৭০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ, কনস্টেবল কারাগারে

player
৭০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ, কনস্টেবল কারাগারে

ওসি জানান, ওই কনস্টেবল হাতীবান্ধা হাইওয়ে থানায় কাজ করেন। ফেনসিডিল জব্দের ঘটনায় তার নামে মাদক মামলা হয়েছে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ৭০ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার পুলিশ কনস্টেবলকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

তাকে কালীগঞ্জের কাকিনা ইউনিয়নের সিরাজুল মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার দুপুুরে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

আটক হুমায়ুন কবির হাতীবান্ধা হাইওয়ে থানার পুলিশ কনস্টেবল।

হাতীবান্ধা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিরাজুল মার্কেট এলাকায় অভিযান চালায় লালমনিরহাট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় রংপুরগামী একটি মোটরসাইকেল আটকানো হয়। সেটি চালাচ্ছিলেন কনস্টেবল হুমায়ুন।

তল্লাশি চালিয়ে ওই মোটরসাইকেল থেকে ৭০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক খায়রুল বাশার জানান, হুমায়ুনের নামে কালীগঞ্জ থানায় মাদকের মামলা দিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় বই পড়ার সাজা
ঝাউবন থেকে ২ কেজি আইস জব্দ
মদের চাহিদা তুঙ্গে, উৎপাদন বাড়াচ্ছে কেরু
ইয়াবাসহ আটক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মালিক
মাদক কারবারে ‘জড়িত’ ২ পুলিশ বরখাস্ত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নাব্যসংকটে পদ্মা-যমুনার কার্গো জাহাজ

নাব্যসংকটে পদ্মা-যমুনার কার্গো জাহাজ

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের অন্বয়পুর এলাকায় নোঙর করে রাখা জাহাজ। ছবি: নিউজবাংলা

পদ্মা-যমুনায় নাব্যসংকটের কারণে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন বন্দর থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে। প্রায় শতাধিক কার্গো জাহাজ নোঙর করে রাখা হয়েছে মানিকগঞ্জ এলাকায়। ভোগান্তিতে পড়েছেন জাহাজচালক ও ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম, খুলনা ও মোংলা বন্দর থেকে কার্গো জাহাজে করে সার, চিনি ও জ্বালানি তেল আসছে বাঘাবাড়ি, নগরবাড়ি, পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য।

তবে নাব্যসংকটের কারণে মানিকগঞ্জের শিবালয়ের অন্বয়পুর এলাকায় জাহাজগুলোকে নোঙর করতে বাধ্য হচ্ছেন চালকরা।

পরে সপ্তাহ কিংবা তারও বেশি সময় অপেক্ষার পর অন্য কোনো উপায় না দেখে অর্ধেক মাল আনলোড করে যেতে হচ্ছে গন্তব্যে।

মা-বাবার দোয়া কার্গো জাহাজের চালক মো. ইয়ামিন শেখ বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে সার নিয়া বাঘাবাড়ি যাইতেসিলাম। পাঁচ দিন সময় লাগছে মানিকগঞ্জ আসতে। নদীতে পানি কম থাকায় জাহাজ চরে ঠেইকা যায়। যার কারণে আরিচা ঘাটের কাছে নোঙর করসি। এইখানেও ৫-৬ দিন অপেক্ষা করসি। মনে হয় আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।’

অন্বয়পুরে আটকে থাকা এমভি পূর্ণিমা কার্গো জাহাজের চালক মো. নাঈম শেখ বলেন, ‘মালবোঝাই সব জাহাজ এইখানে নোঙর করে। এরপর সিরিয়াল অনুযায়ী ভোটগেট বা ট্রলারের মাধ্যমে অর্ধেক মাল পাঠানোর পর বাকি অর্ধেক মাল নিয়ে উত্তরাঞ্চলের দিকে রওনা দেই। তা না হলে জাহাজ চরে আটকা পড়ব। কারণ ওই দিকের খারি (জাহাজ যাতায়াতের জায়গা) খুব ছোট।’

নাব্যসংকটে পদ্মা-যমুনার কার্গো জাহাজ

উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ী সুলাল বড়ুয়া বলেন, ‘সরকার যদি এই নদীগুলোর নাব্যসংকট দূর করে বা ড্রেজিং করে তাহলে আমরা সরাসরি মালামাল নিয়ে নগরবাড়ি যেতে পারব। এতে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সুবিধা হবে।’

শিবালয়ের সার্বে কোম্পানির স্কোর্ট অফিসার মোহাম্মদ শরিফ জানান, বাঘাবাড়ি, নগরবাড়ি এবং উত্তরাঞ্চলের জন্য বিভিন্ন মালামাল নিয়ে চট্টগ্রাম, মোংলা, খুলনা থেকে নিয়মিত মালবাহী কার্গো জাহাজ যায়।

বর্তমানে আরিচা-পাটুরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৭০টির মতো জাহাজ নোঙর করে আছে এবং আরও জাহাজ পথিমধ্যে আছে।

প্রতিটি জাহাজে ৮০০ থেকে ১২০০ টন মাল থাকে। কিন্তু নদীতে নাব্যতার কারণে এই জাহাজগুলো সরাসরি তাদের গন্তব্যস্থলে যেতে পারে না।

নাব্যসংকটে পদ্মা-যমুনার কার্গো জাহাজ

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জাহাজের চালক জানান, নাব্যসংকটের কারণে শিবালয়ের অন্বয়পুরে জাহাজ নোঙর করলে বিআইডব্লিউসির লোকজন গিয়ে মালামালের কাগজপত্র দেখেন। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও প্রতিটি জাহাজ থেকে ১ হাজার করে টাকা দিতে হয়। তা না দিলে ঝামেলার মুখে পড়তে হয়।

তা ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে আসতেও বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়।

তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের আরিচা কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগের (এসিও) বেলায়েত হোসাইন টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘নদীতে নাব্যসংকটের সমস্যা আছে ঠিকই। কিন্তু নোঙর করা জাহাজগুলো এই নৌরুটের না। ফলে সমস্যা হচ্ছে। কারণ এই মৌসুমে এত বড় জাহাজ আরিচা চ্যানেলে চলতে পারবে না। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমস্যা বেশি হয়।’

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় বই পড়ার সাজা
ঝাউবন থেকে ২ কেজি আইস জব্দ
মদের চাহিদা তুঙ্গে, উৎপাদন বাড়াচ্ছে কেরু
ইয়াবাসহ আটক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মালিক
মাদক কারবারে ‘জড়িত’ ২ পুলিশ বরখাস্ত

শেয়ার করুন

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি

সিকদার রিয়েল এস্টেট একটি পরিবারকে উচ্ছেদ করে এই বাগান বাড়ি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

বাপ-দাদার ভিটেমাটি থাকতেও দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সুমিত্রা রানী ও তার স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী এক পরিবারের শখের বাগানবাড়ি বানাতে গিয়ে উচ্ছেদ করা হয় ওই পরিবারটিকে।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক মৌজার মধুপুর গ্রাম। এই গ্রামেই অন্তত ৩০ একর জমির ওপর ২০০৯ সালে একটি বাগানবাড়ি গড়ে তোলার কাজ শুরু করে প্রয়াত ব্যবসায়ী জয়নুল হক সিকদারের পরিবার।

পুকুরের মধ্যে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন চারতলা ভবন, হরিণের খামার, দুটি পুকুরের সংযোগস্থলে সেতু আর নানা প্রজাতির গাছপালা দিয়ে সাজানো হয় বাগানবাড়িটি।

অভিযোগ উঠেছে, এই বাগানবাড়ি বানাতে গিয়েই একটি হিন্দু পরিবারকে জোর করে উচ্ছেদ করেছে সিকদার রিয়েল এস্টেট। তবে উচ্ছেদের বিষয়টি অস্বীকার করছে ওই প্রতিষ্ঠান।

সুমিত্রার দাবি, ওই বাগানবাড়ির মধ্যেই তাদের ৪১ শতাংশ জমি; ছিল বাড়িও। ২০১৮ সালে ওই বাড়ি থেকে জোর করে তাড়িয়ে দেয়া হয় সুমিত্রা ও তার স্বজনদের। নির্মাণ করা হয় সীমানাপ্রাচীর আর বিশাল ফটক।

সুমিত্রার বাবা অমূল্য চরন দে ওই জমির মালিক ছিলেন। তার মৃত্যুর পর বিআরএস জরিপে সুমিত্রার ভাই রতন কুমার দে ও জগদীস চন্দ্র দে’র নামে ওই জমির মালিকানা হয়। দুটি টিনের ঘরে পরিবারটি বসবাস করত।

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি
সুমিত্রাদের টিনের ঘর

২০০৯ সালে রতন কুমার দে ও ২০১৩ সালে তার স্ত্রী ঝর্না রানী দে তিন শিশুকন্যা রেখে মারা যান। এরপর সুমিত্রা ও তার ভাই জগদীশ দে ওই শিশুদের লালনপালনের দায়িত্ব নেন।

ভিটেমাটি হারানোর পর নানা রোগ-শোক ভর করে জগদীশের শরীরেও। ২০২০ সালে তিনিও মারা যান।

সংসারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় এবং বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ায় ভাইয়ের তিন কিশোরী কন্যা নিয়ে বিপাকে পরেন সুমিত্রা। আশ্রয় নেন পাশের ডিঙ্গামানিক গ্রামের কাদির শেখের পরিত্যক্ত রান্না ঘরে।

সুমিত্রা-রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি
উচ্ছেদের বর্ণনা দেন সুমিত্রা

সেই দিনের স্মৃতি মনে করে সুমিত্রা বলেন, ‘আমি পাট লইতাছিলাম। পাট লওয়া শ্যাষ কইরা ৩টা সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ি গেলে বাড়িতে ঢুকতে দেয় নাই। সিকদারের ছেলেরা দাঁড়াইয়া থাইক্যা বাউন্ডারি দিসে। কইছিলাম, ঘরে খাওনদাওন, কাপড়চোপড় আছে, এগুলো আনতে দেন। কিন্তু দেয় নাই। পরনের ময়লা কাপড় লইয়া, তিনডা মাইয়ারে লইয়া মাথা গোঁজার লিগ্যা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাই। কিন্তু সিকদারগো ভয়ে কেউই আমাগো রাখতে সাহস পায় না। পরে এই বাড়ির রান্দোন ঘরে থাকি।’

তিনি বলেন, ‘এই শোকে আমার ভাইডাও মইরা গেল। একটা মাইয়া যেই বেতন পায় হেইয়া দিয়াই কোনোরকম চলি।’

সুমিত্রা জানান, নিজের বাড়ির ভিটায় ফিরে যাওয়াই এখন তাদের স্বপ্ন।

রতন দে’র মেয়ে রুপা রানী দে বলেন, ‘সিকদারের ছেলেরা বাড়ি এলেই গোলাগুলি করত, আরও অনেক কাজ করত। ভয়ে আমরা বাড়ি থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে থাকতাম। মা-বাবা নাই, কাকাও মারা গেছে, এখন শুধু পিসিই বেঁচে আছেন। জমি আর আমাদের জন্য চিন্তা করতে করতে তার শরীরও ভালো নেই।’

রুপা জানান, মহিলা অধিদপ্তরের একটা প্রজেক্টে কাজ করে তিনি ৮ হাজার টাকা বেতন পান। তা দিয়ে ঘর ভাড়া, তিন বোনের পড়ার খরচ, পোশাক, খাওয়া কোনোটাই পুরোপুরি করা সম্ভব হয় না। সব সময়ই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তারা।

তিনি আরও জানান, মন্ত্রী এনামুল হক শামীম তাদের একবার দেখতে গিয়েছিলেন। ভিটেমাটি ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি আশ্বাসও দিয়েছেন।

এদিকে সিকদার রিয়েল স্টেটের প্রকৌশলী ও ব্যবস্থাপক সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘সুমিত্রারা এখানে বসবাস করতেন। এখনও তাদের দুটি ঘর আছে। আমাদের নিরাপত্তার জন্যই বাউন্ডারি দেয়া হয়েছে। তাদের উচ্ছেদ করা হয়নি। তারা চলে গেছেন। তাদের যদি কোনো কাগজপত্র থাকে এবং সেটা যদি তারা দেখাতে পারেন তাহলে যেভাবে মীমাংসা করতে চান, সেভাবেই মীমাংসা করা হবে।’

জমির মালিকানা জানতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে ভূমি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন মোল্লা নথিপত্র দেখে জানান, দাবি করা জমিটির মালিক হচ্ছেন অমূল্য চন্দ্র দের দুই ছেলে রতন কুমার দে ও জগদীস চন্দ্র দে। ভাইদের এই জমির খাজনা বাংলা ১৪২৫ সন পর্যন্ত পরিশোধ করেছেন সুমিত্রা রানি দে।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় বই পড়ার সাজা
ঝাউবন থেকে ২ কেজি আইস জব্দ
মদের চাহিদা তুঙ্গে, উৎপাদন বাড়াচ্ছে কেরু
ইয়াবাসহ আটক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মালিক
মাদক কারবারে ‘জড়িত’ ২ পুলিশ বরখাস্ত

শেয়ার করুন

আর্থ কালভার্ট অকেজো, দুর্ভোগে ৪ ইউনিয়নের মানুষ

আর্থ কালভার্ট অকেজো, দুর্ভোগে ৪ ইউনিয়নের মানুষ

নীলফামারীতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে ‘আর্থ কালভার্ট’। ছবি: নিউজবাংলা

ডোমার উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তাক আহমেদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে একটি প্রকল্প তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হয়ে আসলে সেখানে নতুন করে কালভার্ট নির্মাণ শুরু হবে।

চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের আর্থ কালভার্ট।

এই পথে প্রতিদিনই যাতায়াত করেন ডোমার উপজেলার হরিণচড়া, সোনারায় এবং নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ও চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের প্রায় দশ হাজার মানুষ।

তাই কালভার্টটি অকেজো হয়ে পড়ায় চার ইউনিয়নের প্রায় দশ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

শুকনো সময়ে হেঁটে কিংবা বাইসাইকেল ব্যবহার করে চলাচল করা গেলেও বৃষ্টি হলে একেবারে চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠে এ কালভার্ট।

হরিণচড়া ইউনিয়নের হরিহারা গ্রামের বাঁশেরপুল নামক স্থানে অবস্থিত এই আর্থ কালভার্ট।

কালভার্ট ব্যবহার করতে না পারায় নীলফামারী-ডোমার প্রধান সড়কে মালামাল নিয়ে চলাচলকারী ভ্যান, পিকআপ কিংবা ট্রাকগুলোকে চার কিলোমিটার ঘুরে উঠতে হচ্ছে।

এ ছাড়া ভেঙে দেবে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।

ভ্যানচালক নূর হোসেন জানান, খালি ভ্যান নিয়ে কালভার্টের উপর দিয়ে আসাও কষ্টকর। এমনভাবে দেবে গেছে ভ্যান নামালে উল্টে পড়ার উপক্রম হয়। কোনো রকমে অন্যের সাহায্য নিয়ে ভ্যান নামিয়ে উঠাতে হয়।

আর্থ কালভার্ট অকেজো, দুর্ভোগে ৪ ইউনিয়নের মানুষ

সোনারায় ইউনিয়নের ডুগডুগি এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী নিউজবাংলাকে জানান, ২০১৭ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় কালভার্টটি। আগে চলাচল করা গেলেও ভেঙে দেবে যাওয়ায় এখন আর চলাচল করা যায় না। হাঁটা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা পরেশ দাস বলেন, ‘একটু দূরেই স্কুল। বৃষ্টি হলে জমাট হয়ে থাকে পানি। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে না।’

হরিণচড়া বাজারে যাতায়াতকারীদের যেন বিড়ম্বনার শেষ নেই।

স্থানীয়রা জানান, কলমদার নদীর ওপরে অবস্থিত কালভার্টটি। সম্প্রতি নদী খনন হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের গতিবৃদ্ধি পায়। কিছুদিন আগে নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে কালভার্টটি দেবে ভেঙে যায়। এরপর থেকে এটি চলাচলের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়।

ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, কালভার্টটি ভেঙে পড়ায় ব্যবসায়ীদের অনেক দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। মালামাল আনা নেয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে ভ্যানে মালামাল নিয়ে আসা হলেও কালভার্ট অতিক্রম করতে না পারায় ভ্যান উল্টে যায়। দ্রুত এটি সংস্কার কিংবা নতুন ভাবে তৈরি করা দরকার।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ জনদুর্ভোগের কথা শিকার করেন।

তিনি বলেন, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। দ্রুত সেখানে নতুন কালভার্ট স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

নতুন করে এটি তৈরির জন্য উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে জানানো হয়েছে।

ডোমার উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তাক আহমেদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হয়ে আসলে সেখানে নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় বই পড়ার সাজা
ঝাউবন থেকে ২ কেজি আইস জব্দ
মদের চাহিদা তুঙ্গে, উৎপাদন বাড়াচ্ছে কেরু
ইয়াবাসহ আটক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মালিক
মাদক কারবারে ‘জড়িত’ ২ পুলিশ বরখাস্ত

শেয়ার করুন

সরকারি প্রহরী নিয়ে জমি দখলে ইউপি চেয়ারম্যান!

সরকারি প্রহরী নিয়ে জমি দখলে ইউপি চেয়ারম্যান!

সরকারি প্রহরী নিয়ে করা হচ্ছে ভবন নির্মাণের কাজ। ছবি: নিউজবাংলা

বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সরকারি প্রহরীকে নিয়ে অন্যের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে নবনির্বাচিত এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সোহেল রানা উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে সম্প্রতি শপথ গ্রহণ করেন। নির্বাচনে বিরোধী সমর্থকদের দমন নিপীড়নের জন্যই তিনি এ কাজ করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

দখল করে যে স্থানে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, সে জমির কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে এর মালিকানা দাবি করছেন মজিবর রহমান নামের সাবেক এক ইউপি সদস্য। জমি দখলের বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে দুওসুও ইউনিয়নের সমির উদ্দিন কলেজের সামনের রাস্তার পাশের ওই জমিতে দেখা যায়, ইউনিয়নে কর্মরত ৯ জন প্রহরী পাহারা বসিয়ে একটি ভবন নির্মাণের কাজ করাচ্ছেন চেয়ারম্যান সোহেল।

কথা হয় উপস্থিত প্রহরী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। ভবন নির্মাণের স্থানে পাহারা দেয়ায় কারণ জানতে চাইলে তিনি চেয়ারম্যানের আদেশের একটি কাগজ দেখান।

তিনি বলেন, ‘গত চার দিন ধরে আমরা এই ভবন নির্মাণের কাজ দেখাশোনা করছি। ইউনিয়নের সব প্রহরীকে এখানে থাকার আদেশ দিয়েছেন চেয়ারম্যান। কেউ বাধা দিতে আসলে আমাদেরকে প্রতিহত করার নির্দেশনা দেয়া আছে।’

চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত কাগজে লেখা রয়েছে, খতিয়ান নম্বর ২৮৪, দাগ নম্বর ৮৭৮৮, ১৩ শতক জমির মধ্যে ২ শতক জমিতে ঘর নির্মাণের কাজে ইউনিয়নের সব গ্রাম পুলিশকে আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের জন্যে বলা হলো।

ইউনিয়নের সব প্রহরী এনে এভাবে ব্যক্তিগত কাজ করার ব্যাপারটি বেআইনি বলে মনে করেন দুওসুও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম।

জমির মালিকানা দাবি করা মজিবর রহমান বলেন, ‘আমি এবার ইউপি নির্বাচনে সোহেলের বিরোধী প্রার্থী আনারস মার্কার মোকলেসুরের নির্বাচন করেছিলাম। তখন থেকেই তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত। নির্বাচনে জেতার পরেই আমাকে হুমকি দিয়েছিলেন। এখন শপথ গ্রহণের পরপরই আমার জমি দখলে ব্যস্ত হয়ে গেছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান।’

মজিবরের অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান সোহেল বলেন, ‘জমিটা আমি নিজের জন্যে দখল করছি না। আমার ভাগনি জামাই সৈয়দ আলী এই জমির মালিক। এক পক্ষের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে মজিবরের সঙ্গে আলোচনায় বসতে একটি নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার নোটিশ গ্রহণ করেননি। বরং তিনি বলেছেন, আমাকে নাকি চেয়ারম্যান হিসেবে মানেন না। তাই সৈয়দ আলীর হক বুঝিয়ে দিতে আমি তাকে জমি দখল করে দিচ্ছি।’

এদিকে চেয়াম্যানের পাঠানো কোন নোটিশ পাননি বলে জানান সাবেক ইউপি সদস্য ও জমির মালিকানা দাবি করা মজিবর রহমান।

ইউনিয়ন পরিষদ ও পুরো এলাকা ফাঁকা করে প্রহরীদের ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্ন করলে চেয়ারম্যান সোহেল বলেন, ‘আমি মনে করেছি সেখানে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। তাই পাহারা বসানো হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় জমির মালিক দাবিদার চেয়ারম্যান সোহেলের ভাগনি জামাই সৈয়দ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ক্রয় সূত্রে এই জমির মালিক আমি। কিন্তু মজিবর রহমান আমার জমিতেই আমাকে কাজ করতে দিচ্ছিলেন না। চেয়ারম্যান আমার আত্মীয়। সেই সঙ্গে আমি তার ইউনিয়নের একজন নাগরিক। তাই আমি তার কাছে সাহায্য চেয়েছি।’

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় বই পড়ার সাজা
ঝাউবন থেকে ২ কেজি আইস জব্দ
মদের চাহিদা তুঙ্গে, উৎপাদন বাড়াচ্ছে কেরু
ইয়াবাসহ আটক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মালিক
মাদক কারবারে ‘জড়িত’ ২ পুলিশ বরখাস্ত

শেয়ার করুন

মারা গেছেন খেলাফত আন্দোলনের আমির জাফরুল্লাহ

মারা গেছেন খেলাফত আন্দোলনের আমির জাফরুল্লাহ

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান

তিনি দীর্ঘদিন মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ছিলেন। পরে তাকে মহাসচিব পদ থেকে বাদ দিলে তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন নামে নতুন দল করে তার আমির নিযুক্ত হন।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের একাংশের আমির মাওলানা জাফরুল্লাহ খান মারা গেছেন।

চট্টগ্রামের দামপাড়ায় আল জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে যোগ দিতে এসে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

জাফরুল্লাহ খান কিডনির রোগসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

মৃত্যকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রামের দামপাড়ায় আল জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার দুই দিনব্যাপী বার্ষিকসভা শুরু হয়। শুক্রবার ছিল মাহফিলের দ্বিতীয় দিন। মাহফিলে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার রাতে খান চট্টগ্রাম আসেন মাওলানা জাফরুল্লাহ।

এসে প্রথমে হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় যান তিনি। সেখানে মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ইয়াহইয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় মধ্যরাতে হাটহাজারী থেকে চট্টগ্রামের দামপাড়ায় আল জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় পৌঁছান।

শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের প্রস্তুতি নেয়ার সময় হঠাৎ তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান ঢাকার কেরানীগঞ্জের দিয়ানগরের মাশরাবুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ছিলেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর প্রতিষ্ঠিত কামরাঙ্গীরচর জামেয়া নুরিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ছিলেন।

তিনি দীর্ঘদিন মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ছিলেন। পরে তাকে মহাসচিব পদ থেকে বাদ দিলে তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন নামে নতুন দল করে তার আমির নিযুক্ত হন।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় বই পড়ার সাজা
ঝাউবন থেকে ২ কেজি আইস জব্দ
মদের চাহিদা তুঙ্গে, উৎপাদন বাড়াচ্ছে কেরু
ইয়াবাসহ আটক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মালিক
মাদক কারবারে ‘জড়িত’ ২ পুলিশ বরখাস্ত

শেয়ার করুন

‘মনোনয়ন বাণিজ্যের’ টাকা ফেরত চেয়ে আইনি নোটিশ

‘মনোনয়ন বাণিজ্যের’ টাকা ফেরত চেয়ে আইনি নোটিশ

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা

তবে মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এমপি সংবাদ সম্মেলনে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘তার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা তদন্তাধীন। আমার সম্মানহানি করতে তাকে দিয়ে কেউ কলকাঠি নাড়াচ্ছে।’

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দেয়া টাকা ফেরত চেয়ে আইনি নোটিশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন।

সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন কবিরকে তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে এ নোটিশ দেন।

শুক্রবার সকালে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি।

তবে এ ধরনের কোনো নোটিশ হাতে আসেনি বলে জানিয়েছেন হোসেন কবির। তিনি বলেন, ‘নোটিশ পেলে দেখেশুনে জবাব দেব।’

নোটিশে বলা হয়, স্থানীয় লোকজন ও নেতা-কর্মীদের অনুরোধে সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে কামাল উদ্দিন প্রচার শুরু করেন।

একপর্যায়ে হোসেন কবির আওয়ামী লীগ থেকে তাকে মনোনয়ন পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন। হোসেন কবির চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদের আস্থাভাজন হওয়ায় তার আশ্বাসে রাজি হন কামাল উদ্দিন। এ জন্য তিনি হোসেন কবিরকে প্রথমে নগদ ১৫ লাখ টাকা দেন।

পরে এমপি মোছলেম উদ্দিনের নামে আরও ১৫ লাখ টাকার চেক দেন। কিন্তু গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন মেলেনি কামাল উদ্দিনের।

পরে খোঁজ নিয়ে নিয়ে তিনি জানতে পারেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ থেকে তার নাম পাঠানোই হয়নি। পরে কামাল উদ্দিন টাকা ফেরত চাইতে হোসেন কবিরের শহরের বাসায় যান। কিন্তু তিনি টাকা ফেরত না দেয়ায় কামাল উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে টাকা দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে চেকের ছবিসহ পোস্ট দেন।

পরে এমপি মোছলেম উদ্দিন আহমেদের নামে ১৫ লাখ টাকার চেক নেয়ার অভিযোগে ১০ জানুয়ারি কামালের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামে মামলা করেন হোসেন কবির।

আদালত পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেয়।

তবে ফেসবুকে কামাল উদ্দিনের পোস্ট করা চেকের ছবিতে দেখা যায়, এটি সোনালী ব্যাংক কোর্ট হিল শাখার একটি চেক। এতে পে টুর স্থানে লেখা মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। নিচের অংশে কামাল উদ্দিনের সই রয়েছে, তবে চেকে কোনো তারিখ ছিল না।

এদিকে ফেসবুক ওয়ালে কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি আমার চেক ও টাকা ফেরত চাই। না হলে বিষয়টি নিয়ে আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থ হব এবং ফৌজদারি মামলা করতে বাধ্য হব।’

তবে মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এমপি সংবাদ সম্মেলনে টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘তার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা তদন্তাধীন। আমার সম্মানহানি করতে তাকে দিয়ে কেউ কলকাঠি নাড়াচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় বই পড়ার সাজা
ঝাউবন থেকে ২ কেজি আইস জব্দ
মদের চাহিদা তুঙ্গে, উৎপাদন বাড়াচ্ছে কেরু
ইয়াবাসহ আটক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মালিক
মাদক কারবারে ‘জড়িত’ ২ পুলিশ বরখাস্ত

শেয়ার করুন

এসএসসি: ফেল থেকে জিপিএ-৫ চার বোর্ডে ১৩ জন

এসএসসি: ফেল থেকে জিপিএ-৫ চার বোর্ডে ১৩ জন

ফাইল ছবি।

চার বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণে ফেল থেকে পাশ করেছেন ৩৭৮ জন। এ ছাড়া গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে আরও অনেকের।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও কুমিল্লা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আগে ফেল করলেও পুনঃনিরীক্ষণে তাদের মধ্য থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ জন।

শুক্রবার এই ফল প্রকাশ করা হয়।

ফলাফলে দেখা গেছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছেন ৪৩ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ফলাফল পরিবর্তন হয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৬ জন। আর ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন চার শিক্ষার্থী।

ঢাকা বোর্ডের প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী ২২ হাজার ৮৫৫টি বিষয়ের খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেছিলেন।

ব‌রিশাল মাধ‌্যমিক ও উচ্চ মাধ‌্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন জানান, ওই বোর্ডে ৫ হাজার ৪৭৯ পরীক্ষার্থী ৬ হাজার ১৩৯‌টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেছিলেন। এতে ৩৯২ জনের ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ফেল থেকে পাশ করেছেন ২৫১ জন এবং ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ জন। পাশাপা‌শি সব মিলিয়ে ফল পরিবর্তনে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩০ শিক্ষার্থী।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফলে ফেল থেকে পাস করেছেন ৩৩ জন। আর ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ জন। এ ছাড়া পরীক্ষার ফল পরিবর্তন হয়েছে ২১২ জনের।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথ বলেন, ‘উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ শেষে ফল পরিবর্তন হয়েছে ২১২ পরীক্ষার্থীর। এর ফলে ফেল থেকে পাস করেছে আরও ৩৩ জন। গ্রেড পরিবর্তন হয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন। আর ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন।’

বোর্ড সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য ৭ হাজার ৬৯ পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে ৭ হাজার ৮২৩টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ করা হয়।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রুপ ভিত্তিক নৈর্বাচনিক ১১ বিষয়ে ৪১৯৩ জন শিক্ষার্থী ৪৬৭৯টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করেছিলেন।

আবেদনকারীদের মধ্যে ৮২ জনের ফল পরিবর্তন হয়। এর মধ্যে ৫১ জন ফেল থেকে পাশ করেছেন। আর ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬ জন। এ ছাড়া ২৫ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ সনের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় এবং ৩১ ডিসেম্বর থেকে ০৬ জানুয়ারি পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হয়।

জানা গেছে, করোনার কারণে দেড় বছর ক্লাস না হওয়ায় গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া হয় তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে।

ফল প্রকাশের দিনের হিসেব অনুযায়ী, এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ড মিলে পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২০২০ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। সে হিসেবে এবার পাসের হার বেড়েছে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ।

৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে এবার পাসের হার ৯৪.০৮ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৭ লাখ ৯২ হাজার ৩১২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৬২৫ জন।

মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে এবার পাসের হার ৯৩.২২ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৬৯ জন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ১৪ হাজার ৩১৩ জন।

আর কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৮৮.৪৯ শতাংশ। জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থী ৫ হাজার ১৮৭ জন।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় বই পড়ার সাজা
ঝাউবন থেকে ২ কেজি আইস জব্দ
মদের চাহিদা তুঙ্গে, উৎপাদন বাড়াচ্ছে কেরু
ইয়াবাসহ আটক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মালিক
মাদক কারবারে ‘জড়িত’ ২ পুলিশ বরখাস্ত

শেয়ার করুন