দেশে সবুজ পোশাক কারখানা এখন ১৫৫টি

player
দেশে সবুজ পোশাক কারখানা এখন ১৫৫টি

ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরের নিজামনগর এলাকায় অবস্থিত পোশাক কারখানা আমান গ্রাফিক্স অ্যান্ড ডিজাইনস লিমিটেড। ছবি: কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেয়া

পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা সাজ্জাদুর রহমান মৃধার হাত ধরে ২০১২ সালে প্রথম পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশে। পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে তিনি স্থাপন করেন ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও। তার দেখানো পথ ধরেই এখন একটার পর একটা সবুজ পোশাক কারখানা গড়ে উঠছে।

করোনা মহামারির মধ্যে রপ্তানিতে চমক দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ; সেই সঙ্গে বেড়ে চলেছে পরিবেশবান্ধব সবুজ পোশাক কারখানার সংখ্যা।

দশ বছর আগে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পে পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার সংখ্যা ছিল মাত্র ১টি। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ১৫৫টিতে দাঁড়িয়েছে। যা এই খাতের রপ্তানি বাড়াতে অবদান রাখছে বলে জানিয়েছেন রপ্তানিকারকরা।

রোববার পরিবেশসম্মত সবুজ কারখানার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন বা লিড সনদ পেয়েছে আরও দুই পোশাক কারখানা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) এ সনদ দেয়।

কারখানা দুটি হচ্ছে, শারমিন অ্যাপারেলস অ্যান্ড শারমিন ফ্যাশনস এবং এ এম ডিজাইন লিমিটেড। শারমিন অ্যাপারেলস অ্যান্ড শারমিন ফ্যাশনস পেয়েছে লিডের প্লাটিনাম ক্যাটাগরি। বিভিন্ন সূচকে ১১০ পয়েন্টের মধ্যে ৮০ পয়েন্টের ওপরের কারখানাকে প্লাটিনাম সনদ দেওয়া হয়।

এএম ডিজাইনের ক্যাটাগরি গোল্ড। রেটিং পয়েন্ট ৬০ হলেই গোল্ড ক্যাটাগরির সনদ দেওয়া হয়। নতুন দুই কারখানা মিলে দেশে এখন লিড সনদের কারখানার সংখ্যা দাঁড়াল ১৫৫টি।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সবুজ পোশাক কারখানা এখন বাংলাদেশে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ইউএসজিবিসি এই ১৫৫টি কারখানার স্বীকৃতি দিয়েছে।

পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা সাজ্জাদুর রহমান মৃধার হাত ধরে ২০১২ সালে প্রথম পরিবেশবান্ধব কারখানার যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশে। পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে তিনি স্থাপন করেন ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও। তার দেখানো পথ ধরেই দেশে একটার পর একটা পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা গড়ে উঠছে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। ২০১৪ সালে সবুজ কারখানা স্থাপন করা হয় ৩টি। ২০১৫ সালে হয় ১১টি। ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে স্থাপন করা হয় যথাক্রমে ১৬, ১৮ এবং ২৪টি।

২০১৯ সালে আরও ২৮টি সবুজ পোশাক কারখানা স্থাপন করেন পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। ২০২০ ও ২০২১ সালে ২৪টি করে আরও ৪৮টি কারখানা গড়ে উঠেছে দেশে।

আর এভাবেই সব মিলিয়ে দেশে মোট পরিবেশবান্ধব সবুজ পোশাক কারখানার সংখ্যা এখন ১৫৫টিতে দাঁড়িয়েছে।

এই কারখানাগুলোর মধ্যে ৪৬টি প্লাটিনাম, ৯৫টি গোল্ডেন, ১০টি সিলভার এবং ৪টি সার্টিফায়েড সনদ পেয়েছে। নির্মাণাধীন আছে প্রায় ৫০০ পরিবেশবান্ধব কারখানা।

পিছিয়ে নেই অন্যরাও। শিপইয়ার্ড, জুতা, ও ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাণেও আছে পরিবেশবান্ধব কারখানা। বাণিজ্যিক ভবনও হচ্ছে। তবে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বর্তমানে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব পোশাক ও বস্ত্রকল রয়েছে।

দেশে ১৫৫টি পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা হলেও সেগুলো কিন্তু যেনতেন মানের না। উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। বিশ্বে জিনস বা ডেনিম কাপড় উৎপাদন করার প্রথম পরিবেশবান্ধব কারখানা বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকায় এনভয় টেক্সটাইল। নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে রেমি হোল্ডিংস, সারা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা। আবার নারায়ণগঞ্জের উত্তর নরসিংহপুরের প্লামি ফ্যাশনস, নিট পোশাক তৈরি করা বিশ্বের প্রথম ও শীর্ষ নম্বর পাওয়া পরিবেশবান্ধব কারখানা।

দেশে সবুজ পোশাক কারখানা এখন ১৫৫টি
একটি সবুজ কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকরা

সারা বিশ্বের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। তাদের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)। তারা ‘লিড’নামে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। লিডের পূর্ণাঙ্গ রূপ লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন। সনদটি পেতে একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে হয়। ভবন নির্মাণ শেষ হলে কিংবা পুরোনো ভবন সংস্কার করেও আবেদন করা যায়।

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউএসজিবিসি। সংস্থাটির অধীনে কলকারখানার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল, বাড়ি, বিক্রয়কেন্দ্র, প্রার্থনাকেন্দ্র ইত্যাদি পরিবেশবান্ধব স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

বর্তমানে বিশ্বের ১৬৭ দেশে লিড সনদ পাওয়া স্থাপনার সংখ্যা ৯২ হাজারের বেশি। লিড সনদের জন্য ৯টি শর্ত পরিপালনে মোট ১১০ পয়েন্ট আছে। এর মধ্যে ৮০ পয়েন্টের ওপরে হলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ হলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ হলে ‘লিড সিলভার’ এবং ৪০-৪৯ হলে ‘লিড সার্টিফায়েড’সনদ মেলে।

সংস্থাটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, গত রোববার পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৫৫টি স্থাপনা লিড সনদ পেয়েছে। তার মধ্যে লিড প্লাটিনাম ৪৬টি, গোল্ড ৯৫টি, সিলভার ১০টি এবং ৪টি সার্টিফায়েড সনদ পেয়েছে।

বর্তমানে ৫০০-এর বেশি প্রকল্প পরিবেশবান্ধব হতে ইউএসজিবিসির অধীনে কাজ চলছে।

সাধারণত অন্যান্য স্থাপনার চেয়ে পরিবেশবান্ধব স্থাপনায় ৫-২০ শতাংশ খরচ বেশি হয়। তবে বাড়তি খরচ করলেও দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যায়। ইউএসজিবিসি লিড সনদ পেতে স্থাপনা নির্মাণে ৯টি শর্ত পরিপালন করতে হয়। তার মধ্যে আছে এমন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করতে হয়, যাতে কার্বন নিঃসরণ কম হয়। এ জন্য পুনরুৎপাদনের মাধ্যমে তৈরি ইট, সিমেন্ট ও ইস্পাত লাগে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সূর্যের আলো, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাতি ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি পানি সাশ্রয়ী কল ও ব্যবহৃত পানি প্রক্রিয়াজাত করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করতে হয়।

এ ছাড়া স্থাপনায় পর্যাপ্ত খোলা জায়গা রাখার বাধ্যবাধকতা আছে। সব মিলিয়ে পরিবেশবান্ধব স্থাপনায় ২৪-৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ, ৩৩-৩৯ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ এবং ৪০ শতাংশ পানি ব্যবহার কমানো সম্ভব। তার মানে দেশে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সংখ্যা যত বেশি হবে, ততই তা পরিবেশের ওপর চাপ কমাবে।

পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তৈরি পোশাক উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে সবার থেকে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ৷ এই উদ্যোগ শিল্প ও দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বাড়াতে সবুজ ভবনে বিনিয়োগ করছেন আমাদের উদ্যোক্তারা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্যোক্তাদের দূরদর্শিতা ও প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও উদ্যোগের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। সবুজ শিল্পায়নে এই সাফল্যের জন্য ইউএসজিবিসি পৃথিবীর প্রথম ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে ২০২১ সালে বিজিএমইএকে লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে।’

ফারুক হাসান বলেন, ‘পোশাক খাতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর আমরা শিল্পটিকে পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ নিই। গত এক দশকে আমাদের উদ্যোক্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিরাপত্তা খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং সরকার-ক্রেতা-উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় আজ বাংলাদেশের পোশাকশিল্প একটি নিরাপদ শিল্প হিসেবে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা শিল্পে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের এই উদ্যোগ ও অর্জন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।’

‘এই যে এখন আমাদের রপ্তানিতে সুবাতাস বইছে, তাতে সবুজ কারখানাগুলো বড় অবদান রাখছে। এখন বিশ্বে আমাদের পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি৷ এটা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বলে আমি মনে করি।’

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা যায়, গত বছর বাংলাদেশের পোশাকশিল্প সবচেয়ে ভালো বছর পার করেছে। করোনা মহামারির মধ্যেই ৫০ বছর পূর্তির এই বছরে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি (৩৬ বিলিয়ন) ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এনেছে এই খাত, যা ২০২০ সালের চেয়ে ৩০ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি।

বর্তমান বিনিময় হার (৮৬ টাকা) হিসাবে টাকার অঙ্কে ২০২১ সালে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি করেছেন এ খাতের রপ্তানিকারকরা, যা চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের অর্ধেক। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক বছরে পোশাক রপ্তানি থেকে এত বেশি আয় হয়নি।

আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৮ দশমিক ০২ শতাংশ বেশি।

সবশেষ ডিসেম্বর মাসেই ৪ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার এসেছে এই খাত থেকে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
জুলাইয়ে আর খুলছে না পোশাক কারখানা
ওয়াল্ট ডিজনি রপ্তানি ‘বাড়াবে’ এক বিলিয়ন ডলার
গার্মেন্টস খোলা রাখতে মালিকদের চার যুক্তি
কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা চালু
সরকার বললে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখবেন মালিকরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গ্রামীণ ইউনিক্লোর শীতবস্ত্র পেল ১৩০০ পরিবার

গ্রামীণ ইউনিক্লোর শীতবস্ত্র পেল ১৩০০ পরিবার

গ্রামীণ ইউনিক্লোর শীতবস্ত্র পেয়ে শীতার্ত দরিদ্র মানুষগুলোর মুখে স্বস্তির হাসি। ছবি: সংগৃহীত

গ্রামীণ ইউনিক্লোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হক বলেন, ‘সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কার্যক্রম নিচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। আগামীতেও আমাদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ৩০০ শীতার্ত পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে পোশাক বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ ইউনিক্লো’। এসবের মধ্যে রয়েছে ফ্লানেল শার্ট, কম্বল, সোয়েটার, কার্ডিগান, প্যান্ট ও শিশুদের পোশাক।

দেশের সর্ব উত্তরের শীতগ্রস্ত জেলা পঞ্চগড়ে সবচেয়ে বেশি ৬০০ মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকায় অসহায় ও গৃহহীন মানুষসহ অন্যান্য এলাকার ৭০০ মানুষকেও শীতবস্ত্র দিয়েছে গ্রামীণ ইউনিক্লো।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হক বলেন, ‘গ্রামীণ ইউনিক্লো সামাজিক ব্যবসায় হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কার্যক্রম নিচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। আগামীতেও আমাদের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন গ্রামীণ ইউনিক্লোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

বর্তমানে এশিয়ার শীর্ষ পোশাক বিক্রয়কারী জাপানি প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ ইউনিক্লো’। গ্রামীণ ইউনিক্লো বাংলাদেশে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা হয় এবং ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন স্থানে নতুন আউটলেট স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানটি সমাজের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন:
জুলাইয়ে আর খুলছে না পোশাক কারখানা
ওয়াল্ট ডিজনি রপ্তানি ‘বাড়াবে’ এক বিলিয়ন ডলার
গার্মেন্টস খোলা রাখতে মালিকদের চার যুক্তি
কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা চালু
সরকার বললে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখবেন মালিকরা

শেয়ার করুন

প্রণোদনা বাড়ার পর বাড়ছে রেমিট্যান্স

প্রণোদনা বাড়ার পর বাড়ছে রেমিট্যান্স

প্রতীকী ছবি

‘এরই মধ্যে দুটি সুসংবাদ এসেছে। তিন বছর পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে; ফের শ্রমিক যাবে সেখানে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। সেখান থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসবে। আরেকটি সুখবর হচ্ছে, সরকার ১ জানুয়ারি থেকে রেমিট্যান্সের প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করেছে। সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমরা সেই প্রভাব দেখতে পাচ্ছি।’

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সপ্রবাহে ফের গতি ফিরছে। টানা পাঁচ মাস কমার পর ডিসেম্বরে কিছুটা বেড়েছিল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে সেই গতি আরও বেড়েছে।

জানুয়ারির ২০ দিনেই দেশে ১২২ কোটি ৪১ লাখ (১.২২ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা) হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ১০ হাজার ৫২৭ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

অর্থনীতির গবেষক ও ব্যাংকাররা বলছেন, নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে সরকার রেমিট্যান্সপ্রবাহে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করেছে। তারই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এই সূচকে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হওয়ায় ওই সব দেশ থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসছে বলে মনে করছেন তারা।

রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিয়ে আসছিল সরকার। ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ কোনো প্রবাসী এতদিন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে যার নামে পাঠাতেন তিনি ১০২ টাকা পেতেন। এখন পাচ্ছেন ১০২ টাকা ৫০ পয়সা।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্সের সাপ্তাহিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি জানুয়ারি মাসের ২০ দিনে (১ থেকে ২০ জানুয়ারি) প্রবাসীরা বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ১২২ কোটি ৪০ লাখ ৯০ হাজার ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এই ২০ দিনে যে হারে রেমিট্যান্স এসেছে, মাসের বাকি ১১ দিনে যদি সে হারেও আসে তাহলে জানুয়ারিতে মোট রেমিট্যান্সের অঙ্ক গিয়ে ঠেকবে ১৯০ কোটি ডলারে; যা হবে একক মাসের হিসাবে আগের সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এর আগে ২০২১ সালের জুনে ১৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

জানুয়ারি মাসের ২০ দিনে যে রেমিট্যান্স এসেছে, তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। ৪২টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৯৬ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। আর পাঁচটি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫২ লাখ ডলার।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ার সময় সারা বিশ্বই মহামারিতে কাঁপছিল। আশঙ্কা করা হয়েছিল, প্রবাসী আয়ে ভাটা পড়বে। কিন্তু অবিশ্বাস্য উত্থানে প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে চাপ পড়তে দেননি। টানা দেড় বছর বাড়ার পর গত বছরের জুলাই থেকে ক্রগামত কমতে থাকে রেমিট্যান্স।

তবে বছরের শেষ পাঁচ মাস ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির পরও ২০২১ সালে ২ হাজার ২০৭ কোটি (২২.০৭ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছিল বাংলাদেশ, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

এর আগে এক বছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০ সালে, ২১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালে এসেছিল ১৮ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।

অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ১ হাজার ২৩ কোটি (১০.২৩ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২৯৪ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ২৭০ কোটি ডলার বা ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।

তবে নতুন বছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সপ্রবাহ ফের বাড়বে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাশার।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মহামারির মধ্যে একটা ভিন্ন পেক্ষাপটে রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন হয়েছিল। যার কাছে যা জমানো টাকা ছিল পরিবার-পরিজনের প্রয়োজনে সব দেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। করোনায় সবকিছু বন্ধ থাকায় অবৈধ পথে (হুন্ডি) কোনো রেমিট্যান্স আসেনি; সব এসেছিল ব্যাংকিং চ্যানেলে। সে কারণেই গত অর্থবছরে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

‘এরই মধ্যে দুটি সুসংবাদ এসেছে। তিন বছর পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে; ফের শ্রমিক যাবে সেখানে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। সেখান থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসবে। আরেকটি সুখবর হচ্ছে, সরকার ১ জানুয়ারি থেকে রেমিট্যান্সের প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করেছে। সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমরা সেই প্রভাব দেখতে পাচ্ছি।’

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ কথা ঠিক যে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সপ্রবাহে ধীরগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। কিন্তু সেটা গত অর্থবছরের চেয়ে কম। আগের যে কোনো অর্থবছরের সঙ্গে তুলনা করলে এই রেমিট্যান্সকে কিন্তু কম বলা যাবে না। করোনা মহামারির মধ্যে সবকিছু বন্ধ থাকায় গত অর্থবছরে কিন্তু পুরো রেমিট্যান্স এসেছিল ব্যাংকিং চ্যানেলে; হুন্ডির মাধ্যমে আসেনি। এখন সবকিছু খুলে যাওয়ায় এবং ব্যাংক রেটের চেয়ে কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বেশ বেশি হওয়ায় সম্ভবত হুন্ডির মাধ্যমেও কিছু রেমিট্যান্স আসছে। সে কারণেই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কম দেখা যাচ্ছে।

‘তবে আমার মনে হচ্ছে, রেমিট্যান্সপ্রবাহে ফের গতি ফিরে আসবে। সরকার প্রণোদনার পরিমাণ বাড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতেও গতি ফিরে এসেছে। এসব কিছুর প্রভাব রেমিট্যান্সে পড়বে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রণোদনা বেড়েছে। সামনে দুটি ঈদ উৎসব আছে। সবকিছু মিলিয়ে আগামী দিনগুলোয় রেমিট্যান্স বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে।’

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর রেমিট্যান্সপ্রবাহেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ওই বছরের এপ্রিলে মাত্র ১০৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। মে মাসে তা বেড়ে ১৫০ কোটি ৪৬ লাখ ডলারে ওঠে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৩ কোটি ২৬ লাখ ডলার।

মহামারির মধ্যেও ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরোটা সময়ে (২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন) রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন লক্ষ করা যায়। ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

গত অর্থবছরের ১২ মাসের মধ্যে সাত মাসই ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

কিন্তু চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সপ্রবাহে ভাটার টান লক্ষ করা যায়। প্রথম মাস জুলাইয়ে আসে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আগস্টে আসে ১৮১ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে আসে ১৭২ কোটি ৬২ লাখ ডলার। অক্টোবরে আসে ১৬৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। নভেম্বরে আসে আরও কম, ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

তবে গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে তা কিছুটা বেড়ে ১৬৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা সোয়া কোটি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রিজার্ভও বাড়ছে

গত ৫ জানুয়ারি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। গত কয়েক দিনে তা বেড়ে এখন ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ওপর অবস্থান করছে।
রোববার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৫ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন:
জুলাইয়ে আর খুলছে না পোশাক কারখানা
ওয়াল্ট ডিজনি রপ্তানি ‘বাড়াবে’ এক বিলিয়ন ডলার
গার্মেন্টস খোলা রাখতে মালিকদের চার যুক্তি
কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা চালু
সরকার বললে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখবেন মালিকরা

শেয়ার করুন

করোনার টিকা নিতেই হবে ব্যাংকারদের

করোনার টিকা নিতেই হবে ব্যাংকারদের

করোনাকালে অন্যান্য নানা খাতের মতো ব্যাংকেও আরোপ হয়েছে নানা বিধিনিষেধ। ছবি: নিউজবাংলা

টিকা সনদ না থাকলে ব্যাংকে যাওয়ায় কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না, এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি।    

করোনার তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার পর নানা বিধিনিষেধের মধ্যে এবার ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনার টিকা গ্রহণ করে সনদ নেয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের পাশাপাশি ব্যাংকে আসা লোকজনকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।

রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়, ‘সব তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের টিকা সনদ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের কর্মী ও আগত সেবাগ্রহীতাদের আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধানসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।’

টিকা সনদ না থাকলে ব্যাংকে যাওয়ায় কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না, এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি।

করোনার সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়ে চলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ জানুয়ারি থেকে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যদিও এসব বিধিনিষেধ অনেকটাই কাগুজে হয়ে রয়েছে।

এর মধ্যে বিধিনিষেধ কঠোর করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অর্ধেক লোকবল দিয়ে অফিস চালাতে বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের শুনানি অনলাইনে করতে বলা হয়েছে।

কোনো সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না, যারা যোগ দেবেন, তাদের টিকা সনদ অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর টেস্টের রিপোর্ট দেখাতে বলা, সরকারি, বেসরকারি অফিস এবং শিল্পকারখানায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিকা সনদ দেখানোর বাধ্যবাধকতাও আরোপ করা হয়েছে।

করোনায় ১৩৩ ব্যাংকারের মৃত্যু

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, করোনা মহামারি শুরুর পর ২০২১ সালের মে পর্যন্ত দেশের ব্যাংকের ১৩৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী মারা গেছেন। আর আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ হাজার ৩৯৯ জন।

এই ১৩৩ কর্মকর্তার মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোরই ৭৩ জন। আবার সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা। ব্যাংকটি ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হারিয়েছে। আক্রান্তও বেশি হয়েছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। গত মে পর্যন্ত ব্যাংকটির ২ হাজার ৭৯৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী আক্রান্ত হয়েছেন।

ব্যাংকারদের মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব ব্যাংকে গ্রাহক ভিড় যত বেশি, সেই ব্যাংকের আক্রান্তের সংখ্যাও তত বেশি। পাশাপাশি যেসব ব্যাংক করোনা প্রতিরোধে বেশি ব্যবস্থা নিয়েছে, ওই ব্যাংকের কর্মকর্তারাও নিজেদের বেশি সুরক্ষিত রাখতে পেরেছেন।

২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ২০৬ জন। আর গত মে পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ হাজার ৩৯৯ জন। ফলে ব্যাংকের জনবলের প্রায় ১৪ শতাংশই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন:
জুলাইয়ে আর খুলছে না পোশাক কারখানা
ওয়াল্ট ডিজনি রপ্তানি ‘বাড়াবে’ এক বিলিয়ন ডলার
গার্মেন্টস খোলা রাখতে মালিকদের চার যুক্তি
কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা চালু
সরকার বললে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখবেন মালিকরা

শেয়ার করুন

যোগ্য সবাই প্রণোদনা পাবে: অর্থমন্ত্রী

যোগ্য সবাই প্রণোদনা পাবে: অর্থমন্ত্রী

করোনায় ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের কোষাগার থেকে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি যোগ্য সব ব্যবসায়ী তা পাবেন। যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে সেগুলো পূরণ করতে পারলে অবশ্যই তাদের প্রণোদনা দেয়া হবে। আমি মনে করি, এটা নিয়ে যে ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে তা নিরসন হবে।’

করোনাভাইরাস মহামারিতে ব্যাবসায়িক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের আর্থিক প্রণোদনার সুবিধা সবাই পাবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থনৈতিক ও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে রোববার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি এফবিসিসিআইয়ের এক সভায় মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা সবাই প্রণোদনা পায়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি যোগ্য সব ব্যবসায়ী তা পাবেন। যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে সেগুলো পূরণ করতে পারলে অবশ্যই তাদের প্রণোদনা দেয়া হবে। আমি মনে করি, এটা নিয়ে যে ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে তা নিরসন হবে।’

প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি এ সুবিধা না পান তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

জোর গুঞ্জন আবারও গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হতে পারে। এর মধ্যে করোনা সংক্রমণ আবারও বাড়ছে, সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে, মূল্যস্ফীতিও বাড়ছে।

এ অবস্থায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ঠিক হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দাম বাড়ানো হয়নি। আমার দিক থেকে দাম বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আমি বিষয়টি এখনও জানি না। খোঁজ নিয়ে বলতে পারব।

‘আমাদের সরকার জনগণের সরকার। এ দেশের সব জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পথ চলতে হবে। আমি মনে করি, চলার পথ কখনও বিঘ্নিত হবে না। আমরা এগিয়ে যাব।’

এফবিসিসিআইর সাম্প্রতিক সভায় মাঠপর্যায়ের ভ্যাট ও কাস্টমস কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ আসার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন দ্রুত বাড়ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যু। তবে এ বিষয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলে জানালেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ’ওমিক্রন নিয়ে যতটা ভয় হচ্ছে, ততটা ভয়ের কারণ নেই। আগে যেভাবে আমরা মোকাবিলা করেছি, তেমনিভাবে এবারও মোকাবিলা করতে পারব।’

আরও পড়ুন:
জুলাইয়ে আর খুলছে না পোশাক কারখানা
ওয়াল্ট ডিজনি রপ্তানি ‘বাড়াবে’ এক বিলিয়ন ডলার
গার্মেন্টস খোলা রাখতে মালিকদের চার যুক্তি
কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা চালু
সরকার বললে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখবেন মালিকরা

শেয়ার করুন

মন্ত্রিপরিষদে নতুন আমদানিনীতি: থাকছে সুযোগ, কড়াকড়ি

মন্ত্রিপরিষদে নতুন আমদানিনীতি: থাকছে সুযোগ, কড়াকড়ি

নতুন আমদানিনীতিতে আমদানি সহজ করার মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানোর কৌশল নেয়া হয়েছে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

নতুন আমদানিনীতি আদেশ অনুযায়ী দেশে পুরোনো মোটরসাইকেল ও ক্যাসিনো বা জুয়াখেলার পণ্যসামগ্রী আমদানি নিষিদ্ধ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা রক্ষায় সংকুচিত করা হচ্ছে পুরাতন কাপড় আমদানির পথও।

তিন বছর মেয়াদি নতুন আমদানিনীতি আদেশ চূড়ান্ত হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে এই নতুন নীতি আদেশে ব্যবসায়ীদের জন্য থাকছে হরেক সুবিধা। এতে আমদানি সহজ করার মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানোর কৌশল নেয়া হয়েছে।

গত এক যুগে দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয় শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। বড় হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যের আকার। এসব কিছু বিবেচনায় রেখে নতুন আমদানিনীতি আদেশে স্থানীয় শিল্পের প্রসারে পদক্ষেপের পাশাপাশি আমদানির সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণে কিছু কড়াকড়িও আরোপ করা হয়েছে।

এভাবেই বৈশ্বিক অঙ্গনের সঙ্গে আগামী তিন বছর দেশের আমদানি বাণিজ্য কোন মানদণ্ডে পরিচালিত হবে, তার রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর প্রস্তাবিত নাম রাখা হয়েছে ‘আমদানিনীতি আদেশ ২০২১-২৪।’

নতুন আমদানিনীতি আদেশটি রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেয়া হবে। সোমবারই বসছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যতালিকায় প্রস্তাবিত ‘আমদানিনীতি আদেশ ২০২১-২৪’ অগ্রাধিকারভিত্তিতে স্থান পাচ্ছে। নতুন করে জটিলতা তৈরি না হলে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চলতি সপ্তাহ অথবা আগামী সপ্তাহের বৈঠকে নতুন আমদানিনীতি আদেশটি অনুমোদন পেতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নীতি আদেশটি প্রণয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে অংশীজনদের মতামত। গত কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে এ কাজটি করে আসছে মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি আমদানিনীতির একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া তৈরি হয়। এরপর আইন মন্ত্রণালয় এই নতুন নীতি আদেশটির ওপর আইনি পরীক্ষা কার্যক্রমও (ভেটিং) শেষ করেছে।

প্রতি তিন বছর পর পর দেশে একটি নতুন আমদানিনীতি আদেশ জারি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে ২০১৮-২০২১ সালে আমদানিনীতি জারি করা হয়নি। সবশেষ ‘আমদানিনীতি আদেশ ২০১৫-১৮’ এখন পর্যন্ত আমদানির ক্ষেত্রে বলবৎ আছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আমদানি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, নতুন আমদানিনীতি আদেশ ২০২১-২৪ চূড়ান্ত। রোববার তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। চলতি সপ্তাহে সম্ভব না হলে আগামী সপ্তায় আমদানিনীতি আদেশটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উঠতে পারে। সেখানে অনুমতি মিললে খসড়াটি গেজেট আকারে জারি করা হবে।

কী থাকছে নতুন আমদানিনীতি আদেশে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের উন্নয়নে আমদানিকে সহজ করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ রাখা হয়েছে এই আমদানিনীতি আদেশে। এতে ব্যবসায়ীরা উদ্বুদ্ধ হবেন এবং উপকৃত হবেন। স্থানীয় শিল্পেরও প্রসার ঘটবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নতুন আমদানিনীতি আদেশ অনুযায়ী দেশে পুরোনো মোটরসাইকেল আমদানি নিষিদ্ধ হচ্ছে। এ ছাড়া কোনো আমদানিকারক ব্লুটুথ অ্যানাবেল টেকনোলজিসংবলিত মোটরসাইকেল আমদানি করতে চাইলে তাকে আগে থেকেই বিটিআরসির অনুমতি নিতে হবে। থাকতে হবে অনুমোদিত সার্টিফেকেটও। নিষিদ্ধ হচ্ছে ক্যাসিনো বা জুয়াখেলার পণ্যসামগ্রী আমদানিও।

নতুন আমদানিনীতি অনুযায়ী কোনো আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক জাল, ঘষামাজা, মিথ্যা কাগজপত্র দাখিল করে জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধন সনদ গ্রহণ, গ্রহণের উদ্যোগ বা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন করলে আমদানিনীতি আদেশের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আমদানি-রপ্তানিকারককে কালো তালিকাভুক্তি, তার সনদ স্থগিত বা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। রপ্তানির ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দিলে এক্সপোর্টস কন্ট্রোল অ্যাক্ট, ১৯৫০ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, জাতি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষায় সংকুচিত করা হচ্ছে পুরাতন কাপড় আমদানির পথও। তাই নতুন আমদানিনীতিতে সংশ্লিষ্ট ধারায় সংশোধনী এনে পুরাতন কাপড় আমদানির পথ সংকুচিত করা হচ্ছে, যা ২০২৬ সালের পর শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ পরবর্তী আমদানিনীতি আদেশ ২০২৪-২৭ স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে পুরাতন কাপড় আমদানি।

এ ছাড়া বিদ্যমান আমদানিনীতি অনুযায়ী বর্তমানে দেশের তারকামানের হোটেলগুলোরই শুধু অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলিক বেভারেজ আমদানির অনুমতি রয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রে রয়েছে অস্পষ্টতা।

তবে এবার পর্যটনকে গুরুত্ব দিয়ে শুধু সরকার অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত রেস্তোরাঁ, বার, সামাজিক ক্লাব, প্রাইভেট ক্লাব, চিত্তবিনোদন ক্লাবগুলোকেও তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলিক বেভারেজ আমদানির অস্পষ্ট নির্দেশনাকে স্পষ্ট করার প্রস্তাব রয়েছে। এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সবুজসংকেত পেলে সংশ্লিষ্ট ধারায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

থাকছে যেসব সুবিধা

নতুন আমদানিনীতিতে বিদ্যমান নীতিমালার কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংযোজন-বিয়োজন বা সংশোধন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং ইনডেন্টরদের নিবন্ধন ফি ও নবায়ন ফি হ্রাস করা হয়েছে।

প্রচলিত আমদানি নীতিমালায় একজন আমদানিকারককে প্রতিবছর আমদানি নিবন্ধন সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হয়। তবে নতুন নীতিমালায় এখন থেকে প্রতি বছর নয়, বরং পাঁচ বছর পর একবার নবায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি কমানো হয়েছে।

এ ছাড়া এলসির পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতা চুক্তির মাধ্যমে আমদানিকারক পণ্য আমদানি করতে পারবেন। ফলে যে কেউ সহজেই বিদেশ থেকে পণ্যসামগ্রী আমদানির সুযোগ নিতে পারবেন। বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতের ব্যবসায়ীদের নমুনা আমদানি সহজ করা হয়েছে।

বর্তমান আমদানিনীতিতে সংশ্লিষ্ট আমদানি-রপ্তানি দপ্তরাধীন এলাকার মধ্যেই শুধু ঋণপত্রের মনোনীত ব্যাংক পরিবর্তনের সুযোগ আছে। তবে নতুন আমদানি নীতিতে আমদানিকারকের জন্য তার ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো ব্যাংক পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বর্তমান নিয়মে আমদানি ঋণপত্র খোলার পর ঋণপত্রের কপি ১৫ দিনের মধ্যে আমদানি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হয়। নতুন নিয়মে ডিজিটাল মাধ্যমে জমা দিলেই চলবে।

এ ছাড়া বর্তমানে আমদানির জন্য প্রাথমিক সনদের সর্বনিম্ন নিবন্ধন ফি ৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা ধার্য রয়েছে। বার্ষিক নবায়ন ফি দিতে হয় ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা।

নতুন আমদানিনীতিতে সর্বনিম্ন প্রাথমিক নিবন্ধন ফি কমিয়ে ৩ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বছর বছর নবায়নের ঝামেলা যাতে না পোহাতে হয় সে লক্ষ্যে পাঁচ বছরের জন্য নবায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে আমদানিনীতিতে। এ জন্য সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নিবন্ধন ফি প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রচলিত নীতিতে আমদানিকারকদের বার্ষিক আমদানির পরিমাণ ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে পর্যন্ত মোট ছয়টি শ্রেণিতে নিবন্ধন সনদের সুযোগ ছিল। এটি সহজ করার জন্য নতুন নীতিতে পাঁচটি শ্রেণিতে নিবন্ধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বার্ষিক আমদানিসীমা ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ১০ লাখ থেকে তার ওপরে ৫০ লাখ, ১ কোটি, ৫ কোটি ও ৫ কোটির ওপরে এ পাঁচটি ভাগে নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জুলাইয়ে আর খুলছে না পোশাক কারখানা
ওয়াল্ট ডিজনি রপ্তানি ‘বাড়াবে’ এক বিলিয়ন ডলার
গার্মেন্টস খোলা রাখতে মালিকদের চার যুক্তি
কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা চালু
সরকার বললে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখবেন মালিকরা

শেয়ার করুন

ব্যাংকে বেতন বৃদ্ধি: নির্বাহীরা ক্ষুব্ধ, চাকরিপ্রার্থীরা খুশি

ব্যাংকে বেতন বৃদ্ধি: নির্বাহীরা ক্ষুব্ধ, চাকরিপ্রার্থীরা খুশি

ব্যাংক নির্বাহীদের প্রশ্ন, ‘কলমের এক খোঁচায়’ বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য। ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকাররা বললেন, এটি পালন করা হলে ব্যাংক খাতে তৈরি হবে অস্থিরতা। চাকরিপ্রার্থীরা এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, বেসরকারি ব্যাংকের চাকরির জন্য দরখাস্ত করলে বেতন বলা হয় ২০ হাজার টাকা। এই বেতন লজ্জাজনক।

ব্যাংকে ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। হঠাৎ করে নেয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্ত কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে হচ্ছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ব্যাংকের অফিস সহায়কদেরও (সাপোর্ট স্টাফ) বেতন ঠিক করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংক নির্বাহীদের প্রশ্ন, ‘কলমের এক খোঁচায়’ বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য। তবে ন্যূনতম বেতন নিয়ে খুশি চাকরিপ্রার্থীরা।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আকস্মিকভাবে তিনটি পদে ন্যূনতম বেতন ঠিক করে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সেখানে বলা হয়, অফিস সহায়কদের সর্বনিম্ন বেতন হবে ২৪ হাজার টাকা, শিক্ষানবিশ অবস্থায় ন্যূনতম বেতন হবে ২৮ হাজার টাকা এবং চাকরি স্থায়ী হলে বেতন দিতে হবে ৩৯ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। এতে করে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেতনবৈষম্য কমবে।’

এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্যাংকাররা। বলেন, এটি পরিপালন হলে ব্যাংক খাতে তৈরি হবে অস্থিরতা।

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, ‘ব্যাংক খাতে ঝাড়ু দিলেই ২৪ হাজার টাকা দিতে হবে, যেখানে গার্মেন্ট খাতে ঝাড়ু দিলে ৮ হাজার টাকা। অন্য খাতের সঙ্গে এত পার্থক্য কেন? এ ধরনের নীতিমালা কেন্দ্রীয় ব্যাংক জারি করার অধিকার রাখে না।’

এ ব্যাপারে এখনই মন্তব্য দেয়নি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। সংগঠনের সভাপতি সেলিম আর এফ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা সময়ের ব্যাপার। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাটি পর্যালোচনা করছি। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী মতামত জানাব। এ জন্য কয়েক দিন সময় লাগবে।’

চাকরিপ্রার্থী অনেকেই বেতন বৃদ্ধির এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বেসরকারি ব্যাংকের চাকরির জন্য দরখাস্ত করলে বেতন বলা হয় ২০ হাজার টাকা। এই বেতন লজ্জাজনক।

ছুটির দিন থাকায় বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

চাকরিপ্রার্থীরা খুশি

২০২০ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন শহীদ হাসান। সবশেষ ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারি ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে শহীদ বলেন, ‘পড়ালেখা শেষ করার পর ব্যাংকের চাকরির ভাইভাতে অফার করা হয় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। অনেক ক্ষেত্রে নিজে কত বেতন প্রত্যাশা করি কর্তৃপক্ষ সেটা জানতে চায়।’

শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেটে তেজগাঁও কলেজে চাকরির পরীক্ষা দিতে আসা তরিকুল ইসলাম জানান, ‘বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি নিতে গেলে সামান্য বেতন বলে। চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নিজেকে তখন অপমানিত মনে হয়।’

খোরশেদ আলম এই সিদ্ধান্তকে ধন্যবাদ জানিয়ে দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। বলেন, ‘ন্যূনতম বেতন-ভাতা না দিলে এই বাজারে টিকে থাকা কঠিন।’

শ্রাবন্তী চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যূনতম বেতন কাঠামো ঠিক করে দেবার ফলে আমাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। এই পথে পা বাড়াতে আগ্রহ আরও বাড়বে।’

ব্যাংকারদের সঙ্গে কথা বলে নতুন বেতন বাস্তবায়নে তাগিদ দেন জসিম সর্দার। বলেন, ‘নানা অজুহাতে চাকরিচ্যুত করা হয়, যা এই নির্দেশনার পর বন্ধ হবে।’

দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ব্যাংকের আরও প্রশিক্ষণের তাগিদ জানিয়ে সুমি আক্তার জানান, ‘এ পর্যন্ত চারটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। যদি চাকরি হয়, তবে নতুন কাঠামোতে বেতন হবে। বেতন বেশি হলে দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এক প্রকার তাড়না তৈরি হবে।’

টিকতে পারবে না ব্যাংক

বেতন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ব্যাংকে অস্থিরতা তৈরি হবে বলে মন্তব্য করছেন ব্যাংকাররা। বেসরকারি খাতের অন্যতম বড় ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘একটি ব্যক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের পর্ষদ সরকারের ন্যূনতম বেতন কাঠামো মেনে তাদের কর্মীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করবে। হঠাৎ করেই বেতন চাপিয়ে দিলে অন্য খাতের কী হবে?’

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাতের ওপর এটা কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেটা নিয়ে তারা (বাংলাদেশ ব্যাংক) কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। এককভাবে এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক চাপিয়ে দিতে পারে না।

‘গার্মেন্ট খাতে বেতন বাড়ানোর জন্য কত দর-কষাকষি করতে হয়েছে। আর এখানে একটা কলমের খোঁচা দিয়েই সব ব্যাংক খাতের বেতন ১০-২০ হাজার বাড়িয়ে দেবে এটা হতে পারে না। নৈতিকভাবে এটা সমর্থনযোগ্য নয়।’

অর্থনীতির এই বিশ্লেষক মনে করেন, সরকারি ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এটা করতে পারে। কিন্তু ব্যক্তি খাতের ব্যাংকে এ ধরনের হস্তক্ষেপের অধিকার বাংলাদেশ ব্যাংকের আছে কি না সেটা আইনানুগ দিক থেকে দেখতে হবে। এটা আইনবহির্ভূত।

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কমর্চারীরা কাজ না করলে তাদের ছাঁটাইও করা যাবে না। এ ধরনের নির্দেশনা ক্ষমতাবহির্ভূত। ভালো কর্মীর মূল্যায়ন কমে যাবে। কারণ যিনি কাজ কম করবেন বা করবেন না, তাকেসহ সবাইকে প্রমোশন দিতে হবে, বেতন বাড়াতে হবে। এটা কোন আইনে হয়? এটা বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকে শৃঙ্খলা থাকবে না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংক এমডি এবং চেয়ারম্যান পর্যায়ে কর্মকর্তাদের বেতনের পার্থক্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০০ শতাংশ হয়। ওপরের কর্মকর্তাকে গাড়ি-বাড়িসহ নানা সুবিধা দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বেতনবৈষম্য কমবে। সব ব্যাংকই প্রতি বছর অনেক লাভ করে। ব্যাংক অন্যদিকে ব্যয় কমাবে। যেসব ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারবে না, তারা সময় নেবে। একেবারেই বাস্তবায়নযোগ্য নয় এটি বলা যাবে না।’

আরও পড়ুন:
জুলাইয়ে আর খুলছে না পোশাক কারখানা
ওয়াল্ট ডিজনি রপ্তানি ‘বাড়াবে’ এক বিলিয়ন ডলার
গার্মেন্টস খোলা রাখতে মালিকদের চার যুক্তি
কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা চালু
সরকার বললে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখবেন মালিকরা

শেয়ার করুন

সুবিধা না বাড়লে ৫০ ভাগ ব্যবসায়ীই খেলাপি: এফবিসিসিআই

সুবিধা না বাড়লে ৫০ ভাগ ব্যবসায়ীই খেলাপি: এফবিসিসিআই

মতবিনিময় সভায় শনিবার কথা বলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা জানান, করোনা মহামারির মধ্যে এখনও দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এমন অবস্থায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে অন্তত জুন পর্যন্ত সময় দাবি করেন তারা।

ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধার মেয়াদ না বাড়ালে অন্তত ৫০ শতাংশ ব্যবসায়ীর খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

শনিবার কাউন্সিল অফ চেম্বার প্রেসিডেন্টস ২০২২-এর মতবিনিময় সভায় এমন আশঙ্কার কথা জানান এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।

কাউন্সিল অফ চেম্বার প্রেসিডেন্টসের সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সারা দেশ থেকে আসা জেলা, সিটি ও নারী উদ্যোক্তাদের চেম্বারগুলোর সভাপতি, সহসভাপতিরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা জানান, করোনা মহামারির মধ্যে এখনও দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এমন অবস্থায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে অন্তত জুন পর্যন্ত সময় দাবি করেন তারা।

তারা বলেন, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার পর এখন ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণে আবারও ব্যবসা-বাণিজ্যে নাজুক পরিস্থিত তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় অনেক ব্যবসায়ীর ঋণের কিস্তি দেয়ার সক্ষমতা নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক সময় না বাড়ালে ঋণগ্রহীতাদের অনেকেই খেলাপি হবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে।

এ সময় ব্যবসায়ীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধার মেয়াদ না বাড়ালে অন্তত ৫০ শতাংশ ব্যবসায়ী খেলাপি হবেন।

‘তাই মহামারিকালীন মন্দা কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা এখন আগের চেয়ে আরও বেশি দরকার। তা না হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়বে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশে যেসব খাতের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল, সে খাতগুলোই এখনও প্রণোদনার ঋণ পায়নি। মহামারিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। কিন্তু অন্যান্য প্রণোদনা তহবিলের অর্থ প্রায় শতভাগ ছাড় হলেও এসএমই প্রণোদনার বড় অংশ বিতরণ হয়নি।’

ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ছোট আকারের ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর অনীহা আছে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘ব্যাংকগুলো মনে করে ছোট আকারের ঋণ দেয়া লাভজনক নয়। বড় ব্যবসা খাতে ঋণ দিলে ব্যাংকের জনবল ও খরচ কম হয়। কিন্তু এ ধারণা ভুল, বরং এতে মন্দ ঋণের ঝুঁকি বাড়ে। এসএমই খাতে খেলাপি ঋণ নেই বললেই চলে।’

দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে বেসরকারি খাতকে রাখার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিতে ৮২ শতাংশ অবদান রাখছে বেসরকারি খাত। তাই বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে যেকোনো নীতি প্রণয়নে এফবিসিসিআইয়ের মতামত থাকা জরুরি।’

এফবিসিসিআই সভাপতিকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দাবি

কাউন্সিল অফ চেম্বার প্রেসিডেন্টস সভায় সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন চেম্বারের নেতারা বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা বাস্তবতা না বুঝে নিজেদের মতো করে নীতি প্রণয়ন করেন। ফলে অনেক সময় এসব নীতি বাস্তবায়নযোগ্য হয় না। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে নীতিনির্ধারণী সভায় এফবিসিসিআইয়ের মতামত দেয়ার সুযোগ থাকতে হবে। এফবিসিসিআইকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তাই এফবিসিসিআইকে শক্তিশালী করতে সংগঠনের সভাপতিকে তারা প্রতিমন্ত্রীর সমমর্যাদা দেয়ার দাবি তোলেন।

নানা অভিযোগ ব্যবসায়ীদের

সভাপতির বক্তব্যে মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘দেশে এখনও শুল্ক-কর ও ভ্যাট আদায়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কোম্পানি আইন, আমদানি ও রপ্তানি আইন নতুন করে হচ্ছে। এসব আইন যেন ব্যবসাবান্ধব হয়, সে জন্য এফবিসিসিআই কাজ করে যাচ্ছে।’

এ সময় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যেও রাজস্ব আদায় করতে নানাভাবে তাদের নানাভাবে হয়রানি ও ভীতির পরিবেশ তৈরি করছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা। স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজিরও শিকার হচ্ছেন।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও জেলা পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সরকার ঘোষিত প্রণোদনা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ অনেকের। তারা জানান, এসব কারণে প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের পক্ষের মহামারি-পরবর্তী উত্তরণ কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া অডিটে সিঙ্গেল অ্যাকাউন্ট বাস্তবায়ন হলে তা পুরো অর্থনীতিতে বিপর্যয় আনবে বলেও মত দেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, কারখানা স্থাপনে ৩৩টি লাইসেন্সের দরকার হয়। এসব সনদ নিতে বিপুল পরিমাণ ভোগান্তির শিকার হতে হয় উদ্যোক্তাদের।

এই সমস্যা সমাধানে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে লাভ-ক্ষতি নির্বিশেষে টার্নওভার ট্যাক্সের বিধান বাতিল করে শুধু আয়ের ওপর কর আরোপের দাবি জানান তারা।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বেলাল, রাজশাহী ওমেন চেম্বারের সহসভাপতি তাহেরা হাসেন, সাতক্ষীরা চেম্বারের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ গোলাম জাকারিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বারের সভাপতি আজিজুল হক প্রমুখ।

এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকদের মধ্যে বক্তব্য দেন মো. রেজউল করিম রেজনু, তাহমিন আহমেদ, প্রীতি চক্রবর্তী, মো. নিজাম উদ্দিন, আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
জুলাইয়ে আর খুলছে না পোশাক কারখানা
ওয়াল্ট ডিজনি রপ্তানি ‘বাড়াবে’ এক বিলিয়ন ডলার
গার্মেন্টস খোলা রাখতে মালিকদের চার যুক্তি
কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশাক কারখানা চালু
সরকার বললে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখবেন মালিকরা

শেয়ার করুন