আইআইডিএফসির নতুন চেয়ারম্যান আতাউর রহমান প্রধান

player
আইআইডিএফসির নতুন চেয়ারম্যান আতাউর রহমান প্রধান

বাম থেকে আতাউর রহমান প্রধান, সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ও সেলিম আর. এফ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

আইআইডিএফসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি (আইআইডিএফসি) লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ আগামী দুই বছরের (২০২২-২০২৩) জন্য চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ইসি চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে।

কোম্পানির নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউর রহমান প্রধান।

ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। একই সঙ্গে ইসি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর. এফ হোসেন।

আইআইডিএফসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।

সোনালী ব্যাংকের এমডি আতাউর রহমান প্রধান আইআইডিএফসির একজন ডিরেক্টর। এর আগে তিনি রূপালী ব্যাংক লিমিটেড এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আইসিবি, পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড এবং সিডিবিএলের একজন বোর্ড সদস্য। তিনি অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) এবং ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (আইবিবি) ভাইস চেয়ারম্যান।

সৈয়দ মাহবুবুর রহমানও আইআইডিএফসির একজন ডিরেক্টর। এর আগে তিনি ঢাকা ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। মাহবুবুর রহমান অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর সাবেক চেয়ারম্যান।

আইআইডিএফসির আরেকজন ডিরেক্টর সেলিম আর এফ হোসেন। এর আগে তিনি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেলিম আর এফ হোসেন অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর বর্তমান চেয়ারম্যান।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ব্যাংক উদ্যোক্তার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না সাকিবের

ব্যাংক উদ্যোক্তার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না সাকিবের

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। ফাইল ছবি

প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে চাইলে তাদের আবার নতুন করে অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে। এই ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক হতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং তার মা শিরিন আক্তার।

ব্যাংক উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন আপাতত অধরা থাকছে বিশ্বসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের।

প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক লিমিটেডের উদ্যোক্তা পরিচালক হতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বৃহস্পতিবার অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা পিপলস ব্যাংকের অনুকূলে আগে ইস্যু করা লেটার অব ইনটেন্ডের (এলওআই) শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের আবেদন বা‌তিল করে দেয়া হয়েছে।

ব্যাংকটি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে চাইলে তাদের আবার নতুন করে অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির সভায় সভাপতিত্ব করেন।

প্রস্তাবিত ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক হতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং তার মা শিরিন আক্তার।

সভার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত ব্যাংক‌টির এলওআইয়ের মেয়াদ ২০২১ সা‌লের ডি‌সেম্বর পর্যন্ত ছিল। নির্ধারিত সম‌য়ে যে‌হেতু তারা শর্ত পূরণ কর‌তে পা‌রেনি তাই তা‌দের সময় বাড়া‌নোর আবেদন বা‌তিল করা হয়েছে।’

তাহলে কি এই ব্যাংকটি আর কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এই নামেই যে ব্যাংক হবে না, বিষয়টি তেমন নয়। তবে তাদের আবেদনের সময় আর বাড়ানো হয়নি। সাকিব আল হাসানসহ যে ২২/২৩ জন যুক্ত হয়েছেন তাদের আবার নতুনভাবে আবেদন করতে হবে।’

আগের ১২ জন উদ্যোক্তা প‌রিচাল‌কের ম‌ধ্যে এখন শুধু প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান আবুল কা‌শেম ও তার স্ত্রী আছেন। নতুন ক‌রে আ‌রও ২১ জন প‌রিচাল‌কসহ মোট ২৩ জ‌ন আবেদন ক‌রে‌ছেন। এর ম‌ধ্যে সাকিব আল হাসানও আ‌ছেন।

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকিং ব্যবসার লাইসেন্স নিতে চেষ্টা করছে। তবে এলওআইর শর্ত পূরণ না হওয়ায় এ লাইসেন্স পাচ্ছিল না প্রতিষ্ঠানটি। ফলে কয়েক দফা এলওআইর মেয়াদ বাড়িয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সবশেষ এলওআইর মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ ডিসেম্বর।

তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের চুড়ান্ত লাইসেন্সও পাচ্ছে না ব্যাংকটি।

দেশের সব ব্যাংকের প্রতি পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে নির্দেশনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। সে হিসেবে বর্তমানে দেশে নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে হলে সমপরিমাণ অর্থই মূলধন হিসেবে জমা রাখতে হবে। উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হতে হলে প্রয়োজন হয় সর্বনিম্ন ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের। সে হিসেবে পিপলস ব্যাংকের প্রতিটি পরিচালক পদের জন্য সর্বনিম্ন ১০ কোটি টাকা মূলধন জোগান দেয়ার কথা ছিল সাকিব আল হাসানের। তবে ব্যাংকটির মালিকানায় আসতে তিনি ২৫ কোটি টাকারও বেশি মূলধন জোগান দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে তথ্য প্রকাশিত হয়।

এর আগে ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পরিচালনা পর্ষদের সভায় বেঙ্গল কমার্শিয়াল, সিটিজেনস ও পিপলস নামে নতুন তিনটি ব্যাংকের নীতিগত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে নতুন ব্যাংকের জন্য জুড়ে দেয়া হয় ৫০০ কোটি টাকা মূলধনের শর্ত, যা আগে ছিল ৪০০ কোটি।

এর মধ্যে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক চলতি বছরের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। আর চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার পর কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সিটিজেনস ব্যাংক।

পিপলস ব্যাংক উদ্যোক্তাদের কয়েকজনের অর্থের উৎসে অনিয়ম খুঁজে পেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটিকে দেয়া এলওআই স্থগিত করা হয়। এরপর বিতর্কিত উদ্যোক্তাদের বাদ দিলে পিপলস ব্যাংকের এলওআইয়ের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূলধনের অর্থ জমা দিতে পারেনি ব্যাংকটি।

শেয়ার করুন

সিআইপি কার্ড পেলেন ১৭৬ ব্যবসায়ী

সিআইপি কার্ড পেলেন ১৭৬ ব্যবসায়ী

ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৭৬ জন্য ব্যবসায়ীকে সিআইপি হিসেবে নির্বাচন করেছে সরকার।

সিআইপি মনোনীতরা বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য পাশ ও গাড়ির স্টিকার পাবেন। বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন কর্তৃক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন তারা।

ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৭৬ জন্য ব্যবসায়ীকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচন করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সিআইপি কার্ড তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দেশের মোট ২২টি খাতের ১৮টি পণ্য এবং সেবা খাত থেকে ২০১৮ সালের জন্য রপ্তানি খাতে ১৩৮ জন এবং ট্রেড্রে ৩৮ জনসহ মোট ১৭৬ জনকে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি-সিআইপি সম্মানে ভূষিত করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সিআইপি মনোনীতরা বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য পাশ ও গাড়ির স্টিকার পাবেন। বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন কর্তৃক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন তারা।

এ ছাড়া ব্যবসা সংক্রান্ত ভ্রমণে বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে সরকারি যানবাহনে তাদের আসন সংরক্ষণ অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশ এসডিজি অর্জন করবে।’

দেশের উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের অবদান অনেক মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের বিকল্প নেই।’

দেশের উন্নয়নে সরকার প্রধানের অবদানের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। সবগুলোই হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই।

মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের পর উন্নয়নশীল দেশের আনুষ্ঠানিক মর্যদা পাবে বাংলাদেশ। এরপর আমাদেরকে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হবে। এ জন্য আমাদের প্রস্তুতি দরকার। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য দক্ষতা বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রপ্তানি আয় বাড়াতে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ‘অল্পসংখ্যক পণ্য নিয়ে বিশ্ব রপ্তানি বাজারে ভালো করা যাবে না। এজন্য রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশ আছে, যেখানে বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের প্রচুর চাহিদা আছে। সেখানে আমাদের রপ্তানি করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে যেতে আমাদের সামনে সমস্যা অনেক, বাধা অনেক। দক্ষতার সাথে এগুলোকে অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হবে।’

শেয়ার করুন

রেমিট্যান্সে নগদ সহায়তার আওতা বাড়ল

রেমিট্যান্সে নগদ সহায়তার আওতা বাড়ল

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, ‘প্রবাসীদের আয় বৈধ উপায়ে দেশে আনাকে উৎসাহিত করতে বিদ্যমান হারে রেমিট্যান্স প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেয়ার জন্য কয়েকটি খাত যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, লিভ সেলারি, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অবসর সুবিধা।’

বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে নগদ সহায়তায় আওতা বাড়িয়েছে সরকার। এখন থেকে বিদেশি সংস্থায় কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিদের ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, লিভ সেলারি, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অবসর সুবিধার অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে আড়াই শতাংশ নগদ সহায়তা পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক আয় বৈধ উপায়ে দেশে আনাকে উৎসাহিত করতে বিদ্যমান হারে রেমিট্যান্স প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেয়ার জন্য কয়েকটি খাত যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, লিভ সেলারি, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অবসর সুবিধা।

‘রেমিট্যান্সের অর্থের আয়ের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে এবং আহরণের সঙ্গে সঙ্গে আবশ্যিকভাবে তা টাকায় রূপান্তর করতে হবে।’

নির্দেশনাটি সার্কুলার জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে। রেমিট্যান্স পাঠানোর বিপরীতে প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা সংক্রান্ত আগের ইস্যু করা নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ২৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল এক হাজার ২৯৪ কোটি ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ২৭০ কোটি ডলার।

শেয়ার করুন

ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন ২৮ হাজার টাকা

ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন ২৮ হাজার টাকা

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে, যা মার্চ থেকে কার্যকর হবে। এতে বলা হয়েছে, লক্ষ্য অর্জন করতে না পারলে বা অদক্ষতার অজুহাতে কোনো ব্যাংকারকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া যাবে না।

দেশে প্রথমবারের মতো ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বেসরকারি ব্যাংকের এন্ট্রি লেভেলে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের শিক্ষানবিশকালে ন্যূনতম বেতন-ভাতা হতে হবে ২৮ হাজার টাকা।

এ ছাড়া লক্ষ্য অর্জন করতে না পারলে বা অদক্ষতার অজুহাতে কোনো ব্যাংকারকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া যাবে না।

শিক্ষানবিসকাল শেষ হলে প্রারম্ভিক মূল বেতনসহ ন্যূনতম মোট বেতন-ভাতা হবে ৩৯ হাজার টাকা।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে, যা মার্চ থেকে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে বলেছে, অফিস সহায়কদের সর্বনিম্ন বেতন হতে হবে ২৪ হাজার টাকা। অদক্ষতার অজুহাতে বা লক্ষ্যপূরণ না করলে চাকরিচ্যুত করা যাবে না কোনো ব্যাংকারকে। সিইও এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন–ভাতার পার্থক্য যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যাংকিং সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখে গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবদান রেখে যাচ্ছেন।

‘এ প্রেক্ষিতে, ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যাতে আরও উজ্জীবিত হয়ে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন সে উদ্দেশ্যে এবং ব্যাংকের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা প্রদান করেছে।’

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ট্রেইনি সহকারী কর্মকর্তা (জেনারেল ও ক্যাশ), সহকারী কর্মকর্তাদের শিক্ষানবিশকালে সর্বনিম্ন বেতন-ভাতা হবে ২৮ হাজার টাকা। আর শিক্ষানবিশকাল শেষ হলে বেতন-ভাতা হবে ৩৯ হাজার টাকা।

আর ব্যাংকের অফিস সহায়কদের (নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মেসেঞ্জার) সর্বনিম্ন বেতন হবে ২৪ হাজার টাকা। পাশাপাশি যেসব ব্যাংক তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সেবা নেয়, তাদের বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে অফিস সহায়কদের বেতনকে বিবেচনায় নিতে হবে। তবে এই নির্দেশনা এজেন্ট ব্যাংকিং কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইওর সঙ্গে সর্বনিম্ন পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতার পার্থক্য যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা কমানো যাবে না। পাশাপাশি চাকরি স্থায়ী ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির জন্য আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একনিষ্ঠতা, নৈতিকতা, মনোবল ও কর্মস্পৃহা অটুট রাখার লক্ষ্যে তাদের যথাযথ বেতন-ভাতা প্রদান আবশ্যক। কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ করা গেছে, কিছু ব্যাংক এন্ট্রি লেভেলের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা যথাযথভাবে নির্ধারণ না করে ইচ্ছামাফিক নির্ধারণ করছে। একই ব্যাংকের অন্যান্য উচ্চপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের বিদ্যমান বেতন-ভাতার তুলনায় যা খুবই কম। উচ্চ এবং নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার মধ্যে এত অস্বাভাবিক ব্যবধান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বলেছে, কোনো কোনো ব্যাংকে একই পদে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ভিন্ন ভিন্ন বেতন-ভাতা প্রাপ্ত হচ্ছেন। আবার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারা বা অদক্ষতার অজুহাতে বিভিন্ন ব্যাংকে বেতন-ভাতার ভিন্নতার কারণে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নিজ প্রতিষ্ঠান মনে করে একনিষ্ঠ ও অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে ব্যাংকের কাজে মনোযোগী হওয়ার মনোভাব গড়ে ওঠে না। ফলে অদক্ষতা, অসম প্রতিযোগিতা ও নৈতিক অবক্ষয়সহ বিভিন্ন ধরনের জটিলতার উদ্ভব হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ জন্য ভবিষ্যতে মেধাবী ব্যক্তিরা যাতে ব্যাংকিংকে আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে আগ্রহী হন, সে লক্ষ্যে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

যেসব ক্ষেত্রে নির্দেশনা প্রযোজ্য নয়

ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় ব্যাংকিং সেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন আউটলেটে নিযুক্ত ব্যাংকের এজেন্টরা বা এজেন্টের মাধ্যমে নিযুক্ত ব্যক্তিরা বেতন-ভাতা বা পারিশ্রমিক চুক্তি বা স্ব স্ব এজেন্ট কর্তৃক নির্ধারিত হওয়ায় এ নির্দেশনা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের বেতন কাঠামো সরকার কর্তৃক জারিকৃত জাতীয় বেতনস্কেলের হওয়ায় ওইসব ব্যাংকগুলোর জন্য এই নির্দেশনা প্রযোজ্য নয়।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, সুশাসন ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪৫ এর উপ-ধারা (ঘ) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

এসএমই খাতের উন্নয়নে ডাটাবেজ হচ্ছে

এসএমই খাতের উন্নয়নে ডাটাবেজ হচ্ছে

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের শতকরা ৯৯ ভাগ শিল্প ও ব্যবসা কুটিরসহ এমএসএমই খাতের আওতাভুক্ত। এ খাত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। মোট কর্মসংস্থানের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ অবদান এসএমই খাতের।’

দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পের উন্নয়নে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের সহযোগিতায় দেশব্যাপী ই-ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার প্রাথমিকভাবে ঢাকার শ্যামপুর, বগুড়ার আদমদীঘি, পিরোজপুরের নেছারাবাদ এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরবে- এই চার উপজেলায় পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

এসএমই ফাউন্ডেশন বলেছে, এই ডাটাবেজে নিবন্ধিত হলে সহজে সেবা পাবেন এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা। এতে অনিয়মের পথ বন্ধ হবে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের শতকরা ৯৯ ভাগ শিল্প ও ব্যবসা কুটিরসহ এমএসএমই খাতের আওতাভুক্ত। এ খাত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। মোট কর্মসংস্থানের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ অবদান এসএমই খাতের।

‘এমন বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে, এসএমই ই-ডাটাবেজ কার্যক্রম অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। দেশের সব এসএমই উদ্যোক্তার তথ্য একটি প্ল্যাটফর্মে পাওয়া গেলে এ খাতের উন্নয়নে সরকারের নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।’

এ ধরনের কর্মসূচি অর্থনীতির প্রাণ এমএসএমই খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘অর্থনীতিতে অবদান রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ খাতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু নিয়মিত হালনাগাদকৃত ডাটাবেজ না থাকায় প্রায়ই এ খাত নিয়ে নানাবিধ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেগ পেতে হচ্ছে।

‘তাই আমি মনে করি, ডাটাবেজ গঠনের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং বাস্তবসম্মত। দেশের সব ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প খাতকে কীভাবে এই ডাটাবেজের আওতায় আনা যায়, তার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’

এসএমই উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, তহবিলের জোগান এবং বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের মধ্যে জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ৩২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এ খাতের উন্নয়নে এসএমই ই-ডাটাবেজ সরকারের নীতিনির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ই-ডাটাবেজ তৈরির কাজ শেষ হলে উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, পণ্য বাজারজাতকরণ এবং পণ্যের মানোন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত সর্বশেষ অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশের মোট ৭৮ লাখের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯ ভাগের বেশি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের। এই খাতের বিকাশ ধরে রাখতে হলে ডাটাবেজের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ইরাক

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ইরাক

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে বৃহস্পতিবার মতবিনিময় করেন ঢাকায় ইরাকের রাষ্ট্রদূত আব্দুলসালাম সাদ্দাম মোহিসেন। ছবি: নিউজবাংলা

ইরাকের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বাণিজ্যচুক্তি নবায়ন ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেন। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকে ইরাক সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের আলোচিত দেশ ইরাক।

দেশটি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোরও ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে বৃহস্পতিবার তার সরকারি বাসভবনে মতবিনিময়ের সময় বাণিজ্য-বিনিয়োগে আগ্রহ দেখান ঢাকায় ইরাকের রাষ্ট্রদূত আব্দুলসালাম সাদ্দাম মোহিসেন।

ওই সময় রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বাণিজ্যচুক্তি নবায়ন ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেন। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকে ইরাক সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘ইরাকের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এ জন্য উভয় দেশের সরকারি এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে বাণিজ্য প্রতিনিধি দল সফর বিনিময় করলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের খাতগুলো চিহ্নিত করা সহজ হবে।

‘ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ইরাকের সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। অনেকগুলোর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। পৃথিবীর অনেক দেশ বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে।

‘ইরাকের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সহজ করেছে এবং বেশ কিছু আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। ইরাক বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে এ সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।’

চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ইরাকে ৩.৮০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে ইরাক থেকে ৫৩.৪২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ।

ইরাকের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, মেডিকেল পণ্য, পাটজাত পণ্য, হোম টেক্স ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

শেয়ার করুন

ইভ্যালির গ্রাহকের মামলায় তাহসানকে আগাম জামিন

ইভ্যালির গ্রাহকের মামলায় তাহসানকে আগাম জামিন

গায়ক ও অভিনেতা তাহসান রহমান খান। ফাইল ছবি

ইভ্যালির হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় আগাম জামিন চেয়ে বুধবার হাইকোর্টে আবেদন করেন তাহসান রহমান খান। বৃহস্পতিবার তাকে জামিন দেয় হাইকোর্ট।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান রহমান খানকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার জামিনের এ আদেশ দেয়।

আদালতে তাহসানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সানজিদা খানম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন দেওয়ান।

তাহসানের আইনজীবী ও তার ফুফু সানজিদা খানম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিনি (তাহসান) বিদেশে থাকায় জামিন আবেদন করতে দেরি হয়েছে। বিদেশ থেকে এসেই তিনি জামিন আবেদন করেছেন। আদালত শুনানি নিয়ে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে।’

গত ১৩ ডিসেম্বর এ মামলায় দুই অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়াকে ৮ সপ্তাহের জামিন দিয়েছিল হাইকোর্ট।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের জামিন দেয়।

ইভ্যালির হয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়াসহ নয়জনের বিরুদ্ধে গত ৪ ডিসেম্বর মামলা হয়।

সাদ স্যাম রহমান নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক মামলা করেন। মামলায় ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল, চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়াসহ নয়জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রতারণামূলকভাবে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ ও সহায়তা করা হয়েছে। আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা, যা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এ মামলায় ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

শেয়ার করুন