এসএফআইএল ও এসসিবি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

player
এসএফআইএল ও এসসিবি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

এসএফআইএলের এমডি ও সিইও ইরতেজা আহমেদ খান এবং এসসিবি'র নির্বাহী পরিচালক ও হেড অফ ট্রানজেকশন ব্যাংকিং লুৎফুল আরিফিন খান সমঝোতা স্মারকে সই করেন। ছবি: সংগৃহীত

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ব্যাংক ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট সল্যুশন সেবা দেবে।

স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড (এসএফআইএল) ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের (এসসিবি) মধ্যে ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

মঙ্গলবার এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এর মধ্য দিয়ে ব্যাংক ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট সল্যুশন সেবা দেবে।

মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এসএফআইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইরতেজা আহমেদ খান এবং এসসিবি'র নির্বাহী পরিচালক ও হেড অফ ট্রানজেকশন ব্যাংকিং লুৎফুল আরিফিন খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

অনুষ্ঠানে এসএফআইএলের ডেপুটি সিঅফও মোহাম্মাদ রাজিবুজ্জামান খান, হেড অফ রিটেইল মো. সাজেদুল হক এবং এসসিবির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, হেড অফ ট্রানজেকশন ব্যাংকিং সেলস সিসিআইবি ক্লায়েন্ট কাভারেজ মো. তাবরেজ বিন মাহবুব, এসোসিয়েট ডিরেক্টর ট্রানজেকশন ব্যাংকিং সেলস সিসিআইবি ক্লায়েন্ট কাভারেজ সোহেব এইচ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আগামী বছর চালু জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল

আগামী বছর চালু জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল

আগামী বছর চালু জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল। ফাইল ছবি

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ভবিষ্যতে জাপানি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে আড়াইহাজারে স্থাপিত অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে।’

আগামী বছরই উৎপাদনে যাচ্ছে দেশে বিশেষায়িত জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল। রাজধানীর অদূরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এটি গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষায়িত এ অঞ্চলটির এখন প্রস্তুতি শেষ প্রান্তে। বিনিয়োগে আাগ্রহী জাপানি উদ্যোক্তারা এখানে বিভিন্নখাতে বিনিয়োগ করবেন।

বৃহস্পতিবার ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসে এমন তথ্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।

আলোচনায় জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ভবিষ্যতে জাপানি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে আড়াইহাজারে স্থাপিত অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে।

‘এ আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো বিকশিত করার সুযোগ রয়েছে। এজন্য বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও সহজ করতে হবে।’

বিশেষ করে পরিচালন মূলধনের জন্য ঋণের যোগান, ঋণপত্র খুলতে বিলম্ব, আয়কর ও ভ্যাটের উচ্চহার, বন্ড লাইসেন্সের নবায়ন জটিলতা এবং ইপিজেডের কারখানাগুলোর সঙ্গে বাইরের শিল্পের মজুরি পার্থক্যকে জাপানি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা বলে মন্তব্য করেন দেশটির রাষ্ট্রদূত। এসব সমস্যার সমাধান হলে এদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে মনে করেন ইতো নাওকি।

জবাবে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শতাধিক জাপানি কোম্পানি বহু বছর ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা করে আসছে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পেও বাংলাদেশের অন্যতম বড় অংশীদার জাপান।

‘তা ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারের আকারও বেড়েছে। এদেশে জাপানি পণ্যের জনপ্রিয়তাও তূলনামূলক বেশি। তাই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা যেকোন জাপানি কোম্পানির লাভজনক হবার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’

এ সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের নেয়া অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন নীতি সহায়তার কথা তুলে ধরেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর সহ-সভাপতি আমিন হেলালী ও মো. হাবিব উল্লাহ ডন, পরিচালক মো. নাসের, প্রীতি চক্রবর্তী ও মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

শেয়ার করুন

ব্যাংকে সব নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

ব্যাংকে সব নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত

সার্কুলারে বলা হয়, ‘বিরাজমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়ের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হল।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সব নিয়োগ পরীক্ষা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক আজিজুল হক স্বাক্ষরিত এক সার্কুলারে ব্যাংকে নিয়োগে এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিকসহ সব পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়ের তত্ত্বাবধানে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হল।

স্বল্প সময়ের নোটিশে স্থগিত করা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন সেজন্য পরিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে সার্কুলারে।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘বিরাজমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়ের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিতব্য সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হল।’

এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক- এ তিন পদ্ধতিতে ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

কোভিডের নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবের পর দেশে নতুন করে মহামারির প্রকোপ বাড়ছে।

দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা টানা তিন দিন ধরে ১৫ হাজারের বেশি বাড়ছে।

চলতি মাসে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলে সরকার মহামারি রোধে নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করেছে। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান অর্ধেক জনবল দিয়ে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনসমাগম সীমিত রাখতেও বলা হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে গত কয়েকদিনে আরও কিছু নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতে খবর এসেছে গণমাধ্যমে।

শেয়ার করুন

বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ সহজ হলো

বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ সহজ হলো

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ৫টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, আয়ারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফার্মাসিউটিক্যাল ও খেজুরের ব্যবসায় বিনিয়োগ করার অনুমতি পেয়েছে। ফাইল ছবি

বিধিমালার আওতায় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের রিটেনশন কোটা হিসাব থেকে বিদেশে ইক্যুইটি বিনিয়োগ করতে পরবে। এক্ষেত্রে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের পাঁচ বছরের বার্ষিক গড় রপ্তানি আয়ের ২০ শতাংশ বা সর্বশেষ নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে প্রদর্শিত নিট সম্পদের ২৫ শতাংশের মধ্যে যেটি কম, সে পরিমাণ অর্থ বিদেশে ইক্যুইটি হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে।

বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দিয়ে বিধিমালা জারি করেছে সরকার। রপ্তানিকারকরা বিদেশের মাটিতে সহযোগী প্রতিষ্ঠান তৈরি করার জন্য গত ৫ বছরের বার্ষিক গড় রপ্তানি আয়ের ২০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন।

পাশাপাশি, রপ্তানিকারকরা চাইলে সর্বশেষ নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো নিট সম্পদের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার‘মূলধনি হিসাব লেনদেন (বিদেশে ইক্যুইটি বিনিয়োগ) বিধিমালা, ২০২২’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে।

বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত দেশের সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭ এর ২৭ নম্বর ধারার ক্ষমতাবলে মূলধনী হিসাবের লেনদেন (বিদেশে ইক্যুইটি বিনিয়োগ) বিধিমালা, ২০২২ জারি করেছে।

এ বিধির আওতায় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের রিটেনশন কোটা হিসাব থেকে বিদেশে ইক্যুইটি বিনিয়োগ করতে পরবে। এক্ষেত্রে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের পাঁচ বছরের বার্ষিক গড় রপ্তানি আয়ের ২০ শতাংশ বা সর্বশেষ নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে প্রদর্শিত নিট সম্পদের ২৫ শতাংশের মধ্যে যেটি কম, সে পরিমাণ অর্থ বিদেশে ইক্যুইটি হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে।

বিধিমালা অনুযায়ী আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদিসহ বাংলাদেশ ব্যাংককে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ১৫ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি রাখা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি হবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে অবহিত করাসহ পত্রের কপি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হবে।

বিদেশে কোম্পানি গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা বিধিমালাতে উল্লেখ রয়েছে। বিদেশে গঠিত কোম্পানির সব পাওনা, যেমন মুনাফা বা লভ্যাংশ, সুদ, শেয়ার বিক্রয়লদ্ধ অর্থ, বিনিয়োগ বিলুপ্তির ফলে অবশিষ্ট অর্থ, বেতন, রয়্যালটি, কারিগরি প্রজ্ঞাপন ফি, পরামর্শ ফি, কমিশন, ইত্যাদি অর্জিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠাতে হবে।

বিনিয়োগের অপব্যবহারকে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় অর্থ পাচারকারী হিসেবে গণ্য হবেন বলে বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কলেবর বাড়ানোর জন্য বিদেশে বিনিয়োগ নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে দেশের বাইরে সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা অফিস খোলার অনুমতি দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ৫টি প্রতিষ্ঠান ভারত, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফার্মাসিউটিক্যাল ও খেজুরের ব্যবসায় বিনিয়োগ করার অনুমতি পেয়েছে। এর আগে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০টি প্রতিষ্ঠানকে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইথিওপিয়া ও কেনিয়ায় সহযোগী প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেয়।

শেয়ার করুন

দাফনের টাকা বাড়ল অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর

দাফনের টাকা বাড়ল অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর

প্রতীকী ছবি

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের ৩২তম সভার সিদ্ধান্ত ও অর্থ বিভাগের সম্মতি অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুদান ১০ হাজার টাকার স্থলে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলো।

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাফন-অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

প্রজাতন্ত্রের অবসরপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী আগে মারা গেলে তার দাফন-অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে মাথাপিছু বরাদ্দ হতো ১০ হাজার টাকা। এখন একই কাজের জন্য বরাদ্দ তিন গুণ বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত এমন উদ্যোগে বাড়তি অর্থ ব্যয়ে সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এরপর শুরু হয় সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পালা।

এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাঈমা হোসেন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের ৩২তম সভার সিদ্ধান্ত ও অর্থ বিভাগের সম্মতি অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীর দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুদান ১০ হাজার টাকার স্থলে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলো।

এই অনুদানের ব্যয়ভার বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অনুকূলে বরাদ্দকৃত প্রচলিত বাজেট কোভ থেকে নির্বাচন করা হবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতির আদেশের অনুলিপি বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ঢাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সিনিয়র সচিব, কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালকসহ দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

বাজেট প্রস্তাব চেয়েছে এনবিআর

বাজেট প্রস্তাব চেয়েছে এনবিআর

ফাইল ছবি

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ দেশের শীর্ষ চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের কাছে বৃহস্পতিবার লিখিতভাবে প্রস্তাব চাওয়া হয় । আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও আগামী অর্থবছরের (২০২২-২৩) বাজেট প্রণয়নের জন্য আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আমদানি শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ দেশের শীর্ষ চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের কাছে বৃহস্পতিবার লিখিতভাবে এ প্রস্তাব চাওয়া হয় । আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে।

সরকারের রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ফিসক্যাল পলিসি বা আর্থিক নীতি প্রণয়ন করে থাকে। এ জন্য ব্যবসায়ীসহ অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে।

এ ছাড়া অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রণয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা করে থাকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের জন্য একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর।

নতুন বাজেট প্রস্তাবের বিষয়ে এনবিআর জানিয়েছে, বাজেট প্রণয়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রাজস্ব নীতিমালা প্রস্তুত করে থাকে। এ লক্ষ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক, গণমুখী, ব্যবসা ও করদাতাবান্ধব এবং রাজস্ব সম্ভাবনাময় সুষম বাজেট প্রণয়নে বরাবরই সব পর্যায়ের করদাতা, বিভিন্ন শিল্প ও বণিক সমিতি, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, পেশাজীবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও দেশের বুদ্ধিজীবী মহলের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বাজেট প্রস্তাব আহ্বান এবং তাদের সঙ্গে রাজস্ব আহরণ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা অনুষ্ঠান করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমকে অধিকতর অর্থবহ, বিশ্লেষণধর্মী ও প্রতিনিধিত্বশীল করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাজেট প্রণয়নে আগ্রহী।

এনবিআর বলেছে, বাজেট প্রস্তুতে সহায়তার লক্ষ্যে বিভিন্ন চেম্বার এবং অ্যাসোসিয়েশনকে তাদের স্ব স্ব বাজেট প্রস্তাব আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে লিখিতভাবে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রস্তাব সরাসরি এবং ই-মেইলে পাঠানো যাবে।

যেসব প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা দপ্তর কোনো চেম্বার বা অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য নয় তারাও সরাসরি বা মেইলের মাধ্যমে বাজেট প্রস্তাব পাঠাতে পারবে বলে জানিয়েছে রাজস্ব বোর্ড।

শেয়ার করুন

গ্রামীণফোনের আয় ১৪ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা

গ্রামীণফোনের আয় ১৪ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা

গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয় জিপি হাউস। ফাইল ছবি

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, ‘২০২১ সালে গ্রামীণফোন বেশ কিছু মাইলফলক অর্জন করেছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে আমরা আট কোটি গ্রাহকের মাইলফলক অর্জন করি এবং মার্চে ১০.৪ মেগাহার্টজ নতুন তরঙ্গ অধিগ্রহণ করি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরে গ্রামীণফোন দেশজুড়ে এর শতভাগ টাওয়ার সবচেয়ে বিস্তৃত ফোরজি/এলটিই নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করে, যা গ্রামীণফোনের জন্য অত্যন্ত সম্মানের।’

২০২১ সালে ১৪ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। এই আয় আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

২০২১ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে গ্রামীণফোন। বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২০২১ সালে গ্রামীণফোনে যুক্ত হয়েছেন ৪২ লাখ নতুন গ্রাহক। সব মিলিয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টেলিকম খাতের প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৩৩ লাখ। মোট গ্রাহকের ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ বা ৪ কোটি ৪৬ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করেন, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ শতাংশ।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, ‘২০২১ সালে গ্রামীণফোন বেশ কিছু মাইলফলক অর্জন করেছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে আমরা আট কোটি গ্রাহকের মাইলফলক অর্জন করি এবং মার্চ মাসে আমরা ১০.৪ মেগাহার্টজ নতুন তরঙ্গ অধিগ্রহণ করি। মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরে গ্রামীণফোন দেশজুড়ে এর শতভাগ টাওয়ার সবচেয়ে বিস্তৃত ফোরজি/এলটিই নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করে, যা গ্রামীণফোনের জন্য অত্যন্ত সম্মানের।’

‘এর মাধ্যমে গ্রামীণফোন ক্ষমতায়নে এবং দেশের প্রবৃদ্ধি ও ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। বছরজুড়ে আমরা নেটওয়ার্ক বিস্তার ও তরঙ্গ ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিই, যার ফলে আমাদের গ্রাহকরা আরও উন্নত অভিজ্ঞতা লাভ করেন। এ ছাড়া কার্যক্রমগত পরিচালন, গ্রাহককেন্দ্রিক পণ্য বিন্যাস, সেবার ডিজিটালকরণ এবং ডিজিটাল সক্ষমতার ফলে আরও বেশিসংখ্যক গ্রাহক তাদের পছন্দের ডিজিটাল ও টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা হিসেবে গ্রামীণফোনকে বেছে নেন।’

ইয়াসির আজমান বলেন, ‘৮ কোটি ৩৩ লাখ গ্রাহক নিয়ে আমরা ২০২১ সাল শেষ করি, যা গত বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। আগের বছরের তুলনায় ডাটা ব্যবহারকারী বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ শতাংশ। ফোরজি ডাটা ব্যবহারকারী বেড়েছে ৭৯ লাখ, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোভিড-১৯-এর সর্বোচ্চ ঢেউ ও পরবর্তী সময়ে লকডাউনসহ চলমান বৈশ্বিক মহামারির কারণে গত বছর নানা ক্ষেত্রে প্রতিকূলতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের কর্মী, পার্টনার, অংশীজন এবং স্থানীয় কমিউনিটির রেজিলিয়েন্সের কারণে আমরা নিরলসভাবে আমাদের গ্রাহকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন কানেক্টিভিটি সেবা প্রদান করতে পেরেছি।’

‘আমাদের কৌশলগত লক্ষ্যের অংশ হিসেবে, আমাদের গ্রাহকদের অত্যাধুনিক মোবাইল সেবার পরিবর্তিত চাহিদা মেটাতে আমরা রূপান্তরমূলক উদ্যোগ গ্রহণ ত্বরান্বিত করেছি এবং এর বিস্তৃতি ঘটিয়েছি। পরিচালন মডেল, অটোমেশন একীভূতকরণ, দক্ষতার উন্নতি ও সক্ষমতা তৈরিতে গুরুত্বারোপ করে এ বছর আমরা আধুনিকায়নকে মূল বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছি। দক্ষতা, সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় টুল ব্যবহারের সঠিক সমন্বয় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকভাবে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।’

গ্রামীণফোনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ইয়েন্স বেকার (সিএফও) বলেন, ‘নেটওয়ার্ক ও অভিজ্ঞতা উন্নত করার কারণে বেশিসংখ্যক ব্যবহারকারী ও ব্যবহারের ফলে ২০২১ সালে গ্রামীণফোনের আর্থিক পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটেছে। পুরো বছরে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। ২০২১ সালে নিট মুনাফা মার্জিন দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ।’

আরও ১২ টাকা ৫০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা

গ্রামীণফোনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় ২০২১ সালের জন্য প্রতি শেয়ারে ১২ টাকা ৫০ পয়সা চূড়ান্ত লভ্যাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে মোট লভ্যাংশ দাঁড়িয়েছে পরিশোধিত মূলধনের ২৫০ শতাংশ, যা ২০২১ সালের মোট কর-পরবর্তী মুনাফার ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ (১২৫ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশসহ)।

রেকর্ড তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত যারা শেয়ারহোল্ডার থাকবেন তারা এই লভ্যাংশ পাবেন; যা ২৬ এপ্রিল ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ২৫তম বার্ষিক সাধারণ সভার দিন শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন ১২৫ শতাংশ (প্রতি শেয়ারে ১২ টাকা ৫০ পয়সা) লভ্যাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি, যা শেয়ারহোল্ডারদের বিও হিসাবে জমাও হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে গ্রামীণফোন ৬৫৪ কোটি টাকা নেটওয়ার্ক কাভারেজ ও বিস্তৃতিতে বিনিয়োগ করেছে। গ্রামীফোনের মোট নেটওয়ার্ক সাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৩০১। প্রতিষ্ঠানটি কর, ভ্যাট, শুল্ক, ফি, ফোরজি লাইসেন্স এবং তরঙ্গ বরাদ্দ বাবদ ১০ হাজার ২৮০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে, যা মোট রাজস্বের ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ।

শেয়ার করুন

ইউক্রেন সীমান্তে যুদ্ধের দামামা, তেলের দামে উল্লম্ফন

ইউক্রেন সীমান্তে যুদ্ধের দামামা, তেলের দামে উল্লম্ফন

ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যকার যুদ্ধ যুদ্ধ অবস্থার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারেও। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ভাবা হচ্ছে রাশিয়ার সঙ্গে পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেনের রাজনৈতিক সংকটকে। এই উত্তেজনায় জড়িয়েছে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো। ওই সীমান্ত এলাকায় রাশিয়া যেমন যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করছে, তেমনি ইউক্রেনকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছে ন্যাটোবাহিনী। এর উত্তাপ পড়ছে তেলের বাজারেও।

বিশ্ববাজারে এমনিতেই বাড়তির দিকে ছিল জ্বালানি তেলের দাম। তার ওপর ঢোলের বাড়ি হয়ে এলো ইউক্রেন সীমান্তে যুদ্ধের দামামা। ন্যাটো-রাশিয়ার মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ছাড়াল ৯০ ডলার, যা ২০১৪ সালের পর সর্বোচ্চ।

নিউ ইয়র্ক পোস্ট লিখেছে, বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ। এতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ ডলার ৭ সেন্ট। আর ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ ডলার ৪৩ সেন্ট।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ভাবা হচ্ছে রাশিয়ার সঙ্গে পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেনের রাজনৈতিক সংকটকে। এই উত্তেজনায় জড়িয়েছে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো। ওই সীমান্ত এলাকায় রাশিয়া যেমন যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করছে, তেমনি ইউক্রেনকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছে ন্যাটো বাহিনী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন অবস্থায় জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসকে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে রাশিয়া। কেননা জ্বালানির জন্য পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের দেশগুলো মস্কোর ওপর নির্ভরশীল।

তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মনোবল ধরে রাখতে ইউরোপের দেশগুলোকে আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সরকার থেকে বলা হচ্ছে, মস্কো তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিলে এর বিকল্প ব্যবস্থা করবে ওয়াশিংটন।

কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বাইডেন প্রশাসনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে আক্রমণ করলে রাশিয়ার জন্য কঠিন অবরোধ অপেক্ষা করছে। কিন্তু এসব হুমকি পাত্তা দিচ্ছে না রাশিয়া।

বরং ধীরে ধীরে ইউক্রেন সীমান্তে সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছে দেশটি। এরই মধ্যে সেখানে প্রায় ১০ হাজার রুশ সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। ইউক্রেনের পাশাপাশি বেলারুশের ভেতরও যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে মস্কো। অনেকের ধারণা, যুদ্ধ শুরু হলে উত্তর দিক থেকে আক্রমণে যেতে পারে রাশিয়ান বাহিনী।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যতম সরবরাহকারী হওয়ায় চলমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া ইউরোপকে জ্বালানি সংকটে ফেলতে পারে বলে জোর ধারণা। তাই হলে আসছে দিনগুলোতে আরও বেড়ে যেতে পারে তেল ও গ্যাসের দাম।

বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস গত সপ্তাহেই পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক নাগাদ তা ১০৫ ডলারে উঠতে পারে।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন আতঙ্কে গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম কমতে কমতে ৬৬ ডলারে নেমে গিয়েছিল। ব্রেন্ট তেলের দর কমে হয়েছিল ৬৮ ডলার।

তিন-চার দিন ওই একই জায়গায় স্থির ছিল তেলের বাজার। কিন্তু ওমিক্রন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেও করোনার নতুন ওই ধরনে আক্রান্ত হয়ে মানুষ খুব একটা মারা না যাওয়ায় এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক বেশ খানিকটা কেটে যায়।

এতে বিশ্বে তেলের চাহিদা বাড়বে- এ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে আবার বাড়তে শুরু করে দাম। সেই ঊর্ধ্বগতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে দর।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। গত বছরের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে প্রতি ব্যারেল ৪৯ ডলার।

এরপর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবর মাসে এই দাম ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই তা ১০০ ডলার হয়ে যেতে পারে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে।

শেয়ার করুন