৪৫ প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীতের রায় বহাল

player
৪৫ প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীতের রায় বহাল

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ প্রধান শিক্ষককে ১০ গ্রেডে উন্নীত করতে নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফাইল ছবি

রিটকারী ৪৫ শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ এবং দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে অফিশিয়াল গেজেটভুক্ত করতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় রিটকারীরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীত করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীসহ তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন।

পরে আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির হলেও তারা বেতন পান একাদশ ও দ্বাদশ গ্রেডে। অথচ দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সব সরকারি চাকরিজীবী দশম গ্রেডে বেতন পান। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজসহ ৪৫ জন রিট করেন।’

তিনি বলেন, ‘ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেয়। রায়ে হাইকোর্ট রিটকারী ৪৫ শিক্ষককে (প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত) দশম গ্রেডে উন্নীত করতে এবং দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে অফিশিয়াল গেজেটভুক্ত করতে নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

‘রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে আজ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। ফলে শুধু রিটকারী ৪৫ শিক্ষক তাদের প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। সেদিনই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষা বোর্ডে প্রধান শিক্ষকের নামে বই বিক্রির অভিযোগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দেয়া শেখর কারাগারে

প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয় দেয়া শেখর কারাগারে

প্রতারণার অভিযোগে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয় চন্দ্র শেখর মিস্ত্রীকে। ছবি: সংগৃহীত

গত ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিফ কম্পট্রোলার পরিচয়ে চন্দ্র শেখর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষকে ফোন করে নিজের ভাগ্নেকে ভর্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়।

প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএস এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার চন্দ্র শেখর মিস্ত্রীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশিদ তার রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

এদিন আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) সাদিকুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে তাকে পাঁচ দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন।

আসামির পক্ষে আইনজীবী মনোয়ার হোসেন তাপস রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বুধবার তেজগাঁও থানার নাজনীনবাগ এলাকা থেকে চন্দ্র শেখরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চাকরিপ্রার্থীর সিভি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞপ্তি, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বদলির আবেদন, সরকারি স্কুল-কলেজের ভর্তির আবেদন, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম, মোবাইল নম্বর, একাধিক সিল, ছয়টি মোবাইল ফোন, চারটি ডেবিট কার্ড ও বিভিন্ন ব্যাংকের চেক জব্দ করা হয়।

জানা যায়, চন্দ্র শেখর প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএস এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নানা মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আশ্বাস দিয়ে মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন।

অভিযোগ, এ ছাড়া স্কুল-কলেজে ভর্তি ও বদলি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠানো, গণভবন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ পাস ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা বলে শতাধিক লোকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

সর্বশেষ গত ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিফ কম্পট্রোলার পরিচয়ে চন্দ্র শেখর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষকে ফোন করে নিজের ভাগ্নেকে ভর্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ ঘটনায় কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা আমীমুল ইহসান মোহাম্মদপুর থানায় প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
শিক্ষা বোর্ডে প্রধান শিক্ষকের নামে বই বিক্রির অভিযোগ

শেয়ার করুন

৩০ স্বর্ণের বারসহ যাত্রী এবং বিমানকর্মী আটক

৩০ স্বর্ণের বারসহ যাত্রী এবং বিমানকর্মী আটক

৩০টি স্বর্ণের বারসহ আটক যাত্রী কামাল উদ্দিন এবং বিমানকর্মী ইব্রাহিম খলিল। ছবি: নিউজবাংলা

এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ‘জব্দ করা ৩০টি স্বর্ণের বারের ওজন ৩ কেজি ৪৮০ গ্রাম। রিয়াদ থেকে ঢাকায় আসা ফ্লাইট বিজি-৪০৪০ থেকে জব্দ করা হয় স্বর্ণের বারগুলো। আটক যাত্রীর নাম কামাল উদ্দিন এবং বিমানকর্মী ইব্রাহিম খলিল নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩০টি স্বর্ণের বারসহ এক যাত্রী এবং বিমানকর্মীকে আটক করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জব্দ করা ৩০টি স্বর্ণের বারের ওজন ৩ কেজি ৪৮০ গ্রাম। রিয়াদ থেকে ঢাকায় আসা ফ্লাইট বিজি-৪০৪০ থেকে জব্দ করা হয় স্বর্ণের বারগুলো। আটক যাত্রীর নাম কামাল উদ্দিন এবং বিমানকর্মী ইব্রাহিম খলিল নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে বিমানটি আসে। বিকেল ৪টায় তাদের আটক করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক আরও বলেন, ‘আজ বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ৪০৪০ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এসময় বাংলাদেশ বিমানের নিরাপত্তাকর্মী ইব্রাহীম খলিলকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে আটক করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে তার কাছে গোল্ডবার রয়েছে।

‘এ সময় তিনি নিজ হাতে তার জ্যাকেটের পকেট থেকে ৩ কেজি ৪৮০ গ্রাম ওজনের ৩০টি গোল্ডবারসহ একটি ছোট ব্যাগ বের করে দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে এই গোল্ড বহনকারী যাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত হয় বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ এবং যাত্রী কামাল উদ্দিনকেও আটক করা হয়। আটককৃত নিরাপত্তাকর্মী জানান, এই গোল্ডবার পাচার করতে পারলে প্রতিটি গোল্ডবারের জন্য তিনি সাড়ে ছয় হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা পাওয়ার কথা।’

আটক দুই জনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় নিয়মিত আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

আরও পড়ুন:
শিক্ষা বোর্ডে প্রধান শিক্ষকের নামে বই বিক্রির অভিযোগ

শেয়ার করুন

অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মৃত্যুর খবরে খালেকের বাড়িতে আসতে থাকে স্থানীয়রা। ছবি: নিউজবাংলা

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলার রহমান বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেনাসদস্যের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

ভোলার দৌলতখানে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরশুভী মাদ্রাসাসংলগ্ন মুনাফ পাটোয়ারী বাড়িতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিউজবাংলাকে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত ৬৫ বছর বয়সী সাবেক ওই সেনাসদস্যের নাম আব্দুল খালেক।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, একই বাড়ির মোফাজ্জলের সঙ্গে খালেকের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে কয়েক মাস আগে উভয় পরিবারের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে।

খালেকের মা মরিয়ম বেগম জানান, তার ছেলে খালেক পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। কয়েক দিন আগে বাড়িতে আসেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা দেন। দৌলতখান পৌর শহরের দক্ষিণ মাথায় এলে প্রতিপক্ষ মোফাজ্জল ও তার সহযোগীরা খালেকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে বাড়িতে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বাড়ি থেকে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি বজলার রহমান বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেনাসদস্যের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষা বোর্ডে প্রধান শিক্ষকের নামে বই বিক্রির অভিযোগ

শেয়ার করুন

প্লট দুর্নীতির মামলা: বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৩ এপ্রিল

প্লট দুর্নীতির মামলা: বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৩ এপ্রিল

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। ফাইল ছবি

এস কে সিনহার নামে করা মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ছিল বৃহস্পতিবার। আজ তদন্ত সংস্থা দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশ প্রতিবেদন জমার নতুন তারিখ ঠিক করেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট বরাদ্দ নেয়া ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পিছিয়ে ৩ এপ্রিল ঠিক করেছে আদালত।

মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ছিল বৃহস্পতিবার। আজ তদন্ত সংস্থা দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশ প্রতিবেদন জমার নতুন এ তারিখ ঠিক করেন।

আদালতে দুদকের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা মো. জুলফিকার নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে গত বছরের ১০ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) মামলাটি করেন।

মামলায় ৭ কোটি ১৪ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এস কে সিনহা ভাইয়ের নামে অবৈধভাবে বরাদ্দ নেয়া প্লটটি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচল থেকে উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে স্থানান্তর করেন। পরবর্তী সময়ে রাজউক থেকে অনুমোদনও করান। আর প্লটের সম্পূর্ণ অর্থ (৭৫ লাখ টাকা) নিজেই পরিশোধ করেন। পরে ওই প্লটে ৯ তলা ভবন নির্মাণ করেন তিনি।

দুদকের অনুসন্ধানকালে প্রকৌশলীর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উত্তরা আবাসিক এলাকায় ভবন নির্মাণে ব্যয় হয় ৬ কোটি ৩১ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা। এ ছাড়া প্লটের মূল্য হিসেবে রাজউকে পরিশোধ করা হয় ৭৫ লাখ টাকা।

মামলার এজাহারে বলা হয়, এস কে সিনহা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভাই ও নিজের আত্মীয়ের নামে-বেনামে সম্পদ অর্জন করেছেন, যার কোনো বৈধ উৎস নেই। এগুলো তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় গত বছরের ৯ নভেম্বর আলাদা দুই ধারায় এস কে সিনহাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত।

আরও পড়ুন:
শিক্ষা বোর্ডে প্রধান শিক্ষকের নামে বই বিক্রির অভিযোগ

শেয়ার করুন

‘ঘুষের টাকা’সহ আটক অফিস সহকারী পুলিশ হেফাজতে

‘ঘুষের টাকা’সহ আটক অফিস সহকারী পুলিশ হেফাজতে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দুদকের অভিযান। ছবি নিউজবাংলা

দুদক কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মো. জাকারিয়া বলেন, ‘আটক জান্নাতুনকে দৌলতপুর থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘুষ হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক। তাকে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নিয়ে মামলার আবেদন করা হবে।’

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে হিসাববহির্ভূত টাকাসহ আটক অফিস সহকারী জান্নাতুন আক্তারকে দৌলতপুর থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক।

নিউজবাংলাকে বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মো. জাকারিয়া।

দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয় বুধবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নগদ তিন লাখ এক হাজার ২০০ টাকাসহ তাকে আটক করে।

উপপরিচালক মো. জাকারিয়া বলেন, ‘আটক জান্নাতুনকে দৌলতপুর থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘুষ হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক।

‘তাকে আজ কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নিয়ে মামলার আবেদন করা হবে। আদালত সিদ্ধান্ত দিলে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।’

জান্নাতুনকে আটকের পর দুদকের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘দলিল রেজিস্ট্রি করতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়; এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বেলা ৩টার দিকে দৌলতপুর সাবরেজিস্ট্রার অফিসে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। সেখানে অফিস সহকারী জান্নাতুন আক্তারের কাছে নগদ ৩ লাখ ১ হাজার ২০০ টাকা পাওয়া যায়।

‘দলিলসহ নানা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এ টাকা ঘুষ হিসেবে আদায় করা হয়েছে। সে কারণে জান্নাতুনকে আটক করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে দৌলতপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই টাকা দলিলের ফি হিসাবে তোলা হয়েছিল। দলিল রেজিস্ট্রিরের সময় কিছু ফি নগদ হিসাবে তোলারও বিধান আছে। আজ (বুধবার) ৩১৬টি দলিল রেজিস্ট্রি করতে ফি হিসাবে এ টাকা তোলা হয়। যার হিসাব দুদকের কর্মকর্তাদের কাছে দেয়া হয়।

‘কিন্তু তারা এ হিসাব মানতে রাজি হননি। তাই অফিস সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। আমরা বিষয়টি আদালতে আইনগতভাবে মোকাবিলা করব।’

যদিও এর আগে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ ও অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম মুকুলকে আটক করে দুদক। সে সময় তাদের কাছ থেকে নগদ এক লাখ চার হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। জমির দলিল করতে আসাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষা বোর্ডে প্রধান শিক্ষকের নামে বই বিক্রির অভিযোগ

শেয়ার করুন

প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা সাবেক সেনাসদস্য, জড়িত শিক্ষক-জনপ্রতিনিধি

প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা সাবেক সেনাসদস্য, জড়িত শিক্ষক-জনপ্রতিনিধি

প্রশ্ন ফাঁসের হোতা সাবেক সেনাসদস্য নোমান সিদ্দীকিসহ গ্রেপ্তার ১০ জনকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড সাবেক সেনা ওয়ারেন্ট অফিসার নোমান সিদ্দীকি। তিনি একসময় র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর প্রশ্ন ফাঁসে জড়িয়ে পড়েন। সেখান থেকে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা উপার্জন করেছেন।’

প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের আওতাধীন ডিফেন্স ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টে অডিটর পদে নিয়োগের প্রশ্ন ফাঁসের হোতা সাবেক সেনাসদস্য নোমান সিদ্দীকি। প্রশ্ন ফাঁস, সমাধান, উত্তর বিতরণ পুরো কাজটি নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।

আট বছর ধরে এই সেনাসদস্য বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত ছিলেন। তার চক্রে রয়েছেন শিক্ষক-জনপ্রতিনিধিসহ নানা পেশার মানুষ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় করা দুই মামলার তদন্তে এমনই সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড সাবেক সেনা ওয়ারেন্ট অফিসার নোমান সিদ্দীকি। তিনি একসময় র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর প্রশ্ন ফাঁসে জড়িয়ে পড়েন। সেখান থেকে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা উপার্জন করেছেন।’

একই সঙ্গে তার আত্মীয়স্বজনেরও চাকরির ব্যবস্থা করেছেন ফাঁস করা প্রশ্ন দিয়ে। সম্প্রতি তিনি তার চক্রে আরও একাধিক সদস্যকে যুক্ত করেন। এর মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষকও রয়েছে। তাকেসহ আরও একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি জানান, আট বছরে নোমান অনেক ব্যক্তিকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। চাকরি পেয়েছেন এমন ব্যক্তিদের তালিকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নোমান আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গ্রেপ্তার ১০ জনকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সোমবার হওয়া দুই মামলায় আবারও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

জানা গেছে, এ ঘটনায় পলাতক এনটিআরসিএতে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন পাওয়া ফারুকের সঙ্গে পূর্বপরিচয় ছিল মাহবুবা নাসরীন রূপার। তিনি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে ইডেন কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী। বিভিন্ন সময়ে রাজনীতিতে সময় পার করে দেয়ার কারণে তার সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তদবির-বাণিজ্য করেও কামিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা। সম্প্রতি তিনি সরকারি চাকরির জন্য বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন।

একপর্যায়ে ফারুকের মাধ্যমে পরিচয় নোমান সিদ্দীকির সঙ্গে। সেই সূত্র ধরে আরও কিছু পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করেন রূপা। ওই সব পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়া হয় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা। সর্বমোট ১৮ পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়া টাকা বিকাশ ও রকেটে লেনদেনের বিষয়টি অস্বাভাবিক হওয়ায় নজরে আসে গোয়েন্দাদের। এরপর তারা নজরদারি শুরু করলে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এরপর ২১ জানুয়ারি কাফরুল থানার সেনপাড়া পর্বতার ৪৯৮/৪ ভবনের এ/২ ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় সেখান থেকে নোমান সিদ্দীকিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর তার বাসা ও দেহ তল্লাশি করে চারটি মোবাইল ফোন সেট ও একটি ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। পরে সেখান থেকে ছয় পাতা অডিটর নিয়োগ পরীক্ষার ২০২২-এর পার্ট-১-এর এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের ফটোকপি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে একই পরীক্ষার আট প্রার্থীর নামের তালিকা উদ্ধার করা হয়। ওই প্রার্থীরা হচ্ছেন ফারদিন ইসলাম, লুৎফর রহমান, আমিনুল ইসলাম, সেলিম মাতবর, আহাদ খান, পারুল বালা, আকলিমা খাতুন ও মোরশেদ।

একই সময় গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসান আজাদের দেহ তল্লাশি করে মফিজুর রহমান, পল্লব কুমার, হাসিবুল হাসান, সুরুজ আহম্মেদ নামে আরও চারজনের প্রবেশপত্র ও হাতে লেখা উত্তরপত্র উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে নাইমুর রহমান তানজীর ও শহিদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করলে তাদের কাছ থেকেও ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তরপত্র ও বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে একাধিক বিকাশ ও রকেটের নম্বর উদ্ধার করা হয়। সেখানে লাখ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে গুলশান জোনের এডিসি রেজাউল হক জানান, নোমান পুরো কাজটি সমন্বয় করতেন। আজাদ অডিটর হিসেবে চাকরি করতেন। তাকে বছরখানেক আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসে তার সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। তানজীর নোমানের ভাগ্নে। আর গ্রেপ্তার শহীদুল্লাহ ছাত্র।

রেজাউল হক বলেন, ‘আজাদ অনেক বাকপটু। তিনি এমনভাবে চাকরিপ্রত্যাশী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে ডিল করতেন, যেন তিনিই চাকরি দিচ্ছেন। আজাদের মূল যোগাযোগটা ছিল নোমানের সঙ্গে।’

চক্রের প্রধান আসামি নোমানের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানার চরআলগিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আবু তাহের মিয়া। প্রশ্নফাঁসের টাকায় তিনি ঢাকায় ও তার গ্রামের বাড়িতে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। এ বিষয়গুলোও তদন্তে তুলে ধরা হবে। এ ঘটনায় তার ছাপাখানার কেউ জড়িত আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকেও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

২১ জানুয়ারি নোমান সিদ্দীকির বাসায় অভিযান শেষে পুলিশ বিজি প্রেস স্কুলে অভিযান চালায়। সেখান থেকে পরীক্ষারত অবস্থায় ভাইস চেয়ারম্যান রূপাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জার থেকে হিরণ খান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে প্রশ্নফাঁস নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। এমনকি ফাঁস হওয়া প্রশ্নে কিছু উত্তরও পাওয়া যায়।

এরপর পুলিশ রূপার দেয়া তথ্যমতে রমনা থানার আওতাধীন ৫৫/১ নিউ শাহীন হোটেলের ২৪ নম্বর রুমে অভিযান চালায়। সেখান থেকে মো. আল আমীন আজাদ রনি, মো. রাকিবুল হাসান, মো. হাসিবুল হাসান ও নাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে অত্যাধুনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।

ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবস্থান করা পরীক্ষার্থীদের কাছে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সমাধান পাঠানো হচ্ছিল। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকেও একাধিক বিকাশ ও রকেটের সিম উদ্ধার করা হয়। ওই সব সিম দিয়েও মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।

গুলশান জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার খলিলুর রহমান জানান, রমনার হোটেল থেকে গ্রেপ্তারদের নামে রমনা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় আসামি পাঁচজন। এ ছাড়া পলাতক হিসেবে আরও একাধিক ব্যক্তির নামে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসা করা হচ্ছে, এ মামলায় প্রশ্নফাঁসের রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ২১ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও রমনার বিভিন্ন এলাকায় আলাদা দুটি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি ইয়ার ডিভাইস, ছয়টি মাস্টার কার্ড, মোবাইল সিম হোল্ডার, পাঁচটি ব্যাংকের চেক, সাতটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ১০টি স্মার্টফোন, ছয়টি ফিচার মোবাইল ফোন, ১৮টি প্রবেশপত্র ও চলমান পরীক্ষার ফাঁস হওয়া তিন সেট প্রশ্নপত্র জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন:
শিক্ষা বোর্ডে প্রধান শিক্ষকের নামে বই বিক্রির অভিযোগ

শেয়ার করুন

অর্থ পাচারকারী ৬৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান যারা

অর্থ পাচারকারী ৬৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান যারা

অর্থ পাচারকারী হিসেবে প্যারাডাইস ও পানামা পেপার্সে যেসব বাংলাদেশির নাম এসেছে, তাদের একটি তালিকা তৈরি করে বিএফআইইউ। আদালতে দাখিল করা এ তালিকায় দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী-রাজনীতিকের নাম রয়েছে।

বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের নামের একটি তালিকা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ নিয়ে বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক প্রতিবেদনটি দাখিল করেন। তিনি জানান, আগামী রোববার এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ঠিক করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

অর্থ পাচারকারী হিসেবে প্যারাডাইস ও পানামা পেপার্সে যেসব বাংলাদেশির নাম এসেছে, তাদের একটি তালিকা তৈরি করে বিএফআইইউ।

আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে দেখা যায়, তালিকায় দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী-রাজনীতিকের নাম রয়েছে।

প্যারাডাইস পেপার্সে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন মাল্টিমোড লিমিটেডের আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ফাতেমা নাসরিন আউয়াল, তাবিথ আউয়াল, মোহাম্মদ তাফসির আউয়াল, মো. তাজওয়ার আউয়াল, মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেডের ফয়সাল চৌধুরী, ওয়াই ফরিদা মোগল, শহিদ উল্লাহ, সামির আহমেদ, সেভেন সিজ অ্যাসেটস লিমিটেড, সোয়েন ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ এক্সপ্লোরেশন লিমিটেড, ইউনোকল শাহবাজপুর পাওয়ার লিমিটেড, ইউনোকল শাহবাজপুর পাইপলাইন লিমিটেড, এনএফএম এনার্জি (সিঙ্গাপুর) পিটিই লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক সেভেন লিমিটেড, ইউনোকল শাহবাজপুর লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক ফাইভ লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক টেন লিমিটেড, বারলিংটন রিসোর্সেস বাংলাদেশ লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লকস থারটিন অ্যান্ড ফরটিন লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক টুয়েলভ লিমিটেড, ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ (বারমুডা) লিমিটেড ও টেরা বাংলাদেশ ফান্ড লিমিটেড।

পানামা পেপার্সে নাম আসা ৪৩ জন হলেন বেগম নিলুফার কাজী, হংকং সাংহাই টেক্সটাইল স্পিনিং লিমিটেডের জাফরুল্লাহ কাজী (কাজী জাফর উল্লাহ), কাজী রায়হান জাফর, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ বিল্ডারের ক্যাপ্টেন সোহাইল হোসাইন (হাসান), স্পার্ক লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইফতেখারুল আলম, বাংলা ট্র্যাক লিমিটেডের আমিনুল হক, নাজিম আসাদুল হক ও তারিক ইকরামুল হক, আব্দুল মোনেম লিমিটেডের এ এস এম মহিউদ্দিন মোনেম ও আসমা মোনেম, বিএপিআইয়ের সাবেক সভাপতি ড. এ এম এম খান, মমিন টির আজমত মঈন, পাট ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার মোদী, অনন্ত গ্রুপের শরীফ জহির, মার্কেন্টাইল করপোরেশনের আজীজ খান, আঞ্জুমান আজীজ খান, আয়েশা আজীজ খান, জাফের উমায়ের খান ও ফয়সাল করিম খান, সি পার্লের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সিরাজুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপ অব কোম্পানির হাসান মাহমুদ রাজা, খন্দকার মঈনুল আহসান শামীম, আহমেদ ইসমাইল হোসেন, আখতার মাহমুদ, মাসকট গ্রুপের চেয়ারম্যান এফ এফ জোবায়দুল হক, সেতু করপোরেশনের মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও উম্মে রাব্বানা, স্কয়ার গ্রুপের স্যামসন এইচ চৌধুরী, ক্যাপ্টেন এম এ, এফ এম জোবায়দুল হক, সালমা হক, খাজা শাহাদাৎ উল্লাহ, মীর্জা ইয়াহিয়া, সৈয়দা সামিয়া মীর্জা, আমিনুল হক, তারেক একরামুল হক, জাহিদুল ইসলাম, মো. শহীদ, মোহাম্মদ ফয়সাল করিম, নজরুল ইসলাম, সৈয়দ সিরাজুল হক ও জুলফিকার হায়দার এবং বিটিএল।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত সংস্থা বিএফআইইউ এ প্রতিবেদন দাখিল করে।

ওই দিন ২৯ ব্যক্তি ও ১৪ প্রতিষ্ঠানের তালিকা দাখিল করা হয়। ওই তালিকা দেখে বিএফআইইউ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডি কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানানোর নির্দেশ দেয়া হয়। নতুন এই তালিকা দাখিল ও সে বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা শুনানির জন্য ৩০ জানুয়ারি দিন ঠিক করে দিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন:
শিক্ষা বোর্ডে প্রধান শিক্ষকের নামে বই বিক্রির অভিযোগ

শেয়ার করুন