হানিফের আসনে নৌকার ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

player
হানিফের আসনে নৌকার ৩ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

বাম থেকে জামানত হারানো তিন প্রার্থী আব্দুল হান্নান, সম্পা মাহমুদ ও মোমিন মণ্ডল।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের সংসদীয় এলাকায় এখন দল আগের তুলনায় শক্তিশালী। সেখানে নৌকার প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী বলছেন, ‘নেতাদের সমন্বয়ের অভাবেই এমন ফল হয়েছে।’

পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদে নৌকার তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট পেয়েছেন যথাক্রমে ১১৪, ১৭৭ ও ২৩২টি।

এমন বিপর্যয়ের জন্য প্রার্থীরা দুষছেন দলের নেতাদের বিরোধকে। আর সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

এ ধাপে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ১১ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে মাত্র একটিতে জিতেছে নৌকার প্রার্থী। আটটিতে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। বাকি দুটির মধ্যে একটি গেছে জাসদের ঘরে। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীও আছেন বিজয়ীর তালিকায়।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০-এর ৪৪ (৩) ধারায় বলা হয়েছে- কোন প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ অপেক্ষা কম পেলে তার জামানতের অর্থ সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে।

কুষ্টিয়া সদরের বটতৈল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ মোমিন মণ্ডল নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন মাত্র ১১৪টি। এই ইউনিয়নে ২৬ হাজার ৪৭০ ভোটের মধ্যে ২০ হাজার ৭০৯টি ভোট পড়ে।

বিধিমালা অনুসারে এক-অষ্টমাংশ ভোট হয় ২ হাজার ৫৮৯টি। এই ইউনিয়নে আটজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে নৌকার প্রার্থী মোমিন মণ্ডলের অবস্থান পঞ্চম। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান মিন্টু ফকির ঘোড়া প্রতীকে ৮ হাজার ৬ ৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

এই ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মোমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মজিদ বাবলু সম্পর্কে বেয়াই। এই সম্পর্কের সূত্রে মোমিন ভোটের তিন দিন আগে চশমা প্রতীকের প্রার্থী বাবলুকে সমর্থন দেন বলে প্রচার আছে। তবে তারা দুজনই বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

নৌকার পরাজিত প্রার্থী জেলা কৃষক লীগের সভাপতি মোমিন মণ্ডল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা দলের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে ভোট করতে শুরু করেন। এ অবস্থায় ভোটের দুদিন আগে আমি হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

আফসোস করে তিনি বলেন, ‘দলীয় নেতারা কেউ আমার সঙ্গে ছিলেন না। দলের নেতারা যদি দলের ভোট না করেন, তাহলে আমার কী করার আছে।’

বটতৈল ইউনিয়নে গত ২১ ডিসেম্বর ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী মিন্টু ফকিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর মিন্টুর সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করে ব্যাপক শক্তি প্রদর্শন করে। সেই ঘটনার পর থেকেই মূলত নৌকার প্রার্থী কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

এ ছাড়া ২৫ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতা ওমর ফারুকের একটি ভিডিও ফাঁস হয়। সেখানে তিনি নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট করার নির্দেশ দেন। জানান, এটা ‘নেতার সিগন্যাল’।

আলামপুর ইউনিয়নেও নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান বিশ্বাস নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন মাত্র ১৭৭টি। এ ইউনিয়নে মোট ভোট পড়েছে ১৮ হাজার ২৭৪টি।

এখানেও বিজয়ী হয়েছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আখতারুজ্জামান বিশ্বাস। চশমা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৯ হাজার ৫০৮ ভোট। এই ইউনিয়নে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে নৌকার প্রার্থীর অবস্থান পঞ্চম।

কম ভোট পাওয়ার বিষয়ে প্রার্থী আব্দুল হান্নান বলেন, ‘দলের ভেতরে সমস্যা আছে। এ ছাড়া মেম্বার ভোটের ছকে কম ভোট হয়েছে।’

ভরাডুবি নিয়ে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি না এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এখন অভিযোগ করে আর কী করব? কিছু করার নেই, অভিযোগ করছি না।’

হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম সম্পা মাহমুদ পেয়েছেন ২৩২ ভোট। এ ইউনিয়নে ১৯ হাজার ২৮০ ভোট পড়েছে। এখানে জাসদ সমর্থিত এম মোস্তাক হোসেন মোটরসাইকেল প্রতীকে ৮ হাজার ৮৮৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এখানেও পঞ্চম হয়েছেন নৌকার প্রার্থী। জামানত ধরে রাখতে তাকে পেতে হতো আরও ২ হাজার ৪১০ ভোট।

এই ইউনিয়নে নৌকার পরাজিত প্রার্থী ও বিজয়ী প্রার্থী সম্পর্কে দেবর-ভাবি। প্রচার আছে ভোটের তিন দিন আগে সম্পা তার দেবরকে সমর্থন দিয়ে দেন। এ কারণে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুর রশিদের পক্ষে কাজ শুরু করেন। যদিও এসব কথা অস্বীকার করেন সম্পা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিলন মণ্ডল।

পরাজিত প্রার্থী সম্পা মাহমুদ বলেন, ‘ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় নেতারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করায় ভোটের এমন ফল হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের সংসদীয় এলাকায় এখন দল আগের তুলনায় শক্তিশালী। সেখানে নৌকার প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী বলেন, ‘নেতাদের সমন্বয়ের অভাবেই এমন ফলাফল হয়েছে।’

এর আগে গত ১১ নভেম্বর মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী শারমিন আক্তারেরও জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ৪২৭ ভোট। অথচ ভোট পড়েছিল ২৪ হাজার ৮৩২টি। তিনি স্বাধীনতাবিরোধীর মেয়ে বলে আওয়ামী মহলে সমালোচিত হন।

আরও পড়ুন:
ভোটে হেরে হামলা, আহত ৫
ঝিনাইদহে এবার ইউপি মেম্বার হলেন ট্রান্সজেন্ডার নারী
চাঁদপুরে বিদ্রোহী ১২, নৌকা ১০, স্বতন্ত্র ৭
জয়ী মেম্বার সমর্থকের বাড়িতে হামলা, অন্তঃসত্ত্বা আহত
কুমিল্লার ২১ ইউনিয়নের ১৩টিতে ‘নৌকাডুবি’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘ধর্ষণের শিকার’ শিশুটি পড়ার সুযোগ পেল না মাদ্রাসাতেও

‘ধর্ষণের শিকার’ শিশুটি পড়ার সুযোগ পেল না মাদ্রাসাতেও

শিশুর মা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভর্তির তিন দিন পর আমার মেয়েকে মাদ্রাসার গেটের বাইরে বের করে দেয়া হয়। তারপর গেট লাগিয়ে দেয়। মেয়েটা গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তখন কাঁদছিল। পরে পরিচালক আমাকে ডাকল।’

রাজশাহী নগরীতে ‘ধর্ষণের শিকার’ হওয়ায় মাদ্রাসা থেকে শিশু শিক্ষার্থীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, অন্য অভিভাবকদের আপত্তির কারণে শিশুটির ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।

শিশুটির বয়স ৮। দুই বছর আগে তাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় প্রতিবেশী এক কিশোরকে, যে এখন আছে কারাগারে।

নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই শিশুর বাবা অটোরিকশাচালক। নগরীতে রেলের জমির বস্তিতে একটি ঘরে তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন।

এজাহারসূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২০ মার্চ বাড়ির পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে ওই কিশোর। এর ভিডিও ধারণ করে সে। ঘটনা জানাজানি হলে শিশুটির মা থানায় মামলা করেন। পরদিন ওই ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

শিশুর মা নিউজবাংলাকে জানান, চলতি মাসের শুরুতে নগরীর হড়গ্রাম মুন্সিপাড়া এলাকার উম্মাহাতুল মুমিনীন মহিলা মাদ্রাসায় মেয়েকে ভর্তি করিয়েছিলেন। আবাসনের ব্যবস্থা আছে বলে তিনি ভেবেছিলেন, মেয়ে এখানে নিরাপদে থাকবে।

মায়ের অভিযোগ, ভর্তির তিন দিন পরই শিশুটিকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। ফেরত দেয়া হয়েছে ভর্তি ও আবাসিকের জন্য জমা দেয়া টাকাও।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভর্তির তিন দিন পর আমার মেয়েকে মাদ্রাসার গেটের বাইরে বের করে দেয়া হয়। তারপর গেট লাগিয়ে দেয়। মেয়েটা গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তখন কাঁদছিল। পরে পরিচালক আমাকে ডাকল।

‘আমাকে বলল, “আপনার মেয়েকে নিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও ভর্তি করেন।” আমি বললাম, আমার মেয়ের কোনো সমস্যা? তখন বললেন, “না, দূরে কোথাও ভর্তি করেন।” আমি কাঁদতে কাঁদতে বললাম, আপনার মেয়ের সঙ্গে যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে আপনি কী করবেন? তখন কোনো কথা বলছে না সে (মাদ্রাসা পরিচালক)।

‘আমাকে টাকাটা ফেরত দিয়ে মেয়েকে বের করে দিল। আমার মেয়ের কোনো সমস্যা দেখাতে পারছে না, খালি বলছে- “দূরে কোথাও ভর্তি করেন।”’

শিশুটির মা আরও বলেন, ‘মেয়েটাকে নিয়ে আমি ভুক্তভোগী হচ্ছি। সমাজের কাছে এত লাঞ্ছনা শুনতে আমার খুবই খারাপ লাগছে। মেয়েটাকে সবাই খারাপ চোখে দেখছে। ছোট সেটাও কেউ বুঝছে না। ওই ঘটনাটাই তুলে ধরছে সবাই।’

মেয়েকে অন্য একটা স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওখানেও যদি কেউ কিছু বলে, আবার যদি বের করে দেয়, এই ভয় পাচ্ছি। এখন আমি একটা সুষ্ঠু বিচার চাই। যে আমার মেয়ের ক্ষতি করেছে তার যেন শাস্তি হয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘মেয়েটার ব্যাপারে অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা এসে অভিযোগ করে আমাকে বলেছিল যে, তার সমস্যা আছে। আমি নাকি যাকে তাকে ভর্তি নিয়ে নিচ্ছি। অভিভাবকদের আপত্তি থাকায় এই মেয়েটার ভর্তি বাতিল করতে হয়েছে। টাকাও ফেরত দেয়া হয়েছে।’

ধর্ষণের সেই মামলার বিষয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি মাসুদ বলেন, ‘শিশুটার মায়ের করা মামলাটা তদন্তাধীন। তদন্ত চলাকালে বেশি কিছু বলব না। তবে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন ডিএনএ টেস্ট করা হবে। তারপর অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ভোটে হেরে হামলা, আহত ৫
ঝিনাইদহে এবার ইউপি মেম্বার হলেন ট্রান্সজেন্ডার নারী
চাঁদপুরে বিদ্রোহী ১২, নৌকা ১০, স্বতন্ত্র ৭
জয়ী মেম্বার সমর্থকের বাড়িতে হামলা, অন্তঃসত্ত্বা আহত
কুমিল্লার ২১ ইউনিয়নের ১৩টিতে ‘নৌকাডুবি’

শেয়ার করুন

রেলের মাইলেজ প্রশ্নে সরকারকে আলটিমেটাম

রেলের মাইলেজ প্রশ্নে সরকারকে আলটিমেটাম

চট্টগ্রামে রানিং স্টাফদের জরুরি সভা। ছবি: নিউজবাংলা

রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন, ‘গত নভেম্বর থেকে মাইলেজ নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনও সমাধান মেলেনি। মাইলেজ পদ্ধতি রেলওয়ে কর্মচারীদের দাবি নয়, অধিকার। এ অধিকারের জন্য আমরা লড়ছি৷ এক সপ্তাহের মধ্যে যদি আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া না হয়, তবে ৩১ জানুয়ারি থেকে কোনো ট্রেন চলবে না।’

মাইলেজ জটিলতা নিরসনে সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছেন রেলওয়ে কর্মচারীরা। তারা বলছেন, সমস্যার সমাধান না হলে ৩১ জানুয়ারি থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।

রানিং স্টাফদের জরুরি সভায় বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিকেলে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রানিং স্টাফ কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব।

তিনি বলেন, ‘গত নভেম্বর থেকে মাইলেজ নীতি নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনও সমাধান মেলেনি। মাইলেজ পদ্ধতি রেলওয়ে কর্মচারীদের দাবি নয়, অধিকার। এ অধিকারের জন্য আমরা লড়ছি৷ এক সপ্তাহের মধ্যে যদি আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া না হয়, তবে ৩১ জানুয়ারি থেকে কোনো ট্রেন চলবে না।’

চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালনকারী ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার), গার্ড ও টিকিট চেকার (টিটি), গার্ড (ট্রেন পরিচালক) ও টিটিইদের (ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনার) বলা হয় রানিং স্টাফ।

রেলওয়ে রানিং স্টাফদের যে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়, ব্রিটিশ শাসনামল থেকে তা মাইলেজ নামে পরিচিত। এই সুবিধায় প্রতি ৮ ঘণ্টার জন্য এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন তারা।

রেলওয়ের ১৮৬২ সালের আইন অনুযায়ী ট্রেনচালক, সহচালক, পরিচালক ও টিকিট চেকাররা বিশেষ এই আর্থিক সুবিধা পেয়ে আসছেন। কিন্তু এতে বিপত্তি বাধে গত বছরের ৩ নভেম্বর।

এদিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শামীম বানু শান্তি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চলন্ত ট্রেনে দৈনিক ১০০ কিলোমিটার কিংবা তার চেয়েও বেশি দূরত্ব পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করলেও ওই দিনের বেতনের ৭৫ শতাংশের বেশি মাইলেজ ভাতা পাবেন না সংশ্লিষ্ট রানিং স্টাফ। আর মাস শেষে এই মাইলেজ মূল বেতনের বেশি হবে না।

এই প্রজ্ঞাপন জারির পর ৪ নভেম্বর ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন লোকোমাস্টাররা। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা কাজে যোগ দেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল বারি বলেন, “মাইলেজ হলো ‘পার্ট অফ পে’। এটি ব্রিটিশ আমল থেকে চালু। এ জটিলতা নিরসনে আমরা মন্ত্রী ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমাদের কথা কেউ রাখেনি। তাই আন্দোলনে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
ভোটে হেরে হামলা, আহত ৫
ঝিনাইদহে এবার ইউপি মেম্বার হলেন ট্রান্সজেন্ডার নারী
চাঁদপুরে বিদ্রোহী ১২, নৌকা ১০, স্বতন্ত্র ৭
জয়ী মেম্বার সমর্থকের বাড়িতে হামলা, অন্তঃসত্ত্বা আহত
কুমিল্লার ২১ ইউনিয়নের ১৩টিতে ‘নৌকাডুবি’

শেয়ার করুন

কারখানা ব্যবস্থাপককে ‘তুলে নিয়ে মারধর’

কারখানা ব্যবস্থাপককে ‘তুলে নিয়ে মারধর’

সুরুজের অভিযোগ, পাশাপাশি হওয়ায় তার কারখানার ডাইং চলাকালে আগুনের ফুলকি থেকে পাশের কারখানায় আগুন লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে ওই কারখানার লোকজন। ওই কারখানার পরিচালক বিষয়টি স্বীকার করে জানান, আগুন লাগায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার লোকজন সুরুজকে মারধর করে।

গাজীপুরের টঙ্গীতে কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেয়ার অভিযোগ তুলে পাশের কারখানার ব্যবস্থাপককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

থানায় এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিসিক এলাকার আরবাগ ওয়্যার হাউজ সলিউশন লিমিটেড নামের কারখানার ব্যবস্থাপক সুরুজ মিয়া।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে টঙ্গীর বিসিক পানির ট্যাংকি এলাকার কারখানায় নিয়ে তাকে মারধর করেন ব্লু ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার পরিচালক মো. মহিউদ্দিন এবং তার ছেলে মেহেদী হাসান।

মহিউদ্দিন টঙ্গী বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও। তিনি অবশ্য ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে আগুন লাগার ঘটনায় তিনি সুরুজের নামে পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন থানায়।

সুরুজের অভিযোগ, পাশাপাশি কারখানা হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তার কারখানার ডাইং চলাকালে আগুনের ফুলকি থেকে গিয়ে পড়ে ব্লু ফ্যাশনের কারখানায়। এতে আগুন লেগে যায়। তখনই ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে নেয়। তবে ওই কারখানার কয়েকজন আগুন লাগানোর অভিযোগ তুলে তাকে তুলে নিয়ে যায়।

সুরুজ বলেন, ‘আমাকে তাদের কারখানার ভেতরে আটকে রেখে মারধর করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও আশপাশের লোকজন গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে।’

এ বিষয়ে ব্লু ফ্যাশনের পরিচালক মহিউদ্দিন বলেন, ‘দুই কারখানার মাঝখানে চার ফিট করে আট ফিট জায়গা খালি রাখা হয়েছিল। আরবাগ ওয়্যার হাউজ কর্তৃপক্ষ সেই জায়গায় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছিল। সেখান থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়ে আমার কারখানার বেশ কিছু মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‘ওই কারখানার ব্যবস্থাপক নিজেদের ভুল স্বীকার না করে মিথ্যে কথা বলায় আমি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। পরে তাকে আমি একটি থাপ্পড় দিলে আমার কারখানার অন্যান্য শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কিল-ঘুষি দেয়। এ ঘটনায় আমরাও থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাসিবুল আলম জানান, দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ভোটে হেরে হামলা, আহত ৫
ঝিনাইদহে এবার ইউপি মেম্বার হলেন ট্রান্সজেন্ডার নারী
চাঁদপুরে বিদ্রোহী ১২, নৌকা ১০, স্বতন্ত্র ৭
জয়ী মেম্বার সমর্থকের বাড়িতে হামলা, অন্তঃসত্ত্বা আহত
কুমিল্লার ২১ ইউনিয়নের ১৩টিতে ‘নৌকাডুবি’

শেয়ার করুন

ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

২০১৭ সালের ২৯ মার্চ সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বাড়ির পাশের পাহাড়ে কাঠ কাটতে যান ওই নারী। পরদিন ভোরে সেখানে পাওয়া যায় তার রক্তাক্ত মরদেহ।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মামলার অন্য দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জামিউল হায়দার বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় দেন।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিখিল কুমার নাথ।

দণ্ড পাওয়া আসামি হলেন জসিম উদ্দিন।

২০১৭ সালের ২৯ মার্চ সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বাড়ির পাশের পাহাড়ে কাঠ কাটতে যান ওই নারী। পরদিন ভোরে সেখানে পাওয়া যায় তার রক্তাক্ত মরদেহ।

ময়নাতদন্তে জানা যায়, ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছিল তাকে।

মরদেহ উদ্ধারের দিনই নিহতের মেয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত জসিমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

আরও পড়ুন:
ভোটে হেরে হামলা, আহত ৫
ঝিনাইদহে এবার ইউপি মেম্বার হলেন ট্রান্সজেন্ডার নারী
চাঁদপুরে বিদ্রোহী ১২, নৌকা ১০, স্বতন্ত্র ৭
জয়ী মেম্বার সমর্থকের বাড়িতে হামলা, অন্তঃসত্ত্বা আহত
কুমিল্লার ২১ ইউনিয়নের ১৩টিতে ‘নৌকাডুবি’

শেয়ার করুন

ছাত্রীদের ‘যৌন হয়রানি’, স্কুলের প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ছাত্রীদের ‘যৌন হয়রানি’, স্কুলের প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল। ছবি: নিউজবাংলা

ওই স্কুলের একাধিক ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদারের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। স্কুলে যাওয়া বন্ধও করে দিয়েছে বেশ কয়েকজন।

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রধান শিক্ষককে।

থানায় বুধবার রাতে ওই স্কুলের এক ছাত্রীর বাবার করা মামলায় বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয় ননী গোপাল হালদার নামের ওই শিক্ষককে।

ননী চন্দনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) তুহিন মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মোড়েলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের বটতলা এলাকা থেকে ননীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওই স্কুলের একাধিক ছাত্রী ও তাদের অভিভাবক প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল হালদারের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। স্কুলে যাওয়া বন্ধও করে দিয়েছে বেশ কয়েকজন।

এ নিয়ে প্রতিবেদনও হয় নিউজবাংলায়

স্কুলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ২৬ জন, তাদের মধ্যে ছাত্রী ১৬ জন। কয়েক দিন হলো ক্লাসে আসছে চার-পাঁচ ছাত্রী।

পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী নিউজবাংলাকে বলে, ‘স্যার গেলে আমাগো ধরে। আর কত কিছু কয়। হেই জন্য যাই না।’

এক অভিভাবক জানান, যৌন হয়রানির বিষয়টি স্কুলের বাংলা শিক্ষক ময়না রাণী শিকদারকে জানালে তিনি ছাত্রীদের বলেন, ‘ওতে কী হয়? স্যার তো তোমাদের একটু আদর করতেই পারেন।’

তবে ময়না বলেন, ‘আমার কাছে কখনও কোনো ছাত্রী এমন অভিযোগ করেনি।’

গত ৫ জানুয়ারি এক ছাত্রী তার নানা-নানিকে বিষয়টি জানায়। তারা ১১ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ননী গোপালের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। সে সময় আরও কয়েকজন ছাত্রী তাদের পরিবারকে একই অভিযোগ জানায়।

ইউএনওর কাছে অভিযোগের পরও কোনো বিচার পাননি বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

এ বিষয়ে ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বুধবার বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি দেখার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছিল। আমাকে ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ মিথ্যা ছিল। তাই প্রত্যাহার করা হয়েছে।

‘তবে আমি জানতে পেরেছি যে ঘটনা সত্য। দ্রুতই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
ভোটে হেরে হামলা, আহত ৫
ঝিনাইদহে এবার ইউপি মেম্বার হলেন ট্রান্সজেন্ডার নারী
চাঁদপুরে বিদ্রোহী ১২, নৌকা ১০, স্বতন্ত্র ৭
জয়ী মেম্বার সমর্থকের বাড়িতে হামলা, অন্তঃসত্ত্বা আহত
কুমিল্লার ২১ ইউনিয়নের ১৩টিতে ‘নৌকাডুবি’

শেয়ার করুন

সড়কে ২ এএসআই নিহতের ঘটনা তদন্তে কমিটি

সড়কে ২ এএসআই নিহতের ঘটনা তদন্তে কমিটি

গাড়ি খাদে পড়ে নিহত হয়েছেন সোনারগাঁ থানার দুজন এসআই। ছবি: নিউজবাংলা

কমিটি প্রধান জানান, দুর্ঘটনার ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়া মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের গাড়ি খাদে পড়ে দুই উপপরিদর্শক (এএসআই) নিহতের ঘটনা তদন্তে কমিটি করেছে জেলা পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের এই কমিটি হয়। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান নিজেই।

তিনি জানান, জেলা গোয়েন্দা শাখার খ-অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম শাহরিয়ার হাসান ও নারায়ণগঞ্জ ডিএসবি ডিআইও-২ হুমায়ুন কবির খান এই কমিটিতে আছেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ঘটনার সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা সুপারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিব। পাশাপাশি ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়া মাদক কারবারিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

সোনারগাঁ উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সোনারগাঁ থানার দুই উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম ও কাজী সালেহ আহম্মেদ। তাদের মধ্যে শরিফুলের বাড়ি গোপালগঞ্জের চরভাটপাড়া গ্রামে ও সালেহর বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মুনসুরাবাদ গ্রামে।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম নিউজবাংলাকে জানান, রোববার সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া এলাকায় একটি প্রাইভেট কার থেকে ৪২ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে থানায় নিয়ে তাদের নামে মামলা দেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এসপি জানান, সেই মামলার কাজে সোমবার বিকেলে আসামিকে নিয়ে আদালতে যাওয়ার পথে দত্তপাড়া এলাকায় একটি গাড়ি পুলিশের গাড়িটি ওভারটেক করতে নেয়। সেটিকে জায়গা করে দিতে গিয়ে পুলিশের গাড়িটি পাশের পুকুরে পড়ে তলিয়ে যায়।

স্থানীয়রা পুকুর থেকে শরিফুল ও সালেহকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:
ভোটে হেরে হামলা, আহত ৫
ঝিনাইদহে এবার ইউপি মেম্বার হলেন ট্রান্সজেন্ডার নারী
চাঁদপুরে বিদ্রোহী ১২, নৌকা ১০, স্বতন্ত্র ৭
জয়ী মেম্বার সমর্থকের বাড়িতে হামলা, অন্তঃসত্ত্বা আহত
কুমিল্লার ২১ ইউনিয়নের ১৩টিতে ‘নৌকাডুবি’

শেয়ার করুন

‘জমির বিরোধে’ সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত

‘জমির বিরোধে’ সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত

গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত বৃদ্ধের স্বজনদের আর্তনাদ। ছবি: নিউজবাংলা

ভাতিজা বিপিন শিকদার নিউজবাংলাকে জানান, মন্দিরের দেয়া জমি তার চাচার। তবে মন্দির কমিটিতে চাচাকে না রাখায় তাদের সঙ্গে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরোধ চলছিল।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাঁচ গ্রামবাসী।

অভিযোগ উঠেছে, মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের লোকজন ও ওই বৃদ্ধের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।

টুঙ্গিপাড়ার কাকুইবুনিয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সুলতান মাহমুদ।

নিহত বৃদ্ধের নাম সুবল শিকদার।

তার ভাতিজা বিপিন শিকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার কাকা সুবল শিকদার এই মন্দিরে জায়গা দান করেন, কিন্তু ভাইস চেয়ারম্যান ও তার লোকজন প্রভাব খাটিয়ে মন্দির কমিটিতে আমার কাকাকে রাখেননি। এটা নিয়ে অনেক দিন ধরে বিরোধ চলছিল।’

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, বেলা ৩টার দিকে টুঙ্গিপাড়া তফসিল অফিসের লোকজন কাকুইবুনিয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের জমির বিষয়টি তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে যায়। কাজ শেষে তারা ফিরে যাওয়ার পর পরই সুবল শিকদার ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বিশ্বাসের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থলেই নিহত হন সুবল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে সদর হাসপাতাল মর্গে।

আরও পড়ুন:
ভোটে হেরে হামলা, আহত ৫
ঝিনাইদহে এবার ইউপি মেম্বার হলেন ট্রান্সজেন্ডার নারী
চাঁদপুরে বিদ্রোহী ১২, নৌকা ১০, স্বতন্ত্র ৭
জয়ী মেম্বার সমর্থকের বাড়িতে হামলা, অন্তঃসত্ত্বা আহত
কুমিল্লার ২১ ইউনিয়নের ১৩টিতে ‘নৌকাডুবি’

শেয়ার করুন