পুঁজিবাজার তহবিলে ব্যাংকের টাকা কত, জিজ্ঞাসা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

player
পুঁজিবাজার তহবিলে ব্যাংকের টাকা কত, জিজ্ঞাসা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

এই তহবিলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবণ্টিত মুনাফা পাঠানো নিয়ে আপত্তি আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তাদের দাবি, এই অর্থ আমানতকারীদের। তবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বলছে, এই ব্যাখ্যা ঠিক নয়, এই অর্থ আমানতকারীদের নয়, শেয়ারধারীদের। ফলে এই অর্থ স্থিতিশীলতা তহবিলে পাঠানো যুক্তিসংগত।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীল তহবিলে (ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড- সিএমএসএফ) ব্যাংকগুলো কত টাকা বা অবণ্টিত ও দাবিহীন লভ্যাংশ দিয়েছে, তা জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আগামী ১৮ জানুয়ারির মধ্যে এ তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর কাছে এ-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে ৩২টি ব্যাংক তালিকাভুক্ত রয়েছে। এসব ব্যাংকের কাছেই তথ্য চাওয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো তাদের মুনাফার ওপর প্রতি বছর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ঘোষণা করে। নিয়ম অনুযায়ী তা বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসাবে চলে যায়।

এ প্রক্রিয়ায় একটি ব্যাংকের মাধ্যমে করা হয়। একটি হিসাবে তা জমা দেয় লভ্যাংশ ঘোষণাকারী ব্যাংক। বর্তমানে প্রক্রিয়াটি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে হয়। তবে আগে কাগুজে প্রক্রিয়ায় ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট পাঠানো হতো। এই ওয়ারেন্টের একটি অংশ ফেরত আসত। এভাবে অদাবিকৃত মুনাফা তৈরি হয়।

শুরুতে ২১ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হয়। তবে তহবিল গঠনের আলোচনার পর কোম্পানিগুলো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অবণ্টিত লভ্যাংশ নিতে বিনিয়োগকারীদের জানায়। এরপর বেশির ভাগ অবণ্টিত লভ্যাংশই কোম্পানিগুলো বিতরণ করেছে বলে জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত কত টাকা তহবিলে জমা পড়ল, সেটি এখনও জানানো হয়নি। তবে সেটি দেড় হাজার কোটি টাকার কম হবে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির হিসাব অনুযায়ী জানা গেছে।

অদাবিকৃত এ লভ্যাংশ নিতে চেয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন- বিএসইসি। এই অর্থে গঠন করা হয়েছে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড সিএমএসএফ।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অদাবিকৃত জমে থাকা লভ্যাংশ এই তহবিলে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

শুরুতে ২১ হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হয়। তবে তহবিল গঠনের আলোচনার পর কোম্পানিগুলো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অবণ্টিত লভ্যাংশ নিতে বিনিয়োগকারীদের জানায়। এরপর বেশির ভাগ অবণ্টিত লভ্যাংশই কোম্পানিগুলো বিতরণ করেছে বলে জানানো হয়।

শেষ পর্যন্ত কত টাকা তহবিলে জমা পড়ল, সেটি এখনও জানানো হয়নি। তবে সেটি দেড় হাজার কোটি টাকার কম হবে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির হিসাব অনুযায়ী জানা গেছে।

এই তহবিলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবণ্টিত মুনাফা পাঠানো নিয়ে আপত্তি আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। তাদের দাবি, এই অর্থ আমানতকারীদের। তবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বলছে, এই ব্যাখ্যা ঠিক নয়, এই অর্থ আমানতকারীদের নয়, শেয়ারধারীদের। ফলে এই অর্থ স্থিতিশীলতা তহবিলে পাঠানো যুক্তিযুক্ত।

এরই মধ্যে এই তহবিলের ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকা বার্ষিক ৬ শতাংশ সুদে আইসিবিকে দেয়ার কথা জানানো হয়েছে।

আইসিবি এই টাকা বিনিয়োগ করবে পুঁজিবাজারে। বাকি ৫০ কোটি টাকায় একটি মিউচুয়াল ফান্ড গঠন করার কথা জানানো হয়েছে।

এই তহবিল গঠনের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এর ৪০ শতাংশ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শেয়ারে। ৫০ শতাংশ অর্থে বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণ দেয়া হবে। আর ১০ শতাংশ অর্থ অতালিকাভুক্ত কোম্পানি বা সরকারি সিকিউরিটিজ, স্থায়ী আমানত ও বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা যাবে।

তহবিলের অর্থ পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। তবে কোনো বিনিয়োগকারী কখনও যদি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে তার লভ্যাংশ দাবি করে, তাহলে যাচাই-বাছাই শেষে তা তহবিল থেকে নিষ্পত্তি করা হবে।

আরও পড়ুন:
আইপিও টাকা খরচ না করায় আমান কটনের জরিমানা
সুকুক চালুর দিন লেনদেনে ভাটা
সরকারি কোম্পানির উল্টো দৌড়ে কমল সূচক
চার মাস পর চাঙাভাবে সরকারি শেয়ারে জোয়ার
ধাক্কা কাটিয়ে উত্থানে ফিরে এক মাসের সর্বোচ্চ সূচক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ডেল্টা লাইফে জটিলতা: বিপুল আইনি খরচ

ডেল্টা লাইফে জটিলতা: বিপুল আইনি খরচ

ডেলটা লাইফ ইনস্যুরেন্স ভবন। ফাইল ছবি

যেসব মামলায় ডেল্টা লাইফ কোনো পক্ষ নয়, সেসব মামলার খরচ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। শুধু প্রশাসকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) বিরুদ্ধে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের করা রিটে আইনজীবীদের বিল বাবদ ৮৮ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা কোম্পানি তুলে নিয়েছে। এটা তুলেছে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর থেকে গত ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৩ দিনে। 

প্রশাসক নিয়োগের পর থেকে বিভিন্ন খাতে ২ কোটি ৭৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯১৪ টাকা আইনবহির্ভূতভাবে খরচের অভিযোগ উঠেছে ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসক থাকবে না কি না, এ-সংক্রান্ত মামলা চালাতে গিয়ে ২৩ দিনে শুধু আইনজীবীদের বিল দেখিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে ৮৮ লাখ টাকা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জীবন বিমা খাতের কোম্পানিটি গত ১১ মাস ধরে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কোম্পানিটি প্রশাসকের মাধ্যমে চলবে এমন আদেশ এসেছে গত ১৬ জানুয়ারি।

আদেশে বলা হয়, ১০ জানুয়ারি চেম্বার আদালত হাইকোর্টের প্রশাসক নিয়োগ অবৈধ রায়টি স্থগিত করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠায়। আপিল বিভাগ শুনানি নিয়ে আগামীকাল রোববার পর্যন্ত রায় স্থগিত রাখতে বলেছে।

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, যেসব মামলায় ডেল্টা লাইফ কোনো পক্ষ নয়, সেসব মামলার খরচ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। শুধু প্রশাসকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) বিরুদ্ধে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের করা রিটে আইনজীবীদের বিল বাবদ ৮৮ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা কোম্পানি তুলে নিয়েছে। এটা তুলেছে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর থেকে গত ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৩ দিনে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৬ জানুয়ারি প্রশাসককে অবৈধ ঘোষণার রায় দেয়ার পর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে সিএমপি করলে ১০ জানুয়ারি শুনানি হয়। পরে প্রশাসকও একটি সিএমপি করেন। যার শুনানি না হলেও শুনানি বাবদ ১২ জানুয়ারি তুলে নেয়া হয় ২৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।

অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ বরখাস্ত করে চার মাসের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেয় বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।

কোম্পানির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে বিশেষ নিরীক্ষা করার দায়িত্ব দিয়ে আইডিআরএর সাবেক সদস্য সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লাকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ আনার কয়েক দিন পর ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ সাসপেন্ড করে বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা প্রশাসক নিয়োগ পেলে দুদক থেকে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। অবশ্য তার এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে কোম্পানির সাবেক পর্ষদ সদস্যরা উচ্চ আদালতে রিট করেন।

রিটের পর উচ্চ আদালত নির্দেশ দেয়, প্রশাসক সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লাকে যেসব বিষয়ে নজরদারি করার দায়িত্ব দিয়েছে তিনি যেন সেটাই করেন।

প্রশাসক নিয়োগের পর ডেল্টা লাইফে টাকা আত্মসাতের সঙ্গে কোম্পানির ডিএমডি ও সিওও মঞ্জুরে মাওলা, লিগ্যাল কনসালট্যান্ট আবদুল ফাত্তাহ, কনসালট্যান্ট (লিগ্যাল ডিপার্টমেন্ট) মাহবুব আলম খান, সিএফও ফারহান উদ্দিন জড়িত বলে নাম আসে।

এ ছাড়া কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করার পর কোম্পানিতে মাস্ক বিতরণ, সম্মেলন, শেয়ার বিক্রি, ইউনিয়ন ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকার এফডিআর ও বাখরাবাদ (গ্রুপ কমিশন বাণিজ্য) কেলেঙ্কারি এবং আইনি খরচের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে। এর সঙ্গে দুই প্রশাসক সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা ও রফিকুল ইসলাম জড়িত বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোম্পানির পক্ষ থেকে কেউ এ ধরনের অভিযোগ করতে পারেন না। কারণ এটি এখন প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে আছে। আইনি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো আমার দায়িত্ব পালন সময়ে হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমার সময় অভিযোগ উঠেছিল, আমি বার্ষিক সম্মেলনের নামে বিশাল বাজেট নির্ধারণ করেছিলাম। সেখানে কিছু ব্যয়ও করা হয়েছিল। পরে সে সম্মেলন হয়েছে। ফলে আমার সময়ে যে খরচ হয়েছিল সেটি সমন্বয় হয়েছে।

‘ডেল্টা লাইফের পরিচালনা পর্ষদের কেউ এখন কোম্পানির দায়িত্বে নেই। ফলে তাদের প্রশাসক নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করাটাই স্বাভাবিক। এগুলো তারই অংশ।’

ডেল্টা লাইফে বর্তমানে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন আইডিআরের আরেক সাবেক সদস্য (প্রশাসন) মো. কুদ্দুস খান।

তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে গত বছরের অক্টোবরে। তার আগে প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন সরকারের সাবেক যুগ্ম সচিব মো. রফিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
আইপিও টাকা খরচ না করায় আমান কটনের জরিমানা
সুকুক চালুর দিন লেনদেনে ভাটা
সরকারি কোম্পানির উল্টো দৌড়ে কমল সূচক
চার মাস পর চাঙাভাবে সরকারি শেয়ারে জোয়ার
ধাক্কা কাটিয়ে উত্থানে ফিরে এক মাসের সর্বোচ্চ সূচক

শেয়ার করুন

সুকুক লেনদেনে বাধা উচ্চহারে কমিশন

সুকুক লেনদেনে বাধা উচ্চহারে কমিশন

পুঁজিবাজারে অনুমোদন পাওয়া প্রথম সুকুক বন্ডে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ২০০ মেগাওয়াটের আর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎ করছে বেক্সিমকো লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সি পাওয়ার। ফাইল ছবি

সুকুক বা বন্ড কেনার ক্ষেত্রে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নির্ধারিত লেনদেনের মাশুল ৫০ টাকা, অগ্রিম কর দিতে হয় আড়াই টাকা ও বাকি সাড়ে ২২ টাকা ব্রোকারেজ হাউসের কমিশন। মোট সাড়ে ৭৪ টাকা দিতে হয় কমিশন। এক লাখ টাকা পর্যন্ত বন্ড কেনাবেচার ক্ষেত্রে এই হারে কমিশন দিতে হবে। এই নীতির কারণে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পক্ষে কম পরিমাণে বন্ড কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় মুনাফার নিশ্চয়তার পরও বেক্সিমকোর আনা ইসলামি গ্রিন সুকুক বন্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। বন্ডটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর পর হাতবদল হচ্ছে খুবই কম। চাহিদা না থাকায় দ্বিতীয় দিনই তা নেমে গেছে অভিহিত মূল্যের নিচে। ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ড এখন পাওয়া যাচ্ছে ৯০ টাকা ৫০ পয়সায়।

বন্ডটি বছরে ন্যূনতম ৯ শতাংশ মুনাফা দেবে, যেভাবে ব্যাংকে টাকা রাখলে এখন পাওয়া যায় ৬ শতাংশের কম। মুনাফার হার আরও বেশি হতে পারে, আর বছর শেষে বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে ২৫ শতাংশ কম দামে শেয়ার পাওয়ার সুযোগের কারণে মুনাফার হার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশিও হতে পারে।

এত আকর্ষণীয় মুনাফার সুযোগ থাকার পরও বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ কেন?- প্রাপ্ত তথ্য বলছে, বন্ডটি নিয়ে ধারণার অভাবের পাশাপাশি কারণ হিসেবে আছে এটি কেনাবেচায় মাত্রাতিরিক্ত মাশুলও।

এমনিতে শেয়ার কেনাবেচায় ১০০ টাকার বিপরীতে সর্বনিম্ন ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা পর্যন্ত কমিশন কাটে ব্রোকারেজ হাউস। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাশুল, অগ্রিম কর আর ব্রোকারেজ হাউসের কমিশন মিলে সুকুক বন্ডে লাগতে পারে এর চেয়ে বহুগুণ।

সুকুক বা বন্ড কেনার ক্ষেত্রে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নির্ধারিত লেনদেন মাশুল ৫০ টাকা, অগ্রিম কর দিতে হয় আড়াই টাকা ও বাকি সাড়ে ২২ টাকা ব্রোকারেজ হাউসের কমিশন। মোট সাড়ে ৭৪ টাকা দিতে হয় কমিশন। একই হারে কমিশন দিতে হবে সুকুক বিক্রি করার ক্ষেত্রেও।

এক শ টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত বন্ড কিনলে সব মিলিয়ে কমিশন কাটা হচ্ছে সাড়ে ৭৪ টাকা। আর সেই একটি সুকুক বিক্রি করলেও একই হারে কমিশন দিতে হচ্ছে।

অর্থাৎ বড় অঙ্কের কিনলে কমিশনের চাপ বেশি বোধ না হলেও কেউ যদি কম টাকার কিনতে চান, তার কমিশন বেশি পড়ে যাচ্ছে।

ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ট্রেডারদের বক্তব্য, পুঁজিবাজারে যে বন্ডগুলো আছে সেগুলোর অভিহিত মূল্য ৫ হাজার টাকা। আর বন্ডে যারা বিনিয়োগ করেন, তারা ডে ট্রেডিংয়ের উদ্দেশ্যে বা অল্প টাকায় বিনিয়োগ করে না। তারা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে থাকেন। কিন্তু সুকুকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ থাকায় বিষয়টি ভিন্ন হতে পারত। এখানে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকা উচিত ছিল।

একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের তথ্য বলছে, সুকুক আসার পর কেউ ১০টি, কেউ ৫০টি বন্ড কেনার অর্ডার দিতে গিয়ে কমিশনের কথা জেনে পিছিয়ে এসেছে।

কেউ যদি বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেন, তাহলে তাকে কমিশনের কারণে একসঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বন্ড বিক্রি করতে হবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে ক্রেতা পাওয়া কঠিন।

অথচ যেকোনো কোম্পানির শেয়ার একটি করেও কেনাবেচা করা যায় এবং সে ক্ষেত্রে কমিশন হয় প্রতি ১০০ টাকায় ২০ বা ৫০ পয়সা হিসাবেই।

এ কারণে প্রথম দিন অভিহিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বন্ড কেনার আদেশ এলেও পরের দিনগুলোতে ক্রয়াদেশ ক্রমেই কমছে।

গত ১৩ জানুয়ারি লেনদেন শুরুর প্রথম দিন সর্বোচ্চ দর উঠে ১১০ টাকা। দিন শেষে দর দাঁড়ায় ১০১ টাকা। সেদিন হাতবদল হয় ৩২ লাখ ৩২ হাজার ৭৭২টি বন্ড।

দ্বিতীয় কর্মদিবস ১৬ জানুয়ারিতেই অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে আসে বন্ড। সেই সঙ্গে কমে চাহিদা। লেনদেন হয় ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৪টিতে।

লেনদেন শুরুর ঠিক এক সপ্তাহ পর ২০ জানুয়ারি হাতবদল হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬৪টি বন্ড।

কমিশনের নীতির কারণে সুকুক বন্ড লেনদেনে ধীরগতির এই বিষয়টি নজরে এসেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনেরও (বিএসইসি)।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বন্ডের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগ থেকেই একটি চার্জ নির্ধারণ করা আছে। সেটি সুকুকের ক্ষেত্রেও কার্যকর হচ্ছে। তবে অন্যান্য বন্ডের তুলনায় সুকুকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী বেশি। কিন্তু কমিশন বা চার্জ বেশি হওয়ায় আগ্রহ হারাচ্ছে। সেটি আমাদের নজরে এসেছে।

‘চার্জ নির্ধারণে বিএসইসি’র কিছু করার নেই। ডিএসই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে ডিএসইকে এরই মধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশা করি এ সমস্যা থাকবে না।’

ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বলেন, সুকুকের কমিশনের বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

সুকুক বন্ড বিনিয়োগকারীদের বছরে ৯ শতাংশ ন্যূনতম মুনাফা দেয়ার পাশাপাশি আরও নানা সুযোগের কথা উল্লেখ আছে। বলা হয়েছে, বেক্সিমকো লিমিটেডের লভ্যাংশ ১০ শতাংশের বেশি হলে যতটুকু বেশি হবে, তার ১০ শতাংশ যোগ হবে সুকুকের লভ্যাংশে।

২০২১ সালের জন্য বেক্সিমকো লিমিটেড বিনিয়োগকারীদের ৩৫ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আগামীতেও যদি একই হারে লভ্যাংশ দেয়, তাহলে এই ৩৫ শতাংশে ১০ শতাংশের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশের ১০ শতাংশ হিসেবে আড়াই শতাংশ সুকুরের লভ্যাংশে যোগ হবে। অর্থাৎ তখন বন্ডধারীরা সাড়ে ১১ শতাংশ লভ্যাংশ পাবেন।

সুকুকের এই লভ্যাংশ করমুক্ত রাখার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এমনিতে লভ্যাংশের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ কর কাটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সুকুকে সেটি না কাটা হলে প্রকৃত মুনাফা বেশি হবে।

আবার প্রতিবছর বিনিয়োগকারীরা ২০ শতাংশ টাকা তুলে নিতে পারবেন অথবা তিনি চাইলে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার নিতে পারবেন।

এখানেই রয়েছে বাড়তি মুনাফার সুযোগ। কারণ এই শেয়ার পাওয়া যাবে ২৫ শতাংশ কম দামে। রেকর্ড ডেটের আগের দুই সপ্তাহের ভরিত গড় হিসাব করে এই শেয়ার দেয়া হবে।

অর্থাৎ শেয়ার মূল্য ১০০ টাকা হলে বিনিয়োগকারী পাবেন ৭৫ টাকায়, শেয়ার মূল্য ২০০ হলে পাবেন ১৫০ টাকায়, আর শেয়ার মূল্য ৩০০ হলে পাবেন ২২৫ টাকায়, শেয়ার মূল্য ৪০০ টাকা হলে তিনি পাবেন ৩০০ টাকায়। এভাবে যে শেয়ার তিনি পাবেন, তাতে ৩৩ শতাংশ মুনাফা করার সুযোগ আছে। সব মিলিয়ে এক লাখ টাকায় ৫ বছরে ন্যূনতম ৭৮ হাজার টাকা মুনাফা পাবেন তিনি।

সুকুক হলো ইসলামিক শরিয়াহ নীতিমালা মেনে পরিচালিত বন্ড বা আর্থিক পণ্য। প্রচলিত বন্ডের সুদের পরিমাণ নির্ধারিত থাকে, কিন্তু তার বিপরীতে কোনো সম্পদের ব্যাকআপ থাকে না। তবে সুকুক নির্দিষ্ট সম্পদ বা প্রকল্পের বিপরীতে গঠিত হয়। ওই সম্পদ ও প্রকল্পের আয়ই আনুপাতিক হারে পেয়ে থাকেন সুকুক ইউনিটধারীরা।

সুদবিহীন সুকুক বন্ডের ৩ হাজার কোটি টাকার বেশির ভাগ অংশই দুটি সৌরচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
আইপিও টাকা খরচ না করায় আমান কটনের জরিমানা
সুকুক চালুর দিন লেনদেনে ভাটা
সরকারি কোম্পানির উল্টো দৌড়ে কমল সূচক
চার মাস পর চাঙাভাবে সরকারি শেয়ারে জোয়ার
ধাক্কা কাটিয়ে উত্থানে ফিরে এক মাসের সর্বোচ্চ সূচক

শেয়ার করুন

জেএমই হসপিটালের নিলামের ব্যাখ্যা দিল ডিএসই

জেএমই হসপিটালের নিলামের ব্যাখ্যা দিল ডিএসই

ব্রোকারেজ হাউসে লেনদেনে চোখ বিনিয়োগকারীদের। ফাইল ছবি

জেএমআই হসপিটালের বিডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বিডিং শুরুর ৫ মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বেশি শেয়ার কেনার প্রস্তাব জমা হওয়ায় এই সময়ের পর আবেদনকারীরা শেয়ার পাননি।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলনে শেয়ারপ্রতি দর নির্ধারণে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির। এতে শেয়ারপ্রতি দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা। এই নিলাম নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

দর নির্ধারণের কয়েক মিনিটের মধ্যে শেয়ার শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে আলোচনার পর বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

গত ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত জেএমআই হসপিটালের বিডিং অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই বিডিং শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।

ডিএসইর পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, কোম্পানিটির নিলাম সম্পর্কিত বিষয় আলোচনায় আসার পর ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়।

ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আইনকানুন ও ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেম (ইএসএস) সফটওয়্যারের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, বর্তমান বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বিডিং বা নিলামে শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্য কত হবে, তা নিলামের আগেই নির্ধারণ করা যায়।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কাট অফ প্রাইসে যদি যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত কোটার তুলনায় আবেদন বেশি হয়, তাহলে টাইম স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হয়।

জেএমআই হসপিটালের বিডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এই টাকার শেয়ার পেতে ৩৮৫ যোগ্য বিনিয়োগকারী ১৩৯ কোটি ৭৯ লাখ ২১ হাজার ৪০০ টাকার দর প্রস্তাব করেন। বিডিং শুরুর ৫ মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে ১৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বেশি শেয়ার কেনার প্রস্তাব জমা হওয়ায় এই সময়ের পর আবেদনকারীদের কেউ শেয়ার পাননি।

ডিএসইর বার্তায় বলা হয়, শেয়ার বরাদ্দ পাওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের মাঝে আগে বিড করার প্রবণতা দেখা যায়। যখন বিড করা হয় তখন বিডিং সম্পর্কিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

বিডিং শেষ হওয়ার পর ব্যাংক রিকনসিলিয়েশন পাওয়ার পর কাট অফ প্রাইস ডিসকভারি করার সময় বিডিং সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিটি বিডিং ইএসএসের মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করা হয় বলে জানানো হয়।

এই সফটওয়্যার চালুর পর ডিএসই ৬৭টি কোম্পানির বিডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কোম্পানিটি বিডিংয়ের অনুমোদন দেয়। পুঁজিবাজার থেকে কোম্পানিটি ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। উত্তোলন করা টাকায় কোম্পানিটি জমি কেনা, ভবন তৈরি, মেশিনারিজ কেনা ও ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করবে।

আরও পড়ুন:
আইপিও টাকা খরচ না করায় আমান কটনের জরিমানা
সুকুক চালুর দিন লেনদেনে ভাটা
সরকারি কোম্পানির উল্টো দৌড়ে কমল সূচক
চার মাস পর চাঙাভাবে সরকারি শেয়ারে জোয়ার
ধাক্কা কাটিয়ে উত্থানে ফিরে এক মাসের সর্বোচ্চ সূচক

শেয়ার করুন

পাঁচ শর্তে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল

পাঁচ শর্তে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল

ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদলের অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। ছবি: সংগৃহীত

চিঠিতে বলা হয়, ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি শেয়ার মিনোরি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। যা মোট শেয়ারের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ পরিমাণ শেয়ার নেয়া হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী, আফসানা তারান্নুম ও লুবাবা তাবাসসুমের কাছ থেকে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা বদল হচ্ছে। এর অনুমোদনও দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কমিশনের নিয়মিত সভায় বৃহস্পতিবার মিনোরি বাংলাদেশকে কোম্পানিটির মালিকানা নিতে অনুমোদন দেয়া হয়।

এর আগে পুঁজিবাজারের একই খাতের এমারেল্ড অয়েল চালু করার মাধ্যমে নিজেদের কর্তৃত্ব দেখিয়েছি মিনোরি বাংলাদেশ। তবে ফু-ওয়াং ফুডসের মালিকানা পেতে পাঁচ শর্ত পূরণ করতে হবে মিনোরিকে।

ফু-ওয়াং ফুডসের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের জন্য কোম্পানিটির তিন পরিচালকসহ মিনোরি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ফু-ওয়াং ফুডসের ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২৬টি শেয়ার মিনোরি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে কমিশন অনুমোদন দিয়েছে। যা মোট শেয়ারের ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ পরিমাণ শেয়ার নেয়া হয়েছে ফু-ওয়াং ফুডসের পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী, আফসানা তারান্নুম ও লুবাবা তাবাসসুমের কাছ থেকে।

ডিপোজিটার (ব্যবহারিক) প্রবিধান ২০০৩ এর বিধি ৪২ এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) উপ-বিধি ১১.৬ (মিলিত লেনদেন) এর অধীনে শেয়ার ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) অনুসারে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা মূল্যে হস্তান্তর হয়েছে। ফলে হস্তান্তরিত শেয়ারের মূল্য হবে ৮ কোটি ৪৪ লাখ ২৭ হাজার ২৬ টাকা।

এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে এই শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেয়ারের মালিকানা নেয়ার জন্য মিনোরি বাংলাদেশকে দেয়া পাঁচ শর্তের মধ্যে আছে, মালিকানা নেয়ার পর মিনোরি বাংলাদেশকে প্রযোজ্য উৎসে কর জমা দেয়ার জন্য প্রবিধানের বিধি-বিধান অনুযায়ী ঘোষণা দিতে হবে।

শেয়ার হস্তান্তরের পর মিনোরি বাংলাদেশ শেয়ারের বিপরীতে এক বা একাধিক মনোনীত প্রতিনিধি বা পরিচালক নিয়োগ করবে।

ফু-ওয়াং ফুডের দায় দেনা নিয়মিত পরিশোধ ও কোম্পানিটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ২০ কোটি টাকার শেয়ার মানি ডিপোজিট হিসেবে রাখবে।

এই টাকা আলাদা একটি ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। যা দিয়ে ব্যাংকের দায় দেনা নিয়মিত পরিশোধ, জমি অধিগ্রহণ, কার্যকরি মূলধন ও উৎপাদন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহার করা যাবে।

৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণের জন্য শেয়ার মানি ডিপোজিটের শেয়ারের অর্থের বিপরীতে মূলধন বাড়ানোর ক্ষেত্রে কমিশনের সম্মতি নিতে হবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএসইসির পক্ষ থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মিনোরি বাংলাদেশের সঙ্গে তারা একটি চুক্তি করেছে। সেখানে ফু-ওয়াং ফুডস তাদের সাড়ে ৮ কোটি টাকা সমপরিমাণের শেয়ার বিক্রি করবে মিনোরি বাংলাদেশের কাছে।

‘এর আগে মিনোরি বাংলাদেশের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আরেক কোম্পানি এমারেল্ড অয়েল উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে তাদের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আর ফু-ওয়াং ফুড পরিচালনার জন্য মিনোরি বাংলাদেশকে বেশ কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে, তাদের সেগুলো পরিপালন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
আইপিও টাকা খরচ না করায় আমান কটনের জরিমানা
সুকুক চালুর দিন লেনদেনে ভাটা
সরকারি কোম্পানির উল্টো দৌড়ে কমল সূচক
চার মাস পর চাঙাভাবে সরকারি শেয়ারে জোয়ার
ধাক্কা কাটিয়ে উত্থানে ফিরে এক মাসের সর্বোচ্চ সূচক

শেয়ার করুন

আসছে আরও তিন ব্রোকারেজ হাউস

আসছে আরও তিন ব্রোকারেজ হাউস

ব্রোকারেজ হাউজে লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নতুন ৫৫টি ব্রোকারেজ হাউস বা ট্রেককে (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) লাইসেন্স দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এদের একটি সাকিব আল হাসানের মোনার্ক। এটি আগামী সপ্তাহে কার্যক্রম শুরু করবে। বাকিগুলো কবে কার্যক্রম শুরু করবে, সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।

পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচায় ব্যবসার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে আরও তিনটি ব্রোকারেজ হাউসকে। এগুলো হচ্ছে এসকিউ ওয়্যার অ্যান্ড ক্যাবল কোম্পানি, ফারিহা নিট টেক্স ও গিবসন সিকিউরিটিজ।

সম্প্রতি নতুন ট্রেক বা ব্রোকারেজ হাউসের অনুমোদনসংক্রান্ত চিঠি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো যেন দ্রুত বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আসতে পারে, এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।’

গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নতুন ৫৫টি ব্রোকারেজ হাউস বা ট্রেককে (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) লাইসেন্স দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এদের একটি সাকিব আল হাসানের মোনার্ক। এটি আগামী সপ্তাহে কার্যক্রম শুরু করবে। বাকিগুলো কবে কার্যক্রম শুরু করবে, সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।

এর আগের নতুন করে ট্রেক বা ব্রোকারেজ হাউসের সার্টিফিকেট পেতে ৬৬টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এখান থেকে ডিএসই ১৫টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বাতিল করে ৫১টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দিতে বিএসইসির কাছে পাঠায়। পরে আরও ৪টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত করে ১৮ মে ৩০টি, ২১ জুন ২৬টি ও ২৬ আগস্ট ৯টি ব্রোকারেজ হাউসকে অনুমোদন দেয়া হয়।

নতুন স্টেকহোল্ডারদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে লাইসেন্স বিতরণ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম।

নতুন তিনটি অনুমোদন পাওয়ায় এখন এ তালিকা বেড়ে হয়েছে ৫৮টি। এতে ডিএসইর সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস বা ট্রেকের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৮৩টিতে।

আরও পড়ুন:
আইপিও টাকা খরচ না করায় আমান কটনের জরিমানা
সুকুক চালুর দিন লেনদেনে ভাটা
সরকারি কোম্পানির উল্টো দৌড়ে কমল সূচক
চার মাস পর চাঙাভাবে সরকারি শেয়ারে জোয়ার
ধাক্কা কাটিয়ে উত্থানে ফিরে এক মাসের সর্বোচ্চ সূচক

শেয়ার করুন

পতন ঠেকাল সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপ

পতন ঠেকাল সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপ

ব্রোকারেজ হাউসে পুঁজিবাজারের লেনদেন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

১৮৭ টাকা থেকে পড়তে পড়তে ১৪৪ টানায় নেমে আসা বেক্সিমকো লিমিটেড ঘুরে দাঁড়ায় বুধবার। সেদিন শেয়ারদর বাড়ে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। পরদিন বাড়ল আরও ৮ টাকা ৭০ পয়সা। অন্যদিকে বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারদর বুধবার বাড়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা, পরের দিন তা বাড়ল আরও ৪ টাকা ৭০ পয়সা।

দুই মাসের বেশি সময় ধরে সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডে ভর করে টানা ‍দুই দিন সূচক বাড়ল পুঁজিবাজারে। ওয়ালটনের দরপতনের ধাক্কা সামলানোর ক্ষেত্রে এ কোম্পানিটির পাশাপাশি বেক্সিমকো ফার্মার ভূমিকাও ছিল।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক বাড়ল ১৬ দশমিক ২৬ পয়েন্ট। এর মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের দুই কোম্পানির মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেড বাড়িয়েছে ১২ দশমিক ২৩ পয়েন্ট আর বেক্সিমকো ফার্মা বাড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট।

এ নিয়ে চলতি সপ্তাহের পাঁচ দিনই সূচক অল্প অল্প করে বেড়েছে।

গত বছরের শেষ প্রান্তিকে পুঁজিবাজারে ক্রমাগত দরপতন হতে থাকলেও চলতি বছরের শুরুটা হয়েছে ঝলমলে। তিন সপ্তাহের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সূচক কমেছে কেবল দুই দিন, বেড়েছে বাকি ১৩ দিন।

সংশোধন কাটিয়ে সূচকে চাঙাভাব ফেরার পর যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেটি হলো সূচক লাফ দিচ্ছে না, বাড়ছে অল্প অল্প করে। লেনদেনও বাড়ছে ধীরে ধীরে।

২০২০-এর মাঝামাঝি থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সূচকের যে ব্যাপক উত্থান হয়েছিল সেখানে বেক্সিমকো গ্রুপের, বিশেষ করে বেক্সিমকো লিমিটেডের উত্থান ছিল সবচেয়ে বেশি।

তবে বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানিগুলোর অক্টোবর ও নভেম্বর থেকে দর হারাতে শুরু করে। গত এক বছরের সর্বোচ্চ দরের তুলনায় এই কদিনে ২২ শতাংশের বেশি দর হারায় বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা দর হারায় প্রায় ২৫ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংক প্রায় ২০ শতাংশ আর শাইনপুকুর সিরামিকস দর হারায় ৩৫ শতাংশের বেশি।

পতন ঠেকাল সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপ
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনের চিত্র

১৮৭ টাকা থেকে পড়তে পড়তে ১৪৪ টানায় নেমে আসা বেক্সিমকো লিমিটেড ঘুরে দাঁড়ায় বুধবার। সেদিন শেয়ারদর বাড়ে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। পরদিন বাড়ল আরও ৮ টাকা ৭০ পয়সা।

অন্যদিকে বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারদর বুধবার বাড়ে ৩ টাকা ৪০ পয়সা, পরের দিন তা বাড়ল আরও ৪ টাকা ৭০ পয়সা।

এই দুই দিনে গ্রুপের আরেক কোম্পানি শাইনপুকুর সিরামিকসের দরে যোগ হয়েছে ২ টাকা বা ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। তবে আইএফআইসি ব্যাংক এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে একটি দরে। অন্যদিকে লেনদেন শুরুর পরেই অভিহিত মূল্যের চেয়ে নিচে নেমে যাওয়া বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক দর হারিয়েছে সাড়ে ৯ শতাংশ।

কেবল সূচকের উত্থানে নয়, লেনদেনেও বেক্সিমকোর ভূমিকা ছিল প্রধান। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডে লেনদেন হয়েছে ২৪৬ কোটি ৫৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এটি মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সূচক বাড়লেও বেশির ভাগ শেয়ারের দর অবশ্য কমেছে। সব মিলিয়ে বেড়েছে ১৬২টি কোম্পানির দর, কমেছে ১৭৪টির। অপরিবর্তিত ছিল বাকি ৪২টির দর।

লেনদেনও খানিকটা কমেছে। দিন শেষে হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ৬০১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১ হাজার ৭৩৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা।

এদিন বিবিধি খাতের বেক্সিমকো লিমিটেড ছাড়াও লেনদেনে ৫০ শতাংশের বেশি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৫৮ শতাংশ।

প্রধান খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সাধারণ বিমা খাতের শেয়ারদর। এই খাতের ৬৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ব্যাংক খাতের ৩৪ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। একই হারে বেড়েছেও। আর্থিক খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ৩১ শতাংশ।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ৬০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৩৫ শতাংশের।

সূচক বেড়েছে যেসব কোম্পানির অবদান বেশি

বেক্সিমকো লিমিটেড ও বেক্সিমকো ফার্মা ছাড়া তৃতীয় কোম্পানি হিসেবে সূচকে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে লিন্ডে বিডি। এই কোম্পানিটি যোগ করেছে ২ দশমিক ৪১ পয়েন্ট।

পতন ঠেকাল সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপ
সূচক সবচেয়ে বেশি বাড়িয়েছে এই ১০টি কোম্পানি

সূচক বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রেখেছে স্কয়ার ফার্মা, কেয়া কসমেটিকস, এসিআইও। সূচকে এই তিন কোম্পানির অবদান ছিল ৪ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট।

এর বাইরে ট্রাস্ট ব্যাংক শূন্য দশমিক ৮২ পয়েন্ট, উত্তরা ব্যাংক শূন্য দশমিক ৬৬ পয়েন্ট, বিকনফার্মা শূন্য দশমিক ৬১ পয়েন্ট ও সোনালী পেপার শূন্য দশমিক ৫৯ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচকে যোগ করেছে ২৪ দশমিক ৮১ পয়েন্ট।

অন্যদিকে সূচক সবচেয়ে বেশি কমিয়েছে ওয়ালটন। কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক আয় কমে যাওয়ার পর শেয়ারদর ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমায় সূচক কমে গেছে ২০ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গ্রামীণফোন ৩ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট এবং লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট সূচক কমিয়েছে ৩ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট।

তিতাস গ্যাস, ফরচুন সুজ, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্‌ল, আইসিবি, ব্র্যাক ব্যাংক, জিপিএইচ ইস্পাত, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকও সূচক কমিয়েছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানিই সূচক কমিয়েছে ৩৬ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট।

পতন ঠেকাল সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপ
এই ১০ টি কোম্পানির সূচক নিচের দিকে টেনে নামিয়েছে

দর বৃদ্ধির শীর্ষে দুর্বল কোম্পানি

যে ১০টি কোম্পানির দর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, তার মধ্যে আটটি ‘বি‘ ক্যাটাগরির কোম্পানি, একটি নতুন তালিকাভুক্ত, একটি জেড ক্যাটাগরির।

যে কোম্পানি লভ্যাংশ দেয় না, সেগুলো জেড ক্যাটাগরিতে থাকে, যে সব কোম্পানি ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেয়, সেগুলো ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানি আর যেসব কোম্পানি ১০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেয়, সেটি ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি।

লেনদেনে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে কেয়া কসমেটিকসের ১০ শতাংশ। ৭ টাকার শেয়ার বেড়ে হয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা। ২০২০ সালের জন্য এক শতাংশ লভ্যাংশ দেয়া এই কোম্পানিটি ২০২১ সালের জন্য এখনও লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।

পতন ঠেকাল সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপ
বৃহস্পতিবার মোট ৫টি খাতে একশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে

২০২১ সালে শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া দেশবন্ধু পলিমারের দর বেড়েছে ৯.৯১ শতাংশ, শেয়ার প্রতি সাড়ে ২৭ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া গোল্ডেনসনের দর ৯.৯০ শতাংশ, শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া গোল্ডেন হ্যাভি ক্যামিকেলের দর ৯.৮০ শতাংশ আর নতুন তালিকাভুক্ত ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৯.৫৮ শতাংশ।

সাত শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে দুটি কোম্পানির। এর মধ্যে শেয়ার প্রতি ৩০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া গোল্ডেন হারভেস্টের ৭.৮২ শতাংশ আর শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করা পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের ৭.১৯ শতাংশ শেয়ার দর বেড়েছে।

২০২১ সালে শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা বেঙ্গল উইন্ডসোরের দর ৬.১১ শতাংশ, লোকসানের কারণে লভ্যাংশ না দেয়ার ঘোষণা দেয়া ইয়াকিন পলিমারের দর ৫.৯২ শতাংশ এবং শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করা মনোস্পোল পেপারের দর বেড়েছে ৫.৬৮ শতাংশ।

দর পতনে ১০ কোম্পানি

লভ্যাংশ সংক্রান্ত ঘোষণার কারণে বৃহস্পতিবার তাল্লু স্পিনিংয়ের শেয়ার দরে কোনো সীমা ছিল না। ফলে স্বাভাবিক দরের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি ও কমার সুযোগ ছিল কোম্পানিটির।

গত তিন বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা না করার পর কোম্পানিটির শেয়ার দর এক দিনেই কমেছে ২৫.১৭ শতাংশ। আগের দিন দর ছিল ১৪ টাকা ৩০ পয়সা, সেটি নেমে এসেছে ১০ টাকা ৭০ পয়সায়।

পতন ঠেকাল সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপ
বৃহস্পতিবার বেশিরভাগ খাতেই লেনদেন কমেছে পুঁজিবাজারে

দর পতনের দ্বিতীয় তালিকায় ছিল ফুওয়াং ফুড, যার দর কমেছে ৬.৪৩ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স দর হারিয়েছে ৬.৩২ শতাংশ।

এছাড়া দেশ গার্মেন্টসের দর ৬.০৬ শতাংশ, প্রাইম লাইফের দর ৫.৬২ শতাংশ, ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ৫.০৪ শতাংশ, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের দর ৪.৯৯ শতাংশ, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৪.৫১ শতাংশ ও ফরচুন সুজের দর ৪.৩৭ শতাংশ কমেছে।

দর পতনের শীর্ষ দশে থাকা অপর কোম্পানিটি হলো অগ্নি সিস্টেমস। ৪.০৩ শতাংশ দর হারিয়ে ২৪ টাকা ৮০ পয়সা দরের শেয়ার নেমেছে ২৩ টাকা ৮০ পয়সায়।

লেনদেনে সেরা ১০

এদিন সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডের ২৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ২৪ হাজার ২৯৩টি।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের লেনদেন হয়েছে ৭১ কোটি ৪০ লাখ টাকার।

লেনদেনের তৃতীয় স্থানে ছিল ফরচুন সুজ। কোম্পানিটির মোট ৪১ কোটি ৩১ লাখ টাকার ৩২ লাখ ৯৫ হাজার ৭১৬টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা সাইফ পাওয়ারটেকের লেনদেন হয়েছে ৪০ কোটি ৮ লাখ টাকা। এসিআই শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার।

ষষ্ঠ স্থানে থাকা জিপিএইচ ইস্পাতে লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫৬ লাখ ৭৫ হাজার ২১৩টি।

এছাড়া পাওয়ারগ্রিডে ২৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, একটিভ ফাইনে ২৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা, লিনডে বিডির ২৫ কোটি ১০ লাখ টাকা, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সে ২৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলে ২৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্টের লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
আইপিও টাকা খরচ না করায় আমান কটনের জরিমানা
সুকুক চালুর দিন লেনদেনে ভাটা
সরকারি কোম্পানির উল্টো দৌড়ে কমল সূচক
চার মাস পর চাঙাভাবে সরকারি শেয়ারে জোয়ার
ধাক্কা কাটিয়ে উত্থানে ফিরে এক মাসের সর্বোচ্চ সূচক

শেয়ার করুন

সাকিবের ব্রোকারেজ হাউসের যাত্রা শুরু যেকোনো দিন

সাকিবের ব্রোকারেজ হাউসের যাত্রা শুরু যেকোনো দিন

সাকিব আল হাসানের মালিকানাধীন মোনার্ক হোল্ডিং আগামী সপ্তাহ থেকে বিও হিসাব খোলার ঘোষণা দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের ২১ মে পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ হাউসের (অনুমোদিত শেয়ার কেনাবেচা হাউস) ব্যবসা করার অনুমতি পায় ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির শুভেচ্ছা দূত সাকিব আল হাসান। সাকিবের মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউসের নাম মোনার্ক হোল্ডিং। মতিঝিলের সিটি সেন্টারে নেয়া হয়েছে করপোরেট অফিস।

ক্রিকেট বিশ্বের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের মালিকানাধীন মোনার্ক হোল্ডিং আগামী সপ্তাহ থেকে বিও হিসাব খোলার ঘোষণা দিয়েছে। এরপরই লেনদেন শুরু হবে।

এমনটি নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন মোনার্ক হোল্ডিংয়ের আইটি প্রধান রাইসুল হাসান।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি যে ৫২টি নতুন ব্রোকারেজ হাউসের অনুমোদন দিয়েছে তার মধ্যে এটি প্রথম, যেটি লেনদেন শুরুর দ্বারপ্রান্তে।

রাইসুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহের সোমবার থেকে আমাদের এখানে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব খোলা শুরু হবে। বিও হিসাব খোলা শুরু হওয়ার দ্রুততম সময়ে লেনদেনে যাওয়া যাবে।’

এরই মধ্যে ডিএসই থেকে মোনার্ক হোল্ডিংকে লেনদেন শুরুর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় লিংকও ডিএসই থেকে সরবরাহ করা হয়েছে।

গত বছরের ২১ মে পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ হাউসের (অনুমোদিত শেয়ার কেনাবেচা হাউস) ব্যবসা করার অনুমতি পায় ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির শুভেচ্ছা দূত সাকিব আল হাসান।

সাকিবের মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউসের নাম মোনার্ক হোল্ডিং। মতিঝিলের সিটি সেন্টারে নেয়া হয়েছে করপোরেট অফিস।

নতুন অনুমোদন পাওয়া ব্রোকারেজ হাউসগুলোর বিষয়ে ডিএসই আইসিটি বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন যে কয়টি ট্রেক বা ব্রোকারেজ হাউসের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই এখনও লেনদেন পরিচালনা করার অবস্থায় যায়নি।

‘প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো প্রস্তুত হওয়ার পর ডিএসইকে অবহিত করতে হবে। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের লেনদেন উপযোগী করেছে বলে জানিয়েছে। ডিএসইর পক্ষ থেকে সেগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিদর্শনের পর যদি মনে হয়, ব্রোকারেজ হাউস পুঁজিবাজারে লেনদেন পরিচালনা করতে সক্ষম, তখন তাকে প্রয়োজনীয় লিংক ও পাসওয়ার্ড দেয়া হবে।’

মোনার্ক হোল্ডিংয়ের পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা। বিও হিসাব খোলার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে শেয়ার ক্রয়-বিক্রির ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবসায় সরাসরি সম্পৃক্ত হবেন সাকিব আল হাসান।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে নতুন ৫২টি ব্রোকারেজ হাউস বা ট্রেককে (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) লাইসেন্স দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

নিয়ম অনুযায়ী ট্রেক লাইসেন্স পাওয়ার এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত লেনদেনে আসার কথা।

অনুমোদন পাওয়া ব্রোকারেজ হাউসগুলো যাতে দ্রুত লেনদেনে আসে, সে জন্য ডিএসইকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে গত অক্টোবরে চিঠি দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

যেখানে নতুন ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) স্থাপনে প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার/স্টক-ব্রোকার/অনুমানকৃত) নিয়মমালা, ২০০০ অনুযায়ী নিবন্ধন সার্টিফিকেট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে বলা হয়।

মোনার্ক হোল্ডিংয়ের রাইসুল হাসান বলেন, ‘এর সব কিছুই নিশ্চিত করা হয়েছে।’

অনুমোদন পাওয়া ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কার্যক্রম শুরু করতে দেরির প্রসঙ্গে রুহুল আমিন বলেন, ‘নতুন ৫২টি ব্রোকারেজ হাউসের মধ্যে ১০ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠান স্টক-ডিলার ও স্টক-ব্রোকারের লাইসেন্সের জন্য অবেদন করেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাক অফিস সিস্টেমও চালু করতে হবে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান এখনও এগুলো শেষ করতে পারেনি।’

নতুন ব্রোকারেজ হাউসগুলোর আইটি সিস্টেম ডেভেলপ বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন রুহুল আমিন।

নতুন করে ট্রেক বা ব্রোকারেজ হাউসের সার্টিফিকেট পেতে ৬৬টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এখান থেকে ডিএসই ১৫টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বাতিল করে ৫১টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দিতে বিএসইসির কাছে পাঠায়। পরে আরও ৪টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত করে ১৮ মে ৩০টি, ২১ জুন ২৬টি ও ২৬ আগস্ট ৯টি ব্রোকারেজ হাউসকে অনুমোদন দেয়া হয়।

গত ৪ সেপ্টেম্বর ডিএসইর নিকুঞ্জে আনুষ্ঠানিক নতুন স্টেকহোল্ডারদের লাইসেন্স বিতরণ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
আইপিও টাকা খরচ না করায় আমান কটনের জরিমানা
সুকুক চালুর দিন লেনদেনে ভাটা
সরকারি কোম্পানির উল্টো দৌড়ে কমল সূচক
চার মাস পর চাঙাভাবে সরকারি শেয়ারে জোয়ার
ধাক্কা কাটিয়ে উত্থানে ফিরে এক মাসের সর্বোচ্চ সূচক

শেয়ার করুন