মাদক-হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের নির্বাচন

player
মাদক-হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের নির্বাচন

মাদক কারবারের জড়িত অনেকে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, চিহ্নিত এসব মাদককারবারিরা নির্বাচিত হলে তাদের এলাকায় মাদক নির্মূল দূরে থাক, উল্টো মাদকের বিস্তার আরও বাড়বে। এতে মাদকসেবীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পাবে।

রাত পোহালেই পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে (ইউপি) কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ভোট।

এ সব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে যারা নির্বাচনে লড়ছেন তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন, যারা সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃংখলা বাহিনীর মাদক কারবারিদের তালিকায় রয়েছেন।

জানা গেছে, কোনো কোনো প্রার্থী সরাসরি জড়িত না হলেও তাদের পরিবার-আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে কেউ না কেউ এই মাদক কারবারের জড়িত। অনেকের নামে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় থানাতেও হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

তালিকাভুক্ত চিহ্নিত এসব মাদককারবারিরা এ নির্বাচনে চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তবে কেউ কেউ জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে এই অবৈধ ব্যবসা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি একটি বিশেষ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী- রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক কারবারিদের তালিকায় রৌমারীর ১৬৮ জন এবং রাজিবপুরের ২৩ জনের নাম রয়েছে।

মাদক-হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের নির্বাচন


তালিকাভুক্তদের মধ্যে রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে লড়ছেন বাওয়ের গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক। তার নামে রৌমারী থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা রয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার মাদক কারবারিদের তালিকার ২৫ নম্বরে রয়েছে তার নাম।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের রতনপুর গ্রামের শাহ আলমও সদস্য পদে নির্বাচনে করছেন। গোয়েন্দা সংস্থার মাদক কারবারিদের তালিকায় তিনি রয়েছেন ২১ নম্বরে।

এই তালিকায় রয়েছেন একই ওয়ার্ডে সদস্য পদপ্রার্থী চর বামনেরচর গ্রামের এনামুল হক সরকারও। তালিকায় তার নাম ১৬২ নম্বর। তার নামেও রৌমারী থানায় মাদক দ্রব্য আইনে মামলা আছে।

একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী রবিউল করিমের নামেও রৌমারী থানায় মাদক মামলা রয়েছে।

সদস্য পদে আরও নির্বাচন করছেন যাদুর চর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আলগার চর গ্রামের হায়দার আলী, সায়দাবাদ গ্রামের লায়লা খাতুন। এর মধ্যে হায়দার হত্যা মামলার আসামি। তার নাম আছে মাদক কারবারির তালিকায়ও। আর লায়লা খাতুনসহ তার স্বামী সালাম মিয়ার নামে মাদক মামলা রয়েছে।

মাদক-হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের নির্বাচন


শৌলমারী ইউনিয়নের চর বোয়ালমারী গ্রামের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনুছ খান (ক্বারী) গোয়েন্দা সংস্থার মাদক কারবারির তালিকার ১৪২ নম্বরে রয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, চিহ্নিত এসব মাদককারবারিরা নির্বাচিত হলে তাদের এলাকায় মাদক নির্মূল দূরে থাক, উল্টো মাদকের বিস্তার আরও বাড়বে। এতে মাদকসেবীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পাবে।

নিউজবাংলাকে শৌলমারী ইউনিয়নের ভোটার আমজাদ বলেন, ‘ইউনুছ খান নামে তাকে কেউ চেনে বলে মনে হয় না। কেননা তাকে সবাই গাঁঞ্জা ক্বারী নামে চেনে। তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলে ঘরে ঘরে গাজার আসর বসবে।’

যাদুরচর ইউনিয়নের নহের আলী বলেন, ‘সালাম ও তার স্ত্রী লায়লা খাতুন দুজনই মাদক কারবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। এবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য বাজারে মিটিংয়ে এই কারবার করবে না বলে কথা দিয়েছে।’

মাদক-হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের নির্বাচন


আরেক ভোটার বক্কর বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে মাদক কারবারি, হত্যা মামলার আসামিরাই দাঁড়াইছে। এতে করে সীমান্ত এলাকায় কীভাবে মাদক ব্যবসা বন্ধ হবে?’

ছাইফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ‘বর্তমান অনেক চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ নতুন যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মাদক কারবার, চোরাচালনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। প্রশাসন তাদের কাছে কিছুই না। প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো সাধারণ মানুষকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়। তাই আমরা অসহায়।’

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যাদের নামে হত্যা, মাদক, চোরাচালানসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে তারা যেনো নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া দরকার। আগামীতে সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারিদের জন্য টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে।’

মাদক-হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের নির্বাচন


এই বিষয়ে সদস্য প্রার্থী লায়লা খাতুন বলেন, ‘কার নামে মামলা নেই? রাজনীতি করলে এমন মামলা থাকবেই। আমি এগুলো নিয়ে ভয় পাই না। জনগণ আমার পাশে আছে। আমি নির্বাচিত হব।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রতিবেদনে নাম আসা অন্য প্রার্থীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার তাদের মোবাইলে ফোন দিলে ধরেননি। নিউজবাংলার পরিচয় দিয়ে মোবাইলে মেসেজ দেয়া হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।

কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আহাসান হাবীব নীলু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসব মাদক কারবারিদের শক্ত সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা নির্বাচনি আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারকেই কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে আগামীতে এই জেলায় মাদক অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।’

মাদক-হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের নির্বাচন


এ ছাড়াও ভোটারদেরও দায়িত্ববোধ থেকে এসব অসাধু ব্যক্তিদের বয়কট করার আহবান জানান তিনি।

এসব বিষয়ে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুহুল আমিন বলেন, ‘মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখানে কাউকে ছাড়া দেবার সুযোগ নেই।’

নির্বাচনে মাদক কারবারিদের অংশ নেয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন:
ভোটের ৯ দিন পর মিলল সিলমারা ব্যালট পেপার
গফরগাঁওয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
চট্টগ্রামের ৩২ ইউপিতে রাত পোহালেই ভোট
নৌকার সমাবেশে ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ, মামলা
ভোটারদের হুমকির ভিডিওকে কারসাজি দাবি নৌকার প্রার্থীর

শেয়ার করুন

গাভী কেটে গোশত ‘চুরি’, পড়ে রইল গর্ভের বাছুর

গাভী কেটে গোশত ‘চুরি’, পড়ে রইল গর্ভের বাছুর

গাভী জবাই করে ফেলে রাখা হয় গর্ভের মৃত বাছুর। ছবি: নিউজবাংলা

মাধবদী বাজারের এম এ হালিম জানান, গভীর রাতে তার খামারের তালা ভেঙে পশুটি চুরি করা হয়। পরদিন খামারের পাশেই পড়ে থাকতে দেখেন এর চামড়া ও গর্ভের নাড়িভুঁড়িসহ মৃত বাছুর।

নাড়িভুঁড়ির পাশে মৃত বাছুরের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। ছবির সঙ্গে দেয়া পোস্টে বলা হচ্ছে, গর্ভবতী গাভী কেটে মাংস নিয়ে গেছে চোরেরা। ফেলে রেখে গেছে গর্ভের বাছুরটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ঘটনাটি নরসিংদীর মাধবদীর খোর্দ্দনওপাড়া গ্রামের। সেখানকার এক ব্যক্তির অভিযোগ, তার খামার থেকে গাভীটি চুরি হয় গত ২৪ জানুয়ারি।

ওই ব্যক্তি হলেন মাধবদী বাজারের এম এ হালিম। তিনি জানান, গভীর রাতে তার খামারের তালা ভেঙে পশুটি চুরি করা হয়। পরদিন খামারের পাশেই পড়ে থাকতে দেখেন এর চামড়া ও গর্ভের নাড়িভুঁড়িসহ মৃত বাছুর।

হালিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যবসার পাশাপাশি বহু বছর ধরে পশুর খামার করেছি। বছর তিনেক আগেও খামারভর্তি পশু ছিল। এখন অল্প কয়েকটা আছে।

‘কয়েক মাস আগেও একটা ষাঁড় গরু চুরি হয়ে যায় খামার থেকে। এবার ১০ মাসের গর্ভবতী গাভীটা জবাই করে গোশত নিয়ে পালিয়ে গেল চোর।’

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সৈয়দুজ্জামান জানান, গাভী চুরির ঘটনায় খামার মালিক অভিযোগ দিয়েছেন। জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
ভোটের ৯ দিন পর মিলল সিলমারা ব্যালট পেপার
গফরগাঁওয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
চট্টগ্রামের ৩২ ইউপিতে রাত পোহালেই ভোট
নৌকার সমাবেশে ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ, মামলা
ভোটারদের হুমকির ভিডিওকে কারসাজি দাবি নৌকার প্রার্থীর

শেয়ার করুন

রাষ্ট্রের বিরোধিতা শুরু করেছে বিএনপি: রেজাউল

রাষ্ট্রের বিরোধিতা শুরু করেছে বিএনপি: রেজাউল

সাভারে বিএলআরআইএর ওয়ার্কশপ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি কোনো কিছুর ভেতরেই ভালো কিছু খুঁজে পায় না। আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিএনপি এখন রাষ্ট্রের বিরোধিতা করা শুরু করেছে। এটা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।’

আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিএনপি এখন রাষ্ট্রের বিরোধিতা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআইএ) বার্ষিক রিসার্চ রিভিউ ওয়ার্কশপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি কোনো কিছুর ভেতরেই ভালো কিছু খুঁজে পায় না। আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিএনপি এখন রাষ্ট্রের বিরোধিতা করা শুরু করেছে। এটা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।

‘তারা প্রথম বলছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন করতে হবে। আমরা তখন বলেছিলাম আইন করতে সময় লাগতে পারে। এখন সংসদে যখন এই আইন পাস করা হচ্ছে, তখন বলছে এত তড়িঘড়ি করা ঠিক হলো না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি বিশ্বে আটটি ফার্ম নিয়োগ করেছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য। এখানে টাকা বিনিয়োগ করা মানে রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। এ কারণে বিএনপির অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট প্রসঙ্গে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের ভবিষ্যৎ, নিশ্চয়ই তাদের যৌক্তিক দাবি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার মেনে নেবে। তবে কখনও কখনও শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে ভর করে বিরোধী রাজনৈতিক দল বা কিছু কিছু লোক।’

বিএলআরআইএ মহাপরিচালক ড. এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা।

আরও পড়ুন:
ভোটের ৯ দিন পর মিলল সিলমারা ব্যালট পেপার
গফরগাঁওয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
চট্টগ্রামের ৩২ ইউপিতে রাত পোহালেই ভোট
নৌকার সমাবেশে ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ, মামলা
ভোটারদের হুমকির ভিডিওকে কারসাজি দাবি নৌকার প্রার্থীর

শেয়ার করুন

অটোরিকশায় বাসচাপা: নিহত বেড়ে ৬

অটোরিকশায় বাসচাপা: নিহত বেড়ে ৬

বগুড়ার শেরপুরে বাসে পিষ্ট হয় অটোরিকশা। ছবি: নিউজবাংলা

দুর্ঘটনায় নিহত অটোরিকশাচালকের ভাই সেলিম উদ্দিন বাসচালককে আসামি করে শেরপুর থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বানিউল।

বগুড়ার শেরপুরে অটোরিকশায় বাসচাপার ঘটনায় আরেক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত বেড়ে হয়েছে ৬।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক বানিউল আনাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সবশেষে যিনি মারা গেলেন তিনি হলেন নীল রতন কুমার পাল। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি শাজাহানপুর উপজেলার ডেমাজানী গ্রামে।

দুর্ঘটনায় নিহত অটোরিকশাচালকের ভাই সেলিম উদ্দিন বাসচালককে আসামি করে শেরপুর থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বানিউল।

উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের রাণীরহাট মোড় এলাকায় বুধবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউস পরিদর্শক নাদির হোসেন।

তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া হানিফ পরিবহনের বাসটি বগুড়ায় যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের মির্জাপুর আমবাগান এলাকায় বিপরীত দিক থেকে যাওয়া অটোরিকশাটিকে বাসটি চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে নিহত হন পাঁচজন।

তারা হলেন জেলার ধুনট উপজেলার শ্যামগাতী গ্রামের হৃদয় হাসান ও তার স্ত্রী সাফিয়া খাতুন, শেরপুর উপজেলার ধড়মোকাম গ্রামে অটোরিকশাচালক বাবলু প্রামাণিক, একই উপজেলার চোমরপাথালিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও আব্দুল রহিম।

পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বানিউল জানান, বাসচালক ও সহকারীকে এখনও পাওয়া যায়নি। মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভোটের ৯ দিন পর মিলল সিলমারা ব্যালট পেপার
গফরগাঁওয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
চট্টগ্রামের ৩২ ইউপিতে রাত পোহালেই ভোট
নৌকার সমাবেশে ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ, মামলা
ভোটারদের হুমকির ভিডিওকে কারসাজি দাবি নৌকার প্রার্থীর

শেয়ার করুন

আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নির্বাচনি ক্যাম্প ‘ভাঙচুর’

আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নির্বাচনি ক্যাম্প ‘ভাঙচুর’

থানার এসআই গোলাম মোস্তফা জানান, দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। তবে কা‌রও নির্বাচনি ক্যাম্প বা দোকানপাট ভাঙচুর হয়েছে কি না তা জানা নেই। কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

ব‌রিশালের মেহে‌ন্দীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ‌ সময় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ক্যাম্প ও ব‌্যবসাপ্রতিষ্ঠা‌ন ভাঙচুরের অ‌ভিযোগ উঠেছে।

মেহেন্দীগঞ্জের উলা‌নিয়ার কা‌লীগঞ্জ বাজারে বৃহস্প‌তিব‌ার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

মেহেন্দীগঞ্জ থানা পু‌লিশের পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সংঘর্ষ হয়েছে নৌকার প্রার্থী মিলন চৌধুরী ও বিদ্রোহী প্রার্থী তারেক সরদারের লোকজনের মধ্যে।

বাজারের এক দোকানি সেন্টু মাঝি বলেন, ‘তারেক সরদারের ২০০ লোক রামদা ও লঠিসোঁটা নিয়ে কালীগঞ্জ বাজারে এলে লোকজন ভয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। তারা মিলন চৌধুরীর নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করেছে। আমার দোকানের ফল লুট করেছে, আমাকে মারধর করা হয়েছে।’

দ‌ক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়ন প‌রিষদ নির্বাচনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মিলন চৌধুরী বলেন, ‘জোড়া খুনের মামলার আসামি তারেক সরদারের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা বৃহস্পতিবার সকালে ভোলা থেকে ট্রলারে উলানিয়ায় আসে। ফেরার পথে কালীগঞ্জ বাজারে আমার নির্বাচনি কার্যালয় এবং আমার সমর্থক মানিক মাঝির বসতঘর ও সেন্টু মাঝির ফলের দোকান ভাঙচুর করেছে তারা।’

তারেক সরদারকে অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পাওয়া যায়নি মোবাইল ফোনে।

তার মামা হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, ‘তারেক হামলা করে‌নি, তারেকের ওপর হামলা করেছে মিলন চৌধুরীর লোকজন। এখন মিথ‌্যা রটাচ্ছে সাংবা‌দিকদের কাছে। তারেক অনেক‌ দিন পর এলাকায় এসেছে, তাই প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছে‌ তার লোকজন।’

থানার এসআই গোলাম মোস্তফা জানান, দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। তবে কা‌রও নির্বাচনি ক্যাম্প বা দোকানপাট ভাঙচুর হয়েছে কি না তা জানা নেই। কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

উত্তর ও দক্ষিণ উলানিয়ার নির্বাচনের দিন নির্ধা‌রিত ছি‌ল ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর। তবে ওই দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে একা‌ধিক সংঘর্ষের কারণে ৬ ডিসেম্বর নির্বাচন স্থ‌গিত করা হয়।

২০২১ সালের ১০ এ‌প্রিল দ‌ক্ষিণ উলা‌নিয়ায় সংঘর্ষে দুজন নিহত হন, আবার উত্তর উলা‌নিয়ায় ২০ মে বিয়েবা‌ড়িতে সংঘর্ষে নিহত হন আরও দুজন।

আরও পড়ুন:
ভোটের ৯ দিন পর মিলল সিলমারা ব্যালট পেপার
গফরগাঁওয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
চট্টগ্রামের ৩২ ইউপিতে রাত পোহালেই ভোট
নৌকার সমাবেশে ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ, মামলা
ভোটারদের হুমকির ভিডিওকে কারসাজি দাবি নৌকার প্রার্থীর

শেয়ার করুন

কলেজে যোগদানে শিক্ষককে অধ্যক্ষের বাধা

কলেজে যোগদানে শিক্ষককে অধ্যক্ষের বাধা

হুমায়ুন জানান, ২০০৬ সাল থেকে তিনি ওই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ছিলেন। মিথ্যা অভিযোগ তুলে ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করেন অধ্যক্ষ আনিসুর।

শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশের পরও এক শিক্ষককে কলেজে যোগ দিতে বাধা দিয়েছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার গোপালনগর আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ।

হুমায়ুন কবির নামে ওই শিক্ষক জানান, মিথ্যে অভিযোগ তুলে তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। শিক্ষাবোর্ডের তদন্তে অভিযোগ খারিজ হয়। এরপর শিক্ষাবোর্ড থেকে তাকে কলেজে যোগ দেয়ার নির্দেশনা আসে। তারপরও অধ্যক্ষ তাকে বৃহস্পতিবার কলেজ থেকে বের করে দেন।

তবে অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান সোহেল জানান, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগ আছে বলে কলেজের গর্ভনিং বডি তাকে বহিষ্কার করেছে।

হুমায়ুন জানান, ২০০৬ সাল থেকে তিনি ওই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ছিলেন। মিথ্যা অভিযোগ তুলে ২০১৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করেন অধ্যক্ষ আনিসুর।

সেই অভিযোগে মামলাও হয়, যা তদন্ত শেষে খারিজ হয়ে যায়। এরপর তিনি বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে ২০১৯ সালে একটি এবং ২০২০ সালে আরেকটি রিট করেন।

উচ্চ আদালত কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডকে ৩০ দিনের মধ্যে বহিষ্কারাদেশ তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলে। শিক্ষাবোর্ডের তদন্তের পর গত ১৩ জানুয়ারি তার বহিষ্কারাদেশ বিধিবহির্ভূত ঘোষণা করে। একইসঙ্গে তাকে স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশ দেয়।

হুমায়ুন আরও জানান, এই নির্দেশনার পরও তাকে কলেজে যোগ দিতে বাধা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান সোহেল জানান, হুমায়ুন আরও দুইটি কলেজে চাকরি করছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগও আছে। তাই গভর্নিং বডি তাকে বহিষ্কার করেছে। বোর্ডের তদন্তেও সেটা প্রমাণিত হয়েছে।

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুছ সালাম বলেন, ‘অধ্যক্ষের বক্তব্য পুরোপুরি মিথ্যাচার। বোর্ডের রায়ে হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

‘কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত করতে হলে বোর্ডের অনুমতি প্রয়োজন। গভর্নিং বডি ও অধ্যক্ষ তা না করে সরাসরি তাকে বহিষ্কার করে। এটা নিয়মের লঙ্ঘন। আমরা প্রয়োজনে ওই কমিটি ভেঙে দেব। হুমায়ুন কবির চাইলে আইনি প্রক্রিয়ায় এগুতে পারেন। আমাদের সিদ্ধান্ত, হুমায়ুন কবির স্বপদে বহাল থাকবেন।’

ব্রাহ্মণপাড়ার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল রানা বলেন, ‘যদিও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বোর্ড থেকে কোনো চিঠি পাইনি, তারপরও আমি বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবিরের চাকরিতে যোগদানে সমস্যা নেই। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যদি ওই শিক্ষকের সঙ্গে অন্যায় হয়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
ভোটের ৯ দিন পর মিলল সিলমারা ব্যালট পেপার
গফরগাঁওয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
চট্টগ্রামের ৩২ ইউপিতে রাত পোহালেই ভোট
নৌকার সমাবেশে ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ, মামলা
ভোটারদের হুমকির ভিডিওকে কারসাজি দাবি নৌকার প্রার্থীর

শেয়ার করুন

যেভাবে পাল্টে গেলেন মিম ও বিন্দু

যেভাবে পাল্টে গেলেন মিম ও বিন্দু

নিজের কর্মস্থলে বিন্দু ও মিম। ছবি: নিউজবাংলা

বিন্দু বলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার হয়েও সমাজের প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে পরিবার নিয়ে এখন সুখে আছি। এই সুযোগ করে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সুবিধাবঞ্চিত নারীদের এখন থেকে বিনা মূল্যে বিউটিশিয়ান হওয়ার প্রশিক্ষণ দেব।’

ট্রান্সজেন্ডার বিন্দু ও মিম জীবনের বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ সফল উদ্যোক্তা। নিজেদের দক্ষতা আর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় সমাজে আজ তারা প্রতিষ্ঠিত।

জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষা থেকে এবার অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বিউটিশিয়ান বিন্দু ও মিম। জানিয়েছেন, সুবিধাবঞ্চিত নারীদের তারা বিনা মূল্যে দেবেন বিউটিশিয়ান হওয়ার প্রশিক্ষণ।

নরসিংদীর মাধবদীতে বিন্দু ও মিমের পরিচালিত প্রতিষ্ঠান- ‘ত্রিনয়ন রূপশিল্প’-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে এ ঘোষণা দেন তারা।

মাধবদী পৌর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে অর্ধশতাধিক নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে কেক কেটে উদযাপন করেন সাফল্যের এক বছর।

মাধবদী থানা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের প্রচেষ্টায় নরসিংদীর তৎকালীন প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাছলিমা আক্তার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ আলম মিয়ার সার্বিক সহযোগিতায় গত বছরের জানুয়ারিতে এই পার্লারটি গড়ে ওঠে।

মূলত ট্রান্সজেন্ডারদের জীবনমান উন্নয়নে কর্মমুখী প্রকল্পে তাদের অন্তর্ভুক্তি করার অংশ হিসেবে এ কাজটি করেন তারা।

মাধবদী পৌর শহরের বড় মসজিদ রোডে অবস্থিত ইসলাম প্লাজার বিউটি পার্লারটি অল্প সময়ে সুনাম কুড়িয়েছে ব্যাপক।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেয়া বক্তব্যে আপ্লুত কণ্ঠে বিন্দু বলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার হয়েও সমাজের প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিতে পরিবার নিয়ে এখন সুখে আছি। এই সুযোগ করে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সুবিধাবঞ্চিত নারীদের এখন থেকে বিনা মূল্যে বিউটিশিয়ান হওয়ার প্রশিক্ষণ দেব।’

ত্রিনয়ন রূপশিল্পের নিয়মিত গ্রাহক এবি ব্যাংক মাধবদী শাখার ব্যবস্থাপক সুমি আক্তার। তিনি বলেন, ‘মাধবদী থেকে এখন আর রাজধানীতে যেতে হচ্ছে না। এখানে রাজধানীর মতো রূপচর্চার সেবা পাচ্ছি। এটা আমাদের মতো নারী উদ্যোক্তাদের গর্ব ও অহংকার।’

মাধবদী থানা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আল-আমিন বলেন, ‘দেশে অনেক অবহেলিত মানুষ আছেন। বিত্তবানরা তাদের পাশে দাঁড়ালে মিম ও বিন্দুর মতো অনেকের জীবন পাল্টে যাবে।’

যেভাবে হলো বিন্দু-মিমের পুনর্বাসন

ট্রান্সজেন্ডার রত্না শেখ ওরফে বিন্দুর বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। আর মিম আক্তারের বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার কিসমত বানিয়াদী গ্রামে।

প্রায় ১১ বছর আগে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ি ছেড়ে দেন মিম। পরে কিছুদিন ঢাকায় অবস্থানের পর অবৈধ পথে ভারতে চলে যান তিনি। সেখানে পরিচয় হয় মুন্সিগঞ্জের রত্না ওরফে বিন্দুর সঙ্গে। এরপর সেখানে রূপচর্চার প্রশিক্ষণ নিয়ে ফেরেন দেশে।

বিন্দুকে নিয়ে নিজ বাড়ি নরসিংদীতে আসেন মিম। তবে এতে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা আরও বেড়ে যায়। বাধ্য হয়ে আবারও বাড়ি ছাড়া হন তারা। ট্রান্সজেন্ডার অনেকের মতো বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা সংগ্রহ শুরু করেন তারা।

যেভাবে পাল্টে গেলেন মিম ও বিন্দু

সমাজ বিষয়টিকে ভালোভাবে নিতে পারেনি। এক রাতে মিমের বাড়ি ঘেরাও করেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে তাদের।

তাদের এই অসহায়ত্ব দেখে এগিয়ে আসেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাদের প্রচেষ্টায় বিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। এগিয়ে আসেন তারাও। উদ্যোগ নেন তাদের পুনর্বাসনের।

জেলা প্রশাসনের অর্থায়ন আর সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে শহরের কেন্দ্রে একটি বিউটি পার্লার গড়ে তোলা হয় মিম ও বিন্দুর জন্য।

আরও পড়ুন:
ভোটের ৯ দিন পর মিলল সিলমারা ব্যালট পেপার
গফরগাঁওয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
চট্টগ্রামের ৩২ ইউপিতে রাত পোহালেই ভোট
নৌকার সমাবেশে ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ, মামলা
ভোটারদের হুমকির ভিডিওকে কারসাজি দাবি নৌকার প্রার্থীর

শেয়ার করুন

‘রাজনীতির চেয়ে সম্প্রীতি বড়’

‘রাজনীতির চেয়ে সম্প্রীতি বড়’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির ভোট চলাকালে বৃহস্পতিবার কোর্ট চত্বরে আড্ডা জমে ওঠে আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতাদের। ছবি: নিউজবাংলা

কোর্ট চত্বরে চায়ের আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, সহসভাপতি তাজ মো. ইয়াসিন ও হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমানসহ দুই দলের শীর্ষ নেতারা।

উৎসবমুখর পরিবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

আইনজীবীদের এই ভোট উৎসবে যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কোর্ট চত্বর দুপুর ১২টার দিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।

জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে চা-পানের আড্ডায় খোশগল্পে মেতে ওঠেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের আড্ডার ছবি ছড়িয়েছে ফেসবুকে। নানা মহলে চলছে আলোচনা।

ওই চায়ের আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, সহসভাপতি তাজ মো. ইয়াসিন ও হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী মন্টু ও গোলাম মহিউদ্দিন খান খোকন।

আর বিএনপির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, সদস্য সিরাজুল ইসলাম, আলী আজমসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি বলেন, ‘রাজনীতি হচ্ছে একটি প্ল্যাটফর্ম। তবে সামাজিক সম্প্রীতিটাই হচ্ছে বড়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগে এমন সামাজিক সম্প্রীতি ছিল। অভ্যন্তরীণ কারণে এটি নষ্ট হয়ে গেছে। আজ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে সম্প্রীতি দেখা গেছে, তা বজায় থাকুক।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার বলেন, ‘এটাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সম্প্রীতির রাজনীতির ঐতিহ্য। দলীয় কার্যক্রমের বাইরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের বন্ধন রয়েছে। দিন শেষে আমরা একই জেলার বাসিন্দা।’

তবে দলীয় চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে নেতাদের এ ধরনের আড্ডার সমালোচনা করছেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী।

আরও পড়ুন:
ভোটের ৯ দিন পর মিলল সিলমারা ব্যালট পেপার
গফরগাঁওয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা
চট্টগ্রামের ৩২ ইউপিতে রাত পোহালেই ভোট
নৌকার সমাবেশে ম্যাজিস্ট্রেট অবরুদ্ধ, মামলা
ভোটারদের হুমকির ভিডিওকে কারসাজি দাবি নৌকার প্রার্থীর

শেয়ার করুন