিনিময়ের লক্ষ্যে এক মাসের জন্য ৪০ হাজার ডলার ফি’তে নিয়োগ করা হয়েছিল আরেকটি লবিস্ট প্রতিষ্ঠান ফ্রিডল্যান্ডারকে।

বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেনি

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের অভিযোগও অস্বীকার করেন মোশাররফ। বলেন, ‘বিএনপি কোনো লবিস্ট নিয়োগের সিদ্ধান্তই কখনও নেয়নি, লবিস্ট নিয়োগ করার প্রয়োজনও বোধ করেনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যে অভিযোগ করেছেন, তা বানোয়াট।’

তিনি বলেন, ‘লবিস্টরা যেসব কথা বলবেন, বিএনপির নেতারা নিজেরাই তা বলে থাকেন এবং তাও গোপনে না-প্রকাশ্যে।’

মোশাররফ বলেন, ‘তারা (বিএনপি) আরও বলেছে যে, এখান থেকে কীভাবে আমরা অর্থ প্রেরণ করেছি। আমরা চাই যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইনকোয়ারি করুক। তাদেরটাও ইনকোয়ারি করুক।’

দূতাবাস থাকা সত্ত্বেও আলাদা করে লবিস্ট নিয়োগ অনৈতিক

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যেকটা দেশে দূতাবাস আছে, জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধির অফিস আছে। এগুলো কীসের জন্য? বাংলাদেশের পক্ষে, বাংলাদেশের ঘটনাবলীর পক্ষে ওইসব দেশকে অবহিত করা এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা দেয়া।

‘সেখানে সরকার বা সরকারি দলের কেন লবিস্ট নিয়োগ করতে হবে? সেটাই প্রশ্ন। দূতাবাস থাকা সত্ত্বেও এভাবে জনগণের অর্থ খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ অনৈতিক।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সেই পিস্তলধারী গ্রেপ্তার, বোমা উদ্ধার
সব সমস্যার সমাধান হবে সংলাপে: কাদের
রাজধানীতে আওয়ামী লীগের শীতবস্ত্র বিতরণ
উন্নয়ন সহযোগীদের ভুল বোঝানোর অপচেষ্টা হচ্ছে: শেখ হাসিনা
নৌকাবিরোধী এমপি-মন্ত্রীদের তালিকা হচ্ছে: নাছিম

শেয়ার করুন