সংলাপে যাবে না এলডিপি, দাবি জাতীয় সরকারের

player
সংলাপে যাবে না এলডিপি, দাবি জাতীয় সরকারের

দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ। ছবি: নিউজবাংলা

অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ মানে হচ্ছে চা চক্র। আগেও আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। এই সংলাপে যাওয়া অর্থহীন।’

জাতীয় সরকার সব সমস্যার সমাধান মন্তব্য করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির ডাকা সংলাপে যাবে না বলে জানিয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।

দলটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ড. অলি আহমদ বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

কর্নেল অলি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ মানে হচ্ছে চা চক্র। আগেও আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। এই সংলাপে যাওয়া অর্থহীন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ভালো মানুষ। তার কোনো ক্ষমতা নাই। তিনি সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ; ডেপুটি স্পিকার থেকে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন।’

সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘চা খেতে এবং জনগণের টাকা নষ্ট করতে বঙ্গভবনে যাব না।’

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য নিজেকেও দায়ী করে কর্নেল অলি বলেন, ‘আজকে এই সংকটের পেছেনে আমিও দায়ী। এ জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাই।

‘১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা বাড়াতে যে প্রক্রিয়া হয়েছে, তাতে আমারও অনেক ভূমিকা ছিল। তখন যদি আমি বুঝতাম তাহলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনতাম।’

অলি আরও বলেন, ‘সবগুলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে...সকল প্রতিষ্ঠানে ভারসাম্য আনতে কাজ করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদসহ অনেকে।

নির্বাচন কমিশন গঠনে সংলাপে অংশ নিতে এরই মধ্যে বঙ্গবভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা, তবে সংলাপকে অর্থহীন আখ্যা দিয়ে তা বর্জন করেছে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল।

আরও পড়ুন:
‘অর্থহীন সংলাপে’ অংশ নেবে না বিএনপি
রাষ্ট্রপতির সংলাপ: সার্চ কমিটির জন্য নাম দেয়নি ন্যাপ
‘সং’রা বসে আলোচনা করে, নাম দিয়েছে সংলাপ: ফখরুল
সংলাপ: ইসি গঠনে আইনের দাবি জানাবে জাপা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিএনপি নয়, দেড় যুগ আগে লবিস্ট নিয়োগে আ.লীগ: বিএনপি

বিএনপি নয়, দেড় যুগ আগে লবিস্ট নিয়োগে আ.লীগ: বিএনপি

বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম লবিস্ট ‘অ্যালক্যাডে অ্যান্ড ফো’কে নিয়োগে দেয়া হয় ২০০৪ সালের ২৯ নভেম্বর, যা কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি ২০০৫ থেকে। ২০০৫ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত এই ফার্মকে মাসে ৩০ হাজার ডলার হিসেবে সাড়ে ১২ লাখ ডলার দেয়া হয়েছে।

বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ভাড়া করে সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে- এমন অভিযোগ আনার পর দলটি পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেছে, তাদের শাসনামলে আওয়ামী লীগ লবিস্ট ভাড়া করেছে। এর পেছনে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ও করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই দাবি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ভাড়া করা নিয়ে সম্প্রতি অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করছে সরকার ও বিএনপি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, বিএনপির লবিস্ট ভাড়া করার তথ্য প্রমাণ সরকারের কাছে আছে। তিনি চুক্তির নথিপত্রও দেখান। এই লবিস্ট নিয়োগে ৩৭ লাখ ডলার খরচ করা হয়েছে বলেও পরে জানান তিনি।

এই অর্থ পাঠাতে কোনো অনুমতি নেয়া হয়েছে কি না, বিষয়টি জানতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠিও দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই অবস্থায় বিএনপি পাল্টা অভিযোগ আনল।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম লবিস্ট ‘অ্যালক্যাডে অ্যান্ড ফো’কে নিয়োগে দেয়া হয় ২০০৪ সালের ২৯ নভেম্বর, যা কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি ২০০৫ থেকে।”

২০০৫ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত এই ফার্মকে মাসে ৩০ হাজার ডলার হিসেবে সাড়ে ১২ লাখ ডলার দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন বিএনপি নেতা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির লবিস্ট ফার্ম ‘অ্যালক্যাডে অ্যান্ড ফো’ এবং ‘ফ্রিডল্যান্ড’ এর সঙ্গে ‘চুক্তির তথ্য প্রমাণ’ও তুলে ধরেন খন্দকার মোশাররফ।

২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ক্ষমতায় ছিল বিএনপি সরকার। সে সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগের।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সে সময়ের রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিলেও তাতে বিএনপির নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পষ্ট।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পর ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিলে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে দূরে চলে যায়। এরপর তারা আর অবস্থান ফিরে পায়নি।

সরকারও এখন লবিস্ট নিয়োগ করেছে বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর দুর্ভাগ্য যে, তাদের ওপর নির্মম অত্যাচার, গুম, খুন, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে এই জুলুমবাজ অবৈধ সরকার যে অপরাধ করেছে, তা ধামাচাপা দেয়ার লক্ষ্যে লবিস্টদের নিয়োগের জন্য সেই নিপীড়িত দেশবাসীরই ট্যাক্সের টাকা ব্যয় করছে।

‘জনগণের এই অর্থ ব্যয় করে সরকার ও সরকারি দল লবিস্ট নিয়োগের নামে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে এবং তার উৎস কী? তার স্বচ্ছ তদন্ত করে তার রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।’

মোশাররফের দাবি, বহু বছর ধরে নিয়মিত চুক্তিতে কাজ করা লবিস্ট প্রতিষ্ঠান বিজিআর ছাড়াও গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন ও সফর বিনিময়ের লক্ষ্যে এক মাসের জন্য ৪০ হাজার ডলার ফি’তে নিয়োগ করা হয়েছিল আরেকটি লবিস্ট প্রতিষ্ঠান ফ্রিডল্যান্ডারকে।

বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করেনি

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের অভিযোগও অস্বীকার করেন মোশাররফ। বলেন, ‘বিএনপি কোনো লবিস্ট নিয়োগের সিদ্ধান্তই কখনও নেয়নি, লবিস্ট নিয়োগ করার প্রয়োজনও বোধ করেনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যে অভিযোগ করেছেন, তা বানোয়াট।’

তিনি বলেন, ‘লবিস্টরা যেসব কথা বলবেন, বিএনপির নেতারা নিজেরাই তা বলে থাকেন এবং তাও গোপনে না-প্রকাশ্যে।’

মোশাররফ বলেন, ‘তারা (বিএনপি) আরও বলেছে যে, এখান থেকে কীভাবে আমরা অর্থ প্রেরণ করেছি। আমরা চাই যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইনকোয়ারি করুক। তাদেরটাও ইনকোয়ারি করুক।’

দূতাবাস থাকা সত্ত্বেও আলাদা করে লবিস্ট নিয়োগ অনৈতিক

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যেকটা দেশে দূতাবাস আছে, জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধির অফিস আছে। এগুলো কীসের জন্য? বাংলাদেশের পক্ষে, বাংলাদেশের ঘটনাবলীর পক্ষে ওইসব দেশকে অবহিত করা এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা দেয়া।

‘সেখানে সরকার বা সরকারি দলের কেন লবিস্ট নিয়োগ করতে হবে? সেটাই প্রশ্ন। দূতাবাস থাকা সত্ত্বেও এভাবে জনগণের অর্থ খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ অনৈতিক।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘অর্থহীন সংলাপে’ অংশ নেবে না বিএনপি
রাষ্ট্রপতির সংলাপ: সার্চ কমিটির জন্য নাম দেয়নি ন্যাপ
‘সং’রা বসে আলোচনা করে, নাম দিয়েছে সংলাপ: ফখরুল
সংলাপ: ইসি গঠনে আইনের দাবি জানাবে জাপা

শেয়ার করুন

হাছান মাহমুদ খুব পাকা পাকা কথা বলেন: মির্জা আব্বাস

হাছান মাহমুদ খুব পাকা পাকা কথা বলেন: মির্জা আব্বাস

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকীকে দলের উদ্যোগে দিনব্যাপি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী । ছবি: নিউজবাংলা

‘আজকে পত্রিকায় দেখলাম, হাছান মাহমুদ খুব পাকা পাকা কথা বলেন। তিনি বলেছেন বিএনপি বোঝে নাই আমরা কী করতে যাচ্ছি। বিএনপি খুব ভালো করে বোঝে আপনারা কী করতে যাচ্ছেন। আপনারা বাকশালকে পুনঃপ্রবর্তন করতে যাচ্ছেন। এটা বিএনপি খুব ভালো জানে।

সরকার কী করতে যাচ্ছে, এটা বিএনপি বোঝে না- এই ধরনের বক্তব্য দেয়ায় তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে কটাক্ষ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তার দৃষ্টিতে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ‘খুব পাকা পাকা’ কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করতে সরকারের উদ্যোগেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি। দাবি করেছেন, এই সরকারের আইন করার কোনো অধিকার নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকীকে দলের উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশন আইন পাস করতে যাচ্ছে মন্তব্য করেন আব্বাস। বলেছেন, ‘অনির্বাচিত নিশিরাতের সরকার কোনো আইন পাস করতে পারে না।’

সংবিধানে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আইন করার কথা বলা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকার এই উদ্যোগ নেয়নি। রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো সংলাপের যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তাতে এই বিষয়টি সামনে এসেছে। আর সরকারও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনারা কীসের আইন পাস করবেন? আপনারা তো অনির্বাচিত নিশিরাতের সরকার। আপনারা কোনো আইন পাস করতে পারেন না। আপনারা যে আইন পাস করবেন সেটি বাংলার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সুতরাং নির্বাচিত সরকার আসবে, সেই নির্বাচিত সরকার যে আইন পাস করবে, আমরা সেটাকে মেনে নেব।’

তথ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আজকে পত্রিকায় দেখলাম, হাছান মাহমুদ খুব পাকা পাকা কথা বলেন। তিনি বলেছেন বিএনপি বোঝে নাই আমরা কী করতে যাচ্ছি। বিএনপি খুব ভালো করে বোঝে আপনারা কী করতে যাচ্ছেন। আপনারা বাকশালকে পুনঃপ্রবর্তন করতে যাচ্ছেন। এটা বিএনপি খুব ভালো জানে।’

জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একজন ক্ষণজন্মা পুরুষকে হারিয়েছি। বিদেশি প্রভুদের নির্দেশে তাকে (জিয়াউর রহমানকে) হত্যা করা হয়েছে।

‘যারা ভেবেছিল জিয়াউর রহমানকে শেষ করে দিলে বিএনপি শেষ হয়ে যাবে, তাদের মুখে ছাই দিয়ে বিএনপি টিকে আছে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘অর্থহীন সংলাপে’ অংশ নেবে না বিএনপি
রাষ্ট্রপতির সংলাপ: সার্চ কমিটির জন্য নাম দেয়নি ন্যাপ
‘সং’রা বসে আলোচনা করে, নাম দিয়েছে সংলাপ: ফখরুল
সংলাপ: ইসি গঠনে আইনের দাবি জানাবে জাপা

শেয়ার করুন

র‍্যাবের পর এবার পুলিশকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী

র‍্যাবের পর এবার পুলিশকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী

নয়াপল্টনে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

রিজভী বলেন, ‘র‍্যাবের যেসব কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাদের আবার পুলিশে নিয়ে এসেছে সরকার। তারা র‌্যাবের ইমেজকে ক্ষুণ্ন করে এখন পুলিশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পুলিশের ন্যূনতম মর্যাদা যেটুকু আছে, সেটুকু ক্ষুণ্ন করার জন্য বিতর্কিতদের আনা হয়েছে।’

সরকার র‍্যাবের পর এবার পুলিশ বিভাগকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ‘সরকার র‍্যাবের ভাবমূর্তি শেষ করে দিয়েছে। বিএনপির আমলে বেগম খালেদা জিয়া র‍্যাব গঠন করেছিলেন দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার জন্য। এই র‍্যাবকে কখনই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি। র‍্যাব আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবতাবিরোধী বেআইনি সংগঠন হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘র‍্যাবের যেসব কর্মকর্তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাদের আবার পুলিশে নিয়ে এসেছে সরকার। তারা র‍্যাবের ইমেজ ক্ষুণ্ন করে এখন পুলিশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

‘বর্তমানে পুলিশকেও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়। মানুষ কোনো সমস্যায় পড়লে পুলিশের কাছে যায়। পুলিশের ন্যূনতম মর্যাদা যেটুকু আছে, সেটুকু ক্ষুণ্ন করার জন্য বিতর্কিতদের আনা হয়েছে।’

রিজভী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে জাতি গঠনে একের পর এক কর্মসূচি দিয়েছিলেন। গ্রামের মানুষ যাতে চিকিৎসা পায়, সে জন্য পল্লি চিকিৎসকের ব্যবস্থা করেছিলেন।’

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘অর্থহীন সংলাপে’ অংশ নেবে না বিএনপি
রাষ্ট্রপতির সংলাপ: সার্চ কমিটির জন্য নাম দেয়নি ন্যাপ
‘সং’রা বসে আলোচনা করে, নাম দিয়েছে সংলাপ: ফখরুল
সংলাপ: ইসি গঠনে আইনের দাবি জানাবে জাপা

শেয়ার করুন

স্ত্রীসহ করোনামুক্ত মির্জা ফখরুল

স্ত্রীসহ করোনামুক্ত মির্জা ফখরুল

স্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

তাদের কন্যা মির্জা সাফারুহ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আজকে দুপুরে রিপোর্ট এসেছে। রিপোর্ট নেগেটিভ।’

আক্রান্ত হওয়ার ৯ দিনের মধ্যে করোনাভাইরাসমুক্ত হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম।

তাদের কন্যা মির্জা সাফারুহ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আজকে দুপুরে রিপোর্ট এসেছে। রিপোর্ট নেগেটিভ।’

মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রীর করোনামুক্তির তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খানও।

তিনি বলেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তার স্ত্রী রাহাত আরা এবং তার বাসার অন্যরা করোনা পজেটিভ হয়েছিলেন। সবশেষ পরীক্ষার রিপোর্টে সবাই নেগেটিভ এসেছেন।

গত ১১ জানুয়ারি মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রীর করোনা আক্রান্তের খবর আসে। তখন থেকেই রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় আইসোলেশনে ছিলেন তারা।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগে সবশেষ গত ৮ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের ব্যানারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর এক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফখরুল।

বিএনপির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছরের ১০ এপ্রিল দলচির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। গুলশানের বাসায় ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রেখে চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা দেন। করোনা পরবর্তী জটিলতায় তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে।

এ ছাড়া, গত বছর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং দলের স্থায়ী কমিটি থেকে অবসর নেয়া সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মাহবুবুর রহমান সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে উঠলেও করোনায় মারা যান দলের ভাইস চেয়ারম্য্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, কেন্দ্রীয় নেতা খুররম খান চৌধুরী, খন্দকার আহাদ আহমেদ, আবদুল আউয়াল খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানসহ বেশকিছু নেতা।

আরও পড়ুন:
‘অর্থহীন সংলাপে’ অংশ নেবে না বিএনপি
রাষ্ট্রপতির সংলাপ: সার্চ কমিটির জন্য নাম দেয়নি ন্যাপ
‘সং’রা বসে আলোচনা করে, নাম দিয়েছে সংলাপ: ফখরুল
সংলাপ: ইসি গঠনে আইনের দাবি জানাবে জাপা

শেয়ার করুন

দেশ ৯৯ বনাম ১-এ বিভক্ত: সেলিম

দেশ ৯৯ বনাম ১-এ বিভক্ত: সেলিম

রাজধানীর পল্টন ময়দানে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারিতে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ২১তম বাষির্কীর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। ছবি: নিউজবাংলা

দেশ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সিপিবি সভাপতি সেলিম বলেন, ‘গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাটতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা আজ চরম আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে বামপন্থার উত্থান ঘটাতে হবে।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, বর্তমানে দেশ ‘৯৯ বনাম ১’-এ বিভক্ত। তার মতে, দেশের ৯৯ ভাগ মানুষই তাদের দাবিদাওয়া প্রকাশ করতে পারছে না।

রাজধানীর পল্টন ময়দানে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারিতে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার ২১তম বার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন সেলিম।

পল্টন মুক্তি ভবনের সামনে নিহতদের স্মরণে অস্থায়ী বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সিপিবির সভাপতি বলেন, "বর্তমানে দেশ ‘৯৯ বনাম ১’ এইভাবে বিভক্ত। এই ৯৯ ভাগ মানুষ যাতে তারা তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে না পারে, তার জন্য নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’

দেশ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সেলিম বলেন, ‘গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাটতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা আজ চরম আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে বামপন্থার উত্থান ঘটাতে হবে।’

২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির মহাসমাবেশে বোমা হামলা হয়। এই হামলায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার সিপিবি নেতা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরা থানার লতিফ বাওয়ানি জুট মিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম ও মাদারীপুরের মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এই ঘটনায় খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস রায় আহত হয়ে ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। আহত হন শতাধিক নেতা-কর্মী।

দেশ ৯৯ বনাম ১-এ বিভক্ত: সেলিম

২১ বছর আগের হামলার দিনটির কথা স্মরণে তিনি বলেন, ‘সেদিন কমিউনিস্টদের স্তব্ধ করার জন্য বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। যাতে কমিউনিস্ট পার্টি মানুষকে নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। হামলার পর জনগণের আরও বেশি অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সিপিবি এগিয়ে যাচ্ছে। অশুভ শক্তির হীন উদ্দেশ্য সফল হয়নি। এখনও নানা ষড়যন্ত্র চলছে। পল্টন বোমা হামলার মূল কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।’

সমাবেশে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘দ্বি-দলীয় ধারার বিপরীতে বাম বিকল্প শক্তির উত্থানের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘২০ জানুয়ারির পল্টন ময়দানের বোমা হামলার পর আলামত সংগ্রহ না করে সিপিবির নেতাকর্মীদের তৎকালীন আওয়ামী সরকারের পুলিশ বাহিনী লাঠিপেটা করে ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমনকি পুলিশ কমিশনার বলেছিলেন, এই হামলা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হয়েছে। আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরও বিএনপি সরকার একই কাজ করেছিল এবং একই কথা বলেছিল।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সিপিবি ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি শামসুজ্জামান হীরা, সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, ঢাকা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সদস্য ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ-মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সদস্য জহিরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
‘অর্থহীন সংলাপে’ অংশ নেবে না বিএনপি
রাষ্ট্রপতির সংলাপ: সার্চ কমিটির জন্য নাম দেয়নি ন্যাপ
‘সং’রা বসে আলোচনা করে, নাম দিয়েছে সংলাপ: ফখরুল
সংলাপ: ইসি গঠনে আইনের দাবি জানাবে জাপা

শেয়ার করুন

বড়পুকুরিয়া মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি পেছাল

বড়পুকুরিয়া মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে  চার্জ শুনানি পেছাল

অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন আদালতে হাজির হতে না পারায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার বিচার কার্যক্রম থেমে আছে। ফাইল ছবি

কেরানীগঞ্জে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক এ এস এম রুহুল ইমরানের আদালতে বৃহস্পতিবার মামলাটির চার্জ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে বরাবরের মতো প্রধান আসামি খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানির তারিখ আবার পিছিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার অসুস্থতাসহ নানা কারণে এই মামলায় হাজিরা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় চার্জ শুনানি সম্ভব হচ্ছে না বলে নিউজবাংলাকে জানান আসামি পক্ষের আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া।

কেরানীগঞ্জে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক এ এস এম রুহুল ইমরানের আদালতে বৃহস্পতিবার মামলাটির চার্জ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে বরাবরের মতো প্রধান আসামি খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি।

প্রধান আসামি খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় শুনানি পেছানোর আবেদন করেন মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির জন্য আগামী ৬ মার্চ নতুন তারিখ নির্ধারণ করে দেয়।

২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম ও ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সে সময়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল আলম শাহবাগ থানায় এই মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৩ জনকে। বিভিন্ন সময় ৬ আসামি মারা যান। বর্তমানে ৭ আসামি জীবিত থাকলেও তারা অনেকেই বার্ধক্যজনিত কারনে অসুস্থ আদালতে হাজির হতে পারেন না।

এ ছাড়া খালেদা জিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে মামলাটিতে তারিখের পর তারিখ পড়লেও বিচারের কোনো অগ্রগতি নেই।

আরও পড়ুন:
‘অর্থহীন সংলাপে’ অংশ নেবে না বিএনপি
রাষ্ট্রপতির সংলাপ: সার্চ কমিটির জন্য নাম দেয়নি ন্যাপ
‘সং’রা বসে আলোচনা করে, নাম দিয়েছে সংলাপ: ফখরুল
সংলাপ: ইসি গঠনে আইনের দাবি জানাবে জাপা

শেয়ার করুন

ইসি আইন নিয়ে অপপ্রচারে বিএনপি: কাদের

ইসি আইন নিয়ে অপপ্রচারে বিএনপি: কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, ‘ইসি আইন নিয়ে বিএনপি নেতাদের স্পষ্ট ধারণা না থাকার জন্যই তারা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছেন। কারণ তাদের জন্মই সাংবিধানিক ও প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে চোরাগুপ্তা পথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে।’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তার দাবি, আইনটি নিয়ে বিএনপি নেতাদের স্পষ্ট ধারণা না থাকার জন্যই তারা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছেন।

বুধবার দলের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

‘দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ইসি আইন নিয়ে যে খসড়া অনুমোদিত হয়েছে, সে সম্পর্কে গঠনমূলক আলোচনা ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নেতারাসহ একটি চিহ্নিত মহল ইসি আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অপপ্রচার করছে। দেশের বিশিষ্টজন ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানের নির্দেশনা মেনে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সেখানে বিএনপি ও তাদের দোসর দেশবিরোধী অপশক্তি দূরভিসন্ধিমূলক বক্তব্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে।’

কাদের বলেন, ‘সংসদীয় রীতি অনুযায়ী খসড়া আইনটি সংসদে উত্থাপনের পর আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। সেখান থেকে সুপারিশ আকারে সংসদের বৈঠকে উঠবে।

‘সংসদীয় বিধান অনুযায়ী সংসদে আলোচনার মধ্য দিয়ে আইনটি চূড়ান্ত হবে। জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল ও বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যরা তাদের মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। অথচ গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার না মেনে আগে থেকেই বিএনপি নেতারা এই আইন নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করতে শুরু করেছেন।’

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান সব সময়ই গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াবিরোধী বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা দখল ও গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধারই হলো বিএনপির রাজনৈতিক গতিপথ। তাই বিএনপি নেতারা ইসি-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে স্বাগত না জানিয়ে এটি নিয়ে অপরাজনীতি শুরু করেছেন।’

ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, ‘আইনটি নিয়ে বিএনপি নেতাদের স্পষ্ট ধারণা না থাকার জন্যই তারা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ছেন। কারণ তাদের জন্মই সাংবিধানিক ও প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে চোরাগুপ্তা পথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এই আইন প্রণয়ন নিয়ে কোনো ধরনের লুকোচুরি করা হয়নি। রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতি ও প্রক্রিয়াকে ভয় পায় বলেই বিএনপি সংলাপে অংশ নেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরে ইসি আইনের দাবি জানিয়ে আসছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ২০১২ ও ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সার্চ কমিটির মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। ওই দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নেয়া সব রাজনৈতিক দল ইসি আইন প্রণয়নের দাবি জানায়। বিএনপিও তখন একই দাবি জানিয়েছিল।

‘নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সদ্য সমাপ্ত হওয়া সংলাপে আইন প্রণয়নের দাবি উঠেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও সংলাপে অংশ নিয়ে এই আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
‘অর্থহীন সংলাপে’ অংশ নেবে না বিএনপি
রাষ্ট্রপতির সংলাপ: সার্চ কমিটির জন্য নাম দেয়নি ন্যাপ
‘সং’রা বসে আলোচনা করে, নাম দিয়েছে সংলাপ: ফখরুল
সংলাপ: ইসি গঠনে আইনের দাবি জানাবে জাপা

শেয়ার করুন