এলডিসি থেকে উত্তরণ নিয়ে পোশাকমালিকরা উদ্বিগ্ন নয়

player
এলডিসি থেকে উত্তরণ নিয়ে পোশাকমালিকরা উদ্বিগ্ন নয়

ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত সংলাপে বক্তব্য রাখছেন ফারুক হাসান

ফারুক হাসান বলেন, ‘বর্তমানে তাদের কৌশল হচ্ছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল অর্থাৎ ২০২৬ সাল পর্যন্ত  আন্তর্জাতিক বাজারের সুবিধা নেয়া। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৬ সালের পরে যে বাড়তি তিন বছর শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধায় রপ্তানির সুযোগ দেবে, আলোচনার মাধ্যমে তা বাড়ানো। বিজিএমইএ ইইউর কাছে ১০ বছরের জন্য এই সুবিধা চেয়েছে।’

এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণ নিয়ে পোশাকশিল্পের মালিকরা মোটেই উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন এ খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।

তিনি বলেছেন, ‘এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের বের হয়ে যাওয়া নিয়ে আমরা মোটেই উদ্বিগ্ন নই। কারণ এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ইতোমধ্যে বিজিএমইএ সরকার ও ক্রেতা দেশগুলোর সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ বাড়ানো, পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ফলে কোটা ও শুল্কমুক্ত সুবিধাহীন বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের টিকে থাকা নিয়ে আপাতত কোনো সংশয় দেখা যাচ্ছে না।’

বুধবার অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংলাপটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম। এ সময় সংগঠনের সহসভাপতি ও বার্তা সংস্থা এএফপির ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

ফারুক হাসান বলেন, ‘বর্তমানে তাদের কৌশল হচ্ছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল অর্থাৎ ২০২৬ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারের সুবিধা নেয়া। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২০২৬ সালের পরে যে বাড়তি তিন বছর শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধায় রপ্তানির সুযোগ দেবে, আলোচনার মাধ্যমে তা বাড়ানো। বিজিএমইএ ইইউর কাছে ১০ বছরের জন্য এই সুবিধা চেয়েছে। এরপরে বিজিএমইএ ইইউর সঙ্গে জিএসপি প্লাস নিয়ে আলোচনা করবে। তবে পোশাকমালিকরা চান এই সময়ের মধ্যে সরকার অন্যান্য দেশের সঙ্গে মুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি করবে।’

তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএ সব সময় পুরো খাতের উন্নয়নে কাজ করেছে, এখনও করে চলেছে। এই সংগঠনটিতে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা সকলেই পোশাক শিল্পের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। আমিও উত্তরসূরিদের মতো করে চেষ্টা করে যাচ্ছি ।‘

‘করোনার প্রভাব মোকাবিলায় পোশাক খাতের এসএমই প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করতে বিভিন্ন ধরনের চার্জ ও ফিস কমানো হয়েছে। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাজার ও পণ্য বহুমুখীকরণের কাজ চলছে। কৃত্রিম তন্তুর পোশাক যাতে দেশে বেশি তৈরি হয় সে জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য গবেষণা জোরদার করা হয়েছে।’

বিজিএমইএ সভাপতির সূচনা বক্তব্যের পর উপস্থিত সাংবাদিকরা তার কাছে এ খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা, করোনা মহামারি এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপিবিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে ফারুক হাসান বলেন, ‘বৃহত্তম এই বাজারে তৈরি পোশাক জিএসপি সুবিধা পেত না। এখনও পাচ্ছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে সব শর্ত দিয়েছিল সেগুলো পোশাকমালিকরা ও সরকার বাস্তবায়ন করেছে। কমপ্লায়েন্স বা নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ দেশের উদ্যোক্তারা প্রচুর বিনিয়োগ করেছেন। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ কারখানা এখন বাংলাদেশে। ১৫৩টি গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে দেশে। অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা তাদের কাজটি করেছেন। এখন জিএসপি দেয়া না দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়।’

‘দেশটির জিএসপি সুবিধা দেয়ার সঙ্গে শুধু শর্ত বাস্তবায়ন নয়, রাজনীতিও জড়িত। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে। আগামীতে আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ’বাংলাদেশের র‍্যাব ও সংস্থাটির কিছু কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ব্যবসায় পড়বে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। তবে ব্যবসায়ীদের কাজ তারা করছেন। আমরা কোনো বাজার হারাতে চাই না।’

মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের শীতল সম্পর্ক, র‍্যাব ও সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তার প্রতি আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা, আগামী বছরের শেষে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ী হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রত্যাশা যে কারখানায় উৎপাদন ও পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়, এমন কোনো কর্মসূচি যাতে তারা না দেয়। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে সেই পরিবেশ থাকতে হবে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না ব্যবসা করতে গেলে রাজনৈতিক আশীর্বাদ লাগে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্স ২০ থেকে ৩০ বছর আগে নেয়া। তিন দশক আগে বাংলাদেশ যে ধরনের পণ্য তৈরি করত, এখন তার চেয়ে ভিন্ন ও উন্নত পণ্য তৈরি করছে। ফলে পুরোনো বন্ড লাইসেন্সে অনেক পণ্যেরই উল্লেখ নেই, কিন্তু ওই লাইসেন্সধারী কারখানার নতুন পণ্যের প্রয়োজন হচ্ছে। তিনি বলেন, লাইসেন্সে উল্লেখ না থাকলেও ব্যবহারিক ঘোষণাপত্রে(ইউডি) তা থাকছে। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনেক সময় পণ্য ছাড় করছে না। এতে ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

এ নিয়ে আগামী সপ্তাহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলে জানিয়ে ফারুক হাসান বলেন, ‘অনেকে অভিযোগ করেন যে ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার, পণ্য, ডিজাইনে যাচ্ছেন না। কিন্তু যাওয়ার সুযোগ কোথায়। কাস্টমসের জটিলতার মতো অনেক জটিলতার পেছনে ব্যবসায়ীদের দৌড়াতে হয়। ফলে এ ধরনের বিধিবিধান সহজ করে দিলে ব্যবসা সহজ হবে।’

করোনার প্রভাব মোকাবিলার প্রণোদনার ঋণ পরিশোধ প্রসঙ্গে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘অনেক কারখানা ইতোমধ্যে ঋণের কিস্তি দেয়া শুরু করেছে। আর কিছু প্রতিষ্ঠান পারছে না। কারণ ওইসব প্রতিষ্ঠানের ক্রেতারা মূল্য পরিশোধ করেনি। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ বিবেচনায় সময় দেয়া উচিত।’

সাম্প্রতিক সময়ের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রথমত বেড়েছে রপ্তানি মূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে। এ ছাড়া করোনার সময়ে ক্রেতাদের অনেক দাবি দেশের রপ্তানিকারকরা রেখেছেন। বিশেষ করে পরে ডেলিভারি, দেরিতে মূল্য পরিশোধ, ডিসকাউন্ট ইত্যাদি সুবিধা দেয়া হয়েছে। যে কারণে ক্রেতাদের সঙ্গে রপ্তানিকারকদের একটি সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে এখন ক্রেতারা তাদের বাড়তি চাহিদার পণ্য বাংলাদেশ থেকেই নিচ্ছেন। এ ছাড়া করোনার কারণে মানুষের ভ্রমণসহ অন্যান্য ব্যয় কমেছে। ফলে পশ্চিমারা তাদের অন্য খাতের অর্থ পোশাক কেনায় ব্যয় করছে। পোশাকের সামগ্রিকভাবে মূল্য সামান্য বাড়লেও কাটিং ও মেকিং চার্জ বাড়েনি।’

‘আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রকৃত পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকের সংখ্যা প্রকাশ করা হবে’ জানিয়ে ফারুক হাসান বলেন, ‘সাব-কন্ট্রাক্টের বিষয়ে বিজিএমইএ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আগামীতেও থাকবে। তাজরীন ফ্যাশনের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি তারা চান না। অবশ্যই সাব-কন্ট্রাক্ট হবে, তবে তা একই ক্রেতার পণ্য উৎপাদন করে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এবং ক্রেতার সম্মতি সাপেক্ষে।’

আরও পড়ুন:
পোশাক খাতের বড় কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ
দেড় বছর আগেই বিজিএমইএ নির্বাচনে ফোরামের দলনেতা ঘোষণা
স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বলেছে বিজিএমইএ
বাংলাদেশের পোশাকের সাফল্য প্রচার করবে সিএনএন
যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা: রুশনারা ও রুপাকে পাশে চায় বিজিএমইএ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য: বাংলাদেশকে কানাডায় ব্র্যান্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য: বাংলাদেশকে কানাডায় ব্র্যান্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত

মঙ্গলবার রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বাংলাদেশ-কানাডা যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হয়।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সমুদ্রসম্পদ সুষ্ঠুভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কানাডার বিশেষ দক্ষতা ও জ্ঞান রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্র অঞ্চলের বেশির ভাগ অব্যবহৃত অবস্থায় রয়ে গেছে। কানাডার বিনিয়োগ, কারিগরি জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে।’

পারস্পরিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ ও কানাডা। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে কানাডার রুলস অফ অরিজিন আরও সহজ করার দাবি তোলা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে বাংলাদেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ চেয়েছে কানাডা।

দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কানাডার উদ্যোক্তারা এখনও বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সুবিধা সম্পর্কে অবগত নন। যদিও অর্থনীতির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। অবকাঠামো, অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজার, বিশ্বের প্রধানতম বাজারগুলোয় শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকায় এ অঞ্চলের অন্যতম সেরা বিনিয়োগ গন্তব্য এখন বাংলাদেশ।

বৈঠকে সম্ভাবনার নানা দিক নিয়ে আলোচনার পর বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাণিজ্য উন্নয়নে কানাডায় বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি।

বৈঠকে যৌথ ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের সরকারের মনোনীত সদস্যরা। সভায় কো-চেয়ার হিসেবে ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এবং কনজ্যুমার হেলথের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ভাইস চেয়ারম্যান নুজহাত তাম-জামান।

দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আগের বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতার অগ্রাধিকারমূলক খাত হিসেবে পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, শিক্ষা, ওষুধশিল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। মঙ্গলবারের বৈঠকে নতুন করে ব্লু ইকোনমি ও প্লাস্টিক খাতকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সমুদ্র অর্থনীতিতে বিশ্বের অন্যতম সেরা দেশ কানাডা। সমুদ্রসম্পদকে সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কানাডার বিশেষ দক্ষতা ও জ্ঞান রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ৭১০ কিলোমিটার সমুদ্রসীমা ও বঙ্গোপসাগরে ২০০ নটিক্যাল মাইলের অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। কিন্তু এর বেশির ভাগই অব্যবহৃত অবস্থায় রয়ে গেছে। কানাডার বিনিয়োগ, কারিগরি জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে।

‘ওয়ার্কিং কমিটির কাছে শিগগিরই ব্ল ইকোনমি, প্লাস্টিক ও পর্যটনের ওপর খাতভিত্তিক প্রতিবেদন জমা দেবে এফবিসিসিআই। এ ছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেবেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবির।’

নির্দিষ্ট পণ্যের আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্য বাধা দূর করতে পণ্যভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে আন্তযোগাযোগ জোরদার করার ব্যাপারে একমত হয় দুপক্ষ।

বৈঠকে কানাডায় বাংলাদেশি চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও জুতা রপ্তানির সম্ভাবনার ওপর গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এফবিসিসিআই পরিচালক ও এমসিসিআই, ঢাকার সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাস্কাচেওয়ান ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্ট পার্টনারশিপের (স্টেপ) সভাপতি ক্রিস ডেকার।

কমিটির পরবর্তী বৈঠক ৭ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
পোশাক খাতের বড় কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ
দেড় বছর আগেই বিজিএমইএ নির্বাচনে ফোরামের দলনেতা ঘোষণা
স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বলেছে বিজিএমইএ
বাংলাদেশের পোশাকের সাফল্য প্রচার করবে সিএনএন
যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা: রুশনারা ও রুপাকে পাশে চায় বিজিএমইএ

শেয়ার করুন

অর্থ পাচারকারী ৬৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান যারা

অর্থ পাচারকারী ৬৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান যারা

অর্থ পাচারকারী হিসেবে প্যারাডাইস ও পানামা পেপার্সে যেসব বাংলাদেশির নাম এসেছে, তাদের একটি তালিকা তৈরি করে বিএফআইইউ। আদালতে দাখিল করা এ তালিকায় দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী-রাজনীতিকের নাম রয়েছে।

বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের নামের একটি তালিকা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ নিয়ে বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক প্রতিবেদনটি দাখিল করেন। তিনি জানান, আগামী রোববার এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ঠিক করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

অর্থ পাচারকারী হিসেবে প্যারাডাইস ও পানামা পেপার্সে যেসব বাংলাদেশির নাম এসেছে, তাদের একটি তালিকা তৈরি করে বিএফআইইউ।

আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে দেখা যায়, তালিকায় দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী-রাজনীতিকের নাম রয়েছে।

প্যারাডাইস পেপার্সে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন মাল্টিমোড লিমিটেডের আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ফাতেমা নাসরিন আউয়াল, তাবিথ আউয়াল, মোহাম্মদ তাফসির আউয়াল, মো. তাজওয়ার আউয়াল, মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেডের ফয়সাল চৌধুরী, ওয়াই ফরিদা মোগল, শহিদ উল্লাহ, সামির আহমেদ, সেভেন সিজ অ্যাসেটস লিমিটেড, সোয়েন ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ এক্সপ্লোরেশন লিমিটেড, ইউনোকল শাহবাজপুর পাওয়ার লিমিটেড, ইউনোকল শাহবাজপুর পাইপলাইন লিমিটেড, এনএফএম এনার্জি (সিঙ্গাপুর) পিটিই লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক সেভেন লিমিটেড, ইউনোকল শাহবাজপুর লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক ফাইভ লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক টেন লিমিটেড, বারলিংটন রিসোর্সেস বাংলাদেশ লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লকস থারটিন অ্যান্ড ফরটিন লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক টুয়েলভ লিমিটেড, ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ (বারমুডা) লিমিটেড ও টেরা বাংলাদেশ ফান্ড লিমিটেড।

পানামা পেপার্সে নাম আসা ৪৩ জন হলেন বেগম নিলুফার কাজী, হংকং সাংহাই টেক্সটাইল স্পিনিং লিমিটেডের জাফরুল্লাহ কাজী (কাজী জাফর উল্লাহ), কাজী রায়হান জাফর, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ বিল্ডারের ক্যাপ্টেন সোহাইল হোসাইন (হাসান), স্পার্ক লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইফতেখারুল আলম, বাংলা ট্র্যাক লিমিটেডের আমিনুল হক, নাজিম আসাদুল হক ও তারিক ইকরামুল হক, আব্দুল মোনেম লিমিটেডের এ এস এম মহিউদ্দিন মোনেম ও আসমা মোনেম, বিএপিআইয়ের সাবেক সভাপতি ড. এ এম এম খান, মমিন টির আজমত মঈন, পাট ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার মোদী, অনন্ত গ্রুপের শরীফ জহির, মার্কেন্টাইল করপোরেশনের আজীজ খান, আঞ্জুমান আজীজ খান, আয়েশা আজীজ খান, জাফের উমায়ের খান ও ফয়সাল করিম খান, সি পার্লের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সিরাজুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপ অব কোম্পানির হাসান মাহমুদ রাজা, খন্দকার মঈনুল আহসান শামীম, আহমেদ ইসমাইল হোসেন, আখতার মাহমুদ, মাসকট গ্রুপের চেয়ারম্যান এফ এফ জোবায়দুল হক, সেতু করপোরেশনের মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও উম্মে রাব্বানা, স্কয়ার গ্রুপের স্যামসন এইচ চৌধুরী, ক্যাপ্টেন এম এ, এফ এম জোবায়দুল হক, সালমা হক, খাজা শাহাদাৎ উল্লাহ, মীর্জা ইয়াহিয়া, সৈয়দা সামিয়া মীর্জা, আমিনুল হক, তারেক একরামুল হক, জাহিদুল ইসলাম, মো. শহীদ, মোহাম্মদ ফয়সাল করিম, নজরুল ইসলাম, সৈয়দ সিরাজুল হক ও জুলফিকার হায়দার এবং বিটিএল।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত সংস্থা বিএফআইইউ এ প্রতিবেদন দাখিল করে।

ওই দিন ২৯ ব্যক্তি ও ১৪ প্রতিষ্ঠানের তালিকা দাখিল করা হয়। ওই তালিকা দেখে বিএফআইইউ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডি কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানানোর নির্দেশ দেয়া হয়। নতুন এই তালিকা দাখিল ও সে বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা শুনানির জন্য ৩০ জানুয়ারি দিন ঠিক করে দিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন:
পোশাক খাতের বড় কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ
দেড় বছর আগেই বিজিএমইএ নির্বাচনে ফোরামের দলনেতা ঘোষণা
স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বলেছে বিজিএমইএ
বাংলাদেশের পোশাকের সাফল্য প্রচার করবে সিএনএন
যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা: রুশনারা ও রুপাকে পাশে চায় বিজিএমইএ

শেয়ার করুন

৬ মাসেই ৩৬ হাজার কোটি টাকার ঋণসহায়তা

৬ মাসেই ৩৬ হাজার কোটি টাকার ঋণসহায়তা

এই ঋণসহায়তার মধ্যে ৪০২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার পাওয়া গেছে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে। ১৫ কোটি ৬ লাখ ডলার এসেছে অনুদান হিসেবে। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৪০ হাজার ডলারের খাদ্য অনুদান এবং ১৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলার প্রকল্প অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।

বিদেশি ঋণসহায়তা প্রাপ্তিতে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। আর এতে স্বস্তিতে রয়েছে সরকার; মহামারিকালেও অর্থসংকটে পড়তে হয়নি। ব্যাংক থেকে খুব একটা ঋণ নিতে হচ্ছে না।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ৪১৭ কোটি ৬০ লাখ (৪.১৭ বিলিয়ন) ডলারের ঋণসহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে টাকার অঙ্কে (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা) এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা।

যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৯ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি। এর আগে ছয় মাসে এত বেশি বিদেশি ঋণসহায়তা কখনোই পায়নি বাংলাদেশ।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বুধবার বিদেশি ঋণসহায়তার প্রতিশ্রুতি ও ছাড়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বাংলাদেশকে ৪৩৯ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার (৪.৪০ বিলিয়ন) ডলার ছাড় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দাতারা। দিয়েছে ৪১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

ছাড় করা ঋণসহায়তার মধ্যে ৪০২ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার ডলার পাওয়া গেছে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে। ১৫ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার খাদ্য অনুদান এবং ১৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার প্রকল্প অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।

২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ৩০০ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার (৩ বিলিয়ন) ডলার ছাড় করেছিল দাতারা। এ হিসাবেই এই ছয় মাসে বিদেশি ঋণসহায়তা বেড়েছে ৩৯ দশমিক ১৪ শতাংশ।

সংকটের সময়ে বেশি ঋণ পেয়ে খুশি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, আমরা যতটা আশা করেছিলাম, তার চেয়েও বেশি ঋণসহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। এতে করোনার টিকা খাতে ব্যয়সহ অন্যান্য খরচ মেটাতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দ্রুত ঋণসহায়তা পাওয়া গেছে। আমরা (সরকার) আমাদের প্রয়োজনের বিষয়টি তাদের ভালোভাবে উপস্থাপন করেছিলাম। তারা দ্রুত সাড়া দিয়েছে; এখনও দিচ্ছে। সে কারণে করোনার ধাক্কা সামলে খুব দ্রুতই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি; যা বিশ্বের অনেক দেশই পারেনি।’

বিদেশি ঋণের এই গতি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন শামসুল আলম।

তিনি বলেন, ‘চলমান প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি করোনা মোকাবিলার জন্যও মোটা অঙ্কের ঋণ পাওয়া গেছে। এখনও পাওয়া যাচ্ছে; ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’

‘আমরা আমাদের প্রয়োজনের কথা সঠিকভাবে দাতাদের কাছে উপস্থাপন করেছিলাম। সে কারণেই তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। আর এই ঋণসহায়তা এবং আমাদের সরকারের দেড় লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজসহ নানা উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব যতটা পড়ার কথা ছিল, ততটা পড়েনি।’

শামসুল আলম বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতি করোনার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছে। রপ্তানি-আমদানিসহ অর্থনীতির সব সূচকই এখন ভালো। সব মিলিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, করোনা মহামারি আমরা ভালোভাবেই মোকাবিলা করেছি। মাঝে টিকা নিয়ে একটু সমস্যা থাকলেও এখন আর নেই। প্রচুর টিকা আছে; আরও আসছে। টিকার আর কোনো সংকট হবে না। আর টিকা কিনতে অর্থেরও কোনো সমস্যা হবে না।’

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিদেশি ঋণ কোভিড মোকাবিলায় সরকারকে যথেষ্ট সহায়তা দিয়েছে। পরপর দুই বছর ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফরেন এইড অবাক করার মতো; চলতি অর্থবছরেও সেই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এই কঠিন সময়েও সরকারকে কোনো ধরনের অর্থসংকটে পড়তে হয়নি। উন্নয়নকাজ থেমে থাকেনি; টিকা কিনতে সমস্যা হয়নি।

‘আর এসব কারণেই কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ডলারের বাজারে অস্থিরতা ছাড়া কিন্তু অর্থনীতি বেশ ভালোভাবেই চলছে’ বলেন দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা আহসান মনসুর।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭১০ কোটি (৭.১ বিলিয়ন) ডলার ঋণসহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিদেশি ঋণ আসে বাংলাদেশে। ওই বছর ৭৩৮ কোটি (৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলার ঋণ পাওয়া গিয়েছিল।

গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ঋণ পাওয়া গেছে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে। সংস্থাটি ২৭০ কোটি ডলার ছাড় করেছিল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছাড় করেছিল এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৭০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ ছাড়ের প্রবণতা বাড়তে থাকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে। ওই বছরই এক লাফে অর্থ ছাড় ৩০০ কোটি থেকে ৬৩৭ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। তারপর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসেছিল ৬৫৪ কোটি ডলার।

আরও পড়ুন:
পোশাক খাতের বড় কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ
দেড় বছর আগেই বিজিএমইএ নির্বাচনে ফোরামের দলনেতা ঘোষণা
স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বলেছে বিজিএমইএ
বাংলাদেশের পোশাকের সাফল্য প্রচার করবে সিএনএন
যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা: রুশনারা ও রুপাকে পাশে চায় বিজিএমইএ

শেয়ার করুন

‘পুঁজিবাজার ও বিমা খাত না এগোলে টেকসই উন্নয়ন কঠিন হবে’

‘পুঁজিবাজার ও বিমা খাত না এগোলে টেকসই উন্নয়ন কঠিন হবে’

বুধবার ডিএসইর নিকুঞ্জের অডিটোরিয়ামে ‘পেপারলেস ডিএসই’ উদ্যোগের উদ্বোধন হয়। ছবি: নিউজবাংলা

ডিএসই চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও সাধারণের আস্থা না থাকলে এগোনো কঠিন হবে। কথা ও কাজে মিল থাকলে মানুষ আমাদের বিশ্বাস করবে। এই বিশ্বাস আমাদের অর্জন করতে হবে। আর এর মাধ্যমেই আমরা দেশের পুঁজিবাজারকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে ইমেজিং মার্কেটের দিকে নিয়ে যেতে পারব।’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলেও দুটি খাত এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। এর একটি পুঁজিবাজার, অন্যটি বিমা খাত। এ দুটি খাত সামনে নিয়ে আসতে না পারলে দেশের টেকসই উন্নয়ন কঠিন হয়ে পড়বে।’

বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের নিকুঞ্জের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘পেপারলেস ডিএসই’ উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘আশার কথা হচ্ছে, আমরা ডিএসইর পক্ষ থেকে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে একটি ভালো অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছি। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে অন্যান্য দেশের তুলনায় একটি অত্যাধুনিক প্ল্যাটফর্ম হবে ডিএসই।

‘নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও সেখানে সাধারণ মানুষের আস্থা না থাকলে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। আমাদের কথা ও কাজে মিল থাকলে মানুষ আমাদের বিশ্বাস করবে। এই বিশ্বাস আমাদের অর্জন করতে হবে। আর এর মাধ্যমেই আমরা দেশের পুঁজিবাজারকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে ইমেজিং মার্কেটের দিকে নিয়ে যেতে পারব।’

পেপারলেস ডিএসই উদ্যোগের বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূইয়া বলেন, ‘এর মাধ্যমে ডিএসইতে বিভিন্ন নির্দেশনা ও নথিপত্র সবই এখন হবে ডিজিটালি। ফলে কোনো কর্মকর্তা ছুটিতে বা দেশের বাইরে থাকলেও ডিএসইর জরুরি কাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।’

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, ডিএসই যে উদ্যোগ নিয়েছে এটি খুবই ভালো। এর সুফল হয়তো রাতারাতি পাওয়া যাবে না। তবে যেটি শুরু হয়েছে তা ভবিষ্যতে ডিএসইর জন্য সুফল বয়ে আনবে।’

ভার্চুয়াল মাধ্যমের এই আয়োজনে আরও ছিলেন ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক সালমা নাসরিন, শাকিল রিজভী, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি’ রোজারিও।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে ডিএসই চেয়ারম্যান পুঁজিবাজার নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) নতুন কমিটির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে ডিএসই নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সিএমজেএফ সভাপতি জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, নির্বাহী কমিটির সদস্য রোকন উদ্দিন মাহমুদ, আলমগীর হোসেন, বাবুল বর্মণ, হুমায়ন কবীর বাবু ও মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
পোশাক খাতের বড় কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ
দেড় বছর আগেই বিজিএমইএ নির্বাচনে ফোরামের দলনেতা ঘোষণা
স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বলেছে বিজিএমইএ
বাংলাদেশের পোশাকের সাফল্য প্রচার করবে সিএনএন
যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা: রুশনারা ও রুপাকে পাশে চায় বিজিএমইএ

শেয়ার করুন

এটিএম বুথ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নগদ টাকা বাড়ানোর নির্দেশ

এটিএম বুথ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নগদ টাকা বাড়ানোর নির্দেশ

এটিএম বুথ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নগদ টাকা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতীকী ছবি

গ্রাহকদের উপস্থিতি নিরুৎসাহিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও লেনদেন বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এটিএম বুথ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট ক্যাশ আউট স্থানগুলোয় পর্যাপ্ত নগদ টাকা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এসব প্রতিষ্ঠানের শাখা ও অফিসে গ্রাহকদের উপস্থিতি নিরুৎসাহিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও লেনদেন বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ থেকে মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।

সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সিস্টেমস অপারেটরগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে সার্কুলারটি পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সীমিত জনবল নিয়ে কার্যক্রম চলছে। এ জন্য আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোয় গ্রাহকদের উপস্থিতি কমাতে অনলাইন লেনদেন, এটিএম সেবা, মোবাইলভিত্তিক লেনদেন, ই-ওয়ালেট ও বিভিন্ন কার্ডভিত্তিক লেনদেন বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যেসব স্থান থেকে নগদ টাকা তোলার সুযোগ আছে, যেমন-এটিএম বুথ, মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বুথ, উপশাখা ইত্যাদি স্থানগুলোয় নগদ টাকার সরবরাহ বাড়াতে হবে। গ্রাহকদের সশরীরে উপস্থিতি কমাতে অনলাইনে এসব লেনদেনে উৎসাহিত করতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, বিশেষ পরিস্থিতিতে সাইবার আক্রমণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই ব্যাংক ও সব ধরনের আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সাইবার ঝুঁকি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ব্যাংক ও সব ধরনের আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করতে পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পোশাক খাতের বড় কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ
দেড় বছর আগেই বিজিএমইএ নির্বাচনে ফোরামের দলনেতা ঘোষণা
স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বলেছে বিজিএমইএ
বাংলাদেশের পোশাকের সাফল্য প্রচার করবে সিএনএন
যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা: রুশনারা ও রুপাকে পাশে চায় বিজিএমইএ

শেয়ার করুন

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সময় চায় ব্যাংকগুলো

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সময় চায় ব্যাংকগুলো

বুধবার গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএবি সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখমাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ‘নির্দেশনা কার্যকরে বাড়তি সময়ের দাবি ভেবে দেখা হবে। তবে সার্কুলারের বিষয়ে যেসব অস্পষ্টতা ছিল উভয় পক্ষের আলোচনায় তা পরিষ্কার হয়েছে।’  

ব্যাংকারদের ন্যূনতম বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সময় চেয়েছে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিএবির নেতারা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বিএবি সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক চমৎকার একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এখনই এ সিদ্ধান্ত মানা হলে ব্যাংকের অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

‘মার্চ মাস থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া সিদ্ধান্ত মানা ব্যাংকগুলোর জন্য কঠিন। ব্যাংকারদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, ব্যাংকের ভারসাম্য সব বিষয় বিবেচনা করে এসব বাস্তবায়ন করতে চাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও আমরা এ আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি, আমাদের দাবি মেনে সময় বাড়ানো হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। বৈঠকের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখমাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ‘নির্দেশনা কার্যকরে বাড়তি সময়ের দাবি ভেবে দেখা হবে। তবে সার্কুলারের বিষয়ে যেসব অস্পষ্টতা ছিল উভয় পক্ষের আলোচনায় তা পরিষ্কার হয়েছে।’

এন্ট্রি পর্যায়ের বেতন-ভাতা নির্ধারণ ও পদোন্নতি, চাকরিচ্যুতি বিষয়ে ২০ জানুয়ারি নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সার্কুলারে বলা হয়, আগামী মার্চ থেকে ব্যাংকের এন্ট্রি পর্যায়ে সর্বনিম্ন বেতন ২৮ হাজার ও শিক্ষানবিসকাল শেষে ৩৯ হাজার টাকা। সেখানে শুধু আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জন করতে না পারায় কাউকে পদোন্নতি বঞ্চিত বা চাকরিচ্যুত করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই নির্দেশনায় উল্লেখ করা ‘পদোন্নতি ও চাকরিচ্যুতি’ বিষয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়ায় মঙ্গলবার আবার স্পষ্ট করে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অদক্ষতার কারণে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা যাবে না বা অদক্ষদের পদোন্নতি দিতে হবে- এমন কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রমাণিত অভিযোগ থাকতে হবে। শুধু আমানত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারা বা কোনো ধরনের প্রমাণিত অভিযোগ ছাড়াই অদক্ষতার অজুহাত দেখিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত অথবা চাকরিচ্যুত অথবা পদত্যাগে বাধ্য করা যাবে না।’

এ নির্দেশনা কার্যকর করতে গিয়ে ব্যাংকগুলো চাপে পড়বে বলে ব্যাংক মালিকরা মনে করেন। তাদের এই উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরতে বুধবার গভর্নর ফজলে কবিরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন এবিবি বৈঠক করে। বৈঠকে বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছাড়াও কয়েকজন এমডি উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাংক উদ্যোক্তারা এর আগে মঙ্গলবার ব্যাংকারদের চাকরি শুরুর পর্যায়ে বেতন-ভাতা নির্ধারণ, ঋণ আমানতে সুদ হার বেঁধে দেয়া, ছাটাই-পদোন্নতি, ঋণ পরিশোধ না করেও খেলাপিমুক্ত থাকাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নির্দেশনা নিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক করেন।

সভায় বলা হয়, করোনার মধ্যেও বেশিরভাগ ব্যাংক ভালো কর্মীদের ধরে রাখতে বেতন বৃদ্ধিসহ নানাভাবে উৎসাহিত করছে। ভালো কাজ করা ব্যাংকারদের শুধু অন্য ব্যাংক নয়, অন্য প্রতিষ্ঠানও বেশি বেতন দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে ঢালাওভাবে সবাইকে পদোন্নতি দেয়া হলে তাতে এ খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। এসব বিবেচনায় না নিয়ে চাকরি স্থায়ী করা ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির জন্য আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জনে শর্ত আরোপ না করার নির্দেশনা আপত্তিকর।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, করোনার কারণে ঋণ পরিশোধে ছাড় উঠে যাওয়ার পর ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাবে। এ নিয়ে তারা যখন দুশ্চিন্তায়, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক নানাভাবে আন্তর্জাতিক চর্চাবহির্ভূত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। এসব বিষয়ে তারা উদ্বেগও প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন:
পোশাক খাতের বড় কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ
দেড় বছর আগেই বিজিএমইএ নির্বাচনে ফোরামের দলনেতা ঘোষণা
স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বলেছে বিজিএমইএ
বাংলাদেশের পোশাকের সাফল্য প্রচার করবে সিএনএন
যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা: রুশনারা ও রুপাকে পাশে চায় বিজিএমইএ

শেয়ার করুন

অর্থ পাচার রোধে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো আইন চান মন্ত্রী

অর্থ পাচার রোধে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো আইন চান মন্ত্রী

প্রতীকী ছবি

অর্থ পাচার রোধে দক্ষিণ কোরিয়াকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোরিয়াতে একসময় বিপুল পরিমাণ মুদ্রা পাচার হতো। এই পাচার রোধে তারা কঠোর আইন করেছে। যারা পাচার করে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছে। যে কারণে ওই দেশে টাকা পাচার কমেছে।’

বিদেশে অর্থ পাচার রোধে দক্ষিণ কোরিয়াকে উদাহরণ টেনেছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। বলেছেন, দেশটি থেকে একসময় অনেক অর্থ পাচার হতো। কঠোর আইন ও শাস্তির কারণে তা বন্ধ হয়েছে। বাংলাদেশেও তাই করা উচিত।

রাজধানীতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বুধবার আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে টাকা পাচার প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। অর্থ পাচার রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে কঠোর হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ওভার ইনভয়েসিং (বেশি দাম দেখিয়ে পণ্য আমদানি) ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের (বেশি দামের পণ্যকে কম দাম দেখিয়ে রপ্তানি) মাধ্যমে দেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীসহ সরকারি কর্মকর্তারা কর ফাঁকি দিয়ে এ টাকা পাচার করছেন।

‘এই পাচার প্রতিরোধ করতে হলে কাস্টমস বিভাগের বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে হবে। কীভাবে টাকা পাচার কমানো যায়, সে বিষয়ে কাস্টমসকে কাজ করতে হবে।’

এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন মন্ত্রী। বলেন, ‘কোরিয়াতে একসময় বিপুল পরিমাণ মুদ্রা পাচার হতো। এই পাচার রোধে তারা কঠোর আইন করেছে। যারা পাচার করে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছে। যে কারণে ওই দেশে টাকা পাচার কমেছে।

‘তাদের মতো বাংলাদেশকেও অর্থ পাচার বন্ধে আইন করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে কোনোক্রমেই বিদেশে টাকা পাচার না করতে পারেন সে জন্য কাস্টমসকে ভূমিকা রাখতে হবে।’

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ এবং টেক্স জিডিপির অনুপাত বাড়াতেও সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে যেতে হলে আমাদেরকে আয় বাড়াতেই হবে। এ জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।’

দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ আর স্বপ্ন নয়, এটি এখন বাস্তবতা। এসডিজি গোল বাস্তবায়নে আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি এগিয়েছি।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীও। কর আদায় ও আওতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘উপজেলা পর্যন্ত করের আওতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিষয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা ছিল তা এখন কেটে গেছে। কাস্টমস এখন একটা গর্বের জায়গা।’

বাংলাদেশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে শিল্পায়নের পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ দরকার বলে জানালেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের লক্ষ্য হচ্ছে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়া। এ জন্য মাথাপিছু আয় বাড়াতে হবে ৫ হাজার ৫০০ ডলার। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নাই। আমাদের এক্সপোর্ট বাড়াতে হলে পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে। এ জন্য এনবিআর ও প্রাইভেট সেক্টরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

শুধু রাজস্ব আদায়ের ভূমিকাই না, দেশের স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষায় এনবিআর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

কর-জিডিপি অনুপাত কম হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বিপুল পরিমাণ কর ছাড় দেয়া হচ্ছে। প্রাইভেট সেক্টরের পাশাপাশি সরকারিভাবেও কর ছাড়ের চাপ আছে। যে কারণে কর আদায় ব্যাহত হচ্ছে। এটাও ঠিক যে কর ছাড়ের কারণে উন্নয়ন প্র্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেজাদ মুনিম, বেসিসের সভাপতি রাসেল টি আহমেদ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনবিআরের সদস্য (শুল্কনীতি) মাসুদ সাদিক।

ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামসহ অনুষ্ঠানে ২০ কাস্টমস কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের সার্টিফিকেট অফ মেরিট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন:
পোশাক খাতের বড় কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ
দেড় বছর আগেই বিজিএমইএ নির্বাচনে ফোরামের দলনেতা ঘোষণা
স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বলেছে বিজিএমইএ
বাংলাদেশের পোশাকের সাফল্য প্রচার করবে সিএনএন
যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা: রুশনারা ও রুপাকে পাশে চায় বিজিএমইএ

শেয়ার করুন