ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তাদের বেতন ৫০% পর্যন্ত বাড়ল

player
ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তাদের বেতন ৫০% পর্যন্ত বাড়ল

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ব্র্যাক ব্যাংক লক্ষ্যণীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে অনেক আর্থিক মানদণ্ডে ব্র্যাক ব্যাংক অগ্রগামী অবস্থানে আছে। আমাদের প্রতিভাবান ও নিবেদিত কর্মকর্তাদের অবদানের কারণেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।’

কর্মকর্তাদের বেতন বাড়িয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) এবং এর নিচের গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে বেসরকারি খাতের এই ব্যাংকটি।

নতুন এই বেতন কাঠামো ১ জানুয়ারি ২০২২ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ।

৭ হাজার ৫০০ জন ফুল টাইম কর্মকর্তা নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান। এই নতুন বেতন কাঠামো ব্যাংকের কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করবে এবং নতুন কর্মকর্তা আকর্ষণে সাহায্য করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশা করা হয়েছে।

আগামী কয়েক বছর বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। সারাদেশে ব্যবসায়িক বিস্তৃতি বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২২ সালেই ১ হাজার ৮০০ জন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা আছে।

এছাড়া আউটসোর্সড কর্মকর্তাদের ফুল টাইম কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ব্যাংকটি। কর্মদক্ষতা ও অবদানের ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই ১০০ জন আউটসোর্সড কর্মকর্তাকে ফুল টাইম কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এ বছর আরও আউটসোর্সড কর্মকর্তাকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হবে।

কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানো প্রসঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ব্র্যাক ব্যাংক লক্ষ্যণীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে অনেক আর্থিক মানদণ্ডে ব্র্যাক ব্যাংক অগ্রগামী অবস্থানে আছে। আমাদের প্রতিভাবান ও নিবেদিত কর্মকর্তাদের অবদানের কারণেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।’

‘কর্মকর্তারাই আমাদের সাফল্যেই পেছনের মূল চালিকাশক্তি। একটি মূল্যবোধভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান ও কল্যাণধর্মী উদ্যোগ গ্রহণে অগ্রাধিকার দেয়। চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের তরুণ সম্প্রদায়ের নিকট প্রথম পছন্দ হবার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে এ নতুন বেতন কাঠামো চালু করা হয়েছে।’

এছাড়াও নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদানের অংশ হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য লাইফ ও মেডিকেল ইন্সুরেন্স, ভর্তুকিসহ স্টাফ লোন, ডে-কেয়ার, মেডিকেল সেন্টার, অফিসে আসা-যাওয়ার জন্য পরিবহন সুবিধা, খেলাধুলা, ব্যায়ামাগার ও ক্যান্টিন সুবিধা দিয়ে থাকে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর: ১০০০ কর্মকর্তা নেবে ব্র্যাক ব্যাংক
ব্র্যাক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সম্মেলন
২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম হোসেন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রেমিট্যান্সে নগদ সহায়তার আওতা বাড়ল

রেমিট্যান্সে নগদ সহায়তার আওতা বাড়ল

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, ‘প্রবাসীদের আয় বৈধ উপায়ে দেশে আনাকে উৎসাহিত করতে বিদ্যমান হারে রেমিট্যান্স প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেয়ার জন্য কয়েকটি খাত যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, লিভ সেলারি, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অবসর সুবিধা।’

বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে নগদ সহায়তায় আওতা বাড়িয়েছে সরকার। এখন থেকে বিদেশি সংস্থায় কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিদের ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, লিভ সেলারি, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অবসর সুবিধার অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে আড়াই শতাংশ নগদ সহায়তা পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক আয় বৈধ উপায়ে দেশে আনাকে উৎসাহিত করতে বিদ্যমান হারে রেমিট্যান্স প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেয়ার জন্য কয়েকটি খাত যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, লিভ সেলারি, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অবসর সুবিধা।

‘রেমিট্যান্সের অর্থের আয়ের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে এবং আহরণের সঙ্গে সঙ্গে আবশ্যিকভাবে তা টাকায় রূপান্তর করতে হবে।’

নির্দেশনাটি সার্কুলার জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে। রেমিট্যান্স পাঠানোর বিপরীতে প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা সংক্রান্ত আগের ইস্যু করা নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ২৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল এক হাজার ২৯৪ কোটি ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ২৭০ কোটি ডলার।

আরও পড়ুন:
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর: ১০০০ কর্মকর্তা নেবে ব্র্যাক ব্যাংক
ব্র্যাক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সম্মেলন
২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম হোসেন

শেয়ার করুন

ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন ২৮ হাজার টাকা

ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন ২৮ হাজার টাকা

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে, যা মার্চ থেকে কার্যকর হবে। এতে বলা হয়েছে, লক্ষ্য অর্জন করতে না পারলে বা অদক্ষতার অজুহাতে কোনো ব্যাংকারকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া যাবে না।

দেশে প্রথমবারের মতো ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বেসরকারি ব্যাংকের এন্ট্রি লেভেলে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের শিক্ষানবিশকালে ন্যূনতম বেতন-ভাতা হতে হবে ২৮ হাজার টাকা।

এ ছাড়া লক্ষ্য অর্জন করতে না পারলে বা অদক্ষতার অজুহাতে কোনো ব্যাংকারকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া যাবে না।

শিক্ষানবিসকাল শেষ হলে প্রারম্ভিক মূল বেতনসহ ন্যূনতম মোট বেতন-ভাতা হবে ৩৯ হাজার টাকা।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে, যা মার্চ থেকে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে বলেছে, অফিস সহায়কদের সর্বনিম্ন বেতন হতে হবে ২৪ হাজার টাকা। অদক্ষতার অজুহাতে বা লক্ষ্যপূরণ না করলে চাকরিচ্যুত করা যাবে না কোনো ব্যাংকারকে। সিইও এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন–ভাতার পার্থক্য যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যাংকিং সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখে গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবদান রেখে যাচ্ছেন।

‘এ প্রেক্ষিতে, ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা যাতে আরও উজ্জীবিত হয়ে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন সে উদ্দেশ্যে এবং ব্যাংকের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা প্রদান করেছে।’

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ট্রেইনি সহকারী কর্মকর্তা (জেনারেল ও ক্যাশ), সহকারী কর্মকর্তাদের শিক্ষানবিশকালে সর্বনিম্ন বেতন-ভাতা হবে ২৮ হাজার টাকা। আর শিক্ষানবিশকাল শেষ হলে বেতন-ভাতা হবে ৩৯ হাজার টাকা।

আর ব্যাংকের অফিস সহায়কদের (নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মেসেঞ্জার) সর্বনিম্ন বেতন হবে ২৪ হাজার টাকা। পাশাপাশি যেসব ব্যাংক তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সেবা নেয়, তাদের বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে অফিস সহায়কদের বেতনকে বিবেচনায় নিতে হবে। তবে এই নির্দেশনা এজেন্ট ব্যাংকিং কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইওর সঙ্গে সর্বনিম্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতার পার্থক্য যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা কমানো যাবে না। পাশাপাশি চাকরি স্থায়ী ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির জন্য আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একনিষ্ঠতা, নৈতিকতা, মনোবল ও কর্মস্পৃহা অটুট রাখার লক্ষ্যে তাদের যথাযথ বেতন-ভাতা প্রদান আবশ্যক। কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ করা গেছে, কিছু ব্যাংক এন্ট্রি লেভেলের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা যথাযথভাবে নির্ধারণ না করে ইচ্ছামাফিক নির্ধারণ করছে। একই ব্যাংকের অন্যান্য উচ্চপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের বিদ্যমান বেতন-ভাতার তুলনায় যা খুবই কম। উচ্চ এবং নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার মধ্যে এত অস্বাভাবিক ব্যবধান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বলেছে, কোনো কোনো ব্যাংকে একই পদে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ভিন্ন ভিন্ন বেতন-ভাতা প্রাপ্ত হচ্ছেন। আবার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারা বা অদক্ষতার অজুহাতে বিভিন্ন ব্যাংকে বেতন-ভাতার ভিন্নতার কারণে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নিজ প্রতিষ্ঠান মনে করে একনিষ্ঠ ও অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে ব্যাংকের কাজে মনোযোগী হওয়ার মনোভাব গড়ে ওঠে না। ফলে অদক্ষতা, অসম প্রতিযোগিতা ও নৈতিক অবক্ষয়সহ বিভিন্ন ধরনের জটিলতার উদ্ভব হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ জন্য ভবিষ্যতে মেধাবী ব্যক্তিরা যাতে ব্যাংকিংকে আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে আগ্রহী হন, সে লক্ষ্যে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

যেসব ক্ষেত্রে নির্দেশনা প্রযোজ্য নয়

ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় ব্যাংকিং সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন আউটলেটে নিযুক্ত ব্যাংকের এজেন্টরা বা এজেন্টের মাধ্যমে নিযুক্ত ব্যক্তিরা বেতন-ভাতা বা পারিশ্রমিক চুক্তি বা স্ব স্ব এজেন্ট কর্তৃক নির্ধারিত হওয়ায় এ নির্দেশনা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের বেতন কাঠামো সরকার কর্তৃক জারিকৃত জাতীয় বেতনস্কেলের হওয়ায় ওইসব ব্যাংকগুলোর জন্য এই নির্দেশনা প্রযোজ্য নয়।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, সুশাসন ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪৫ এর উপ-ধারা (ঘ) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর: ১০০০ কর্মকর্তা নেবে ব্র্যাক ব্যাংক
ব্র্যাক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সম্মেলন
২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম হোসেন

শেয়ার করুন

এসএমই খাতের উন্নয়নে ডাটাবেজ হচ্ছে

এসএমই খাতের উন্নয়নে ডাটাবেজ হচ্ছে

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের শতকরা ৯৯ ভাগ শিল্প ও ব্যবসা কুটিরসহ এমএসএমই খাতের আওতাভুক্ত। এ খাত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। মোট কর্মসংস্থানের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ অবদান এসএমই খাতের।’

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পের উন্নয়নে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের সহযোগিতায় দেশব্যাপী ই-ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার প্রাথমিকভাবে ঢাকার শ্যামপুর, বগুড়ার আদমদীঘি, পিরোজপুরের নেছারাবাদ এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরবে- এই চার উপজেলায় পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

এসএমই ফাউন্ডেশন বলেছে, এই ডাটাবেজে নিবন্ধিত হলে সহজে সেবা পাবেন এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা। এতে অনিয়মের পথ বন্ধ হবে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের শতকরা ৯৯ ভাগ শিল্প ও ব্যবসা কুটিরসহ এমএসএমই খাতের আওতাভুক্ত। এ খাত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। মোট কর্মসংস্থানের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ অবদান এসএমই খাতের।

‘এমন বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে, এসএমই ই-ডাটাবেজ কার্যক্রম অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। দেশের সব এসএমই উদ্যোক্তার তথ্য একটি প্ল্যাটফর্মে পাওয়া গেলে এ খাতের উন্নয়নে সরকারের নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।’

এ ধরনের কর্মসূচি অর্থনীতির প্রাণ এমএসএমই খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘অর্থনীতিতে অবদান রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ খাতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু নিয়মিত হালনাগাদকৃত ডাটাবেজ না থাকায় প্রায়ই এ খাত নিয়ে নানাবিধ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেগ পেতে হচ্ছে।

‘তাই আমি মনে করি, ডাটাবেজ গঠনের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং বাস্তবসম্মত। দেশের সব ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প খাতকে কীভাবে এই ডাটাবেজের আওতায় আনা যায়, তার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’

এসএমই উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, তহবিলের জোগান এবং বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের মধ্যে জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ৩২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এ খাতের উন্নয়নে এসএমই ই-ডাটাবেজ সরকারের নীতিনির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ই-ডাটাবেজ তৈরির কাজ শেষ হলে উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, পণ্য বাজারজাতকরণ এবং পণ্যের মানোন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত সর্বশেষ অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশের মোট ৭৮ লাখের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯ ভাগের বেশি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের। এই খাতের বিকাশ ধরে রাখতে হলে ডাটাবেজের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

আরও পড়ুন:
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর: ১০০০ কর্মকর্তা নেবে ব্র্যাক ব্যাংক
ব্র্যাক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সম্মেলন
২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম হোসেন

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ইরাক

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ইরাক

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে বৃহস্পতিবার মতবিনিময় করেন ঢাকায় ইরাকের রাষ্ট্রদূত আব্দুলসালাম সাদ্দাম মোহিসেন। ছবি: নিউজবাংলা

ইরাকের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বাণিজ্যচুক্তি নবায়ন ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেন। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকে ইরাক সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের আলোচিত দেশ ইরাক।

দেশটি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোরও ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে বৃহস্পতিবার তার সরকারি বাসভবনে মতবিনিময়ের সময় বাণিজ্য-বিনিয়োগে আগ্রহ দেখান ঢাকায় ইরাকের রাষ্ট্রদূত আব্দুলসালাম সাদ্দাম মোহিসেন।

ওই সময় রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বাণিজ্যচুক্তি নবায়ন ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেন। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকে ইরাক সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘ইরাকের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এ জন্য উভয় দেশের সরকারি এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে বাণিজ্য প্রতিনিধি দল সফর বিনিময় করলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের খাতগুলো চিহ্নিত করা সহজ হবে।

‘ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ইরাকের সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। অনেকগুলোর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। পৃথিবীর অনেক দেশ বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে।

‘ইরাকের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সহজ করেছে এবং বেশ কিছু আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। ইরাক বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে এ সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।’

চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ইরাকে ৩.৮০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে ইরাক থেকে ৫৩.৪২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ।

ইরাকের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, মেডিকেল পণ্য, পাটজাত পণ্য, হোম টেক্স ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর: ১০০০ কর্মকর্তা নেবে ব্র্যাক ব্যাংক
ব্র্যাক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সম্মেলন
২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম হোসেন

শেয়ার করুন

ইভ্যালির গ্রাহকের মামলায় তাহসানকে আগাম জামিন

ইভ্যালির গ্রাহকের মামলায় তাহসানকে আগাম জামিন

গায়ক ও অভিনেতা তাহসান রহমান খান। ফাইল ছবি

ইভ্যালির হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে বুধবার হাইকোর্টে আবেদন করেন তাহসান রহমান খান। বৃহস্পতিবার তাকে জামিন দেয় হাইকোর্ট।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান রহমান খানকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার জামিনের এ আদেশ দেয়।

আদালতে তাহসানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সানজিদা খানম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন দেওয়ান।

তাহসানের আইনজীবী ও তার ফুফু সানজিদা খানম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিনি (তাহসান) বিদেশে থাকায় জামিন আবেদন করতে দেরি হয়েছে। বিদেশ থেকে এসেই তিনি জামিন আবেদন করেছেন। আদালত শুনানি নিয়ে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে।’

গত ১৩ ডিসেম্বর এ মামলায় দুই অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়াকে ৮ সপ্তাহের জামিন দিয়েছিল হাইকোর্ট।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের জামিন দেয়।

ইভ্যালির হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়াসহ নয়জনের বিরুদ্ধে গত ৪ ডিসেম্বর মামলা হয়।

সাদ স্যাম রহমান নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক মামলা করেন। মামলায় ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল, চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়াসহ নয়জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রতারণামূলকভাবে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ ও সহায়তা করা হয়েছে। আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা, যা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এ মামলায় ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন:
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর: ১০০০ কর্মকর্তা নেবে ব্র্যাক ব্যাংক
ব্র্যাক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সম্মেলন
২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম হোসেন

শেয়ার করুন

রপ্তানি আয়ের অর্ধেকই এসেছে নিট পোশাক থেকে

রপ্তানি আয়ের অর্ধেকই এসেছে নিট পোশাক থেকে

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে পোশাক রপ্তানি থেকে আয়ের প্রায় অর্ধেকই এসেছে নিট পোশাক খাত থেকে। ছবি: সংগৃহীত

বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘এই যে মহামারির মধ্যেও দেশের রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন হচ্ছে, তা কিন্তু নিট পোশাকের ওপর ভর করেই। মানুষ যত সমস্যায়ই থাকুক, যত অর্থ সংকটেই থাকুক না কেন, অতি প্রয়োজনীয় কাপড় কিনতেই হয়। সে কারণে নিট পোশাক রপ্তানি বাড়ছে।’

মহামারিকালে কম দামি পোশাকে ভর করেই রপ্তানিতে চমক দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন আতঙ্ক ছড়ালেও অতি প্রয়োজনীয় কম দামের পোশাক বিশেষ করে নিট পোশাক রপ্তানি কমবে না বলে জানিয়েছেন এ খাতের রপ্তানিকারকরা।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ২ হাজার ৪৭০ কোটি (২৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করেছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক, ৪৫ দশমিক ২০ শতাংশই এসেছে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের দুটি উপখাত ওভেন ও নিট। আগে নিটের চেয়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে আসত। বেশ কয়েক বছর ধরে রপ্তানি বাণিজ্যে এই দুই খাতের অবদান ছিল কাছাকাছি। কিন্তু করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে ওভেনকে পেছনে ফেলে ওপরে উঠে আসে নিট খাত।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি থেকে মোট ২৭ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে ওভেন পোশাক থেকে এসেছিল ১৪ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। আর নিট পোশাক থেকে এসেছিল ১৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার।

২০২০-২১ অর্থবছরে পাল্টে যায় চিত্র; নিট থেকে আসে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার। আর ওভেন থেকে আসে ১৪ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সেই ব্যবধান আরও বেড়েছে। এই ছয় মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে ১৯ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা। এর মধ্যে নিট পোশাক থেকে এসেছে ১১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। ওভেন থেকে এসেছে ৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পোশাক রপ্তানি থেকে ১৯ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারের যে বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে তার মধ্যে ৫৬.০৫ শতাংশই এসেছে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে। এই ছয় মাসে নিটে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩১ শতাংশ। আর ওভেনে রপ্তানি বেড়েছে ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, আমরা নিজেরাও ভাবিনি নিট খাতের রপ্তানি এতটা বাড়বে। এই যে মহামারির মধ্যেও দেশের রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন হচ্ছে, তা কিন্তু নিট পোশাকের ওপর ভর করেই। মানুষ যত সমস্যায়ই থাকুক, যত অর্থ সংকটেই থাকুক না কেন, অতি প্রয়োজনীয় কাপড় কিনতেই হয়। সে কারণে নিট পোশাক রপ্তানি বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখন ওমিক্রন নিয়ে চিন্তায় আছি। তবে যদি দেশে দেশে আবার লকডাউন শুরু না হয়, তাহলে আমাদের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বর্তমানের ইতিবাচক ধারা আগামী ছয় মাস অব্যাহত থাকবে। সে বিবেচনায় গত অর্থবছরের মতো এবারও একটা ভালো বছর পার করব বলে মনে হচ্ছে।’

ওভেন পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি ও এভিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মহামারির কঠিন সময়ে কম দামি পোশাক রপ্তানি করছি আমরা। বায়াররা অতি প্রয়োজনীয় পোশাক কিনেছেন। সে কারণে নিট পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে। এখন অবশ্য ওভেনও ভালো রপ্তানি হচ্ছে। প্রচুর অর্ডার আসছে। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে আমাদের ভালো দিন যাচ্ছে বলা যায়। তবে ওমিক্রনের ভয় সব সময় তাড়া করছে আমাদের।’

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে মোট ২৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৮০ দশমিক ৫৭ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক (নিট ও ওভেন) থেকে।

এই রপ্তানিতে নিট পোশাক খাতের অবদান হচ্ছে ৪৫ দশমিক ২০ শতাংশ। আর ওভেনের অবদান ৩৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর: ১০০০ কর্মকর্তা নেবে ব্র্যাক ব্যাংক
ব্র্যাক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সম্মেলন
২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম হোসেন

শেয়ার করুন

জ্বালানি তেলের দাম ছুটছে ১০০ ডলারের দিকে

জ্বালানি তেলের দাম ছুটছে ১০০ ডলারের দিকে

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স পূর্বাভাস দিয়েছে, তেলের দাম ১০০ ডলারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই বছরের মাঝামাঝিতেই ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। অন্যদিকে জেপি মরগান বলছে, এই বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২৫ ডলারে গিয়ে পৌঁছেতে পারে। ২০২৩ সালে ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়ছেই। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ ডলার। একই সঙ্গে ইউ এস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচারের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ ডলার ৩১ সেন্টে। এই দর ২০১৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স পূর্বাভাস দিয়েছে, তেলের দাম ১০০ ডলারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই বছরের মাঝামাঝি সময়েই ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে আমেরিকাভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক এবং আর্থিক সেবা হোল্ডিং সংস্থা- জেপি মরগান বলছে, এই বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২৫ ডলারে গিয়ে পৌঁছেতে পারে। ২০২৩ সালে ১৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।

অবশ্য গত বছরের অক্টোবরে তেলের বাজারের উত্থানের সময় গোল্ডম্যান স্যাক্স বলেছিল, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারে গিয়ে পৌঁছবে। কিন্তু ৮৫ ডলারে উঠে তা নিম্নমুখী হয়েছিল। সে সময় সংস্থাটি তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, কোভিড-১৯ এর কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল তা দূর হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে দেশে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই দর গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যেভাবে ১০০ ডলারের দিকে যাচ্ছে, তাতে চড়তে থাকা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে; যেটি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালে এই তেলের দাম ইতোমধ্যে ১৪ শতাংশ বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আবার শুরু হয়েছে উত্তেজনা। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে গত সোমবার যে হামলা চালিয়েছে, তাতে তিনজন মারা গেছেন। আরব আমিরাত আবার এই হত্যাকাণ্ডের বদলা নেওয়ার হুংকার জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন এই উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই জ্বালানি বিশ্লেষকেরা শঙ্কা করছিলেন, তেলের দাম আবারও বাড়বে। মূলত ইউক্রেনে রাশিয়া আক্রমণ করতে পারে, এই আশঙ্কায় তারা এমনটা বলেছিলেন। তবে আরব আমিরাতে এই হামলার ঘটনায় সৌদি আরব বলেছে, তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা তারা চালিয়ে যাবে।

এদিকে হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল কোম্পানি অ্যাডনক বলেছে, এখনো তারা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকেরা অবশ্য বলছেন, ইউরোপ ও আমেরিকায় এবার তীব্র শীত পড়ায় ঘর গরম রাখতে জ্বালানির চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণেও জ্বালানির দাম বাড়ছে।

মহামারির শুরুতে জ্বালানির চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম শূন্যেরও নিচে চলে গিয়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম এখন সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গেছে। কয়েক মাস আগেই ধারণা করা হচ্ছিল, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র বাজারে তেল ছেড়ে সরবরাহ বৃদ্ধির চেষ্টা করে। চীন ও ভারতও একই পথে হাঁটে। এতে তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধারায় ছেদ পড়ে। এ ছাড়া ওপেকও দিনে অতিরিক্ত চার লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন আতঙ্কে গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম কমতে কমতে ৬৬ ডলারে নেমে গিয়েছিল। ব্রেন্ট তেলের দর কমে হয়েছিল ৬৮ ডলার।

তিন-চার দিন ওই একই জায়গায় স্থির ছিল তেলের বাজার। কিন্তু ওমিক্রন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেও করোনার নতুন ওই ধরনে আক্রান্ত হয়ে মানুষ খুব একটা মারা না যাওয়ায় এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক বেশ খানিকটা কেটে যায়। এতে বিশ্বে তেলের চাহিদা বাড়বে-এ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে আবার বাড়তে শুরু করে দাম। সেই ঊর্ধ্বগতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে দর।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। গত বছরের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে প্রতি ব্যারেল ৪৯ ডলার। এরপর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবর মাসে এই দাম ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই তা ১০০ ডলার হয়ে যেতে পারে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশ যখন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে যে দর ছিল, এখন সেই দরকেও ছাড়িয়ে গেল।

আরও পড়ুন:
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর: ১০০০ কর্মকর্তা নেবে ব্র্যাক ব্যাংক
ব্র্যাক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সম্মেলন
২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম হোসেন

শেয়ার করুন