কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত জবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

player
কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত জবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

জবি শিক্ষার্থী উম্মে নিসা জীমের মৃত্যুতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছবি: নিউজবাংলা

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্রী জীমের মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান বলেন, ‘জীম অনেক দিন ধরে অসুস্থ ছিল৷ কিন্তু জীম এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে, এটা ভাবতে পারিনি। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, আমাদের বিভাগ সব সময়ই পাশে থাকবে৷’

দীর্ঘদিন কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ওই ছাত্রীর নাম উম্মে নিসা জীম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন।

জীম বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ছাত্রীর মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

জীমের বাড়ি বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত রোগ, রক্তশূন্যতা, পায়ের সমস্যাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। ২০১১ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজধানীর একটি হাসপাতালে প্রায় দেড় মাস কোমায় ছিলেন জীম।

জীমের সহপাঠীরা জানান, অসুস্থ অবস্থায়ও দ্বিতীয় সেমিস্টারের দুটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সে। কিন্তু অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় সে পরবর্তী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান বলেন, ‘জীম অনেক দিন ধরে অসুস্থ ছিল৷ কিন্তু জীম এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে, এটা ভাবতে পারিনি। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, আমাদের বিভাগ সব সময়ই পাশে থাকবে৷ আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী একটি বাসে তার জানাজায় শরিক হওয়ার জন্য বগুড়ায় গেছে।’

এদিকে উম্মে নিসা জীমের মৃত্যুতে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের চলমান সেমিস্টার পরীক্ষা এক সপ্তাহ পেছানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৪৩তম বিসিএস: প্রিলির ফল প্রকাশ

৪৩তম বিসিএস: প্রিলির ফল প্রকাশ

৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন।ফাইল ছবি

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নুর আহ্‌মদ। তিনি বলেন, ‘৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে।’

৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। লিখিত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫ হাজার ২২৯ জন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নুর আহ্‌মদ।

তিনি বলেন, ‘৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে।’

এসএমএসে ফল জানতে টেলিটক মোবাইল থেকে BCS লিখে স্পেস দিয়ে ৪৩ লিখে স্পেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। আটটি বিভাগীয় শহরের ৩৬৯ কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা হয়। পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেন ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২ চাকরিপ্রার্থী, যা বিসিএসের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদনের রেকর্ড। আর এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৩ লাখ ২১ হাজার ৬৫০ প্রার্থী।

লিখিত পরীক্ষা জুলাই মাসে

প্রিলিমিনারি ফল প্রকাশের সঙ্গেই ৪৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষারও সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে জুলাই মাসে লিখিত পরীক্ষায় বসতে হতে পারে প্রার্থীদের।

ফলাফল প্রকাশের বিবৃতিতে লিখিত পরীক্ষা নিয়ে বলা হয়েছে, ৪৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা চলতি বছরের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সূচি কমিশনের ওয়েবসাইটে ও প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নুর আহ্‌মদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজকের কমিশনের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪৩তম বিসিএসে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণদের আগামী জুলাই মাসে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য কমিশন সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৩তম সাধারণ বিসিএসের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় পিএসসি। সে বছরের ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় আবেদন প্রক্রিয়া। শুরুতে আবেদনের শেষ সময় গত বছরের ৩১ জানুয়ারি করা হলেও পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সুপারিশে সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়।

৪৩তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৮১৪ জনকে নিয়োগ দেবে। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ হবে ৩০০ জন। পুলিশের এএসপি পদে নিয়োগ হবে ১০০ জন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেয়া হবে ২৫ জনকে।

শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি ৮৪৩ ক্যাডার নিয়োগ দেয়া হবে। এ ছাড়া অডিটে ৩৫, ট্যাক্সে ১৯, কাস্টমসে ১৪, সমবায়ে ২০, ডেন্টাল সার্জন পদে ৭৫ ও অন্যান্য ক্যাডারে নিয়োগ দেয়া হবে ৩৮৩ জনকে।

শেয়ার করুন

অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শাবির আন্দোলনকারীরা

অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শাবির আন্দোলনকারীরা

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ছবি: নিউজবাংলা

আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তাব দেন। তবে শিক্ষার্থীরা এই প্রস্তাবেও সম্মত হননি।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাদের মধ্যে কাজল দাস নামের একজনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পাঁচজনের হাতে অনশনস্থলেই স্যালাইন লাগানো হয়েছে।

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৪ জন বুধবার দুপুর থেকে অনশন শুরু করেন। তীব্র শীত আর অনাহারে রাতভর রাস্তায় থাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাদের শরীর খারাপ হতে থাকে।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে একজন চিকিৎসক তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যান।

এর এক ঘণ্টা পর কাজল দাস নামের এক অনশনকারীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কাজল পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীরা জানান, রাতে কাজলের কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। এ ছাড়া তার রক্তচাপ কমে যায়।

অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শাবির আন্দোলনকারীরা


সিলেটের যে হাসপাতালে কাজল দাসকে নেয়া হয়েছে সেখানকার চিকিৎসক বাবলু হোসেন বলেন, ‘জ্বর ও রক্তচাপ কমে যাওয়ায় তার অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছিল। তবে হাসপাতালে আনার পর তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।’

শিক্ষক প্রতিনিধিরা দুই দফায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে যান। তবে শিক্ষার্থীরা আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তাব দেন। তবে শিক্ষার্থীরা এই প্রস্তাবেও সম্মত হননি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সাব্বির আহমদ বলেন, ‘ঠান্ডা ও অনাহারে আমাদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তবু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

শেয়ার করুন

শাবি ভিসি অপসারণ না হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন: ছাত্রদল

শাবি ভিসি অপসারণ না হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন: ছাত্রদল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ছাত্রদল। ছবি: নিউজবাংলা

রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ‘শিগগিরই শাবি ভিসিকে অপসারণ না করলে ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রদল বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন গড়ে তুলবে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদল।

শাবি ভিসিকে শিগগিরই অপসারণ করা না হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সরকারের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

শাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

ছাত্রদল সভাপতি খোকন বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও পুলিশ হামলা করেছে। তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহার এবং উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি।’

ভিসি ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগকে শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি মন্তব্য করে ফজলুর রহমান বলেন, শাবি ভিসিকে অপসারণ না করলে ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রদল বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিতে সারা দেশে উত্তাল আন্দোলন গড়ে তুলবে।’

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘শুধু শিক্ষার্থীই নয়, ঢাকাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও বর্তমান অবৈধ সরকারের হাতে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এই সরকার ঢাবি অধ্যাপক তাজমেরী ইসলামের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।’

সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম,সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. রাকিবুল ইসলাম।

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

এক হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের আন্দোলন রোববার থেকে রূপ নিয়েছে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে। ওই প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের পর শিক্ষার্থীদের এখন একটাই দাবি, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার বিরুদ্ধে খাবারের খারাপ মান, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তার প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সরে যান তারা। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

এরপর মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ।

বিকেলে তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। এরপর পুলিশ উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায়।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর রোববার অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রোববার রাতে উপাচার্য ফরিদ প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগের বিষয়টি জানান। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে নামেন।

এর মাঝে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীকে আসামি করে সোমবার রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানায় মামলা করে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য পুলিশকে সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে এ দাবি মানা না হলে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। এদিন দুপুরে আলটিমেটামের সময় পার হলে ২৪ শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ আন্দোলন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল করেন।

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের দাবি ‘সংহতি’, শিক্ষকরা জানালেন ‘সহমর্মিতা’

শিক্ষার্থীদের দাবি ‘সংহতি’, শিক্ষকরা জানালেন ‘সহমর্মিতা’

অনশনের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার দুপুরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ছবি: নিউজবাংলা

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন করে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনশনকারীদের একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। কাজল দাস নামের ওই শিক্ষার্থীকে নগরের রাগিব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিক্ষকদের আলোচনার প্রস্তাব আবারও ফিরিয়ে দিয়েছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার দুপুরে অর্ধশতাধিক শিক্ষক উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে যান।

তবে এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তাদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি না জানালে শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবেন না।

শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, ‘প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে এ ঘটনার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করা হবে। যার দোষ পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে তারাও শরিক হবেন।’

তবে শিক্ষকদের এমন কথায় আশ্বস্ত না হয়ে আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। পরে সমঝোতায় ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান শিক্ষকরা। তবে যাওয়ার আগে জানিয়ে যান, আলোচনার জন্য আবারও আসবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন করে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনশনকারীদের একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। কাজল দাস নামের ওই শিক্ষার্থীকে নগরের রাগিব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেন শিক্ষার্থী নাফিজা আনজুম। তিনি বলেন, ‘যে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলির নির্দেশ দেন। তার কাছে আমরা শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই নিরাপদ অনুভব করছি না। তার অধীনে আমরা কিছুতেই ক্লাসে ফিরে যাব না। তাকে পদত্যাগ করতেই হবে।’

শিক্ষকদের আলোচনার প্রস্তাব প্রসঙ্গে আন্দোলকারী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘আমরা নায্য দাবিতে আন্দোলন করছি। উপাচার্য আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছেন। আমরা তার পদত্যাগ চাই। এখন আর আলোচনার সুযোগ নেই। আমরা চাই আমাদের শিক্ষকরাও এই দাবির সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমাদের আন্দোলনে শরিক হবেন। এই স্বৈরাচারী উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করবেন।’

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যর্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বেলন, ‘আমরা তাদের বলেছি, এ ঘটনায় যারাই দায়ী তাদের তদন্ত করে খুঁজে বের করা হবে। যদি উপাচার্যেরও দোষ পাওয়া যায়, তাহলে আমরাও তার পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হব। তবে তদন্তের সময় দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা রাগ করেছে। তবে আমাদের রাগ করলে চলবে না। আমরা তাদের কাছে আবারও আলোচনার জন্য আসব। বারবার আসব।’

এর আগে বুধবার রাতে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে ও আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষকরা উপাচার্য ভবনের সামনে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে চান। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ না করলে শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। প্রায় ২ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান শিক্ষকরা।

বুধবার রাতে আন্দোলন চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন দুই শিক্ষার্থী। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

শাবিতে হামলা: জগন্নাথে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

শাবিতে হামলা: জগন্নাথে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মিছিল বের হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান হিমেল মিছিলে নেতৃত্ব দেন। রায়সাহেব বাজারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদল নেতারা।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট থেকে মিছিল বের হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান হিমেল মিছিলে নেতৃত্ব দেন। রায়সাহেব বাজারে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদল নেতারা।

শাবি ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের যৌথ হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

মিছিল-সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল নেতা সাইফুল হক তাজ, নাহিদ চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম রফিক, নাছিম উদ্দিন ও ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন।

শেয়ার করুন

শাবি ভিসির ‘আপত্তিকর মন্তব্য’: জাবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ

শাবি ভিসির ‘আপত্তিকর মন্তব্য’: জাবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ

শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

শিক্ষক সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত  অবমাননাকর ও অসম্মানজনক।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রীদের নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ‘আপত্তিকর মন্তব্যের’ প্রতিবাদ জানিয়েছে জাবি শিক্ষক সমিতি ও বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ। একই সঙ্গে ক্ষোভও জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

সংগঠন দুটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এই প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানানো হয়।

শিক্ষক সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত অবমাননাকর ও অসম্মানজনক।

‘শাবি উপাচার্যের আপত্তিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছি। আমরা আশা করি, তিনি প্রকাশ্যে তার ভুল স্বীকার করে অশোভন মন্তব্য প্রত্যাহার করবেন।’

বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তার সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন। বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

‘ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যে একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে শোনা যায় এক ব্যক্তিকে।

যারা এই অডিওটি ফাঁস করেছেন তাদের দাবি, এটি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের। ছাত্রীদের রাতে বাইরে থাকা নিয়ে কটাক্ষ করছেন উপাচার্য।

বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তারা জানিয়েছেন, অডিওটি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের, তবে এটি ২০১৯ সালের।

অডিওতে শোনা যায়, ‘যারা এই ধরনের দাবি তুলেছে, যে বিশ্ববিদ্যালয় সারারাত খোলা রাখতে হবে, এইটা একটা জঘন্য রকম দাবি। আমরা মুখ দেখাইতে পারতাম না। এখানে আমাদের ছাত্রনেতা বলছে যে, জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েদের সহজে কেউ বউ হিসেবে চায় না। কারণ সারারাত এরা ঘোরাফেরা করে। বাট আমি চাই না যে আমাদের যারা এত ভালো ভালো স্টুডেন্ট, যারা এত সুন্দর, এত সুন্দর ডিপার্টমেন্টগুলো, বিখ্যাত সব শিক্ষক... তারা যাদের গ্র্যাজুয়েট করবে, এরকম একটা কালিমা লেপুক তাদের মধ্যে।

‘ওই জায়গাটা কেউ চায় না, কোনো গার্ডিয়ানও চান না কিন্তু। এখন আমরা যদি কোনো মেয়েকে বলি তোমার বাবা-মা কাউকে ফোন করব... তখন তোমরাই তো এতে বাধা দিবা... না না না এইটা হবে না, দেখ হয়রানি করতেছে। কিন্তু এইটা তো প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। তোমাদেরও নৈতিক দায়িত্ব যে, এই মেয়ে কেন রাতের বেলা সোয়া দশটা পর্যন্ত স্যাররে সময় দিসে?’

ওই ক্লিপে আরও শোনা যায়, ‘আমি মাঝে মাঝে ঢাকা থেকে যখন আসি, রাতে ১২টা-১টা বেজে যায়। আমি দেখি যে আমাদের ওয়ান কিলোমিটার রাস্তা দিয়া ছেলে-মেয়ে হাত ধরাধরি করে কনসালটিং করতাছে। একটা অঘটন ঘটে গেলে দায়দায়িত্ব ভাইস চ্যান্সেলরকে নিতে হবে। যত দোষ, নন্দ ঘোষ। ভাইস চ্যান্সেলর দায়ী সে জন্য।’

এই ক্লিপের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। আন্দোলনকারীরা তাকে বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। ফোনে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও রিসিভ করেননি তিনি।

শেয়ার করুন

স্বপ্ন এবার বোরো ধানে

স্বপ্ন এবার বোরো ধানে

তীব্র শীত উপেক্ষা করে বোরোর চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তারিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘আমন ধানে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় বোরো নিয়েও তাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আশা করি, সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন পাব।’

ফেনীতে রোপা আমনের বাম্পার ফলনের পর এবার বোরো ধানে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন কৃষকরা।

তাই বীজতলা তৈরির পর থেকে তীব্র শীত উপেক্ষা করে ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে ধানের চারা রোপন করছেন কৃষকরা। অনেকে আবার আবাদের জন্য জমি প্রস্তুতিতে সেচ, হালচাষ, সার প্রয়োগ, বীজ-চারা ওঠানোসহ নানা কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। গত কয়েকদিন ধরেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে এমন চিত্র।

ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের কৃষক শাহ আলম বলেন, ‘এ মৌসুমে ভালো ধান পেতে গেলে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। এ ছাড়া শ্রমিকের মজুরি খরচও বেশি পড়ে যায়। তারপরও আমরা ধান চাষ করছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানা যায়, জেলায় এ বছর ৩০ হাজার ১শ ১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ১শ ১৫ হেক্টরে হাইব্রিড ও ২৬ হাজার ৯৫ হেক্টরে উচ্চফলনশীল (উফশী) বীজের আবাদ করা হবে।

সূত্রটি জানায়, সদর উপজেলায় ৮ হাজার ৯শ ৬০, ছাগলনাইয়ায় ৫ হাজার ৫শ ৯০, ফুলগাজীতে ৪ হাজার ৬শ ৫০, পরশুরামে ৩ হাজার ২শ ৪০, দাগনভূঞায় ৬ হাজার ৫শ ও সোনাগাজীতে ১ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

স্বপ্ন এবার বোরো ধানে
আমনের পর এবার বোরো ধানে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। ছবি: নিউজবাংলা


সূত্র আরও জানায়, বোরো আবাদ জেলায় ১ হাজার ৪শ ৬৮ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ২শ ১শ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও ১ হাজার ৩শ ৫৩ হেক্টর জমিতে উফশীসহ ১ হাজার ৫শ ৬২ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪শ ৪৩, ছাগলনাইয়ায় ২৮৫, ফুলগাজীতে ২৭০, পরশুরামে ১৬১, দাগনভূঞায় ৩৩৫ ও সোনাগাজীতে ৬৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। এদিকে কৃষকদের বোরো আবাদে উৎসাহিত করতে জেলায় ১০ হাজার কৃষককে ২ কেজি করে হাইব্রীড বীজ, ৪ হাজার কৃষককে ৫ কেজি করে উফশী বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি সার, ১০ কেজি করে বিনামূল্যে এমওপি সার প্রদান করা হয়।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তারিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘আমন ধানে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় বোরো নিয়েও তাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আশা করি, সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন পাব।’

অন্য জাতের চেয়ে ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা ব্রি-ধান ৮৯ ও ব্রি-ধান ১২ চাষ করছেন। এছাড়া কয়েকজন কৃষককে বঙ্গবন্ধুর নামে এবার ব্রি-ধান ১০০ চাষ করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে বলে জানায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন