ভর্তুকির চাপে বেকায়দায় সরকার

player
ভর্তুকির চাপে বেকায়দায় সরকার

সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম সমন্বয় করতে পারলে ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমবে। তা সম্ভব না হলে ভর্তুকি বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হবে। ফাইল ছবি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন- আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সার, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস- এলএনজি ও জ্বালানি তেলের দাম যে পর্যায়ে চলে গেছে, তাতে দেশে ওইসব পণ্যের দাম না বাড়ালে অর্থবছর শেষে ভর্তুকি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এতে করে বাড়বে বাজেট ঘাটতি। বিরূপ প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতিতে। কষ্ট বাড়বে সাধারণ মানুষের।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। চাপটা এত বেশি যে তা সামাল দেয়া সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর চাপ, অন্যদিকে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা- এই দুই চাপ সামলাতে বেকায়দায় সরকার।

গত জুনে চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় বিশ্ব পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় ভর্তুকি খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয় ৪৯ হাজার কোটি টাকা। পরিস্থিতি ক্রমে প্রতিকূল হয়ে ওঠায় ভর্তুকির অঙ্ক ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা হিসাব করে দেখেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সার, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস- এলএনজি ও জ্বালানি তেলের দাম যে পর্যায়ে চলে গেছে তাতে দেশে ওইসব পণ্যের দাম না বাড়ালে অর্থবছর শেষে ভর্তুকি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এতে করে বাড়বে বাজেট ঘাটতি। বিরূপ প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতিতে। কষ্ট বাড়বে সাধারণ মানুষের। চাপে পড়বে দেশের অর্থনীতি।

এবার ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বিশাল বাজেটে ঘাটতি দুই লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা শতকরা হারে মোট জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ। এই ঘাটতি এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেট ঘাটতি ৬ শতাংশের নিচে রাখতে চায়। এটা করতে হলে সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই। অন্যথায় ঘাটতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত মাসের শেষের দিকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

মূলত ভর্তুকির চাপ সহনীয় রাখতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এ প্রস্তাব করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছে।

ফেব্রুয়ারিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম না বাড়ালে ভর্তুকি বাবদ বর্তমানের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা লাগবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, সার, বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম সমন্বয় করতে পারলে ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমবে। তা সম্ভব না হলে ভর্তুকি বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হবে। সরকারের পক্ষে এত টাকা জোগান দেয়া সম্ভব নয়। কাজেই এসব পণ্যের দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সার অত্যন্ত স্পর্শকাতর পণ্য। এর দাম বাড়ালে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। এ অবস্থায় সারের দাম না-ও বাড়াতে পারে সরকার। বাকি দুটি সেবা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম যে বাড়ছে সে বিষয়ে নিশ্চিত বলা যায়। যদিও অর্থ বিভাগ তিনটি খাতেই দাম সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি দেয়া হয় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ বরাদ্দটা প্রধানত সার আমদানিতে। সরকার বেশি দামে সার কিনে ডিলারের মাধ্যমে কম দামে কৃষকের কাছে বিক্রি করে থাকে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা সম্প্রতি অর্থ বিভাগকে জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবছরে সার বাবদ ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে।

বিশ্ববাজারে এলএনজির দামও অনেক বেড়েছে। আমদানি করা এলএনজির সঙ্গে দেশীয় গ্যাসের মিশ্রণে প্রতি ঘনফুটের খরচ পড়ে ২২ টাকা। অথচ দেশের বাজারে তা বিক্রি করতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৯ টাকা দরে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে চলেছে। ফলে প্রতি ঘনফুট এলএনজির মূল্য ৩০ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় এলএনজি খাতে ভর্তুকি আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

জ্বালানি খাতে আরও বেশি ভর্তুকির প্রয়োজন হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতে ভর্তুকি ধরা রয়েছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের যে অবস্থা তাতে এই ভর্তুকিতে কুলানো সম্ভব হবে না। কারণ চলতি অর্থবছরের শুরুতে যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম ছিল ৪৫ ডলার সেখানে সেই তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ ডলারে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বছর শেষে জ্বালানি খাতে বাড়তি ১০ হাজার কোটি টাকা এবং এলএনজি খাতে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হবে।

অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটা কমে এসেছে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকার সময়ে দেশের বাজারে সরকার জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে জ্বালানি তেল নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও স্বস্তিকর অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে, তাদের সবকিছু মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে ১৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হবে। অথচ বাজেটে বরাদ্দ আছে ৯ হাজার কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ভর্তুকি বৃদ্ধির প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ানোর ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এখন সার এবং বিদ্যুদের দাম বাড়ালে খরচ আরও বাড়বে।

‘সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়লে পণ্যমূল্য আরও বেড়ে যাবে। এর বিরূপ প্রভাব পড়বে জনগণের জীবনযাত্রায়। ফলে পুরো বিষয়টি সমন্বয় প্রশ্নে সরকারের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।’

অর্থনীতিতে ভর্তুকির বিরূপ প্রভাব তুলে ধরে খ্যাতিমান এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘ভর্তুকি বাড়লে বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ধার নিতে হয়। তখন বাজেট ঘাটতি বেড়ে যায়। ঘাটতি বাড়লে মূল্যস্ফীতিও বাড়ে। এতে করে সাধারণ মানুসের জীবন-যাপন কঠিন হয়ে পড়ে।

‘এসব বিবেচনায় সরকারের সামনে সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিকল্প কিছু দেখছি না।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘সরকারের আর্থিক চাপ রয়েছে। কারণ ব্যয় অনুযায়ী আয় বাড়েনি। ভর্তুকির যেসব খাত রয়েছে সেগুলোতে জনগুরুত্ব বিবেচনা করে বরাদ্দ দেয়া উচিত। কৃষি ও বিদ্যুতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি অন্য যেসব খাতে বরাদ্দ আছে সেগুলোতে বরাদ্দে লাগাম টানতে হবে।’

প্রণোদনা খাতে অনেক ব্যয় হয় উল্লেখ করে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন খাতে যেসব প্রণোদনা দিচ্ছে, তার একটি মূল্যায়ন হওয়া দরকার।

‘অনেক খাতে প্রণোদনা যে উদ্দেশ্যে দেয়া হয় তা পূরণ হয় না। বেশকিছু বড় প্রকল্পে মূল্য সংযোজন কর- ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ফলে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এসব খাতে যৌক্তিকতা নির্ধারণ করে প্রণোদনা দিলে অনেক অর্থ সাশ্রয় হতে পারে।

‘শুধু সার ও বিদ্যুতের দাম বাড়ালে যে সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে তা নয়, বরং সামগ্রিকভাবে অন্য বিষয়গুলো‌ও বিবেচনায় নেয়া দরকার।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কুমিল্লার ২ মার্কেটে ভ্যাট গোয়েন্দার অভিযান

কুমিল্লার ২ মার্কেটে ভ্যাট গোয়েন্দার অভিযান

মিষ্টির দোকান মাতৃভাণ্ডারে মানুষের ভিড়। ফাইল ছবি

কুমিল্লায় ভ্যাট গোয়েন্দার উপ-পরিচালক মুনাওয়ার মুরসালীন ও সহকারী পরিচালক আলমগীর হুসেনের নেতৃত্বে এটি বিশেষ গোয়েন্দা দল এই অভিযান চালায়।

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির অভিযোগে কুমিল্লা শহরের দুটি মার্কেটে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

সোমবার অভিযান চালানো এ দুই মার্কেট হলো কুমিল্লা টাউনহলের কান্দিরপাড়ে প্লানেট এসআর মার্কেট এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ময়নামতি সুপার মার্কেট।

কুমিল্লায় ভ্যাট গোয়েন্দার উপ-পরিচালক মুনাওয়ার মুরসালীন ও সহকারী পরিচালক আলমগীর হুসেনের নেতৃত্বে এটি বিশেষ গোয়েন্দা দল এই অভিযান চালায়।

ভ্যাট নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কেট দুটিতে অভিযান চালিয়ে ভ্যাট গোয়েন্দারা ওই মার্কেটের দোকানগুলোতে হিসাব সংরক্ষণ না করা ও বিক্রির প্রকৃত তথ্য গোপন করে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার প্রমাণ পেয়েছেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, ‘অভিযানের পাশাপাশি দুটি মার্কেটে জরিপ চালানো হয়। তাতে দেখা যায়, কোনো প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন গ্রহণ করেনি, ভ্যাটও দেয়নি।’

ভ্যাট গোয়েন্দার তথ্য মতে, কুমিল্লার প্লানেট এসআর মার্কেটে ৮০ টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ টি দোকানের কোনো নিবন্ধন নেই।

অন্যদিকে, ক্যান্টনমেন্টের ময়নামতি সুপার মার্কেটে মোট ১২০ টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ৬৪টি দোকানের নিবন্ধন নেই।

ড.মইনুল খান বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে ২০২১ সালের ২৫-৩১ মে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের চারটি জরিপ দল মাঠে নেমে রাজধানী ও রাজধানীর বাইরের মার্কেটগুলোতে জরিপ করে।

‘জরিপের পর পর সারাদেশে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কুমিল্লার এই দুটি মার্কেটের কোনো প্রতিষ্ঠানেরই ভ্যাট নিবন্ধন পাওয়া যায়নি।’

মাতৃভান্ডারের ভ্যাট ফাঁকি

এ দিন কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে মিষ্টির দোকান ‘মাতৃভান্ডার’- এ অভিযান চালায় ভ্যাট গোয়েন্দার দলটি।

প্রতিষ্ঠানটিতে মিষ্টি বিক্রির সময় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও মাতৃভান্ডারে গড়ে মাত্র ২০-২২ টি চালান কাটার তথ্য পাওয়া যায়।

ভ্যাট গোয়েন্দার দু্ইজন কর্মকর্তা ওই প্রতিষ্ঠানের বিক্রি পর্যবেক্ষণের জন্য সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

দেখা যায়, এক দিনে ভ্যাট গোয়েন্দাদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি ৩১৮টি চালান ইস্যু করে, যেখানে বিক্রিমূল্য পাওয়া যায় প্রায় তিন লাখ টাকা। অর্থ্যাৎ ভ্যাট চালান না দিয়ে মাতৃভান্ডার মিষ্টির দোকান বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

গোয়েন্দাদের অভিযানে জব্দ করা কাগজপত্রে দেখা গেছে, নতুন বছরের ১ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মাতৃভান্ডার মিষ্টান্ন ভান্ডার মাত্র ৩৫৪ টি ভ্যাট চালান ইস্যু করে।এর বিপরীতে বিক্রিমূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টাকা। অথচ, ভ্যাট গোয়েন্দার একদিনের পর্যবেক্ষণে ৩১৮ টি চালানে ৩ লাখ টাকা বিক্রির হিসাব পাওয়া গেছে।

এভাবে প্রতিষ্ঠানটি চালান ইস্যু না করেই সরকারের বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান।

গোয়েন্দারা বলছেন, কুমিল্লা শহরের অনেক মার্কেট রয়েছে যেগুলোর প্রতিষ্ঠান এখনও নিবন্ধন গ্রহণ করেনি। শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

নতুন উচ্চতায় তেলের দাম, ৭ বছরের সর্বোচ্চ

নতুন উচ্চতায় তেলের দাম, ৭ বছরের সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সও মাস চারেক আগে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, কোভিড-১৯ এর কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল তা দূর হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে দেশে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেলের দর ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

গত নভেম্বর বাংলাদেশে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর সময় যে দর ছিল, এবার ছাড়িয়ে গেছে সেই দরও।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম আগের দিনের চেয়ে ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এদিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ৫ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে। আর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দর উঠেছে ৮৭ ডলার ৩৬ সেন্টে।

এই দর গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে তথ্য দিয়েছে রয়টার্স।

২০১৪ সালের পর আন্তর্জাতিক বাজারে এতো বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য উপসাগরে হামলার পর সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দাম বাড়ছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন আতঙ্কে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম কমতে কমতে ৬৬ ডলারে নেমে গিয়েছিল। ব্রেন্ট তেলের দর কমে হয়েছিল ৬৮ ডলার।

তিন-চার দিন ওই একই জায়গায় স্থির ছিল তেলের বাজার। কিন্তু ওমিক্রন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেও করোনার নতুন ওই ধরনে আক্রান্ত হয়ে মানুষ খুব একটা মারা না যাওয়ায় এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক বেশ খানিকটা কেটে যায়। এতে বিশ্বে তেলের চাহিদা বাড়বে-এ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে আবার বাড়তে শুরু করে দাম। সেই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ যখন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে যে দর ছিল, এখন তাতেও ছাড়িয়ে গেল।

গত ২৭ অক্টোবর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ওঠে। এরপর থেকেই তা কমতে থাকে। ৮ নভেম্বর এর দর ছিল ৮২ দশমিক ৫ ডলার। ১৬ অক্টোবর দাম ছিল ৮০ ডলার।

আর এক বছর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সও মাস চারেক আগে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, কোভিড-১৯ এর কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল তা দূর হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে দেশে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে গত বছরের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে প্রতি ব্যারেল ৪৯ ডলার। এরপর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবর মাসে এই দাম ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই তা ১০০ ডলার হয়ে যেতে পারে।

তবে গত নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দাম নিম্নমুখী হয়। তারপরও দামটা নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনতে নিজ দেশের পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

গত ২৩ নভেম্বর টুইট বার্তায় বাইডেন ঘোষণা দেন, ‘আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কমাতে পদক্ষেপের কথা আজ ঘোষণা করছি। আমেরিকাবাসীর জন্য স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ব আমরা, যাতে তেল ও গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে।’

দেশে তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি রুখতে এই পদক্ষেপ নেন জো বাইডেন। এর জেরে সে দেশে জ্বালানির দাম কমবে বলে মনে করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বিশ্ব জুড়ে জ্বালানির দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছিলেন অনেকে।

তবে বাইডেনের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম খুব একটা কমেনি। ওমিক্রন আতঙ্কেই মূলত বড় দরপতন হয়।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশ যখন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে যে দর ছিল, এখন তাতেও ছাড়িয়ে গেল।

শেয়ার করুন

শহরে করা যাবে না কনটেইনার ডিপো

শহরে করা যাবে না কনটেইনার ডিপো

৩৮ বছর পর বেসরকারি আইসিডির চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করেছে এনবিআর।

ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) ও কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশনের (সিএফএস) নীতিমালার চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। তবে নীতিমালা অনুযায়ী শহরের ভেতর করা যাবে না কোনো কনটেইনার ডিপো।

তবে শহরের ভেতর থাকা বর্তমান আইসিডির বিষয়ে এ সংক্রান্ত কোনো বিধান রাখা হয়নি।

বেসরকারি আইসিডিগুলোর মালিকদের সংগঠন বিকডার সচিব রুহুল আমিন সিকদার মঙ্গলবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ কথা বলেন।

তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই নীতিমালা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এটি বেসরকারি খাতে ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) ও কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন (সিএফএস) নীতিমালা, ২০২১ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই চূড়ান্ত নীতিমালা অনুযায়ী নতুন আইসিডিগুলো অবশ্যই শহরের ২০ কিলোমিটার দূরে স্থাপন করতে হবে।

এর আগে ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে এর খসড়া নীতিমালার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ওই বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পর খসড়া নীতিমালাকে চূড়ান্ত করে এনবিআর।

১৯৮৪ সালে সি ফেয়ারার্স লিমিটেড নামে আইসিডি চালুর মাধ্যমে দেশে বেসরকারি আইসিডির যাত্রা শুরু হয়। এরপর কোনো নীতিমালা ছাড়াই ২০২১ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে ১৯টি বেসরকারি আইসিডি।

বিকডা বলছে, বিদ্যমান আইসিডিগুলো শহরের বাইরে নিয়ে যেতে হবে এমন কোন নির্দেশনা নীতিমালায় নেই। এনবিআরের সঙ্গে আলোচনায় বিদ্যমান আইসিডিগুলো শহরের ভেতরেই রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি আইসিডিগুলোর বিভিন্ন সেবা মাসুলের ব্যাপারেও কোনো ধারা রাখা হয়নি। কোনো ট্যারিফ কমিটিও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে আইসিডির বাৎসরিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা পর্যালোচনার জন্য সাত সদস্যের একটি মূল্যায়ন কমিটি নির্ধারণ করে দিয়েছে এনবিআর।

আইসিডিগুলোতে কনটেইনার স্ক্যানার স্থাপনের বিষয়টিও ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে। তবে বিকডা থেকে জানানো হয়েছে, যদি কোনো বেসরকারি আইসিডি কনটেইনার স্ক্যানার স্থাপন করে তবে তাদের জন্য আমদানি পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে ৩৮ ধরনের পণ্যের বাইরে আরও কিছু পণ্য বাড়িয়ে দিতে পারে।

এর বাইরে নীতিমালায় আরও উল্লেখ আছে, নতুন আইসিডি স্থাপনের ক্ষেত্রে নিজস্ব মালিকানাধীন জায়গা, ভাড়া জায়গা বা লিজ নেয়া জায়গায় আইসিডি স্থাপন করা যাবে। এক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৫ একর জায়গা থাকতে হবে এবং সাড়ে ৪ হাজার টিইইউস কনটেইনার রাখার জায়গা থাকতে হবে। সিএফএস এর আয়তন হতে হবে আইসিডির মোট আয়তনের ৫ ভাগের ১ ভাগ। আইসিডি স্থাপনে বিদেশি বিনিয়োগ থাকলে অংশীদারত্বে ন্যূনতম ৫১ শতাংশ বাংলাদেশি মালিকানাধীন হতে হবে।

এছাড়া আইসিডির মূল গেট জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে ২০০ মিটার দূরে রাখতে হবে। এই নীতিমালার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রণীত বেসরকারি আইসিডি নীতিমালা ২০১৬ ও সরকার প্রণীত অন্যান্য বিধি-বিধান পালন করতে হবে।

১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সি ফেয়ারার্স লিমিটেড, ওশান কনটেইনারর্স লিমিটেড, শফি মোটর্স লিমিটেড ও ইকবাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের নামে ৪টি বেসরকারি আইসিডি স্থাপন হয়। ১৯৯৮ সালে সর্বপ্রথম একটি অফিস আদেশ জারি করে।

এরপর ২০১৬ সাল পর্যন্ত স্থাপিত হয় আরও ১৪ বেসরকারি আইসিডি। তখন ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি বেসরকারি আইসিডি/অফডক নীতিমালা জারি করে।

তবে বেসরকারি আইসিডির অনুমোদন, পরিচালনা ও তদারকি যেহেতু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তত্ত্ববধানে হয়, তাই এর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এনবিআরকে জারি করার প্রয়োজনীয়তা ছিল দীর্ঘদিনের।

অবশেষে ৩৮ বছর পর হলেও চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করেছে এনবিআর।

বিকডা সচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, এনবিআর আইসিডি নীতিমালা স্থাপন ও পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রণয়নে অনেক আগে থেকেই উদ্যোগ নেয়। আইসিডি সংশ্লিষ্ট যাবতীয় তথ্য উপাত্ত নিয়ে প্রথমে খসড়া একটি নীতিমালা প্রকাশ করে।

পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক করা হয়। বৈঠকে নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। সবকিছু বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত এনবিআর চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করল।

শেয়ার করুন

আরও তিন বছর সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে মাসরুর আরেফিন

আরও তিন বছর সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে মাসরুর আরেফিন

মাসরুর আরেফিন ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে সিটি ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। গত তিন বছরে তিনি ব্যাংকটিকে ভিন্নতর উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাসরুর আরেফিন আরও তিন বছর সিটি ব্যাংকে নেতৃত্ব দেবেন।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেসরকারি এই ব্যাংকটি জানিয়েছে, মাসরুর আরেফিন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পদে পুনর্নিয়োগ পেয়েছেন। সম্প্রতি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পরে বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তী তিন বছরের জন্য তার পুনর্নিয়োগে অনুমতি প্রদান করেছে।

মাসরুর আরেফিন ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। গত তিন বছরে তিনি ব্যাংকটিকে ভিন্নতর উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এই সময়কালে ব্যাংকটির বার্ষিক আয় ৩৫ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করে এবং পরিচালন মুনাফা ৬১ শতাংশ বেড়ে ১০০০ কোটি টাকা মুনাফার সম্মানজনক ক্লাবে প্রবেশ করে।

একই সঙ্গে গত তিন বছরে ব্যাংকটির আয় ও ব্যয়ের অনুপাত ৫৯ শতাংশ থেকে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ নেমে আসে এবং বৈদেশিক বাণিজ্য বার্ষিক ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।

‘তার নেতৃত্বে সিটি ব্যাংক মূলত আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এজেন্ডা মাথায় নিয়ে একটি শহরভিত্তিক ব্যাংক থেকে সমগ্র দেশের আপামর জনমানুষের জন্য ডিজিটাল ব্যাংক হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি ব্যাংকে ডিজিটাল ন্যানো লোন এবং প্রথাগত ক্ষুদ্র ও মাইক্রো ফাইন্যান্সের সূচনা করেন,’ বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

মাসরুর আরেফিন এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকে ১৯৯৫ সালে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে যোগদান করেন। ২৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি এএনজেড ব্যাংক মেলবোর্ন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক কাতার, সিটি ব্যাংক এনএ, আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক এবং ইস্টার্ন ব্যাংকে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন।

মাসরুর আরেফিন তার ব্যাংকার পরিচয়ের পাশাপাশি একজন ঔপন্যাসিক, কবি ও অনুবাদক হিসেবেও পরিচিত।

শেয়ার করুন

ছোট দোকানে সরকারি উদ্যোগে ইএফটি মেশিন দেয়ার প্রস্তাব

ছোট দোকানে সরকারি উদ্যোগে ইএফটি মেশিন দেয়ার প্রস্তাব

জেলা প্রশাসক সম্মেলন উদ্বোধনীতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ছবি: নিউজবাংলা

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, যারা মেশিনটি কিনতে পারবেন না, সরকার নিজ উদ্যোগে তাদের মেশিন সরবরাহ করবে। পরে মেশিনের দাম কিস্তিতে পরিশোধ করবেন দোকানিরা। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পাশাপাশি সারা দেশে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।

গ্রামগঞ্জ থেকেও অধিক ভ্যাট আদায়ের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বাড়াতে স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ছোট দোকানগুলোতেও ইএফটি মেশিন দেয়ার প্রস্তাব করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, যারা মেশিনটি কিনতে পারবেন না, সরকার নিজ উদ্যোগে তাদের মেশিন সরবরাহ করবে। পরে মেশিনের দাম কিস্তিতে পরিশোধ করবেন দোকানিরা। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পাশাপাশি সারা দেশে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ডিসি সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে ‘অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সম্পর্কিত বিষয়াদি’র ওপর সাধারণ আলোচনা পর্বে এ প্রস্তাব দেন আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, ‘আজকাল গ্রাম পর্যায়ে মানুষের সামর্থ্য বেড়েছে। সেখানে অনেক কেনাকাটা হচ্ছে। অথচ এই কেনাকাটায় যে অর্থের প্রবাহ হচ্ছে, তার থেকে সরকার পাচ্ছে খুবই কম। যারা দিচ্ছে সেটিও সঠিক দিচ্ছে কি না প্রশ্ন সাপেক্ষ।’

তাই বিষয়টিতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে আরও জোর তদারকি করতে বলেন। সে সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সারা দেশে ছোট দোকানগুলোতেও সরকারি উদ্যোগে একটি করে মেশিন দেয়ার প্রস্তাব দেন।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘প্রস্তাবটি ভালো, যৌক্তিক। এ বিষয়ে অনেক আগে থেকেই এনবিআর কাজ করে আসছে। তবে এখনো সব পর্যায়ে তার বিস্তার ঘটেনি। অনেক এলাকায় গ্রামে পৌঁছে গেছে ইএফটি মেশিন। তবে অনেক এলাকায় এবং তৃণমূল পর্যায়ের দোকানগুলোতে একটি মেশিন স্থাপন করতে গেলে এর কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা আছে। সেখানে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয় প্রযুক্তিগত সমস্যা মোকাবিলা করবেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি, নিশ্চয়ই আমরা সে পর্যায়ে যাব।’

জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় বিষয়ক আলোচনায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কন্ট্রোল এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত দুটি বিশেষ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করার কথা জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী।

এ সময় তিনি জেলা প্রশাসকদের কাছে কোন এলাকায় এ রকম স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা যায় এবং সেখান নিষ্কণ্টক জমি পাওয়া গেলে মন্ত্রণালয়কে স্থানীয় পর্যায়ে থেকে প্রস্তাব করার অনুরোধ জানান।

শেয়ার করুন

নতুন বছরে নতুন রূপে দারাজ

নতুন বছরে নতুন রূপে দারাজ

দারাজের নতুন লোগো।

মিকেলসেন বলেন, ‘এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে হবে, গ্রাহকদের কেনাকাটার যাত্রার প্রতিটি ধাপে মানসম্পন্ন পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং গ্রাহকদের বিনোদন প্রদান ও যুক্ত করার নতুন উপায় তৈরি করতে হবে। এসব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আমাদের সেবা উন্নত ও বিকশিত করার ক্ষেত্রে  ব্র্যান্ড রিফ্রেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

নিজেদের নতুন লোগো ও ব্র্যান্ড লুক উন্মোচন করেছে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজ। আগের বছরের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতেই নতুন রূপে আসা বলে জানিয়েছে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটি।

দারাজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিয়ার্কে মিকেলসেন দারাজের নতুন সূচনা প্রতিষ্ঠানটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে অনন্য ভূমিকা রাখবে বলে জানান।

তিনি বলেন, ৭ বছরে দারাজের ব্যাবসায়িক পরিধি অনেক বেড়েছে। এখন সময় দারাজের নতুন এক অধ্যায়ে পদাপর্ণ করার। নতুন এ অধ্যায়ে দারাজের মূল লক্ষ্য থাকবে ক্রেতার জন্য উন্নত এবং আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।

ব্র্যান্ডের নতুন লুক এখনও দারাজের মূল ভ্যালুগুলোই ধারণ করে, একই সঙ্গে নতুন দারাজে যুক্ত হচ্ছে পারসোনালাইজড এক্সপেরিয়েন্স যাতে করে প্ল্যাটফর্মে ক্রেতা ও বিক্রেতা আরও দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত হতে পারেন বলে জানান তিনি।

মিকেলসেন বলেন, ‘এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে হবে, গ্রাহকদের কেনাকাটার যাত্রার প্রতিটি ধাপে মানসম্পন্ন পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং গ্রাহকদের বিনোদন প্রদান ও যুক্ত করার নতুন উপায় তৈরি করতে হবে। এসব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আমাদের সেবা উন্নত ও বিকশিত করার ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড রিফ্রেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

কীভাবে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এসএমই বিক্রেতাদের ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্ত করছে, তা তুলে ধরতে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আইকনটি। আইকনের কেন্দ্রে একটি তীর রয়েছে, যা প্রবৃদ্ধি এবং দ্রুত ডেলিভারিতে দারাজের পারদর্শিতাকে তুলে ধরে বলে জানায় দারাজ।

এটি দেখতে একটি ‘প্লে বাটন’ এর মতো, যা ব্যবহারকারীদের জন্য আরও অসাধারণ কনটেন্ট অভিজ্ঞতা তৈরিতে দারাজের ক্রমাগত উদ্ভাবনকেও ইঙ্গিত করে।

দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোস্তাহিদল হক বলেন, ‘দারাজ সব সময়ই দেশের ইন্ডাস্ট্রি ও তার গ্রাহকদের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাই তাদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে এবং ই-কমার্স সেক্টরকে সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে দারাজ বাংলাদেশ একটি সম্পূর্ণ রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করছি, এই পরিবর্তন দারাজের গ্রাহকদের একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা দেবে, যা আগে কখনো তারা দেখেননি।’

দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার মো. তাজদীন হাসান বলেন, "নতুন লোগো উন্মোচনের পেছনে রয়েছে এক বছরের কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতা। দারাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্র্যান্ড এলিমেন্টটিকে আরও সমসাময়িক, আধুনিক ও অর্থপূর্ণ করে গড়ে তুলতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্রিয়েটিভ এজেন্সি, ডিজাইন স্টুডিও নিবিড় গবেষণা চালায়, মাসের পর মাস চলে নানাবিধ মিটিং, আলোচনা ও গবেষণা। অবশেষে দারাজের অঙ্গীকার ‘শপিং ওডিসি’কে প্রাধান্য দিয়ে ‘আ বক্স অফ ইনফিনিট পসিবিলিটিসকে’ কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হয় আজকের প্রকাশিত লোগো।’’

গ্রাহকের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ও দারাজের অভ্যন্তরীণ ব্র্যান্ড যেমন দারাজ মল, দারাজ মার্ট ইত্যাদির মাঝে সাধারণ অবিচ্ছন্দতা সৃষ্টি করতে এই নতুন যাত্রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পাশাপাশি, দারাজ একটি নতুন ওয়েবসাইটও চালু করেছে, যা নতুন ব্র্যান্ডটিকে তুলে ধরবে এবং দারাজের পরিচয় ও এর কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সহায়তা করবে।

শেয়ার করুন

অবশেষে সাকিবকে যুক্ত করে লাইসেন্স পাচ্ছে পিপলস ব্যাংক

অবশেষে সাকিবকে যুক্ত করে লাইসেন্স পাচ্ছে পিপলস ব্যাংক

গত ২১ ডিসেম্বর পিপলস ব্যাংকের বিষয়ে আলোচনার জন্য গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করেন সাবিক আল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় পিপলস ব্যাংকের এলওআইর মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন উত্থাপনের কথা রয়েছে। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অনুমতি পেলে সাকিবের বদৌলতেই দেশে আরও একটি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সম্মতিপত্র দেয়ার তিন বছরেও চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক।

কয়েক দফা সম্মতিপত্রের (লেটার অব ইনটেন্ট বা এলওআই) মেয়াদ বাড়ানোর পর সবশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে তা শেষ হয়।

এখন নতুন করে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তার মা শিরিন আক্তারকে যুক্ত করার মাধ্যমে এলওআইর মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন করেছে ব্যাংকটি।

আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় পিপলস ব্যাংকের এলওআইর মেয়াদ আরও বাড়ানোর আবেদন উত্থাপনের কথা রয়েছে। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অনুমতি পেলে সাকিবের বদৌলতেই দেশে আরও একটি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হবে।

আর অনুমতি না মিললে প্রস্তাবিত ব্যাংকটির এলওআই বাতিল বলে গণ্য হবে।

জানা যায়, টাকার অভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারছিল না পিপলস ব্যাংক। জোগাড় হচ্ছিল না পেইড আপ ক্যাপিটালের (পরিশোধিত মূলধন) ৫০০ কোটি টাকা। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইওেসন্সও পাচ্ছে না ব্যাংকটি। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পিপলস ব্যাংকের দুটি পরিচালক পদের মালিকানায় আসছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের পোস্টার বয়। ব্যাংকটির মালিকানায় আসছেন সাকিব আল হাসান এবং তার মা শিরিন আক্তার।

ফলে এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এলওআই’র মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংকের মূল উদ্যোক্তা এম এ কাশেম সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছেন। এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর তিনি ক্রিকেটার সাবিক আল হাসানকে নিয়ে গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে সাকিব আল হাসান ও তার মা শিরিন আক্তারকে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ব্যাংকটিতে সাকিব মোট ২৫ কোটি টাকার মূলধন সরবরাহ করবেন বলে জানা গেছে।

পিপলস ব্যাংকের প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান ও প্রধান উদ্যোক্তা এম এ কাশেম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটি ব্যাংক পরিচালনার সুযোগ দিয়েছেন। তাই দেরি হলেও আমরা দেশবাসীর কাছে একটি ভালো ব্যাংক উপহার দিতে চাই। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। পিপলস ব্যাংকের মালিকানায় সাকিব আল হাসান ও তার মা যুক্ত হচ্ছেন। এরই মধ্যে আমরা তাদের ফাইল বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছি। সাকিবের মতো একজন তারকাকে উদ্যোক্তা হিসেবে পাওয়া আমাদের জন্য গৌরবের।’

তিনি বলেন, ‘পিপলস ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন আমরা সংগ্রহ করতে পেরেছি। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই শিগগিরই পিপলস ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হবে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংকের এলওআই’র মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে পরবর্তী করণীয় নিয়ে। তাছাড়া সাকিব ও তার মায়ের পরিচালক হওয়ার বিষয়টিও একই সঙ্গে বিবেচনাধীন রয়েছে।’

২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক থেকে নতুন করে তিনটি ব্যাংককে এলওআই দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। তিন ব্যাংকের মধ্যে বেঙ্গল গ্রুপের মালিকানার বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক বেশ আগেই চূড়ান্ত লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। আর আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দ্য সিটিজেন ব্যাংক চূড়ান্ত লাইসেন্স পেয়েছে।

তবে শর্ত পূরণ করতে না পারা ও বিভিন্ন বিতর্কের কারণে পিপলস ব্যাংক এখনও লাইসেন্স পায়নি।

দেশে বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে ৬১টি। এর মধ্যে সরকারি ও বিদেশি মালিকানায় ৯টি করে ১৮ ব্যাংক রয়েছে। বাকি ৪৩টি বেসরকারি মালিকানায়।

শেয়ার করুন