নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বাড়ি ভাঙচুর, নিরাপত্তার দাবি

player
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বাড়ি ভাঙচুর, নিরাপত্তার দাবি

নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সুনীল চন্দ্র মাঝি। ছবি: নিউজবাংলা

ভোলা সদর মডেল থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানান, এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভোলা সদর উপজেলায় নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাচন-পরবর্তী এ সহিংসতায় নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের স্থানীয়রা।

পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুনীল চন্দ্র মাঝি তার বাড়িতে শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সেখানে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে মোরগ প্রতীকে সদস্য প্রার্থী লিটন সিকদারকে সমর্থন না করে ফুটবল প্রতীকের শাহে আলম সিকদারকে তিনি সমর্থন করেন।

কিন্তু নির্বাচনে লিটন সিকদার জয়ী হলে শুক্রবার সকালে তার কর্মী-সমর্থকরা সুনীলের বসতবাড়িতে ভাঙচুর করে এবং ভয়ভীতি দেখায়।

এ ঘটনার পর থেকে সুনীল ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িছাড়া রয়েছেন। তাই লিটন সিকদারের এমন নির্যাতনের প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুনীল ও হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। এ সময় বাবু রশিদ চন্দ্র, কালাচান সিকদারসহ সম্প্রদায়ের অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বাড়ি ভাঙচুর, নিরাপত্তার দাবি
সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ছবি: নিউজবাংলা


তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য লিটন সিকদার বলেন, ‘নির্বাচনে জয়লাভের পরের দিন সমর্থকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছিলাম। তখন পরাজিত প্রার্থী শাহে আলমের সমর্থকরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন।

‘এ হামলায় আমাদের প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন কর্মী এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো বাড়িতে ভাঙচুর করিনি। আমার সমর্থকদের বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। বরং তাদের সমর্থকরাই হিন্দুদের বাড়িতে হামলা করেছে।’

এ ঘটনায় ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন জানান, এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু
৩ ঘণ্টা মহাসড়ক আটকে রাখে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা
সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার চেয়ার‍ম্যান প্রার্থীর বাড়িতে আগুন
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদ গেল ইউপি আ.লীগ সদস্যের
মায়ের পথ ধরে ৩ ওয়ার্ডের মেম্বার কন্যারা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘জমির বিরোধে’ সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত

‘জমির বিরোধে’ সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত

গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত বৃদ্ধের স্বজনদের আর্তনাদ। ছবি: নিউজবাংলা

ভাতিজা বিপিন শিকদার নিউজবাংলাকে জানান, মন্দিরের দেয়া জমি তার চাচার। তবে মন্দির কমিটিতে চাচাকে না রাখায় তাদের সঙ্গে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরোধ চলছিল।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাঁচ গ্রামবাসী।

অভিযোগ উঠেছে, মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের লোকজন ও ওই বৃদ্ধের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।

টুঙ্গিপাড়ার কাকুইবুনিয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সুলতান মাহমুদ।

নিহত বৃদ্ধের নাম সুবল শিকদার।

তার ভাতিজা বিপিন শিকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার কাকা সুবল শিকদার এই মন্দিরে জায়গা দান করেন, কিন্তু ভাইস চেয়ারম্যান ও তার লোকজন প্রভাব খাটিয়ে মন্দির কমিটিতে আমার কাকাকে রাখেননি। এটা নিয়ে অনেক দিন ধরে বিরোধ চলছিল।’

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, বেলা ৩টার দিকে টুঙ্গিপাড়া তফসিল অফিসের লোকজন কাকুইবুনিয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের জমির বিষয়টি তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে যায়। কাজ শেষে তারা ফিরে যাওয়ার পর পরই সুবল শিকদার ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বিশ্বাসের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থলেই নিহত হন সুবল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে সদর হাসপাতাল মর্গে।

আরও পড়ুন:
শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু
৩ ঘণ্টা মহাসড়ক আটকে রাখে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা
সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার চেয়ার‍ম্যান প্রার্থীর বাড়িতে আগুন
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদ গেল ইউপি আ.লীগ সদস্যের
মায়ের পথ ধরে ৩ ওয়ার্ডের মেম্বার কন্যারা

শেয়ার করুন

রেলের মাইলেজ প্রশ্নে সরকারকে আলটিমেটাম

রেলের মাইলেজ প্রশ্নে সরকারকে আলটিমেটাম

চট্টগ্রামে রানিং স্টাফদের জরুরি সভা। ছবি: নিউজবাংলা

রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন, ‘গত নভেম্বর থেকে মাইলেজ নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনও সমাধান মেলেনি। মাইলেজ পদ্ধতি রেলওয়ে কর্মচারীদের দাবি নয়, অধিকার। এ অধিকারের জন্য আমরা লড়ছি৷ এক সপ্তাহের মধ্যে যদি আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া না হয়, তবে ৩১ জানুয়ারি থেকে কোনো ট্রেন চলবে না।’

মাইলেজ জটিলতা নিরসনে সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছেন রেলওয়ে কর্মচারীরা। তারা বলছেন, সমস্যার সমাধান না হলে ৩১ জানুয়ারি থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।

রানিং স্টাফদের জরুরি সভায় বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিকেলে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব।

তিনি বলেন, ‘গত নভেম্বর থেকে মাইলেজ নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনও সমাধান মেলেনি। মাইলেজ পদ্ধতি রেলওয়ে কর্মচারীদের দাবি নয়, অধিকার। এ অধিকারের জন্য আমরা লড়ছি৷ এক সপ্তাহের মধ্যে যদি আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া না হয়, তবে ৩১ জানুয়ারি থেকে কোনো ট্রেন চলবে না।’

চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালনকারী ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার), গার্ড ও টিকিট চেকার (টিটি), গার্ড (ট্রেন পরিচালক) ও টিটিইদের (ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার) বলা হয় রানিং স্টাফ।

রেলওয়ে রানিং স্টাফদের যে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, ব্রিটিশ শাসনামল থেকে তা মাইলেজ নামে পরিচিত। এই সুবিধায় প্রতি ৮ ঘণ্টার জন্য এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন তারা।

রেলওয়ের ১৮৬২ সালের আইন অনুযায়ী ট্রেনচালক, সহচালক, পরিচালক ও টিকিট চেকাররা বিশেষ এই আর্থিক সুবিধা পেয়ে আসছেন। কিন্তু এতে বিপত্তি বাধে গত বছরের ৩ নভেম্বর।

এদিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শামীম বানু শান্তি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চলন্ত ট্রেনে দৈনিক ১০০ কিলোমিটার কিংবা তার চেয়েও বেশি দূরত্ব পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করলেও ওই দিনের বেতনের ৭৫ শতাংশের বেশি মাইলেজ ভাতা পাবেন না সংশ্লিষ্ট রানিং স্টাফ। আর মাস শেষে এই মাইলেজ মূল বেতনের বেশি হবে না।

এই প্রজ্ঞাপন জারির পর ৪ নভেম্বর ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন লোকোমাস্টাররা। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা কাজে যোগ দেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল বারি বলেন, “মাইলেজ হলো ‘পার্ট অফ পে’। এটি ব্রিটিশ আমল থেকে চালু। এ জটিলতা নিরসনে আমরা মন্ত্রী ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমাদের কথা কেউ রাখেনি। তাই আন্দোলনে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু
৩ ঘণ্টা মহাসড়ক আটকে রাখে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা
সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার চেয়ার‍ম্যান প্রার্থীর বাড়িতে আগুন
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদ গেল ইউপি আ.লীগ সদস্যের
মায়ের পথ ধরে ৩ ওয়ার্ডের মেম্বার কন্যারা

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ‘ওমিক্রন’

চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ‘ওমিক্রন’

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে ৭ ব্যক্তির দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব মিলেছে। তবে শতভাগ নিশ্চিতের জন্য নমুনাগুলো জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। রোববার ফল পাওয়া যাবে। আমরা ৯০ ভাগ নিশ্চিত তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত।’

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ৭ জনের শরীরে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে নমুনা পরীক্ষায় এর অস্তিত্ব মেলে। ঢাকায় জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে ৭ ব্যক্তির দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব মিলেছে। তবে শতভাগ নিশ্চিতের জন্য নমুনাগুলো জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। রোববার ফল পাওয়া যাবে। আমরা ৯০ ভাগ নিশ্চিত তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত।’

সিভাসুর মাইক্রো বায়োলজি ও ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কোভিড-১৯ ল্যাবের টিম লিড ড. ইফতেখার আহমেদ রানা বলেন, ‘বিশেষ কিটে ৩৭টি নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ৭ ব্যক্তিই মৃদু উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিতে এসেছিলেন।

‘তাদের হালকা সর্দি-কাশি থাকলেও শরীরের তাপমাত্রা ৯৯-১০০ ডিগ্রির মতো ছিল। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, তাদের দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব আছে কি না।’

এদিকে সিভাসুতে ওমিক্রন শনাক্তে গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা হয় বিশেষ ধরনের ১০০টি কিট। যার মাধ্যমে ৩-৫ ঘণ্টার মধ্যে ওমিক্রনের উপস্থিতি জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু
৩ ঘণ্টা মহাসড়ক আটকে রাখে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা
সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার চেয়ার‍ম্যান প্রার্থীর বাড়িতে আগুন
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদ গেল ইউপি আ.লীগ সদস্যের
মায়ের পথ ধরে ৩ ওয়ার্ডের মেম্বার কন্যারা

শেয়ার করুন

জাবি ছাত্রীদের বিয়ে হয় না অডিও ‘এডিটেড’: শাবি উপাচার্য

জাবি ছাত্রীদের বিয়ে হয় না অডিও ‘এডিটেড’: শাবি উপাচার্য

শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা একদম বোগাস। আমি এ রকম কোনো কথা বলিনি। এগুলো কেউ এডিট করে প্রচার করতে পারে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে ‘আপত্তিকর মন্তব্য’ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

তার নামে ছড়িয়ে পড়া অডিওটিকে ‘বোগাস’ আখ্যায়িত করে উপাচার্যের দাবি, এ ধরনের কোনো মন্তব্য তিনি করেননি। কেউ এডিট করে অডিওটি প্রচার করছে।

শাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যেই অডিও ক্লিপটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

শাবি উপাচার্যের কথিত অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘যারা এই ধরনের দাবি (ছাত্রী হলে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢোকার অনুমতি) তুলেছে, যে বিশ্ববিদ্যালয় সারা রাত খোলা রাখতে হবে, এইটা একটা জঘন্য রকম দাবি। আমরা মুখ দেখাইতে পারতাম না। এখানে আমাদের ছাত্রনেতা বলছে যে, জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েদের সহজে কেউ বউ হিসেবে চায় না।

‘কারণ সারা রাত এরা ঘোরাফেরা করে। বাট আমি চাই না যে আমাদের যারা এত ভালো ভালো স্টুডেন্ট, যারা এত সুন্দর, এত সুন্দর ডিপার্টমেন্টগুলো, বিখ্যাত সব শিক্ষক... তারা যাদের গ্র্যাজুয়েট করবে, এ রকম একটা কালিমা লেপুক তাদের মধ্যে।’

শাবি উপাচার্যের এ ধরনের মন্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন ক্ষোভ। এর প্রতিবাদে সরব হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও এই বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

যে বৈঠকে শাবি উপাচার্য এমন মন্তব্য করেন বলে দাবি করা হচ্ছে সেটি কবে হয়েছে তা নিয়ে ভিন্ন মত থাকলেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, সেটি ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারির।

জাবি ছাত্রীদের বিয়ে হয় না অডিও ‘এডিটেড’: শাবি উপাচার্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এক বৈঠকে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এমন কথা বলেন।

তারা জানান, বক্তব্যের সময় উপাচার্য যে ছাত্রনেতার বরাত দিয়েছেন তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তখনকার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন। তিনিও ওই বৈঠকে একই ধরনের মন্তব্য করেন।

সুলতানা ইয়াসমিন নামের এক ছাত্রী বলেন, ‘এটি উপাচার্যেরই কণ্ঠ। ছাত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে সেদিন তিনি এসব কথা বলেছিলেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার সামনেই উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও ছাত্রলীগ সভাপতি রুহুল আমিন এসব আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ছাত্রী হলের সান্ধ্য আইন বাতিলসহ কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে তখন আন্দোলন করছিলাম আমরা। এই আন্দোলনের নাম ছিল ‘অর্বাচীন’।

‘এটা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির দিকের ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের পর পরই। সমাবর্তন হয়েছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে।”

ওমর ফারুক বলেন, ‘ওই আন্দোলনের পর উপাচার্য তার কক্ষে আমাদের বৈঠকে ডেকেছিলেন। বৈঠকে ছয়জন সাধারণ শিক্ষার্থী, ছয়জন ছাত্রলীগ নেতা ও ৩২ জন শিক্ষক ছিলেন। আলোচনার সময় উপাচার্য ও ছাত্রলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের নিয়ে এসব আপত্তিকর কথা বলেন। মেয়েদের রাতে বাইরে থাকা নিয়েও অনেক আপত্তিকর কথা বলেছিলেন তারা।’

জাবি ছাত্রীদের বিয়ে হয় না অডিও ‘এডিটেড’: শাবি উপাচার্য
ভিসির পদত্যাগের দাবিতে শাবি শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন। ছবি: নিউজবাংলা



ওই বৈঠকের পর ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন অনিরুদ্ধ অমিয় নামে এক শিক্ষার্থী। তিনি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

স্ট্যাটাসে অনিরুদ্ধ লেখেন, ‘একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর যখন অন্য একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের নিয়ে খুবই অসংগতিপূর্ণ মন্তব্য করেন, তখন আসলে তার সঙ্গে আলোচনার জায়গাই থাকে না।

‘‘খুব স্পেসিফিক বললে ওনার বক্তব্য এ রকম ছিল- ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের কেউ বিয়ে করতে চায় না। আমি চাই না আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদেরও এই দশা হোক।’ ওনার আরেকটা বক্তব্য এমন ছিল- লাইব্রেরি খোলা রাখার মূল কারণ হচ্ছে মেয়েদের রাতের বেলা বাইরে রাখা। এমন কথা শোনার পর লিটারেলি থ হয়ে গিয়েছিলাম।”

তবে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘এটা একদম বোগাস। আমি এ রকম কোনো কথা বলিনি। এগুলো কেউ এডিট করে প্রচার করতে পারে।’

অডিও ক্লিপে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে মন্তব্যে যে ছাত্রনেতার প্রসঙ্গ এসেছে সেই রুহুল আমিনও দাবি করছেন, এ ধরনের কোনো মন্তব্য তিনি করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিনের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে। তিনি এখন ক্যাম্পাসে থাকেন না।

নিউজবাংলাকে রুহুল আমিন বলেন, ‘এ রকম কথা আমি কোনো দিন বলিনি। আমি এমন লোকই না। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। কেউ এডিট করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা ছড়িয়েছে।’

জাবি ছাত্রীদের বিয়ে হয় না অডিও ‘এডিটেড’: শাবি উপাচার্য

উপাচার্য এ ধরনের মন্তব্য করেছিলেন কি না- জানতে চাইলে রুহুল বলেন, ‘আমার এ রকম কিছু মনে পড়ছে না। তবে এ সময়ে এটি ছড়িয়ে দেয়ায় মনে হচ্ছে এগুলো এডিট করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছড়ানো হচ্ছে।’

যে বৈঠকে উপাচার্য এমনটি বলেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষার্থী উমর ফারুকের দাবি- বৈঠকে তখনকার ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার ও তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমদও উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক রাশেদ বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো কথা সেদিন উপাচার্য বলেছেন বলে আমার জানা নেই। একটি বৈঠকে তো অনেক ধরনের কথাই হয়। সব কথা তো আর মনে রাখা সম্ভব না।’

তবে অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমদ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ক্যাম্পাসে গত রোববার পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:
শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু
৩ ঘণ্টা মহাসড়ক আটকে রাখে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা
সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার চেয়ার‍ম্যান প্রার্থীর বাড়িতে আগুন
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদ গেল ইউপি আ.লীগ সদস্যের
মায়ের পথ ধরে ৩ ওয়ার্ডের মেম্বার কন্যারা

শেয়ার করুন

৫ ঘণ্টার যানজটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভোগান্তি

৫ ঘণ্টার যানজটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভোগান্তি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল তীব্র যানজট। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, মহাসড়কের একাংশ বন্ধ করে বৃহস্পতিবার বিকেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর রাস্তার মেরামতকাজ শুরু করেছে। এ কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রায় ৫ ঘণ্টা যানজটে আটকে ভোগান্তি হয়েছে চালক-যাত্রীদের।

মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার কাবিলা থেকে দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত অন্তত ৩০ কিলোমিটারজুড়ে বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল এই জট।

পুলিশ জানায়, মহাসড়কের একাংশ বন্ধ করে বৃহস্পতিবার বিকেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর রাস্তার মেরামত কাজ শুরু করেছে। এ কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে রাত সাড়ে ৮টা থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় মহাসড়কের চান্দিনা অংশে দেখা যায়, একপাশ বন্ধ রেখে মেরামতকাজ চলছে। আরেক পাশে দুই দিকের গাড়ি চলাচল করছে। এতে গাড়িগুলোর গতি কমে যাওয়ায় চাপ বেড়েছে ওই সড়কে।

সড়কের নিমসারে আবার ট্রাক সড়ক বিভাজকে আটকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

কুমিল্লা থেকে ঢাকার উদ্দেশে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রওনা দেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক ম্যানেজার বদরুল হুদা জেনু। তিনি বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টায় বের হয়েছি। এখনও (সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত) যানজটে আটকে আছি।’

ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা দিতে ঢাকায় যাচ্ছিলেন মামুন রনি। তিনি বলেন, ‘বিকেল ৩টায় কুমিল্লা থেকে রওনা দিয়েছি। সন্ধ্যা ৬টা বাজে, এখন পর্যন্ত চান্দিনায় আটকে আছি।’

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বৃহস্পতিবার এ সময়ে যানবাহনের চাপ থাকে, তাই সওজকে আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি।’

তিনি জানান, রাত ৮টা থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে; ৯টা নাগাদ মহাসড়ক প্রায় স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু
৩ ঘণ্টা মহাসড়ক আটকে রাখে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা
সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার চেয়ার‍ম্যান প্রার্থীর বাড়িতে আগুন
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদ গেল ইউপি আ.লীগ সদস্যের
মায়ের পথ ধরে ৩ ওয়ার্ডের মেম্বার কন্যারা

শেয়ার করুন

ছাত্রীদের ‘যৌন হয়রানি’, স্কুলের প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ছাত্রীদের ‘যৌন হয়রানি’, স্কুলের প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল। ছবি: নিউজবাংলা

ওই স্কুলের একাধিক ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদারের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। স্কুলে যাওয়া বন্ধও করে দিয়েছে বেশ কয়েকজন।

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রধান শিক্ষককে।

থানায় বুধবার রাতে ওই স্কুলের এক ছাত্রীর বাবার করা মামলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয় ননী গোপাল হালদার নামের ওই শিক্ষককে।

ননী চন্দনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) তুহিন মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মোড়েলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের বটতলা এলাকা থেকে ননীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওই স্কুলের একাধিক ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদারের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। স্কুলে যাওয়া বন্ধও করে দিয়েছে বেশ কয়েকজন।

এ নিয়ে প্রতিবেদনও হয় নিউজবাংলায়

স্কুলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ২৬ জন, তাদের মধ্যে ছাত্রী ১৬ জন। কয়েক দিন হলো ক্লাসে আসছে চার-পাঁচ ছাত্রী।

পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী নিউজবাংলাকে বলে, ‘স্যার গেলে আমাগো ধরে। আর কত কিছু কয়। হেই জন্য যাই না।’

এক অভিভাবক জানান, যৌন হয়রানির বিষয়টি স্কুলের বাংলা শিক্ষক ময়না রাণী শিকদারকে জানালে তিনি ছাত্রীদের বলেন, ‘ওতে কী হয়? স্যার তো তোমাদের একটু আদর করতেই পারেন।’

তবে ময়না বলেন, ‘আমার কাছে কখনও কোনো ছাত্রী এমন অভিযোগ করেনি।’

গত ৫ জানুয়ারি এক ছাত্রী তার নানা-নানিকে বিষয়টি জানায়। তারা ১১ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ননী গোপালের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। সে সময় আরও কয়েকজন ছাত্রী তাদের পরিবারকে একই অভিযোগ জানায়।

ইউএনওর কাছে অভিযোগের পরও কোনো বিচার পাননি বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

এ বিষয়ে ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বুধবার বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি দেখার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছিল। আমাকে ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ মিথ্যা ছিল। তাই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

‘তবে আমি জানতে পেরেছি যে ঘটনা সত্য। দ্রুতই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু
৩ ঘণ্টা মহাসড়ক আটকে রাখে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা
সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার চেয়ার‍ম্যান প্রার্থীর বাড়িতে আগুন
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদ গেল ইউপি আ.লীগ সদস্যের
মায়ের পথ ধরে ৩ ওয়ার্ডের মেম্বার কন্যারা

শেয়ার করুন

নলকূপের পাইপ দিয়ে বেরোচ্ছে ‘গ্যাস’

নলকূপের পাইপ দিয়ে বেরোচ্ছে ‘গ্যাস’

হিজলায় নলকূপের পাইপ দিয়ে গ্যাস বের হওয়া শুরু হলে আগুন ধরিয়ে পরীক্ষা করেন স্থানীয়রা। ছবি: নিইজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, কোড়ালিয়া গ্রামে অগভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে পানি নয়, পাইপ দিয়ে গ্যাস বেরোতে শুরু করে। শ্রমিকরা তখন লোকজনকে ডেকে বিষয়টি দেখান। গন্ধ শুঁকে তারা গ্যাস উদ্‌গিরণের বিষয়ে নিশ্চিত হন। তারা পাইপের মাথায় দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরান।

বরিশালের হিজলায় নলকূপের পাইপ দিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাস বের হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। ওই নলকূপের মুখে আগুন ধরিয়ে দিলে তা দীর্ঘ সময় জ্বলছে বলেও জানান তারা।

উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে গভীর নলকূপ বসানোর সময় বুধবার রাতে শ্রমিকরা পাইপে গ্যাসের সন্ধান পান।

হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বকুল চন্দ্র কবিরাজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট গবেষণা দপ্তরের কর্মকর্তারা না আসা পর্যন্ত জায়গাটি ঘিরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ইউএনও জানান, এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুসন্ধানের জন্য বাপেক্স ও পেট্রোবাংলাকে জানানো হবে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

স্থানীয়রা জানান, কোড়ালিয়া গ্রামের ইসরাফিল আকন নামে এক কৃষক ধানক্ষেতে সেচ দিতে বুধবার সকালে বাড়ির পাশে শ্রমিক দিয়ে অগভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু করেন। রাতে শ্রমিকরা প্রায় ৭০ ফুট পাইপ নামানোর পরও পানির স্তর পাচ্ছিলেন না।

তারা আরও গভীরে যাওয়ার জন্য খনন চালাতে থাকেন। কিছুক্ষণ পরই ভূগর্ভ থেকে পানি নয়, পাইপ দিয়ে গ্যাস বেরোতে শুরু করে। শ্রমিকরা তখন লোকজনকে ডেকে বিষয়টি দেখান। গন্ধ শুঁকে তারা গ্যাস উদ্‌গিরণের বিষয়ে নিশ্চিত হন। তারা পাইপের মাথায় দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরান।

জমির মালিক ইসরাফিল আকন জানান, পাইপ দিয়ে গ্যাস বের হওয়া দেখে বিষয়টি রাতেই উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনা দেখতে গ্রামের লোকজন রাত থেকেই ভিড় জমিয়েছে।

আরও পড়ুন:
শৈলকুপায় নির্বাচনি সহিংসতায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু
৩ ঘণ্টা মহাসড়ক আটকে রাখে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকরা
সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার চেয়ার‍ম্যান প্রার্থীর বাড়িতে আগুন
ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদ গেল ইউপি আ.লীগ সদস্যের
মায়ের পথ ধরে ৩ ওয়ার্ডের মেম্বার কন্যারা

শেয়ার করুন