টঙ্গীতে পুড়েছে তুলার গুদাম

player
টঙ্গীতে পুড়েছে তুলার গুদাম

তুলার গুদামের আগুন নেভাতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। ছবি: নিউজবাংলা

ওই গুদাম মো. বাসার নামে এক ব্যক্তির। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে গাজীপুর থেকে দুটি ও উত্তরা থেকে একটি ইউনিট গিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি তুলার গুদামে লাগা আগুন দেড় ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সেটি নেভাতে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ৩ ইউনিট।

মিলগেটের তুসুকা গার্মেন্টসের পাশে ওই গুদামে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে আগুন লাগে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান।

তিনি জানান, ওই গুদাম মো. বাসার নামে এক ব্যক্তির। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে গাজীপুর থেকে দুটি ও উত্তরা থেকে একটি ইউনিট গিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী তুসুকা গার্মেন্টসের শ্রমিক খাইরুল ইসলাম জানান, বাসারের তুলার গুদামে লাগা আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের রফিকের গুদামেও। সেগুলোতে রাখা মালামাল সব পুড়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে এবার পোশাক কারখানায় আগুন
সদর হাসপাতালে আগুনে আতঙ্ক
আগুনে পুড়ল আসবাব কারখানা, ২ মরদেহ উদ্ধার
‘আগুন নেভার পর দেখি কিছু নেই’
নিউ ইয়র্কে ভবনে আগুন, ৯ শিশুসহ নিহত ১৯

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি

ইউজিসির এক সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আভাস পাওয়া গেছে। তাকে অপসারণ করা হবে নাকি পদত্যাগ করতে বলা হবে, সে বিষয়টি মহামান্য রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে দিতে সরকারের তৎপরতা শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে নিউজবাংলা।

তবে মন্ত্রণালয় থেকে সম্ভাব্য নতুন উপাচার্যের কোনো তালিকা ইউজিসিতে পাঠানো হয়নি। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আভাস দিয়েছেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে বলা হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে গিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের কথাতেও তেমন ইঙ্গিত ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে নীতি নির্ধারক পর্যায়ে যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। ইউজিসির একজন সদস্য নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আভাস পাওয়া গেছে। তাকে অপসারণ করা হবে নাকি পদত্যাগ করতে বলা হবে, সে বিষয়টি মহামান্য রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।’

এ ক্ষেত্রে ইউজিসির বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘শাবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তিন জনের একটি তালিকা মঞ্জুরি কমিশনে আসার কথা। তবে এমন কোনো তালিকা আমরা এখনও পাইনি। উপাচার্য নিয়োগের যে তালিকা পাঠানো হয় সেখানে ইউজিসি শুধু মতামত প্রদান করে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আসেনি।’

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘উপাচার্যকে সরানো হবে কিনা, সেটি মহামান্য রাষ্ট্রপতির বিষয়। আমি সেটি নিয়ে কথা বলতে চাই না।’

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?
উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে অনশনে শাবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শাবিপ্রবির উপাচার্যকে সরিয়ে দিতে পূর্বসূরীদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে।

মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হতে পারে। তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা গ্রহণ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি।’

উপাচার্যের বিদায়কে সম্মানজনক করতেই এ পথ বেছে নেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ তা বাস্তবায়ন করা হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, যে কোনো সময় আসতে পারে এমন ঘোষণা।

একজন উপাচার্যকে কোন প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা যায়, তা জানতে চাওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব ড. ফেরদৌস জামানের কাছে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়োগপত্রেই বলা থাকে: আচার্য্য যে কোনো সময় চাইলে তাকে অপসারণ করতে পারেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, উপাচার্যদের বিদায়কে সম্মানজনক করা কিংবা একজন উপাচার্যকে অসম্মান করতে না চাইলে, তখন পদত্যাগ করতে বলা হয়। তিনি পদত্যাগপত্র পাঠালে সেটি আচার্য্য গ্রহণ করেন।’

তিনি বলেন, ‘তবে আচার্য্য চাইলে যে কোনো সময় যে কোনো উপাচার্যকে রিমুভ করতে পারেন।’

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?
উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীদের পাশে অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক। ছবি: নিউজবাংলা

কে হচ্ছেন নতুন উপাচার্য

শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে নেয়া হতে পারে এমন আলোচনা বৃহস্পতিবার থেকে চাউর হয়েছে ক্যাম্পাসে। পরবর্তী উপাচার্য কে হতে পারেন, তা নিয়ে চলছে আলোচনা। যদিও এ বিষয়ে শিক্ষকদের কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি।

অনশন ভাঙানোর সময় মুহাম্মদ জাফর ইকবালও আশ্বাস দেন, শিক্ষার্থীদের দাবি সরকার মেনে নেবে। সরকারের উচ্চ মহল থেকে তাকে এই আশ্বাস দেয়া হয়েছে বলে জানান জাফর ইকবাল।

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকেই কাউকে উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। পরবর্তী উপাচার্য হিসেবে দুজনের নাম আলোচিতও হচ্ছে। তারা হলেন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম এবং শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস।

এ দুজনের মধ্য থেকে একজনকে পরবর্তী উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে নিয়োগ দেয়ার আগেও উপাচার্য হিসেবে এ দুজনের নাম আলোচিত হয়েছিল।

তবে এমন কিছু জানেন না জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ রকম কিছু আমি শুনিনি। বর্তমান উপাচার্যকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে কী না তাও আমার জানা নেই।’

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?
শাবির ফটকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের অবরোধ। ছবি: নিউজবাংলা

উপাচার্যের দায়িত্ব দিলে গ্রহণ করবেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তুলসী দাস বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ সরকারের বিষয়। এ বিষয়ে আমার কিছুই বলার নেই।’

নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলামও। তিনি বলেন, ‘একজন উপাচার্য দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি চলে যাবেন বলে কিছু আমি শুনিনি। নতুন উপাচার্যের ব্যাপারে কোনো আলোচনাও আমি শুনিনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে নেয়া হতে পারে বা তিনি পদত্যাগ করতে পারেন এমন আলোচনা রয়েছে। তাকে সম্মানজনকভাবে সরানোর পথ হয়তো খোঁজা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককেই উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়াটা ভালো। বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সবকিছু জানা থাকলে তার পক্ষে পরিচালনা করাটা সহজ।’

ওই শিক্ষক বলেন, ‘উপাচার্য হিসেবে যে দুজন শিক্ষকের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা শিক্ষকদের আওয়ামীপন্থি একটি প্যানেলের নেতা। যদিও আনোয়ারুল হক ট্রেজারারের দায়িত্ব নেয়ার পর আর সরাসরি কোনো বলয়ের সাথে যুক্ত নন। তবে আগে এই প্যানেলে সক্রিয় ছিলেন। একটি বলয়ের নেতা হওয়ায় তাদের পক্ষে সার্বজনীন হয়ে ওঠা কতোটা সম্ভব হবে এবং অন্য প্যানেলের শিক্ষকরাইবা কতোটা মেনে নেবেন এ নিয়ে সন্দেহ আছে।’

কে নতুন উপাচার্য হতে পারেন, এটি এখনকার আলোচ্য বিষয় নয় বলে উল্লেখ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘আমরা চাই উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। তাকে আর একদিনও আমরা ক্যাম্পাসে দেখতে চাই না। এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?

২০১৭ সালের আগস্টে প্রথম দফায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ২০২১ সালের ৩০ জুন উপাচার্য পদে তাকে তিন বছরের জন্য পুনর্নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।

৫০ বছরে মাত্র একবারই উপাচার্য অপসারণ

উপাচার্য নিয়োগ বা অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হলেও অপসারণের নজির খুব একটা নেই। দেশের ৫০ বছরে ইতিহাসে একজন উপাচার্যকে অপসারণ করা হয়েছিল।

সেটাও তিন দশক আগের কথা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীনকে ১৯৯২ সালে তৎকালিন বিএনপি সরকারের আমলে ছাত্র শিবিরের আন্দোলনের মুখে অপসারণ করেন রাষ্ট্রপতি।

তবে পদত্যাগের উদাহরণের সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শাসনের গত ১৩ বছরে পাঁচ জন উপাচার্য পদত্যাগ করেছেন। তাদের সবাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন।

২০০৮-এ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠনের পরপরই উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে মুখর হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তখন ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ওই সময়ের উপাচার্য এস এম এ ফায়েজ।

২০১২ সালে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে খুন হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী জুবায়ের আহমেদ। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য শরীফ এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে এ আন্দোলনে যুক্ত হন শিক্ষক-কর্মচারীরাও। সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে এক পর্যায়ে শরীফ এনামুল কবির পদত্যাগ করে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন ডাকেন।

উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেলেও তাকে আর নিয়োগ দেননি রাষ্ট্রপতি। সে সময় নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। ছবি: ফেসবুক

বছর না গড়াতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আবারও উত্তাল হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সে সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় সবপন্থি শিক্ষক মিলে গড়ে তোলেন আন্দোলনে। এক পর্যায়ে ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর পদত্যাগ করেন অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।

২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ বলে গালি দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে পড়েন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য এস এম ইমামুল হক। ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ওই বছরের ১১ এপ্রিল ছুটিতে যান তিনি। ২৭ মে চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ছুটিতেই ছিলেন।

২০১৯ সালেই আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার ঘটনায় উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন তিনি।

শাবিতে আন্দোলনের শুরু যেভাবে

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ সে সময় সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছোড়ে। এ ঘটনায় পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অর্ধশত আহত হন।

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?

সে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন নামেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, উপাচার্যই পুলিশ ডেকে তাদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন। এ কারণে তারা উপাচার্যের পদত্যাগ চান। বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ ছিলেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

১৯ জানুয়ারি বেলা ৩টা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী।

দাবি আদায়ে সাবেক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের আশ্বাসে ২৬ জানুয়ারি অনশন ভাঙ্গেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে এবার পোশাক কারখানায় আগুন
সদর হাসপাতালে আগুনে আতঙ্ক
আগুনে পুড়ল আসবাব কারখানা, ২ মরদেহ উদ্ধার
‘আগুন নেভার পর দেখি কিছু নেই’
নিউ ইয়র্কে ভবনে আগুন, ৯ শিশুসহ নিহত ১৯

শেয়ার করুন

রাষ্ট্রের বিরোধিতা শুরু করেছে বিএনপি: রেজাউল

রাষ্ট্রের বিরোধিতা শুরু করেছে বিএনপি: রেজাউল

সাভারে বিএলআরআইএর ওয়ার্কশপ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি কোনো কিছুর ভেতরেই ভালো কিছু খুঁজে পায় না। আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিএনপি এখন রাষ্ট্রের বিরোধিতা করা শুরু করেছে। এটা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।’

আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিএনপি এখন রাষ্ট্রের বিরোধিতা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআইএ) বার্ষিক রিসার্চ রিভিউ ওয়ার্কশপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি কোনো কিছুর ভেতরেই ভালো কিছু খুঁজে পায় না। আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিএনপি এখন রাষ্ট্রের বিরোধিতা করা শুরু করেছে। এটা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।

‘তারা প্রথম বলছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন করতে হবে। আমরা তখন বলেছিলাম আইন করতে সময় লাগতে পারে। এখন সংসদে যখন এই আইন পাস করা হচ্ছে, তখন বলছে এত তড়িঘড়ি করা ঠিক হলো না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি বিশ্বে আটটি ফার্ম নিয়োগ করেছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য। এখানে টাকা বিনিয়োগ করা মানে রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। এ কারণে বিএনপির অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট প্রসঙ্গে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের ভবিষ্যৎ, নিশ্চয়ই তাদের যৌক্তিক দাবি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার মেনে নেবে। তবে কখনও কখনও শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে ভর করে বিরোধী রাজনৈতিক দল বা কিছু কিছু লোক।’

বিএলআরআইএ মহাপরিচালক ড. এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে এবার পোশাক কারখানায় আগুন
সদর হাসপাতালে আগুনে আতঙ্ক
আগুনে পুড়ল আসবাব কারখানা, ২ মরদেহ উদ্ধার
‘আগুন নেভার পর দেখি কিছু নেই’
নিউ ইয়র্কে ভবনে আগুন, ৯ শিশুসহ নিহত ১৯

শেয়ার করুন

অটোরিকশায় বাসচাপা: নিহত বেড়ে ৬

অটোরিকশায় বাসচাপা: নিহত বেড়ে ৬

বগুড়ার শেরপুরে বাসে পিষ্ট হয় অটোরিকশা। ছবি: নিউজবাংলা

দুর্ঘটনায় নিহত অটোরিকশাচালকের ভাই সেলিম উদ্দিন বাসচালককে আসামি করে শেরপুর থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বানিউল।

বগুড়ার শেরপুরে অটোরিকশায় বাসচাপার ঘটনায় আরেক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত বেড়ে হয়েছে ৬।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক বানিউল আনাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সবশেষে যিনি মারা গেলেন তিনি হলেন নীল রতন কুমার পাল। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি শাজাহানপুর উপজেলার ডেমাজানী গ্রামে।

দুর্ঘটনায় নিহত অটোরিকশাচালকের ভাই সেলিম উদ্দিন বাসচালককে আসামি করে শেরপুর থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বানিউল।

উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের রাণীরহাট মোড় এলাকায় বুধবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউস পরিদর্শক নাদির হোসেন।

তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া হানিফ পরিবহনের বাসটি বগুড়ায় যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের মির্জাপুর আমবাগান এলাকায় বিপরীত দিক থেকে যাওয়া অটোরিকশাটিকে বাসটি চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে নিহত হন পাঁচজন।

তারা হলেন জেলার ধুনট উপজেলার শ্যামগাতী গ্রামের হৃদয় হাসান ও তার স্ত্রী সাফিয়া খাতুন, শেরপুর উপজেলার ধড়মোকাম গ্রামে অটোরিকশাচালক বাবলু প্রামাণিক, একই উপজেলার চোমরপাথালিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও আব্দুল রহিম।

পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বানিউল জানান, বাসচালক ও সহকারীকে এখনও পাওয়া যায়নি। মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে এবার পোশাক কারখানায় আগুন
সদর হাসপাতালে আগুনে আতঙ্ক
আগুনে পুড়ল আসবাব কারখানা, ২ মরদেহ উদ্ধার
‘আগুন নেভার পর দেখি কিছু নেই’
নিউ ইয়র্কে ভবনে আগুন, ৯ শিশুসহ নিহত ১৯

শেয়ার করুন

আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নির্বাচনি ক্যাম্প ‘ভাঙচুর’

আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নির্বাচনি ক্যাম্প ‘ভাঙচুর’

থানার এসআই গোলাম মোস্তফা জানান, দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। তবে কা‌রও নির্বাচনি ক্যাম্প বা দোকানপাট ভাঙচুর হয়েছে কি না তা জানা নেই। কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

ব‌রিশালের মেহে‌ন্দীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ‌ সময় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ক্যাম্প ও ব‌্যবসাপ্রতিষ্ঠা‌ন ভাঙচুরের অ‌ভিযোগ উঠেছে।

মেহেন্দীগঞ্জের উলা‌নিয়ার কা‌লীগঞ্জ বাজারে বৃহস্প‌তিব‌ার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

মেহেন্দীগঞ্জ থানা পু‌লিশের পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সংঘর্ষ হয়েছে নৌকার প্রার্থী মিলন চৌধুরী ও বিদ্রোহী প্রার্থী তারেক সরদারের লোকজনের মধ্যে।

বাজারের এক দোকানি সেন্টু মাঝি বলেন, ‘তারেক সরদারের ২০০ লোক রামদা ও লঠিসোঁটা নিয়ে কালীগঞ্জ বাজারে এলে লোকজন ভয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। তারা মিলন চৌধুরীর নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করেছে। আমার দোকানের ফল লুট করেছে, আমাকে মারধর করা হয়েছে।’

দ‌ক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়ন প‌রিষদ নির্বাচনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মিলন চৌধুরী বলেন, ‘জোড়া খুনের মামলার আসামি তারেক সরদারের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা বৃহস্পতিবার সকালে ভোলা থেকে ট্রলারে উলানিয়ায় আসে। ফেরার পথে কালীগঞ্জ বাজারে আমার নির্বাচনি কার্যালয় এবং আমার সমর্থক মানিক মাঝির বসতঘর ও সেন্টু মাঝির ফলের দোকান ভাঙচুর করেছে তারা।’

তারেক সরদারকে অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পাওয়া যায়নি মোবাইল ফোনে।

তার মামা হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, ‘তারেক হামলা করে‌নি, তারেকের ওপর হামলা করেছে মিলন চৌধুরীর লোকজন। এখন মিথ‌্যা রটাচ্ছে সাংবা‌দিকদের কাছে। তারেক অনেক‌ দিন পর এলাকায় এসেছে, তাই প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছে‌ তার লোকজন।’

থানার এসআই গোলাম মোস্তফা জানান, দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। তবে কা‌রও নির্বাচনি ক্যাম্প বা দোকানপাট ভাঙচুর হয়েছে কি না তা জানা নেই। কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

উত্তর ও দক্ষিণ উলানিয়ার নির্বাচনের দিন নির্ধা‌রিত ছি‌ল ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর। তবে ওই দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে একা‌ধিক সংঘর্ষের কারণে ৬ ডিসেম্বর নির্বাচন স্থ‌গিত করা হয়।

২০২১ সালের ১০ এ‌প্রিল দ‌ক্ষিণ উলা‌নিয়ায় সংঘর্ষে দুজন নিহত হন, আবার উত্তর উলা‌নিয়ায় ২০ মে বিয়েবা‌ড়িতে সংঘর্ষে নিহত হন আরও দুজন।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে এবার পোশাক কারখানায় আগুন
সদর হাসপাতালে আগুনে আতঙ্ক
আগুনে পুড়ল আসবাব কারখানা, ২ মরদেহ উদ্ধার
‘আগুন নেভার পর দেখি কিছু নেই’
নিউ ইয়র্কে ভবনে আগুন, ৯ শিশুসহ নিহত ১৯

শেয়ার করুন

কলেজে যোগদানে শিক্ষককে অধ্যক্ষের বাধা

কলেজে যোগদানে শিক্ষককে অধ্যক্ষের বাধা

হুমায়ুন জানান, ২০০৬ সাল থেকে তিনি ওই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ছিলেন। মিথ্যা অভিযোগ তুলে ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করেন অধ্যক্ষ আনিসুর।

শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশের পরও এক শিক্ষককে কলেজে যোগ দিতে বাধা দিয়েছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার গোপালনগর আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ।

হুমায়ুন কবির নামে ওই শিক্ষক জানান, মিথ্যে অভিযোগ তুলে তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। শিক্ষাবোর্ডের তদন্তে অভিযোগ খারিজ হয়। এরপর শিক্ষাবোর্ড থেকে তাকে কলেজে যোগ দেয়ার নির্দেশনা আসে। তারপরও অধ্যক্ষ তাকে বৃহস্পতিবার কলেজ থেকে বের করে দেন।

তবে অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান সোহেল জানান, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগ আছে বলে কলেজের গর্ভনিং বডি তাকে বহিষ্কার করেছে।

হুমায়ুন জানান, ২০০৬ সাল থেকে তিনি ওই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ছিলেন। মিথ্যা অভিযোগ তুলে ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করেন অধ্যক্ষ আনিসুর।

সেই অভিযোগে মামলাও হয়, যা তদন্ত শেষে খারিজ হয়ে যায়। এরপর তিনি বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে ২০১৯ সালে একটি এবং ২০২০ সালে আরেকটি রিট করেন।

উচ্চ আদালত কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডকে ৩০ দিনের মধ্যে বহিষ্কারাদেশ তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলে। শিক্ষাবোর্ডের তদন্তের পর গত ১৩ জানুয়ারি তার বহিষ্কারাদেশ বিধিবহির্ভূত ঘোষণা করে। একইসঙ্গে তাকে স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশ দেয়।

হুমায়ুন আরও জানান, এই নির্দেশনার পরও তাকে কলেজে যোগ দিতে বাধা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান সোহেল জানান, হুমায়ুন আরও দুইটি কলেজে চাকরি করছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগও আছে। তাই গভর্নিং বডি তাকে বহিষ্কার করেছে। বোর্ডের তদন্তেও সেটা প্রমাণিত হয়েছে।

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুছ সালাম বলেন, ‘অধ্যক্ষের বক্তব্য পুরোপুরি মিথ্যাচার। বোর্ডের রায়ে হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

‘কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত করতে হলে বোর্ডের অনুমতি প্রয়োজন। গভর্নিং বডি ও অধ্যক্ষ তা না করে সরাসরি তাকে বহিষ্কার করে। এটা নিয়মের লঙ্ঘন। আমরা প্রয়োজনে ওই কমিটি ভেঙে দেব। হুমায়ুন কবির চাইলে আইনি প্রক্রিয়ায় এগুতে পারেন। আমাদের সিদ্ধান্ত, হুমায়ুন কবির স্বপদে বহাল থাকবেন।’

ব্রাহ্মণপাড়ার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল রানা বলেন, ‘যদিও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বোর্ড থেকে কোনো চিঠি পাইনি, তারপরও আমি বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবিরের চাকরিতে যোগদানে সমস্যা নেই। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যদি ওই শিক্ষকের সঙ্গে অন্যায় হয়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে এবার পোশাক কারখানায় আগুন
সদর হাসপাতালে আগুনে আতঙ্ক
আগুনে পুড়ল আসবাব কারখানা, ২ মরদেহ উদ্ধার
‘আগুন নেভার পর দেখি কিছু নেই’
নিউ ইয়র্কে ভবনে আগুন, ৯ শিশুসহ নিহত ১৯

শেয়ার করুন

যেভাবে পাল্টে গেলেন মিম ও বিন্দু

যেভাবে পাল্টে গেলেন মিম ও বিন্দু

নিজের কর্মস্থলে বিন্দু ও মিম। ছবি: নিউজবাংলা

বিন্দু বলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার হয়েও সমাজের প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে পরিবার নিয়ে এখন সুখে আছি। এই সুযোগ করে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সুবিধাবঞ্চিত নারীদের এখন থেকে বিনা মূল্যে বিউটিশিয়ান হওয়ার প্রশিক্ষণ দেব।’

ট্রান্সজেন্ডার বিন্দু ও মিম জীবনের বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ সফল উদ্যোক্তা। নিজেদের দক্ষতা আর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় সমাজে আজ তারা প্রতিষ্ঠিত।

জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা থেকে এবার অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বিউটিশিয়ান বিন্দু ও মিম। জানিয়েছেন, সুবিধাবঞ্চিত নারীদের তারা বিনা মূল্যে দেবেন বিউটিশিয়ান হওয়ার প্রশিক্ষণ।

নরসিংদীর মাধবদীতে বিন্দু ও মিমের পরিচালিত প্রতিষ্ঠান- ‘ত্রিনয়ন রূপশিল্প’-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে এ ঘোষণা দেন তারা।

মাধবদী পৌর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে অর্ধশতাধিক নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে কেক কেটে উদযাপন করেন সাফল্যের এক বছর।

মাধবদী থানা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের প্রচেষ্টায় নরসিংদীর তৎকালীন প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাছলিমা আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ আলম মিয়ার সার্বিক সহযোগিতায় গত বছরের জানুয়ারিতে এই পার্লারটি গড়ে ওঠে।

মূলত ট্রান্সজেন্ডারদের জীবনমান উন্নয়নে কর্মমুখী প্রকল্পে তাদের অন্তর্ভুক্তি করার অংশ হিসেবে এ কাজটি করেন তারা।

মাধবদী পৌর শহরের বড় মসজিদ রোডে অবস্থিত ইসলাম প্লাজার বিউটি পার্লারটি অল্প সময়ে সুনাম কুড়িয়েছে ব্যাপক।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেয়া বক্তব্যে আপ্লুত কণ্ঠে বিন্দু বলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার হয়েও সমাজের প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিতে পরিবার নিয়ে এখন সুখে আছি। এই সুযোগ করে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সুবিধাবঞ্চিত নারীদের এখন থেকে বিনা মূল্যে বিউটিশিয়ান হওয়ার প্রশিক্ষণ দেব।’

ত্রিনয়ন রূপশিল্পের নিয়মিত গ্রাহক এবি ব্যাংক মাধবদী শাখার ব্যবস্থাপক সুমি আক্তার। তিনি বলেন, ‘মাধবদী থেকে এখন আর রাজধানীতে যেতে হচ্ছে না। এখানে রাজধানীর মতো রূপচর্চার সেবা পাচ্ছি। এটা আমাদের মতো নারী উদ্যোক্তাদের গর্ব ও অহংকার।’

মাধবদী থানা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আল-আমিন বলেন, ‘দেশে অনেক অবহেলিত মানুষ আছেন। বিত্তবানরা তাদের পাশে দাঁড়ালে মিম ও বিন্দুর মতো অনেকের জীবন পাল্টে যাবে।’

যেভাবে হলো বিন্দু-মিমের পুনর্বাসন

ট্রান্সজেন্ডার রত্না শেখ ওরফে বিন্দুর বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। আর মিম আক্তারের বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার কিসমত বানিয়াদী গ্রামে।

প্রায় ১১ বছর আগে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ি ছেড়ে দেন মিম। পরে কিছুদিন ঢাকায় অবস্থানের পর অবৈধ পথে ভারতে চলে যান তিনি। সেখানে পরিচয় হয় মুন্সিগঞ্জের রত্না ওরফে বিন্দুর সঙ্গে। এরপর সেখানে রূপচর্চার প্রশিক্ষণ নিয়ে ফেরেন দেশে।

বিন্দুকে নিয়ে নিজ বাড়ি নরসিংদীতে আসেন মিম। তবে এতে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা আরও বেড়ে যায়। বাধ্য হয়ে আবারও বাড়ি ছাড়া হন তারা। ট্রান্সজেন্ডার অনেকের মতো বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা সংগ্রহ শুরু করেন তারা।

যেভাবে পাল্টে গেলেন মিম ও বিন্দু

সমাজ বিষয়টিকে ভালোভাবে নিতে পারেনি। এক রাতে মিমের বাড়ি ঘেরাও করেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে তাদের।

তাদের এই অসহায়ত্ব দেখে এগিয়ে আসেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাদের প্রচেষ্টায় বিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। এগিয়ে আসেন তারাও। উদ্যোগ নেন তাদের পুনর্বাসনের।

জেলা প্রশাসনের অর্থায়ন আর সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে শহরের কেন্দ্রে একটি বিউটি পার্লার গড়ে তোলা হয় মিম ও বিন্দুর জন্য।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে এবার পোশাক কারখানায় আগুন
সদর হাসপাতালে আগুনে আতঙ্ক
আগুনে পুড়ল আসবাব কারখানা, ২ মরদেহ উদ্ধার
‘আগুন নেভার পর দেখি কিছু নেই’
নিউ ইয়র্কে ভবনে আগুন, ৯ শিশুসহ নিহত ১৯

শেয়ার করুন

‘রাজনীতির চেয়ে সম্প্রীতি বড়’

‘রাজনীতির চেয়ে সম্প্রীতি বড়’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির ভোট চলাকালে বৃহস্পতিবার কোর্ট চত্বরে আড্ডা জমে ওঠে আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতাদের। ছবি: নিউজবাংলা

কোর্ট চত্বরে চায়ের আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, সহসভাপতি তাজ মো. ইয়াসিন ও হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমানসহ দুই দলের শীর্ষ নেতারা।

উৎসবমুখর পরিবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

আইনজীবীদের এই ভোট উৎসবে যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কোর্ট চত্বর দুপুর ১২টার দিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।

জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে চা-পানের আড্ডায় খোশগল্পে মেতে ওঠেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের আড্ডার ছবি ছড়িয়েছে ফেসবুকে। নানা মহলে চলছে আলোচনা।

ওই চায়ের আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, সহসভাপতি তাজ মো. ইয়াসিন ও হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী মন্টু ও গোলাম মহিউদ্দিন খান খোকন।

আর বিএনপির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, সদস্য সিরাজুল ইসলাম, আলী আজমসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি বলেন, ‘রাজনীতি হচ্ছে একটি প্ল্যাটফর্ম। তবে সামাজিক সম্প্রীতিটাই হচ্ছে বড়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগে এমন সামাজিক সম্প্রীতি ছিল। অভ্যন্তরীণ কারণে এটি নষ্ট হয়ে গেছে। আজ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে সম্প্রীতি দেখা গেছে, তা বজায় থাকুক।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার বলেন, ‘এটাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সম্প্রীতির রাজনীতির ঐতিহ্য। দলীয় কার্যক্রমের বাইরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের বন্ধন রয়েছে। দিন শেষে আমরা একই জেলার বাসিন্দা।’

তবে দলীয় চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে নেতাদের এ ধরনের আড্ডার সমালোচনা করছেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে এবার পোশাক কারখানায় আগুন
সদর হাসপাতালে আগুনে আতঙ্ক
আগুনে পুড়ল আসবাব কারখানা, ২ মরদেহ উদ্ধার
‘আগুন নেভার পর দেখি কিছু নেই’
নিউ ইয়র্কে ভবনে আগুন, ৯ শিশুসহ নিহত ১৯

শেয়ার করুন