ভোটের পর সহিংসতা: ৩ ইউনিয়নে আহত অর্ধশতাধিক

player
ভোটের পর সহিংসতা: ৩ ইউনিয়নে আহত অর্ধশতাধিক

ভোলা সদরে ইউপি নির্বাচনের পর সহিংসতায় অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ভোলা সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আরমান হোসেন জানান, সহিংসতা রোধে প্রত্যেক ইউনিয়নে পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করছে। তিন ইউনিয়নে সহিংসতা তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে এনেছে পুলিশ। তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভোলা সদরের তিন ইউনিয়নে ভোটের পর সদস্য প্রার্থীদের সমর্থকদের সহিংসতায় অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ জন ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পূর্ব ইলিশা, ধনিয়া ও বাপ্তা ইউনিয়নে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকালে পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিজয়ী সদস্য লিটন সিকদার লোকজন নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বের হন। এ সময় পরাজিত সদস্য প্রার্থী শাহে আলমের সমর্থকরা হামলা করেন। দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

এ সময় লিটন সিকদারের বাড়ির কাচারি ঘরে আগ্নিসংযোগ এবং সমর্থকদের মোটরসাইকেল ও দোকান ভাঙচুর করা হয়। এতে দুই পক্ষের ৩০ জন আহত হন। আহতদের ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শাহে আলম জানান, লিটনের সমর্থকরা তার সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা করে। বাধা দিতে গেলে তার দুই ছেলে শাহিন, রুবেলসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

পুলিশ জানায়, বাপ্তা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিজয়ী সদস্য মাকসুদর রহমান নিরবের ওপর হামলা হয়েছে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে মিজান ও হোসেন নামে দুজন আহত হন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এ ছাড়া ধনিয়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং শিবপুর ইউনিয়নেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

ভোলা সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আরমান হোসেন জানান, সহিংসতা রোধে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করছে। তিন ইউনিয়নে সহিংসতা তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে এনেছে পুলিশ। তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার নিরুপম সরকার জানান, সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হন।

পঞ্চম ধাপে ওই সব ইউনিয়নে ভোট হয় বুধবার।

আরও পড়ুন:
ভোটকেন্দ্রে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা
প্রার্থীর সমর্থক হত্যা: নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যসহ আসামি ৩০
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: গলা কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
নৌকায় সিল দেয়া ব্যালট পেপার পুকুরে
সাতক্ষীরায় সহিংসতায় ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাবি শিক্ষক নেতাদের আলোচনার প্রস্তাব শিক্ষার্থীদের প্রত্যাখ্যান

শাবি শিক্ষক নেতাদের আলোচনার প্রস্তাব শিক্ষার্থীদের প্রত্যাখ্যান

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে শাবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। গুলি করা হয়েছ। এখন আমাদের সঙ্গে কীসের আলোচনা। এখন উপাচার্য পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন- এটিই আমরা চাই।’

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। তবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আন্দোলনে যারা সংহতি প্রকাশ করবেন কেবল তাদের সঙ্গেই আলোচনা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহারে রাত ১০টা পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দিয়েছেন তারা।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহিবুল আলমের নেতৃত্বে শিক্ষক সমিতির কয়েকজন নেতা মঙ্গলবার বিকেলে আলোচনা করতে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে যান।

আলোচনার প্রস্তাব শিক্ষার্থীরা ফিরিয়ে দিলে চলে যান শিক্ষক নেতারা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। গুলি করা হয়েছ। এখন আমাদের সঙ্গে কীসের আলোচনা। এখন উপাচার্য পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন- এটিই আমরা চাই।’

তিনি বলেন, ‘কেউ আলোচনা করতে চাইলে আগে আমাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব দেয়ার আগে এদিন দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে তার বাসভবনে গিয়ে দেখা করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস।

উপাচার্য কার্যালয় থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর সমাধান সম্ভব। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। এভাবেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।’

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য রাত ১০টার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বিকেলে উপাচার্য ভবনের সামনে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের এই ঘোষণা মাইক থেকে জানানো হয়।

সোমবার রাতে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে সিলেটের জালালাবাদ থানায় এই মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই-তিন শ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তিন দফা দাবিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় পুলিশের সংঘর্ষ হয়। অবরুদ্ধ উপাচার্যকে মুক্ত করতে গিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে এই সংঘাত বাধে। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নির্দেশে পুলিশ তাদের ওপর হামলা ও গুলি করে।

তবে এবার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই হামলার অভিযোগ এনে মামলা করল পুলিশ।

এজাহারে বলা হয়, রোববার আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ ‘উচ্ছৃঙ্খল’ শিক্ষার্থী পুলিশের কাজে বাধা দেয়।

সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ ছাড়া পুলিশকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীরা গুলি ছোড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

তবে এই মামলায় কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল। মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে এসে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেবে না। এ ছাড়া একটি মামলা হলেও কাউকে হয়রানি করা হবে না।’

আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে এসে আলোচনার মাধ্যমে যাতে সমাধানে পৌঁছা যায় সেই পথ খোলা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান নাদেলও।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার আজবাহার আলী শেখও জানিয়েছেন, ‘কোনো ঘটনা ঘটলে মামলা করাটা আমাদের রুটিন কাজ। এ জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হবে না।’

আরও পড়ুন:
ভোটকেন্দ্রে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা
প্রার্থীর সমর্থক হত্যা: নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যসহ আসামি ৩০
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: গলা কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
নৌকায় সিল দেয়া ব্যালট পেপার পুকুরে
সাতক্ষীরায় সহিংসতায় ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

শেয়ার করুন

চরআইচা গ্রামের মানুষ ‘আতঙ্কে’

চরআইচা গ্রামের মানুষ ‘আতঙ্কে’

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে চরআইচা গ্রামে হামলার ঘটনা ঘটে। ছবি: নিউজবাংলা

ব‌রিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান ব‌লেন, ‘গ্রামবাসী আতঙ্কে আছেন, এই ধর‌নের অভিযোগ এখন পর্যন্ত আমা‌দের কা‌ছে নেই। সু‌নি‌র্দিষ্ট অভিযোগ পে‌লে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাজু‌ড়ে আমা‌দের নজরদা‌রি র‌য়ে‌ছে।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ‘উশৃঙ্খল’ শিক্ষার্থীর হামলার পর সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের চরআইচা গ্রামের মানুষের আতঙ্কে দিন কাটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া না হলে আগামীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটবে।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের এক নেতা বলছেন, এক ছাত্রীকে মারধরের পর অভিযুক্তরা নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন।

কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে যারা বসবাস করছেন তাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তারা জোর দিচ্ছেন। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, গ্রামবাসীর কেউ আতঙ্কে থাকার কথা তাদের জানায়নি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে।

ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করাসহ নানা কারণে চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইদুল আলম লিটন ও তার অনুসারী জাহিদ হোসেন জয়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরোধ। এর জেরে ১১ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনন্দ বাজার ও চরআইচা গ্রামে যান শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা লিটন ও জয়ের বসতঘর ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে আহত হন তাদের পরিবারের সদস্যরাও।

কয়েকজন গ্রামবাসীর দাবি, ২০১৭ ও ২০১৮ সালেও হামলা করেছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু উশৃঙ্খল শিক্ষার্থী।

চরকাউয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দ বাজার এলাকার বাসিন্দা সবুজ মোল্লা। তিনি বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এতদিন আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কিছু শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ডের কারণে আমাদের আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। কিছু শিক্ষার্থী মনে যা চায়, তাই এসে করে। এসব বিষয়ে বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।’

জাকারিয়া নামের এক দোকানি বলেন, ‘লিটন মেম্বার ও জয় যে ভালো সেটা বলার কোনো সুযোগ নেই। সেদিন তাদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের, মানলাম। কিন্তু তাদের বৃদ্ধ বাবা-মা কী করেছে ? তাদের কেন মারধর এবং ঘর ভাঙচুর করল শিক্ষার্থীরা। তাদের কাছ তো আমরা জিম্মি দশায় পড়ে গেছি।’

শাহনাজ পারভীন নামে এক নারী বলেন, ‘হুনছি সেদিন তো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী আর হ্যার (তার) স্বামী মারামারি করতে করতে বালুর মধ্যে গড়াগড়ি খাইতে আছিল। হেইয়া ছাড়াইতে যাইয়াই তো যত ঝামেলা বাজছে। মোগো এলাকার লোকজনের দোষ থাকতে পারে। তয় এক্কারে বাসা বাড়িতে ঢুইকা ভাঙচুর চালাইবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা হর্তাকর্তা আছে হ্যারা কী বইয়া বইয়া তামশা দ্যাহে।’

উৎপল মন্ডল নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় হলে তারা প্রতিবাদ করবে, আন্দোলন করবে। কিন্তু হামলা বা ভাঙচুর করাটা তাদের মানায় না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ভাঙচুরকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। নতুবা এমন ঘটনা আবারও ঘটবে।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতা আল আমিন ব‌লেন, ‘ওই দিন রা‌তে বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের কো‌নো ছাত্রই গ্রা‌মে ঢু‌কে বসত বা‌ড়ি‌তে হামলা ভাঙচুর ক‌রেনি। শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জা‌নি‌য়ে ফি‌রে এসেছে। ত‌বে গ্রামের যারা নানা অপকর্মে জড়িত তারা আমা‌দের ছাত্রী‌কে মারধর ক‌রে নি‌জেরা বাঁচতে কৌশল নেয়। নি‌জে‌দের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ক‌রে‌ তারা। এখা‌নে গ্রামবাসীর আতঙ্কের কো‌নো কারণ নেই।

‘তা‌দের সঙ্গে আমা‌দের অনেক ভা‌লো সম্পর্ক। ওই গ্রা‌মের কিছু দুষ্কৃ‌তিকা‌রীর জন‌্য একা‌ধিকবার ঝা‌মেলা হ‌য়ে‌ছে, ত‌বে সেটা গ্রামবাসী‌দের সঙ্গে নয়। আমা‌দের শিক্ষার্থী, সহপা‌ঠীরা তো গ্রা‌মের দোকানগু‌লোর নিয়‌মিত গ্রাহক। ব‌্যবসায়ী‌দের সঙ্গে আমা‌দের ভা‌লো সম্পর্ক।’

আনন্দ বাজা‌রে বিশ্ব‌বিদ‌্যালয়ের ছাত্রী ও তার স্বামী‌কে মারধ‌রের ঘটনায় করা মামলায় কারাগারে আছেন লিটন ও জয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর খোরশেদ আলম বলেন, ‘১১ জানুয়ারি বাড়ি ঘরে হামলার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। ছাত্ররা বিক্ষুদ্ধ ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই বসতি ও ব্যবসা। আশপাশের মানুষের সঙ্গে এই ধরনের ঝামেলার অবসান করতে আমরা কাজ করছি। এ জন্য স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।’

ব‌রিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান ব‌লেন, ‘গ্রামবাসী আতঙ্কে আছেন, এই ধর‌নের অভিযোগ এখন পর্যন্ত আমা‌দের কা‌ছে নেই। সু‌নি‌র্দিষ্ট অভিযোগ পে‌লে সেই অনুযায়ী ব‌্যবস্থা নেয়া হবে। তা ছাড়া বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় এলাকাজু‌ড়ে আমা‌দের নজরদা‌রি র‌য়ে‌ছে।’

আরও পড়ুন:
ভোটকেন্দ্রে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা
প্রার্থীর সমর্থক হত্যা: নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যসহ আসামি ৩০
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: গলা কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
নৌকায় সিল দেয়া ব্যালট পেপার পুকুরে
সাতক্ষীরায় সহিংসতায় ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

শেয়ার করুন

উত্যক্ত্যের প্রতিবাদ করায় ভাইকে কুপিয়ে জখম

উত্যক্ত্যের প্রতিবাদ করায় ভাইকে কুপিয়ে জখম

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাবের হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

স্বজনরা জানান, দশম শ্রেণিতে পড়া বোনকে উত্যক্ত্য করায় জাবেরের সঙ্গে বখাটেদের বিরোধ হয়। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বখাটে ইমামের সঙ্গে তর্কের পরদিন হামলার শিকার হয় জাবের।

বরগুনা সদরে বোনকে উত্যক্ত্যের প্রতিবাদ করায় জাবের হোসেন নামের কিশোরকে কুপিয়ে জখম করেছে বখাটেরা।

উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে এ হামলা হয়।

আহত জাবেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্বজনরা জানান, ১৭ বছর বয়সী জাবের বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবনগোলা এলাকার ইমাম হোসেনের ছেলে। জাবেরের বোন স্থানীয় স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। স্কুলে যাওয়া-আসার সময় প্রায়ই তাকে উত্যক্ত্য করে দক্ষিণ বড়লবনগোলা এলাকার কিশোর ইমাম চৌধুরী। এ নিয়ে সমবয়সী জাবের ও ইমামের কয়েক দফা কথা কাটাকাটি হয়।

বোনকে উত্যক্ত্য করায় সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইমামের সঙ্গে তর্ক হয় জাবেরের। এ সময় ইমাম তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা শহরে ফেরার পথে দক্ষিণ বড়লবনগোলা এলাকায় জাবেরের পথরোধ করে কয়েকজন। এসময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পিঠ ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত জাবেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। আটক হয়নি বখাটেদের কেউ।

বরগুনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল এসপি) মেহেদি হাসান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি, আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ভোটকেন্দ্রে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা
প্রার্থীর সমর্থক হত্যা: নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যসহ আসামি ৩০
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: গলা কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
নৌকায় সিল দেয়া ব্যালট পেপার পুকুরে
সাতক্ষীরায় সহিংসতায় ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

শেয়ার করুন

নিজ ওয়ার্ডে ছোট ভাইয়ের অর্ধেক ভোট তৈমূরের

নিজ ওয়ার্ডে ছোট ভাইয়ের অর্ধেক ভোট তৈমূরের

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৈমূরের ছোট ভাই তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে উড়িয়ে দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১৩ হাজার ৭৭২ ভোট। যারা তাকে সমর্থন জানিয়েছেন, তার অর্ধেক ভোটার কেবল রায় দিয়েছেন তৈমূরের পক্ষে। তিনি মেয়র পদে ভোট পেয়েছেন ৭ হাজার ২৫৪টি। বিজয়ী প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী জিতেছেন এই এলাকাতেও। তিনি ভোট পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৬১টি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়া বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার তার নিজ এলাকা ১৩ নং ওয়ার্ডেও জিততে পারেননি। তবে এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দাঁড়িয়ে জিতেছেন তার ছোট ভাই মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

তৈমূরের মার্কা হাতিতে যত ভোট পড়েছে, তার ভোট ছাই খোরশেদের ঠেলাগাড়ি মার্কায় ভোট পড়েছে তার দ্বিগুণ।

অর্থাৎ খোরশেদকে যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চেয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মেয়র হিসেবে দেখতে চেয়েছেন নৌকা মার্কার প্রার্থী আইভীকে।

এই ওয়ার্ডের ১২টি কেন্দ্রে মেয়র পদে সব মিলিয়ে ৭ হাজার ২৫৪ টি ভোট পেয়েছেন তৈমূর। অন্যদিকে কাউন্সিলর পদে বিজয়ী খোরশেদ পেয়েছেন ১৩ হাজার ৭৭২ ভোট, যা তৈমূরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এই ওয়ার্ডে তৈমূরের চেয়ে কিছু বেশি ভোট পেয়েছেন আইভী। তার নৌকায় সমর্থন জানিয়েছেন ৭ হাজার ৩৬১ জন।

এই ওয়ার্ডের ১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টিতে বেশি ভোট পেয়েছেন তৈমূর, ৬টিতে বেশি পেয়েছেন আইভী। আর ১২টি কেন্দ্রেই তৈমূরের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন তার ভাই খোরশেদ।

ঠেলাগাড়ি প্রতীকে খোরশেদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে গো হারা হেরেছেন যুবলীগ নেতা শাহ ফয়েজ উল্লাহ। তিনি ১ হাজার ২২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৈমূরের ছোট ভাই ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজয়ী মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিগত সময়ের কর্মকাণ্ড দেখে মানুষ ভোট দেয়। করোনার সময় মানুষ আমাকে পাশে পেয়েছে। এ কারণে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ স্থানীয়রা জনগণ দলমত-নির্বিশেষে আমাকে ভোট দিয়েছে।’

মেয়র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও মানুষ একই নীতিমালায় ভোট দিয়েছে বলে মনে করেন খোরশেদ। তিনি বলেন, ‘আগে যিনি মেয়র ছিলেন তার কাজগুলো দেখে তাকে স্থানীয়রা ভোট দিয়েছেন।’

নিজ এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী ছোট ভাইয়ের চেয়েও কম ভোট পাওয়ার বিষয়ে তৈমূর আলম খন্দকারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তা বন্ধ পাওয়া যায়। খোরশেদও জানিয়েছেন তিনি বাড়িতে বিশ্রাম করছেন।

ভোটের পরে এক প্রতিক্রিয়ায় তৈমূর তার পরাজয়ের কারণ হিসেবে ইভিএমকে দেখিয়েছিলেন। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না দেখিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ইভিএম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণে হেরেছেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী গত রোববার ১৯২টি কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমূর পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৬৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান প্রায় ৬৭ হাজার।

এ নিয়ে আইভী টানা চারবার ভোটে জিতলেন। এর মধ্যে ২০০৩ সালে পৌরসভার মেয়র এবং ২০১১, ২০১৬ সালের ধারাবাহিকতায় এবার সিটি করপোরেশনের মেয়র হলেন।

চারবারই আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার ধারেকাছেও আসতে পারেননি। তবে সিটি করপোরেশনের তিনটি নির্বাচনের মধ্যে তৈমূরই সবচেয়ে কম ভোটে হেরেছেন।

কোন কেন্দ্রে কত ভোট

নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্র-১ এ তৈমূরের পক্ষে ভোট পড়েছে ৯৭৬টি। অন্যদিকে এখানে খোরশেদ ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৬৮১টি।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৮১৪ টি। অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কিছুটা কম ভোট পেয়েছেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্র-২ এ তৈমূর ভোট পেয়েছেন ৭৭৪টি। খোরশেদ এখানে পেয়েছেন এক হাজার ২৫২ ভোট।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৫০৬ টি। অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কম।

আদর্শ স্কুল ভোটকেন্দ্র-১ এ তৈমূরের হাতি মার্কায় ভোট পড়েছে ২৬৭টি। এখানে কাউন্সিলর পদে খোরশেদের ঠেলাগাড়িতে পড়েছে ৫৯৬ ভোট।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৩৪৭টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে বেশি।

আর্দশ স্কুল ভোটকেন্দ্র-২ এ তৈমূর পেয়েছেন ৩৫২ ভোট, খোরশেদ পেয়েছেন ৮০১ ভোট।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৪৯২টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে বেশি।

আর্দশ স্কুল ভোটকেন্দ্র-৩ এ তৈমূর পেয়েছেন ৬৮০ ভোট, অন্যদিকে খোরশেদ পেয়েছেন ১০৩৮ ভোট।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৩৬২টি, অর্থাৎ আইভী এখানে তৈমূরের চেয়ে কম ভোট পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল এম এ মাদ্রসা ঈদগাহ ভোটকেন্দ্রে তৈমূরের পক্ষে রায় দিয়েছেন ৯৮২ জন ভোটার। তবে তার ভাইয়ের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন ১ হাজার ৫৪৩ জন।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৫২৭টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কম।

নারায়ণগঞ্জ গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ-১ কেন্দ্রে তৈমূরকে বেছে নিয়েছেন ৬৪৪ জন। অন্যদিকে কাউন্সিলর হিসেবে খোরশেদ পছন্দের ছিলেন ১ হাজার ৭৯ জনের কাছে।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৫৯০টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কম।

নারায়ণগঞ্জ গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ-২ এ তৈমূর রায় পেয়েছেন ৪৯১ জন ভোটারের। খোরশেদ রায় পেয়েছেন ৭৮৯ জনের।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৪১২টি, অর্থাৎ তৈমূরের চেয়ে কিছুটা কম।

৩৯ নং আদর্শ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আমলাপাড়া কেন্দ্রে তৈমূরের তুলনায় খোরশেদ ভোট পেয়েছেন তিন গুণ।

এই কেন্দ্রে মেয়র পদে হাতি মার্কার পাশে ছিলেন ৪৯৩ জন। অন্যদিকে কাউন্সিলর হিসেবে খোরশেদের পাশের ছিলেন ১ হাজার ৪১৯ জন।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ৪৭টি, অর্থাৎ তৈমূরের দ্বিগুণের বেশি।

নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুল আমলাপাড়া কেন্দ্রে তৈমূরের তুলনায় তিন গুণ ভোটার পছন্দ করেছেন খোরশেদকে। এই কেন্দ্রে হাতি মার্কায় ভোট পড়েছে ২৮৯টি। অন্যদিকে ঠেলাগাড়িতে পড়েছে ৯৬১টি।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৭৪৪টি, অর্থাৎ তৈমূরের আড়াই গুণের বেশি।

সরকারি তোলারাম কলেজ ভোট কেন্দ্র-১ এ তৈমূরকে বেছে নিয়েছেন ৭৭৭ জন ভোটার। খোরশেদকে বেছে নিয়েছেন ১ হাজার ৫৪৩ জন।

এই কেন্দ্রে আইভী ভোট পেয়েছেন ৯০৬টি। এখানেও তিনি তৈমূরের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন।

সরকারি তোলারাম কলেজ ভোটকেন্দ্র-২ এ তৈমূরের পক্ষে ইভিএমে বাটন টিপেছেন ৫২৯ জন। খোরশেদের পক্ষে টিপেছেন তার দ্বিগুণ সংখ্যক ভোটার। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৭০ জন।

এই কেন্দ্রেও তৈমূরের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন আইভী। তার পক্ষে রায় দিয়েছেন ৬১৪ জন।

আরও পড়ুন:
ভোটকেন্দ্রে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা
প্রার্থীর সমর্থক হত্যা: নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যসহ আসামি ৩০
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: গলা কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
নৌকায় সিল দেয়া ব্যালট পেপার পুকুরে
সাতক্ষীরায় সহিংসতায় ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

শেয়ার করুন

ছিলেন পুলিশ, স্ত্রীকে নিয়ে হলেন ‘চোর’

ছিলেন পুলিশ, স্ত্রীকে নিয়ে হলেন ‘চোর’

আটকের পর চাকরিচ্যুত পুলিশ মামুন উর রশিদ ও তার স্ত্রী আকলিমা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

রাউজানের অভি ও হালিশহর এলাকার অনিক নামে দুই যুবক ওই চোর চক্রটির সদস্য। তাদের সহযোগিতায় চোরাই মোটরসাইকেল বেচাকেনার পর বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর করা হয়।

মামুন উর রশিদ চাকরি করতেন পুলিশে। কিন্তু অনিয়মের অভিযোগে চাকরিচ্যুত হন তিনি।

এর পরও শিক্ষা হয়নি মামুনের। বরং স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে শুরু করেন মোটরসাইকেল চুরি।

তবে শেষ রক্ষা হয়নি এই দম্পতির। মঙ্গলবার ভোরে নগরীর ইপিজেড আলী শাহ পাড়া এলাকা থেকে স্ত্রী আকলিমা বেগমসহ মামুনকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. নূরুল আবছার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তারা স্বামী-স্ত্রী। অপরাধের কারণে স্বামীকে পুলিশ থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে ইপিজেড থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী আকলিমা বেগম স্বীকার করেছেন, চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য মামুনকে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রিতে সহযোগিতা করতেন তিনি।

এ ছাড়া রাউজানের অভি ও হালিশহর এলাকার অনিক নামে দুই যুবক ওই চক্রটির সদস্য। তাদের সহযোগিতায় চোরাই মোটরসাইকেল বেচাকেনার পর বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর করা হয়।

এদের মধ্যে অভি কাস্টমসের নকল কাগজপত্র বানিয়ে মোটরসাইকেলগুলো বিক্রি করতেন।

চোর চক্রের সদস্য অভি ও অনিককে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব কাজ করছে বলেও জানিয়েছে সূত্র।

আরও পড়ুন:
ভোটকেন্দ্রে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা
প্রার্থীর সমর্থক হত্যা: নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যসহ আসামি ৩০
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: গলা কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
নৌকায় সিল দেয়া ব্যালট পেপার পুকুরে
সাতক্ষীরায় সহিংসতায় ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

শেয়ার করুন

আরসা প্রধানের ভাইকে রিমান্ডে চায় পুলিশ

আরসা প্রধানের ভাইকে রিমান্ডে চায় পুলিশ

আরকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসার প্রধান আতাউল্লাহ আবু জুনুনীর ভাই শাহ আলী। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার ভোরে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নৌকার মাঠসংলগ্ন এলাকা থেকে শাহ আলীকে আটক করে এপিবিএন। এ সময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় বন্দুক, একটি বড় আকারের ছোরা ও এক হাজার ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির ১ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি-আরসার প্রধান আতাউল্লাহ আবু আমমার জুনুনীর ছোট ভাই শাহ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন মামলায় সাত দিন করে রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

আদালত এ বিষয়ে কোনো আদেশ না দিয়ে বুধবার শুনানির দিন ঠিক করেছে।

শাহ আলীকে গত রোববার কক্সবাজারের উখিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

গ্রেপ্তারের পর আরসা প্রধানের ভাইয়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএন। আরও একটি মামলা হয়েছে অপহরণের অভিযোগে।

এজাহারে বলা হয়েছে, শাহ আলীর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ঢাকার হাজারীবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা আছে। ২০১৯ সালে পুলিশের করা ওই মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। তার বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রও আছে।

উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী সালাহ উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, তিনটি মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। শুনানির পর আদালত এ বিষয়ে আদেশ দেবে।

রোববার ভোরে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নৌকার মাঠসংলগ্ন এলাকা থেকে শাহ আলীকে আটক করে এপিবিএন। এ সময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় বন্দুক, একটি বড় আকারের ছোরা ও এক হাজার ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির ১ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন:
ভোটকেন্দ্রে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা
প্রার্থীর সমর্থক হত্যা: নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যসহ আসামি ৩০
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: গলা কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
নৌকায় সিল দেয়া ব্যালট পেপার পুকুরে
সাতক্ষীরায় সহিংসতায় ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

শেয়ার করুন

নৌকার বিরোধিতা করায় যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত

নৌকার বিরোধিতা করায় যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত

বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকার বিরোধিতা করার কথাটা নেহায়াত মিথ্যা নয়। তবে আমি বিরোধিতা করিনি, সভাপতিসহ কমিটি করেছে ঠিক আছে। আমি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মন্নান ভাইয়ের সঙ্গে নৌকার পক্ষে কাজ করছি।’

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করায় আহল্লা কড়ল ডেঙ্গা ইউনিয়নে আওয়ামী যুবলীগের কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বোয়ালখালী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সায়েম কবির।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘৫ জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১০ নং আহল্লা কড়ল ডেঙ্গা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী মনসুর আহমেদ বাবুলের বিরোধিতা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপ ও বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী হতে সহযোগিতা করায় অহল্লা কড়ল ডেঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মুরাদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকার বিরোধিতা করার কথাটা নেহায়াত মিথ্যা নয়। তবে আমি বিরোধিতা করিনি, সভাপতিসহ কমিটি করেছে ঠিক আছে। আমি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মন্নান ভাইয়ের সঙ্গে নৌকার পক্ষে কাজ করছি।’

একই অভিযোগে গত ৯ জানুয়ারি বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

একই দিন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সাত দিনের মধ্যে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়। জবাব দিতে ব্যর্থ হলে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক পার্থ সারথী চৌধুরী ও ওসমান গনির সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
ভোটকেন্দ্রে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা
প্রার্থীর সমর্থক হত্যা: নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যসহ আসামি ৩০
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: গলা কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
নৌকায় সিল দেয়া ব্যালট পেপার পুকুরে
সাতক্ষীরায় সহিংসতায় ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

শেয়ার করুন