বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জেএসসিতে চালু হচ্ছে ভোকেশনাল

player
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জেএসসিতে চালু হচ্ছে ভোকেশনাল

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও ইউসেপ বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

ইউসেপ পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোকে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কারিগরিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

সরকারির পাশাপাশি এবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জেএসসি পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা (ভোকেশনাল) চালু হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইউসেপ বাংলাদেশ পরিচালিত ৩২টি টেকনিক্যাল স্কুলকে নির্বাচন করা হয়েছে।

আগে থেকেই সরকারি ১৩৪টি টেকনিক্যাল স্কুলে জেএসসি পর্যায়ে ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমে পাঠদান চলছে। এবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জেএসসিতে ভোকেশনাল চালুর উদ্যোগ নেয়া হলো।

চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে ইউসেপ-বাংলাদেশ নিজেদের শিক্ষাক্রম বাদ দিয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষাক্রম অনুসরণ করবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বুধবার বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও ইউসেপ বাংলাদেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও যুবাদের সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও কাজের সুযোগের জন্য ইউসেপ পরিচালিত এসব স্কুলগুলোকে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়েছে। এমওইউ অনুযায়ী চলতি শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কারিগরিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

এ ছাড়া শিক্ষক প্রশিক্ষণ, সরকার অনুমোদিত জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো বাস্তবায়ন, শিক্ষা উপকরণ উন্নয়নসহ কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা সচিব আমিনুল ইসলাম খান।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পক্ষে বোর্ডের চেয়ারম্যান আলী আকবর খান এবং ইউসেপের পক্ষে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আব্দুল করিম এমওইউতে সই করেন।

আরও পড়ুন:
জেএসসি সনদের ফরম পূরণের সময় বাড়ল
জেএসসি সনদের ফরম পূরণ ১১ ডিসেম্বর থেকে
নতুন শিক্ষাক্রমে নেই জেএসসি
জেএসসি পরীক্ষার্থীরা পাবে সনদ
জেএসসিতে থাকছে না গ্রেড

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাবি শিক্ষক নেতাদের আলোচনার প্রস্তাব শিক্ষার্থীদের প্রত্যাখ্যান

শাবি শিক্ষক নেতাদের আলোচনার প্রস্তাব শিক্ষার্থীদের প্রত্যাখ্যান

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে শাবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। গুলি করা হয়েছ। এখন আমাদের সঙ্গে কীসের আলোচনা। এখন উপাচার্য পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন- এটিই আমরা চাই।’

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। তবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আন্দোলনে যারা সংহতি প্রকাশ করবেন কেবল তাদের সঙ্গেই আলোচনা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহারে রাত ১০টা পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দিয়েছেন তারা।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহিবুল আলমের নেতৃত্বে শিক্ষক সমিতির কয়েকজন নেতা মঙ্গলবার বিকেলে আলোচনা করতে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে যান।

আলোচনার প্রস্তাব শিক্ষার্থীরা ফিরিয়ে দিলে চলে যান শিক্ষক নেতারা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। গুলি করা হয়েছ। এখন আমাদের সঙ্গে কীসের আলোচনা। এখন উপাচার্য পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন- এটিই আমরা চাই।’

তিনি বলেন, ‘কেউ আলোচনা করতে চাইলে আগে আমাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব দেয়ার আগে এদিন দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে তার বাসভবনে গিয়ে দেখা করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস।

উপাচার্য কার্যালয় থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর সমাধান সম্ভব। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। এভাবেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।’

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য রাত ১০টার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বিকেলে উপাচার্য ভবনের সামনে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের এই ঘোষণা মাইক থেকে জানানো হয়।

সোমবার রাতে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে সিলেটের জালালাবাদ থানায় এই মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই-তিন শ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তিন দফা দাবিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় পুলিশের সংঘর্ষ হয়। অবরুদ্ধ উপাচার্যকে মুক্ত করতে গিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে এই সংঘাত বাধে। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নির্দেশে পুলিশ তাদের ওপর হামলা ও গুলি করে।

তবে এবার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই হামলার অভিযোগ এনে মামলা করল পুলিশ।

এজাহারে বলা হয়, রোববার আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ ‘উচ্ছৃঙ্খল’ শিক্ষার্থী পুলিশের কাজে বাধা দেয়।

সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ ছাড়া পুলিশকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীরা গুলি ছোড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

তবে এই মামলায় কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল। মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে এসে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেবে না। এ ছাড়া একটি মামলা হলেও কাউকে হয়রানি করা হবে না।’

আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে এসে আলোচনার মাধ্যমে যাতে সমাধানে পৌঁছা যায় সেই পথ খোলা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান নাদেলও।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার আজবাহার আলী শেখও জানিয়েছেন, ‘কোনো ঘটনা ঘটলে মামলা করাটা আমাদের রুটিন কাজ। এ জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হবে না।’

আরও পড়ুন:
জেএসসি সনদের ফরম পূরণের সময় বাড়ল
জেএসসি সনদের ফরম পূরণ ১১ ডিসেম্বর থেকে
নতুন শিক্ষাক্রমে নেই জেএসসি
জেএসসি পরীক্ষার্থীরা পাবে সনদ
জেএসসিতে থাকছে না গ্রেড

শেয়ার করুন

যেসব শর্তে ৩৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

যেসব শর্তে ৩৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বসেছেন প্রার্থীরা। ফাইল ছবি

গত বছরের ৩০ মার্চ তৃতীয় ধাপে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৪ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত পদ ২৬ হাজার ৮৩৮টি।

প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্ত ৩৮ হাজার প্রার্থীকে পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান রেখেই বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এটি কার্যকর করতে ইতোমধ্যে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ) চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে এ নিয়োগ কার্যকর করতে কয়েকটি শর্ত দেয়া জুড়ে দেয়া হচ্ছে।

এনটিআরসিএ সচিব মো. ওবাইদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান রেখেই শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত থাকবে।

শর্তগুলো হলো:

১. নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষকের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির দেয়া ভেরিফিকেশনে কোনো আপত্তি উত্থাপিত হলে অবিলম্বে ওই সুপারিশপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

২. প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশনে বিরূপ মন্তব্য পাওয়া গেলে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে।

৩. বিরূপ মন্তব্য-সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অব্যাহতি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জানাতে হবে।

আগের দিন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) ফৌজিয়া জাফরীন বলেন, ‘কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগের পর যদি তার বিরুদ্ধে পুলিশ ভেরিফিকেশনে আপত্তিকর কিছু আসে তবে তাদের নিয়োগ বাতিল হবে। মূলত যে কারণে ভেরিফিকেশন করা হয়ে থাকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এনটিআরসিএকে নির্দেশনা দেয়া হবে।’

গত বছরের ৩০ মার্চ তৃতীয় ধাপে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫৪ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫৪ হাজার ৩০৪টি শূন্যপদের মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ৩১ হাজার ১০১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত পদ ২৬ হাজার ৮৩৮টি। মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ ২০ হাজার ৯৯৬টি।

এর মধ্যে ১৯ হাজার ১৫৪টি এমপিওভুক্ত। আর ২ হাজার ২০৭টি এমপিও পদ রিট মামলায় অংশ নেয়াদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।

৫১ হাজার ৭৬১টি পদে সুপারিশ করার কথা থাকলেও গত বছরের ১৫ জুলাই সুপারিশ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থীকে। তাদের মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৬১০ জন এবং ননএমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৬৭৬ জন।

আর ৮ হাজার ৪৪৮টি পদে কোনো আবেদন না পাওয়ায় এবং ৬ হাজার ৭৭৭টি নারী কোটায় প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫ হাজার ৩২৫টি পদে ফল দেয়নি এনটিআরসি।

আরও পড়ুন:
জেএসসি সনদের ফরম পূরণের সময় বাড়ল
জেএসসি সনদের ফরম পূরণ ১১ ডিসেম্বর থেকে
নতুন শিক্ষাক্রমে নেই জেএসসি
জেএসসি পরীক্ষার্থীরা পাবে সনদ
জেএসসিতে থাকছে না গ্রেড

শেয়ার করুন

আট শিক্ষকের করোনায় স্কুল বন্ধ

আট শিক্ষকের করোনায় স্কুল বন্ধ

পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: নিউজবাংলা

স্কুলের প্রধান শিক্ষক শম্পা রানী জানান, প্রথমে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি নিজেই। পরে নমুনা পরীক্ষা করালে বাসায় তার স্বামীরও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর তিনি স্কুলের অন্য শিক্ষকদেরও নমুনা পরীক্ষা করতে বলেন। বাকিদের পরীক্ষা করা হলে আরও সাত শিক্ষকের করোনা ধরা পড়ে।

কুমিল্লার লাকসামে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ আট শিক্ষকের করোনা শনাক্তের পর স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

করোনায় সংক্রমিতদের সবাই উপজেলার পশ্চিমগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

শিক্ষকদের করোনায় শনাক্তের খবরে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আতঙ্কে রয়েছেন।

এ ঘটনায় লাকসাম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন পরিস্থিতি বিবেচনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করেছেন।

নিউজবাংলাকে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শম্পা রানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

করোনায় আক্রান্ত অন্যরা হলেন সহকারী শিক্ষক মো. শাহ আলম, মো. একরামুল হক খন্দকার, শিক্ষক মন্টু চন্দ্র ঘোষ, উম্মে কুলসুম, বিলকিছ নাসরিন, কামরুন্নাহার ও রুবিনা ইসলাম।

প্রধান শিক্ষক শম্পা রানী জানান, প্রথমে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি নিজেই। পরে নমুনা পরীক্ষা করালে বাসায় তার স্বামীরও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর তিনি স্কুলের অন্য শিক্ষকদেরও নমুনা পরীক্ষা করতে বলেন। বাকিদের পরীক্ষা করা হলে আরও সাত শিক্ষকের করোনা ধরা পড়ে।

নিউজবাংলাকে লাকসাম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধ করে দিয়েছি। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে।

‘আমরা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের খোঁজখবর রাখছি। কারও মধ্যে কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে তাদের করোনা পরীক্ষা করা হবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ সময় স্কুুলের অন্যান্য কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজিয়া বিনতে আলম বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।’

আরও পড়ুন:
জেএসসি সনদের ফরম পূরণের সময় বাড়ল
জেএসসি সনদের ফরম পূরণ ১১ ডিসেম্বর থেকে
নতুন শিক্ষাক্রমে নেই জেএসসি
জেএসসি পরীক্ষার্থীরা পাবে সনদ
জেএসসিতে থাকছে না গ্রেড

শেয়ার করুন

১২ বছরের নিচে টিকা নিয়ে এখনও ভাবছি না: শিক্ষামন্ত্রী

১২ বছরের নিচে টিকা নিয়ে এখনও ভাবছি না: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ফাইল ছবি

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখনই প্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা ভাবছি না। করোনা ছড়িয়ে পড়ছে, এটা সব জায়গাতেই। শিক্ষার্থীরা বাড়িতে থাকলেও তো সংক্রমিত হবে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে সংক্রমণ হয়েছে।’

চলতি জানুয়ারির মধ্যে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার চেষ্টা থাকলেও ১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া নিয়ে এখনই ভাবছে না সরকার।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘১২ বছরের নিচের শিশুদের জন্য এখনও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা টিকা অনুমোদন করেনি। যদি করে তাহলে আমরাও এটা নিয়ে ভাবব।

‘এখন পরিস্থিতি এমন একটি জায়গায় যাচ্ছে ,যে মোটামুটি কমিউনিটিতে সব দিকেই সংক্রমণ। কাজেই জীবনকে যতটুকু স্বাভাবিক রেখে করোনা মোকাবিলা করা যায়। আমরা কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে আগেও বসেছি। হয়তো আগামী দু একদিনের মধ্যে বসব।’

এর আগে ১০ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেভাবে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চলছিল, সেটি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষাকার্যক্রম পুরোদমে শুরু করতে চলতি মাসের মধ্যেই ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী সব স্কুল শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হবে।

দেশে করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হলেও এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা ভাবা হচ্ছে না না জানিয়ে মঙ্গলবার দীপু মনি বলেন, ‘আমরা এখনই প্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা ভাবছি না। করোনা ছড়িয়ে পড়ছে, এটা সব জায়গাতেই। শিক্ষার্থীরা বাড়িতে থাকলেও তো সংক্রমিত হবে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে সংক্রমণ হয়েছে।

‘আক্রান্তদের চিকিৎসা দিয়ে আইসোলেট করে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। কাউকে আইসোলেশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’
যে সব শিক্ষার্থী ক্লাসে আসতে পারবে না তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট করে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে বলা আছে। এখন আমাদের প্রচেষ্টা হলো, জীবন যতখানি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব সেটা রেখে আমরা করোনা মোকাবিলা করব।

‘যদি এমন দেখা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, আমরা ক্লাস চালু রাখতে পারছি না, তাহলে আমাদের অনলাইনে যেতেই হবে। এখন অনলাইন বা অ্যাসাইমেন্ট আমরা চালু রাখছি। কারণ, সবাই তো আসতে পারছে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকের বাড়িতে অসুস্থ রোগী আছেন। শিক্ষার্থীদের কেউ নিজেও অসুস্থ। সেক্ষেত্রে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে। আমরা বিকল্প পদ্ধতিও চালু রাখছি ও রাখব। যেখানে এখনও ভার্চুয়ালি সম্ভব না সেখানে অ্যাসাইন্টমেন্ট দেব। গত ছয় মাসেও তো আমাদের কিছু সক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু তারপরও আমরা শতভাগের কাছে পৌঁছাতে পারব না।’

এ সময় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সংক্রমণ হার আমরা যেটা দেখি, কমিউনিটি রেটটা সেভাবে পাচ্ছি না। আমাদের দেশে কিন্তু ওমিক্রনের চেয়ে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। এটিতে মৃত্যুঝুঁকি আছে। কাজেই আমরা যেন স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলি।’

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে পুল গঠনের প্রস্তাব

বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়োগের ক্ষেত্রে পুল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থায় আমরা কোথায় কোথায় কী করছি তা তুলে ধরেছি, আর তাদের কিছু প্রস্তাব ছিল, আমরা সেগুলোর বিষয়ে আমাদের মতামত তুলে ধরেছি। একটা বিষয় ছিলো যে, কারিগরি শিক্ষা যেন সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে চালু করা হয়। সেটা আমরা এর মধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছি, তা তাদের জানালাম।

‘বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক, কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি পুল গঠন করা এবং সেখানে জেলা প্রশাসকদের অন্তর্ভুক্ত করার একটি প্রস্তাব এসেছে। এটা করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটিগুলোর কাজে আরও স্বচ্ছতা আনতে মাধ্যমিক শিক্ষায় উপজেলায় কমিটি করার পরামর্শ এসেছে। আমরা মনে করি এটা খুব ভালো, আমরা এটা করব।’

আরও পড়ুন:
জেএসসি সনদের ফরম পূরণের সময় বাড়ল
জেএসসি সনদের ফরম পূরণ ১১ ডিসেম্বর থেকে
নতুন শিক্ষাক্রমে নেই জেএসসি
জেএসসি পরীক্ষার্থীরা পাবে সনদ
জেএসসিতে থাকছে না গ্রেড

শেয়ার করুন

জন্মনিবন্ধনের ভুলে টিকা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

জন্মনিবন্ধনের ভুলে টিকা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে করোনার টিকা নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

‘সরকার থেকে বলা হয়েছিল জন্মনিবন্ধন সনদ ছাড়াও স্কুলের পরিচয়পত্র দিয়ে টিকা দেয়া হবে। কিন্তু জন্মনিবন্ধন সনদে ভুল থাকায় আমার ছেলেকে আজ টিকা দেয়া হয়নি।’

করোনার টিকা ছাড়া স্কুল ক্লাস নয়- সরকারের এমন ঘোষণার পর স্কুলে গিয়েও সবাই টিকা নিতে পারছে না। জন্মনিবন্ধন সনদে ভুলের কারণে এমনটি ঘটছে। স্কুল থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ ঠিক করে আনতে বলা হচ্ছে। কিন্তু এটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার।

এই জটিলতা যেন না হয়, সে জন্য সরকারের আরও একটি সিদ্ধান্ত ছিল যে যাদের জন্মনিবন্ধন সনদ নেই বা সেখানে কোনো ভুল আছে, তারা বিকল্প ব্যবস্থায় টিকা পাবে।

কিন্তু রাজধানীর কয়েকটি টিকাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলগুলো সরকারের নির্দেশনা মানছে না। জন্মনিবন্ধন সনদে ভুল এবং ডিজিট কম থাকায় টিকা নিতে পারছে না সব শিশু।

মঙ্গলবার রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্রে মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আশিক আব্দুল্লাহকে নিয়ে টিকা দিতে যান তার বাবা আবু আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, জন্মনিবন্ধন সনদ ১৬ ডিজিটের হওয়ায় টিকা দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে বলা হয়েছিল জন্মনিবন্ধন সনদ ছাড়াও স্কুলের পরিচয়পত্র দিয়ে টিকা দেয়া হবে। কিন্তু জন্মনিবন্ধন সনদে ভুল থাকায় আমার ছেলেকে আজ টিকা দেয়া হয়নি।’

একই অভিযোগ করলেন আলী আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাবাসুম বিনতে হদ্রির মা আফরোজা বেগম।

তিনি বলেন, ‘টিকা দিতে আসলে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বললেন, আমার মেয়ের জন্মনিবন্ধনের সনদে ভুল আছে। তাই টিকা দেয়া যাবে না।’

ভিকারুননিসা টিকাকেন্দ্রেও একই সমস্যায় পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পাশেই উইলস লিটল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত ইসলামও টিকা পায়নি। তার বাবা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছে জন্মসনদ ঠিক করে আনতে। তাই আজ টিকা দেয়া হলো না।’

শিক্ষা কর্মকর্তা বললেন দুঃখজনক

তবে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়লেও এর কিছুই জানেন না ঢাকা জেলার শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ।

তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, জন্মনিবন্ধন সনদ ছাড়াও পরিচয়পত্র দিয়ে টিকা দেয়া যাবে। এ জন্য অবশ্যই প্রতিষ্ঠানপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র লাগবে। কোনো শিক্ষার্থীর যদি জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকে অথবা ভুল থাকে তাহলে সে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানপ্রধানের প্রত্যয়ন নিয়ে টিকা গ্রহণ করতে পারবে।’

কিন্তু টিকা তো তারা দিতে পারছে না- এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘কেউ যদি এ নির্দেশনা না মেনে থাকেন তাহলে তা অবশ্যই দুঃখজনক।’

মন্ত্রীর যে ঘোষণা ছিল

গত ১০ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, ‘শিক্ষার্থীদের টিকা নিতে কোনো নিবন্ধন লাগবে না। পরিচয়পত্র দিয়েই টিকা দিতে পারবে। পরিচয় বলতে স্কুলের পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ড।’

মন্ত্রী সেদিন বলেন, ‘কেবিনেটের একটি সিদ্ধান্ত আছে, ১৩ তারিখের পর টিকা ছাড়া কেউ স্কুলে যেতে পারবে না। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সবার টিকা দেয়া হয়ে যাবে। এর মধ্যে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছে তারা ক্লাসে আসবে। না নেয়ারা অনলাইনে বা বিকল্প মাধ্যমে ক্লাস করবে।’

টিকাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না

স্কুলশিক্ষার্থীদের রাজধানী ঢাকায় মোট নয়টি কেন্দ্রে টিকা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে খিলগাঁও মডেল কলেজ, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষার্থীদের লম্বা লাইন দেখা যায়।

লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের অনেককেই নিদিষ্ট দূরত্ব বজায় না রেখেই খোশগল্পে মাততে দেখা যায়। এ সময় অনেকের মুখেই ছিল না মাস্ক। বলা যায়, টিকা কেন্দ্রের বাইরে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই ছিল না।

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যায় রাজধানীর ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। এ কেন্দ্রে তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করাতে দেখা যায়। নিদিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রেও স্কুল কর্তৃপক্ষের চেষ্টা দেখা গেছে।

কতজন টিকা পেয়েছে

দেশের ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ৬৪ শতাংশ করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

সোমবার সংসদে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী যে শিক্ষার্থীরা আছে, এই বিশাল শিক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ১ কোটি ১৬ লাখ ২৩ হাজার ৩২২। এদের মধ্যে আমরা গতকাল (রোববার) পর্যন্ত ৭৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৩৭ জনকে অর্থাৎ ৬৪ দশমিক ০৪ শতাংশ শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজ টিকা দিতে সক্ষম হয়েছি।

গত ১ নভেম্বর পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে ফাইজারের টিকা।

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
জেএসসি সনদের ফরম পূরণের সময় বাড়ল
জেএসসি সনদের ফরম পূরণ ১১ ডিসেম্বর থেকে
নতুন শিক্ষাক্রমে নেই জেএসসি
জেএসসি পরীক্ষার্থীরা পাবে সনদ
জেএসসিতে থাকছে না গ্রেড

শেয়ার করুন

‘দাবি একটাই, উপাচার্যের পদত্যাগ চাই’

‘দাবি একটাই, উপাচার্যের পদত্যাগ চাই’

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ চান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। ছবি: নিউজবাংলা

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমাদের মতো শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। এটা দেখে যদি আমাদের বিবেক জাগ্রত না হয়, তাহলে বুঝতে হবে আমাদের বিবেক ঘুমিয়ে রয়েছে। আজকে তাদের ওপর হামলা, কালকে আমাদের ওপর- এভাবে দিন দিন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা বেড়ে চলছে। আমাদের দাবি একটাই, উপাচার্যের পদত্যাগ চাই।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ‌‌‌‌‌‌‌‌হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় তারাও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ চান।

মানববন্ধনে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু বড়ুয়া বলেন, ‘শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে উল্টো হামলা চালিয়েছে। এমন অযোগ্য ব্যক্তি ভিসি থাকতে পারেন না, তার অপসারণ চাই।’

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমাদের মতো শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। এটা দেখে যদি আমাদের বিবেক জাগ্রত না হয়, তাহলে বুঝতে হবে আমাদের বিবেক ঘুমিয়ে রয়েছে।

‘আজকে তাদের ওপর হামলা, কালকে আমাদের ওপর- এভাবে দিন দিন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা বেড়ে চলছে। আমাদের দাবি একটাই, উপাচার্যের পদত্যাগ চাই।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

এদিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করলে সন্ধ্যায় অ্যাকশনে যায় পুলিশ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস। লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সন্ধ্যার পর থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে অবস্থা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, ভিসির নির্দেশেই পুলিশ হামলা ও গুলি চালিয়েছে।

এই বিক্ষোভের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ছাড়ার নির্দেশনা আসে। এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে রোববার রাত থেকেই আন্দোলন শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরাও এসে যোগ দেন এই বিক্ষোভে। তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

সোমবার আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। ফলে মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসে এসেও নিজেদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। তাদের নিজ নিজ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

মঙ্গলবারও উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বাসভবনের ভেতরেই রয়েছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ দাবি করেন, এই আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে বহিরাগতরা।

আরও পড়ুন:
জেএসসি সনদের ফরম পূরণের সময় বাড়ল
জেএসসি সনদের ফরম পূরণ ১১ ডিসেম্বর থেকে
নতুন শিক্ষাক্রমে নেই জেএসসি
জেএসসি পরীক্ষার্থীরা পাবে সনদ
জেএসসিতে থাকছে না গ্রেড

শেয়ার করুন

শাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই হামলা-গুলির অভিযোগ পুলিশের

শাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই হামলা-গুলির অভিযোগ পুলিশের

শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করেছে। গুলি ছুড়েছে। আমাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই-তিন শ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে সোমবার রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানায় এই মামলা করেন।

তিন দফা দাবিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় পুলিশের সংঘর্ষ হয়। অবরুদ্ধ উপাচার্যকে মুক্ত করতে গিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে এই সংঘাত বাধে। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নির্দেশে পুলিশ তাদের ওপর হামলা ও গুলি করে।

তবে এবার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই হামলার অভিযোগ এনে মামলা করল পুলিশ।

এজাহারে বলা হয়, রোববার আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ ‘উচ্ছৃঙ্খল’ শিক্ষার্থী পুলিশের কাজে বাধা দেয়।

সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ ছাড়া পুলিশকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীরা গুলি ছোড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

এতে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখসহ ১০ পুলিশ আহত হন বলে উল্লেখ করা হয় মামলায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই দিন পুলিশ ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ৩২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জালালবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু খালেদ মামুন বলেন, ‘রোববারের যে ঘটনা তার পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।’

তবে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করেছে। গুলি ছুড়েছে। আমাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।’

পুলিশের গুলি ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সোমবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়া মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ কোনো গুলি ছোড়েনি। ওই দিন ক্যাম্পাসে গুলি আনেনি পুলিশ।’

আরও পড়ুন:
জেএসসি সনদের ফরম পূরণের সময় বাড়ল
জেএসসি সনদের ফরম পূরণ ১১ ডিসেম্বর থেকে
নতুন শিক্ষাক্রমে নেই জেএসসি
জেএসসি পরীক্ষার্থীরা পাবে সনদ
জেএসসিতে থাকছে না গ্রেড

শেয়ার করুন