নড়াইলে দুস্থদের মাঝে সেনাবাহিনী প্রধানের শীতবস্ত্র বিতরণ

player
নড়াইলে দুস্থদের মাঝে সেনাবাহিনী প্রধানের শীতবস্ত্র বিতরণ

মঙ্গলবার নড়াইলের লোহাগড়ায় মল্লিকপুর করফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। ছবি: আইএসপিআর

সেনাবাহিনী প্রধানের দিক-নির্দেশনায় প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শীত মৌসুমে বিভিন্ন এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র ও ত্রাণ বিতরণ এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়াসহ নানাবিদ জনসেবামূলক কাজ পরিচালনা করছে। সেনাবাহিনীর এধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম দুস্থ ও অসহায় মানুষদের শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দুই হাজার স্থানীয় গরিব ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর করফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন তিনি। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরণের জনসেবামূলক কর্মকান্ড অব্যাহত থাকবে বলে জানান বাহিনীর প্রধান।

এর আগে সেনাবাহিনী প্রধান লোহাগড়ায় এসে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক মেজর জেনারেল এফ এম জাহিদ হোসেন এবং জিওসি ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. নূরুল অনোয়ার।

সেনাবাহিনী প্রধানের দিক-নির্দেশনায় প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শীত মৌসুমে বিভিন্ন এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র ও ত্রাণ বিতরণ এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়াসহ নানাবিদ জনসেবামূলক কাজ পরিচালনা করছে। সেনাবাহিনীর এধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম দুস্থ ও অসহায় মানুষদের শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে সেনাবাহিনী প্রধান মধুমতি নদীর উপর নির্মিতব্য রেল সেতু প্রজেক্ট ও মধুমতি আর্মি ক্যাম্প পরির্দশন করেন।

এসময় সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল সড়ক সংযুক্তি বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম সংযুক্তি প্রকল্প।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ১৭২ কিলোমিটার রেল পথের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় নয়টি জেলা রাজধানী ঢাকার সাথে সরাসরি সংযুক্ত হবে। এই রেলপথ ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল, যশোর এবং খুলনা জেলাকে রেলপথ নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত করবে।

প্রকল্পটি ২০১৮ সালে জুলাই মাসে শুরু হয় এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সমাপ্ত হবে। প্রকল্প সমাপ্তির পর জাতীয় অর্থনীতিতে আনুমানিক ১ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঘটবে বলে আশা করা যায়। সরকারের জি টু জি প্রকল্পের আওতায় চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে রেল মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পে “চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি” ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কর্মরত রয়েছে।

প্রকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকল্প সুপারভিশন এবং পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করছে। প্রকল্পে ১৭২ কিমি রেলপথে মোট ৫৯ টি রেল সেতু, ১২৪ টি কালভার্ট ও ১৩২ টি আন্ডারপাসসহ মোট ২০ টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৪৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
সেনাবাহিনী প্রধানের রমিজ উদ্দিন কলেজ আন্ডারপাস পরিদর্শন
দুস্থদের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জানুয়ারির একদিনও বিশুদ্ধ বাতাস পায়নি ঢাকাবাসী

জানুয়ারির একদিনও বিশুদ্ধ বাতাস পায়নি ঢাকাবাসী

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে বায়ুদূষণ নিয়ে গবেষণা তথ্য তুলে ধরা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকার বাতাস এতোটাই দূষণের শিকার যে গত ছয় বছরে মাত্র ৩৮ দিন বিশুদ্ধ বাতাস মিলেছে। সে হিসাবে ইট-পাথরের এই নগরের মানুষ বছরে গড়ে ছয়দিন বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেয়ার সুযোগ পেয়েছে।

আবহাওয়ার পরিবর্তনসহ মানবসৃষ্ট নানা কারণে দিন দিন ঢাকায় নির্মল বাতাস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকে টানা ২৫ তারিখ পর্যন্ত একদিনও বিশুদ্ধ বাতাস পায়নি রাজধানীবাসী।

ঢাকার বাতাস এতোটাই দূষণের শিকার যে গত ছয় বছরে মাত্র ৩৮ দিন বিশুদ্ধ বাতাস মিলেছে। সে হিসাবে ইট-পাথরের এই নগরের মানুষ বছরে গড়ে ছয়দিন বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেয়ার সুযোগ পেয়েছে।

বেসরকারি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) গবেষণায় এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মজুমদার।

ক্যাপসের গবেষণা তথ্যের উল্লেখ করে কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণে আবহাওয়াজনিত ও ভোগোলিক কারণ ছাড়াও নগর পরিকল্পনায় ঘাটতি, আইনের দুর্বলতা, আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতাসহ মানবসৃষ্ট নানা কারণ রয়েছে। অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং নির্মাণ কাজ থেকে সবচেয়ে বেশি ৩০ শতাংশ এবং ইটভাটা ও শিল্প-কারখানা থেকে ২৯ শতাংশ দূষণ হয়ে থাকে।

এছাড়া ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য যানবাহনের কালো ধোঁয়া ১৫, আন্তঃদেশীয় বায়ুপ্রবাহ ১০, গৃহস্থালি ও রান্নার চুলা থেকে নির্গত পদার্থ ৯ এবং বর্জ্য পোড়ানো ৭ শতাংশ দায়ী।

‘বিপজ্জনক মাত্রায় ঢাকার বায়ুদূষণ: জনস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যও তুলে ধরা হয়।

বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ক্যাপস চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৮ সালে দেশে বায়ুদূষণজনিত রোগে মারা যায় প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে শুধু ঢাকাতেই ১০ হাজার মানুষ মারা গেছে।

দ্য ইকনোমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তথ্য বলছে, পৃথিবীর বসবাস অযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। রাজধানী শহরগুলোর মধ্যেও দূষণে ঢাকা দ্বিতীয়। বায়ুদূষণের দিক দিয়ে ২০২০ ও ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে শীর্ষ অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।

ক্যাপসের ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ছয় বছরের জানুয়ারি মাসের বায়ুমান সূচকের তথ্য বলছে, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে গড় বায়ুদূষণের পরিমাণ বেড়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের চেয়ে ২০২১ সালে গড় বায়ুদূষণ বেড়েছে ৭ শতাংশ।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের টানা ২৫ দিনে ঢাকার মানুষ একদিনের জন্যও বিশুদ্ধ বায়ুতে শ্বাস নেয়ার সুযোগ পায়নি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, গত ছয় বছরের মধ্যে ঢাকার মানুষ মাত্র ২ শতাংশ বা ৩৮ দিন বিশুদ্ধ বায়ু গ্রহণ করেছে। এ সময়ের মধ্যে ২৬ শতাংশ বা ৫১০ দিন চলনসই মানের বায়ু, ২৯ শতাংশ বা ৫৭৭ দিন সংবেদনশীল বায়ু, ২২ শতাংশ বা ৪৪৩ দিন অস্বাস্থ্যকর, ১৯ শতাংশ বা ৩৮৫ দিন খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ২ শতাংশ বা ৩৭ দিন দুর্যোগপূর্ণ বায়ুতে শ্বাস নিয়েছে ঢাকাবাসী।

ছয় বছরের গবেষণার তথ্য বলছে, ঢাকা শহরে বায়ুর মান সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকে রাতে। বিকেল ৪টার পর থেকে বায়ুর মান খারাপ হতে শুরু করে। রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ খারাপ অবস্থায় পৌঁছে। গত ছয় বছরে রাত ১টার সময় বায়ুমান সূচক ছিল ১৬২।

দূষণের কারণ হিসেবে কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, রাত ১০টার পর উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে প্রচুর মালবাহী ট্রাক ঢাকায় প্রবেশ করে। এতে রাতে প্রচুর বায়ুদূষণ হয়। এছাড়াও রাতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা শহরের রাস্তা ঝাড়ু দেয়ায় বাতাসে ধূলাবালি উড়তে থাকে। রাত ৩টার পর থেকে বায়ুর মানের উন্নতি হয়। তবে অফিসগামী মানুষ এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চাপে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বায়ুদূষণে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকে। সকাল ১০টার পর থেকে বায়ুদূষণ ক্রমান্বয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কম দেখা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে ১৫টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা শহরে প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর পানি ছিটানো, নির্মাণ স্থান ঘেরাও দিয়ে রাখা ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সময় ঢেকে রাখা, রাস্তার ধূলা সংগ্রহে সাকশন ট্রাকের ব্যবহার করা, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে উন্নত প্রযুক্তির বিকল্প ইটের প্রচলন বাড়ানো, ব্যক্তিগত ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে নম্বর প্লেট অনুযায়ী জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে গাড়ি চলার প্রচলন করা।

মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপ হিসাবে প্রচুর গাছ লাগানো ও ছাদ বাগান উৎসাহিত করা, ঢাকার আশপাশে জলাধার সংরক্ষণ, আলাদা সাইকেল লেন, ইটের বিকল্প স্যান্ড বক্ল ব্যবহার, সিটি গভর্নেন্স প্রচলনের মাধমে সেবা সংস্থার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করা ইত্যাদি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আর দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে নির্মল বায়ু আইন-২০১৯ যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বাজেট বাড়ানো, নিয়মিত বায়ু পর্যবেক্ষণ স্টেশনের (ক্যামস) ব্যাপ্তি বাড়ানো, জনসচেতনতা তৈরি, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সরকারি সেবায় পরিবেশ ক্যাডার সার্ভিস এবং পরিবেশ আদালত চালু ও কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ক্যাপসের গবেষণা বলছে, ২০২১ সালে ঢাকা শহরের ১০টি এলাকার বায়ুতে বস্তুকণা ছিল বছরে গড়ে প্রতি ঘনমিটারে ৬৩ মাইক্রোগ্রাম। এই মাত্রা বার্ষিক আদর্শ মানের চেয়ে প্রায় ৪ দশমিক ২ গুণ বেশি। এ বছর সবচেয়ে বেশি দূষিত ছিল তেজগাঁও এলাকা। পরের স্থানে রয়েছে শাহবাগ, আহসান মঞ্জিল, আবদুল্লাহপুর, মতিঝিল, ধানমণ্ডি-৩২, সংসদ ভবন, আগারগাঁও, মিরপুর-১০ ও গুলশান-২।

আরও পড়ুন:
সেনাবাহিনী প্রধানের রমিজ উদ্দিন কলেজ আন্ডারপাস পরিদর্শন
দুস্থদের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ

শেয়ার করুন

গাভী কেটে গোশত ‘চুরি’, পড়ে রইল গর্ভের বাছুর

গাভী কেটে গোশত ‘চুরি’, পড়ে রইল গর্ভের বাছুর

গাভী জবাই করে ফেলে রাখা হয় গর্ভের মৃত বাছুর। ছবি: ফেসবুক

মাধবদী বাজারের এম এ হালিম জানান, গভীর রাতে তার খামারের তালা ভেঙে পশুটি চুরি করা হয়। পরদিন খামারের পাশেই পড়ে থাকতে দেখেন এর চামড়া ও গর্ভের নাড়িভুঁড়িসহ মৃত বাছুর।

নাড়িভুঁড়ির পাশে মৃত বাছুরের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। ছবির সঙ্গে দেয়া পোস্টে বলা হচ্ছে, গর্ভবতী গাভী কেটে মাংস নিয়ে গেছে চোরেরা। ফেলে রেখে গেছে গর্ভের বাছুরটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ঘটনাটি নরসিংদীর মাধবদীর খোর্দ্দনওপাড়া গ্রামের। সেখানকার এক ব্যক্তির অভিযোগ, তার খামার থেকে গাভীটি চুরি হয় গত ২৪ জানুয়ারি।

ওই ব্যক্তি হলেন মাধবদী বাজারের এম এ হালিম। তিনি জানান, গভীর রাতে তার খামারের তালা ভেঙে পশুটি চুরি করা হয়। পরদিন খামারের পাশেই পড়ে থাকতে দেখেন এর চামড়া ও গর্ভের নাড়িভুঁড়িসহ মৃত বাছুর।

হালিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যবসার পাশাপাশি বহু বছর ধরে পশুর খামার করেছি। বছর তিনেক আগেও খামারভর্তি পশু ছিল। এখন অল্প কয়েকটা আছে।

‘কয়েক মাস আগেও একটা ষাঁড় গরু চুরি হয়ে যায় খামার থেকে। এবার ১০ মাসের গর্ভবতী গাভীটা জবাই করে গোশত নিয়ে পালিয়ে গেল চোর।’

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সৈয়দুজ্জামান জানান, গাভী চুরির ঘটনায় খামার মালিক অভিযোগ দিয়েছেন। জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
সেনাবাহিনী প্রধানের রমিজ উদ্দিন কলেজ আন্ডারপাস পরিদর্শন
দুস্থদের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ

শেয়ার করুন

আগামী বছর চালু জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল

আগামী বছর চালু জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল

আগামী বছর চালু জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল। ফাইল ছবি

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ভবিষ্যতে জাপানি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে আড়াইহাজারে স্থাপিত অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে।’

আগামী বছরই উৎপাদনে যাচ্ছে দেশে বিশেষায়িত জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল। রাজধানীর অদূরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এটি গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষায়িত এ অঞ্চলটির এখন প্রস্তুতি শেষ প্রান্তে। বিনিয়োগে আাগ্রহী জাপানি উদ্যোক্তারা এখানে বিভিন্নখাতে বিনিয়োগ করবেন।

বৃহস্পতিবার ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসে এমন তথ্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।

আলোচনায় জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ভবিষ্যতে জাপানি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে আড়াইহাজারে স্থাপিত অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে।

‘এ আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো বিকশিত করার সুযোগ রয়েছে। এজন্য বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও সহজ করতে হবে।’

বিশেষ করে পরিচালন মূলধনের জন্য ঋণের যোগান, ঋণপত্র খুলতে বিলম্ব, আয়কর ও ভ্যাটের উচ্চহার, বন্ড লাইসেন্সের নবায়ন জটিলতা এবং ইপিজেডের কারখানাগুলোর সঙ্গে বাইরের শিল্পের মজুরি পার্থক্যকে জাপানি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা বলে মন্তব্য করেন দেশটির রাষ্ট্রদূত। এসব সমস্যার সমাধান হলে এদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে মনে করেন ইতো নাওকি।

জবাবে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শতাধিক জাপানি কোম্পানি বহু বছর ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা করে আসছে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পেও বাংলাদেশের অন্যতম বড় অংশীদার জাপান।

‘তা ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারের আকারও বেড়েছে। এদেশে জাপানি পণ্যের জনপ্রিয়তাও তূলনামূলক বেশি। তাই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা যেকোন জাপানি কোম্পানির লাভজনক হবার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’

এ সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের নেয়া অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন নীতি সহায়তার কথা তুলে ধরেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর সহ-সভাপতি আমিন হেলালী ও মো. হাবিব উল্লাহ ডন, পরিচালক মো. নাসের, প্রীতি চক্রবর্তী ও মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

আরও পড়ুন:
সেনাবাহিনী প্রধানের রমিজ উদ্দিন কলেজ আন্ডারপাস পরিদর্শন
দুস্থদের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ

শেয়ার করুন

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার ঘোষণার দাবি ইনুর

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার ঘোষণার দাবি ইনুর

বৃহস্পতিবার প্রথম জাতীয় সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও সাংসদ হাসানুল হক ইনু। ছবি: নিউজবাংলা

সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাটা মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি দেয়া দরকার। সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। পাঁচ থেকে সাত বছর লাগবে। এ জন্য আগামী স্বাস্থ্য খাতে আরও বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে অসংক্রামক রোগ কমে আসবে।’

জনগণের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি দেয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও সাংসদ হাসানুল হক ইনু।

বৃহস্পতিবার প্রথম জাতীয় সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের বিকেলে চতুর্থ পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য এ কথা বলেন।

এই পর্বে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বি। সভাপতিত্ব করেন আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও আয়োজক কমিটির বৈজ্ঞানিক সেক্রেটারি ডা. আলেয়া নাহিদ।

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাটা মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃতি দেয়া দরকার। সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। পাঁচ থেকে সাত বছর লাগবে। এ জন্য আগামী স্বাস্থ্য খাতে আরও বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে অসংক্রামক রোগ কমে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ মানে অছোঁয়াচে রোগবালাই। আমরা এখন ছোঁয়াচে রোগের ধাক্কায় আছি। অসংক্রমণ রোগ যাতে প্রতিরোধ করা যায়, সে জন্যই সম্মেলন।

চিকিৎসক ডা. সামিউল ইসলাম সাদি বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ আমাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত। জীবনযাত্রার মানে পরিবর্তন আনতে পারলে তাহলেই কিন্তু আমরা এটা থেকে অনেকাংশে ভালো থাকতে পারি। আমরা যদি নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ না করি, স্থূলতা, ধূমপান পরিহার না করি, হাঁটাচলা না করি, ব্যায়াম না করি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পরি, তাহলে হাসপাতাল তৈরি করে কখনও আমরা রোগীর চাপ সামাল দিতে পারব না।’

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা রোগ এবং রোগের চিকিৎসায় গুরুত্ব দিই। কিন্তু রোগের প্রতিরোধের যে বিষয় আছে, আমরা যদি সেই দিকে গুরুত্ব দিই, তাহলে অনেক সমস্যা থেকে উত্তরণ করতে পারব। প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

‘ক্যানসারের বেলায় আমার খুব দেরিতে ডায়াগনোসিস করি। তখন আর কিছু করার থাকে না। বায়ুদূষণের কারণে আমরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৩০ শতাংশ বায়ুদূষণ পার্শ্ববর্তী দেশের কারণে হয়ে থাকে।

‘আমরা যদি অসংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে এখনই যুদ্ধের মনোভাব নিয়ে না নামি, তাহলে এর ব্যাপকতা দিন দিন বাড়তেই থাকবে। সামাজিক আন্দোলন ছাড়া এর ব্যাপকতা রোধ করা সম্ভব না।’

ডা. আব্দুন নুর তুষার বলেন, ‘মানুষের গড় আয়ু বাড়ায় অসংক্রামক রোগসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি বাড়ছে। নতুন নতুন রোগও এ তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। আমাদের দেশ ছোট, মানুষ বেশির কারণে আমরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছি। অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।’

সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল বলেন, ‘অসংক্রামক রোগের জন্য আমরাই দায়ী। আমরা নিজেরাই খেলার মাঠ দখল করে রেখেছি। আমরা খাল দখল করে রেখেছি। সুতরাং সেই পরিবেশটা আমরা দিতে পারছি না। আসুন, আমরা সবাই মিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে অসংক্রামক রোগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরি।’

সে জন্য পাড়া-মহল্লাসহ বিভিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্পেইন করার তাগিদ দেন তিনি।

মেয়র বলেন, ‘আমার যারা মিরপুরে থাকি সেখানে পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৭৩ একর জমি আছে। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়। এর মধ্যে মাত্র তিন একর জমি বাদে বাকি ১৭০ একর জমি দখল হয়ে গেছে। সুতরাং একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের কিন্তু পানি চলে আসছে। কিছু কিছু রোগের জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। আমাদের বাইরের খাবার না খেয়ে ঘরের খাবার খেতে হবে। ভেজাল মুক্ত খাবার খেতে হবে।’

কোভিড আক্রান্ত থাকার কারণে জুমে যুক্ত হয়ে কি-নোট উপস্থাপন করেন প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল।

তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ব্যাপকতা দেখা দেয়ার আগ পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিষয়ক সাংবাদিকতার গুরুত্ব ছিল না। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির রিপোর্ট ছাড়া আর কোনো স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুসন্ধানী রিপোর্ট খুব একটা চোখে পড়ে না। এর কারণও আছে। যে ধরনের প্রশিক্ষণ পাওয়া দরকার, স্বাস্থ্যবিষয়ক সাংবাদিকরা সেই ধরনের প্রশিক্ষণ পান না। এনসিডির (নন-কনটাজিয়াস ডিজিসেস) বিরুদ্ধে আমাদের দেশে তেমন কোনো আন্দোলন নেই। চোখে পড়ে না। ডায়াবেটিস নিয়ে কিছুটা চোখে পড়ে।’

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম সাদি, বিএসএমএমইউর পাবলিক হেলথ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রোমেন রাইহান। প্যানেল আলোচক ছিলেন ইএএসডির উপদেষ্টা ডা. আব্দুন নুর তুষার, সিডার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. জহিরুল ইসলাম, ব্রিটিশ হাইকমিশনের হেলথ অ্যাডভাইজার ডা. শফিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
সেনাবাহিনী প্রধানের রমিজ উদ্দিন কলেজ আন্ডারপাস পরিদর্শন
দুস্থদের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ

শেয়ার করুন

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি

ইউজিসির এক সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আভাস পাওয়া গেছে। তাকে অপসারণ করা হবে নাকি পদত্যাগ করতে বলা হবে, সে বিষয়টি মহামান্য রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে দিতে সরকারের তৎপরতা শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে নিউজবাংলা।

তবে মন্ত্রণালয় থেকে সম্ভাব্য নতুন উপাচার্যের কোনো তালিকা ইউজিসিতে পাঠানো হয়নি। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আভাস দিয়েছেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে বলা হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে গিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের কথাতেও তেমন ইঙ্গিত ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে নীতি নির্ধারক পর্যায়ে যোগাযোগ করে নিউজবাংলা। ইউজিসির একজন সদস্য নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আভাস পাওয়া গেছে। তাকে অপসারণ করা হবে নাকি পদত্যাগ করতে বলা হবে, সে বিষয়টি মহামান্য রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।’

এ ক্ষেত্রে ইউজিসির বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘শাবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তিন জনের একটি তালিকা মঞ্জুরি কমিশনে আসার কথা। তবে এমন কোনো তালিকা আমরা এখনও পাইনি। উপাচার্য নিয়োগের যে তালিকা পাঠানো হয় সেখানে ইউজিসি শুধু মতামত প্রদান করে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আসেনি।’

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘উপাচার্যকে সরানো হবে কিনা, সেটি মহামান্য রাষ্ট্রপতির বিষয়। আমি সেটি নিয়ে কথা বলতে চাই না।’

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?
উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে অনশনে শাবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শাবিপ্রবির উপাচার্যকে সরিয়ে দিতে পূর্বসূরীদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে।

মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হতে পারে। তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা গ্রহণ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি।’

উপাচার্যের বিদায়কে সম্মানজনক করতেই এ পথ বেছে নেয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ তা বাস্তবায়ন করা হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, যে কোনো সময় আসতে পারে এমন ঘোষণা।

একজন উপাচার্যকে কোন প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা যায়, তা জানতে চাওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব ড. ফেরদৌস জামানের কাছে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়োগপত্রেই বলা থাকে: আচার্য্য যে কোনো সময় চাইলে তাকে অপসারণ করতে পারেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, উপাচার্যদের বিদায়কে সম্মানজনক করা কিংবা একজন উপাচার্যকে অসম্মান করতে না চাইলে, তখন পদত্যাগ করতে বলা হয়। তিনি পদত্যাগপত্র পাঠালে সেটি আচার্য্য গ্রহণ করেন।’

তিনি বলেন, ‘তবে আচার্য্য চাইলে যে কোনো সময় যে কোনো উপাচার্যকে রিমুভ করতে পারেন।’

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?
উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীদের পাশে অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক। ছবি: নিউজবাংলা

কে হচ্ছেন নতুন উপাচার্য

শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে নেয়া হতে পারে এমন আলোচনা বৃহস্পতিবার থেকে চাউর হয়েছে ক্যাম্পাসে। পরবর্তী উপাচার্য কে হতে পারেন, তা নিয়ে চলছে আলোচনা। যদিও এ বিষয়ে শিক্ষকদের কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি।

অনশন ভাঙানোর সময় মুহাম্মদ জাফর ইকবালও আশ্বাস দেন, শিক্ষার্থীদের দাবি সরকার মেনে নেবে। সরকারের উচ্চ মহল থেকে তাকে এই আশ্বাস দেয়া হয়েছে বলে জানান জাফর ইকবাল।

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকেই কাউকে উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। পরবর্তী উপাচার্য হিসেবে দুজনের নাম আলোচিতও হচ্ছে। তারা হলেন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম এবং শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস।

এ দুজনের মধ্য থেকে একজনকে পরবর্তী উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে নিয়োগ দেয়ার আগেও উপাচার্য হিসেবে এ দুজনের নাম আলোচিত হয়েছিল।

তবে এমন কিছু জানেন না জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ রকম কিছু আমি শুনিনি। বর্তমান উপাচার্যকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে কী না তাও আমার জানা নেই।’

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?
শাবির ফটকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের অবরোধ। ছবি: নিউজবাংলা

উপাচার্যের দায়িত্ব দিলে গ্রহণ করবেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তুলসী দাস বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ সরকারের বিষয়। এ বিষয়ে আমার কিছুই বলার নেই।’

নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলামও। তিনি বলেন, ‘একজন উপাচার্য দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি চলে যাবেন বলে কিছু আমি শুনিনি। নতুন উপাচার্যের ব্যাপারে কোনো আলোচনাও আমি শুনিনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরিয়ে নেয়া হতে পারে বা তিনি পদত্যাগ করতে পারেন এমন আলোচনা রয়েছে। তাকে সম্মানজনকভাবে সরানোর পথ হয়তো খোঁজা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককেই উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়াটা ভালো। বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সবকিছু জানা থাকলে তার পক্ষে পরিচালনা করাটা সহজ।’

ওই শিক্ষক বলেন, ‘উপাচার্য হিসেবে যে দুজন শিক্ষকের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা শিক্ষকদের আওয়ামীপন্থি একটি প্যানেলের নেতা। যদিও আনোয়ারুল হক ট্রেজারারের দায়িত্ব নেয়ার পর আর সরাসরি কোনো বলয়ের সাথে যুক্ত নন। তবে আগে এই প্যানেলে সক্রিয় ছিলেন। একটি বলয়ের নেতা হওয়ায় তাদের পক্ষে সার্বজনীন হয়ে ওঠা কতোটা সম্ভব হবে এবং অন্য প্যানেলের শিক্ষকরাইবা কতোটা মেনে নেবেন এ নিয়ে সন্দেহ আছে।’

কে নতুন উপাচার্য হতে পারেন, এটি এখনকার আলোচ্য বিষয় নয় বলে উল্লেখ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘আমরা চাই উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। তাকে আর একদিনও আমরা ক্যাম্পাসে দেখতে চাই না। এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?

২০১৭ সালের আগস্টে প্রথম দফায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ২০২১ সালের ৩০ জুন উপাচার্য পদে তাকে তিন বছরের জন্য পুনর্নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।

৫০ বছরে মাত্র একবারই উপাচার্য অপসারণ

উপাচার্য নিয়োগ বা অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হলেও অপসারণের নজির খুব একটা নেই। দেশের ৫০ বছরে ইতিহাসে একজন উপাচার্যকে অপসারণ করা হয়েছিল।

সেটাও তিন দশক আগের কথা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীনকে ১৯৯২ সালে তৎকালিন বিএনপি সরকারের আমলে ছাত্র শিবিরের আন্দোলনের মুখে অপসারণ করেন রাষ্ট্রপতি।

তবে পদত্যাগের উদাহরণের সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শাসনের গত ১৩ বছরে পাঁচ জন উপাচার্য পদত্যাগ করেছেন। তাদের সবাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন।

২০০৮-এ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠনের পরপরই উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে মুখর হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তখন ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ওই সময়ের উপাচার্য এস এম এ ফায়েজ।

২০১২ সালে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে খুন হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী জুবায়ের আহমেদ। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য শরীফ এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে এ আন্দোলনে যুক্ত হন শিক্ষক-কর্মচারীরাও। সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে এক পর্যায়ে শরীফ এনামুল কবির পদত্যাগ করে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন ডাকেন।

উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেলেও তাকে আর নিয়োগ দেননি রাষ্ট্রপতি। সে সময় নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। ছবি: ফেসবুক

বছর না গড়াতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আবারও উত্তাল হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সে সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় সবপন্থি শিক্ষক মিলে গড়ে তোলেন আন্দোলনে। এক পর্যায়ে ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর পদত্যাগ করেন অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন।

২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ বলে গালি দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে পড়েন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য এস এম ইমামুল হক। ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ওই বছরের ১১ এপ্রিল ছুটিতে যান তিনি। ২৭ মে চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ছুটিতেই ছিলেন।

২০১৯ সালেই আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার ঘটনায় উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন তিনি।

শাবিতে আন্দোলনের শুরু যেভাবে

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ সে সময় সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছোড়ে। এ ঘটনায় পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অর্ধশত আহত হন।

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে শাবি উপাচার্যকে?

সে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন নামেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, উপাচার্যই পুলিশ ডেকে তাদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন। এ কারণে তারা উপাচার্যের পদত্যাগ চান। বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ ছিলেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

১৯ জানুয়ারি বেলা ৩টা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী।

দাবি আদায়ে সাবেক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের আশ্বাসে ২৬ জানুয়ারি অনশন ভাঙ্গেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
সেনাবাহিনী প্রধানের রমিজ উদ্দিন কলেজ আন্ডারপাস পরিদর্শন
দুস্থদের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ

শেয়ার করুন

করোনা আক্রান্ত সন্ধ্যাকে অ্যাপোলোয় স্থানান্তর

করোনা আক্রান্ত সন্ধ্যাকে অ্যাপোলোয় স্থানান্তর

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

মমতা বলেন, ‘হার্টের সমস্যার মধ্যে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় করোনা আক্রান্ত হলেন। গীতশ্রীর হৃদযন্ত্রে বেশ কিছু সমস্যা ধরা পড়েছে। এসএসকেএমের উডবার্নে করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

করোনা আক্রান্ত প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে এসএসকেএম হাসপাতালে দেখতে গেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শিল্পীর চিকিৎসায় নিযুক্ত চিকিৎসকদের কাছে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় কোভিড আক্রান্ত। তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে বর্ষীয়ান এই শিল্পীকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মমতা নিজেই সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি শিল্পীর লেক গার্ডেন্সের বাড়ি থেকে তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

সন্ধ্যায় গীতশ্রীকে দেখতে হাসপাতাল যান মুখ্যমন্ত্রী।

সেখানে মমতা বলেন, ‘হার্টের সমস্যার মধ্যে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় করোনা আক্রান্ত হলেন। গীতশ্রীর হৃদযন্ত্রে বেশ কিছু সমস্যা ধরা পড়েছে। এসএসকেএমের উডবার্নে করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

মঙ্গলবার থেকে অসুস্থ সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় বাড়িতে বাথরুমে পড়ে কোমরে ব্যথা পান। বুধবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়, জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার আরও অবনতি হলে তাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তির উদ্যোগ নেন মমতা।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গীতশ্রীর চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছে রাজ্য সরকার। তার চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি থাকবে না। তার চিকিৎসায় গঠন হয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে টিম।’

মঙ্গলবার ভারত সরকারের দেয়া পদ্মশ্রী সম্মান প্রত্যাখ্যান করেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। কেন্দ্রের পদ্মশ্রী পুরস্কার গীতশ্রীর কাছে অপমানের শামিল বলে প্রতিবাদে সোচ্চার হন পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীরাও।

বুধবার সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
সেনাবাহিনী প্রধানের রমিজ উদ্দিন কলেজ আন্ডারপাস পরিদর্শন
দুস্থদের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ

শেয়ার করুন

লবিস্ট ফার্মে দেয়া অর্থের হিসাব দিতে হবে বিএনপিকে: প্রধানমন্ত্রী

লবিস্ট ফার্মে দেয়া অর্থের হিসাব দিতে হবে বিএনপিকে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি ভিডিও থেকে নেয়া

নির্বাচন সামনে রেখে লবিস্টের অর্থের হিসাব দিতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর, ২০০১ থেকে ক্ষমতায় থেকে জনগণের টাকা লুট করে, পাচার করে, সেই টাকা দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত। কেন? যাদের দেশপ্রেম নেই, জনগণের প্রতি যাদের দায় নেই, জনগণের মঙ্গল চায় না, তারাই বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থামাতে চায়।’

অর্থ পাচার করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করতে লবিস্ট ফার্মে বিনিয়োগ করা কোটি কোটি ডলারের হিসাব বিএনপিকে দিতে হবে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার জন্য দেশটির প্রশাসনকে নয়, বরং ‘ঘরের ইঁদুর’ বিএনপিকে দুষছেন সরকারপ্রধান।

জাতীয় সংসদে শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

লবিস্ট ফার্মে বিএনপির বিনিয়োগের একটি তালিকা দেখিয়ে তা স্পিকারের কাছে জমা দেয়া হবে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কত লাখ ডলার এই বিএনপি খরচ করেছে। লাখ লাখ ডলার তারা লুট করেছে, কোটি কোটি ডলার তারা বিনিয়োগ করেছে। আমার প্রশ্ন, এই অর্থ তারা কোথা থেকে পেল? এটা তো বৈদেশিক মুদ্রা। এই বৈদেশিক মুদ্রা তারা কোথা থেকে পেয়েছে? কীভাবে খরচ করেছে? কীভাবে তারা লবিস্ট রেখেছে?

‘সেই লবিস্ট কিসের জন্য? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানোর জন্য, নির্বাচন বানচাল করার জন্য, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য, জঙ্গিদের রক্ষার জন্য, জাতির পিতার হত্যাকারীদের রক্ষার জন্য, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সেটাকে বাধা দেয়ার জন্য। কোনো ভালো কাজের জন্য নয়।’

অসত্য তথ্য দিয়ে বিএনপি সবাইকে বিভ্রান্ত করে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, এই অর্থ কীভাবে বিদেশে গেল, বিদেশি ফার্মকে লাখ লাখ কোটি কোটি ডলার তারা পেমেন্ট করল, জবাব তাদের দিতে হবে, ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

নির্বাচন সামনে রেখে লবিস্টের অর্থের হিসাব দিতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর, ২০০১ থেকে ক্ষমতায় থেকে জনগণের টাকা লুট করে, পাচার করে, সেই টাকা দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত। কেন? যাদের দেশপ্রেম নেই, জনগণের প্রতি যাদের দায় নেই, জনগণের মঙ্গল চায় না, তারাই বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থামাতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে, আস্থা আছে, ওই সব কথায় তারা বিভ্রান্ত হয় না। আমার বিশ্বাস।’

‘ঘরের ইঁদুর বাঁধ কাটলে কাকে দোষ দেবেন?’

র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা নিয়ে দেশটির কড়া সমালোচনা করেন সরকারপ্রধান। তুলে ধরেন হলি আর্টিজান পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দেয়ার বিষয়টি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাদের তারা স্যাংশন দিল, তাদের হিসাব যদি করি তারা সন্ত্রাস দমনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল। তারা কেন আমেরিকার কাছে এত খারাপ হলো। সব থেকে ভালো ভালো অফিসার যারা সেই অপারেশনে (হলি আর্টিজান) ছিল। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে কিন্তু আর কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটতে পারেনি।’

জনগণকে সম্পৃক্ত করেই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ সাফল্য পেয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমার মনে হয় যারা সন্ত্রাস দমনে সফল, যারা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ থেকে দেশটাকে রক্ষা করতে পেরেছে, সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করেছে, সাধারণ মানুষের মানবাধিকার সংরক্ষণ করেছে, তাদের ওপরই যেন আমেরিকার রাগ।’

তার পরও আমেরিকাকে দোষ দিতে চান না প্রধানমন্ত্রী। নিজের যুক্তি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমেরিকাকে আমি দোষ দিই না। ঘরের ইঁদুর বাঁধ কাটলে কাকে দোষ দেবেন?’

নির্বাচন প্রসঙ্গ

পঁচাত্তর-পরবর্তী দেশে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল এবং নির্বাচনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন ইলেকশন- এটাই তো প্রমাণ করে দেয় আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু হতে পারে এবং হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা করা আমাদের কাজ, কেড়ে নেয়া নয়। আমরা সেটা রক্ষা করে যাচ্ছি এবং যাব।’

নির্বাচন কমিশন গঠনে পাস হওয়া বিল এই অধিবেশনে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিলে ২২টি সংশোধনী বিরোধী দলের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির সংশোধনী, বিএনপির সংশোধনী, জাসদের সংশোধনী, ওয়ার্কার্স পার্টির সংশোধনী- সবার সংশোধনী গ্রহণ করেছি। তাতে এই বিল আর সরকারি বিল না, এটা বিরোধী দলের তৈরি করা বিল হয়ে গেছে। একটা বিলে যদি ২২টি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়, এটা অধিকাংশই তো হয়ে গেল বিরোধী দলের।’

বিএনপি শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনাও তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, ‘আজ ২৭ জানুয়ারি, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়া সাহেবকে গ্রেনেড মেরে হত্যা করা হয়েছিল। সেই হত্যাকাণ্ডেও বিএনপি জড়িত। সেটাও বেরিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে এই বিচারের কাজটায় বারবার বাধা দিচ্ছে তার পরিবার। যখন বিচারকাজ শুরু হয়, তখন একটা বাধা দেয়। কেন দেয় আমি জানি না।’

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার পর কারান্তরীণ দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সময়ে দেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করার বিষয়ে নিজের ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘চিন্তা করেছিলাম এই দেশটাকে আমি এভাবে পিছিয়ে যেতে দেব না।’

পঁচাত্তর-পরবর্তী তার শরণার্থী জীবনের কথাও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে এবং স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিজ্ঞা নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম।’

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক বাধা, অনেক বিপত্তি, অনেক গুলি, অনেক গ্রেনেড, অনেক কিছুই, অনেক অপপ্রচার- আমি কখনও ওসব নিয়ে চিন্তা করিনি। আমি জানি ন্যায় ও সত্য পথে থাকলে, একটা লক্ষ্য স্থির করে চললে, সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব। সেই লক্ষ্য আমরা অর্জন করতে পেরেছি।’

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অর্থনীতি কিছুটা পিছিয়ে গেছে বলে জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা। তার মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। এমনকি আমেরিকার মতো দেশে আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। কিন্তু আমি বলতে পারি, বাংলাদেশে কেউ দারিদ্র্যসীমার নিচে যায়নি এই করোনাকালে। বরং দারিদ্র্যের হার বিএনপির আমলের ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি, আমি বিশ্বাস করি আমরা আরও কমাতে পারব।’

দেশে খাদ্য ঘাটতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত আছে। সামনে বোরো ধান আসবে। খাদ্যের কোনো ঘাটতি হবে না। কিছু জায়গায় দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়, সেটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় আমরা দেখছি।’

করোনাভাইরাসের সংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নিয়ে সতর্ক করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন:
সেনাবাহিনী প্রধানের রমিজ উদ্দিন কলেজ আন্ডারপাস পরিদর্শন
দুস্থদের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ

শেয়ার করুন