ইউজিসিকে অভ্যন্তরীণ র‍্যাঙ্কিং চালুর পরামর্শ

player
ইউজিসিকে অভ্যন্তরীণ র‍্যাঙ্কিং চালুর পরামর্শ

রাজধানীর আগারগাঁয় ইউজিসি অডিটোরিয়ামে মঙ্গলবার ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইইইই প্রেসিডেন্ট ড. সাইফুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

আইইইই প্রেসিডেন্ট ড. সাইফুর রহমান ইউজিসিকে কিউএস র‍্যাঙ্কিং, টাইমস র‍্যাঙ্কিং, সাংহায় র‍্যাঙ্কিংসহ বিভিন্ন র‍্যাঙ্কিংয়ের আদলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা প্রবর্তনের পরামর্শ দেন।

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভ্যন্তরীণ র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা প্রবর্তন বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) পরামর্শ দিয়েছেন ইনস্টিটিউট অফ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইইইই) প্রেসিডেন্ট ড. সাইফুর রহমান।

রাজধানীর আগারগাঁয় ইউজিসি অডিটরিয়ামে মঙ্গলবার ইউজিসির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ড. রহমান এই পরামর্শ দেন।

তিনি ইউজিসিকে কিউএস র‍্যাঙ্কিং, টাইমস র‍্যাঙ্কিং, সাংহায় র‍্যাঙ্কিংসহ বিভিন্ন র‍্যাঙ্কিংয়ের আদলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য র‍্যাঙ্কিংব্যবস্থা প্রবর্তনের পরামর্শ দেন।

ড. রহমান র‍্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থানে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আউটকাম বেইজড ইনভেস্টমেন্ট সিস্টেম চালুর কথা বলেন।

আইইইই হচ্ছে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার, আইটি প্রফেশনাল, কম্পিউটার বিজ্ঞানী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সোসাইটিসহ ৪০টি প্রযুক্তিগত পেশাজীবী সংগঠনের ফেডারেশন।

সভায় ড. রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি ঠেকাতে গবেষণা প্রতিবেদন জমা এবং বিভিন্ন স্থানে এটি উপস্থাপনার সময় এন্টি প্লেজারিজম সফটওয়্যার দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।’

তিনি শিক্ষকদের গুণগত গবেষণা পরিচালনা এবং গবেষণায় নৈতিকতা বজায় রাখার বিষয়ে সজাগ থাকার অনুরোধ জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. কাজী শহীদুল্লাহ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ র‍্যাঙ্কিং চালু খুবই ভালো একটি পরামর্শ। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য অভ্যন্তরীণ র‍্যাঙ্কিং হতেই পারে। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি রোধ ও সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশনের জন্য ইউজিসি কার্যকর উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।

‘ইউজিসি গুণগত গবেষণা ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে আউটকাম বেইজড এডুকেশন কারিকুলামের দিকে এখন বেশি নজর দিচ্ছে।’

সভায় কমিশনের সদস্য ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, ইউজিসি সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম পরিবর্তন জরুরি’
বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব করতে চায় ইউজিসি
কারিকুলামে পরিবর্তন চায় ইউজিসি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন টিএসসিতে, থাকতে পারছেন না কর্মীরা

ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন টিএসসিতে, থাকতে পারছেন না কর্মীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে হবে ছাত্রলীগের সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালন করব। করোনা বিধিনিষেধ মাথায় রেখে শুধু পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে প্রোগ্রাম আয়োজন করব। কোনো কর্মী উপস্থিত থাকবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের হল সম্মেলন হবে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে। ৩০ জানুয়ারি বেলা ১১টায় শুরু হবে সম্মেলন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে বিধিনিষেধের কারণে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর হতে যাওয়া এই সম্মেলন হবে সীমিত পরিসরে। শুধু পদপ্রত্যাশীদের নিয়েই হবে এ আয়োজন। কোনো কর্মী থাকার সুযোগ পাচ্ছেন না।

বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এসব তথ্য জানান।

হল সম্মেলন উপলক্ষে ছাপানো একটি পোস্টার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার দিয়েছেন সাদ্দাম হোসেন। তা থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

বিশেষ অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন থাকবেন প্রধান বক্তা। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাঁধন।

সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতারা সশরীরে উপস্থিত থাকবেন কি না জানতে চাইলে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সেটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।’

সাদ্দাম বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালন করব। করোনা বিধিনিষেধ মাথায় রেখে শুধু পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে প্রোগ্রাম আয়োজন করব। কোনো কর্মী উপস্থিত থাকবে না।’

তবে এমন উদ্যোগেও মানা সম্ভব হবে না সরকারের বিধিনিষেধ। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেকোনো প্রোগ্রামেই ১০০ জনের বেশি উপস্থিত থাকতে পারবে না। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ১৮টি হলে ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীর সংখ্যাই তিন শতাধিক।

আরও পড়ুন:
‘উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম পরিবর্তন জরুরি’
বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব করতে চায় ইউজিসি
কারিকুলামে পরিবর্তন চায় ইউজিসি

শেয়ার করুন

উপাচার্য প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত: শিক্ষামন্ত্রী

উপাচার্য প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত: শিক্ষামন্ত্রী

বুধবার রাজধানীতে নিজ বাসভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ফাইল ছবি

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শাবিপ্রবির পুরো বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকটি দিন তাদের সঙ্গে নানাভাবে আমরা সম্পৃক্ত থেকেছি। নানাভাবে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। যারা অনশন ও আন্দোলন করছিল সবাই মিলে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি- আমাদের যে শিক্ষার্থীরা এই অবরোধ কর্মসূচিতে রয়েছে তারা তা তুলে নেবে এবং আন্দোলনের এখানেই ইতি টানবে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা তাদের চলমান অবরোধ তুলে নেবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। একইসঙ্গে বলেছেন, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

শাবিপ্রবি ইস্যু নিয়ে বুধবার রাজধানীর হেয়ার রোডে নিজ বাসভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শাবিপ্রবির পুরো বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকটি দিন তাদের সঙ্গে নানাভাবে আমরা সম্পৃক্ত থেকেছি। নানাভাবে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। যারা অনশন ও আন্দোলন করছিল সবাই মিলে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি- আমাদের যে শিক্ষার্থীরা এই অবরোধ কর্মসূচিতে রয়েছে তারা তা তুলে নেবে এবং আন্দোলনের এখানেই ইতি টানবে।

‘এই অর্থে শিক্ষার্থীরা এখন আর আন্দোলন করবে না। তবে তারা যে অর্থে আন্দোলন করেছে সেই কারণগুলো আমরা অ্যাড্রেস করব এবং সমাধান করব। পুরো বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকার- সবাই এক পক্ষ। এখানে দুই পক্ষ বলে কিছু নেই। আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েছে। তারা একটু গুছিয়ে উঠুক। যারা আন্দোলনের কারণে অসুস্থ হয়েছে তারা সুস্থ হয়ে উঠুক। কিছুদিন পর আমরা সেখানে যেতে পারি। শিক্ষার্থীরা চাইলে আমরা যে কোনো সময় আলোচনায় বসতে পারি।’

ব্রিফিংয়ে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যৌক্তিক উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু এখানে পুলিশি অ্যাকশন হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। একটি দুঃখজনক। আমরা সব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করব।

‘শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে। আমরা তাদের আস্থার প্রতিদান দেব। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আন্দোলনে ভাঙচুরসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এখানে তেমন কিছু ঘটেনি। তারা শান্তিপূর্ণভাবে গত সাত-আটদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে গেছে। এ জন্য আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই।’

দীপু মনি বলেন, ‘আন্দোলনের কারণ ও সমস্যা- সব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। এতে যেই অপরাধী হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাধ্যমে কিছু সমস্যা আমাদের সামনে উঠে এসেছে। আমরা তা খুঁজে বের করে সমাধন করার সুযোগ পেলাম। সবাই মিলে সেসব সমস্যার সমাধান করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যে সমস্যাগুলো নিয়ে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে, সেসব সমস্যা কেবল শাবিপ্রবির নয়। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করাটা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন সুষ্ঠুভাবে চলে, সেখানে যেন শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে, শিক্ষার্থীরা যেন সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করতে পারে তা নিশ্চিত করাটা আমাদের জন্য জরুরি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি শুনেছি শাবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর নামে মামলা হয়েছে। তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এখনো যদি কেউ আটক থাকে সেটি আমরা খোঁজখবর নিয়ে সমাধান করব। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।’

উপাচার্যকে সরানো হবে কী না- এমন প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একজন উপাচার্যকে সরালে আরেকজন উপাচার্য আসেন। রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগ পান। তাই তাকে সরাতে হলে একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। তাকে রাখা হবে নাকি সরানো হবে সেটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

‘সবার প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানো হয়েছে। আমরা আশা করি তারা তাদের অবরোধ তুলে নিয়ে ক্লাসে ফিরে যাবে। একইসঙ্গে বিদ্যমান সব সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান করা হবে।’

আরও পড়ুন:
‘উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম পরিবর্তন জরুরি’
বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব করতে চায় ইউজিসি
কারিকুলামে পরিবর্তন চায় ইউজিসি

শেয়ার করুন

জামিন পেলেন শাবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থী

জামিন পেলেন শাবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থী

শাবির গ্রেপ্তার ৫ সাবেক শিক্ষার্থীকে জামিন আবেদনের জন্য নেয়া হচ্ছে আদালতে। ছবি: নিউজবাংলা

অসৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অর্থ জোগান এবং আন্দোলনকারীদের উসকানি দেয়ার অভিযোগে ওই পাঁচজনের নামে মঙ্গলবার মামলা হয়।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে অর্থের যোগান দেয়ার অভিযোগ গ্রেপ্তার সাবেক ৫ শিক্ষার্থীকে জামিন দিয়েছে আদালত।

সিলেট মহানগর মেট্রোপলিটন-২ আদালতের বিচারক সুমন ভূঁইয়া বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তাদের জামিন দেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ওই পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে বিকেলে আদালতে তুলে জামিনের আবেদন করা হয়। করোনা শনাক্ত হওয়ায় আরেক আসামি নাজমুস সাকিব দ্বীপকে নেয়া হয় হাসপাতালে।

শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের জামিনের আদেশ দেন।

আইনজীবী সমিতির নেতা মাহফুজুর জানান, নাজমুস সাকিব দ্বীপকে সিলেটের শহীদ সামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি আজ (বুধবার) রাতেই তারা সবাই জামিনে ছাড়া পাবেন।’

এর আগে বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান সাবেক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক।

সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ হবে বলে তারা আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে জানান, আন্দোলনে অনুদান দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক শাবি শিক্ষার্থীদের জামিনও হয়ে যাবে।

জামিন পেলেন শাবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থী

ওই মামলায় অন্য কোনো শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হবে না বলেও জানান অধ্যাপক জাফর ইকবাল।

এসব আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সাত দিন ধরে চলা অনশন ভাঙেন শিক্ষার্থীরা।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফউল্ল্যাহ তাহের মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন অসৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অর্থ জোগান এবং আন্দোলনকারীদের উসকানি দেয়ার অভিযোগে ওই পাঁচজনের নামে মামলা হয়। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০-১৫০ জনকে।

তিনি আরও জানান, রাজধানী থেকে তাদের আটকের পর সিলেটে হস্তান্তর করা হয়।

তারা হলেন হাবিবুর রহমান স্বপন, রেজা নূর মঈন দীপ, নাজমুস সাকিব দ্বীপ, এ কে এম মারুফ হোসেন ও ফয়সাল আহমেদ।

এর মধ্যে হাবিবুর বিশ্ববিদ্যালয়টির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ থেকে ২০১২ সালে পাস করেছেন। একই বছর আর্কিটেকচার বিভাগ থেকে পাস করেছেন রেজা নূর মঈন দীপ ও নাজমুস সাকিব দ্বীপ।

আরও পড়ুন:
‘উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম পরিবর্তন জরুরি’
বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব করতে চায় ইউজিসি
কারিকুলামে পরিবর্তন চায় ইউজিসি

শেয়ার করুন

ছাত্র লাঞ্ছনায় জাবির দুই ছাত্রী বহিষ্কার

ছাত্র লাঞ্ছনায় জাবির দুই ছাত্রী বহিষ্কার

বহিষ্কৃত সুমাইয়া বিনতে ইকরাম (বামে) ও আনিকা তাবাসসুম। ছবি: নিউজবাংলা

রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, ‘সুমাইয়াকে এক বছর ও আনিকাকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সময়ে তারা কোনো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না এবং হলে অবস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা পাবে না।’

ছাত্র লাঞ্ছনায় জড়িত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দুই ছাত্রীকে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এক শিক্ষার্থীকে এক বছর এবং অন্যজনকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় মঙ্গলবার রাতে এই সিদ্ধান্ত হয়।

বহিষ্কৃত ওই দুই ছাত্রীর নাম সুমাইয়া বিনতে ইকরাম ও আনিকা তাবাসসুম। তারা দুজনই নৃবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

সুমাইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল এবং আনিকা নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের আবাসিক ছাত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুমাইয়াকে এক বছর ও আনিকাকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সময়ে তারা কোনো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না এবং হলে অবস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা পাবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় সোমবার রাত ৮টার দিকে রাস্তার জায়গা ছেড়ে দেয়াকে কেন্দ্র করে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের এক ছাত্রকে থাপ্পড় মারেন সুমাইয়া।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে সুমাইয়া ও তার সহযোগী আনিকার শাস্তির দাবি জানান। পরে রাত ১১টার দিকে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষই তাদের লিখিত বক্তব্য জমা দেয়।

আরও পড়ুন:
‘উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম পরিবর্তন জরুরি’
বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব করতে চায় ইউজিসি
কারিকুলামে পরিবর্তন চায় ইউজিসি

শেয়ার করুন

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্কতা চান শিক্ষাবিদরা

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্কতা চান শিক্ষাবিদরা

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দেয়াল লিখন। ছবি: সংগৃহীত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটি অথবা বিশেষজ্ঞ প্যানেল করা যেতে পারে। তারা যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ করবে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।  

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৩ বছরে শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন পাঁচজন উপাচার্য। এমন পরিস্থিতিতে উপাচার্য নিয়োগে সরকারকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন শিক্ষাবিদরা।

তারা বলছেন, উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটি অথবা বিশেষজ্ঞ প্যানেল করা যেতে পারে। তারা যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ করবে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পরামর্শও দিচ্ছেন শিক্ষাবিদরা।

২০০৯ সালে পদত্যাগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম এ ফায়েজ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির পদত্যাগ করেন ২০১২ সালে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক উপাচার্য মো. আনোয়ার হোসেনও পদ ছাড়তে বাধ্য হন ২০১৪ সালে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন আহমেদ ২০১৯ সালে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম ইমামুল হক একই বছর পদত্যাগ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার যোগ্য লোককে যোগ্য জায়গায় বসাতে পারছে না বলেই উপাচার্যদের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

তার মতে, ‘আচার্য মানেই হচ্ছেন প্রভূত জ্ঞানের অধিকারী। উপাচার্যরা তার সমগোত্রীয়। তাই উপাচার্য নিয়োগ যাচ্ছেতাইভাবে হতে পারে না।’

এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘সার্চ কমিটির মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে। এ রীতি আমাদের পাশের দেশ ভারতেই আছে। এ পদ্ধতি অবলম্বন করলে যোগ্য ব্যক্তিরা সঠিক জায়গায় অধিষ্ঠিত হবেন।’

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্কতা চান শিক্ষাবিদরা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

একই ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পদের মোহে অনেকেই উপাচার্য পদে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছেন, যা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য সুখকর নয়। এ জন্য উপাচার্য নিয়োগপ্রক্রিয়া খুব স্বচ্ছ হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ প্যানেল করা যেতে পারে। তারা দেখে উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ করবে।

উপাচার্য হিসেবে যারা নিয়োগ পান তাদের মেয়াদ একবারের বেশি হওয়া উচিত নয় বলেও মনে করছেন অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তা না হলে যারা উপাচার্য পদে নিয়োগ পেতে ব্যর্থ হন তারা বিভিন্ন ঘটনায় ইন্ধন জোগান।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকটি কারণে উপাচার্যদের বিরুদ্ধে নানা সময়ে অভিযোগ ওঠে। এর মূলে রয়েছে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে। এগুলো ক্ষতি করেছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে।’

তার মতে, ‘বিভিন্ন কারণে উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এর পেছনে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্ররাজনীতি। এ ছাড়া বড় বড় কাজের টেন্ডার তো রয়েছেই। কারও (উপাচার্য) বিরুদ্ধে সত্যিকার অর্থে অভিযোগ উঠলে ইউজিসি দেশের গণমান্য শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটা প্যানেল করতে পারে। সেই প্যানেল অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থার সুপারিশ করবে।’

উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা ‘অস্বাভাবিক নয়’ বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অনেক ধরনের অভিযোগ উঠতেই পারে। তবে সব অভিযোগ সত্য নয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে দুটি গুরুতর। একটি হচ্ছে নৈতিক স্খলন, আরেকটি দুর্নীতি। এর একটিও যদি কারও বিরুদ্ধে ওঠে, অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে তা তদন্ত করতে হবে। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি করে থাকে। তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্কতা চান শিক্ষাবিদরা
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের দেয়াল লিখন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সেখানে কিন্তু ফরিদের (শাবি উপাচার্য) বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন বা আর্থিক দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। অদক্ষতা বা অযোগ্যতা সেগুলো অন্য বিষয়। তারপরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে।’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতার অন্যতম কারণ আঞ্চলিকতা বলে মনে করছেন সাবেক শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান (এন আই খান)।

তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকাল ছেলেমেয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছে। নিয়োগ পেয়েই তারা একটি বলয় সৃষ্টি করে। আমেরিকায় কিন্তু যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনি পাস করবেন সেখানে প্রথমে শিক্ষক হওয়া যায় না। প্রথমে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে হবে। এরপর সেখানে শিক্ষকতায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে সে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে সেখানে নিয়োগের সুযোগ পাবে। এ জন্য আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেন ভারসাম্য থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।’

উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন এই সাবেক শিক্ষাসচিব।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে আছে, প্রশাসনে যারা থাকে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ন্যায়-অন্যায় যা-ই হোক তাদের সরিয়ে দিতে হবে। এটাই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। যারা উপাচার্য তারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তাই পদ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেন কলুষিত না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্কতা চান শিক্ষাবিদরা
ড. জাফর ইকবালের অনুরোধে অনশন ভেঙেছেন শাবি শিক্ষার্থীরা

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক মনে করছেন, কোনো উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে নৈতিক অবস্থান থেকে সে বিষয়ে তার নিজেরই পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উপাচার্যের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে বিশ্ববিদ্যালয়-কাঠামোর মধ্যেই এর সমাধান আছে। যেমন, সিনেট ও সিন্ডিকেট। এ দুটোতেই সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য। তাই উপাচার্যরা যখন দেখবেন তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এসেছে, তখন তিনি নৈতিক অবস্থান থেকে সেখানে আর সভাপতিত্ব করবেন না।

‘তা যদি তিনি না করেন তাহলে উচিত ইউজিসিতে অভিযোগগুলো তদন্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ যাওয়া। এটাই নিয়ম ও বিধিবিধান। এ ছাড়া উপাচার্য স্বপ্রণোদিত হয়েও ইউজিসিকে তদন্তের অনুরোধ করতে পারেন।’

অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘আমি মনে করি নৈতিক অবস্থান থেকে উপাচার্যদের উচিত তার বিষয়ে যে অভিযোগগুলো এসেছে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইউজিসি গঠন করেছিলেন যাতে শিক্ষকদের ওপর অন্যরা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করতে পারে। বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন শিক্ষকদের স্বশাসনের ওপর।’

উপাচার্য নিয়োগে আরও সতর্ক হতে সরকারকে পরামর্শ দেন এই শিক্ষাবিদ।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ জন্য আমি মনে করি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আরও সতর্ক হতে হবে।’

আরও পড়ুন:
‘উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম পরিবর্তন জরুরি’
বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব করতে চায় ইউজিসি
কারিকুলামে পরিবর্তন চায় ইউজিসি

শেয়ার করুন

এভাবে যে পদ আঁকড়ে থাকে, তাকে আমি দানব বলি: জাফর ইকবাল

এভাবে যে পদ আঁকড়ে থাকে, তাকে আমি দানব বলি: জাফর ইকবাল

শাবি উপচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ (বাঁয়ে) এবং অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলাকে অত্যন্ত নৃশংস দাবি করে মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘পুলিশ কেন নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাবে? ক্যাম্পাসে পুলিশ যুদ্ধসাজে ঢুকবেই কেন? শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার সময় শিক্ষকদের নীরব ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।

‘আমি যতটা চিন্তা করেছিলাম অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থা তার চেয়েও খারাপ। তাদের শরীরে স্যালাইনও পুশ করা যাচ্ছে না। বেশির ভাগই বসতে পারছে না। যে মানুষ এই অবস্থা দেখার পরও নিজের জায়গায় অনড় থাকে, তাকে আমি মানুষ বলতে চাই না। আমি তাকে দানব বলি।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর পর এসব কথা বলেন অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

বুধবার সকালে উপাচার্য ভবনের সামনে পানি খাইয়ে ২৮ শিক্ষার্থীর অনশন ভাঙান জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক।

এর আগে ভোর ৪টায় ক্যাম্পাসে এসে তিনি অনশন ভাঙতে শিক্ষার্থীদের রাজি করান।

অনশন ভাঙার পর শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেন এই শিক্ষাবিদ।

এরপর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রাণ অনেক মূল্যবান। এ রকম একজন মানুষের জন্য তাদের প্রাণ নষ্ট হতে পারে না। এটা আমি অনশনকারীদের বুঝিয়েছি। তারা সেটা বুঝেছে। এ জন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আজ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন।’

তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করেছি, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামাতে যতগুলো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সবগুলো অমানবিক, নিষ্ঠুর ও দানবীয়।

‘আমি ধরেই নিয়েছিলাম এখানে একটি মেডিক্যাল টিম থাকবে। কিন্তু এখানে কোনো মেডিক্যাল টিম নেই। শুধু তাই নয়, যারা তাদের টাকাপয়সা দিয়ে সহযোগিতা করেছিল, তাদের গ্রেপ্তার করে মামলা দেয়া হয়েছে। এর চেয়ে নিন্দনীয় আর কিছু নেই। আমি আশা করব, এই বিষয়গুলো যেন অবশ‌্যই বন্ধ হয়। আমাদের ছেলেমেয়েদের যেন মুক্ত করে দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আসার আগে সরকারের উচ্চমহলের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। আমি আশা করি, তারা আমাকে যে কথা দিয়েছেন সে কথাগুলো রাখবেন। যদি তারা তা না রাখেন তবে কেবল আমার সঙ্গে নয়, এ দেশের প্রতিটি প্রগতিশীল মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।’

এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা যে সুন্দর আন্দোলন করেছে তা দেশের কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারবে না। এই আন্দোলনে দেশের সব তরুণ-তরুণী হৃদয় থেকে সমর্থন দিয়েছে। তাদের আন্দোলন থেকে কাউকে ফায়দা নেয়ার সুযোগ দেয়নি। নিজেরাই সহযোদ্ধাদের হাসপাতালে নিয়ে গেছে, খাবার রান্না করেছে। সব তারা করেছে। এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য খুব কমই আছে।’

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলাকে অত্যন্ত নৃশংস দাবি করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ কেন নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাবে? ক্যাম্পাসে পুলিশ যুদ্ধসাজে ঢুকবেই কেন?

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার সময় শিক্ষকদের নীরব ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।

এ সময় অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি খুবই যৌক্তিক। তাদের দাবি অবশ্যই পূরণ হবে। তাদের যেকোনো দাবি আদায়ের সংগ্রামে আমাদের ডাকলেই আমরা আসব। তাদের পাশে থাকব।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদেরও এ রকম সময়ে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষার্থীদের আগলে রাখতে হবে।’

আরও পড়ুন:
‘উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম পরিবর্তন জরুরি’
বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব করতে চায় ইউজিসি
কারিকুলামে পরিবর্তন চায় ইউজিসি

শেয়ার করুন

‘উচ্চমহল’ বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, আশা জাফর ইকবালের

‘উচ্চমহল’ বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, আশা জাফর ইকবালের

শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জাফর ইকবাল। ছবি: নিউজবাংলা

জাফর ইকবাল বলেন, ‘এখানে আসার আগে আমার সঙ্গে সরকারের অনেক উচ্চমহল থেকে কথা বলেছে। আমি তাদের অনুরোধ করব, তারা আমাকে যে কথা দিয়েছেন, সে কথাগুলো যেন রক্ষা করেন। আমাকে যে কথাটা দিয়েছেন তা যদি রক্ষা করা না হয়, তাহলে বুঝে নেব তারা শুধু ছাত্রদের সঙ্গে নয়, আমার সঙ্গে এবং এই দেশের যত প্রগতিশীল মানুষ আছে, সবার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর পর ড. জাফর ইকবাল বলেছেন, দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছে সরকারের উচ্চমহল। এই আশ্বাস বাস্তবায়ন করা না হলে সেটি হবে বিশ্বাসঘাতকতা।

শাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে এক সপ্তাহ অনশন করার পর জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী সাবেক অধ্যাপক ইয়াসমিন হক বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান।

এরপর জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে আসার আগে আমার সঙ্গে সরকারের অনেক উচ্চমহল থেকে কথা বলেছে। আমি তাদের অনুরোধ করব, তারা আমাকে যে কথা দিয়েছেন সে কথাগুলো যেন রক্ষা করেন। আমি আর এই ছাত্রদের ভেতর কোনো পার্থক্য নাই।

‘আমাকে যে কথাটা দিয়েছেন তা যদি রক্ষা করা না হয়, তাহলে বুঝে নেব তারা শুধু ছাত্রদের সঙ্গে নয়, আমার সঙ্গে এবং এই দেশের যত প্রগতিশীল মানুষ আছে সবার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। কাজেই আমি আশা করব তারা যেন আমাকে যে কথা দিয়েছেন সে কথাগুলো রাখেন।’

উপাচার্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষকের এ রকম মেরুদণ্ডহীন হওয়ার কোনো কারণ নাই।’

উপাচার্য ফরিদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অনশন করার দরকার নেই জানিয়ে জনপ্রিয় এই লেখক বলেন, ‘এই আন্দোলনের জন্য অনশন করার দরকার নাই। কারণ যে মানুষটার জন্য তারা অনশন করে যাচ্ছে, তার জন্য প্রাণ দেয়া সমীচীন না।’

অধ্যাপক ইয়াসমিন বলেন, ‘স্টুডেন্টদের গায়ে পুলিশ হাত দেবে, কিন্তু টিচার কিছু বলবে না, টিচার হিসেবে আমার কাছে এর কোনো মাফ নাই। টিচার হওয়ার জন্য আমার যে ক্ষমতা এতে পুলিশ এলে কিন্তু কিচ্ছু করবে না। আমি একজন শিক্ষক। আমি পুলিশ আর স্টুডেন্টদের মাঝে দাঁড়ায়ে আছি।

‘আছি। আমি একদম শকড। আমি অসম্ভব শকড। আমি এই শক কবে কাটায়ে উঠব, জানি না।’

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা কেউ এ রকম হয়ো না। তোমাদের মধ্যে অনেকে শিক্ষক হবা। খবরদার তোমরা যদি এ রকম কেউ হইছ।’

ঢাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে রওনা দিয়ে ভোরের আগে ক্যাম্পাসে পৌঁছান বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক দুই অধ্যাপক। প্রিয় শিক্ষকদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তার কাছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও করেন।

শাবির সাবেক অধ্যাপক জাফর ইকবালের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেও শিক্ষার্থীরা নতুন পথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

অনশন করা অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘অনশন থেকে সরে এলেও আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। দ্রুতই নিজেরা বসে আন্দোলনের ধরন ও কর্মসূচি ঠিক করব।’

প্রেক্ষাপট

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ।

এরপর পুলিশ ৩০০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামেন।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরদিনই বাড়ি চলে যান। ২৩ জানুয়ারি আরও চারজন ও ২৪ জানুয়ারি একজন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেন।

এর মাঝে উপাচার্য ইস্যুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মূল দাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ। এই দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না।

২৩ জানুয়ারি দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের আবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে তা না হওয়ায় তারা উপাচার্যকে অবরুদ্ধের ঘোষণা দেন।

ওই দিন রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অবরুদ্ধ উপাচার্যের জন্য প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির নেতা ও দুজন কাউন্সিলর খাবার নিয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের বাধায় তারা বাসভবনে ঢুকতে পারেননি। ২৮ ঘণ্টা পর ২৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেন তারা।

আরও পড়ুন:
‘উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম পরিবর্তন জরুরি’
বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেশন হাব করতে চায় ইউজিসি
কারিকুলামে পরিবর্তন চায় ইউজিসি

শেয়ার করুন