এথিক্যাল অ্যাকাউন্ট্যান্টস সোসাইটির প্রেসিডেন্ট হাসান হায়দার

player
এথিক্যাল অ্যাকাউন্ট্যান্টস সোসাইটির প্রেসিডেন্ট হাসান হায়দার

(বাম দিক থেকে): মোহাম্মদ হাসান হায়দার, মুরাহেব মালিক চৌধুরী, রিয়াদুজ্জামান রিদয়, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হয়েছেন মুরাহেব মালিক চৌধুরী এফসিসিএ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন রিয়াদুজ্জামান রিদয় এফসিসিএ ও মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এফসিসিএ।

এথিক্যাল অ্যাকাউন্ট্যান্টস সোসাইটি (ইএএস)-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ হাসান হায়দার এফসিসিএ এফসিএমআই।

সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হয়েছেন মুরাহেব মালিক চৌধুরী এফসিসিএ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন রিয়াদুজ্জামান রিদয় এফসিসিএ ও মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এফসিসিএ।

২০২২-২০২৩ সালে তারা সংগঠনটির নেতৃত্ব দেবেন।

এথিক্যাল অ্যাকাউন্ট্যান্টস সোসাইটি গত ডিসেম্বরে সংগঠনের ২৫ সদস্যের নতুন একটি কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচন করে। এরপর গত ৬ জানুয়ারি ইএএস-এর আরেকটি ইসি সভায় শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।

সংগঠনের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাসান হায়দার এফসিসিএ এফসিএমআই একজন সাবেক পিএমও এবং বিশ্বব্যাংকের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি একজন পিপিপি ও অর্থ বিশেষজ্ঞ, যিনি ইউরোপ এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে দুই দশকেরও বেশি সময় তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ভিএফএম উপদেষ্টা পরিসেবা ব্যবস্থাপনার অংশীদার।

ইএএস-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর মোহাম্মদ হাসান হায়দার বলেন ‘পেশাদার হিসাবরক্ষকরা দেশের বিভিন্ন সেক্টরের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন ইএএস ইসি সদস্যরা দেশের এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে শক্তিশালী জাতি গঠনে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।‘

এথিক্যাল অ্যাকাউন্ট্যান্টস সোসাইটি (ইএএস) ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি বাংলাদেশে পেশাদার হিসাবরক্ষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এটি পেশাদার হিসাবরক্ষকদের নৈতিক অনুশীলনকে উদ্বুদ্ধ করে এবং অর্থ ও অ্যাকাউন্টিংয়ের ক্ষেত্রে রিপোর্টিংয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কাজ করছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বৈধ আমদানি সনদ ছাড়া ঋণপত্র নয়

বৈধ আমদানি সনদ ছাড়া ঋণপত্র নয়

বৈধ আইআরসি ছাড়া ঋণপত্র খোলা যাবে না। ছবিটি চট্টগ্রাম বন্দরের। ছবি: নিউজবাংলা

সার্কুলারে বলা হয়, ‘সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক বৈধ ও হালনাগাদ আইআরসি ছাড়াই ঋণপত্র খুলছে। এ কারণে পণ্যচালান খালাস করতে গিয়ে রেয়াতি সুবিধা দেয়ার সময় জটিলতা দেখা দেয়।’

বৈধভাবে নবায়ন করা আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র (আইআরসি) ছাড়া ঋণপত্র (এলসি) খোলা যাবে না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এমন নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এটি বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রিন্সিপাল অফিসে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক বৈধ ও হালনাগাদ আইআরসি ছাড়াই ঋণপত্র খুলছে। এ কারণে পণ্যচালান খালাস করতে গিয়ে রেয়াতি সুবিধা দেয়ার সময় জটিলতা দেখা দেয়।

‘হালনাগাদ শিল্পভোক্তা আইআরসি প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়ে রেয়াতি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি পণ্য চালান খালাস বিলম্বিত হওয়ায় শিল্প প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা সামগ্রিক বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে।’

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এলসি ফরম গ্রহণের সময় এবং ঋণপত্র স্থাপনের আগে বৈধ ও হালনাগাদ আইআরসি সনদ গ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

শেয়ার করুন

প্লাস্টিক-হালকা প্রকৌশল খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা: বাণিজ্য সচিব

প্লাস্টিক-হালকা প্রকৌশল খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা: বাণিজ্য সচিব

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিজনসে ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ। ছবি: নিউজবাংলা

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘পোশাক খাতের নির্ভরশীলতা কমাতে আমাদেরকে নতুন নতুন পণ্য তৈরির দিকে নজর দিতে হবে।’

বাংলাদেশে প্লাস্টিক ও হালকা প্রকৌশল খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিজনসে ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান তিনি।

রপ্তানি আয় বাড়াতে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে সচিব বলেন, ‘পোশাক খাতের নির্ভরশীলতা কমাতে আমাদেরকে নতুন নতুন পণ্য তৈরির দিকে নজর দিতে হবে।’

প্লাস্টিক খাত ও হালকা প্রকৌশল খাতের রপ্তানি উন্নয়নে দুটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এ রূপরেখাগুলো চূড়ান্তকরণেএই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের অধীন ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস’ প্রকল্প কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা হয়। বাণিজ্য সচিব এতে সভাপতিত্ব করেন।

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘দেশে প্লাষ্টিক শিল্পের বিশেষ করে খেলনা রপ্তানির ওপর জোর দিতে হবে।

‘এ ক্ষেত্রে স্বত্বাধিকার সংক্রান্ত সমস্যা এড়াতে আমাদের নিজস্ব ডিজাইনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য দরকার ডিজাইন সেন্টার। বিশ্বের উন্নত দেশে মিউনিসিপ্যাল বিন ও মোবাইল টয়লেট তৈরি হয় প্লাস্টিক দিয়ে। আমরা এ বাজার ধরার চেষ্টা করতে পারি।’

হালকা প্রকৌশল খাতের রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কম্বোডিয়ার মতো বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল খাতেও প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতে ব্যাপক বিদেশি বিনিয়োগ আসার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’

বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, ‘অটোমোবাইল কম্পোনেন্ট ও প্লাস্টিকের খেলনা বর্তমানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য হিসেবে বিবেচিত।
‘এ পণ্যগুলোর রপ্তানি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধাসহ যথাযথ নীতি সহায়তা দিতে হবে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সাল নাগাদ আমাদের ৮০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। খাতভিত্তিক রপ্তানির যেসব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলো রপ্তানি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।’

বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) প্রেসিডেন্ট শামীম আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে প্লাস্টিক অটোমোবাইল কম্পোনেন্ট তৈরিতে পিছিয়ে আছে । এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেলনা রপ্তানির বড় সমস্যা স্বত্বাধিকার। এটি যথাযথভাবে মেনে না চললে নকল পণ্য উৎপাদন করলে রপ্তানি করা যায় না। এ সমস্যা নিরসনে সরকারি–বেসরকারি পর্যায়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস-এর প্রকল্প পরিচালক মো. মনসুরুল আলম বলেন, ‘বর্তমানে সারাদেশে ৩০০ প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় স্ক্র্যাপ থেকে প্লাস্টিক ফ্লেক উৎপাদন এবং ইয়ার্ন তৈরির জন্য বছরে প্রায় ৪০ হাজার টন ফ্লেক রপ্তানি করা হয়। পরিবেশ ক্ষতিকারক ফ্লেক এখনই বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশে কিভাবে ফ্লেক থেকে ইয়ার্ন তৈরি করা যায় সে বিষয়ে ভাবতে হবে।’

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বর্তমানে বৈশ্বিক হালকা প্রকৌশলের ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার রয়েছে। বাংলাদেশ যথাযথভাবে এগিয়ে চললে এ বাজারের সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে।

‘হালকা প্রকৌশল শিল্পের উন্নয়নে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া ভূমি নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। এখাতের জন্য শিগগির টেকনোলজি সেন্টার গড়ে তোলা প্রয়োজন।’

শেয়ার করুন

কুমিল্লার ২ মার্কেটে ভ্যাট গোয়েন্দার অভিযান

কুমিল্লার ২ মার্কেটে ভ্যাট গোয়েন্দার অভিযান

মিষ্টির দোকান মাতৃভাণ্ডারে মানুষের ভিড়। ফাইল ছবি

কুমিল্লায় ভ্যাট গোয়েন্দার উপ-পরিচালক মুনাওয়ার মুরসালীন ও সহকারী পরিচালক আলমগীর হুসেনের নেতৃত্বে এটি বিশেষ গোয়েন্দা দল এই অভিযান চালায়।

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির অভিযোগে কুমিল্লা শহরের দুটি মার্কেটে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

সোমবার অভিযান চালানো এ দুই মার্কেট হলো কুমিল্লা টাউনহলের কান্দিরপাড়ে প্লানেট এসআর মার্কেট এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ময়নামতি সুপার মার্কেট।

কুমিল্লায় ভ্যাট গোয়েন্দার উপ-পরিচালক মুনাওয়ার মুরসালীন ও সহকারী পরিচালক আলমগীর হুসেনের নেতৃত্বে এটি বিশেষ গোয়েন্দা দল এই অভিযান চালায়।

ভ্যাট নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কেট দুটিতে অভিযান চালিয়ে ভ্যাট গোয়েন্দারা ওই মার্কেটের দোকানগুলোতে হিসাব সংরক্ষণ না করা ও বিক্রির প্রকৃত তথ্য গোপন করে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার প্রমাণ পেয়েছেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, ‘অভিযানের পাশাপাশি দুটি মার্কেটে জরিপ চালানো হয়। তাতে দেখা যায়, কোনো প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন গ্রহণ করেনি, ভ্যাটও দেয়নি।’

ভ্যাট গোয়েন্দার তথ্য মতে, কুমিল্লার প্লানেট এসআর মার্কেটে ৮০ টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ টি দোকানের কোনো নিবন্ধন নেই।

অন্যদিকে, ক্যান্টনমেন্টের ময়নামতি সুপার মার্কেটে মোট ১২০ টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ৬৪টি দোকানের নিবন্ধন নেই।

ড.মইনুল খান বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে ২০২১ সালের ২৫-৩১ মে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের চারটি জরিপ দল মাঠে নেমে রাজধানী ও রাজধানীর বাইরের মার্কেটগুলোতে জরিপ করে।

‘জরিপের পর পর সারাদেশে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কুমিল্লার এই দুটি মার্কেটের কোনো প্রতিষ্ঠানেরই ভ্যাট নিবন্ধন পাওয়া যায়নি।’

মাতৃভান্ডারের ভ্যাট ফাঁকি

এ দিন কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে মিষ্টির দোকান ‘মাতৃভান্ডার’- এ অভিযান চালায় ভ্যাট গোয়েন্দার দলটি।

প্রতিষ্ঠানটিতে মিষ্টি বিক্রির সময় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও মাতৃভান্ডারে গড়ে মাত্র ২০-২২ টি চালান কাটার তথ্য পাওয়া যায়।

ভ্যাট গোয়েন্দার দু্ইজন কর্মকর্তা ওই প্রতিষ্ঠানের বিক্রি পর্যবেক্ষণের জন্য সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

দেখা যায়, এক দিনে ভ্যাট গোয়েন্দাদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি ৩১৮টি চালান ইস্যু করে, যেখানে বিক্রিমূল্য পাওয়া যায় প্রায় তিন লাখ টাকা। অর্থ্যাৎ ভ্যাট চালান না দিয়ে মাতৃভান্ডার মিষ্টির দোকান বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

গোয়েন্দাদের অভিযানে জব্দ করা কাগজপত্রে দেখা গেছে, নতুন বছরের ১ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মাতৃভান্ডার মিষ্টান্ন ভান্ডার মাত্র ৩৫৪ টি ভ্যাট চালান ইস্যু করে।এর বিপরীতে বিক্রিমূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টাকা। অথচ, ভ্যাট গোয়েন্দার একদিনের পর্যবেক্ষণে ৩১৮ টি চালানে ৩ লাখ টাকা বিক্রির হিসাব পাওয়া গেছে।

এভাবে প্রতিষ্ঠানটি চালান ইস্যু না করেই সরকারের বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান।

গোয়েন্দারা বলছেন, কুমিল্লা শহরের অনেক মার্কেট রয়েছে যেগুলোর প্রতিষ্ঠান এখনও নিবন্ধন গ্রহণ করেনি। শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

নতুন উচ্চতায় তেলের দাম, ৭ বছরের সর্বোচ্চ

নতুন উচ্চতায় তেলের দাম, ৭ বছরের সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সও মাস চারেক আগে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, কোভিড-১৯ এর কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল তা দূর হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে দেশে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেলের দর ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

গত নভেম্বর বাংলাদেশে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর সময় যে দর ছিল, এবার ছাড়িয়ে গেছে সেই দরও।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম আগের দিনের চেয়ে ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এদিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ৫ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে। আর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দর উঠেছে ৮৭ ডলার ৩৬ সেন্টে।

এই দর গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে তথ্য দিয়েছে রয়টার্স।

২০১৪ সালের পর আন্তর্জাতিক বাজারে এতো বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য উপসাগরে হামলার পর সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় দাম বাড়ছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন আতঙ্কে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম কমতে কমতে ৬৬ ডলারে নেমে গিয়েছিল। ব্রেন্ট তেলের দর কমে হয়েছিল ৬৮ ডলার।

তিন-চার দিন ওই একই জায়গায় স্থির ছিল তেলের বাজার। কিন্তু ওমিক্রন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেও করোনার নতুন ওই ধরনে আক্রান্ত হয়ে মানুষ খুব একটা মারা না যাওয়ায় এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক বেশ খানিকটা কেটে যায়। এতে বিশ্বে তেলের চাহিদা বাড়বে-এ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে আবার বাড়তে শুরু করে দাম। সেই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ যখন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে যে দর ছিল, এখন তাতেও ছাড়িয়ে গেল।

গত ২৭ অক্টোবর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ওঠে। এরপর থেকেই তা কমতে থাকে। ৮ নভেম্বর এর দর ছিল ৮২ দশমিক ৫ ডলার। ১৬ অক্টোবর দাম ছিল ৮০ ডলার।

আর এক বছর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ কোম্পানি ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্সও মাস চারেক আগে তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, কোভিড-১৯ এর কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল তা দূর হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে দেশে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে গত বছরের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে প্রতি ব্যারেল ৪৯ ডলার। এরপর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবর মাসে এই দাম ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই তা ১০০ ডলার হয়ে যেতে পারে।

তবে গত নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দাম নিম্নমুখী হয়। তারপরও দামটা নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনতে নিজ দেশের পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

গত ২৩ নভেম্বর টুইট বার্তায় বাইডেন ঘোষণা দেন, ‘আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কমাতে পদক্ষেপের কথা আজ ঘোষণা করছি। আমেরিকাবাসীর জন্য স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ব আমরা, যাতে তেল ও গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে।’

দেশে তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি রুখতে এই পদক্ষেপ নেন জো বাইডেন। এর জেরে সে দেশে জ্বালানির দাম কমবে বলে মনে করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বিশ্ব জুড়ে জ্বালানির দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছিলেন অনেকে।

তবে বাইডেনের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম খুব একটা কমেনি। ওমিক্রন আতঙ্কেই মূলত বড় দরপতন হয়।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশ যখন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে যে দর ছিল, এখন তাতেও ছাড়িয়ে গেল।

শেয়ার করুন

শহরে করা যাবে না কনটেইনার ডিপো

শহরে করা যাবে না কনটেইনার ডিপো

৩৮ বছর পর বেসরকারি আইসিডির চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করেছে এনবিআর।

ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) ও কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশনের (সিএফএস) নীতিমালার চুড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। তবে নীতিমালা অনুযায়ী শহরের ভেতর করা যাবে না কোনো কনটেইনার ডিপো।

তবে শহরের ভেতর থাকা বর্তমান আইসিডির বিষয়ে এ সংক্রান্ত কোনো বিধান রাখা হয়নি।

বেসরকারি আইসিডিগুলোর মালিকদের সংগঠন বিকডার সচিব রুহুল আমিন সিকদার মঙ্গলবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ কথা বলেন।

তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই নীতিমালা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এটি বেসরকারি খাতে ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) ও কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন (সিএফএস) নীতিমালা, ২০২১ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই চূড়ান্ত নীতিমালা অনুযায়ী নতুন আইসিডিগুলো অবশ্যই শহরের ২০ কিলোমিটার দূরে স্থাপন করতে হবে।

এর আগে ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে এর খসড়া নীতিমালার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ওই বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পর খসড়া নীতিমালাকে চূড়ান্ত করে এনবিআর।

১৯৮৪ সালে সি ফেয়ারার্স লিমিটেড নামে আইসিডি চালুর মাধ্যমে দেশে বেসরকারি আইসিডির যাত্রা শুরু হয়। এরপর কোনো নীতিমালা ছাড়াই ২০২১ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে ১৯টি বেসরকারি আইসিডি।

বিকডা বলছে, বিদ্যমান আইসিডিগুলো শহরের বাইরে নিয়ে যেতে হবে এমন কোন নির্দেশনা নীতিমালায় নেই। এনবিআরের সঙ্গে আলোচনায় বিদ্যমান আইসিডিগুলো শহরের ভেতরেই রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি আইসিডিগুলোর বিভিন্ন সেবা মাসুলের ব্যাপারেও কোনো ধারা রাখা হয়নি। কোনো ট্যারিফ কমিটিও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে আইসিডির বাৎসরিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা পর্যালোচনার জন্য সাত সদস্যের একটি মূল্যায়ন কমিটি নির্ধারণ করে দিয়েছে এনবিআর।

আইসিডিগুলোতে কনটেইনার স্ক্যানার স্থাপনের বিষয়টিও ঐচ্ছিক রাখা হয়েছে। তবে বিকডা থেকে জানানো হয়েছে, যদি কোনো বেসরকারি আইসিডি কনটেইনার স্ক্যানার স্থাপন করে তবে তাদের জন্য আমদানি পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে ৩৮ ধরনের পণ্যের বাইরে আরও কিছু পণ্য বাড়িয়ে দিতে পারে।

এর বাইরে নীতিমালায় আরও উল্লেখ আছে, নতুন আইসিডি স্থাপনের ক্ষেত্রে নিজস্ব মালিকানাধীন জায়গা, ভাড়া জায়গা বা লিজ নেয়া জায়গায় আইসিডি স্থাপন করা যাবে। এক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৫ একর জায়গা থাকতে হবে এবং সাড়ে ৪ হাজার টিইইউস কনটেইনার রাখার জায়গা থাকতে হবে। সিএফএস এর আয়তন হতে হবে আইসিডির মোট আয়তনের ৫ ভাগের ১ ভাগ। আইসিডি স্থাপনে বিদেশি বিনিয়োগ থাকলে অংশীদারত্বে ন্যূনতম ৫১ শতাংশ বাংলাদেশি মালিকানাধীন হতে হবে।

এছাড়া আইসিডির মূল গেট জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে ২০০ মিটার দূরে রাখতে হবে। এই নীতিমালার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রণীত বেসরকারি আইসিডি নীতিমালা ২০১৬ ও সরকার প্রণীত অন্যান্য বিধি-বিধান পালন করতে হবে।

১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সি ফেয়ারার্স লিমিটেড, ওশান কনটেইনারর্স লিমিটেড, শফি মোটর্স লিমিটেড ও ইকবাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের নামে ৪টি বেসরকারি আইসিডি স্থাপন হয়। ১৯৯৮ সালে সর্বপ্রথম একটি অফিস আদেশ জারি করে।

এরপর ২০১৬ সাল পর্যন্ত স্থাপিত হয় আরও ১৪ বেসরকারি আইসিডি। তখন ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি বেসরকারি আইসিডি/অফডক নীতিমালা জারি করে।

তবে বেসরকারি আইসিডির অনুমোদন, পরিচালনা ও তদারকি যেহেতু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তত্ত্ববধানে হয়, তাই এর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এনবিআরকে জারি করার প্রয়োজনীয়তা ছিল দীর্ঘদিনের।

অবশেষে ৩৮ বছর পর হলেও চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করেছে এনবিআর।

বিকডা সচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, এনবিআর আইসিডি নীতিমালা স্থাপন ও পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রণয়নে অনেক আগে থেকেই উদ্যোগ নেয়। আইসিডি সংশ্লিষ্ট যাবতীয় তথ্য উপাত্ত নিয়ে প্রথমে খসড়া একটি নীতিমালা প্রকাশ করে।

পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক করা হয়। বৈঠকে নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। সবকিছু বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত এনবিআর চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করল।

শেয়ার করুন

আরও তিন বছর সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে মাসরুর আরেফিন

আরও তিন বছর সিটি ব্যাংকের নেতৃত্বে মাসরুর আরেফিন

মাসরুর আরেফিন ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে সিটি ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। গত তিন বছরে তিনি ব্যাংকটিকে ভিন্নতর উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাসরুর আরেফিন আরও তিন বছর সিটি ব্যাংকে নেতৃত্ব দেবেন।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেসরকারি এই ব্যাংকটি জানিয়েছে, মাসরুর আরেফিন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পদে পুনর্নিয়োগ পেয়েছেন। সম্প্রতি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পরে বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তী তিন বছরের জন্য তার পুনর্নিয়োগে অনুমতি প্রদান করেছে।

মাসরুর আরেফিন ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও হিসেবে প্রথমবারের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। গত তিন বছরে তিনি ব্যাংকটিকে ভিন্নতর উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এই সময়কালে ব্যাংকটির বার্ষিক আয় ৩৫ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করে এবং পরিচালন মুনাফা ৬১ শতাংশ বেড়ে ১০০০ কোটি টাকা মুনাফার সম্মানজনক ক্লাবে প্রবেশ করে।

একই সঙ্গে গত তিন বছরে ব্যাংকটির আয় ও ব্যয়ের অনুপাত ৫৯ শতাংশ থেকে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ নেমে আসে এবং বৈদেশিক বাণিজ্য বার্ষিক ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।

‘তার নেতৃত্বে সিটি ব্যাংক মূলত আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এজেন্ডা মাথায় নিয়ে একটি শহরভিত্তিক ব্যাংক থেকে সমগ্র দেশের আপামর জনমানুষের জন্য ডিজিটাল ব্যাংক হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি ব্যাংকে ডিজিটাল ন্যানো লোন এবং প্রথাগত ক্ষুদ্র ও মাইক্রো ফাইন্যান্সের সূচনা করেন,’ বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

মাসরুর আরেফিন এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকে ১৯৯৫ সালে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে যোগদান করেন। ২৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি এএনজেড ব্যাংক মেলবোর্ন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক কাতার, সিটি ব্যাংক এনএ, আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক এবং ইস্টার্ন ব্যাংকে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন।

মাসরুর আরেফিন তার ব্যাংকার পরিচয়ের পাশাপাশি একজন ঔপন্যাসিক, কবি ও অনুবাদক হিসেবেও পরিচিত।

শেয়ার করুন

ছোট দোকানে সরকারি উদ্যোগে ইএফটি মেশিন দেয়ার প্রস্তাব

ছোট দোকানে সরকারি উদ্যোগে ইএফটি মেশিন দেয়ার প্রস্তাব

জেলা প্রশাসক সম্মেলন উদ্বোধনীতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ছবি: নিউজবাংলা

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, যারা মেশিনটি কিনতে পারবেন না, সরকার নিজ উদ্যোগে তাদের মেশিন সরবরাহ করবে। পরে মেশিনের দাম কিস্তিতে পরিশোধ করবেন দোকানিরা। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পাশাপাশি সারা দেশে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।

গ্রামগঞ্জ থেকেও অধিক ভ্যাট আদায়ের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বাড়াতে স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ছোট দোকানগুলোতেও ইএফটি মেশিন দেয়ার প্রস্তাব করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, যারা মেশিনটি কিনতে পারবেন না, সরকার নিজ উদ্যোগে তাদের মেশিন সরবরাহ করবে। পরে মেশিনের দাম কিস্তিতে পরিশোধ করবেন দোকানিরা। এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পাশাপাশি সারা দেশে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ডিসি সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে ‘অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সম্পর্কিত বিষয়াদি’র ওপর সাধারণ আলোচনা পর্বে এ প্রস্তাব দেন আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, ‘আজকাল গ্রাম পর্যায়ে মানুষের সামর্থ্য বেড়েছে। সেখানে অনেক কেনাকাটা হচ্ছে। অথচ এই কেনাকাটায় যে অর্থের প্রবাহ হচ্ছে, তার থেকে সরকার পাচ্ছে খুবই কম। যারা দিচ্ছে সেটিও সঠিক দিচ্ছে কি না প্রশ্ন সাপেক্ষ।’

তাই বিষয়টিতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে আরও জোর তদারকি করতে বলেন। সে সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সারা দেশে ছোট দোকানগুলোতেও সরকারি উদ্যোগে একটি করে মেশিন দেয়ার প্রস্তাব দেন।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘প্রস্তাবটি ভালো, যৌক্তিক। এ বিষয়ে অনেক আগে থেকেই এনবিআর কাজ করে আসছে। তবে এখনো সব পর্যায়ে তার বিস্তার ঘটেনি। অনেক এলাকায় গ্রামে পৌঁছে গেছে ইএফটি মেশিন। তবে অনেক এলাকায় এবং তৃণমূল পর্যায়ের দোকানগুলোতে একটি মেশিন স্থাপন করতে গেলে এর কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা আছে। সেখানে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয় প্রযুক্তিগত সমস্যা মোকাবিলা করবেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি, নিশ্চয়ই আমরা সে পর্যায়ে যাব।’

জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় বিষয়ক আলোচনায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কন্ট্রোল এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত দুটি বিশেষ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করার কথা জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী।

এ সময় তিনি জেলা প্রশাসকদের কাছে কোন এলাকায় এ রকম স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা যায় এবং সেখান নিষ্কণ্টক জমি পাওয়া গেলে মন্ত্রণালয়কে স্থানীয় পর্যায়ে থেকে প্রস্তাব করার অনুরোধ জানান।

শেয়ার করুন