সিটি করপোরেশনের আড়াই কোটি টাকা জাহাঙ্গীরের পকেটে

player
সিটি করপোরেশনের আড়াই কোটি টাকা জাহাঙ্গীরের পকেটে

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদ্য সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ফাইল ছবি

প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়াই গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। তাতে পে-অর্ডারের মাধ্যমে ২ কোটি ৬০ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৫ টাকা জমা হয়। এরপর ছয়টি চেকের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেয়া হয় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর কোনো হিসাবই সিটি করপোরেশনের রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করা হয়নি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সদ্য বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।

২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রিমিয়ার ব্যাংকের কোনাবাড়ি শাখায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নামে একটি চলতি হিসাব খোলেন জাহাঙ্গীর আলম। যার হিসাব নম্বর: ০৩৫১১১০০০০০৫৭৮।

নথিপত্র অনুযায়ী সিটি করপোরেশনে যে টাকা জমা পড়ার কথা, সেই টাকা জমা পড়েছে এই ব্যাংক হিসাবে। সেই টাকা তুলে নেয়া হয়েছে, যার একটি পয়সাও করপোরেশনের নথিতে তোলা হয়নি।

বিভিন্ন সময় অ্যাকাউন্টটিতে পে-অর্ডারের মাধ্যমে ২ কোটি ৬০ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৫ টাকা জমা হয়। এরপর ছয়টি চেকের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেয়া হয় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর কোনো হিসাবই সিটি করপোরেশনের রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করা হয়নি।

এই ব্যাংক হিসাব খুলতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেননি জাহাঙ্গীর। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বারবার তাগাদা দিলে তিনি করোনার অজুহাত দেখান। পরে ব্যাংক নিজে থেকে ব্যাংক হিসাবটি বন্ধ করে দিয়ে সাড়ে আট হাজার টাকা তাকে দিয়ে দেয়।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।

নথিপত্রে দেখা যায়, ব্যাংক হিসাবে মোবাইল নম্বর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে জাহাঙ্গীরের ব্যক্তিগত নম্বর। ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের। এক বছর তিন দিন চালু ছিল হিসাবটি।

তবে জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, এই হিসাব তিনি খোলেননি। তাকে ফাঁদে ফেলতে একটি চক্রের কাজ। তিনি কাউকে চেক দেননি। কাউকে ব্যাংকে পাঠাননি।

যদিও ব্যাংক ম্যানেজার বলেছেন উল্টো কথা। তিনি জানান, টাকা ছাড় করানোর আগে যার নামে ব্যাংক হিসাব, তাকে ফোনও করা হয়েছে। তবে জাহাঙ্গীর ফোন পাওয়ার কথাও স্বীকার করতে চাননি।

ঘরোয়া আলোচনায় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার পর গত ১৯ নভেম্বর মেয়রের পদ হারান জাহাঙ্গীর। এরপর সিটি করপোরেশনে তার নানা অনিয়মের খবর আসতে থাকে গণমাধ্যমে।

কবে কত লেনদেন

হিসাবটি চালুর দিনই মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের পে-অর্ডারের মাধ্যমে ৪০ লাখ ২৫ হাজার টাকা জমা দেয় নগরীর কোনাবাড়িতে অবস্থিত ইস্পাহানি ফুডস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

কারখানা কর্তৃপক্ষ লে-আউট প্ল্যান অনুমোদনের ফি ও জরিমানা বাবদ ওই টাকা জমা দেয়। একই দিন অপর একটি পে-অর্ডারে জমা হয় আরও ৫০ লাখ টাকা।

ইস্পাহানি ফুডস লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা অবশ্যই গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে পে-অর্ডার দিয়েছি। পে-অর্ডার না দিলে তো আমরা লে-আউট প্ল্যান পেতাম না। আমাদেরকে পে-অর্ডার ফি ও জরিমানা বাবদ সিটি করপোরেশন থেকে যেভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেভাবেই দিয়েছি। আমরা মেয়র গাজীপুর সিটি করপোরেশন বরাবর পে-অর্ডার দিয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘নগর ভবনে গিয়ে মেয়রের কাছে পে-অর্ডারটি জমা দিই। পরে তিনি (মেয়র) একজন কর্মকর্তাকে ডেকে নিয়ে পে-অর্ডারটি জমা নিতে বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদেরকে একটি রিসিভ কপিও দেয়া হয়।

‘মেয়র যদি পে-অর্ডারটি রিসিভ না করতেন, তাহলে তো আমরা অনুমোদন পেতাম না। ফি জমা দেয়ার কিছুদিন পর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ি জোন থেকে ফোন করে লে-আউট অর্ডার অনুমোদন হয়েছে জানিয়ে সেটি নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়।’

একই বছরের ৫ মার্চ ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৪০৫ টাকার, ২৯ জুলাই ৮৫ লাখ ও ৬৭ লাখ ৪৪ হাজার ৫৯০ টাকার দুটি পে-অর্ডার জমা হয়।



সিটি করপোরেশনের আড়াই কোটি টাকা জাহাঙ্গীরের পকেটে


এই হিসাব থেকে ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৯৩৩২৮২৭ নম্বর চেকের মাধ্যমে শামীম হোসেন নামে একজনকে ৫০ লাখ টাকা দেন জাহাঙ্গীর আলম।

একই বছরের ৫ মার্চ ৯৩৩২৮২৮ নম্বর চেকের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা তোলেন জাহাঙ্গীর। ৬ আগস্ট ব্যক্তিগত কর্মচারী শহীদুলের মাধ্যমে ৫০৬১৯২ নম্বর চেকের মাধ্যমে এক কোটি টাকা, ১০ আগস্ট বাসার ব্যক্তিগত কর্মচারী প্লটু চাকমাকে দিয়ে ৫০৬১৯১ নম্বর চেকের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা এবং ১৮ ও ২০ আগস্ট ব্যক্তিগত কর্মচারী শহীদুলকে দিয়ে ৫০৬১৯৩ ও ৫০৬১৯৪ নম্বর চেকের মাধ্যমে যথাক্রমে ৩০ লাখ ও ২০ লাখ টাকা তোলা হয়।

সর্বশেষ লেনদেনের প্রায় ৭ মাস পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকার কারণ দেখিয়ে ২০২১ সালে ৩ মার্চ হিসাবটি বন্ধ করে দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

তখন হিসাবটিতে জমা ছিল আট হাজার ২৩৫ টাকা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আট হাজার পাঁচ টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলমকে ফেরত দিয়ে বাকি ২৩০ টাকা অ্যাকাউন্ট বন্ধের ফি হিসেবে কেটে নেয়।


হিসাব
খোলায় মানা হয়নি নিয়ম

নিয়ম অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে পরিষদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কারও ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহারের বিধান নেই। হিসাবটি এককভাবে পরিচালনা করতে হলে পর্ষদ সদস্যদের নিয়ে মাসিক সভা ডেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজ্যুলেশনের কপি ব্যাংককে জমা দিতে হয়। কিন্তু অ্যাকাউন্টটি খোলা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে এসব নিয়মের কোনোটাই মানা হয়নি।

এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি এসেছে। তারা বিভিন্ন বিষয় তদন্ত করে দেখছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে কথা বলব।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, ‘আমি দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অসংখ্য অনিয়মের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়গুলো যেহেতু মন্ত্রণালয় তদন্ত করছে, তাই এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’



সিটি করপোরেশনের আড়াই কোটি টাকা জাহাঙ্গীরের পকেটে


প্রিমিয়ার ব্যাংকের কোনাবাড়ি শাখার ব্যবস্থাপক এম মোর্শেদ খান বলেন, ‘হিসাবটি চালু ও বন্ধের সময় আমি এ শাখায় ছিলাম না। যেকোনো করপোরেশনের অ্যাকাউন্টে অবশ্যই দুজন অভিভাবক থাকতে হয়, এককভাবে হয় না। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করে তাদের রেজ্যুলেশনের ওপর। তাদের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় যেই সিদ্ধান্ত হয় তার ওপর। আমরা সেই সিদ্ধান্তের রেজ্যুলেশনের কপিও পাইনি। মূলত এই কারণেই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

এই ব্যাংক হিসাবে টাকা লেনদেন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকের নিয়ম অনুসারে এক টাকা পেমেন্ট দিতে হলেও কাস্টমারের অনুমতি নিয়ে দিতে হয়। এই অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও গ্রাহকের মোবাইল নম্বরে ফোন করে অনুমতি নিয়েই পেমেন্ট করা হয়েছে।’

জাহাঙ্গীরের দাবি, ফাঁদে পড়েছেন তিনি

নিউজবাংলার কাছে ব্যাংক হিসাব, লেনদেনের নথিপত্র থাকলেও এর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘অ্যাকাউন্টটি আমার না। আমার নাম ব্যবহার করে, আমার ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে অ্যাকাউন্ট করে আমাকে ফাঁসানোর জন্য এটা করেছে।

‘যাদেরকে বলা হচ্ছে আমার ব্যক্তিগত কর্মচারী, তারাও আমার ব্যক্তিগত না। অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে রেজ্যুলেশন লাগে। আমার সরকারি স্বাক্ষর ও রেজ্যুলেশন না। আমি কোনো দিন ওই প্রতিষ্ঠানে (ব্যাংকে) যাইনি, ওই প্রতিষ্ঠানের কেউও আমার কাছে আসেনি।’

‘ব্যাংক অ্যাকাউন্টটিতে আপনার ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে’- এমন কথা শুনে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘যেকোনো মানুষ আমাদের নম্বর নেয়। ভোটার অফিসে আমার আইডি আছে, ইন্টারনেটে ছবি আছে। যে কেউ ইচ্ছে করলে এসব ব্যবহার করতে পারছে। বেকায়দায় পড়ে গেছি তো তাই সবাই বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে।’

ব্যাংক হিসাবে নম্বর দেয়া থাকায় টাকা পরিশোধের সময় তো ফোন দেয়ার কথা- এমন মন্তব্যে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমার সঙ্গে এ ব্যাপারে কোনো কথা হয়নি। আমার রেকর্ডিংটা নাকি দুই বছর আগেই করা হয়েছে। আমাকে ফাঁসিয়ে দেয়ার জন্য একটা চক্র পূর্ব থেকেই কাজ করছে। আমি তাদের ফাঁন্দে পড়েছি।’



সিটি করপোরেশনের আড়াই কোটি টাকা জাহাঙ্গীরের পকেটে


ব্যাংক নথি অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ লাখ টাকা আপনি নিজে উত্তোলন করেছেন- এই বিষয়টি বললে বহিষ্কৃত মেয়র বলেন, ‘ওই ব্যাংকে সিসি ক্যামেরা আছে। দেখেন আমি গেছি কি না সেখানে। আমি নিজে যদি টাকা উঠিয়ে থাকি তাহলে নিশ্চয়ই সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আমাকে দেখা যাবে।’

জাহাঙ্গীরের বক্তব্য নিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের কোনাবাড়ি শাখার সে সময়ের ব্যবস্থাপক (বর্তমানে আশুলিয়া শাখায় কর্মরত) মোতালেব হোসেনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

তিনি বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নামে অ্যাকাউন্টটি সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম খুলেছিলেন। অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে তার স্বাক্ষর, ছবি ও ন্যাশনাল আইডি কার্ড জমা নেয়া হয়। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় রেজ্যুলেশনের কপি চাওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পরেই দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হয়। এর ভেতর বেশ কয়েকটি লেনদেন হয়ে যায়। পরে ডকুমেন্ট ত্রুটির কারণে আমরা অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিই।’

তিনি জানান, এই ব্যাংক হিসাব নিয়ে সে সময় জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে তাদের একাধিক কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, “তিনি (জাহাঙ্গীর) কখনো ‘করোনা পরিস্থিতিতে মিটিং হয় না’, ‘মিটিং হবে’, ‘রেজ্যুলেশন দিচ্ছি-দেব’ বলে কালক্ষেপণ করেন। এরপরে আমরা আর কোন পে-অর্ডার জমা নিইনি।

“তারা অনেক চেষ্টা করেছিলেন পে-অর্ডার জমা দেয়ার। কিন্তু আমরা নিইনি। পরবর্তীতে এক প্রকার জোরপূর্বক ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিই।”

অ্যাকাউন্টটি খোলেনি বলে বহিষ্কৃত মেয়র যে দাবি করেছেন- সেই প্রশ্নে মোতালেব হোসেন বলেন, ‘পে-অর্ডারের মালিক কি আমি? আমার কাছে পে-অর্ডার আসবে কোথা থেকে। সে সময় তার লোকজনই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এখন যদি তিনি অস্বীকার করেন তাহলে সেটা চ্যালেঞ্জ করা হবে। তদন্ত করলেই আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে। সে সময় আমরা ব্যাংক থেকে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করেছিলাম, সেসব তো জানা যাবে।’

ব্যাংক ব্যবস্থাপক এও জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিতে জাহাঙ্গীর আলমের বাসায়ও গেছেন তিনি।

তিনি বলেন, “করোনা পরিস্থিতির সময় অন্তত ১০ দিন নগর ভবনে গিয়ে রেজ্যুলেশন হয়েছে কি না খবর নিয়েছি। মেয়রের বাসভবনে একাধিকবার গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ছিলাম। দোতলায় বসে থাকতাম দেখা করতেন না। অনেক সময় দেখা হলে বলতাম, ‘আমরা অনেক সমস্যায় আছি, ডকুমেন্টগুলো জমা দেন।'”

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা
তোপের মুখে জাহাঙ্গীর সমর্থক নেতারা
বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
জাহাঙ্গীরের নামে মামলা পঞ্চগড়েও
এবার জাহাঙ্গীরের নামে মাদারীপুরে মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘চিংড়ির কল্লা কাইট্টা চলে মোগো জীবন’

‘চিংড়ির কল্লা কাইট্টা চলে মোগো জীবন’

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের দাড়ছিড়া নদীর পাড়ে টাইগার চিংড়ির মাথা আলাদা করার কাজে ব্যস্ত নারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ভর দুপুরে খোলা আকাশের নিচে সকাল থেকে দুপুর, আবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি  ‘টাইগার চিংড়ির’ মাথা আলাদা করার কাজ করেন তুলাতলী গ্রামের চার সন্তানের জননী আসমা। মজুরি কম হওয়া সত্ত্বেও সংসারের চাকা সচল রাখতে অনেকটা বাধ্য হয়েই এই কাজ করতে হয় তার মতো অনেক নারীকে।

‘চিংড়ির কল্লা কাইট্যা মোগো জীবন চলে। কল্লাডা কাইট্টা গিরাস্তোরে (মালিক) দিই, আর গুঁড়াডা মোরা নিই। হেইডা বেইচ্চা দুই চাইর টাহা পাইয়া পুতোগো (পুত্র) লইয়া খাই। এই রহম কাজকম্ম হরি, কেজিতে ১০ টাহা পাই। আর গুঁড়াডা বেইচ্চা যা পাই হেইয়া লইয়াই জীবন চলে।’

পটুয়াখালীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের দাড়ছিড়া নদীর পাড়ে বসে নিউজবাংলাকে এভাবেই সংসার চালানোর সংগ্রামের কথা বলছিলেন আসমা বেগম।

ভর দুপুরে খোলা আকাশের নিচে সকাল থেকে দুপুর, আবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবধি ‘টাইগার চিংড়ির’ মাথা আলাদা করার কাজ করেন তুলাতলী গ্রামের চার সন্তানের জননী আসমা। মজুরি কম হওয়া সত্ত্বেও সংসারের চাকা সচল রাখতে অনেকটা বাধ্য হয়েই এই কাজ করতে হয় তার মতো অনেক নারীকে।

সাগরপাড়ের দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় কাজের অভাবে অনেকের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। জীবিকার তাগিদেই আসমা বেগমের মতো আরও অনেকে বেছে নিয়েছেন মাছ কাটার কাজ।

দাড়ছিড়া নদীর পাড়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৩০ থেকে অন্তত ৪০টি মাছবাহী ট্রলার সাগর থেকে পাড়ে এসে নোঙর করেছে। পাশেই খোলা আকাশের নিচে কয়েক শ নারী শ্রমিক পাতিল নিয়ে বসে আছেন।

‘চিংড়ির কল্লা কাইট্টা চলে মোগো জীবন’

পুরুষ শ্রমিকরা সেই ট্রলার থেকে মাছ উঠিয়ে তীরে ফেলছেন, আর নারীরা তা নিজেদের কাছে নিয়ে বাছাই শুরু করছেন। খালি হাতেই চিংড়ির মাথা ছিঁড়ে আলাদা করে রাখছেন। পরে চিংড়ির মূল অংশ সেখান থেকে খুলনা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। রপ্তানি করা হয় বিদেশেও।

স্থানীয়রা জানান, উপকূল এলাকার ৫ হাজারেরও বেশি নারী শ্রমিক মাছ বাছাই ও চিংড়ির মাথা ছেঁড়ার কাজ করে থাকেন। শুধু দাড়ছিড়া নদীই নয়। বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন মোহনায় বিশেষ করে রাঙ্গাবালী উপজেলার অনেক স্থানে এই ধরনের টাইগার চিংড়ির মাথা আলাদা করার কাজ চলে।

এ কাজে মজুরি খুব কম, সুযোগ-সুবিধাও নাই। কিন্তু উপায় নেই। চিংড়ির ‘কল্লা আলাদা’ করাই তাদের একমাত্র অবলম্বন। যেসব নারী এ কাজে জড়িত তাদের বেশির ভাগই বিধবা।

কথা হয় বড় বাইশদিয়া ইউনিয়নের তেলীপাড়া গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী সাফিয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, দুই বছর আগে তার স্বামী মারা গেছে। দুই সন্তান নিয়ে সংসার চলে না। তাই এখানে শ্রমিকের কাজ করেন।

সাফিয়ার দাবি, এখানকার নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি সময় ধরে কাজ করে। কাজের মধ্যে পুরুষেরা বিশ্রামের সুযোগ পেলেও নারীরা তেমন বিশ্রাম নেয় না, কিন্তু পুরুষ শ্রমিকরা যেই টাকা মজুরি পায়, তারা পায় তার অর্ধেক টাকা।

দাড়ছিড়া নদীর পাড়ে ভিড়ানো টাইগার চিংড়ি বোঝাই একটি ট্রলারের মালিক সবুজ খাঁ। সবে মাত্র সাগর থেকে এখানে এসে পৌঁছাল। কথা হয় সবুজের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘সাত-আট দিনের জন্য বরফ, তেল ও খাবারসহ ট্রলার লইয়া সাগরে যাই। এরপর জাল দিয়া মাছ ধরি। মাছ ধইরা কিনারে আই। হ্যারপর আড়ৎদারদের ধারে মাছ বিক্রি হরি। হেরাই মহিলাগো দিয়া কল্লা কাইটা খুলনা ঢাহা পাডায়।’

‘চিংড়ির কল্লা কাইট্টা চলে মোগো জীবন’

চিংড়ির মাথা আলগা করায় নারী শ্রমিকদের মজুরি কম দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সবুজ বলেন, ‘মহিলারা এই কাম ভালোভাবে করতে পারে। টাহাও কম দেয়া লাগে আবার হেরা কামও দ্রুত করে।’

সাগরে প্রতিনিয়ত শত শত ট্রলারে টাইগার চিংড়ি ধরা হয় বলে জানালেন বড় বাইশদিয়া ইউনিয়নের চিংড়ির আড়ৎদার রেজাউল করিম।

তিনি জানান, এ অঞ্চল থেকে চিংড়ি ক্রয় করে খুলনায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানকার ফ্যাক্টরিতে সেই চিংড়ি বিক্রি করা হয়। পরে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ধরনের প্রসেসিং করে সেই চিংড়ি বিদেশে রপ্তানি করে। বিশেষকরে বেলজিয়ামে সবচেয়ে বেশি যায় দক্ষিণাঞ্চলের এই টাইগার চিংড়ি।

রেজাউল করিম বলেন, সাইজের ওপর এই চিংড়ির দর ওঠা-নামা করে। সাধারণত ভাল সাইজের টাইগার চিংড়ি প্রতি মন ৭ থেকে ১০ হাজার টাকায় এখান থেকে ক্রয় করে খুলনা যশোর সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এই পেশায় জড়িত প্রায় অর্ধশত ব্যবসায়ী।

তবে চিংড়ির মাথা আলাদা করার জন্য নারী শ্রমিকদের কেন পারিশ্রমিক কম দেয়া হয়, তার সরাসরি কোনো জবাব দেননি এই আড়ৎদার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি শোভা রানী রায় বলেন, ‘মজুরি বৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলন দরকার। এ ছাড়া, নারীদের জন্য শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা দরকার। তাহলে নারী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায় নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’

‘চিংড়ির কল্লা কাইট্টা চলে মোগো জীবন’

সাস্টেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের বরিশাল বিভাগের উপ প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম জানান, যে চিংড়িগুলোর শরীরে বাঘের মত ডোড়াকাটা দাগ সেগুলো ‘টাইগার চিংড়ি’ নামে পরিচিত। এই মাছের বিদেশে প্রচুর চাহিদা। খুলনা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণে খরচ বেশি হওয়ায় এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা কম খরচে উপকূলের নারী শ্রমিকদের ব্যবহার করছেন।

তিনি বলেন, টাইগার চিংড়ি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ ছাড়াও চীন, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও জাপানে রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়ে থাকে। সাগরের ২০ থেকে ৩০ মিটার গভীরতায় এই চিংড়ির আধিক্য বেশি। বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর এই চিংড়ি সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, অপরিকল্পিত ও মানসম্পন্ন উপায়ে মাছের প্রক্রিয়াজাতকরণ না হলে বিদেশ থেকে ফেরত পাঠানো হয়। সেক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের উপকূলের এই পদ্ধতি ব্যবহার না করার পরামর্শ তার।

‘চিংড়ির কল্লা কাইট্টা চলে মোগো জীবন’

তিনি বলেন, ‘দেশের মৎস্য খাত থেকে বছরে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ৯০ ভাগই এই চিংড়ি থেকে। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা ইতোমধ্যে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী এবং কলাপাড়া উপজেলায় দুটি ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা করছি।

‘এটি নির্মিত হলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে এ অঞ্চলের নারী পুরুষ-শ্রমিকরা চিংড়ির প্রক্রিয়াজাতকরণ কাজ করতে পারবে। তখন আর বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি থাকবে না। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আমি মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে আবেদনও করেছি। হয়তো আগামী অর্থবছরে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে।’

উপকূলীয় এলাকার যেসব স্থানে মাছ বাছাইয়ের কাজ চলছে সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে, জায়গাগুলোতে পাকা করে শেল্টার, শেড নির্মাণ, পৃথক শৌচাগার, পানির ব্যবস্থার পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়া হবে জানান মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ। তার দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নারীদের জন্য শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা
তোপের মুখে জাহাঙ্গীর সমর্থক নেতারা
বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
জাহাঙ্গীরের নামে মামলা পঞ্চগড়েও
এবার জাহাঙ্গীরের নামে মাদারীপুরে মামলা

শেয়ার করুন

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পানি নিয়ে খুনাখুনি

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পানি নিয়ে খুনাখুনি

শ্যামনগর উপজেলার একটি স্থাপত্য। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মধুসুদনপুর খালের পানি মাছ চাষের জন্য ভাগাভাগি নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব সম্প্রতি তীব্র আকার ধারণ করে। এ নিয়ে শালিসের আয়োজন করা হলে সেখানেই ঘটে সংঘর্ষ।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর হাটখোলায় খালের পানি ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব নিরসনে শালিসি বৈঠক চলাকালে দুইপক্ষের সংঘর্ষে রহমত মল্লিক নামে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭ জন। পরে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে রহমত মল্লিকের মৃত্যু হয়।

নিহত রহমত মধুসুদনপুর গ্রামের মৃত দিরাজতুল্লাহ মল্লিকের ছেলে। আহতরা হলেন- মদুসুদনপুর গ্রামের মৃত নুরালী গাজীর ছেলে আয়ুব আলী, শফিকুল, রফিকুল, জমাত আলী, রেজাউল আলী, রফিকুল গাজীর ছেলে আলামিন ও মিজানুর মল্লিকের ছেলে মিয়ারাজ।

ভুরুলিয়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ জাফরুল আলম বাবু বলেন, ‘মাছ চাষ করার জন্য মধুসুদনপুর খালের পানি নিয়ে ইজারাদার ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ ছিল। ইজারাদার খালের পানি ব্যবহার করতে দিতে রাজি ছিলেন না। এ জন্য দুইপক্ষকে নিয়ে মীমাংসার জন্য শালিস ডাকা হয়। শালিসে বক্তব্য শুনানিকালে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।’

ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার হোসেন আলী বলেন, ‘ঘের ও ইরি ধান করার জন্য সমবায় সমিতির খালের পানি ব্যবহার নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। শালিসে আমি ও চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলাম।’

নিহত রহমত মল্লিক খালের পানি তার জমিতে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন বলে জানান হোসেন আলী।

আহত আলামিন বলেন, ‘খালটা নিয়ে বেশ কিছুদিন ঝামেলা চলছিল। চেয়ারম্যান উভয়পক্ষকে ডেকে বিচার করার সময় আমাদের উপর হামলা হয়। এতে আমার আব্বা এবং আমিসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছি।’

শ্যামনগর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষে নিহত রহমত মল্লিকের ভাই মিজানুর রহমান মল্লিক ইতোমধ্যেই ২৬ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহতের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা
তোপের মুখে জাহাঙ্গীর সমর্থক নেতারা
বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
জাহাঙ্গীরের নামে মামলা পঞ্চগড়েও
এবার জাহাঙ্গীরের নামে মাদারীপুরে মামলা

শেয়ার করুন

লরিচাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত

লরিচাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর জানান, চট্টগ্রামমুখী লরির চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীদের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। মরদেহ থানায় নেয়া হয়েছে। লরি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় চালককে আটক করা যায়নি।

কুমিল্লায় লরিচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার আলেখারচর বিশ্বরোডের আমতলী এলাকায় শনিবার বেলা ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ২৫ বছর বয়সী রুবেল হোসেন ও ২২ বছর বয়সী শাওন তকি। তাদের বাড়ি আমতলী এলাকায়।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, চট্টগ্রামমুখী লরির চাপায় মোটরসাইকেল আরোহীদের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। মরদেহ থানায় নেয়া হয়েছে। লরি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় চালককে আটক করা যায়নি। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা
তোপের মুখে জাহাঙ্গীর সমর্থক নেতারা
বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
জাহাঙ্গীরের নামে মামলা পঞ্চগড়েও
এবার জাহাঙ্গীরের নামে মাদারীপুরে মামলা

শেয়ার করুন

রাস্তা নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫০

রাস্তা নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫০

বানিয়াচংয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, বাড়িতে যাতায়াতের একটি রাস্তা নিয়ে ওই গ্রামের মিজানুর রহমানের সঙ্গে ওয়াহিদ মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে সকালে দুই পক্ষ কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রামগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, বাড়িতে যাতায়াতের একটি রাস্তা নিয়ে ওই গ্রামের মিজানুর রহমানের সঙ্গে ওয়াহিদ মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে সকালে দুই পক্ষ কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

একপর্যায় পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় সংঘর্ষ থামায়। আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় শাহিদ মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মিয়াধন মিয়া, মোতাহের হোসেন, রুবেল মিয়া, আব্দুল্লাহ, দাইমুদ্দীন, ওয়াহদুজ্জামান ও মনুরা বেগম।

বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরান হোসেন জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা
তোপের মুখে জাহাঙ্গীর সমর্থক নেতারা
বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
জাহাঙ্গীরের নামে মামলা পঞ্চগড়েও
এবার জাহাঙ্গীরের নামে মাদারীপুরে মামলা

শেয়ার করুন

ববিতে সশরীরে চলবে পরীক্ষা, খোলা থাকবে হল

ববিতে সশরীরে চলবে পরীক্ষা, খোলা থাকবে হল

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

প্রক্টর ড. মো. খোরশেদ আলম জানান, শিক্ষার্থীদের সেশনজট ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কার্যক্রম অনলাইনে হবে। তবে ঘোষিত বা চলমান সেমিস্টার/বর্ষ ফাইনাল, ল্যাব পরীক্ষাগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে আপাতত সশরীরে হবে।

আবাসিক হল চালু রেখে সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জরুরি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় শনিবার বেলা ১১টায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

এ সময় ঘোষিত ও চলমান সেমিস্টার, বর্ষ ফাইনাল এবং ল্যাব পরীক্ষা সশরীরে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. খোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সেশনজট ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কার্যক্রম অনলাইনে হবে। তবে ঘোষিত বা চলমান সেমিস্টার/বর্ষ ফাইনাল, ল্যাব পরীক্ষাগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে আপাতত সশরীরে হবে।

সভায় জানানো হয়, মিডটার্ম পরীক্ষা ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে হবে। পরে মিডটার্মের বিষয়ে বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে।

এ ছাড়া আবাসিক হল খোলা থাকবে। পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন সেবাও চালু থাকবে। প্রথম বর্ষে ভর্তি কার্যক্রম যথারীতি চলবে। ক্লাস কার্যক্রমের বিষয়ে পরে জানিয়ে দেয়া হবে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন ও শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো মাথায় রেখে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব সিদ্ধান্ত নেয়।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার থেকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেয় সরকার। এদিন সংক্রমণ রোধে পাঁচটি জরুরি নির্দেশনা জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা
তোপের মুখে জাহাঙ্গীর সমর্থক নেতারা
বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
জাহাঙ্গীরের নামে মামলা পঞ্চগড়েও
এবার জাহাঙ্গীরের নামে মাদারীপুরে মামলা

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে অনলাইনে ক্লাস, পরীক্ষা সশরীরে

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে অনলাইনে ক্লাস, পরীক্ষা সশরীরে

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আখতার শনিবার বলেন, ‘শুক্রবার রাতে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস চললেও পরীক্ষা সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।’

দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে (চমেক) সশরীরে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ করে অনলাইনে পাঠদান শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার থেকে অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে।

অনলাইনে ক্লাস চললেও পরীক্ষা সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজবাংলাকে চমেকের অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আখতার শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাতে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।

‘অনলাইনে ক্লাস চললেও পরীক্ষা সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এই নির্দেশনা শুক্রবার থেকে থেকেই কার্যকর হয়।

এ ছাড়া আরও চারটি নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এতে আরও বলা হয়েছে, স্কুল-কলেজের মতো এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সমাবেশ বা অনুষ্ঠানসমূহে ১০০ জনের বেশি জনসমাগম করা যাবে না।

এসব ক্ষেত্রে যারা যোগদান করবেন তাদের অবশ্যই করোনা প্রতিরোধী টিকা সার্টিফিকেট বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরটি পিসিআর টেস্টের ফল সাথে আনতে হবে।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা
তোপের মুখে জাহাঙ্গীর সমর্থক নেতারা
বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
জাহাঙ্গীরের নামে মামলা পঞ্চগড়েও
এবার জাহাঙ্গীরের নামে মাদারীপুরে মামলা

শেয়ার করুন

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অমরণ অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার থেকে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজনের বাবা হার্ট অ্যাটাক করায় তিনি চলে গেছেন। এখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে আছেন ১১ জন। তাদেরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সবার স্যালাইন চলছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিন শিক্ষার্থী আবারও ক্যাম্পাসে এসে অনশনে যোগ দিয়েছেন।

হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন আছেন ১২ শিক্ষার্থী। তারা সেখানেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার থেকে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজনের বাবা হার্ট অ্যাটাক করায় তিনি চলে গেছেন। এখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনে আছেন ১১ জন। তাদেরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সবার স্যালাইন চলছে।

অনশনরত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের একটি দল। এই দলের সদস্য নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘শীতেই বেশি কাতর হয়েছেন অনশনকারীরা। তাদের অনেকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। জ্বরও আসছে। এ ছাড়া পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে।’

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার বিরুদ্ধে খাবারের খারাপ মান, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তারা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

এরপর মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ।

বিকেলে তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। শিক্ষার্থীরাও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। এরপর পুলিশ উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায়।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর রোববার অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রোববার রাতে উপাচার্য ফরিদ প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগের বিষয়টি জানান। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে নামেন।

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


এর মাঝে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীকে আসামি করে সোমবার রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানায় মামলা করে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য পুলিশকে সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগের সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে এ দাবি মানা না হলে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ আন্দোলন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল করেন।

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরাতে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে একাধিকবার তাদের কাছে যান শিক্ষকদের একাংশ। তবে শিক্ষকদের প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে অনড় থাকেন।

এ অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ঢাকায় এসে আলোচনা করার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীরা প্রথমে রাজি হলেও পরে ঢাকায় যেতে সম্মত হননি। শিক্ষামন্ত্রীকে সিলেটে আসার অথবা ভার্চুয়ালি আলোচনা করার প্রস্তাব দেন শিক্ষার্থীরা। তবে আলোচনা করতে ঢাকায় গেছেন শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল।

শাবির ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা ‘গুরুতর’


শুক্রবার রাতে তারা ঢাকায় যান। আজ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তারা আলোচনায় বসতে পারেন বলে জানা গেছে।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস। তিনি শনিবার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনায় যেতে শিক্ষামন্ত্রী আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাকায় আসতে রাজি হননি। আমরাই এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উনার (শিক্ষামন্ত্রীর) সঙ্গে কথা বলব।’

প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন ফিজিক্যাল সায়েন্সের অনুষদ ডিন অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহিবুল আলম, অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম, বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক খায়েরুল ইসলাম রুবেল।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা
তোপের মুখে জাহাঙ্গীর সমর্থক নেতারা
বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
জাহাঙ্গীরের নামে মামলা পঞ্চগড়েও
এবার জাহাঙ্গীরের নামে মাদারীপুরে মামলা

শেয়ার করুন