সকালে নাকচ, বিকেলে জামিন

player
সকালে নাকচ, বিকেলে জামিন

আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহ। ফাইল ছবি

বাদী পক্ষের আইনজীবী কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে এক কথা শুনলাম, বিকেলে আরেক কথা। বুধবার জামিন শুনানির কথা বলে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হলো। আর বিকেলে সব পাল্টে গেল। সকালে করোনা ছিল না। বিকেলে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট কোথা থেকে এলো?’

প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহকে সকালে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিল আদালত। তবে বিকেলে করোনা পজিটিভ রিপোর্টে জামিন মিলেছে তার।

দুই দফা শুনানি শেষে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম তরিকুল ইসলাম তার জামিন দেন।

জামিন শুনানির জন্য আবেদন করা হয় বুধবার সকালে। তবে বিকেলে তড়িঘড়ি করে ফের জামিন আবেদন করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। আদালতের বেঞ্চ সহকারীদের দিয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবীকে আদালতে ডেকে জামিন শুনানিতে অংশ নিতে বলা হয়।

বিকেলে আসামি পক্ষের আইনজীবী সাইদুর রহমান মানিক, মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন জামিন চেয়ে আবেদন করেন। বাদী পক্ষের আব্দুল বাতেন, খন্দকার হযরত আলী আসামির জামিনের বিরোধিতা করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ‘আসামি করোনায় আক্রান্ত। এই অবস্থায় তাকে কারাগারে নেয়া হলে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারেন।’

তারা জানান, দুই পক্ষের শুনানির পর বিচারক করোনায় আক্রান্ত আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহকে জামিন দেন।

তবে একই মামলায় নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের সহযোগী রিয়াজুল আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

এর আগে দুপুরে আদালতে খিলক্ষেত থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. সেলিম জানিয়েছিলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনসহ অন্য শুনানির তারিখ পেছানোর জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনের পর বিচারক বুধবার শুনানির তারিখ ঠিক করেছেন।

এদিকে বাদী পক্ষের আইনজীবী কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে এক কথা শুনলাম, বিকেলে আরেক কথা। বুধবার জামিন শুনানির কথা বলে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হলো। আর বিকেলে সব পাল্টে গেল। সকালে করোনা ছিল না। বিকেলে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট কোথা থেকে এলো?’

তিনি বলেন, ‘বিকেলে আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে আমাদের আবারও ডাকা হয়। আজকের মধ্যে শুনানি করতে হবে বলা হয়। বিকেলে দুই পক্ষের শুনানির পর চেয়ারম্যানের জামিন হয়। আরেক আসামির সকালের আদেশ ঠিক রেখে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

এর আগে সোমবার খিলক্ষেত থানায় আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়ার মামলায় আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহ ও রিয়াজুল আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও মামলায় সেলিম মুন্সিসহ অজ্ঞাতনামা ছয়-সাত জনকে আসামি করা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য আশিয়ান ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্টের পাঁচ বিঘা জমি পছন্দ করে নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। ওই জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চেকের মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা পরিশোধ করে কর্তৃপক্ষ। বাকি ২০ কোটি টাকা পরে পরিশোধ করার কথা বলা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্লাহর কাছে বাকি ২০ কোটি টাকা চাইলে তিনি জানান, সব টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। পরে বাদী জানতে পারেন, ওই জমি ৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে দলিলে।

আরও পড়ুন:
নর্দান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কারাগারে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সেলিব্রেটিদের সতর্ক হতে বলল হাইকোর্ট

সেলিব্রেটিদের সতর্ক হতে বলল হাইকোর্ট

কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হবার বিষয়ে সেলিব্রেটিদের আরও সর্তক হতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তাহসান রহমান খান, রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়া। ফাইল ছবি

শুনানির সময় হাইকোর্ট বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক শেখ মো. জাকির হোসেন তাহসানের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এদেশে ক্রিকেটার মাশরাফি যখন কোনো ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর হয়, এই যে যাদের নাম দেখতেছি তারা যদি অ্যাম্বাসেডর হয় তাহলে কোম্পানির মাল-জিনিস থাকুক বা না থাকুক কিছু কিছু লোক আছে তারা তো পাগলের মত দৌড়াবে। আর আপনারা সেই গুডউইলটাকে পুঁজি করলেন, আপনারা দেখলেনও না। এই যে এখানে যারা অ্যাম্বাসেডর হলেন তাদের জন্য কোটি কোটি টাকা দেশের গচ্ছা গেল।’ বিচারক বলেন, ওনাদের (তাহসান, মিথিলা, শবনম) দায়িত্ব অনেক বেশি।

সেলিব্রেটিরা যখন কোনো কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হন সাধারণ মানুষ তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। সেজন্য সেলিব্রেটিদের দায়িত্ব অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। এজন্য কোনো কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে সেলিব্রেটিদের সতর্ক হতে বলেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার অভিনেতা ও কণ্ঠশিল্পী তাহসান রহমান খানের জামিন আবেদনের শুনানির সময় এ মন্তব্য করে বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

পরে আদালত তাহসান খানকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেয়।

এ আবেদনের শুনানির সময় হাইকোর্ট বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক শেখ মো. জাকির হোসেন তাহসানের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এদেশে ক্রিকেটার মাশরাফি যখন কোনো ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর হয়, এই যে যাদের নাম দেখতেছি তারা যদি অ্যাম্বাসেডর হয় তাহলে কোম্পানির মাল-জিনিস থাকুক বা না থাকুক কিছু কিছু লোক আছে তারা তো পাগলের মত দৌড়াবে। আর আপনারা সেই গুডউইলটাকে পুঁজি করলেন, আপনারা দেখলেনও না। এই যে এখানে যারা অ্যাম্বাসেডর হলেন তাদের জন্য কোটি কোটি টাকা দেশের গচ্ছা গেল।’

বিচারক বলেন, ওনাদের (তাহসান, মিথিলা, শবনম) দায়িত্ব অনেক বেশি। সেলিব্রেটিদের দায়িত্ব অনেক বেশি।

এ সময় বিচারক ভারতের ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘শচীনকে জার্মানির একটি গাড়ি কোম্পানি অ্যাডে নিল। সেই কোম্পানির অ্যাড করার পর ওই কোম্পানি তাকে টাকা দিয়েছে সঙ্গে একটা গাড়িও দিল। এই গাড়ি যখন দেশে আসলো তখন গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করার জন্য তাকেই টাকা দিতে হচ্ছে, এটা জেনে তিনি গাড়ি ফেরত দিতে চাইলেন। তিনি তার দেশের টাকা খরচ হবে বিধায় তিনি সেটা করলেন না। কোম্পানি তখন বাধ্য হয়ে তার রেজিস্ট্রেশনও করে দিলেন। দেখেন তিনি তার দায়িত্ব কিভাবে পালন করলেন।’

বিচারক বলেন, ‘আপনাদের দেখে এদেশের যুব সমাজ কিভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আপনাদের নিজেদের অবস্থানের প্রতি যদি আপনাদের খেয়াল না থাকে, তাহলে কীভাবে হবে। সাধারণ মানুষতো আপনাদের আইডল মনে করে। আপনাদের মডেল মনে করে।’

পরে আদালত অভিনেতা তাহসান রহমান খানকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেয়।

আদালতে তাহসানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সানজিদা খানম, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন দেওয়ান।

তাহসানের আইনজীবী ও তার ফুফু সানজিদা খানম নিউজবাংলাকে বলেন, তিনি বিদেশ থাকায় জামিন আবেদন করতে দেরি হয়েছে। বিদেশ থেকে এসেই তিনি জামিন আবেদন করেছেন। আদালত শুনানি নিয়ে সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে আদালত।

গত ১৩ ডিসেম্বর এ মামলায় আরও দুই অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়াকে ৮ সপ্তাহের জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের জামিন দেয়।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাহসান খান, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়াসহ নয়জনের বিরুদ্ধে গত ৪ ডিসেম্বর মামলা হয়।

সাদ স্যাম রহমান নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল, চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, তাহসান খান, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়াসহ নয়জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রতারণামূলকভাবে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ ও সহায়তা করা হয়েছে। আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা। যা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এ মামলায় ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন:
নর্দান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কারাগারে

শেয়ার করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের ইঙ্গিত

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের ইঙ্গিত

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ছবি

আনিসুল হক বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস অফিসের সঙ্গে দুবার আলোচনা করেছি। মানবাধিকার কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে যে আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন হতে পারে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে আলোচনার উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমন ধারণা দিয়েছেন।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান ডিসি সম্মেলনে বৃহস্পতিবার অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী একথা বলেন।

আনিসুল হক বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস অফিসের সঙ্গে দুবার আলোচনা করেছি। একটি কমিটি করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে যে আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তারা যেন দ্রুতই সে আলোচনার তারিখ জানায়। তাদের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আমরা আলোচনায় বসতে রাজি আছি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন ইস্যুতে আলোচনার জন্য লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে আইন ও বিচার বিভাগ, আইসিটি, স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে ছয় সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করার সঙ্গে সঙ্গে এটা যেন মামলা হিসেবে গ্রহণ করা না হয়। আইসিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী যেন সেলে পাঠানো হয়।

‘সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের যেন তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা না হয়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আর এমন নির্দেশনার পর এই আইনে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার অনেকাংশে কমে গেছে।’

কমিটির কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এই আইন প্রধানত সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। বাক-স্বাধীনতা বা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করার জন্য করা হয়নি। সেটা যদি করা হতো এটা আইন হিসেবেই গণ্য হতো না।

‘কারণ সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে বাক-স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে রাখা হয়েছে। আমরা একটু আগে এমন আইন করেছি। তবে ইতোমধ্যে অনেক দেশেই করা হয়েছে এবং অনেক দেশ এই আইন করা আবশ্যক মনে করছে।’

আনিসুল হক বলেন, ‘এই আইন যখন বাস্তবায়ন করা হয় সেখানে কিছু মিসইউজ ও কিছু অ্যাবিউস হয়েছে। এগুলো যাতে না হয় সে জন্য জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস অফিসের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সারা পৃথিবীর বেস্ট প্র্যাকটিসগুলো নির্ণয় করে তা থেকে আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজনীয় অংশটুকু হয়ত আমরা বিধি দিয়ে গ্রহণ করব। প্রয়োজন হলে আইনের বিধিবিধান কিছুটা সংশোধনও করা হবে।’

নির্বাচন কমিশন গঠনে সংসদের চলমান অধিবেশনে আইন পাসের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

ভূমির নিবন্ধন প্রক্রিয়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অনুশাসন দিয়েছেন, এটা আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী যেখানে অনুশাসন দিয়েছেন সেখানে আলোচনার কোনো অবকাশ থাকতে পাবে না।’

‌এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে আলোচনার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেইনি। কারণ আমি বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কথা বলি না। আমি ডিসিদের বলেছি- বিষয়টি বিচারাধীন। যখন রিভিউ হবে তখন চেষ্টা থাকবে এর ক্রটি-বিচ্যুতিগুলো সমাধান করার। যে রায় দেয়া হয়েছে সেটি স্থগিত আছে। আমি তাদের এটা জানিয়েছি।

‘দণ্ডবিধির ২২৮ ধারা মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলে যুক্ত করতে ডিসিদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিআরপিসি অনুযায়ী সামারি ট্রায়াল ও পাশাপাশি বেইলেবল। সেটা মোবাইল কোর্টে স্থানান্তর করতে অসুবিধা হওয়ার কথা না। তবু আমি এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেব।’

আরও পড়ুন:
নর্দান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কারাগারে

শেয়ার করুন

ব্লগার নাজিম হত্যা: মেজর জিয়াসহ পাঁচজনের নামে পরোয়ানা

ব্লগার নাজিম হত্যা: মেজর জিয়াসহ পাঁচজনের নামে পরোয়ানা

চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক সোমবার পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পরোয়ানা জারি করেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যা মামলায় আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান সোমবার পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এই পরোয়ানা জারি করেন।

বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম ছারোয়ার খান জাকির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৭ জানুয়ারি আদালত ৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে। পলাতক থাকায় মেজর জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।’

পরোয়ানা জারি হওয়া অপর চার আসামি হলেন- আকরাম হোসেন, মো. ওয়ালিউল্লাহ, সাব্বিরুল হক চৌধুরী ও জুনেদ আহাম্মেদ।

অপর চার আসামি রশিদুন নবী ভূইয়া, মোজাম্মেল হুসাইন, আরাফাত রহমান ও শেখ আব্দুল্লাহ কারাগারে রয়েছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মেসে ফেরার পথে লক্ষ্মীবাজারের একরামপুর মোড়ে খুন হন ব্লগার নাজিমুদ্দিন। এ ঘটনায় পরদিন সূত্রাপুর থানার এসআই নুরুল ইসলাম মামলা করেন। ২০২০ সালের ২০ আগস্ট বহিষ্কৃত মেজর সৈয়দ মো. জিয়াউল হক জিয়াসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।

আরও পড়ুন:
নর্দান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কারাগারে

শেয়ার করুন

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামির ফের ‘ধর্ষণ’, সীতাকুণ্ডে গ্রেপ্তার

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামির ফের ‘ধর্ষণ’, সীতাকুণ্ডে গ্রেপ্তার

স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি মো. দুলাল। ছবি: নিউজবাংলা

মেজর শেখ ইউসূফ আহমেদ জানান, দুলাল ও তার ভাই আবদুর রহিম মামলা তুলে নিতে স্কুলছাত্রীর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছিল। র‌্যাব আসামিকে চট্টগ্রাম নগরীর সীতাকুণ্ড থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে গ্রেপ্তার করে।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

চট্টগ্রাম থেকে মো. দুলালকে গ্রেপ্তারের কথা বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার র‌্যাব-১৫-এর সিপিসি কমান্ডার মেজর শেখ ইউসূফ আহমেদ।

দুলালের বিরুদ্ধে এক দশক আগে একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় তিনি জামিনে ছাড়া পান। এরপর তাকে আর খুঁজে পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মেজর শেখ ইউসূফ আহমেদ জানান, দুলাল ও তার ভাই আবদুর রহিম মামলা তুলে নিতে স্কুলছাত্রীর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছিল। র‌্যাব আসামিকে চট্টগ্রাম নগরীর সীতাকুণ্ড থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে গ্রেপ্তার করে।

গত বছরের ১৬ আগস্ট ওই ছাত্রীর মা উখিয়া থানায় মামলা করেন।

এজাহার বলা হয়েছে, ‘উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের স্কুলছাত্রীকে একই এলাকার দুলাল উত্ত্যক্তসহ প্রেমের প্রস্তাব দেয়। সাড়া না দেয়ায় তাকে ধর্ষণসহ নানা হুমকি-ধমকি দেয়া হয়।

একপর্যায়ে পরিবারের অনুপস্থিতিতে তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেন দুলাল। এর দুদিন পর ধর্ষণ মামলা হয়।

ওই ছাত্রীর মা অভিযোগ করে বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য আমরা চট্টগ্রামে ছিলাম। কেবল বাড়িতে ছিল কিশোরী মেয়ে ও পুত্রবধূ। দুলাল রাতে বাড়িতে ঢুকে আমার মেয়েকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে।’

আরও পড়ুন:
নর্দান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কারাগারে

শেয়ার করুন

হত্যাকারীদের ফাঁসি চান অভিনেত্রী শিমুর বাবা

হত্যাকারীদের ফাঁসি চান অভিনেত্রী শিমুর বাবা

চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু। ফাইল ছবি

অভিনেত্রী শিমুর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মাইয়াডারে অনেক আদর-স্নেহ দিয়ে বড় করেছি, হেই মাইয়াডারে ওরা মাইর‍্যা ফালাইছে। আমি আর কিছু চাই না, শুধু আমার মাইয়াডারে যারা হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।’

আলোচিত চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু হত্যার ঘটনায় তার বাড়ি বরগুনার আমতলীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মেয়েকে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি করেছেন শিমুর বাবা নুরুল ইসলাম।

মুঠোফোনে কথা হয় শিমুর বাবা নুরুল ইসলামের সঙ্গে। গত ১৭ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে ছেলের ফোন পেয়ে ও টেলিভিশনের খবরের মাধ্যমে জানতে পারেন মেয়ে শিমু হত্যার ঘটনা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মাইয়াডারে অনেক আদর-স্নেহ দিয়ে বড় করেছি, হেই মাইয়াডারে ওরা মাইর‍্যা ফালাইছে। আমি আর কিছু চাই না, শুধু আমার মাইয়াডারে যারা হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।’

ঢাকাই ছবির নায়িকা শিমুর গ্রামের বাড়ি আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে। তার নানার বাড়িও একই উপজেলার তারিকাটা গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৫ সালে শিমুর বাবা নুরুল ইসলাম রাঢ়ী গ্রামের বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী, দুই ছেলে হারুন অর রশিদ ও সাইদুল ইসলাম খোকন এবং দুই মেয়ে শিমু ও ফাতেমাকে নিয়ে আমতলী পৌর শহরের ফেরিঘাটের সবুজবাগ এলাকায় বসবাস শুরু করেন।

শিমু আমতলী এমইউ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। স্কুলে লেখা-পড়া করার সময় থেকেই শিমু সংস্কৃতিমনা ছিলেন। অভিনয়, নাচ ও গানের প্রতি তার ঝোঁক ছিল তীব্র। আমতলীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া শিমুর অভিনয়, নাচ ও গানের প্রশংসা সে সময় মানুষের মুখে মুখে ছিল।

পারিবারিক কোনো কারণে ১৯৯৬ সালে শিমুর মা রাশেদা বেগম সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। এরপর পরিচয় হয় চিত্রপরিচালক কাজী হায়াৎ এর সঙ্গে। তার হাত ধরেই ১৯৯৮ সালে সিনেমা জগতে আসেন শিমু।

এরপর রুপালি পর্দায় শিমু হয়ে যান রাইমা ইসলাম শিমু। একের পর এক বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয়ের পর শিমুর নাম ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।

শিমুরা ঢাকায় বসবাস করলেও বিভিন্ন কারণে তার বাবা গ্রামের বাড়িতেই থেকে যান। পরবর্তী সময়ে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে তিনি একই ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন। ওই গ্রাম থেকেই তিনি একবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এদিকে আলোচিত চিত্র নায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই বরগুনা ও আমতলীতে শোকের ছায়া নেমে আসে। সবার প্রশ্ন একটাই, কী এমন ঘটল যে আমতলীর কৃতী সন্তান শিমুকে নারকীয়ভাবে খুন করে মরদেহ টুকরা করে তা বস্তায় ভরে রাস্তার পাশে ফেলতে হবে।

জেলাবাসীর দাবি, শিমু হত্যায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি হোক।

এর আগে গত রোববার থেকে হঠাৎ করেই পাওয়া যাচ্ছিল না অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে। খোঁজ না পেয়ে তার ছোট বোন ফাতেমাসহ পরিবারের সদস্যরা কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ থেকে শিমুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবেই ধরা হচ্ছিল। পরে আঙুলের ছাপ ও পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে জানা যায় বস্তাবন্দি মরদেহটি শিমুর।

ঘটনার রাতেই শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এসএমওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে আটক করে পুলিশ। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাহিনীটি জানতে পেরেছে, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের কারণে জীবন দিতে হয়েছে শিমুকে। এই হত্যার কথা স্বীকার করেছেন নোবেল। বন্ধুকে নিয়ে মরদেহটি গুম করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
নর্দান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কারাগারে

শেয়ার করুন

স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী-শ্বশুর কারাগারে

স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী-শ্বশুর কারাগারে

ময়মনসিংহ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ। পরদিন বুধবার সন্ধ্যায় তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে হত্যা মামলায় স্বামী ও শ্বশুরকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক ড. রাশেদ হোসেন বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত সোমবার উপজেলার খরমা গ্রামে ১৯ বছরের গৃহবধূ লিয়া আক্তারকে হত্যা করা হয়। নিহতের স্বামীর নাম জীবন মিয়া ও শ্বশুর আবুল হোসেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি দাস।

মামলার বরাত দিয়ে তিনি জানান, এক বছর আগে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের স্বপন মিয়ার মেয়ে লিয়া আক্তারের সঙ্গে পাশের খরমা গ্রামের জীবন মিয়ার বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন জীবন। এ নিয়ে সংসারে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। প্রায়ই লিয়াকে মারধর করতেন জীবন।

গত মঙ্গলবার সকালে আবারও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে লিয়াকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান জীবন ও তার বাবা। পরে প্রতিবেশীরা খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জীবন ও তার বাবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহত লিয়ার পরিবার।

আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ। পরদিন বুধবার সন্ধ্যায় তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

আরও পড়ুন:
নর্দান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কারাগারে

শেয়ার করুন

‘লও ঠেলা’ গ্যাংয়ের ৯ জন আটক

‘লও ঠেলা’ গ্যাংয়ের ৯ জন আটক

র‍্যাব হেফাজতে ‘লও ঠেলা’র ৯ সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

২০১৭ সালে ‘লও ঠেলা’ নামে গ্রুপ খোলেন বাবু। আগে তিনি ছিলেন ‘ভাইব্বা ল কিং’ নামে একটি কিশোর গ্রুপের সদস্য। এলাকায় দশের বাবু নামেই তিনি পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৬টি মামলা আছে। তার গ্রুপ সদস্যদের বিরুদ্ধেও আছে একাধিক মামলা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘লও ঠেলা’র ৯ সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার তাদের আটক করা হয়।

আটকদের মধ্যে কথিত ‘লও ঠেলা’ গ্রুপের প্রধান বাবু ওরফে দশের বাবু আছেন। অন্যরা হলেন- ফোরকান, পলাশ, সুমন, সাগর, রাজন, নাজিম, শাকিল ও মিলন।

তাদের কাছ থেকে ছুরি, চাপাতি, স্টিলের পাইপসহ ধারালো অস্ত্র জব্দ হয়েছে।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত জানান, একদল সন্ত্রাসী গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে মোহাম্মদপুরে নবীনগর হাউজিং এলাকায় দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। এই গ্রুপটি এলাকায় বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়েও জড়িত। গত ১৬ রোববার সবশেষ ছিনতাই ও দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এসব অভিযোগের পর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয় ‘লও ঠেলা’ গ্রুপের সদস্যদের। তাদের মধ্যে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। পলাতক অন্যদের আটকে অভিযান চলছে।

র‍্যাব জানায়, গ্রুপের প্রধান বাবু ওরফে দশের বাবু ২০০০ সালে মায়ের সঙ্গে নড়াইল থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি গাড়ির হেলপার, হোটেলে পরিচ্ছন্ন কর্মীর চাকরিসহ বিভিন্ন কাজ করেছেন। একপর্যায়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। টাকার জন্য চুরি-ছিনতাই শুরু করেন তিনি।

এলাকায় প্রভাব বাড়াতে বাবু কিশোর বয়সী অনেককে দলে ভেড়ান। এরপর মোহাম্মদপুরসহ আশেপাশের এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ছাড়াও মাদক কারবার করতে থাকেন গ্রুপ সদস্যদের মাধ্যমে। এই গ্রুপের অনেকেই রিকশাচালক ও দোকান কর্মচারী। প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় তারা এলাকায় অপরাধমূলক কাজের পাশাপাশি মহড়া দিত।

২০১৭ সালে ‘লও ঠেলা’ নামে গ্রুপ খোলেন বাবু। আগে তিনি ছিলেন ‘ভাইব্বা ল কিং’ নামে একটি কিশোর গ্রুপের সদস্য। এলাকায় দশের বাবু নামেই তিনি পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৬টি মামলা আছে। তার গ্রুপ সদস্যদের বিরুদ্ধেও আছে একাধিক মামলা।

আরও পড়ুন:
নর্দান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কারাগারে

শেয়ার করুন