× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Webil The bus owners did not speak while the BRTA was asleep
hear-news
player
google_news print-icon

ওয়েবিল: কথা রাখেননি বাস মালিকরা, ঘুমিয়ে বিআরটিএ

ওয়েবিল-কথা-রাখেননি-বাস-মালিকরা-ঘুমিয়ে-বিআরটিএ
নির্দিষ্ট পয়েন্টে বাসের যাত্রীসংখ্যা গুনে শিটে স্বাক্ষর করছেন এক চেকার। ছবি: নিউজবাংলা
গত ১০ নভেম্বর বাস মালিকদের সমিতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেন, ঢাকায় কোনো বাস ওয়েবিলে চলবে না। কিন্তু এখনও এই কৌশলে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো কোনো পথে দ্বিগুণ, কোথাও তিন গুণ ভাড়া আদায় চলছে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে কিলোমিটারের বদলে কিছু দূর পরপর একটি নির্ধারিত দূরত্বের হিসাব করে ওয়েবিল নামে কৌশল বন্ধ হয়নি। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর বাস ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ায় এ বিষয়টি আবার সামনে আসার পর পরিবহন মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঘোষণা দিয়েছিল, ঢাকায় কোনো বাস ওয়েবিলে চলবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটি বাসও ওয়েবিল ছাড়া চলছে না। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ, কোথাও কোথাও তিন গুণ আদায় চলছে এই সুযোগে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস ভাড়া হবে কিলোমিটার হিসাবে। প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ঠিক করা হয়েছে ২ টাকা ৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ১৫ পয়সা। তবে একজন যেটুকু দূরত্বেই যান না কেন, রাজধানীতে বড় বাসে তাকে ১০ টাকা আর মিনিবাসে দিতে হবে ৮ টাকা।

অর্থাৎ কোনো যাত্রী যদি ৪ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার যান, তাহলে তার কাছ থেকে নেয়া যাবে সর্বোচ্চ ১০ টাকা। এরপর প্রতি কিলোমিটারে যোগ হওয়ার কথা ২ টাকা ১৫ পয়সা।

ঢাকার বাস চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে পরীক্ষামূলক চালু হওয়া ঢাকা নগর পরিবহনে এভাবেই ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এই সেবা চালু হওয়ার পর কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর পর্যন্ত রুটটি চালু হওয়ার পর এই পথে চলাচলকারী যাত্রীদের বাস ভাড়া দিতে হচ্ছে কম।

কিন্তু অন্য কোনো রুটে এই ব্যবস্থা নেই। একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর ওয়েবিল বসিয়ে এক ওয়েবিল থেকে পরের ওয়েবিল পর্যন্ত পুরো পথের ভাড়া নেয়া হয় যাত্রীর কাছ থেকে।

যেমন- এয়ারপোর্ট পরিবহনের বাসে করে কেউ যদি কারওয়ান বাজার নামেন, তাহলে তাকে সেখানে থাকা ওয়েবিলের ভাড়া দিতে হয়। কিন্তু ২০০ গজ দূরে বাংলামোটর নামলেই তাকে দিতে হয় গুলিস্তানের ভাড়া।

গাজীপুর থেকে সদরঘাট পর্যন্ত চলা প্রভাতী বনশ্রী পরিবহন ওয়েবিল বসিয়েছে সাতরাস্তা মোড়ের আগে। কেউ যদি মগবাজার নামতে চান, তাহলে সাতরাস্তা ওয়েবিল থেকে সদরঘাট ওয়েবিল পর্যন্ত ভাড়া ২০ টাকার পুরোটাই দিতে হয়। অথচ মগবাজার ওয়্যারলেস থেকেও বাসটি যাত্রী তোলে এবং সদরঘাট পর্যন্ত ভাড়া নেয় ২০ টাকাই।

ঢাকা শহরে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায়ের নানা কৌশলের মধ্যে ওয়েবিল চালু হতে থাকে ২০১৭ সালে। প্রথমে কয়েকটি রুটে এবং পরে সব কটি রুটেই এভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় হতে থাকে।

ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর পর গত ৭ নভেম্বর বাস ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা আসার ফলে ওয়েবিলের নামে যাত্রী ঠকানোর এ বিষয়টি আবার সামনে আসে। দেখা যায়, ভাড়া বাড়িয়ে যত টাকা করা হয়েছে, আগে থেকেই ওয়েবিলের সুযোগে তার চেয়ে বেশি আদায় হচ্ছিল। ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে এর পর থেকে আদায় হতে থাকে নির্ধারিত হারের চেয়ে অনেক বেশি।

গত ১০ নভেম্বর বাস মালিকদের সমিতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেন, ‘কোনো ধরনের সিটিং সার্ভিস ও ওয়েবিলের মাধ্যমে কোনো বাস চলবে না। আমরা তিন দিন সময় দেব, এরপর কোনো গেটলক ও সিটিং সার্ভিসের বাস চললে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পরের দিন সড়ক পরিবহন সচিব মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে আপাতত আর্থিক জরিমানা ও বাড়তি ভাড়ার টাকা যাত্রীদের ফেরত দেয়া হচ্ছে। এর পরও বাড়তি ভাড়া নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আমরা ওই বাসকে ডাম্প করাসহ রুট পারমিট বাতিল করব।’

তারও দুই দিন আগে গত ৯ নভেম্বর বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহম্মদ মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিআরটিএ থেকে সিটিং সার্ভিস বা ওয়েবিলের কোনো অনুমতি নেই। এগুলো পুরোই অবৈধ। এসব নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন।’

কিন্তু অতীতের নানা ঘোষণার মতো এসব ঘোষণাও ফেলনা হয়ে গেছে। ওয়েবিলের নামে যাত্রীদের পকেট কাটছে বাসগুলো।

ওয়েবিল কী

একটি নির্ধারিত টার্মিনাল বা স্টপেজ থেকে বাস ছাড়ার পর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকার থাকেন। যারা ওই পয়েন্ট পর্যন্ত কতজন যাত্রী বাসে রয়েছে তার একটা হিসাব কাগজে লিখে রাখেন। এই কাগজের শিটটি নিয়ে চলেন চালকরা। প্রতিটি পয়েন্টে হিসাবটা লিখে দেন চেকাররা।

ওয়েবিল নামে এই শিটটি থাকলে কত যাত্রী একটি বাসে চলাচল করেছে এবং কত টাকা ভাড়া উঠেছে তার একটি কাছাকাছি হিসাব পাওয়া যায় বলে দাবি মালিকদের।

ওয়েবিল: কথা রাখেননি বাস মালিকরা, ঘুমিয়ে বিআরটিএ
রাজধানীর বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়া ও প্রকৃত আদায়ের চিত্র

যেভাবে বাড়তি ভাড়া আদায়

ওয়েবিল কোথায় বসানো হবে, সেটি একান্তই বাস কোম্পানির ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। যেমন মোহাম্মদপুর থেকে বনশ্রী হয়ে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত চলা স্বাধীন পরিবহন ফার্মগেট থেকে রামপুরা পর্যন্ত ৬ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়কে তিনটি ওয়েবিল বসিয়ে প্রতি ওয়েবিলের জন্য ১০ টাকা করে ৩০ টাকা আদায় করছে। অথচ এই রুটের ভাড়া হওয়া উচিত ১৩ টাকা।

এই পরিবহনের চেকিং পয়েন্ট রয়েছে খামাড়বাড়ি, মগবাজার, আবুল হোটেল, বনশ্রী ও ডেমরা। এক চেকিং পয়েন্ট থেকে আরেক চেকিং পয়েন্টে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা করে নিচ্ছে তারা। যদিও মিনিবাস হিসেবে এই পরিবহনে সর্বনিম্ন ভাড়া হওয়ার কথা ৮ টাকা।

এই ২ টাকা বাড়তি নেয়ার পাশাপাশি চেকিং পয়েন্ট থেকে কিছু দূর আগের একটি স্টপেজ থেকে যাত্রী উঠলে দূরত্ব যতই হোক, তাকে গুনতে হয় ২০ টাকা।

ওয়েবিল সিস্টেম চালু থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন স্বাধীন পরিবহনের একজন চালক পারভেজ মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমাদের সব চালক, হেলপার এক না। মালিক যাতে টাকাটা সঠিকভাবে পান সে জন্য ওয়েবিল।’

মিরপুর-১ থেকে বনশ্রী চলাচলকারী আলিফ পরিবহনের নাজমুল নামে একজন যাত্রী জানান, কাজীপাড়া থেকে গুলশান পর্যন্ত ওয়েবিলে বাড়া ঠিক হয়েছে ২৫ টাকা। মহাখালী নামলেও একই ভাড়া দিতে হয়। অথচ এই পথের দূরত্ব ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। ভাড়া হওয়ার কথা ১০ টাকা।

লাব্বায়েক, প্রভাতী বনশ্রী, তরঙ্গ, ঠিকানা, বিহঙ্গ, রাইদা, শেকড় পরিবহনেও এই ওয়েবিলের নামে বাড়তি ভাড়া নিতে দেখা গেছে।

এসব বাসে বিআরটিএ নির্ধারিত বাস ভাড়ার চার্টগুলো ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে এ নিয়ে ঝগড়া করে স্পষ্টত ক্লান্ত হয়ে গেছেন যাত্রীরা।

ওয়েবিল: কথা রাখেননি বাস মালিকরা, ঘুমিয়ে বিআরটিএ
রাজধানীর বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়া ও প্রকৃত আদায়ের চিত্র

ব্যবস্থা নিচ্ছি: এনায়েত উল্যাহ

এই নৈরাজ্য ঠেকাতে কোনো পদক্ষেপ না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ নিউজবালংলাকে বলেন, ‘ওয়েবিলের বন্ধের চেষ্টা করছি। ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত কেন বাস মালিকরা মানছেন না তা জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি তিনি। ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং’য়ের কথা জানিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

একই প্রশ্ন রাখা হয় নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মো. ফখরুল ইসলামের কাছে। তিনিও দেন গতানুগতিক জবাব। বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। যারা অমান্য করছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

তিনি স্বীকার করেন বাড়তি ভাড়া আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বলেন, ‘অধিকাংশ বাসে নতুন ভাড়ার তালিকা পাওয়া যায় না। চালক ও কন্ডাক্টরা ছিঁড়ে গেছে, হারিয়ে গেছে এসব অজুহাত দেখায়।’

কিছু বাসের রুট পারমিট বাতিলের উদ্যোগ

সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার নিউজবাংলার কাছে স্বীকার করেন, বাস ভাড়ার বিষয়টি শৃঙ্খলায় ফেরেনি।

তিনি বলেন, ‘তাদের কোনোভাবেই নিয়মের মধ্যে রাখা যাচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সমাধান হচ্ছে না। আমরা কিছু বাসের রুট পারমিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেটাও প্রক্রিয়াধীন।’

বিআরটিএ চেয়ারম্যানের দাবি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ কমছে। তিনি বলেন, ‘নিয়মিতই আমাদের আটটি ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে। তারা প্রথম দিকে দৈনিক গড়ে ৪০টির মতো বাসে বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ পেতেন এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতো। এখন সেটা কমতে কমতে ৯ থেকে ১০টিতে ঠেকেছে।’

আরও পড়ুন:
ঢাকায় যাত্রীরা কতটা ঠকছেন, বোঝাচ্ছে নগর পরিবহন
প্রজ্ঞাপন: পাঁচ শর্তে শিক্ষার্থীদের বাসভাড়া অর্ধেক
পশ্চিমবঙ্গে বাসে ছাত্রদের ছাড় ছিল, এখন নেই
ছাত্রদের হাফ ভাড়া যেসব শর্তে
বাসে বুধবার থেকে শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Allegation of encroachment against BNP leader

দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলে ধরেন রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির এমডি সুইজারল্যান্ডের নাগরিক ফাদি বিতা। ছবি: নিউজবাংলা
অভিযুক্ত এস এ কে একরামুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনও করেছেন। ১৪ বছর ধরে তিনি রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির এমডি ছিলেন।

রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির অফিস জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা এস এ কে একরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।

বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান এমডি সুইজারল্যান্ডের নাগরিক ফাদি বিতা, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুমাইয়া তাসনীন, আইনজীবী ড. কাজী আক্তার হামিদ ও মোহাম্মদ ইকরাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এ কে একরামুজ্জামান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতিও। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনও করেছেন।

প্রতিষ্ঠানটির নতুন এমডি ফাদি বিতা জানান, একরামুজ্জামান ২০০৮ সালে কোম্পানির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এমডির দায়িত্বে ছিলেন। কোম্পানি আইনের ১১০(৩) ধারা লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তাকে ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল কোম্পানির ৮১তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্তক্রমে অব্যাহতি দেয়া হয়।

কিন্তু গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে ২০-২০ জন অস্ত্রধারী নিয়ে একরামুজ্জামান কোম্পানির মিরপুর অফিসে ঢোকেন। ফাদি বিতার ও সুমাইয়া তাসনীনকে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তাদের কাছে থেকে পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে নেন। অফিসে ঢোকার আগেই তারা সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেন। বর্তমানে অফিসটি একরামুজ্জামানের দখলে আছে।

ফাদি বিতা অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি ছাড়াই একরামুজ্জামান সম্পত্তি বন্ধক রেখে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। তিনি কোম্পানির নামে কয়েকটি অনুমোদনহীন ব্যাংক হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।

‘স্টার পোরসেলিন’ নামে একটি কোম্পানির নামেও তিনি ৭৩ কোটি ৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পরিচয়ে। এসব অনিয়মের বিষয়ে তাকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি নোটিশের জবাব দেননি। একরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা আছে, বিভিন্ন অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

একরামুজ্জামান ১৪ বছর ধরে এমডির দায়িত্ব পালনকালে কোম্পানির লাভ দেখাননি, বরং প্রায় ৪৫ কোটি টাকার ঘাটতি আছে। তার এসব অনিয়ম প্রকাশ্যে আসায় ক্ষিপ্ত হয়ে বেআইনিভাবে অফিস দখল করেছেন বলে মনে করেন নতুন এমডি।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে ফাদি বিতা বলেন, ‘আমরা যথাযথ বিচার, আইনি সুরক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তা দাবি করছি। পাশাপাশি অফিসের দখল পেতে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

অভিযোগের বিষয় জানতে একরামুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন:
হাটের জায়গায় দোকান, হাটুরেদের জায়গা নেই
রামনাথের ‘দুইন্যা’ উদ্ধারে সাইকেলযাত্রা
জমি দখলের অভিযোগে নারী কাউন্সিলর বরখাস্ত, নিরাপত্তা চান ভুক্তভোগী
খতিয়ান জালিয়াতি করে প্রবাসীর বাড়ি দখলের চেষ্টা
রামনাথের বাড়ি দখলে নেয়া আ.লীগ নেতা ওয়াহেদ হারালেন পদ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
24 robbers arrested on the night of power failure

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের রাতে ২৪ ছিনতাইকারী আটক

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের রাতে ২৪ ছিনতাইকারী আটক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের রাতে রাজধানীতে ছিনতাই করতে গিয়ে আটক হওয়া কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত
ফারজানা হক বলেন, ‘রাজধানীতে বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগ পেয়ে ছিনতাইকারী চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ার খবরে সতর্ক হয় র‌্যাব-৩। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে আটক করা হয়।’

জাতীয় গ্রিডে সমস্যায় দেশের চার বিভাগ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পড়েছিল মঙ্গলবার। আর অন্ধকারকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে রাজধানীতে ছিনতাই করতে বের হয়ে আটক হয়েছে ২৪ জন।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুর, মতিঝিল, পল্টন এবং যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিষাক্ত মলম ও দেশি অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৩।

র‌্যাব-৩ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ফারজানা হক বুধবার দুপুরে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, তারা নিয়মিতভাবে এসব এলাকায় ছিনতাই করে আসছিল এবং গত রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে বড় ধরনের ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে।

ফারজানা হক বলেন, ‘রাজধানীতে বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগ পেয়ে ছিনতাইকারী চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ার খবরে সতর্ক হয় র‌্যাব-৩। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে আটক করা হয়।’

আটক ২৪ জন হলেন- রাজন, বিল্লাল হোসেন, হৃদয় হোসেন, জসমত, এনামুল হক, রানা, সুজন, শাহীন, বিল্লাল হোসেন, হৃদয়, মোবারক হোসেন, জনি, আবু বক্কর সিদ্দিক, মিলন চন্দ্র মণ্ডল, সুজন, আমান হোসেন, শরিফ উদ্দিন, রনি, আরিফ হোসেন, ইদ্রিস, নূর উদ্দিন, সোহেল ও আলামিন।

আরও পড়ুন:
পুলিশ পরিচয়ে দেড় হাজার ছিনতাই, ঢাবি ছাত্রীকে অপহরণ করে ধরা
ট্রাক আটকে ৬০ ড্রাম তেল ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪
ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে: র‌্যাব
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মসজিদের টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ
চেয়ারম্যানের ভাইয়ের দোকানে মিলল ‘ছিনতাইয়ের’ ৪৪ ড্রাম তেল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
2 children in hospital due to cockroach poisoning

তেলাপোকার বিষে ২ শিশু হাসপাতালে

তেলাপোকার বিষে ২ শিশু হাসপাতালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে দুই শিশুকে। ফাইল ছবি/ নিউজবাংলা
ঘরে থাকা তেলাপোকা মারার বিষ খেয়ে ফেলে দুই শিশু। তারা বমি করতে থাকলে সন্দেহ হয় মায়েদের। তখন তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়।

রাজধানীর শ্যামপুরে তেলাপোকা মারার বিষ খেয়ে ফেলায় অসুস্থ দুই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে পশ্চিম জুরাইন মুন্সীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অসুস্থ দুই শিশুর নাম আল-আমিন ও মোহাম্মদ মুসা। তাদের বয়স ৬ বছর।

স্বজনরা জানান, শিশুদের পিতা নূর ইসলাম ও বাবুল মিয়া ঘটনার সময় বাসায় ছিলেন না। মায়েরা ব্যস্ত ছিলেন ঘরের কাজে। এ সময় ঘরে থাকা তেলাপোকা মারার বিষ খেয়ে ফেলে দুই শিশু। তারা বমি করতে থাকলে সন্দেহ হয় মায়েদের। তখন তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মুন্সীবাড়ি এলাকা থেকে আনা অসুস্থ দুই শিশুকে স্টমাক ওয়াশের পর শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মা ময়না বেগম ও রুনা আক্তার শিশুদের সঙ্গে আছেন। বাচ্চারা ভুলে তেলাপোকার বিষ খেয়েছে বলে তারা জানান।’

আরও পড়ুন:
ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর
পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ২ শিশুর
কাজলায় বালতির পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু
বাড়ির পাশে পুকুরে ভাসছিল ২ শিশুর মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Durga is returning from her fathers house to her husbands house

বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে ফিরলেন দুর্গা

বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে ফিরলেন দুর্গা বুধবার বিকেলে রাজধানীর বসিলায় বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
সকালে দশমী বিহিত পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রা। এই আয়োজন শেষে বিসর্জন দিতে ঢাকা মহানগরের পূজা মণ্ডপগুলোর প্রতিমাবাহী গাড়িগুলো জড়ো হয় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে।

লাখো-কোটি ভক্তকে বিচ্ছেদের কষ্টে ভাসিয়ে কৈলাসে স্বামীর ঘরে ফিরে গেলেন দেবী দুর্গা। শেষ হলো মর্ত্যে বাবার বাড়িতে সন্তানদের নিয়ে বার্ষিক অবকাশ। ভক্তদের সঙ্গে বিচ্ছেদের বিজয়া দশমীতে তাই বেজেছে বিষণ্ণতার সুর ৷

একে একে ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী আর নবমী তিথি পার করে বিজয়ার শেষ দিনে বুধবার বিকেলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সব মণ্ডপে দেবীকে বিদায় জানান ভক্ত-পুণ্যার্থীরা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলে নারীদের সিঁদুরের খেলা।

রাজধানীর মণ্ডপগুলোতে সকালে দশমী বিহিত পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রা। এই আয়োজন শেষে বুড়িগঙ্গা নদীর বিভিন্ন প্রান্তে বিসর্জন দিতে ঢাকা মহানগরে পূজা মণ্ডপগুলোর প্রতিমাবাহী গাড়ি জড়ো হয় নদী তীরে।

বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে ফিরলেন দুর্গা
বুধবার বিকেলে রাজধানীতে প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ভক্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

বিকেল সাড়ে ৩টায় ওয়ারীর টিপু সুলতান রোড থেকে শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ জিউ বিগ্রহ মন্দির থেকে প্রথম প্রতিমা বির্সজনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বির্সজন শুরু হয়।

এরপর একে একে আসে ধানমন্ডি সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি, টিকাটুলির সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ থেকে ইয়াংস্টার পূজা কমিটি ও হাজারীবাগ সিটি কলোনি মন্দিরের প্রতিমা।

প্রতিমা নিয়ে আসা সারি সারি ট্রাক থেকে পর্যায়ক্রমে সেগুলো নৌকায় করে বুড়িগঙ্গা নদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে দেয়া হয় বিসর্জন।

ভক্তরা বিষাদ ভুলে হাসিমুখে দেবী মাকে বিদায় জানাতে উৎসবে মেতে ওঠেন। বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে-অন্যকে সিঁদুরে রাঙান, ঢাক ঢোলের তালে নাচ-গান করেন। একই সঙ্গে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সারাটা বছর যেন এমন আনন্দে কেটে যায়।

স্বামীবাগ থেকে এসেছেন ননী গোপাল সরকার ও তার স্ত্রী পুষ্প রানী সরকার। তারা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এসেছি মাকে বির্সজন দিতে। আজ মাকে বির্সজন দিলাম, যাতে মা আগামী বছর আবার আসে আমাদের জন্য সুখ-সমৃদ্ধি নিয়ে।’

বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে ফিরলেন দুর্গা
বিজয়া দশমীতে রাজধানীর এক পূজা মণ্ডপে ভক্ত-পুণ্যার্থীরা মাতেন সিঁদুর খেলায়। ছবি: নিউজবাংলা

বিকেল ৩টায় রাজধানীর মোহাম্মাদপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কড়া পুলিশ পাহারায় একাধিক প্রতিমাবাহী গাড়িগুলো বসিলা অভিমুখে এগিয়ে যাচ্ছে। আর ভক্তরা ঢাক-ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে নেচে-গেয়ে দেবীকে বিদায় জানাচ্ছেন। সড়কের দুই পাশে পথচারীরা দাঁড়িয়ে এই আনন্দ আয়োজনের শেষ মুহূর্তের দৃশ্য উপভোগ করছেন। বসিলায় বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে।

এদিকে নদী প্রান্তে এসে দেখা যায় হাজারও মানুষের ভিড়। শেষবারের মতো দেবী দুর্গাকে দেখতে ভিড় জমিয়েছেন অনেকে।

রায়েরবাজার শেরেবাংলা রোডের কালী মন্দির থেকে প্রতিমা নিয়ে এসেছেন প্রদীপ মণ্ডল ও অন্যরা। এই ভক্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মায়ের কাছে চেয়েছি তিনি আমাদের সকলের মঙ্গল করুন। সুখে-শান্তিতে রাখুন। সকলের মঙ্গল হোক- এটাই কামনা করি৷’

প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সদরঘাটসহ বুড়িগঙ্গার বিভিন্ন অংশে ছিল কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমান নিউজবাংলাক বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। আশা করি প্রতিমা বিসর্জনে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।

‘প্রতিমা বির্সজন দিতে গিয়ে যাতে কোনোরকম দুর্ঘটনা না ঘটে সে জন্য আমরা বৃদ্ধ, শিশু ও মহিলাদের নৌকায় উঠতে দিচ্ছি না। এখানে পূজা উদযাপন কমিটি আছে। তারা যাদের সিলেক্ট করছে তারাই কেবল নৌকায় উঠে প্রতিমা বির্সজন দিতে পারছে।’

বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে ফিরলেন দুর্গা
রাজধানীতে বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজনেও ছিল কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা। ছবি: নিউজবাংলা

এ ছাড়া প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতার জন্য ছিল নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতি।

প্রতিমা বির্সজনের সময় বুড়িগঙ্গা নদীতে বাংলাদেশ নৌ-পুলিশের জলযান নিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি স্পিড বোট দিয়ে প্রতিমা বির্সজনের ঘাটসহ আশপাশ এলাকা টহল দেয়। নদীপথে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া প্রতিটা নৌকার সঙ্গে ছিল নৌ-পুলিশের স্পিড বোট।

মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সহ-সমাজ কল্যাণ সম্পাদক বিপুল ঘোষ শংকর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিমা বির্সজন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে তাতে আমরা খুশি। সব মিলে ৯০টি মন্দির থেকে এখানে প্রতিমা নিয়ে আসা হচ্ছে বির্সজনের জন্য। আমরা আমাদের কমিটির মাধ্যমে এই বির্সজন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে বিজয়া দশমীর মাধ্যমে। তাই তো ‘দশমী’ কথাটির মধ্যে রয়েছে আবেগ, বিচ্ছেদের কষ্ট। শনিবার ষষ্ঠীতে দেবী দুর্গা কৈলাস ছেড়ে সপরিবারে এসেছিলেন মর্ত্যে। দশমী তিথিতে দেবী ফিরছেন কৈলাসে।

ঢাকাসহ সারা দেশে আজই দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে এক বছরের অপেক্ষা- যেদিন দেবী আবার স্বামীর ঘর থেকে নেমে আসবেন মর্ত্যে, ভক্তদের মাঝে।

বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর ঘরে ফিরলেন দুর্গা
রাজধানীর বসিলায় বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দিচ্ছেন ভক্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

পৌরাণিক শাস্ত্র অনুযায়ী, টানা যুদ্ধ করে দশম দিনে দেবী দুর্গা বধ করেছিলেন মহিষাসুরকে। এ জন্য একে বিজয়া দশমী বলা হয়ে থাকে।

পুরাণ অনুযায়ী, এবার দেবী মর্ত্যে এসেছেন গজে চেপে। এর অর্থ হলো সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনা।

আর দেবী মর্ত্য ছাড়ছেন নৌকায় চড়ে। এর ফলে ধরনী হবে শস্যপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে থাকবে অতিবৃষ্টি বা বন্যা।

সারা দেশে এবার ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপ সংখ্যা বেড়েছে ৫০টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ২৪১টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ষষ্ঠীর বোধনে দুর্গাপূজা শুরু সোমবার
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
ক্যাপসুল ও সিরিঞ্জ দিয়ে অভিনব প্রতিমা
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার
নিয়মে সীমাবদ্ধ দুর্গাপূজা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
At the time of Durgas journey to Kailash vermilion is played in the mandapam

দুর্গার কৈলাস যাত্রার ক্ষণে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা

দুর্গার কৈলাস যাত্রার ক্ষণে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা রাজধানীর একটি মণ্ডপে চলছে সিঁদুর খেলা। ছবি: নিউজবাংলা
সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের আশপাশের হিন্দু পরিবার তখন ভিড় করেছে মন্দিরে। বিবাহিত নারীরা এ সময় দেবীকে পান ও মিষ্টি মুখ করিয়ে বিদায় জানান। এরপর একে অন্যের কপালে ও পায়ে সিঁদুর দিয়ে ও মিষ্টি খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে পালন করেন বিজয়া দশমী। সিঁদুর খেলা বাঙালি সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা উদযাপনের একটি ঐতিহ্যবাহী উপাদান।

বিজয়া দশমীতে বুধবার দেবী দুর্গা মর্ত্য ছেড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। সারা বছরের অপেক্ষা শেষ হবে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। তবে এর আগে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর বিজয়া উদযাপনে শুরু হয় রমণীদের সিঁদুর খেলা। এই দৃশ্য বহু বছর ধরে চলে আসছে।

ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকেই সিঁদুর খেলা শুরু হয়েছে। এর আগে ৯টা ৫৭ মিনিটে দেবীর দশমী বিহিত পূজা শেষ হয়, সেই সঙ্গে দেয়া হয় দর্পণ-বিসর্জন। এরপর বিকেল ৩টায় শোভাযাত্রা নিয়ে যাওয়া হবে বুড়িগঙ্গার ঘাটে। সেখানে দেয়া হবে বিসর্জন।

সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের আশপাশের হিন্দু পরিবার তখন ভিড় করেছে মন্দিরে। বিবাহিত নারীরা এ সময় দেবীকে পান ও মিষ্টি মুখ করিয়ে বিদায় জানান। এরপর একে অন্যের কপালে ও পায়ে সিঁদুর দিয়ে ও মিষ্টি খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে পালন করেন বিজয়া দশমী। সিঁদুর খেলা বাঙালি সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা উদযাপনের একটি ঐতিহ্যবাহী উপাদান।

সিদ্ধেশ্বরীসহ ঢাকা ও সারা দেশের মণ্ডপগুলোতে সকাল থেকে একই চিত্র দেখা যায়। দেবীকে বিদায় দেয়ার প্রাক্কালে চলছে সিঁদুর খেলা।

সিঁদুর খেলার বিশেষ একটি কারণ কোথাও পাওয়া যায়নি। তবে হিন্দুধর্মে বিশ্বাস করা হয়, সিঁদুর এর স্ত্রী তার সিঁদুরের শক্তি দিয়ে স্বামীকে রক্ষা করেন। সিঁদুরের লাল রং শক্তি ও ভালোবাসা বোঝায়। তাই এদিন মায়ের আশীর্বাদে চলে সিঁদুর খেলা।

অন্যদিকে এটাও বিশ্বাস করা হয় যে, টানা ৯ দিন মহিষাসুরকে যুদ্ধে হারানোর পর আজকের দিনে জয়লাভ করেন দেবী দুর্গা। তাই বিজয় উদযাপনে খেলা হয় সিঁদুর।

অনেকেই মনে করেন, দেবীকে মর্ত্য থেকে কৈলাসে স্বামী শিবের কাছে পাঠানোর সময় সিঁদুর দিয়ে বিদায় দিতে হয়। তাই এই সময় বিবাহিত নারীরা সিঁদুর খেলা করেন।

মন্দিরে সিঁদুর খেলা নিয়ে ব্যস্ত এক পুণ্যার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, সারা বছর মায়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকি। আর এই দিন আমাদের কাছে বিশেষ কিছু। দশমীর আগে সিঁদুর খেলা বিজয়ার তাৎপর্য ও স্মৃতিকে আরো সতেজ রাখে আমাদের মনে।

একই কথা অন্যসব পুণ্যার্থীরও। বিজয়া দশমীর প্রধান তাৎপর্য তাদের কাছে সিঁদুর খেলার মধ্যে নিহিত।

পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, এ জন্য মন্দিরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সারা দেশে স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধামতো সময়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। তবে ঢাকা মহানগরীতে বিকেল ৩টার পর থেকে বিসর্জন শুরু হবে।

পুরাণ অনুযায়ী, এবার দেবী মর্ত্যে এসেছেন গজে চেপে। দুর্গা গজে চড়ে এলে সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনেন। আর আজ বিজয়া দশমীতে দেবী মর্ত্য ছাড়বেন নৌকায় চড়ে। নৌকায় গমনেও ধরণি হবে শস্যপূর্ণ, তবে থাকবে অতিবৃষ্টি বা বন্যা।

এবার সারা দেশে দুর্গাপূজার মণ্ডপ ৩২ হাজার ১৬৮টি। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপ বেড়েছে ৫০টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ২৪১টি মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হবে।

আরও পড়ুন:
রাজ্যবাসীকে বিজয়ার শুভেচ্ছা মমতার
উমার বিদায়বেলা
দুর্গা আসেননি মণ্ডপে, ঝুলছে কালো পতাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Agyan party attack on moving bus

অজ্ঞান পার্টির হানা চলন্ত বাসে

অজ্ঞান পার্টির হানা চলন্ত বাসে
আলমগীর হোসেন গাজীপুরে পলিথিনের ব্যবসা করেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি গাজীপুর থেকে ঢাকায় আসতে ভিআইপি পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। মালামাল কিনতে তার কাছে নগদ ৮ লাখ টাকা ছিল।

চলন্ত বাসে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছেন আলমগীর হোসেন নামের ব্যবসায়ী। তিনি ৮ লাখ টাকা খুইয়েছেন বলে স্বজনদের দাবি।

মঙ্গলবার দুপুরে ৩০ বছর বয়সী আলমগীর হোসেনকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে মেডিসিন ওয়ার্ডে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আলমগীরের ভাগ্নে জাকির হোসেন জানান, তার মামা গাজীপুরে পলিথিনের ব্যবসা করেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি গাজীপুর থেকে ঢাকায় আসতে ভিআইপি পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। মালামাল কিনতে তার কাছে নগদ ৮ লাখ টাকা ছিল।

তিনি বলেন, ‘মামা ঢাকায় আসাদ গেটে নামতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাসের চালক ও সুপারভাইজার গাড়ি না থামিয়ে আজিমপুরের দিকে নিয়ে যান। সেখানে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় মামাকে। তার সঙ্গে থাকা ৮ লাখ টাকা পাওয়া যায়নি।’

স্বজনদের দাবি, আলমগীরকে অচেতন করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় বাসের স্টাফরা জড়িত। অভিযোগ পেয়ে লালবাগ থানা পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বাসের চালক ও হেলপারকে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া জানান, ব্যবসায়ী আলমগীরকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। স্টমাক ওয়াশের পর তাকে মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
‘অজ্ঞান পার্টি’ নিল ইনস্যুরেন্স কর্মকর্তার প্রাণ
অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর
আলাদা ঘটনায় তিনজন অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে
অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে ১২ লঞ্চযাত্রী
গরু ব্যবসায়ীদের অজ্ঞান করেন তারা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Immigration closed for half an hour due to power outage in Shahjalal

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শাহজালালে ইমিগ্রেশন বন্ধ আধ ঘণ্টা

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শাহজালালে ইমিগ্রেশন বন্ধ আধ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ না থাকায় ৩০ মিনিটের জন্য ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এক পর্যায়ে অধিকাংশ এসি বন্ধ রেখে জেনারেটর চালু করে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সচল করা হয়েছে।

গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে সৃষ্ট বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমে। বিদ্যুৎ না থাকায় ৩০ মিনিটের জন্য ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এক পর্যায়ে অধিকাংশ এসি বন্ধ রেখে জেনারেটর চালু করে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সচল করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিস্তারিত আসছে…

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রভাব টেলিযোগাযোগ সেবাতেও
ঢাকায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক ‘রাত ৮টার মধ্যে, চট্টগ্রামে ৯টায়’
সারা দেশে বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে লাগবে ‘৮-১০ ঘণ্টা’
দেশের অর্ধেক এলাকা বিদ্যুৎহীন

মন্তব্য

p
উপরে