খালেদার কিছু হলে সরকারের সবাই হত্যার আসামি: ফখরুল

player
খালেদার কিছু হলে সরকারের সবাই হত্যার আসামি: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কোনো রকম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই মুহূর্তে বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করা দরকার। চিকিৎসকরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন, কিন্তু যেকোনো সময় তার জীবনাশঙ্কা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তার কোনো কিছু হলে সরকারের প্রত্যেককে হত্যার আসামি করা হবে।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কিছু হলে সরকারের সবাইকে হত্যা মামলার আসামি করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বুধবার দুপুরে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস উপলক্ষে মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে প্রতি বছর দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপি।

মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কোনো রকম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই মুহূর্তে বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করা দরকার। চিকিৎসকরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন, কিন্তু যেকোনো সময় তার জীবনাশঙ্কা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তার কোনো কিছু হলে সরকারের প্রত্যেককে হত্যার আসামি করা হবে।’

চক্রান্তের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দরকার হলেও সরকার আইনের দোহাই দিয়ে তাকে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল।

দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ও জনগণের ক্ষমতা ফেরাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘এই সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে। সুনামি হয়ে সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এই মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের ৯০ শতাংশই শেখ হাসিনার বাড়াবাড়ি পছন্দ করছে না: গয়েশ্বর
আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা বিকৃত, প্রধানমন্ত্রীর শেখানো বক্তব্য: রিজভী
‘খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই’
খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধে খালেদা ছিলেন ‘পাকিস্তান সেনানিবাসের আতিথেয়তায়’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খালেদা জিয়া দেশের ওপর অবরোধ চেয়েছিলেন: সেলিম মাহমুদ

খালেদা জিয়া দেশের ওপর অবরোধ চেয়েছিলেন: সেলিম মাহমুদ

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ। ফাইল ছবি

‘বিএনপি ও তার দলীয়প্রধান খালেদা জিয়া দেশের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব বিদেশিদের কাছে বিকিয়ে দিতে মোটেও কুণ্ঠিত ননl ওয়াশিংটন টাইমসের প্রবন্ধে খালেদা জিয়া সে কথাই পরিষ্কারভাবে বলেছেনl’

যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকায় কলাম লিখে বাংলাদেশের ওপর পশ্চিমাদের অবরোধ আরোপের অনুরোধ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কলাম লেখার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ।

যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ নিয়ে সরকার ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে শুক্রবার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ডাটাবেস টিমের এক সভায় তিনি এ কথা বলেনl

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘বিএনপি ও তার দলীয়প্রধান খালেদা জিয়া দেশের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব বিদেশিদের কাছে বিকিয়ে দিতে মোটেও কুণ্ঠিত ননl ওয়াশিংটন টাইমসের প্রবন্ধে খালেদা জিয়া সে কথাই পরিষ্কারভাবে বলেছেনl

‘২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন টাইমস পত্রিকায় খালেদা জিয়া দ্য থ্যাঙ্কসলেস রোল ইন সেভিং ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ শিরোনামে এক প্রবন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই অনুরোধ করেছিলেনl’

সেলিম মাহমুদ বলেন, ‘ওই প্রবন্ধে খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র উদাসীন থাকলে তাকেও এর দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবেl কারণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আনুগত্য অন্যান্য উদীয়মান পরাশক্তির দিকে ধাবিত হচ্ছেl

‘তারপর তিনি লেখেন, তার মানে এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য এজেন্সি কিছুই করছে নাl ছয় মাস পূর্বে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্প পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন প্রত্যাহার করেছে এবং এই প্রকল্পে দুর্নীতি ও অর্থ তছরুপের তদন্ত করার পরামর্শ দিয়েছে।’

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার এই মন্তব্যে বোঝা যায়, পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিল হওয়ার বিষয়টি তার কাছে অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক বিষয় ছিলl’

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জিএসপি সুবিধা বাতিলের পেছনে যে লবিস্টের মাধ্যমে বিএনপি এবং তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্র ছিল, এটি খালেদা জিয়ার লেখাতেই পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছেl’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া তার লেখায় বাংলাদেশের ওপর বিভিন্ন পর্যায়ের স্যাংশন (অবরোধ) আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের অনুরোধ জানানl পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিচার করার সমালোচনা করেনl’

সেলিম মাহমুদ জানান, প্রবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার ছয় মাস পর বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে লেখাটি খালেদা জিয়ার নয়l তবে ওয়াশিংটন টাইমসে ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত নিবন্ধটি খালেদা জিয়ার— এটি নিশ্চিত হয়েই তা ছাপানো হয়েছে বলে জানান মার্কিন দৈনিকটির নির্বাহী সম্পাদক ডেভিড এস জ্যাকসন। তিনি জানান, মার্ক পার্সি নামে লন্ডনভিত্তিক একজন এজেন্টের মাধ্যমে ওয়াশিংটন টাইমস নিবন্ধটি পেয়েছে।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের ৯০ শতাংশই শেখ হাসিনার বাড়াবাড়ি পছন্দ করছে না: গয়েশ্বর
আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা বিকৃত, প্রধানমন্ত্রীর শেখানো বক্তব্য: রিজভী
‘খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই’
খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধে খালেদা ছিলেন ‘পাকিস্তান সেনানিবাসের আতিথেয়তায়’

শেয়ার করুন

জাতিসংঘে চিঠি দেয়া সংগঠনগুলো নামসর্বস্ব: তথ্যমন্ত্রী

জাতিসংঘে চিঠি দেয়া সংগঠনগুলো নামসর্বস্ব: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন । ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে র‍্যাবকে বাদ দিতে যে ১২টি সংগঠন চিঠি দিয়েছে সেখানে দুই-তিনটি ছাড়া বাকিগুলো নামসর্বস্ব। এগুলোর নাম আমরা আগে শুনিনি, আপনারাও শুনেছেন কিনা আমার জানা নেই।’

শান্তিরক্ষা মিশন থেকে র‌্যাবকে বাদ দিতে জাতিসংঘে চিঠি দেয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে দু-তিনটি ছাড়া বাকিগুলো নামসর্বস্ব বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী এমনটা দাবি করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নকে (র‌্যাব) বাদ দিতে যে ১২টি সংগঠন চিঠি দিয়েছে সেখানে দুই-তিনটি ছাড়া বাকিগুলো নামসর্বস্ব। এগুলোর নাম আমরা আগে শুনিনি, আপনারাও শুনেছেন কিনা আমার জানা নেই।’

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে র‍্যাবকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক ১২টি সংস্থা জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়ের ল্যাকোঁয়ারকে চিঠি দেয়।

বৃহস্পতিবার মানবাধিবার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে এটি প্রকাশ করা হয়। গত বছরের ৮ নভেম্বর জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারিকে এই চিঠি পাঠায় সংগঠনগুলো।

এই চিঠির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তারা এই চিঠি দিয়েছে গত বছরের ৮ নভেম্বর। দুই মাসের বেশি সময় পর এটি হঠাৎ মিডিয়ায় কেন নিয়ে এল? এটির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।’

বিদেশে বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে, তাদের অবৈধ অর্থ লবিস্ট ফার্মে লগ্নি করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে।’

দেশের বিরুদ্ধে বিএনপির বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সরকারের কাছে আছে বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘বিএনপির নয়াপল্টন অফিসের ঠিকানা দিয়ে তারা লবিস্ট ফার্মের সঙ্গে চুক্তি করেছে।’

লবিস্ট নিয়োগে বাংলাদেশ থেকে অর্থ কীভাবে গেল তা তদন্তের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘জনগণের ওপর বিএনপির কোনো আস্থা নেই। তাই তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের মধ্যে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে বিদেশে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ।

‘একটি রাজনৈতিক দল দেশের বিরুদ্ধে যখন এ ধরনের ষড়যন্ত্র করে, তারা দেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে কিনা সেই প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি দেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থ পাচার করে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে, দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রকে হেয় করতে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করার তথ্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সংসদে বলার পর থেকে বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তাদের নেতাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার জন্য এফবিআইয়ের এজেন্ট ভাড়া করেছিল। সেই এজেন্টকে পরে যুক্তরাষ্ট্রে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।

‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য বিএনপি-জামায়াত লবিস্ট নিয়োগ করেছিল। বিএনপি কি এগুলো অস্বীকার করতে পারবে? তাদের অপকর্ম যখন বেরিয়ে এসেছে তখন তারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার জন্য আবোল-তাবোল বকছে।’

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে যে আইন করা হচ্ছে সেটা জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে না- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির সংলাপে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল একটা আইন করার কথা বলেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে। পুরো বিষয়টি হচ্ছে রাজনৈতিক।

‘টিআইবি কাজ করে দুর্নীতি নিয়ে, এটির সঙ্গে তো দুর্নীতির কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক ইস্যুতে বিবৃতি দিয়ে টিআইবি প্রমাণ করেছে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে দেখেছি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বিবৃতি দিতে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যুদ্ধপরাধীদের রক্ষায় নানাভাবে চেষ্টা করেছে।

‘অথচ এসব সংগঠন যেসব দেশে বসে কাজ করে সেসব দেশসহ পৃথিবীর অন্য জায়গায় যখন এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় তখন কোনো বিবৃতি দেয় না। এসব সংগঠন ইতোমধ্যে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। র‌্যাবকে জাতিসংঘ শান্তি মিশন থেকে বাদ দেয়ার তাদের এই আহ্বান খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

এ সময় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম চিশতি, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী শাহ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মনওয়ার রিয়াদ মুন্নাসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের ৯০ শতাংশই শেখ হাসিনার বাড়াবাড়ি পছন্দ করছে না: গয়েশ্বর
আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা বিকৃত, প্রধানমন্ত্রীর শেখানো বক্তব্য: রিজভী
‘খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই’
খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধে খালেদা ছিলেন ‘পাকিস্তান সেনানিবাসের আতিথেয়তায়’

শেয়ার করুন

বিএনপি নয়, দেড় যুগ আগে লবিস্ট নিয়োগে আ.লীগ: বিএনপি

বিএনপি নয়, দেড় যুগ আগে লবিস্ট নিয়োগে আ.লীগ: বিএনপি

বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম লবিস্ট ‘অ্যালক্যাডে অ্যান্ড ফো’কে নিয়োগে দেয়া হয় ২০০৪ সালের ২৯ নভেম্বর, যা কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি ২০০৫ থেকে। ২০০৫ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত এই ফার্মকে মাসে ৩০ হাজার ডলার হিসেবে সাড়ে ১২ লাখ ডলার দেয়া হয়েছে।

বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ভাড়া করে সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে- এমন অভিযোগ আনার পর দলটি পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেছে, তাদের শাসনামলে আওয়ামী লীগ লবিস্ট ভাড়া করেছে। এর পেছনে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ও করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই দাবি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ভাড়া করা নিয়ে সম্প্রতি অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করছে সরকার ও বিএনপি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, বিএনপির লবিস্ট ভাড়া করার তথ্য প্রমাণ সরকারের কাছে আছে। তিনি চুক্তির নথিপত্রও দেখান। এই লবিস্ট নিয়োগে ৩৭ লাখ ডলার খরচ করা হয়েছে বলেও পরে জানান তিনি।

এই অর্থ পাঠাতে কোনো অনুমতি নেয়া হয়েছে কি না, বিষয়টি জানতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠিও দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই অবস্থায় বিএনপি পাল্টা অভিযোগ আনল।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম লবিস্ট ‘অ্যালক্যাডে অ্যান্ড ফো’কে নিয়োগে দেয়া হয় ২০০৪ সালের ২৯ নভেম্বর, যা কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি ২০০৫ থেকে।”

২০০৫ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত এই ফার্মকে মাসে ৩০ হাজার ডলার হিসেবে সাড়ে ১২ লাখ ডলার দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন বিএনপি নেতা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির লবিস্ট ফার্ম ‘অ্যালক্যাডে অ্যান্ড ফো’ এবং ‘ফ্রিডল্যান্ড’ এর সঙ্গে ‘চুক্তির তথ্য প্রমাণ’ও তুলে ধরেন খন্দকার মোশাররফ।

২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ক্ষমতায় ছিল বিএনপি সরকার। সে সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগের।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সে সময়ের রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিলেও তাতে বিএনপির নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পষ্ট।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পর ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিলে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে দূরে চলে যায়। এরপর তারা আর অবস্থান ফিরে পায়নি।

সরকারও এখন লবিস্ট নিয়োগ করেছে বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর দুর্ভাগ্য যে, তাদের ওপর নির্মম অত্যাচার, গুম, খুন, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে এই জুলুমবাজ অবৈধ সরকার যে অপরাধ করেছে, তা ধামাচাপা দেয়ার লক্ষ্যে লবিস্টদের নিয়োগের জন্য সেই নিপীড়িত দেশবাসীরই ট্যাক্সের টাকা ব্যয় করছে।

‘জনগণের এই অর্থ ব্যয় করে সরকার ও সরকারি দল লবিস্ট নিয়োগের নামে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে এবং তার উৎস কী? তার স্বচ্ছ তদন্ত করে তার রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।’

মোশাররফের দাবি, বহু বছর ধরে নিয়মিত চুক্তিতে কাজ করা লবিস্ট প্রতিষ্ঠান বিজিআর ছাড়াও গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন ও সফর বিনিময়ের লক্ষ্যে এক মাসের জন্য ৪০ হাজার ডলার ফি’তে নিয়োগ করা হয়েছিল আরেকটি লবিস্ট প্রতিষ্ঠান ফ্রিডল্যান্ডারকে।

বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেনি

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের অভিযোগও অস্বীকার করেন মোশাররফ। বলেন, ‘বিএনপি কোনো লবিস্ট নিয়োগের সিদ্ধান্তই কখনও নেয়নি, লবিস্ট নিয়োগ করার প্রয়োজনও বোধ করেনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যে অভিযোগ করেছেন, তা বানোয়াট।’

তিনি বলেন, ‘লবিস্টরা যেসব কথা বলবেন, বিএনপির নেতারা নিজেরাই তা বলে থাকেন এবং তাও গোপনে না-প্রকাশ্যে।’

মোশাররফ বলেন, ‘তারা (বিএনপি) আরও বলেছে যে, এখান থেকে কীভাবে আমরা অর্থ প্রেরণ করেছি। আমরা চাই যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইনকোয়ারি করুক। তাদেরটাও ইনকোয়ারি করুক।’

দূতাবাস থাকা সত্ত্বেও আলাদা করে লবিস্ট নিয়োগ অনৈতিক

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যেকটা দেশে দূতাবাস আছে, জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধির অফিস আছে। এগুলো কীসের জন্য? বাংলাদেশের পক্ষে, বাংলাদেশের ঘটনাবলীর পক্ষে ওইসব দেশকে অবহিত করা এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা দেয়া।

‘সেখানে সরকার বা সরকারি দলের কেন লবিস্ট নিয়োগ করতে হবে? সেটাই প্রশ্ন। দূতাবাস থাকা সত্ত্বেও এভাবে জনগণের অর্থ খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ অনৈতিক।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের ৯০ শতাংশই শেখ হাসিনার বাড়াবাড়ি পছন্দ করছে না: গয়েশ্বর
আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা বিকৃত, প্রধানমন্ত্রীর শেখানো বক্তব্য: রিজভী
‘খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই’
খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধে খালেদা ছিলেন ‘পাকিস্তান সেনানিবাসের আতিথেয়তায়’

শেয়ার করুন

হাছান মাহমুদ খুব পাকা পাকা কথা বলেন: মির্জা আব্বাস

হাছান মাহমুদ খুব পাকা পাকা কথা বলেন: মির্জা আব্বাস

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকীকে দলের উদ্যোগে দিনব্যাপি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী । ছবি: নিউজবাংলা

‘আজকে পত্রিকায় দেখলাম, হাছান মাহমুদ খুব পাকা পাকা কথা বলেন। তিনি বলেছেন বিএনপি বোঝে নাই আমরা কী করতে যাচ্ছি। বিএনপি খুব ভালো করে বোঝে আপনারা কী করতে যাচ্ছেন। আপনারা বাকশালকে পুনঃপ্রবর্তন করতে যাচ্ছেন। এটা বিএনপি খুব ভালো জানে।

সরকার কী করতে যাচ্ছে, এটা বিএনপি বোঝে না- এই ধরনের বক্তব্য দেয়ায় তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে কটাক্ষ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তার দৃষ্টিতে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ‘খুব পাকা পাকা’ কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করতে সরকারের উদ্যোগেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি। দাবি করেছেন, এই সরকারের আইন করার কোনো অধিকার নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকীকে দলের উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশন আইন পাস করতে যাচ্ছে মন্তব্য করেন আব্বাস। বলেছেন, ‘অনির্বাচিত নিশিরাতের সরকার কোনো আইন পাস করতে পারে না।’

সংবিধানে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আইন করার কথা বলা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকার এই উদ্যোগ নেয়নি। রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো সংলাপের যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তাতে এই বিষয়টি সামনে এসেছে। আর সরকারও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনারা কীসের আইন পাস করবেন? আপনারা তো অনির্বাচিত নিশিরাতের সরকার। আপনারা কোনো আইন পাস করতে পারেন না। আপনারা যে আইন পাস করবেন সেটি বাংলার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সুতরাং নির্বাচিত সরকার আসবে, সেই নির্বাচিত সরকার যে আইন পাস করবে, আমরা সেটাকে মেনে নেব।’

তথ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আজকে পত্রিকায় দেখলাম, হাছান মাহমুদ খুব পাকা পাকা কথা বলেন। তিনি বলেছেন বিএনপি বোঝে নাই আমরা কী করতে যাচ্ছি। বিএনপি খুব ভালো করে বোঝে আপনারা কী করতে যাচ্ছেন। আপনারা বাকশালকে পুনঃপ্রবর্তন করতে যাচ্ছেন। এটা বিএনপি খুব ভালো জানে।’

জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একজন ক্ষণজন্মা পুরুষকে হারিয়েছি। বিদেশি প্রভুদের নির্দেশে তাকে (জিয়াউর রহমানকে) হত্যা করা হয়েছে।

‘যারা ভেবেছিল জিয়াউর রহমানকে শেষ করে দিলে বিএনপি শেষ হয়ে যাবে, তাদের মুখে ছাই দিয়ে বিএনপি টিকে আছে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের ৯০ শতাংশই শেখ হাসিনার বাড়াবাড়ি পছন্দ করছে না: গয়েশ্বর
আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা বিকৃত, প্রধানমন্ত্রীর শেখানো বক্তব্য: রিজভী
‘খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই’
খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধে খালেদা ছিলেন ‘পাকিস্তান সেনানিবাসের আতিথেয়তায়’

শেয়ার করুন

র‍্যাবের পর এবার পুলিশকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী

র‍্যাবের পর এবার পুলিশকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী

নয়াপল্টনে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

রিজভী বলেন, ‘র‍্যাবের যেসব কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাদের আবার পুলিশে নিয়ে এসেছে সরকার। তারা র‌্যাবের ইমেজকে ক্ষুণ্ন করে এখন পুলিশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পুলিশের ন্যূনতম মর্যাদা যেটুকু আছে, সেটুকু ক্ষুণ্ন করার জন্য বিতর্কিতদের আনা হয়েছে।’

সরকার র‍্যাবের পর এবার পুলিশ বিভাগকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ‘সরকার র‍্যাবের ভাবমূর্তি শেষ করে দিয়েছে। বিএনপির আমলে বেগম খালেদা জিয়া র‍্যাব গঠন করেছিলেন দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার জন্য। এই র‍্যাবকে কখনই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি। র‍্যাব আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবতাবিরোধী বেআইনি সংগঠন হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘র‍্যাবের যেসব কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাদের আবার পুলিশে নিয়ে এসেছে সরকার। তারা র‍্যাবের ইমেজ ক্ষুণ্ন করে এখন পুলিশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

‘বর্তমানে পুলিশকেও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়। মানুষ কোনো সমস্যায় পড়লে পুলিশের কাছে যায়। পুলিশের ন্যূনতম মর্যাদা যেটুকু আছে, সেটুকু ক্ষুণ্ন করার জন্য বিতর্কিতদের আনা হয়েছে।’

রিজভী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে জাতি গঠনে একের পর এক কর্মসূচি দিয়েছিলেন। গ্রামের মানুষ যাতে চিকিৎসা পায়, সে জন্য পল্লি চিকিৎসকের ব্যবস্থা করেছিলেন।’

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের ৯০ শতাংশই শেখ হাসিনার বাড়াবাড়ি পছন্দ করছে না: গয়েশ্বর
আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা বিকৃত, প্রধানমন্ত্রীর শেখানো বক্তব্য: রিজভী
‘খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই’
খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধে খালেদা ছিলেন ‘পাকিস্তান সেনানিবাসের আতিথেয়তায়’

শেয়ার করুন

স্ত্রীসহ করোনামুক্ত মির্জা ফখরুল

স্ত্রীসহ করোনামুক্ত মির্জা ফখরুল

স্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

তাদের কন্যা মির্জা সাফারুহ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আজকে দুপুরে রিপোর্ট এসেছে। রিপোর্ট নেগেটিভ।’

আক্রান্ত হওয়ার ৯ দিনের মধ্যে করোনাভাইরাসমুক্ত হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম।

তাদের কন্যা মির্জা সাফারুহ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আজকে দুপুরে রিপোর্ট এসেছে। রিপোর্ট নেগেটিভ।’

মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রীর করোনামুক্তির তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খানও।

তিনি বলেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তার স্ত্রী রাহাত আরা এবং তার বাসার অন্যরা করোনা পজেটিভ হয়েছিলেন। সবশেষ পরীক্ষার রিপোর্টে সবাই নেগেটিভ এসেছেন।

গত ১১ জানুয়ারি মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রীর করোনা আক্রান্তের খবর আসে। তখন থেকেই রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় আইসোলেশনে ছিলেন তারা।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগে সবশেষ গত ৮ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের ব্যানারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর এক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফখরুল।

বিএনপির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছরের ১০ এপ্রিল দলচির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। গুলশানের বাসায় ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রেখে চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা দেন। করোনা পরবর্তী জটিলতায় তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে।

এ ছাড়া, গত বছর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং দলের স্থায়ী কমিটি থেকে অবসর নেয়া সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মাহবুবুর রহমান সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে উঠলেও করোনায় মারা যান দলের ভাইস চেয়ারম্য্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, কেন্দ্রীয় নেতা খুররম খান চৌধুরী, খন্দকার আহাদ আহমেদ, আবদুল আউয়াল খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানসহ বেশকিছু নেতা।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের ৯০ শতাংশই শেখ হাসিনার বাড়াবাড়ি পছন্দ করছে না: গয়েশ্বর
আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা বিকৃত, প্রধানমন্ত্রীর শেখানো বক্তব্য: রিজভী
‘খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই’
খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধে খালেদা ছিলেন ‘পাকিস্তান সেনানিবাসের আতিথেয়তায়’

শেয়ার করুন

দেশ ৯৯ বনাম ১-এ বিভক্ত: সেলিম

দেশ ৯৯ বনাম ১-এ বিভক্ত: সেলিম

রাজধানীর পল্টন ময়দানে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারিতে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ২১তম বাষির্কীর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। ছবি: নিউজবাংলা

দেশ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সিপিবি সভাপতি সেলিম বলেন, ‘গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাটতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা আজ চরম আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে বামপন্থার উত্থান ঘটাতে হবে।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, বর্তমানে দেশ ‘৯৯ বনাম ১’-এ বিভক্ত। তার মতে, দেশের ৯৯ ভাগ মানুষই তাদের দাবিদাওয়া প্রকাশ করতে পারছে না।

রাজধানীর পল্টন ময়দানে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারিতে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ২১তম বার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন সেলিম।

পল্টন মুক্তি ভবনের সামনে নিহতদের স্মরণে অস্থায়ী বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সিপিবির সভাপতি বলেন, "বর্তমানে দেশ ‘৯৯ বনাম ১’ এইভাবে বিভক্ত। এই ৯৯ ভাগ মানুষ যাতে তারা তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে না পারে, তার জন্য নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’

দেশ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সেলিম বলেন, ‘গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাটতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা আজ চরম আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে বামপন্থার উত্থান ঘটাতে হবে।’

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির মহাসমাবেশে বোমা হামলা হয়। এই হামলায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার সিপিবি নেতা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরা থানার লতিফ বাওয়ানি জুট মিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম ও মাদারীপুরের মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এই ঘটনায় খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস রায় আহত হয়ে ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। আহত হন শতাধিক নেতা-কর্মী।

দেশ ৯৯ বনাম ১-এ বিভক্ত: সেলিম

২১ বছর আগের হামলার দিনটির কথা স্মরণে তিনি বলেন, ‘সেদিন কমিউনিস্টদের স্তব্ধ করার জন্য বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। যাতে কমিউনিস্ট পার্টি মানুষকে নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। হামলার পর জনগণের আরও বেশি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সিপিবি এগিয়ে যাচ্ছে। অশুভ শক্তির হীন উদ্দেশ্য সফল হয়নি। এখনও নানা ষড়যন্ত্র চলছে। পল্টন বোমা হামলার মূল কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।’

সমাবেশে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘দ্বি-দলীয় ধারার বিপরীতে বাম বিকল্প শক্তির উত্থানের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘২০ জানুয়ারির পল্টন ময়দানের বোমা হামলার পর আলামত সংগ্রহ না করে সিপিবির নেতাকর্মীদের তৎকালীন আওয়ামী সরকারের পুলিশ বাহিনী লাঠিপেটা করে ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমনকি পুলিশ কমিশনার বলেছিলেন, এই হামলা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হয়েছে। আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরও বিএনপি সরকার একই কাজ করেছিল এবং একই কথা বলেছিল।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সিপিবি ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি শামসুজ্জামান হীরা, সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, ঢাকা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সদস্য ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ-মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সদস্য জহিরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
আ.লীগের ৯০ শতাংশই শেখ হাসিনার বাড়াবাড়ি পছন্দ করছে না: গয়েশ্বর
আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা বিকৃত, প্রধানমন্ত্রীর শেখানো বক্তব্য: রিজভী
‘খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর আবেদন পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই’
খালেদাকে বিদেশ পাঠানোর সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধে খালেদা ছিলেন ‘পাকিস্তান সেনানিবাসের আতিথেয়তায়’

শেয়ার করুন