প্রার্থী হু কেয়ার্স, সাপোর্ট নৌকাতে: শামীম ওসমান

player
সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান। ছবি: নিউজবাংলা

সংবাদ সম্মেলনে শামীম বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ নৌকার ঘাঁটি, শেখ হাসিনার ঘাঁটি। এখানে অন্য কোনো খেলা খেলার চেষ্টা করবেন না। কে প্রার্থী, হু কেয়ার্স? প্রার্থী আমগাছ হোক, আর কলাগাছ হোক। সব সময় নৌকার প্রতি সাপোর্ট।’

ভোটের প্রচারে নামার সুযোগ না থাকলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদিনই আলোচনায় শামীম ওসমান। তাকে নিয়ে কথা বলছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী, কথা বলছেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। কিন্তু কোনো ভাষ্য ছিল না ক্ষমতাসীন দলে জেলার তুমুল আলোচিত নেতার।

ভোটের ছয় দিন আগে প্রকাশ্যে এলেন শামীম ওসমান। বললেন, ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু তাকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ‘টুইস্ট করে নিউজ করছে’ বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

সোমবার বেলা সোয়া ২টার দিকে এই সংবাদ সম্মেলনে আসেন শামীম। তবে প্রচারের বিধিনিষেধের কারণে ভোট চাননি। কেবল জানিয়ে রাখলেন, তিনি আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে নৌকার পক্ষে সব সময়।

তবে আইভীর পক্ষে কি?- এই প্রশ্নের জবাব সহজে দেয়া যাচ্ছে না নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্যের বক্তব্যের করণেই।

তিনি বলেন, ‘কে প্রার্থী, হু কেয়ার্স? প্রার্থী আমগাছ হোক, আর কলাগাছ হোক। সব সময় নৌকার প্রতি সাপোর্ট।’

আগামী ১৬ জানুয়ারির ভোটে দুই প্রার্থীই নারায়ণগঞ্জে আলোচিত। নৌকা নিয়ে আইভী আর হাতি নিয়ে তৈমূর। তবে সমানভাবে উঠে আসছে শামীমের নামও।

আইভী প্রতিদিন আক্রমণ করছেন ২০১১ সালে যাকে হারিয়ে প্রথম মেয়র হন, সেই শামীমকে। তাকে বলছেন ‘গডফাদার।’

তৈমূর বিএনপির নেতা হলেও এই ভোটে দাঁড়ানোয় তার দলীয় সব পদ কেড়ে নিয়েছে দল। তবু রাজধানী লাগোয়া জনপদে আওয়ামী লীগ-বিএনপির লড়াইয়েই পরিণত হয়েছে।

তবে আইভী বলছেন, ‘তৈমূর বিএনপির নয়, শামীম ওসমান ও তার ভাই সেলিম ওসমানের প্রার্থী।’

আওয়ামী লীগের মধ্যে দুই পক্ষের টানাটানিতে তৈমূরও কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন শামীম ওসমানকে। তিনি বলেছেন, ‘আমি শামীম ওসমানের পায়ে হাঁটি না।’

শামীম ওসমান নৌকায় ভোট না চাইলেও নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ নৌকার ঘাঁটি, এখানে অন্য কোনো খেলা খেলার চেষ্টা করবেন না।’

নৌকাকে তৈমূর আলম খন্দকারের মার্কা হাতি হারাতে পারবে না- এ বিষয়েও নিশ্চিত আওয়ামী লীগের এমপি। বলেন, ‘আমার মনে হয় না নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের ওই ক্ষমতা আছে যে নৌকাকে ডুবায়ে দেবে। হাতি সাইজে বড় হতে পারে; আমরা হাতি কাঁধে নিয়ে দৌড় দেব, কিন্তু নৌকার ওপর উঠতে দেব না।’

আওয়ামী লীগের প্রতি নিজের ও তার পরিবারের নিষ্ঠার বিষয়টিও ‍তুলে ধরেন শামীম ওসমান। বলেন, ‘আমার পিতা মৃত্যুর ১৫ মিনিট আগে আমাদের পরিবারকে, আমাদের তিন ভাইয়ের হাত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের জন্য জীবন দিতে।

‘গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম হয়েছে সত্যি, কিন্তু নারায়ণগঞ্জের মানুষ আওয়ামী লীগের জন্য সব রকম ত্যাগ-তিতিক্ষা করবে। নির্বাচন তো একটা ছোট্ট বিষয়। আওয়ামী লীগ পরিবারের মধ্যে মান-অভিমান থাকবে। সবকিছু ছেড়ে আসেন।’

শামীম ওসমানের দাদা খান বাহাদুর এম ওসমান আলী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তার ছেলে ও শামীম ওসমানের বাবা আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জোহাও নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করতে অবদান রেখেছেন।

পাকিস্তান আমলে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিকাশে অবদান রাখেন আরেক নেতা আলী আহম্মদ চুনকা। এক দলের হলেও তার সঙ্গে শামসুজ্জোহার দ্বন্দ্ব ছিল। এই চুনকার মেয়েই আইভী। পূর্বপুরুষদের দ্বন্দ্ব এখন বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন শামীম-আইভী।

আরও পড়ুন:
‘জনগণের মুখোমুখি’তে নেই আইভী ও তৈমূর
আমি শামীম ওসমানের পায়ে হাঁটি না: তৈমূর
নারায়ণগঞ্জে নৌকাবিরোধী অবস্থানে জাপা, ভোটের মাঠে নতুন বার্তা
প্রার্থী না হলে আইভীকে ভোটের প্রচারে নামাতেন তৈমূর
গডফাদার ওনার ৩০ বছরের উপাধি: আইভী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আট শিক্ষকের করোনায় স্কুল বন্ধ

আট শিক্ষকের করোনায় স্কুল বন্ধ

পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: নিউজবাংলা

স্কুলের প্রধান শিক্ষক শম্পা রানী জানান, প্রথমে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি নিজেই। পরে নমুনা পরীক্ষা করলে বাসায় তার স্বামীরও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর তিনি স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদেরও নমুনা পরীক্ষা করতে বলেন। বাকিদের পরীক্ষা করা হলে আরও সাত শিক্ষকের করোনা ধরা পরে।

কুমিল্লার লাকসামে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ আট শিক্ষকের করোনা শনাক্তের পর স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

করোনায় সংক্রমিতদের সবাই উপজেলার পশ্চিমগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

শিক্ষকদের করোনায় শনাক্তের খবরে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আতঙ্কে রয়েছেন।

এ ঘটনায় লাকসাম উপজেলা শিক্ষাকর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন পরিস্থিতি বিবেচনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করেছেন।

নিউজবাংলাকে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শম্পা রানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

করোনায় আক্রান্তরা অন্যান্য হলেন সহকারী শিক্ষক মো. শাহ আলম, মো. একরামুল হক খন্দকার, শিক্ষক মন্টু চন্দ্র ঘোষ, উম্মে কুলসুম, বিলকিছ নাসরিন, কামরুন্নাহার ও রুবিনা ইসলাম।

প্রধান শিক্ষক শম্পা রানী জানান, প্রথমে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি নিজেই। পরে নমুনা পরীক্ষা করলে বাসায় তার স্বামীরও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর তিনি স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদেরও নমুনা পরীক্ষা করতে বলেন। বাকিদের পরীক্ষা করা হলে আরও সাত শিক্ষকের করোনা ধরা পরে।

নিউজবাংলাকে লাকসাম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধ করে দিয়েছি। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে।

এ সময় স্কুুলের অন্যন্য কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজিয়া বিনতে আলম বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সকল শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।’

আরও পড়ুন:
‘জনগণের মুখোমুখি’তে নেই আইভী ও তৈমূর
আমি শামীম ওসমানের পায়ে হাঁটি না: তৈমূর
নারায়ণগঞ্জে নৌকাবিরোধী অবস্থানে জাপা, ভোটের মাঠে নতুন বার্তা
প্রার্থী না হলে আইভীকে ভোটের প্রচারে নামাতেন তৈমূর
গডফাদার ওনার ৩০ বছরের উপাধি: আইভী

শেয়ার করুন

‘আমরা কি টিকা পাব না?’

‘আমরা কি টিকা পাব না?’

চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকার জগলু, সোহেল, শরীফদের কোনো জন্মসনদ নাই। ছবি: নিউজবাংলা

শুধু জগলু, সোহেল বা শরীফের মা নন, টিকা পাওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন শাহেদ, জসিম, নয়ন, কাকলির মতো সুবিধাবঞ্চিত অনেক পথশিশু ও কিশোরের।

সরকারি নির্দেশনায় ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হচ্ছে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়াম ও রীমা কমিউনিটি সেন্টারে। এর মধ্যেই ঘটল এক বিপত্তি!

গত ১৫ জানুয়ারি টিকার জন্য নির্ধারিত লাইনে স্কুলশিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যায় সুবিধাবঞ্চিত কিছু পথশিশু ও কিশোর। কিন্তু জন্মনিবন্ধন না থাকায় শেষ পর্যন্ত টিকা পায়নি তারা। ফিরে যায় নিরাশ হয়ে।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর সিআরবি এলাকায় এমন কয়েকজন পথশিশুর দেখা মেলে। এর মধ্যে জগলু নামে ১৩ বছরের এক পথশিশু বলে, ‘জন্মনিবন্ধন ছাড়া করোনার টিকা নাকি দেয়া যাবে না। আমার জন্মনিবন্ধন নাই। মা-বাবাও নাই। তাহলে আমি কি টিকা পাব না?’

এ সময় বায়েজীদ এলাকা থেকে সিআরবি এলাকায় বোতল কুড়াতে আসা ১৫ বছরের কিশোর সোহেল বলে, ‘১২ থেকে ১৮ বছরের ছেলেমেয়েদের টিকা দিচ্ছে শুনে গত শনিবার (১৫ জানুযারি) আমি লাইনে দাঁড়াই। দীর্ঘক্ষণ পর তারা আমার কাছে জন্মনিবন্ধন আছে কি-না জানতে চায়। নাই বলায় আমাকে লাইন থেকে বের করে দেয়। এটা ছাড়া কি টিকা পাব না?’

সোহেল আরও বলে, ‘ঘূর্ণিঝড়ের (সিডর) সময় আমি ছোট ছিলাম। বাবা তখন মারা গেছেন। মা আমাদের তিন ভাইবোনকে নিয়ে বরগুনা থেকে চট্টগ্রাম চলে আসেন। এখন গার্মেন্টসে চাকরি করে। আমি বোতল কুড়াই। জন্মনিবন্ধন কীভাবে করব?’

নগরীর খুলশী থানার কাজীর দেউরি এলাকায় পথশিশু শরীফের মা হাফছা বেগম জানান, তার ১৩ বছর বয়সী ছেলের কোনো জন্মনিবন্ধন নাই; স্কুলেও যায় না, বোতল কুড়ায়। এ অবস্থায় ছেলের টিকা পাওয়া নিয়ে তিনি এখন দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন।

হাফছা বলেন, ‘আমার কোনো ঘর-দুয়ার নাই। দুই বেলা ঠিকমতো খাওন জোটে না। শুনছি, জন্মনিবন্ধন করতে অনেক খরচ লাগে। এত খরচ আমি কোথায় পাব? করোনাভাইরাসে মানুষ মারাও যায়। কিন্তু টিকা কীভাবে দেব। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় নাই।’

শুধু জগলু, সোহেল বা শরীফের মা নন, টিকা পাওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন শাহেদ, জসিম, নয়ন, কাকলির মতো সুবিধাবঞ্চিত অনেক পথশিশু ও কিশোরের। পেটের তাগিদে সারা দিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে হয় বলে তাদেরও করোনাভাইরাসের ভয় আছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা, বন্দর এলাকা, আগ্রাবাদ, টাইগারপাস, নিউ মার্কেট, চকবাজার, শাহ আমানত সেতু, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, মতিঝর্না, সিআরবি, কাজীর দেউড়ি, ঝাউতলা, সিইপিজেড, কেইপিজেডসহ সব বাসস্টেশন, রেলস্টেশন, অফিস চত্বর, পার্ক ও ফুটপাতে এমন হাজারও সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু-কিশোর রয়েছে। তারাও করোনাভাইরাসের বাহক হতে পারে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) ও ইউনিসেফের ২০০৫ সালে পরিচালিত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৮ পথশিশু রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে ৫৫ হাজার ৮৫৬ পথশিশু।

আইন অনুযায়ী, শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক। কিন্তু দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ এখনও জন্মনিবন্ধনের বাইরে। নানা জটিলতার কারণে জন্মসনদ নিয়ে তারা চরম ভোগান্তির মধ্যে আছে।

বেসরকারি এনজিও সোসাইটি ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট অব রুরাল পিপলের (সার্প) নির্বাহী পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত ১২ হাজার ৫০০ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য সরকারিভাবে ২০টি এনজিও নিযুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া ব্যক্তিগত ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে পথশিশুদের প্রাথমিক অক্ষরজ্ঞান দেয়া হলেও জন্মনিবন্ধন না থাকায় এসব শিশু বেশি দূর এগোতে পারে না। তাদের পিতা-মাতার পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় জন্মনিবন্ধন করাতে গেলে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী বলেন, ‘জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে প্রথম ধাপে ১২ থেকে ১৮ বছরের শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকাসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে টিকার জন্য অনলাইনে যাদের রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ নেই, এ ধরনের জনগোষ্ঠীকেও টিকার আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে।

আরও পড়ুন:
‘জনগণের মুখোমুখি’তে নেই আইভী ও তৈমূর
আমি শামীম ওসমানের পায়ে হাঁটি না: তৈমূর
নারায়ণগঞ্জে নৌকাবিরোধী অবস্থানে জাপা, ভোটের মাঠে নতুন বার্তা
প্রার্থী না হলে আইভীকে ভোটের প্রচারে নামাতেন তৈমূর
গডফাদার ওনার ৩০ বছরের উপাধি: আইভী

শেয়ার করুন

সেই সুরাইয়ার চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন শিক্ষক

সেই সুরাইয়ার চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন শিক্ষক

স্কুল শিক্ষকদের সঙ্গে সুরাইয়া ও তার মা। ছবি: নিউজবাংলা

বাবা বাচ্চু ভুইয়া বলেন, ‘মেয়ে ভালো আছে। সিআরপিতে চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, ১৫ দিন চিকিৎসা চলবে। এরপর বাড়ি নিতে পারব। স্কুলের ম্যাডাম সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমার মেয়ের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন তা চালু হওয়ায় আমাদের আনন্দের শেষ নেই।’

বাবা বাচ্চু ভুইয়া চায়ের দোকানি। যা আয় তাতে চলে পাঁচজনের সংসার। এরপর কিছুই সঞ্চয় থাকে না। সুরাইয়ার চিকিৎসা নিয়মিত করার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে তার আর হয়নি।

যারা কথা দিয়েছিল মেয়েটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেবেন তাদের কেউ আর যোগাযোগ করেননি।

এর মধ্যে ২ জানুয়ারি স্কুলে ভর্তি হয় মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ সেই সুরাইয়া। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সহযোগিতায় অবশেষে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) সাভার শাখায়।

চিকিৎসার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভুইয়া।

প্রায় ছয় বছর আগে ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই মাগুরা শহর এলাকার দোয়ারপাড়ায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন বাচ্চুর স্ত্রী নাজমা বেগম। সে সময় গর্ভে থাকা সুরাইয়া গুলিবিদ্ধ হয়।

মাগুরা সদর হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার জন্ম হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই সে বেড়ে উঠছে। হাঁটতে পারে না মেয়েটি। একটি চোখ অন্ধ অন্যটিতেও সমস্যা।

সুরাইয়ার বাবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই ঘটনার পর গুলিতে সুরাইয়ার ডান চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। বাম চোখের অবস্থাও ভালো না। শরীরের ডান পাশটিও ঠিকভাবে কাজ করছে না। সে কিছুই পারে না। কারও সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারে না।’

মাগুরা পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে সুরাইয়ার ভর্তি রোল ৩২। এর মধ্যে একবার স্কুল গিয়ে নতুন বই নিয়েছে মেয়েটি। তবে করোনার কারণে ক্লাস বন্ধ থাকায় আর শ্রেণি কক্ষে বসা হয়নি।

সেই সুরাইয়ার চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন শিক্ষক


স্কুলে ভর্তির দিন সুরাইয়াকে প্রথম দেখেন শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদাউস। মেয়েটিকে দেখে তার খারাপ লাগাটা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে সুরাইয়ার ছবি তুলে নিজের ফেসবুকে আপলোড করেন।

এই শিক্ষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কথা ঠিক মতো বলতে না পারলেও সুরাইয়ার মেধা আছে। ভাবলাম বাচ্চাটার শারীরিক এসব সমস্যা চিকিৎসা করালে হয়তো ভালো হয়ে যাবে।

‘ফেসবুকে ছবি আপলোডের পর সুরাইয়ার বিষয়টি আবারও সবার সামনে আসে। আমাকে ফোন করেন সমাজকর্মী ওহিদুর রহমান টিপু ভাই। তিনি সহায়তার হাত বাড়ান। সোমবার মেয়েটি ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে।’

হাসপাতালে সুরাইয়ার সঙ্গে আছেন তার বাবা-মা। বাবা বাচ্চু ভুইয়া বলেন, ‘মেয়ে ভালো আছে। সিআরপিতে চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, ১৫ দিন চিকিৎসা চলবে। এরপর বাড়ি নিতে পারব। এরপর প্রতি মাসে একবার করে হয়তো নিয়ে আসতে হবে। স্কুলের ম্যাডাম সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমার মেয়ের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন তা চালু হওয়ায় আমাদের আনন্দের শেষ নেই।’

সুরাইয়ার স্কুলে ভর্তি নিয়ে ৩ জানুয়ারি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় নিউজবাংলাতে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক রোখসানা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুরাইয়ার মেধা ভালো। আমাদের ভর্তির দিন মুখস্থ ছড়া শুনিয়েছে। আশা করি সে আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠবে।’

আরও পড়ুন:
‘জনগণের মুখোমুখি’তে নেই আইভী ও তৈমূর
আমি শামীম ওসমানের পায়ে হাঁটি না: তৈমূর
নারায়ণগঞ্জে নৌকাবিরোধী অবস্থানে জাপা, ভোটের মাঠে নতুন বার্তা
প্রার্থী না হলে আইভীকে ভোটের প্রচারে নামাতেন তৈমূর
গডফাদার ওনার ৩০ বছরের উপাধি: আইভী

শেয়ার করুন

দুই ফেরি নষ্ট, দৌলতদিয়ায় ট্রাকজট

দুই ফেরি নষ্ট, দৌলতদিয়ায় ট্রাকজট

পারের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকের দীর্ঘ সারি। ছবি: নিউজবাংলা

ঘাটে পারের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকচালক হামিদ মিয়া বলেন, ‘ভোর থেকে জ্যামে আটকে আছি। বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আগে পার করায় ট্রাকের সিরিয়াল নেই। ঘাট থেকে অনেক দূরে থাকায় ভোগান্তির শেষ নেই আমাদের। এখানে খাবার হোটেল ও টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। আমাদের ভোগান্তি দেখার মনে হয়, তা দেখার কেউ নেই।’

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ট্রাকের দীর্ঘ জট তৈরি হয়েছে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকগুলোর সারি দীর্ঘ হয়েছে। ফলে চালকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

ফেরিঘাটে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পদ্মার মোড় পর্যন্ত মহাসড়কের ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পারের অপেক্ষায় রয়েছে শত শত ট্রাক।

ট্রাকের চালকরা জানিয়েছেন, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আগে পার করায় ট্রাকের সিরিয়াল নেই। এতে দীর্ঘ সময় পারের অপেক্ষায় থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের।

কর্তৃপক্ষ বলছে, রাতে দুইটি ফেরি নষ্ট হওয়ার কারণে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি পার করা হচ্ছে।

তবে দুপুরের পর বাসের চাপ কমে যাওয়ায় পণ্যবাহী ট্রাক পার করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাকে যশোর থেকে আসা ট্রাকচালক হামিদ মিয়া বলেন, ‘ভোর থেকে জ্যামে আটকে আছি। বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আগে পার করায় ট্রাকের সিরিয়াল নেই। ঘাট থেকে অনেক দূরে থাকায় ভোগান্তির শেষ নেই আমাদের। এখানে খাবার হোটেল ও টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। আমাদের ভোগান্তি দেখার মনে হয়, তা দেখার কেউ নেই।’

ঘাটে পারের অপেক্ষায় থাকা আরেক ট্রাকচালক আসলাম খাঁ বলেন, ‘সকাল থেকে পারের অপেক্ষায় বসে আছি। কখন পার হতে পারব জানি না। আমাদের ১২ মাসই এইরকম ভোগান্তি পোহাতে হয়। মনে হয় না পদ্মা সেতু হওয়ার আগে এই ভোগান্তি কমবে।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারি ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাতে দুইটা ফেরিতে সমস্যা হয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে বর্তমানে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। এতে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি পার করা হয়েছে।

‘তবে ঘাটে এখন বাস না থাকায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো পারাপার করা হচ্ছে। দ্রুতই যানবাহনের চাপ কমে যাবে।’

আরও পড়ুন:
‘জনগণের মুখোমুখি’তে নেই আইভী ও তৈমূর
আমি শামীম ওসমানের পায়ে হাঁটি না: তৈমূর
নারায়ণগঞ্জে নৌকাবিরোধী অবস্থানে জাপা, ভোটের মাঠে নতুন বার্তা
প্রার্থী না হলে আইভীকে ভোটের প্রচারে নামাতেন তৈমূর
গডফাদার ওনার ৩০ বছরের উপাধি: আইভী

শেয়ার করুন

দার্জিলিংয়ের ‘সাদকি’ কমলা নীলফামারীতে

দার্জিলিংয়ের ‘সাদকি’ কমলা নীলফামারীতে

বাগানে সাদকি কমলার গাছ ধরে ছেলেকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন লেবু মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকার সাদকি কমলার চাষ করছেন নীলফামারীর লেবু মিয়া। এই কমলার সুখ্যাতি আছে বিভিন্ন দেশে।

‘দেখতে যেমন সুন্দর ও ঝকঝকে, তেমনি খেতেও সুস্বাদু’, নীলফামারীর ‘সাদকি’ কমলার বাগানে ঘুরতে এসে এমন বর্ণনা দিচ্ছিলেন অতুল রায়।

মঙ্গলবার সদর উপজেলার রানগর ইউনিয়নের বাহালিপাড়া এলাকা থেকে কচুকাটা বাজার এলাকার লেবু মিয়ার এই কমলার বাগান দেখতে এসেছিলেন তিনি।

দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকার সাদকি কমলার চাষ করছেন লেবু মিয়া। এই কমলার সুখ্যাতি আছে বিভিন্ন দেশে।

নিউজবাংলাকে অতুল রায় বলেন, ‘ভাবতাম আমাদের দেশে এই ফল চাষ সম্ভব না। কিন্তু এ অসম্ভবও বাংলাদেশে সম্ভব হয়েছে।’

লেবু মিয়ার বাগানে বাগানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছেন তার ছেলে আশেকে রসুল মামুন ওরফে এ আর মামুন। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকার এই কমলা দেশের মাটিতে চাষ করে সাফল্য দেখিয়েছেন বাবা ও ছেলে।

শুধু সাদকি কমলাই নয়, চায়না কমলা, সাউথ আফ্রিকান মাল্টা, ভিয়েতনাম মাল্টা, বারি মাল্টা, লিচু, আম, বরই (কূল), কাজুবাদাম, বারোমাসি আমলকি, ত্বীনফল, চেরিফল, আপেল আবাদেও সফল তারা।

সম্প্রতি ১৬ শতাংশ জমিতে মামুনের বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, পুষ্টিসমৃদ্ধ সাদকি কমলায় ভরে গেছে ৬০টি গাছ। তিন থেকে সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি গাছে কমলা ধরেছে অনন্ত ৪০কেজি। যা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বাগানেই। এ ছাড়া ৬০০টি কমলার চারা রাখা হয়েছে চার বিঘা এলাকা জুড়ে।

মামুন বলেন, ‘২০১৩ সালে বাবাকে নিয়ে ভারতের দার্জিলিং যাই। সেখান থেকে দুটি সাদকি কমলার চারা নিয়ে এসে নার্সারিতে লাগাই। পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু চারা তৈরি হয়। এখন ৬০টি পরিপূর্ণ গাছে কমলা হচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে কমলা হচ্ছে এ
কমলা বাগানে।’

তিনি জানান, ২০০১ সালে এক বিঘা জমিতে নার্সারি শুরু করেন তার বাবা লেবু মিয়া। বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ৪৫ বিঘা জমির নার্সারিতে চাষ করছেন নানা ফল। জমির ১৩ বিঘা নিজের আর বাকি ৩২ বিঘা ভাড়ায় নেয়া হয়েছে।

স্থানীয় রমজান আলী বলেন, ‘মামুন ভাইয়ের বাগানে গেলে মনটা ভরে যায়। চেষ্টা করে সফল হইছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ তার বাগানের কমলা নিয়ে যাচ্ছেন। চারা নিয়ে যাচ্ছেন বাগান করতে। নীলফামারী এখন কমলার জেলায় পরিচিতি লাভ করছে।’

নার্সারি মালিক লেবু মিয়া জানান, তার বাগানে কমলার দুটি গাছ লাগানোর এক বছর পর ফল দেয়া শুরু করে। গাছের সংখ্যা পরে বাড়ানো হয়। আগে দুজন কাজ করলেও এখন ২৫ জন কাজ করছেন পুরো নার্সারিতে।

তিনি বলেন, ‘এখন ভারত নয় নীলফামারীর সমতল ভূমিতে কমলা আবাদ হচ্ছে। অনেক ভালো মানের কমলা উৎপাদন হচ্ছে। যারা বাগান করতে চান আমার বাগানে দেখে যেতে পারেন।’

ছেলে মামুন বলেন, ‘দেশের ৬৪ জেলায় সাদকি কমলার চারা যাচ্ছে আমাদের বাগান থেকে। বাস-ট্রেন এমনকি কুরিয়ারেও পাঠানো হচ্ছে চারা। বিভিন্ন সময়ে এ বাগান পরিদর্শন করেছেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

‘সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সাদকি কমলার খবর পেয়ে আমাকে ফোন করেছিলেন। বাগান পরিদর্শনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘এ জেলার মাটি লেবু জাতীয় ফল চাষের জন্য উপযোগী। এখানে আবহাওয়া ও মাটি অনুকূল থাকায় প্রচুর মাল্টা ও কমলার চাষ হচ্ছে।’

নিউজবাংলার প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘সম্ভবনাময় সাদকি কমলার চাষ বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে আমাদের কৃষকরা। অন্যদিকে পুষ্টি চাহিদা পুরণেও এ ফল ভূমিকা রাখবে।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীর চিলাহাটিতে আব্দুল্লাহ, সোনারায়ে রিয়াসাত, পঞ্চপুকুরে মনিরুজ্জামান বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির কমলা চাষ করছেন।

আরও পড়ুন:
‘জনগণের মুখোমুখি’তে নেই আইভী ও তৈমূর
আমি শামীম ওসমানের পায়ে হাঁটি না: তৈমূর
নারায়ণগঞ্জে নৌকাবিরোধী অবস্থানে জাপা, ভোটের মাঠে নতুন বার্তা
প্রার্থী না হলে আইভীকে ভোটের প্রচারে নামাতেন তৈমূর
গডফাদার ওনার ৩০ বছরের উপাধি: আইভী

শেয়ার করুন

স্বামী হত্যায় স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

স্বামী হত্যায় স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্টেনোগ্রাফার রাশেদুল ইসলাম জানান, আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া হরিশপুর গ্রামের আছিয়া খাতুন ও মোহনপুর লাহিড়ীপাড়া গ্রামের রমজান আলী।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের স্টেনোগ্রাফার রাশেদুল ইসলাম।

এজাহারে বলা হয়, আছিয়া খাতুনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই রমজান আলীর বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক চলে আসছিল। এর জেরে রমজান আলী আছিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু আছিয়া খাতুন তার স্বামী জীবিত আছে এমন কারণ দেখিয়ে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

পরবর্তী সময়ে প্রেমের বাধা দূর করতে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক ২০১৬ সালের ১ জুন সন্ধ্যায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তারা আছিয়ার স্বামী আবু বক্কার মন্ডলকে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবু হানিফ উল্লাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেয়।

আরও পড়ুন:
‘জনগণের মুখোমুখি’তে নেই আইভী ও তৈমূর
আমি শামীম ওসমানের পায়ে হাঁটি না: তৈমূর
নারায়ণগঞ্জে নৌকাবিরোধী অবস্থানে জাপা, ভোটের মাঠে নতুন বার্তা
প্রার্থী না হলে আইভীকে ভোটের প্রচারে নামাতেন তৈমূর
গডফাদার ওনার ৩০ বছরের উপাধি: আইভী

শেয়ার করুন

হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন, ১ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন, ১ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

হত্যা মামলায় সাজা পাওয়া আসামিদের নেয়া হচ্ছে কারাগারে। ছবি: নিউজবাংলা

২০০৯ সালের ২৩ মে রাতে নিখোঁজ হন কুমারখালীর শহিদুল ইসলাম। পাঁচ দিন পর কালিতলা এলাকার একটি ডোবায় পাওয়া যায় তার গলাকাটা মরদেহ।

কুষ্টিয়ায় ১৩ বছর আগের এক হত্যা মামলার রায়ে এক আসামির আমৃত্যু ও দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাজুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনুপ কুমার নন্দী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসামি হলেন কুমারখালী উপজেলার কালিতলা এলাকার সালাম মোল্লা এবং যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিরা হলেন কুমারখালীর শানপুকুরিয়া এলাকার সাইফুল ইসলাম ও কালিতলা এলাকার রেজাউল জোয়ার্দার কালু।

২০০৯ সালের ২৩ মে রাতে নিখোঁজ হন কুমারখালীর শহিদুল ইসলাম। পাঁচ দিন পর কালিতলা এলাকার একটি ডোবায় পাওয়া যায় তার গলাকাটা মরদেহ। এ ঘটনায় শহিদুলের বাবা মুনছের আলীর করা মামলায় গ্রেপ্তার হন আসামিরা।

তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
‘জনগণের মুখোমুখি’তে নেই আইভী ও তৈমূর
আমি শামীম ওসমানের পায়ে হাঁটি না: তৈমূর
নারায়ণগঞ্জে নৌকাবিরোধী অবস্থানে জাপা, ভোটের মাঠে নতুন বার্তা
প্রার্থী না হলে আইভীকে ভোটের প্রচারে নামাতেন তৈমূর
গডফাদার ওনার ৩০ বছরের উপাধি: আইভী

শেয়ার করুন