তিন্নির খুনি অভি, আদালতে বাবা-চাচার সাক্ষ্য

player
তিন্নির খুনি অভি, আদালতে বাবা-চাচার সাক্ষ্য

মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যাকাণ্ডে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভিকে একমাত্র আসামি করে মামলা করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

আদালতে তিন্নির বাবা সৈয়দ মাহবুব করিম বলেন, ‘তিন্নির লাশের ছবি যেদিন পত্রিকায় ছাপা হয়, সেদিন সকালে কলাবাগানে অভির সঙ্গে আমার ভাইয়ের দেখা হয়। অভি বলেছে- তিন্নিকে খুঁজতে হবে না।’ আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভিকে একমাত্র আসামি করে মামলাটি করা হয়।

দীর্ঘদিন পর মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যা মামলায় বাবা সৈয়দ মাহবুব করিম ও বড় চাচা সৈয়দ রেজাউল করিম আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

৫ জানুয়ারি বুধবার ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কেশব রায় চৌধুরীর আদালতে মাহবুব করিমের সাক্ষ্য শেষ হলেও রেজাউল করিমের জবানবন্দি এখনও শেষ হয়নি। তিনি আজ আদালতে আংশিক সাক্ষ্য দেন।

আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য পরবর্তী তারিখ ঠিক করেছেন বলে নিউজবাংলাকে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ভোলা নাথ দত্ত।

১৯ বছর আগের আলোচিত হত্যা মামলাটির রায় ঘোষণার কথা ছিল গত ১৫ নভেম্বর। তবে তিন্নির বাবা ও চাচা সাক্ষ্য দেয়ার আবেদন জানানোয় ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কেশব রায় চৌধুরী রায় ঘোষণা স্থগিত করে তিন্নির বাবা ও চাচার সাক্ষ্য নিতে ৫ জানুয়ারি তারিখ দেন।

কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদীর ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ১১ নম্বর পিলারের পাশে ২০০২ সালের ১০ নভেম্বর অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ পায় পুলিশ। পরদিন পত্রিকায় ছবি প্রকাশ হলে সেটি মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নির বলে শনাক্ত করেন তার এক আত্মীয়।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভিকে একমাত্র আসামি করে মামলাটি করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ভোলা নাথ দত্ত বলেন, তিন্নির বাবা ও চাচার আংশিক সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছিল। তারা তাদের সাক্ষ্য পুনরায় গ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেছে।

কী বললেন তিন্নির বাবা-চাচা

জবানবন্দিতে তিন্নির বাবা মাহবুব করিম বলেন, ‘তিন্নি আমাকে ৫ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে টেলিফোনে বলে ধানমন্ডি যাওয়ার জন্য। আমি সেখানে যাই। তিন্নি আমাকে বাবু নামের একজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তিন্নি তখন অলরেডি জানত যে ওই বাবুই অভি। আমাকে তিন্নি এটাও বলে যে বাবু ভাই হচ্ছেন অভি। আমাকে অনেক সম্মান করল। জুস খাওয়ার জন্য জোরাজুরি করতে থাকেন। পরে আমি তিন্নিকে নিয়ে বাসায় চলে আসি।’ আসার সময় আমি তিন্নিকে জিজ্ঞাসা করি, অভির সঙ্গে এই ঘোরাঘুরি কেন করছ? তিন্নি বলে- অভির সঙ্গে তার অ্যাফেয়ার। অভি তাকে বিয়ে করবে বলে কথা দিয়েছে।

তখন আমি তিন্নিকে তার স্বামী পিয়ালের কথা বলি। তাকে বলি, এখন তুমি কীভাবে অভিকে বিয়ে করবে? আমি বলি, এমন বিয়ে আমরা মানি না। তিন্নি বলে, আমি পিয়ালের সঙ্গে থাকতে চেয়েছি কিন্তু সে আমাকে ধরে রাখতে পারেনি। পরের দিন রাত ১০টায় অভি আমাকে তিন্নি-পিয়ালের বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে পিয়াল ছিল। পিয়ালের ভাই রিয়াল এবং কাজের দুই মেয়েও ছিল। অভি আমাকে বলে, পিয়ালের কাছ থেকে সে তালাক নিয়ে নেবে। তারপর অভি পিয়ালকে ধমকের সুরে বলে, সে ২টা ডিভোর্স লেটার ব্যাকডেটেট পাঠাবে। সেগুলো পিয়াল ব্যাকডেট দিয়ে সিগনেচার করে নেবে।

অভি পিয়ালকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘এই বাসার মধ্যে তোমার কী কী জিনিস আছে? পিয়াল বলে এই বাসায় যা আছে সবই তার। তারপর অভি বলে -রোজার ঈদের পরেই সে তিন্নিকে বিয়ে করবে। তখন রোজা চলতেছিল। অভি বলে মেয়ে আনুষ্কা পিয়ালের কাছে থাকবে। তারপর অভি অদ্ভুত ধরনের চেহারা করে তিন্নিকে চার্জ করে বলে- সে কতজনের সঙ্গে রাত যাপন করেছে। এটা তাকে খুলে বলতে। তিন্নি আমার সামনে সব স্বীকার করে। তারপর অভি তিন্নিকে বলে তার ব্যাংকে কত টাকা আছে? তিন্নি বলে -৭০ হাজার টাকা আছে। মাঝে পিয়াল বলে- এক লাখ ৪০ হাজার টাকা ছিল। তখন অভি তিন্নিকে বলে সে কেন মিথ্যা বলল?

একপর্যায়ে পিয়াল অভিকে বলে, অভি ভাই আপনাকে নাকি তিন্নির বাবা দেখে নেবে। আসলে এতদিন আমি পিয়ালকে বলেছিলাম যে তিন্নিকে তুমি সাপোর্ট করো বলে বলেছিলাম এবং আমি অভির বিষয়টা দেখতে বলেছিলাম। অভি সঙ্গে সঙ্গে পকেট থেকে পিস্তল বের করে আমার মাথার ডান পাশে তাক করে বলে- ওই শালার বেটা, তোর সাহস আছে আমাকে দেখে নিবি? আমি তখন ভয়ে বলি, অভি ভাই আমি তো আপনারে চিনি নাই।

তখন অভি বলে- এখন বুঝছোস তো আমি কে? এরপর অভি পিস্তল নামায়। তারপর আমাকে বলে- এই বাসায় আর আসবি না। আরও বলে সে তিন্নিকে নিয়ে হজ করতে যাবে। আমি তখন বলি-তুমি কোন আইনে বিয়ে ছাড়া তিন্নিকে নিয়ে ওমরাহ করতে যাবে? পরে আমাকে চলে যেতে বললে, আমি রাত ১২টার দিকে আমার নিজের বাসায় চলে আসি। এদিন সম্ভবত ৬ নভেম্বর ছিল।

মাহবুব করিম বলেন, ‘৭/৮ তারিখ আমি আর তিন্নি কেউ কারও বাসায় যাইনি বা দেখা হয়নি। দুইজনই আমরা লজ্জা পাচ্ছিলাম। ১০ তারিখ সন্ধ্যার পর আনুমানিক ৭টা বা সাড়ে ৭টার সময় আমার বাসায় আসে। সেখানে আমার বাবা-মাও থাকত। তিন্নিকে কিছু খেতে দেয়া হয়।

ও বলে সে রোজা রেখেছে। তিন্নি ৫-৭ মিনিট, বেশি হলে ১০ মিনিট ওই বাসায় ছিল। দাদাকে সে পা ধরে সালাম করে। বুকে জড়িয়ে আদর করে। আমাকে সরি বলে। বলে যে, ওই দিনের জন্য দুঃখিত। তাকে মাফ করে দিতে বলে। তারপর ছাদে গিয়ে আমার মা যেখানে মারা গিয়েছিল, সেখানে গিয়ে সালাম করে। তিন্নি দাদা, দাদির কাছেই বড় হয়েছিল। এরপর আমি তিন্নিকে থাকতে বলি। তিন্নি বলে অভি এসে নাকি ফাংশনে নিয়ে যাবে। তিন্নি বলে- তাকে যেতে হবে। তারপর তিন্নি চলে যায়। বাসার কাজের ছেলে মহসিন তিন্নিকে নামিয়ে দেয়। তখন আটটা বাজে হয়তো।’

তিনি বলেন, ‘৯টার সময় তিন্নির বাসার কাজের মেয়ে বীনা আমার বাসায় এসে জিজ্ঞাসা করে তিন্নি আপু কোথায়? আমি বলি, ও তো চলে গেছে আরও আগে। বীনা বলে, অভি ভাই আইসা তিন্নিকে না পাইয়া রাগারাগি করতেছে।

রাত ১০টা পর্যন্ত বীনা ২/৩ বার আসে তিন্নিকে খুঁজতে। আমরাও অস্থির হয়ে যাই। খুঁজতে শুরু করি। রাত ১১টার দিকে আব্বা বড় ভাইকে বলে- তোরা রাতে বাসায় থাকিস না, অভি এসে শাসিয়ে গেছে। আব্বা আমাদের কোথাও চলে যেতে বলে। ভাইয়া তখন আমাকে রামপুরার এক আত্মীয়র বাসায় নিয়ে যায়। পরের দিন আমাকে ওখানে রেখে ভাইয়া কলাবাগানের বাসায় চলে আসেন।

১৫ তারিখ পর্যন্ত আমি ওখানেই ছিলাম। ১৫ তারিখ সকাল ৯/১০ টার সময় মামাতো ভাই পেপারে তিন্নির লাশের ছবি দেখে আমাকে দেখায়। আমি লাশ দেখে চিনতে পারি। তারপর আমরা কেরানীগঞ্জ থানায় যাই। আমি লাশ দেখতে চাই। তার পরদিন পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ তোলা হয় জুরাইন কবরস্থান থেকে।

আমরাও সেখানে ছিলাম। লাশ চিনতে পারি। পরে আমরা পত্রিকায় এবং মানুষের মুখে শুনতে পারি যে অভিই তিন্নিকে হত্যা করেছে। তিন্নির লাশের ছবি যেদিন পত্রিকায় ছাপা হয়, সেদিন সকালে কলাবাগানে অভির সঙ্গে আমার ভাইয়ের দেখা হয়। অভি বলেছে- তিন্নিকে খুঁজতে হবে না। অভি ভাইয়াকে ৫০০ টাকা দিয়েছিল। কিন্তু ভাইয়া নেয়নি।

এরপর তিন্নির বড় চাচা সৈয়দ রেজাউল করিম জবানবন্দি দেয়া শুরু করেন। কিন্তু তা শেষ হয়নি।

আরও পড়ুন:
যুবক হত্যার দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া সময়ের দাবি
স্ত্রীর গলা কাটা দেহ উদ্ধার, স্বামী আটক
স্ত্রীর মরদেহ খাটে, স্বামী ঝুলছিল দড়িতে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মিরপুরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে স্কুল শিক্ষার্থী আহত

মিরপুরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে স্কুল শিক্ষার্থী আহত

আট/দশজন ছিনতাইকারী মঙ্গলবার রাতে ওই কিশোরকে কুপিয়ে দুই লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

রাজধানীর মিরপুরে ছিনতাইকারীর ছুরির আঘাতে বিজয় নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত শিক্ষার্থীর বাবা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে আমার স্কুলপড়ুয়া ছেলে বিজয়কে দুই লাখ টাকা দিয়ে ওপর ফুপাকে দিয়ে আসতে বলি। সে টাকা নিয়ে মাজার রোড লালকুঠি লিটনের দোকানের সামনে যাওয়ার পর ৮/১০ জন ছিনতাইকারীর খপ্পরে পড়ে। তারা আমার ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে টাকা নিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে রাত পৌনে ১০টায় ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসি।’

আরও পড়ুন:
যুবক হত্যার দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া সময়ের দাবি
স্ত্রীর গলা কাটা দেহ উদ্ধার, স্বামী আটক
স্ত্রীর মরদেহ খাটে, স্বামী ঝুলছিল দড়িতে

শেয়ার করুন

গাজী পেপার মিলে দগ্ধ আরও দুজনের মৃত্যু

গাজী পেপার মিলে দগ্ধ আরও দুজনের মৃত্যু

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। ফাইল ছবি

রোববার রাতে গাজী পেপার মিলে অগ্নিকাণ্ডের পর ভোর ৪টার দিকে দগ্ধ চারজনকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। তাদের মধ্যে আব্দুল হানিফ ও আব্দুল হক নামে দুজন ওইদিনই মারা যান।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গাজী পেপার মিলসে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এনিয়ে সে ঘটনায় দগ্ধ চারজনেরই মৃত্যু হলো।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন এস এম আইয়ুব হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোববার রাতে গাজী পেপার মিলে অগ্নিকাণ্ডের পর ভোর ৪টার দিকে দগ্ধ চারজনকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। তাদের মধ্যে আব্দুল হানিফ ও আব্দুল হক নামে দুজন ওইদিনই মারা যান।

চিকিৎসাধীন অন্যদের মধ্যে মোহাম্মদ শাহিনের শরীরের ৭০ শতাংশ ও হাফিজুর রহমানের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তাদের মধ্যে সোমবার বিকেলে হাফিজুর রহমান মারা যান। আর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায় মারা যান শাহিন।

আরও পড়ুন:
যুবক হত্যার দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া সময়ের দাবি
স্ত্রীর গলা কাটা দেহ উদ্ধার, স্বামী আটক
স্ত্রীর মরদেহ খাটে, স্বামী ঝুলছিল দড়িতে

শেয়ার করুন

শিমু হত্যায় স্বামী রিমান্ডে

শিমু হত্যায় স্বামী রিমান্ডে

স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেলের সঙ্গে অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডে শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী নোবেলের সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় শিমুর। এর জেরে গত ১৬ জানুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে তাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে।’

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যা মামলায় পুলিশ তার স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু এসএমওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রাবেয়া বেগম মঙ্গলবার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক চুন্নু মিয়া দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান।

শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। আদালতে এ সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। দেয়া হয়নি জামিনের আবেদন।

পারিবারিক বিষয়ে টানাপোড়েন ও দাম্পত্য কলহের জেরে অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর মরদেহটি গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে সোমবার শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে রাতেই তার স্বামী নোবেল ও নোবেলের বন্ধু ফরহাদকে আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে ব্রিফিংয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডে শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী নোবেলের সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় শিমুর। এর জেরে গত ১৬ জানুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে তাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে।

‘আমরা ইতিমধ্যে যে গাড়ি ব্যবহার করে লাশ গুমের চেষ্টা হয়েছিল সেই গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়েছি এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছি।’

রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসিন্দা অভিনেত্রী শিমুকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে রোববার তার পরিবারের পক্ষ থেকে কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

১৯৯৮ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় শিমুর অভিষেক হয়। পরে সিনেমার পাশাপাশি অসংখ্য নাটকেও অভিনয় করেছেন। সম্প্রতি ফ্যামিলি ক্রাইসিস নামের একটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
যুবক হত্যার দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া সময়ের দাবি
স্ত্রীর গলা কাটা দেহ উদ্ধার, স্বামী আটক
স্ত্রীর মরদেহ খাটে, স্বামী ঝুলছিল দড়িতে

শেয়ার করুন

পাঁচ দিন পর জামিনে অধ্যাপক তাজমেরী

পাঁচ দিন পর জামিনে অধ্যাপক তাজমেরী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

নাশকতার অভিযোগে ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করা হয়। মামলায় অধ্যাপক তাজমেরী এবং বিএনপি ও জামায়াতের ১৩৩ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। একই বছরের ৭ মে তাজমেরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

গ্রেপ্তারের পাঁচ দিনের মাথায় জামিন পেলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম।

মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাহবুব আহমেদের আদালতে তাজমেরীর জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। তবে সেটি আমলে নেননি বিচারক।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আদেশ দেয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক লিয়াকত আলী।

গত ১৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তারের পর অধ্যাপক তাজমেরীকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়।

নাশকতার অভিযোগে ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করা হয়। মামলায় অধ্যাপক তাজমেরী এবং বিএনপি ও জামায়াতের ১৩৩ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়।

২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর অধ্যাপক তাজমেরীকে এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেয় হাইকোর্ট।

গত বছরের ৭ মার্চ অধ্যাপক তাজমেরীসহ ৭৬ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগ দাখিল করে। একই বছরের ৭ মে তাজমেরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

তাজমেরী ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষক এবং বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ও রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ছিলেন।

আরও পড়ুন:
যুবক হত্যার দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া সময়ের দাবি
স্ত্রীর গলা কাটা দেহ উদ্ধার, স্বামী আটক
স্ত্রীর মরদেহ খাটে, স্বামী ঝুলছিল দড়িতে

শেয়ার করুন

নিখোঁজের আগের ঘটনা জানালেন শিমুর বোন

নিখোঁজের আগের ঘটনা জানালেন শিমুর বোন

রাইমা ইসলাম শিমু (বাঁয়ে) ও তার ছোট বোন ফাতেমা (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

রোববার থেকে নিখোঁজ ছিলেন অভিনেত্রী শিমু। সোমবার পাওয়া যায় তার মরদেহ। এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলছে পুলিশ। শিমুর নিখোঁজ হওয়ার পরের সময়ের বর্ণনা দিলেন তার বোন ফাতেমা।

রোববার থেকে হঠাৎ করেই পাওয়া যাচ্ছিল না অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে। খোঁজ না পেয়ে তার ছোট বোন ফাতেমাসহ পরিবারের সদস্যরা কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ থেকে শিমুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবেই ধরা হচ্ছিল। পরে আঙুলের ছাপ ও পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে জানা যায় বস্তাবন্দি মরদেহটি শিমু।

নিখোঁজের আগে কী হয়েছিল তা নিউজবাংলাকে জানালেন শিমুর বোন ফাতেমা। বললেন, ‘আমরা জানতে পারি রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে, ওর (শিমু) খুব কাছের একজন বন্ধু কল করে আমাকে জানায়, শিমুকে অনেকক্ষণ ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। সে আমার কাছে জানতে চায়, আমার সঙ্গে শিমুর কথা হয়েছে কি না। আমি বলি, না, আমার সঙ্গে কথা হয় নাই। মেসেঞ্জারে কল করেছিলাম, কিন্তু ধরেনি।

‘এরপর আমি আমার বোনের মেয়েকে, মানে শিমুর মেয়েকে কল দিলাম। সে বলল, আম্মু (শিমু) সকালে বের হয়েছে। আমি বললাম, সকালে বের হওয়ার পরে তোমাদের সঙ্গে কি আর কোনো কথা হয়েছে। সে বলে যে না, কথা হয় নাই।’

ফাতেমা জানান, এরপর থেকে শিমুর ফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না।

তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে আমি, আমার ভাই, তার স্ত্রীকে নিয়ে বের হয়ে গেছি। অনেক জায়গায় ফোন করেছি, কারও সঙ্গেই কথা হয় নাই। ওর ক্লোজ একটা বান্ধবী আছে, যার নাম আনমন, ওনাকে কল দিলাম, বললাম বিষয়টা।’

আনমন ফাতেমাকে জানান, তিনি রোববার সকালে ১০টা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে শিমুকে কল করেছিলেন। ফোন খোলাও পাওয়া গেছে, কিন্তু রিসিভ করেননি।

এর মধ্যে রাত ১১টার দিকে কলাবাগান থানায় চলে যান ফাতেমা। বোন শিমু নিখোঁজ জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল, মিটফোর্ড হাসাপাতালে খবর নেন তারা। কিন্তু কোনো হদিস মেলেনি।

রোববার শেষ হয়ে সোমবার

শিমুর বোন ফাতেমা বলেন, ‘আমরা ভোর থেকেই আবার বোনকে খোঁজা শুরু করি। একসময় পুলিশের এসআই আমাদের জানান, শিমুর ফোন বন্ধ হয়েছে রোববার সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে।’

ফাতেমার ধারণার সঙ্গে মিলে যায় ফোন বন্ধের হিসাবটা। তিনি জানান, রোববার শিমু বাসা থেকে বের হয়েছেন সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে। ফোনটাও অফ হয়েছে ওই টাইমে।

ফাতেমা বলেন, ‘পুলিশ শিমুর শেষ অবস্থান জানাতে পারেনি। এর মধ্যে আমি র‌্যাবে, ডিবি ও সন্ধ্যায় সিআইডিতে কথা বলি। সন্ধ্যায় আমাদের একজন ফোন করে বলেন লাশ পাওয়া গেছে।’

কোথায় যাচ্ছিলেন শিমু

ফাতেমা বলেন, ‘আমার বোনজামাই (শিমুর স্বামী নোবেল) যেটা বলল, রোববার সকালে তাকে শিমু ডাক দিয়ে বলেছে, তুমি ওঠো বাজারে যাব। বুয়া আসলে তুমি বলবা যে আধাঘণ্টা পরে আসতে। কিন্তু শিমু আর বাজারে যায়নি। কিছুক্ষণ পরে তার স্বামীকে বলে, আমি একটু মাওয়া যাব, দেরি হইতে পারে। এটা বলে বের হয়ে গেছে।’

কোনো দ্বন্দ্ব?

ফাতেমা জানান, তার সঙ্গে প্রতিদিনই কথা হতো শিমুর। কিন্তু তাদের পরিবারে কোনো দ্বন্দ্ব-কলহ আছে কি না সে ব্যাপারে কখনও কথা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমাকে এভাবে কিছু বলে নাই যে কারও সঙ্গে দ্বন্দ্ব আছে কি না। সে তো মিডিয়াকর্মী। আমার সঙ্গে প্রতিদিনই কথা হতো, কিন্তু থাকে না যে হার্ড দ্বন্দ্ব এ রকম কোনো কিছু কখনও বলেনি।

‘কাজের ক্ষেত্রে অনেকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। সেটা অন্য ইস্যু, ওদের এফডিসিতে যেটা চলে, সেটা অন্যরকম। কিন্তু আমার বোনকে মার্ডার করে ফেলতে পারে, এ রকম কোনো দ্বন্দ্বের কথা আমার জানা নাই।’

পুলিশ যা বলছে

ঘটনার রাতেই শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এসএমওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে আটক করে পুলিশ। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাহিনীটি জানতে পেরেছে, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের কারণে জীবন দিতে হয়েছে শিমুকে।

আর এই হত্যার কথা স্বীকার করেছেন নোবেল। বন্ধুকে নিয়ে মরদেহটি গুম করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

এ বিষয়ে ব্রিফিংয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে যে গাড়ি ব্যবহার করে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে সেই গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়েছি এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছি। মডেল শিমুর স্বামী নোবেল এবং তার বাল্যবন্ধু ফরহাদ বর্তমানে থানা হেফাজতে আছেন। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

আরও পড়ুন:
যুবক হত্যার দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া সময়ের দাবি
স্ত্রীর গলা কাটা দেহ উদ্ধার, স্বামী আটক
স্ত্রীর মরদেহ খাটে, স্বামী ঝুলছিল দড়িতে

শেয়ার করুন

ছাত্রীকে যৌন হয়রানি: শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

ছাত্রীকে যৌন হয়রানি: শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

হলি ফ্যামিলি মেডিক্যাল কলেজ। ছবি: সংগৃহীত

তদন্ত কর্মকর্তা সালমান রহমান নিউজবাংলাকে জানান, ‘ঘটনাস্থল (পিও) পরিদর্শন করেছি। তদন্তের কাজের অগ্রগতি আছে, এখনও শেষ হয়নি।’

রাজধানীর হলি ফ্যামিলি মেডিক্যাল কলেজের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে রমনা থানায় করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির সহকারী অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার কথা ছিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার উপপরিদর্শক সালমান রহমান তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেননি। এ জন্য ঢাকার মহানগর হাকিম মোহনা আলমগীর দ্বিতীয় দফা তারিখ পিছিয়ে দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা সালমান রহমান নিউজবাংলাকে জানান, ‘ঘটনাস্থল (পিও) পরিদর্শন করেছি। তদন্তের কাজের অগ্রগতি আছে, এখনও শেষ হয়নি।’

এর আগে ঢাকার মহানগর হাকিম শফি উদ্দিন গত ১৩ জানুয়ারি অভিযুক্ত সালাউদ্দিনের জামিন আদেশ দেন।

বিষয়টি রমনা থানার (নারী ও শিশু) আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মকবুলুর রহমান।

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর রমনা থানায় সহকারী অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেন এক ছাত্রী। গত ২৯ অক্টোবর ডা. সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মেডিক্যাল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দিন চৌধুরী গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর মেসেঞ্জারে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের যৌন হয়রানিমূলক মেসেজ পাঠান। এ সময় ছাত্রীকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় এক শিক্ষাবর্ষে অনেক বছর আটকে রাখার হুমকি দেন ওই শিক্ষক। এরপর কলেজে বিভিন্নভাবে ডেকে তার দেয়া মেসেজ ফোন থেকে মুছে ফেলতে এবং তার সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করতে বলেন।

ওই শিক্ষক অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে ছাত্রীকে ভয় দেখান। এসব অভিযোগে ছাত্রী প্রথমে উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রমনা থানায় মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
যুবক হত্যার দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া সময়ের দাবি
স্ত্রীর গলা কাটা দেহ উদ্ধার, স্বামী আটক
স্ত্রীর মরদেহ খাটে, স্বামী ঝুলছিল দড়িতে

শেয়ার করুন

ছাদ থেকে পড়ে নারীর মৃত্যু

ছাদ থেকে পড়ে নারীর মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

চারতলা ভবনের ছাদের টবে পানি দিতে গিয়ে পা পিছলে নীচে পড়ে যান গৃহবধূ মাকসুদা বেগম। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় মধ্যবয়সী এ নারীর।

চার তলার ছাদের টবে পানি দিতে গিয়ে পা পিছলে নীচে পড়ে যান গৃহবধূ মাকসুদা বেগম। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় মধ্যবয়সী এ নারীর।

ঘটনাটি রাজধানীর পল্টন চামেলীবাগের। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মাকসুদা বেগমের ভাগ্নি মাহিম সরকার বলেন, ‘খালা গাছে পানি দিতে চার তলার ছাদে গিয়েছিলেন। তিনি পা পিছলে নিচে পড়ে যান। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, মাকসুদার মরদেহ মর্গে রাখা আছে। আইনী প্রক্রিয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
যুবক হত্যার দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া সময়ের দাবি
স্ত্রীর গলা কাটা দেহ উদ্ধার, স্বামী আটক
স্ত্রীর মরদেহ খাটে, স্বামী ঝুলছিল দড়িতে

শেয়ার করুন