‘ব্যাংকগুলো করপোরেটদের নিয়ে ব্যস্ত’

player
‘ব্যাংকগুলো করপোরেটদের নিয়ে ব্যস্ত’

প্রতীকী ছবি

এসএমই পর্যায়ে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করা উচিত বলে মনে করেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘৫০ জন বড় কাস্টমারকে ব্যাংকগুলো যে ঋণ দেয়, তার এক অংশ ঋণ পাচ্ছেন ৪ লাখ এসএমই উদ্যোক্তা। বাকিরা তো পাচ্ছেনই না।’

দেশের বেশির ভাগ ব্যাংক করপোরেটদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে বলে মন্তব্য করেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। বলেছেন, ব্যাংক থেকে বড়রাই ঋণ পাচ্ছে। তারা ছোট উদ্যোক্তাদের (এসএমই) দিকে নজর দিতে চায় না। এ মনোভাবের পরিবর্তন হওয়া দরকার।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত মিট দ্য প্রেসে এসব কথা বলেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মনোভাব পরিহার করতে এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং নিয়মেই একটা নির্দিষ্ট অর্থ ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে সরকারের বাধ্য করা উচিত।’

করোনাকালে সরকারের প্রণোদনা ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর বৈষম্যের দৃষ্টান্তও তুলে ধরেন এফবিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সংগঠনের নেতৃত্বে এসে আমরা দেখেছি ৫০ জন বড় কাস্টমারকে ব্যাংকগুলো যে ঋণ দেয়, তার এক অংশ ঋণ পাচ্ছেন ৪ লাখ এসএমই উদ্যোক্তা। বাকিরা তো পাচ্ছেনই না। অথচ দেশের অর্থনীতির ৮৫ ভাগ অবদান রেখে আসছেন এই এসএমইরা।’

খেলাপি ঋণের বেশির ভাগই করপোরেটদের কাছে পাওনা বলে জানিয়েছেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকব্যবস্থায় খেলাপির হার ৮.৭ শতাংশের মতো। এই যে বিপুল পরিমাণ খেলাপি, সবকটিই বড় করপোরেটদের। আমি নিজেও একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান (বেঙ্গল ব্যাংক)। এসএমইরা ঋণের টাকা মারেন না। তারা সব ঋণ ফেরত দেন।

‘তাই আমি বোর্ড সভায় আমার বোর্ড অফ ডিরেক্টরসদের বলে দিয়েছি, আমাদের করপোরেট প্রতিষ্ঠান দরকার নেই, এসএমইরা যাতে কোনোভাবেই ঋণ বঞ্চিত না হন। আশার বিষয় হচ্ছে, এখন বাংলাদেশ ব্যাংকও এসএমইদের ওপর বিশেষ নজর দিতে শুরু করেছে।’

আরও পড়ুন:
ডিজিটালাইজেশনে বিশ্বব্যাংকের আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিশেষায়িত ব্যাংকের কর্মীরাও হাওড়, দ্বীপ ও চর ভাতা পাবেন

বিশেষায়িত ব্যাংকের কর্মীরাও হাওড়, দ্বীপ ও চর ভাতা পাবেন

সুনামগঞ্জের হাওর। ছবি: নিউজবাংলা

দেশে ৩টি বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে- বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।

হাওর, দ্বীপ ও চর অঞ্চলের বিশেষায়িত ব্যাংক কর্মকর্তারাও আলাদা ভাতা পাবেন।

সরকারঘোষিত হাওর, দ্বীপ ও চর উপজেলায় কর্মরত রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকের কর্মকর্তারাও এখন থেকে থেকে গ্রেডভেদে প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ১ হাজার ৬৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।

মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, হাওর, দ্বীপ ও চর উপজেলায় অবস্থিত রাষ্ট্রমালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংকের স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর হাওর, দ্বীপ ও চর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য একই হারে আলাদা ভাতা প্রদানের ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ অনুযায়ী, সপ্তম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তার ভাতার পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকা। অষ্টম গ্রেডের কর্মকর্তারা পাবেন ৪ হাজার ৬০০ টাকা, নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা পাবেন ৪ হাজার ৪০০ টাকা। দশম গ্রেডের কর্মকর্তারা পাবেন মাসিক ৩ হাজার ২০০ টাকা ভাতা।

১১তম গ্রেডের কর্মকর্তারা পাবেন মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা। ১২তম, ১৩তম, ১৪তম ও ১৫তম গ্রেডের কর্মকর্তারা পাবেন যথাক্রমে ২ হাজার ৬০০ টাকা, ২ হাজার ২০০ টাকা, ২ হাজার ৪০ টাকা, ১ হাজার ৯৪০ টাকা।

১৬তম, ১৭তম ১৮তম এবং ১৯তম গ্রেডের কর্মকর্তারা পাবেন যথাক্রমে ১ হাজার ৮৬০ টাকা, ১ হাজার ৮০০ টাকা, ১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং ১ হাজার ৭০০ টাকা।

২০তম গ্রেডের কর্মকর্তারা পাবেন সর্বনিম্ন ১ হাজার ৬৫০ টাকা ভাতা।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করে পার্বত্য এলাকাবহির্ভূত ১৬ উপজেলাকে হাওর, দ্বীপ ও চর উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সেই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৬ উপজেলা হলো কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম; চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, নোয়াখালীর হাতিয়া, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজীবপুর, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, ভোলার মনপুরা, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, শাল্লা ও দোয়ারাবাজার; হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ এবং নেত্রকোনার খালিয়াজুরি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রজ্ঞাপনের ফলে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত ডিসেম্বর মাস থেকে এবং বিশেষায়িত ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চলতি জানুয়ারি মাস থেকে এই ভাতা পাবেন।

এর ফলে বেসরকারি ব্যাংকগুলোও হাওর, দ্বীপ ও চরের কর্মকর্তাদের আলাদা ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

দেশে ৩টি বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে- বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।

এই তিন ব্যাংকের মালিকানা সরকারের হাতে। ব্যাংক তিনটি আলাদা আলাদা বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ডিজিটালাইজেশনে বিশ্বব্যাংকের আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ

শেয়ার করুন

ভোজ্যতেলের দাম: সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ

ভোজ্যতেলের দাম: সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, কারিগরি কমিটি বিভিন্ন রিফাইনারি পরিদর্শন করে সেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যয় গত এক দশকে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছে। তবে এই বাড়তি দাম তেলের মূল্য নির্ধারণে ইতিমধ্যে সমন্বয় হয়েছে। মূল্য নির্ধারণের অন্যান্য কারিগরি দিকেও বড় কোনো অসংগতি দেখেনি কমিটি।

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমতে শুরু করেছে। সেই সময়টাতে দেশে এই ভোগ্যপণ্যের দাম লিটারপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়ানোর চেষ্টায় আছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

এ অবস্থায় ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না কমছে, নাকি বর্তমান দর অপরিবর্তিত থাকছে- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ বুধবার।

খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী ভোজ্যতেলের বর্ধিত দাম গত ৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে সরকার কৌশলী অবস্থানে থেকে ইতিমধ্যে বাড়তি দাম কার্যকর ছাড়াই ১০ দিন পার করে দিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ভোজ্যতেলের দাম পুনর্বিবেচনার বিষয়ে অনেক দিন থেকেই খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের চাপে রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভোজ্যতেলের উৎপাদক ও বাজারজাতকারী সংগঠন থেকে গত ২ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে ভোজ্যতেলের বর্ধিত দাম কার্যকরের কথা জানানো হয়।

ভোজ্যতেল খাত-সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন আজ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় বৈঠকটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ভোজ্যতেলের দাম পুনর্বিবেচনার বিষয়ে অনেক দিন থেকেই খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের চাপে রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভোজ্যতেলের উৎপাদক ও বাজারজাতকারী সংগঠন থেকে গত ২ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে ভোজ্যতেলের বর্ধিত দাম কার্যকরের কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন খুচরা বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনে ৮, খোলা সয়াবিনে ৯ ও খোলা পাম অয়েলে ১০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায়। তাদের এ সিদ্ধান্ত গত ৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

তথ্যমতে, অ্যাসোসিয়েশনের এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য দাঁড়াবে ১৪৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিনের খুচরা মূল্য পড়বে ১৬৮ টাকা। সে হিসাবে বোতলজাত ৫ লিটার সয়াবিন বিক্রি হবে ৮০০ টাকায়।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোজ্যতেল সমিতির এই সিদ্ধান্তে বাদ সেধেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কারণ বিশ্ববাজারে যখন পণ্যটির দাম কমছে, তখন দেশে বাড়ানোর প্রস্তাবটি সরকারের জন্য অনেকটাই বিব্রতকর। ফলে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কৌশলী অবস্থান নিয়ে ভোজ্যতেলের বাড়তি দাম ৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া থেকে ব্যবসায়ীদের বিরত রাখে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, এবার দাম পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার সার্বিক দিক দেখে-বুঝে এগোতে চাইছে। সে লক্ষ্যে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ও ব্যবসায়ীরা যে পদ্ধতিতে ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণ করে আসছে তা পাল্টাতে চায় সরকার। এ জন্য মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি সংশোধন ও ব্যয় বিবরণী হালনাগাদ করার কথা জানায় সরকার। এর পাশাপাশি সরকার, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এ সংক্রান্ত কারিগরি কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়।

বাড়তি দাম কার্যকরে খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নির্ধারণ করা সময়ের পর আরো দশ দিন গড়িয়ে গেছে। এ সময়টাতে কারিগরি কমিটি একাধিক নির্বাচিত পরিশোধন কারখানা পরিদর্শন করে। কমিটি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দর, বিভিন্ন দেশে পরিশোধিত তেলের বাজারমূল্য এবং দেশে মূল্য নির্ধারণের মানদণ্ডে গত এক দশকে পরিবর্তনগুলো চিহ্নিত করেছে। আবার মূল্য নির্ধারণের কারিগরি দিকগুলো একসঙ্গে যুক্ত করলে সে অনুযায়ী ভোজ্যতেলের প্রতি লিটার দাম বর্তমান বাস্তবতায় কত হওয়া উচিত তা-ও চিহ্নিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এসব কৌশলী কর্মযজ্ঞ শেষ হওয়ার পর গঠিত কারিগরি কমিটি বাণিজ্যমন্ত্রীকে একটি সুপারিশ দিয়েছে। সেই সুপারিশ সামনে রেখে ভোজ্যতেলের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছে সরকার।

সিটি গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার ভোজ্যতেলের দাম কমাতে বললে আমরা কমিয়ে দেব। তবে তার জন্য আমাদের ভ্যাট-ট্যাক্স ও শুল্কে ছাড় দিতে হবে। আর সেটা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে আমাদের বাড়তি দামের প্রস্তাব তো সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই দেখেছে। এখন সিদ্ধান্ত দেবে সরকার। সরকার যা বলবে, আমরা তাই শুনব।’

বুধবারের বৈঠকেই দাম পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত আসবে কি না তা জানতে চাওয়া হয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আমদানি) এএইচএম সফিকুজ্জামানের কাছে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এতদিন আমরা ব্যবসায়ীদের থামিয়ে রেখেছিলাম। এ সময়ে আমরাও আমাদের কাজগুলো গুছিয়ে এনেছি। বাণিজ্যমন্ত্রীকেও বিষয়গুলো অবহিত করেছি। এরপরই ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসার সময় নির্ধারণ করা হয়। এ বৈঠক থেকেই ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে।’

তবে দাম বাড়ছে না কমছে, নাকি অপরিবর্তিত থাকছে- সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।

ভোজ্যতেল আমদানি ও বাজারজাতকারী নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার ভোজ্যতেলের দাম কমাতে বললে আমরা কমিয়ে দেব। তবে তার জন্য আমাদের ভ্যাট-ট্যাক্স ও শুল্কে ছাড় দিতে হবে। আর সেটা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে আমাদের বাড়তি দামের প্রস্তাব তো সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই দেখেছে। এখন সিদ্ধান্ত দেবে সরকার। সরকার যা বলবে, আমরা তাই শুনব।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, কারিগরি কমিটি বিভিন্ন রিফাইনারি পরিদর্শন করে সেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যয় গত এক দশকে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছে। এই বাড়তি দাম তেলের মূল্য নির্ধারণে সমন্বয় হয়েছে। এ ছাড়া মূল্য নির্ধারণের অন্যান্য কারিগরি দিকেও বড় কোনো অসংগতি দেখেনি কমিটি।

ফলে সরাসরি দাবি করা না গেলেও বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অনেকটাই আঁচ করতে পারছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষের বৈঠকে ভোজ্যতেল বিষয়ে আয়োজিত আজকের বৈঠকে এফবিসিসিআিই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ও বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিসহ সিটি, মেঘনা, এস আলম ও টিকে গ্রুপের চেয়ারম্যান, বসুন্ধরা গ্রুপের এডিবয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, এনএসআই, ডিজিএফআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টিসিবি, দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাষ সেলের বাণিজ্য পরামর্শকসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

আরও পড়ুন:
ডিজিটালাইজেশনে বিশ্বব্যাংকের আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ

শেয়ার করুন

বাণিজ্য বাড়াতে এফবিসিসিআইর সহায়তা চায় ভারত

বাণিজ্য বাড়াতে এফবিসিসিআইর সহায়তা চায় ভারত

মতিঝিলে মঙ্গলবার বিকেলে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। ছবি: সংগৃহীত

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অটোমোবাইল ও পোশাক খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভারতের রাষ্ট্রদূত দোরাইস্বামী।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বাড়াতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সহযোগিতা চেয়েছে ভারত।

মঙ্গলবার বিকেলে মতিঝিলে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ সহযোগিতা চান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

রাষ্ট্রদূত বলেন, গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ৯৪ শতাংশ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছর শেষে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রথমবারের মতো ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিতে আগ্রহী ভারত। এ জন্য এফবিসিসিআইর সহযোগিতার প্রয়োজন।

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অটোমোবাইল ও পোশাক খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেন ভারতের রাষ্ট্রদূত।

এ সময় এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে পোশাকশিল্পে সুতা ও তুলার বড় জোগানদাতা হতে পারে ভারত। বাংলাদেশে ভারতীয় কোম্পানিগুলো ভালো করছে।

বাংলাদেশে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগও লাভজনক হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ী নেতা জসিম উদ্দিন।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে স্থলবন্দরগুলোর ভারতীয় অংশের অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ দেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

তিনি বলেন, ভারতীয় বন্দরের সুযোগ-সুবিধার অভাবে বাংলাদেশ থেকে অনেক পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য।

ভারতের রাষ্ট্রদূত বলেন, পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল গতিশীল ও সহজ করতে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে শিগগিরই আরেকটি নতুন গেট চালু করা হবে।

অন্য স্থলবন্দরে আরও বেশি পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ বাড়লে ভারতীয় অংশে উন্নয়নকাজ শুরুর আশ্বাস দেন দোরাইস্বামী।

তিনি জানান, তার সরকার দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে আগ্রহী। এ জন্য আগামী ফেব্রুয়ারিতে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে সিইও ফোরাম চালুর আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) ফোরাম দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সমস্যা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহসভাপতি মো. হাবীব উল্লাহ ডন, পরিচালক রেজাউল করিম রেজনু, বিজয় কুমার কেজরীওয়াল, মো. শাহ জালাল, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, ড. যশোধা জীবন দেবনাথ, প্রীতি চক্রবর্তী ও মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ডিজিটালাইজেশনে বিশ্বব্যাংকের আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ

শেয়ার করুন

বৈধ আমদানি সনদ ছাড়া ঋণপত্র নয়

বৈধ আমদানি সনদ ছাড়া ঋণপত্র নয়

বৈধ আইআরসি ছাড়া ঋণপত্র খোলা যাবে না। ছবিটি চট্টগ্রাম বন্দরের। ছবি: নিউজবাংলা

সার্কুলারে বলা হয়, ‘সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক বৈধ ও হালনাগাদ আইআরসি ছাড়াই ঋণপত্র খুলছে। এ কারণে পণ্যচালান খালাস করতে গিয়ে রেয়াতি সুবিধা দেয়ার সময় জটিলতা দেখা দেয়।’

বৈধভাবে নবায়ন করা আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র (আইআরসি) ছাড়া ঋণপত্র (এলসি) খোলা যাবে না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এমন নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এটি বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রিন্সিপাল অফিসে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক বৈধ ও হালনাগাদ আইআরসি ছাড়াই ঋণপত্র খুলছে। এ কারণে পণ্যচালান খালাস করতে গিয়ে রেয়াতি সুবিধা দেয়ার সময় জটিলতা দেখা দেয়।

‘হালনাগাদ শিল্পভোক্তা আইআরসি প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়ে রেয়াতি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি পণ্যচালান খালাস বিলম্বিত হওয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা সামগ্রিক বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে।’

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এলসি ফরম গ্রহণের সময় এবং ঋণপত্র স্থাপনের আগে বৈধ ও হালনাগাদ আইআরসি সনদ গ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
ডিজিটালাইজেশনে বিশ্বব্যাংকের আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ

শেয়ার করুন

প্লাস্টিক-হালকা প্রকৌশল খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা: বাণিজ্যসচিব

প্লাস্টিক-হালকা প্রকৌশল খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা: বাণিজ্যসচিব

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিজনসে ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ। ছবি: নিউজবাংলা

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘পোশাক খাতের নির্ভরশীলতা কমাতে আমাদেরকে নতুন নতুন পণ্য তৈরির দিকে নজর দিতে হবে।’

বাংলাদেশে প্লাস্টিক ও হালকা প্রকৌশল খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ।

মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান তিনি।

রপ্তানি আয় বাড়াতে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে সচিব বলেন, ‘পোশাক খাতের নির্ভরশীলতা কমাতে আমাদেরকে নতুন নতুন পণ্য তৈরির দিকে নজর দিতে হবে।’

প্লাস্টিক খাত ও হালকা প্রকৌশল খাতের রপ্তানি উন্নয়নে দুটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এ রূপরেখাগুলো চূড়ান্তকরণে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস’ প্রকল্প কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা হয়। বাণিজ্যসচিব এতে সভাপতিত্ব করেন।

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘দেশে প্লাস্টিক শিল্পের বিশেষ করে খেলনা রপ্তানির ওপর জোর দিতে হবে।

‘এ ক্ষেত্রে স্বত্বাধিকারসংক্রান্ত সমস্যা এড়াতে আমাদের নিজস্ব ডিজাইনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য দরকার ডিজাইন সেন্টার। বিশ্বের উন্নত দেশে মিউনিসিপ্যাল বিন ও মোবাইল টয়লেট তৈরি হয় প্লাস্টিক দিয়ে। আমরা এ বাজার ধরার চেষ্টা করতে পারি।’

হালকা প্রকৌশল খাতের রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কম্বোডিয়ার মতো বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল খাতেও প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতে ব্যাপক বিদেশি বিনিয়োগ আসার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’

বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, ‘অটোমোবাইল কম্পোনেন্ট ও প্লাস্টিকের খেলনা বর্তমানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য হিসেবে বিবেচিত।
‘এ পণ্যগুলোর রপ্তানি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধাসহ যথাযথ নীতিসহায়তা দিতে হবে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সাল নাগাদ আমাদের ৮০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। খাতভিত্তিক রপ্তানির যেসব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলো রপ্তানি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।’

বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) প্রেসিডেন্ট শামীম আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে প্লাস্টিক অটোমোবাইল কম্পোনেন্ট তৈরিতে পিছিয়ে আছে । এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেলনা রপ্তানির বড় সমস্যা স্বত্বাধিকার। এটি যথাযথভাবে মেনে না চললে নকল পণ্য উৎপাদন করলে রপ্তানি করা যায় না। এ সমস্যা নিরসনে সরকারি–বেসরকারি পর্যায়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস-এর প্রকল্প পরিচালক মো. মনসুরুল আলম বলেন, ‘বর্তমানে সারা দেশে ৩০০ প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় স্ক্র্যাপ থেকে প্লাস্টিক ফ্লেক উৎপাদন এবং ইয়ার্ন তৈরির জন্য বছরে প্রায় ৪০ হাজার টন ফ্লেক রপ্তানি করা হয়। পরিবেশ ক্ষতিকারক ফ্লেক এখনই বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশে কীভাবে ফ্লেক থেকে ইয়ার্ন তৈরি করা যায় সে বিষয়ে ভাবতে হবে।’

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বর্তমানে বৈশ্বিক হালকা প্রকৌশলের ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার রয়েছে। বাংলাদেশ যথাযথভাবে এগিয়ে চললে এ বাজারের সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে।

‘হালকা প্রকৌশল শিল্পের উন্নয়নে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া ভূমি নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। এ খাতের জন্য শিগগির টেকনোলজি সেন্টার গড়ে তোলা প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন:
ডিজিটালাইজেশনে বিশ্বব্যাংকের আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ

শেয়ার করুন

কুমিল্লার ২ মার্কেটে ভ্যাট গোয়েন্দার অভিযান

কুমিল্লার ২ মার্কেটে ভ্যাট গোয়েন্দার অভিযান

মিষ্টির দোকান মাতৃভাণ্ডারে মানুষের ভিড়। ফাইল ছবি

কুমিল্লায় ভ্যাট গোয়েন্দার উপ-পরিচালক মুনাওয়ার মুরসালীন ও সহকারী পরিচালক আলমগীর হুসেনের নেতৃত্বে এটি বিশেষ গোয়েন্দা দল এই অভিযান চালায়।

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির অভিযোগে কুমিল্লা শহরের দুটি মার্কেটে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

সোমবার অভিযান চালানো এ দুই মার্কেট হলো কুমিল্লা টাউনহলের কান্দিরপাড়ে প্লানেট এসআর মার্কেট এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ময়নামতি সুপার মার্কেট।

কুমিল্লায় ভ্যাট গোয়েন্দার উপ-পরিচালক মুনাওয়ার মুরসালীন ও সহকারী পরিচালক আলমগীর হুসেনের নেতৃত্বে এটি বিশেষ গোয়েন্দা দল এই অভিযান চালায়।

ভ্যাট নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কেট দুটিতে অভিযান চালিয়ে ভ্যাট গোয়েন্দারা ওই মার্কেটের দোকানগুলোতে হিসাব সংরক্ষণ না করা ও বিক্রির প্রকৃত তথ্য গোপন করে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার প্রমাণ পেয়েছেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, ‘অভিযানের পাশাপাশি দুটি মার্কেটে জরিপ চালানো হয়। তাতে দেখা যায়, কোনো প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন গ্রহণ করেনি, ভ্যাটও দেয়নি।’

ভ্যাট গোয়েন্দার তথ্য মতে, কুমিল্লার প্লানেট এসআর মার্কেটে ৮০ টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ টি দোকানের কোনো নিবন্ধন নেই।

অন্যদিকে, ক্যান্টনমেন্টের ময়নামতি সুপার মার্কেটে মোট ১২০ টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ৬৪টি দোকানের নিবন্ধন নেই।

ড.মইনুল খান বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে ২০২১ সালের ২৫-৩১ মে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের চারটি জরিপ দল মাঠে নেমে রাজধানী ও রাজধানীর বাইরের মার্কেটগুলোতে জরিপ করে।

‘জরিপের পর পর সারাদেশে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কুমিল্লার এই দুটি মার্কেটের কোনো প্রতিষ্ঠানেরই ভ্যাট নিবন্ধন পাওয়া যায়নি।’

মাতৃভান্ডারের ভ্যাট ফাঁকি

এ দিন কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে মিষ্টির দোকান ‘মাতৃভান্ডার’- এ অভিযান চালায় ভ্যাট গোয়েন্দার দলটি।

প্রতিষ্ঠানটিতে মিষ্টি বিক্রির সময় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও মাতৃভান্ডারে গড়ে মাত্র ২০-২২ টি চালান কাটার তথ্য পাওয়া যায়।

ভ্যাট গোয়েন্দার দু্ইজন কর্মকর্তা ওই প্রতিষ্ঠানের বিক্রি পর্যবেক্ষণের জন্য সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

দেখা যায়, এক দিনে ভ্যাট গোয়েন্দাদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি ৩১৮টি চালান ইস্যু করে, যেখানে বিক্রিমূল্য পাওয়া যায় প্রায় তিন লাখ টাকা। অর্থ্যাৎ ভ্যাট চালান না দিয়ে মাতৃভান্ডার মিষ্টির দোকান বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

গোয়েন্দাদের অভিযানে জব্দ করা কাগজপত্রে দেখা গেছে, নতুন বছরের ১ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মাতৃভান্ডার মিষ্টান্ন ভান্ডার মাত্র ৩৫৪ টি ভ্যাট চালান ইস্যু করে।এর বিপরীতে বিক্রিমূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টাকা। অথচ, ভ্যাট গোয়েন্দার একদিনের পর্যবেক্ষণে ৩১৮ টি চালানে ৩ লাখ টাকা বিক্রির হিসাব পাওয়া গেছে।

এভাবে প্রতিষ্ঠানটি চালান ইস্যু না করেই সরকারের বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান।

গোয়েন্দারা বলছেন, কুমিল্লা শহরের অনেক মার্কেট রয়েছে যেগুলোর প্রতিষ্ঠান এখনও নিবন্ধন গ্রহণ করেনি। শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ডিজিটালাইজেশনে বিশ্বব্যাংকের আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ

শেয়ার করুন

নতুন উচ্চতায় তেলের দাম, ৭ বছরের সর্বোচ্চ

নতুন উচ্চতায় তেলের দাম, ৭ বছরের সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সও মাস চারেক আগে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, কোভিড-১৯ এর কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল তা দূর হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে দেশে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেলের দর ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

গত নভেম্বর বাংলাদেশে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর সময় যে দর ছিল, এবার ছাড়িয়ে গেছে সেই দরও।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম আগের দিনের চেয়ে ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এদিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ৫ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে। আর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দর উঠেছে ৮৭ ডলার ৩৬ সেন্টে।

এই দর গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে তথ্য দিয়েছে রয়টার্স।

২০১৪ সালের পর আন্তর্জাতিক বাজারে এতো বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য উপসাগরে হামলার পর সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দাম বাড়ছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন আতঙ্কে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম কমতে কমতে ৬৬ ডলারে নেমে গিয়েছিল। ব্রেন্ট তেলের দর কমে হয়েছিল ৬৮ ডলার।

তিন-চার দিন ওই একই জায়গায় স্থির ছিল তেলের বাজার। কিন্তু ওমিক্রন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেও করোনার নতুন ওই ধরনে আক্রান্ত হয়ে মানুষ খুব একটা মারা না যাওয়ায় এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক বেশ খানিকটা কেটে যায়। এতে বিশ্বে তেলের চাহিদা বাড়বে-এ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে আবার বাড়তে শুরু করে দাম। সেই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ যখন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে যে দর ছিল, এখন তাতেও ছাড়িয়ে গেল।

গত ২৭ অক্টোবর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ওঠে। এরপর থেকেই তা কমতে থাকে। ৮ নভেম্বর এর দর ছিল ৮২ দশমিক ৫ ডলার। ১৬ অক্টোবর দাম ছিল ৮০ ডলার।

আর এক বছর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সও মাস চারেক আগে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, কোভিড-১৯ এর কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল তা দূর হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে দেশে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে গত বছরের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে প্রতি ব্যারেল ৪৯ ডলার। এরপর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবর মাসে এই দাম ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই তা ১০০ ডলার হয়ে যেতে পারে।

তবে গত নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দাম নিম্নমুখী হয়। তারপরও দামটা নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনতে নিজ দেশের পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

গত ২৩ নভেম্বর টুইট বার্তায় বাইডেন ঘোষণা দেন, ‘আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কমাতে পদক্ষেপের কথা আজ ঘোষণা করছি। আমেরিকাবাসীর জন্য স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ব আমরা, যাতে তেল ও গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে।’

দেশে তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি রুখতে এই পদক্ষেপ নেন জো বাইডেন। এর জেরে সে দেশে জ্বালানির দাম কমবে বলে মনে করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বিশ্ব জুড়ে জ্বালানির দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছিলেন অনেকে।

তবে বাইডেনের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম খুব একটা কমেনি। ওমিক্রন আতঙ্কেই মূলত বড় দরপতন হয়।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশ যখন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে যে দর ছিল, এখন তাতেও ছাড়িয়ে গেল।

আরও পড়ুন:
ডিজিটালাইজেশনে বিশ্বব্যাংকের আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ

শেয়ার করুন