× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Foreign investment is allowed in Padma Bank to give a solid foundation
hear-news
player
print-icon

শক্ত ভিত্তি দিতেই পদ্মা ব্যাংকে বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি

শক্ত-ভিত্তি-দিতেই-পদ্মা-ব্যাংকে-বিদেশি-বিনিয়োগের-অনুমতি
গুলশানে পদ্মা ব্যাংকের করপোরেট শাখা। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সহায়তা ব্যাংক খাতের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে। তাদের মতে, নতুন আর্থিক বিবরণী তৈরি কোনো গোপন ঘটনা নয়। এ ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ আদায় করে পরে সমন্বয় করা হয়। এর মাধ্যমে শক্ত ভিত্তির সুযোগ তৈরি হয় ব্যাংকের সামনে।

পদ্মা ব্যাংকে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সহায়তা দিচ্ছে সেটি বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামিক ব্যাংককেও একই ধরনের সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সহায়তা ব্যাংক খাতের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে। তাদের মতে, নতুন আর্থিক বিবরণী তৈরি কোনো গোপন ঘটনা নয়। এ ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ আদায় করে পরে সমন্বয় করা হয়। এর মাধ্যমে শক্ত ভিত্তির সুযোগ তৈরি হয় ব্যাংকের সামনে।

বিদেশি বিনিয়োগ পেতে পদ্মা ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী থেকে লোকসানের তথ্য গোপন করে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মতি দিয়েছে- এমন একটি খবর সম্প্রতি প্রকাশিত হয় কিছু সংবাদমাধ্যমে। এ বিষয়ে ‘উদ্বেগ জানিয়ে’ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বিবৃতিও দিয়েছে।

তবে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংকটিকে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে সরকার তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব তো আছেই। সেটাই করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখানে ছাড়, সুবিধা বা দোষের কিছু দেখছি না আমি।’

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মা ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক সুবিধা দিতেই পারে। কারণ ব্যাংকটিতে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। বাইরে থেকে বিনিয়োগ এলে প্রতিষ্ঠানের ব্যালান্স শিট ভালো দেখাতে হয়। বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগতভাবে দিতে পারে।

‘এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাংককে সুবিধা দিয়েছে। তবে পদ্মার ব্যাংকের বিষয়টি বিরল, কারণ সেখানে তারা বিদেশি বিনিয়োগ আনছে। এ জন্য ব্যালান্স শিটে আর্থিক ক্ষতি না দেখানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ এলে ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি মজবুত হবে। ব্যালান্স শিট ভালো দেখাবে।’

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ সুবিধা দেয়ার ফলে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায় হবে না- এমন তো নয়। এটা স্পেশাল নোটে আলাদা ব্যালান্স শিটের বাইরে থাকবে। বিদেশি বিনিয়োগ এলে ব্যাংকটি ভালো হবে; প্রতিষ্ঠানটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

‘তবে ব্যাংকটিকে এ বিনিয়োগের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত হবে বিনিয়োগ আসার পর সেটা তদারক করা; প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আলাদা পরামর্শক দিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মা ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগ আনার কথা বলেছে। বিদেশি বিনিয়োগ আসা কল্যাণকর। বিনিয়োগ এলে ব্যালান্স শিট ভালো দেখাবে। বিদেশি বিনিয়োগ আনার জন্য অনেক চেষ্টা করতে হয়। পদ্মা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শর্ত সাপেক্ষে ব্যাংকটির লোকসান সমন্বয়ে ১০ বছর সময় দেয়া হয়েছে। বিনিয়োগ না এলে এ সুবিধা বাতিল হবে।’

তিনি বলেন, ‘সব আইন এবং আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং মানদণ্ড মেনেই পদ্মা ব্যাংকে বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিদেশি বিনিয়োগ আনতে পদ্মা ব্যাংককে কোনো ছাড় দেয়া হয়নি। ব্যাংকটির আর্থিক বিবরণী সুসংহত করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা করেছে।’

টিআইবির বিবৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘যে কোনো সংস্থা যে কোনো বিষয়ে বিবৃতি দিতে পারে। এটা তাদের ব্যাপার। এ বিষয়ে আমি আমার অবস্থান থেকে কোনো মন্তব্য করব না।’

ফারমার্স ব্যাংক নামে পরিচালিত হওয়ার সময় ঋণ বিতরণে নানা অনিয়মের কারণে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংকটির ঋণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে ব্যাংকটির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ঘটে। সরকারের উদ্যোগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায় সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (আইসিবি) মিলে ৭১৫ কোটি টাকার মূলধনের জোগান দেয়। ফলে ‘পদ্মা ব্যাংক’ নামে প্রতিষ্ঠানটির নতুন যাত্রায় মোট মূলধনের ৬৬ শতাংশই এখন সরকারি ব্যাংকের হাতে।

ফারমার্স থেকে নাম পরিবর্তন করে পদ্মা নামে কাজ শুরুর চার বছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি অনেক কমেছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পদ্মা ব্যাংককে যে সহায়তা করছে, সেটা বাংলাদেশে নতুন নয়। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ দিকে বড় ধরনের সংকটে পড়ে তখনকার ওরিয়েন্টাল ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক পরে এতে প্রশাসক বসায়। তবে তারল্যসংকটের কারণে ব্যাংকটি ওই সময় আমানতকারীদের টাকা দিতে পারছিল না।

সরকার এরপর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে সাড়ে ৬ বছর সময় দিয়ে ২০০৭ সালে একটি স্কিম বা কর্মসূচি চালু করে। এ ছাড়া ব্যাংকটির বেশির ভাগ শেয়ার বিক্রির জন্য নিলাম ডাকা হয়। নিলামে অংশ নিয়ে ওই শেয়ার কিনে নেয় আইসিবি ফিন্যানশিয়াল গ্রুপ এজি এবং ২০০৮ সালে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক নামে প্রতিষ্ঠানটির নতুন যাত্রা শুরু হয়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই সময়েও ওরিয়েন্টাল ব্যাংকে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। একইভাবে পদ্মা ব্যাংকেও বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিধিবিধান, আইন-কানুনের মধ্যে থেকেই এই সহায়তা করা হচ্ছে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বের একটি অংশ।’

পদ্মা ব্যাংকের সবশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফারমার্স থেকে ‘পদ্মা’ নাম নিয়ে কার্যক্রম শুরুর পর ২০১৮ সালে ব্যাংকটিতে আমানত ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। ব্যাংকটির ঋণ দেয়ার কোনো অনুমোদন ছিল না। ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৪ হাজার কোটি টাকাই ছিল মন্দমানের শ্রেণীকৃত ঋণ।

তবে ২০২০ সালের জুনের পর ঋণ দেয়ার অনুমতি মেলে। ফারমার্সের সময় যে চার হাজার কোটি টাকা মন্দ ঋণ ছিল, সেখানেও কোনো আয় ছিল না। এটা আরও ভঙ্গুর ব্যাংকে রূপান্তর হওয়ার কথা ছিল। তবে এখন দক্ষ ব্যবস্থাপনায় শক্তিশালী ব্যাংকে রূপান্তর হওয়ার দিকে যাচ্ছে পদ্মা ব্যাংক।

ফারমার্সের সময়ে ৮০ শতাংশ খেলাপি ঋণ ছিল, সেটা কমে ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। আমানত-ঋণের অনুপাত আগে ছিল ১১৮ শতাংশ। এখন সেটা কমে হয়েছে ৯২ শতাংশ।

এ ছাড়া মূলধন ৪০০ কোটি থেকে বেড়ে হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বর্তমানে ৬ হাজার কোটি টাকার ওপরে আমানত রয়েছে পদ্মা ব্যাংকে।

আরও পড়ুন:
পদ্মা ব্যাংককে নিয়ম মেনেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি: এহসান খসরু
পদ্মা ব্যাংককে সব আইন এবং আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং মানদণ্ড মেনেই অনুমতি: এহসান খসরু
‘পদ্মা ব্যাংক গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে’
পদ্মা ব্যাংক মতিঝিল শাখাতেও অটোমেটেড চালান সেবা
পদ্মা ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় অটোমেডেট চালান সেবার উদ্বোধন

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Good luck in the capital market

বস্ত্রে রমরমা, পুঁজিবাজারে সুদিন

বস্ত্রে রমরমা, পুঁজিবাজারে সুদিন
এই খাতে দুটি কোম্পানির দর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৪৮টির দর। আর আগের দিনে লেনদেন হয়েছে আটটি। লেনদেনেও এগিয়ে এই খাত। মোট লেনদেনের ২২ শতাংশের বেশি হয়েছে একটি খাতেই। হাতবদল হয়েছে ২১৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার।

আগের সপ্তাহে টানা দরপতনের চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজেরর পথ খুঁজে পাওয়ার যে আভাস রোববার পাওয়া গিয়েছিল, জাতীয় শোক দিবসের ছুটি শেষে তা আরও স্পষ্ট হলো।

বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং আর্থিক খাতের সম্মিলিত উত্থানে পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন দুটিই বেড়েছে।

দুই কর্মদিবস পর লেনদেন আবার হাজার কোটি টাকার ওপরে উঠেছে। সেই সঙ্গে কেটেছে বিনিয়োগকারীদের মনের চাপ।

ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট শেয়ারের ক্রয়মূল্যে নির্ধারণে বিনিয়োগকারীদের এক যুগের দাবি পূরণ করার ঘটনায় গত ৩১ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ৩৩১ পয়েন্ট সূচক বৃদ্ধি নিয়ে উৎফুল্ল থাকা পুঁজিবাজার পরের সপ্তাহে ভীষণভাবে হতাশ করে বিনিয়োগকারীদের। টানা চার দিন সূচকের পাশাপাশি কমে লেনদেন। এই চার দিনে সূচক কমে ১৬০ পয়েন্টের বেশি আর লেনদেন পাঁচ শ কোটির ঘরে নেমে আসে।

তবে এর মধ্যে দুটি ঘটনা ঘটে যা বিনিয়োগকারীদের চিড় ধরা আস্থা মেরামতে সহায়ক হয়ে উঠে। ফ্লোর প্রাইস উঠে যাবে-এমন গুজব ছড়ানোর কথা জানতে পেরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি জানায়, ফ্লোর তুলে নেয়ার কোনো চিন্তা ভাবনা নেই।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর সার্বিক সূচকে ২৬ পয়েন্টের উত্থানের পাশাপাশি লেনদেন বাড়ার পর আগের সপ্তাহের চাপ কিছুটা কাটে।

এদিন বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলারে জানায়, ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিটের গণনাও হবে শেয়ারের ক্রয়মূল্যে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে যাবে কি না বা গেলেও কতটা যাবে, এই প্রশ্নের মধ্যেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সার্কুলারটি এই বার্তা দেয় যে, পুঁজিবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এতদিন যে রক্ষণশীল মনোভাব ছিল, গভর্নর পরিবর্তনের পর সেটি অনেকটাই দূর হয়েছে।

মঙ্গলবার ডিএসইতে সূচক বেড়ে শুরু হয় লেনদেন, শেষ পর্যন্ত বাড়ে আরও। ৫০ পয়েন্ট বেড়ে সূচকের অবস্থান এখন ৬ হাজার ২২৫ পয়েন্ট।

বেড়েছে ২৩৭টি কোম্পানির দর, কমেছে ৪২টির আর আগের দিনের দরে লেনদেন হয়েছে ১০২টি যেগুলোর সিংহভাগই ফ্লোর প্রাইসে হাতবদল হয়েছে।

বস্ত্রে রমরমা, পুঁজিবাজারে সুদিন
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

একদিনে লেনদেন প্রায় চার শ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮ হাজার টাকা। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, আগের সপ্তাহে যারা বিনিয়োগ না করে বাজার পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন, তারা এখন কিনতে শুরু করেছেন।

সবচেয়ে ভালো দিন গেছে বস্ত্র খাতে। এই খাতে দুটি কোম্পানির দর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৪৮টির দর। আর আগের দিনে লেনদেন হয়েছে আটটি।

লেনদেনেও এগিয়ে এই খাত। মোট লেনদেনের ২২ শতাংশের বেশি হয়েছে একটি খাতেই। হাতবদল হয়েছে ২১৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার।

কেবল একদিন নয়, গত এক মাস ধরেই লেনদেনের শীর্ষে এই খাতটির অবস্থান দেখা যাচ্ছে। কোম্পানিগুলোর অর্থবছর এরই মধ্যে শেষ হয়েছে এবং যে কোনো দিন সেগুলো লভ্যাংশ সংক্রান্ত সভা করতে যাচ্ছে।

লেনদেনে দ্বিতীয় অবস্থায় ছিল বিবিধি খাত। হাতবদল হয়েছে ১৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একটির দরপতনের বিপরীতে বেড়েছে ৯টির দর আর আগের দিনের দরে হাতবদল হয়েছে চারটি কোম্পানির শেয়ার।

ওষুধ ও রসায়ন খাতে চারটি কোম্পানির দর কমার বিপরীতে বেড়েছে ২৩টির দর, আগের দিনের দরে লেনদেন হয় আরও চারটি কোম্পানি। লেনদেনে এর অবস্থান ছিল তৃতীয়। হাতবদল হয়েছে ৮৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।

প্রকৌশল খাতেও দুটি কোম্পানির দরপতন, আটটির দর অপরিবর্তিত থাকার দিন বেড়েছে ৩২টির দর। লেনদেনে খাতটির অবস্থান ছিল চতুর্থ। হাতবদল হয়েছে ৭৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার।

আর্থিক খাতে একটি কোম্পানির দরও কমেনি। বেড়েছে ১৯টির আর তিনটি ছিল আগের দিনের দরে। খাতওয়ারি লেনদেনে অবস্থান ছিল পঞ্চম। হাতবদল হয়েছে ৬৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার।

এই খাতে ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া কোম্পানিগুলোর দর তুলনামূলক ভালো কোম্পানির চেয়ে বেশি বেড়েছে। এই প্রবণতাও সাম্প্রতিক।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতেও দুটি কোম্পানির দরপতনের বিপরীতে বেড়েছে ১৩টির দর। আগের দিনের দরে ছিল ৬টি কোম্পানি। হাতবদল হয়েছে ৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

লেনদেনে সপ্তম অবস্থানে ছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালান খাত। হাতবদল হয়েছে ৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। কেবল একটি কোম্পানি দর কমেছে, আগের দিনের দরে লেনদেন হয়েছে চারটি, বাকি ১৮টির লেনদেন হয়েছে দর বেড়ে।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতেও প্রায় সব কোম্পানির দর বেড়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Load shedding till September

লোডশেডিং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

লোডশেডিং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বরে লোডশেডিং শেষ হবে বলে আশা করছি। এর মধ্যেই আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’

আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লোডশেডিং থাকবে। সে মাসই লোডশেডিংয়ের শেষ মাস হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি- একনেক সভা শেষে এমন মন্তব্য করেন তিনি। সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারপ্রধান একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বরে লোডশেডিং শেষ হবে বলে আশা করছি। এর মধ্যেই আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গত জুলাই থেকে দেশের ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন স্থগিত রাখে সরকার।

১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সভায় ১৯ জুলাই থেকে দেশে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

সে দিন থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে শিডিউল অনুযায়ী এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং শুরু হয়। পরে সেটি আরও বাড়িয়ে দুই ঘণ্টা করার কথা জানায় সরকার।

তবে ঢাকায় কোথাও কোথাও দুই ঘণ্টা হলেও বেশির ভাগ এলাকায় তিন থেকে চার ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। আর গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের সময় দুই ঘণ্টার জায়গায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টারও বেশি হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে এখন জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। রাশিয়ার ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র গম রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এরপর শস্যটির রপ্তানিও শুরু করেছে রাশিয়া। অনেক দেশ রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেলও আমদানি করছে। ফলে আগামী দিনে জ্বালানি তেলের সংকট কেটে যাবে বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

একনেক সভায় এ সময় তিনি ডলারের বিকল্প হিসেবে অন্য মুদ্রায় বৈদেশিক বাণিজ্য করা যায় কি না সে বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন। এম এ মান্নান বলেন, ‘এখন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবার সময়। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে রুপি, রুবল, ইউয়ানে লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

একনেক সভায় ২ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক।

আরও পড়ুন:
জার্মানিতে বিদ্যুতের দাম বেড়ে ৫ গুণ
সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কৃষকের
যুক্তরাজ্যে জানুয়ারিতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শঙ্কা
এক ঘণ্টার লোডশেডিং টানা পাঁচ ঘণ্টায়
শিল্পাঞ্চলে ছুটি ভাগ করে ৫শ মেগাওয়াট সাশ্রয়!

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Padma Bank discussion meeting and prayers on mourning day

শোক দিবসে পদ্মা ব্যাংকের আলোচনা সভা ও দোয়া

শোক দিবসে পদ্মা ব্যাংকের আলোচনা সভা ও দোয়া শোক দিবসে পদ্মা ব্যাংকের ভার্চুয়াল আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত
সভায় বঙ্গবন্ধুর জীবন এবং দেশের প্রতি তার অবদান তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের সব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে পদ্মা ব্যাংক পরিবার।

সোমবার পদ্মা ব্যাংকের উদ্যোগে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা করা হয়।

সভায় বঙ্গবন্ধুর জীবন এবং দেশের প্রতি তার অবদান তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের সব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রিয়াজ খান। এই সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তারেক রিয়াজ খান বলেন, ‘জাতীয় শোক দিবসে আমি স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টের সব শহীদদের। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে বাঙালি জাতির এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। তার আত্মত্যাগের মহিমা এবং দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ আমাদের কর্মের মাধ্যমে প্রতিফলন ঘটিয়ে সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

ভার্চুয়াল আলোচনায় আরও যোগ দেন ব্যাংকের দুই উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আহসান চৌধুরী ও জাবেদ আমিন, এসইভিপি ও সিএইচআরও এম আহসান উল্ল্যাহ খান, এসইভিপি ও সিএফও বাদল কুমার নাথ, এসইভিপি ও কর্পোরেট লায়াবিলিটি হেড সাব্বির মোহাম্মদ সায়েম, ইভিপি ও কোম্পানি সেক্রেটারি মনজুরুল আহছান।

এ ছাড়া সব শাখা ব্যবস্থাপক ও কর্মীরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
শোকাবহ আগস্টে পদ্মা ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের শোক প্রস্তাব
পদ্মা ব্যাংক ও গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মধ্যে চুক্তি
বানভাসিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পদ্মাসহ ৪৫ ব্যাংকের অনুদান
পদ্মা ব্যাংকে এএমএল অ্যান্ড সিএফটি সচেতনতা সপ্তাহ শুরু
পদ্মা ব্যাংকের বেসিকস অফ ক্রেডিট ট্রেনিং অনুষ্ঠিত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Negotiations on SEPA agreement with India

ভারতের সঙ্গে সেপা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা

ভারতের সঙ্গে সেপা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে স্থলবন্দর। ফাইল ছবি
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে সেপা অনেকটাই ভিন্ন। কেননা এটি অনেক বিস্তৃত। এর মধ্যে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব ও ই-কমার্সের মতো অনেকগুলো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সেপা স্বাক্ষরিত হলে উভয় দেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে। উন্মুক্ত হবে বিনিয়োগের নতুন দরজা।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) নামে নতুন এক চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে দুই দেশ। দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা বলছেন, দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা সাফটার অধীনে বাংলাদেশ ভারতে যেসব বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছে, নতুন চুক্তিতে তার চেয়েও বেশি সুবিধা দেখতে চান তারা।

প্রস্তাবিত সেপা চুক্তির বিষয়ে এফবিসিসিআই একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এটি সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের পর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটবে। এরপর শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্যের সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা আর পাবে না বাংলাদেশ। এতে করে রপ্তানি বাণিজ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ সম্পাদনের ব্যাপারে বেশি মনোযোগ দেয়ার কথা বলছেন দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা।

এফবিসিসিআই ওই প্রতিবেদনে বলেছে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) চালু আছে। এর আওতায় শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। সাফটার আওতায় বিদ্যমান সুবিধা আরও বেশ কিছুদিন অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছে তারা।

বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি আছে। আবার দুটি দেশই আছে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায়। এর অধীনে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।
কয়েক বছর পর বাংলাদেশ যখন উন্নয়শীল দেশের কাতারে যাবে, তখন আর সাফটার বিদ্যমান সুবিধা পাবে না। তখন দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্য বাড়াতে নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রয়োজন হবে। সেই চিন্তা থেকেই বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে পার্টনারশিপ বা অংশীদারত্বমূলক চুক্তির প্রস্তাব করে বাংলাদেশ।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে সেপা অনেকটাই ভিন্ন। কেননা এটি অনেক বিস্তৃত। এর মধ্যে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব ও ই-কমার্সের মতো অনেকগুলো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সেপা স্বাক্ষরিত হলে উভয় দেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে। উন্মুক্ত হবে বিনিয়োগের নতুন দরজা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, মূলত স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের দিক থেকেই এই চুক্তির প্রস্তাবটি ছিল।

উত্তরণ-পরবর্তী বাংলাদেশ যাতে ভারত থেকে আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা পায়, সে জন্য সেপা চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ। বিশ্বের অনেক দেশেই কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা/সিইপিএ) আছে। ইইউ দেশগুলোর মধ্যেও এই চুক্তি রয়েছে।

এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে একটি যৌথ সমীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয় এবং সমীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার পর গত মাসে সরকারের কাছে জমা দেয়া হয় প্রতিবেদন।

প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করতে ২৫ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়। এতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং এসব সিদ্ধান্তের ওপর এফবিসিআইয়ের মতামত নেয়া হয়। গত সপ্তাহে এফবিসিসিআই তার মতামত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) ও ভারতের সেন্টার ফর রিজিওনাল ট্রেডের (সিআরটি) যৌথ সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সেপা চুক্তি দ্বিপাক্ষিক পণ্যবাণিজ্য, সেবা বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পারস্পরিকভাবে লাভজনক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে আগামী ৭ থেকে ১০ বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৩-৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়বে। একই সময়ে ভারতের আয় বাড়বে ৪-১০ বিলিয়ন ডলার।

২০২০-২১ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, যা চীনের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি বর্তমানে বাংলাদেশ চেম্বার অফ ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ার উল আলম পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘ভারত তাদের বাজারে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও নন-ট্যারিফ বাধার কারণে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রত্যাশিতভাবে বাড়ছে না। সেপা চুক্তির সাফল্য পেতে হলে নন-ট্যারিফ শুল্ক বাধার সমস্যার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’

বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাবেক বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ভারতে রপ্তানিতে একটু ধাক্কা আসতে পারে। এ জন্যই সিইপিএ করা হচ্ছে। সিইপিএ হয়ে গেলে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক বাড়বে।’

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ভিত্তিতে সেপা স্বাক্ষরের কথা বলে ভারত। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈঠকে উভয় পক্ষ এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মত হয়। পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের জন্য এটি ভালো ভিত্তি হবে বলে একমত হন তারা।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ চুক্তি উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হবে কি না, তা খতিয়ে দেখতে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এফবিসিসিআইয়ের সুপারিশ

বর্তমানে আসিয়ানসহ সাতটি আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে যুক্ত আছে বাংলাদেশ। এসব জোটের অধীন দেশের সংখ্যা ১১২টি। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বাণিজ্য বাড়াতে এসব দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার কথা বলেছে এফবিসিসিআই।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। এ ছাড়া সাফটা বাণিজ্যের শর্ত কমপক্ষে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলেছে তারা।

ভারতের সঙ্গে সেপা নিয়ে আলোচনায় একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এই টিমে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের যুক্ত করার সুপারিশ করেছে এফবিসিসিআই।

আলোচনায় সাফটায় যেসব সুবিধা আছে, সেপায় তার চেয়ে বেশি সুবিধা রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআই বলেছে, সাফটার আওতায় বিদ্যমান শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রেখে কমপক্ষে ১০ বছর আরও বাড়তি সুবিধা দিতে হবে। এ ছাড়া অশুল্ক বাধা যাতে দূর করা হয়, সে বিষয়টি সেপা চুক্তিতে যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই।

আরও পড়ুন:
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে সৌদির সঙ্গে চুক্তি প্রস্তাব অনুমোদন
মাসে একবার পিজা খাওয়ার শর্তে বিয়ে!
আমিরাত-ইসরায়েলের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
জনপ্রশাসনের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা দেবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থাপনায় ঢুকছে দেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Provision deficit of 9 banks is 18 thousand 931 crores

৯ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা

৯ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিডেট। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
ঘাটতির তালিকায় রয়েছে সরকারি অগ্রণী, বেসিক, জনতা, রূপালী। বেসরকারি বাংলাদেশ কমার্স, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট, ন্যাশনাল, সাউথইস্ট ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের নাম।

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে নানামুখী সুবিধা দিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ পরিশোধেও বিভিন্ন ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরেও বেড়েছে খেলাপি ঋণ।

খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এসব ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে নয়টি ব্যাংক।

নয় ব্যাংকের তালিকায় চারটি সরকারি ও বেসরকারি পাঁচটি ব্যাংক রয়েছে।

চলতি জুন শেষে এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ১৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ঘাটতির তালিকায় রয়েছে সরকারি অগ্রণী, বেসিক, জনতা, রূপালী। বেসরকারি বাংলাদেশ কমার্স, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট, ন্যাশনাল, সাউথইস্ট ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের নাম।

তবে কিছু কিছু ব্যাংক প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করায় পুরো ব্যাংকিং খাতের ঘাটতি ১৩ হাজার ১২০ কোটি টাকা।

সরকারি চার ব্যাংক

রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১১ হাজার ১৭ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বেশি ঘাটতি বেসিক ব্যাংকে ৪ হাজার ৪৪১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

এর পরেই অগ্রণী ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ৯৭৩ কোটি ২২ লাখ টাকা।

তালিকায় তৃতীয় স্থানে রূপালীর ঘাটতি ২ হাজার ৯৬২ কোটি ১০ লাখ টাকা৷ জনতা ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৬৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

তবে রাষ্ট্রমালিকানাধীন দুই ব্যাংক অতিরিক্ত প্রভিশন রাখতে পেরেছে। এর মধ্যে সর্ববৃহৎ সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি অতিরিক্ত রয়েছে ৩৮০ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

বেসরকারি ব্যাংক

বেসরকারি পাঁচ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৭ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা।

এর মধ্যে শুধু ন্যাশনাল ব্যাংকেরই ঘাটতি ৭ হাজার ১১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ১০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

মোট ঋণ

চলতি জুন শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

তিন মাস আগে মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। সে হিসাবে ৩ মাসে খেলাপি বেড়েছে ১১ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী, সব ধরনের ব্যাংক যেসব ঋণ দেয় তার গুণমান বিবেচনায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রভিশন হিসেবে জমা রাখতে হয়। কোনো ঋণ শেষ পর্যন্ত মন্দ ঋণে পরিণত হলে তাতে যেন ব্যাংক আর্থিকভাবে ঝুঁকিতে না পড়ে, সেজন্য এ প্রভিশন সংরক্ষণের নিয়ম রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে নতুন এমডি
পুঁজিবাজারে আরও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
সুইস রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি: হাইকোর্ট
সুইস ব্যাংকে অর্থের বিষয়ে ‘তথ্য চেয়েছিল বিএফআইইউ’
নতুন গভর্নরের পদক্ষেপে খেলাপি ঋণ কমবে: তারেক রিয়াজ খান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
This time the limit of profit in the sale of dollars is determined

এবার ডলার বিক্রিতে মুনাফার সীমা নির্ধারণ

এবার ডলার বিক্রিতে মুনাফার সীমা নির্ধারণ
বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর ৯৫ টাকা বেঁধে দিলেও সম্প্রতি কার্ব মার্কেটে তা ওঠে রেকর্ড ১২০ টাকায়। এমনকি ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দরে তো নয়-ই, এর চেয়ে ১০ টাকা বেশিতেও মুদ্রাটি পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে কার্ব মার্কেটে ডলারের উত্তাপ কিছুটা কমেছে। চাহিদা কমায় রোববার ১২০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১১৪ টাকায়। এক দিনে ৬ টাকার পতন সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।

ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে এবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলার কেনাবেচায় দামের ব্যবধান (স্প্রেড) সর্বোচ্চ কত হতে পারবে, তা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যে দরে ডলার কেনা হবে, বিক্রির দাম হবে তার চেয়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা বেশি ।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চলমান অস্থিরতা নিয়ে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা)।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলো যে দরে ডলার কিনবে, তার সঙ্গে বিক্রয় মূল্যের একটি সিলিং করতে হবে। সব ব্যাংক এটি ফলো করবে বলে তারা জানিয়েছেন।’

তবে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আলোচনা হয়েছে ডলার কেনা ও বেচার ওই ব্যবধান এক টাকার বেশি হবে না।

করোনা শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ সারা বিশ্বে রীতিমতো ভীতি সঞ্চার করেছে। জ্বালানির দর বৃদ্ধির পাশাপাশি এটির সরবরাহে অনিশ্চয়তাসহ নানা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডলারের সংকটও তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর ৯৫ টাকা বেঁধে দিলেও সম্প্রতি কার্ব মার্কেটে তা ওঠে রেকর্ড ১২০ টাকায়। এমনকি ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দরে তো নয়-ই, এর চেয়ে ১০ টাকা বেশিতেও মুদ্রাটি পাওয়া যাচ্ছে না।

ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ডলার নিয়ে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর এসব ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে কার্ব মার্কেটে ডলারের উত্তাপ কিছুটা কমেছে। চাহিদা কমায় রোববার ১২০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১১৪ টাকায়। এক দিনে ৬ টাকার পতন সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন, বাফেদা চেয়ারম্যান এবং সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. আতাউর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরও জানান, বাফেদা ও এবিবিকে ডলার মার্কেট খুব দ্রুত স্থিতিশীল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাফেদা ও এবিবি একমত হয়েছে, খুব দ্রুত ডলার মার্কেট স্থিতিশীল করবে।

ব্যাংকগুলো রপ্তানি করার পর যদি দ্রুত ডলার দেশে ফিরিয়ে আনে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো যদি আন্তব্যাংকের মধ্যে ডলার সরবরাহ করতে পারে, সেই বিষয়গুলোও বলা হয়েছে।

সিরাজুল বলেন, ‘চলতি আগস্টের প্রথম ১১ দিনে ১ বিলিয়ন কম এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে বিলাসপণ্য আমদানি বন্ধ করতে পেরেছি। ফলে এই পদক্ষেপের কারণে অসামাঞ্জস্যতা কমে আসবে।’

আরও পড়ুন:
শুধু সরকারি আমদানিতে ডলার জোগাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের অন্য শাখায় ডলার কেনাবেচার সিদ্ধান্ত
এবার খোলাবাজারে ডলার ছুঁল ১২০ টাকা
দিনে ৪ কোটি ডলার বিক্রি, তবু বাগে আসছে না
ডলার কারসাজি: ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bright lotus dollar on a cloudy day

মেঘ-বৃষ্টির দিনে তেজ কমল ডলারের

মেঘ-বৃষ্টির দিনে তেজ কমল ডলারের
এক ব্যবসায়ী রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে দর ১২০ টাকায় ওঠার পর সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তৎপরতা বেড়ে যায়। সে কারণে ভয়ে কেউ ডলার কিনছেও না; বিক্রি করছে না। কিছু লেনদেন হচ্ছে খুবই গোপনে।’

কয়েকদিনের তীব্র গরম কমিয়ে রোববার নেমেছে বৃষ্টি। সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণে কমেছে তাপমাত্রা।

আবহাওয়ার সঙ্গে ডলারের যোগাযোগ না থাকলেও রোববার খোলাবাজারে বেশ কিছুটা উত্তাপ হারিয়েছে আমেরিকান এই মুদ্রা। গত সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসের তুলনায় চার টাকারও বেশি দর হারিয়েছে ডলার।

সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার প্রতি ডলারের জন্য ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা; কিনেছেন ১১৪ টাকায়। তবে ব্যাংকগুলো আগের দামেই নগদ ডলার বিক্রি করছে।

খোলাবাজারে গত সপ্তাহে ডলারের দর এক লাফে ১২০ টাকায় উঠেছিল। বৃহস্পতিবার তা এক টাকা কমে বিক্রি হয় ১১৯ টাকায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে দর ১২০ টাকায় ওঠার পর সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তৎপরতা বেড়ে যায়। সে কারণে ভয়ে কেউ ডলার কিনছেও না; বিক্রি করছে না। কিছু লেনদেন হচ্ছে খুবই গোপনে।’

বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা একটু বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে, সে কারণেই দামটা নিম্নমুখী।’

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক রোববার ১০৪ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক থেকে কিনতে লেগেছে ১০৪ টাকা ২৫ পয়সা। বেসরকারি সিটি ব্যাংক প্রতি ডলারের জন্য নিয়েছে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। ইস্টার্ন ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৭ টাকায়। এসআইবিএল নিয়েছে ১০৫ টাকা।

গত সপ্তাহের মতো ৯৫ টাকায় রোববার ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটাকে আন্তব্যাংক বা ইন্টারব্যাংক রেট বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এই রেট গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে কার্যত অচল।

ব্যাংকগুলো এখনও এই দরের চেয়ে ৯ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে। আবার প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে ১০৪-১০৫ টাকা দিয়ে। আমদানি ঋণপত্র খুলতে নিচ্ছে ১০৪-১০৫ টাকা।

মেঘ-বৃষ্টির দিনে তেজ কমল ডলারের

পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটে চলা ডলারের দৌড় থামাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১ মাস ১১ দিনে (১ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট) ১৭২ কোটি ৫৪ লাখ (১.৭২ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এরপরেও বাজারে ডলারের সংকট কাটছে না।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আশার কথা শুনিয়ে বলেছেন, শিগগিরই ডলারের সংকট কেটে যাবে। বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণেই বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে। সেই চাহিদা পূরণের জন্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজারে ডলার ছাড়া হচ্ছে। আসলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কাজ এটি। যখন বাজারে ডলারের ঘাটতি দেখা দেবে তখন ডলার বিক্রি করা হবে। আবার যখন সরবরাহ বেশি হবে তখন কেনা হবে।

‘ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে রিজার্ভ পরিস্থিতিও সব সময় বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। ঢালাও বিক্রি করলে রিজার্ভ কমে আসবে। সেক্ষেত্রে অন্য সমস্যা হবে। সে কারণেই ভেবেচিন্তে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি বিক্রি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দুই বছরের বেশি সময় ধরে করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তাণ্ডবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সব দেশের মতো আমাদেরও আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। সে কারণে রিজার্ভের ওপরও চাপ পড়েছে।

‘তবে সুখের খবর হচ্ছে, আমদানি কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্সও বাড়ছে। শিগগিরই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

খোলাবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকির কারণে অনেক ব্যবসায়ী ডলার কেনাবেচা করতে ভয় পাচ্ছেন।

খোলাবাজারে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন মানি চেঞ্জারে অভিযান চালায় বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এ পরিদর্শন কার্যক্রম চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাশাপাশি অবৈধভাবে ডলার মজুতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

ডলার কারসাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে এরপরও বাজার স্বাভাবিক হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
শুধু সরকারি আমদানিতে ডলার জোগাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের অন্য শাখায় ডলার কেনাবেচার সিদ্ধান্ত
এবার খোলাবাজারে ডলার ছুঁল ১২০ টাকা
দিনে ৪ কোটি ডলার বিক্রি, তবু বাগে আসছে না
ডলার কারসাজি: ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ

মন্তব্য

p
উপরে