মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্লট তৈরির ব্যয় ও সময় বাড়ল

player
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্লট তৈরির ব্যয় ও সময় বাড়ল

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পটি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলায় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফাইল ছবি

একনেক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্প প্লট সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে আরও কিছু আনুষঙ্গিক কাজের জন্য এই প্রকল্পের মেয়াদ ও সময় বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৭৫০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় ১ হাজার ৩০২ কোটি ৯১ লাখ টাকা হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে জুন ২০২৩ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে।’

চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প প্লটের সংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে প্রকল্পটির ব্যয় ও সময়।

এই বিষয়ে ‘বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মিরসরাই-১ম পর্যায়’ প্রকল্পে সংশোধনী অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

শেরে-বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত একনেক সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক প্রধান শেখ হাসিনা।

গত বছরের জুনে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন কাজ শেষ করতে না পারায় দুই বছর মেয়াদের সঙ্গে প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে সংশোধিত প্রকল্পে।

একনেক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্প প্লট সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে আরও কিছু আনুষঙ্গিক কাজের জন্য এই প্রকল্পের মেয়াদ ও সময় বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৭৫০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় ১ হাজার ৩০২ কোটি ৯১ লাখ টাকা হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে জুন ২০২৩ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। প্রকল্পটি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলায় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বাস্তবায়নকারী সংস্থা বেপজা জানিয়েছে, শিল্প প্লটের সংখ্যা ২৫০টি থেকে বাড়িয়ে ৫৩৯টি করা হয়েছে। এতে ভূমি উন্নয়ন ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ কাজ বেড়েছে। কয়েকটি অঙ্গের ব্যয় হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে সামগ্রিক ব্যয়ও বেড়েছে। প্রকল্পে ফায়ার স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, ২টি কারখানা ভবন, ফুটপাত, গাড়ি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, ৩টি আবাসিক ভবন, ১টি মসজিদ ও ১টি মেডিক্যাল সেন্টার নির্মাণসহ কয়েকটি নতুন অঙ্গ সংযোজন করায় বাড়তি ব্যয় হবে।

এ প্রকল্পের উদ্দেশ হচ্ছে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, নতুন প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, অগ্রজ ও পশ্চাৎসংযোগ শিল্পকারখানা গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্র হ্রাস তথা দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা।

চলতি অর্থবছরের এডিপিতে এ প্রকল্পের অনুকূলে ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে এক কোটি ১৫৬ লাখ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, ৩ লাখ ৬৪ হাজার বর্গমিটার রাস্তা ও ৩৮ হাজার ৭৮৫ বর্গমিটার ফুটপাত নির্মাণ, ৬১ হাজার ২৮৩ মিটার ড্রেন, ৯ হাজার ৩৬৮ মিটার বারবেড ওয়ার ফেন্সিং ও ৪ হাজার ৪৬৫ মিটার সীমানা দেয়াল নির্মাণ, ৩ হাজার ৫১৬ বর্গমিটার অফিসার্স ডরমিটরি ও ২ হাজার ১১৬ বর্গমিটার স্টাফ ডরমিটরি ভবন নির্মাণ।

এই কার্যক্রমে আরও রয়েছে, তিন ধরনের মোট ১৪ হাজার বর্গমিটার আবাসিক ভবন, ৫ হাজার বর্গমিটার ইনভেস্টরস ক্লাব ও ৫ হাজার ৬২১ বর্গমিটার জোন সার্ভিসেস কমপ্লেক্স নির্মাণ, ২ হাজার ৬০৩ বর্গমিটার সিকিউরিটি ও কাস্টমস ভবন (২টি), ৩৭ হাজার ৫৮২ বর্গমিটার কারখানা ভবন নির্মাণ। এছাড়া ২,৪১২ বর্গমিটার মেডিকেল সেন্টার, আনুষঙ্গিক স্থাপনাসহ ফায়ার স্টেশন ভবন নির্মাণ, মেইন গেট, সিকিউরিটি গেট, কাস্টমস গেট নির্মাণ, সিকিউরিটি ওয়াচ টাওয়ার, সিকিউরিটি ব্যারাক, হেলিপ্যাড, বিদ্যুতের সাব স্টেশন নির্মাণ, এক হাজার ৪৪৪টি সড়ক সৌরবাতি স্থাপন, গভীর নলকূপ স্থাপন অনলাইন গ্যাস সরবরাহ লাইন, বর্জ্য শোধনাগার ইত্যাদিও নির্মাণ করা হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লবিস্ট ফার্মে দেয়া অর্থের হিসাব দিতে হবে বিএনপিকে: প্রধানমন্ত্রী

লবিস্ট ফার্মে দেয়া অর্থের হিসাব দিতে হবে বিএনপিকে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি ভিডিও থেকে নেয়া

নির্বাচন সামনে রেখে লবিস্টের অর্থের হিসাব দিতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর, ২০০১ থেকে ক্ষমতায় থেকে জনগণের টাকা লুট করে, পাচার করে, সেই টাকা দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত। কেন? যাদের দেশপ্রেম নেই, জনগণের প্রতি যাদের দায় নেই, জনগণের মঙ্গল চায় না, তারাই বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থামাতে চায়।’

অর্থ পাচার করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করতে লবিস্ট ফার্মে বিনিয়োগ করা কোটি কোটি ডলারের হিসাব বিএনপিকে দিতে হবে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার জন্য দেশটির প্রশাসনকে নয়, বরং ‘ঘরের ইঁদুর’ বিএনপিকে দুষছেন সরকারপ্রধান।

জাতীয় সংসদে শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

লবিস্ট ফার্মে বিএনপির বিনিয়োগের একটি তালিকা দেখিয়ে তা স্পিকারের কাছে জমা দেয়া হবে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কত লাখ ডলার এই বিএনপি খরচ করেছে। লাখ লাখ ডলার তারা লুট করেছে, কোটি কোটি ডলার তারা বিনিয়োগ করেছে। আমার প্রশ্ন, এই অর্থ তারা কোথা থেকে পেল? এটা তো বৈদেশিক মুদ্রা। এই বৈদেশিক মুদ্রা তারা কোথা থেকে পেয়েছে? কীভাবে খরচ করেছে? কীভাবে তারা লবিস্ট রেখেছে?

‘সেই লবিস্ট কিসের জন্য? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানোর জন্য, নির্বাচন বানচাল করার জন্য, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য, জঙ্গিদের রক্ষার জন্য, জাতির পিতার হত্যাকারীদের রক্ষার জন্য, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সেটাকে বাধা দেয়ার জন্য। কোনো ভালো কাজের জন্য নয়।’

অসত্য তথ্য দিয়ে বিএনপি সবাইকে বিভ্রান্ত করে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, এই অর্থ কীভাবে বিদেশে গেল, বিদেশি ফার্মকে লাখ লাখ কোটি কোটি ডলার তারা পেমেন্ট করল, জবাব তাদের দিতে হবে, ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

নির্বাচন সামনে রেখে লবিস্টের অর্থের হিসাব দিতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর, ২০০১ থেকে ক্ষমতায় থেকে জনগণের টাকা লুট করে, পাচার করে, সেই টাকা দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত। কেন? যাদের দেশপ্রেম নেই, জনগণের প্রতি যাদের দায় নেই, জনগণের মঙ্গল চায় না, তারাই বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থামাতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে, আস্থা আছে, ওই সব কথায় তারা বিভ্রান্ত হয় না। আমার বিশ্বাস।’

‘ঘরের ইঁদুর বাঁধ কাটলে কাকে দোষ দেবেন?’

র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা নিয়ে দেশটির কড়া সমালোচনা করেন সরকারপ্রধান। তুলে ধরেন হলি আর্টিজান পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দেয়ার বিষয়টি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাদের তারা স্যাংশন দিল, তাদের হিসাব যদি করি তারা সন্ত্রাস দমনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল। তারা কেন আমেরিকার কাছে এত খারাপ হলো। সব থেকে ভালো ভালো অফিসার যারা সেই অপারেশনে (হলি আর্টিজান) ছিল। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে কিন্তু আর কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটতে পারেনি।’

জনগণকে সম্পৃক্ত করেই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ সাফল্য পেয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমার মনে হয় যারা সন্ত্রাস দমনে সফল, যারা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ থেকে দেশটাকে রক্ষা করতে পেরেছে, সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করেছে, সাধারণ মানুষের মানবাধিকার সংরক্ষণ করেছে, তাদের ওপরই যেন আমেরিকার রাগ।’

তার পরও আমেরিকাকে দোষ দিতে চান না প্রধানমন্ত্রী। নিজের যুক্তি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমেরিকাকে আমি দোষ দিই না। ঘরের ইঁদুর বাঁধ কাটলে কাকে দোষ দেবেন?’

নির্বাচন প্রসঙ্গ

পঁচাত্তর-পরবর্তী দেশে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল এবং নির্বাচনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন ইলেকশন- এটাই তো প্রমাণ করে দেয় আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু হতে পারে এবং হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা করা আমাদের কাজ, কেড়ে নেয়া নয়। আমরা সেটা রক্ষা করে যাচ্ছি এবং যাব।’

নির্বাচন কমিশন গঠনে পাস হওয়া বিল এই অধিবেশনে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিলে ২২টি সংশোধনী বিরোধী দলের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির সংশোধনী, বিএনপির সংশোধনী, জাসদের সংশোধনী, ওয়ার্কার্স পার্টির সংশোধনী- সবার সংশোধনী গ্রহণ করেছি। তাতে এই বিল আর সরকারি বিল না, এটা বিরোধী দলের তৈরি করা বিল হয়ে গেছে। একটা বিলে যদি ২২টি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়, এটা অধিকাংশই তো হয়ে গেল বিরোধী দলের।’

বিএনপি শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনাও তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, ‘আজ ২৭ জানুয়ারি, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়া সাহেবকে গ্রেনেড মেরে হত্যা করা হয়েছিল। সেই হত্যাকাণ্ডেও বিএনপি জড়িত। সেটাও বেরিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে এই বিচারের কাজটায় বারবার বাধা দিচ্ছে তার পরিবার। যখন বিচারকাজ শুরু হয়, তখন একটা বাধা দেয়। কেন দেয় আমি জানি না।’

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার পর কারান্তরীণ দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সময়ে দেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করার বিষয়ে নিজের ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘চিন্তা করেছিলাম এই দেশটাকে আমি এভাবে পিছিয়ে যেতে দেব না।’

পঁচাত্তর-পরবর্তী তার শরণার্থী জীবনের কথাও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে এবং স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিজ্ঞা নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম।’

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক বাধা, অনেক বিপত্তি, অনেক গুলি, অনেক গ্রেনেড, অনেক কিছুই, অনেক অপপ্রচার- আমি কখনও ওসব নিয়ে চিন্তা করিনি। আমি জানি ন্যায় ও সত্য পথে থাকলে, একটা লক্ষ্য স্থির করে চললে, সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব। সেই লক্ষ্য আমরা অর্জন করতে পেরেছি।’

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অর্থনীতি কিছুটা পিছিয়ে গেছে বলে জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা। তার মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। এমনকি আমেরিকার মতো দেশে আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। কিন্তু আমি বলতে পারি, বাংলাদেশে কেউ দারিদ্র্যসীমার নিচে যায়নি এই করোনাকালে। বরং দারিদ্র্যের হার বিএনপির আমলের ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি, আমি বিশ্বাস করি আমরা আরও কমাতে পারব।’

দেশে খাদ্য ঘাটতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত আছে। সামনে বোরো ধান আসবে। খাদ্যের কোনো ঘাটতি হবে না। কিছু জায়গায় দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়, সেটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় আমরা দেখছি।’

করোনাভাইরাসের সংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নিয়ে সতর্ক করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেয়ার করুন

বিচারিক কাজ মনিটরিংয়ে ৮ বিভাগে কমিটি

বিচারিক কাজ মনিটরিংয়ে ৮ বিভাগে কমিটি

হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতি দেশের আটটি বিভাগের প্রত্যেক বিভাগের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে মাননীয় বিচারপতি মহোদয়কে মনোনয়ন করেছেন।’

মামলা ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক বিষয়ে দেখাশোনার জন্য আট বিচারকের মাধ্যমে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নির্দেশে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতি দেশের আটটি বিভাগের প্রত্যেক বিভাগের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে মাননীয় বিচারপতি মহোদয়কে মনোনয়ন করেছেন।’

ঢাকা বিভাগের জন্য বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম, খুলনা বিভাগের জন্য বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, বরিশাল বিভাগের জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদ, চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা, সিলেট বিভাগের জন্য বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, রংপুর বিভাগের জন্য বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন, ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও রাজশাহী বিভাগের জন্য বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানকে মনোয়ন করা হয়েছে।

আট বিভাগের জন্য মনিটরিং কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা করতে আট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

রাতের ভোট মৌখিক অভিযোগ, কেউ তো আদালতে যায়নি: সিইসি

রাতের ভোট মৌখিক অভিযোগ, কেউ তো আদালতে যায়নি: সিইসি

নির্বাচন কমিশনের কাজ করার সাংবাদিকদের সংগঠন আরএফইডি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিইসি নূরুল হুদা। ছবি: নিউজবাংলা

সিইসি বলেন, ‘শতভাগ ভোট পড়া অবশ্যই অস্বাভাবিক। তবে আমার সীমাবদ্ধতা হলো, গেজেট প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের আর কিছুই করার থাকে না। এটা আইন, এ আইনের বাইরে তো আমি কিছু করতে পারব না।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘রাতের ভোটের’ যে কথা শোনা যায়, তা কেবলই একটা মৌখিক অভিযোগ বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের কাজ করার সাংবাদিকদের সংগঠন আরএফইডি আয়োজিত ‘আরএফইডি-টক’ অুনষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়ার সময় এ কথা বলেন।

নূরুল হুদা বলেন, ‘ভোটের দিন বা আগে-পরে নির্বাচন কমিশনে কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি। এমনকি নির্বাচনের পরও সংক্ষুব্ধ প্রার্থীর আদালতে যাওয়ার সুযোগ ছিল। তবু কেউ আদালতের শরণাপন্ন হননি। এ থেকে বোঝা যায়, এটি কেবল একটি অভিযোগ, এর কোনো সত্যতা নেই।’

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ তোলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট। সে নির্বাচনে অংশ নেয় সবগুলো রাজনৈতিক দল।

৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট পায় ২৬৫ আসন, ২২টি আসন পায় জাতীয় পার্টি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট পায় আটটি আসন।

আগের রাতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা কেন্দ্র দখল করে সব ব্যালটে সিল মেরে রাখে বলে অভিযোগ তোলে বিএনপি। অবশ্য ইসি তখন থেকেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে বলে দাবি করে এসেছে।

তখন থেকে আওয়ামী লীগ ৩০ ডিসেম্বরকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ‘‘দিনের ভোট রাতে হয়’ অনেকভাবেই এ কথাটি বলা হয়। নির্বাচনের সময় যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে বা কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটে, এ তথ্য-উপাত্ত আমাদের কাছে আসতে হয়। সে তথ্য-উপাত্ত আমরা পাই গণমাধ্যম এবং রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে।

‘ওই নির্বাচনের দিনও আমরা সারা দিন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সামনে বসা ছিলাম, তথ্য-উপাত্ত পর্যবেক্ষণ করছিলাম। আমরা দেখেছি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, কোথাও কোনো অসুবিধা হয়নি। কিছু এলাকায় নির্বাচন নিয়ে সমস্যা হয়েছিল, সেগুলো আমরা বন্ধ করেছি। একটা আসনের পুরো নির্বাচন বন্ধ ছিল, পরে সেটা উপনির্বাচন করতে হয়েছে।’

সিইসি বলেন, ‘ইসি চলে আইনের মাধ্যমে, যখন আমাদের কানের কাছে কোনো অভিযোগ আসে, তখন সেটার আমরা তদন্ত করি, সে হিসেবে পদক্ষেপ নিই। কোনো প্রিসাইডিং অফিসার যদি আমাদের কাছের তাৎক্ষণিক জানায় সমস্যা হচ্ছে বা আমরা যদি কোথাও থেকে খবর পাই যে অনিয়ম হচ্ছে, তাহলে আমরাও নির্বাচন বন্ধ করতে পারি। কিন্তু এ রকম কোনো অভিযোগ আমরা নির্বাচনের সময় পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘আইন অনুযায়ী কোনো নির্বাচনের ফল যখন রিটার্নিং অফিসার আমাদের কাছে জমা দেন, তখন আমরা সেটার গেজেট প্রকাশ করি। সেটা না মানলে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেবেন।

‘এ ছাড়া গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যেই সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। এর বাইরে তখন আর নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার থাকে না। কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচনে একজন ব্যক্তিও নির্বাচন কমিশনে কিংবা আদালতে এ বিষয়ে অভিযোগ করেননি, কোনো প্রতিকার চাননি। তাই থিউরিটিক্যাল আমাদের বিশ্বাস করতে হয়, ওই নির্বাচনে কারও কোনো অভিযোগ ছিল না। অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না।’

নূরুল হুদা বলেন, ‘আমি তো দেখিনি, আপনি তো দেখেননি, কেউ দেখেছে, রাতে হয়েছে, কেউ প্রমাণ দিয়েছে? কেউ অভিযোগ করেনি, তাই এই অভিযোগের সত্যতা নেই।’

নূরুল হুদা বলেন, ‘যদি কেউ অভিযোগ করত, আদালত যদি নির্দেশ দিত, তদন্ত হতো, হয়তো কিছু বেরিয়ে আসত, বেরিয়ে এলে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যেত। হয়তো সারা দেশে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যেত বা কিছু এলাকায় নির্বাচন বন্ধ হতো। এটা কেন তখন কোনো রাজনৈতিক দল অভিযোগ করেনি, পদক্ষেপ নেয়নি তারাই ভালো জানে। ইসি আইনানুগভাবে যা, যতটুকু করার দরকার ততটুকুই করেছে।’

নির্বাচনের ছয় মাস পর এসে যখন ইসি কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করল, তখন দেখা গেল কয়েক কেন্দ্রে ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে। ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি কেন্দ্রে।

সে সময় কেন বিষয়টি ইসি খতিয়ে দেখেনি এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘শতভাগ ভোট পড়া অবশ্যই অস্বাভাবিক। তবে আমার সীমাবদ্ধতা হলো, গেজেট প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের আর কিছুই করার থাকে না। এটা আইন, এ আইনের বাইরে তো আমি কিছু করতে পারব না।’

শেয়ার করুন

সেরে ওঠার এক বছর পরও শরীরে মিলছে করোনার উপসর্গ

সেরে ওঠার এক বছর পরও শরীরে মিলছে করোনার উপসর্গ

আইইডিসিআরের গবেষণায় বলা হয়, সেরে ওঠার এক বছর পর ৪৫ শতাংশ মানুষের শরীরে কোভিড-পরবর্তী উপসর্গ দেখা গেছে। ফাইল ছবি

গবেষণায় বলা হয়, কোভিড-১৯ রোগীদের সুস্থ হওয়ার তিন মাস পর ৭৮ শতাংশের শরীরে, ছয় মাস পর ৭০ শতাংশের, নয় মাস পর ৬৮ শতাংশের ও এক বছর পর ৪৫ শতাংশ মানুষের শরীরে কোভিড-পরবর্তী উপসর্গ দেখা গেছে।

কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হওয়ার এক বছর পরও এ রোগের উপসর্গ পাওয়া যাচ্ছে আক্রান্তদের শরীরে। সেরে ওঠার এক বছর পর ৪৫ শতাংশ মানুষের শরীরে কোভিড-পরবর্তী উপসর্গ দেখা গেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) একটি গবেষণায় এমন প্রমাণ মিলেছে।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার দুপুরে এ গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় বলা হয়, উপসর্গসহ আক্রান্ত কোভিড-১৯ রোগীদের সুস্থ হওয়ার তিন মাস পর ৭৮ শতাংশের শরীরে, ছয় মাস পর ৭০ শতাংশের, নয় মাস পর ৬৮ শতাংশের ও এক বছর পর ৪৫ শতাংশ মানুষের শরীরে কোভিড-পরবর্তী উপসর্গ দেখা গেছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগে আক্রান্তদের শরীরে কোভিড-পরবর্তী উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা দু-তিন গুণ বেশি।

আইইডিসিআরের গবেষণা বলছে- নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের কোভিড-১৯ পরবর্তী উপসর্গে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা, যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন না তাদের তুলনায় প্রায় ৯ ভাগ পর্যন্ত কমে যায়।

একইভাবে, ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের কোভিড-১৯ পরবর্তী উপসর্গে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন না তাদের তুলনায় প্রায় ৭ ভাগ পর্যন্ত কমে যায়।

এতে বলা হয়, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের কোভিড-১৯ পরবর্তী উপসর্গে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমাতে রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন মেনে নিয়মিত ওষুধ সেবন করা জরুরী। চলমান গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোভিড-১৯ পরবর্তী উপসর্গের ব্যাপারে আরও হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে।

কোভিড-১৯ বিশ্বমারি প্রতিরোধে আইইডিসিআর সবাইকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পাশাপাশি পূর্ণ ডোজ কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানায়।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ বিশ্ব মহামারির শুরু থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আইইডিসিআর বিভিন্ন রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, মহামারি তদন্ত ও গবেষণা পরিচালনা করে আসছে।

শেয়ার করুন

রাজনীতিকের বক্তব্যের চেয়েও শক্তিশালী কবিতা: প্রধানমন্ত্রী

রাজনীতিকের বক্তব্যের চেয়েও শক্তিশালী কবিতা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমি বলব যে, এ দেশের আন্দোলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে এ দেশের কবিদের এবং আবৃত্তিকারকদের। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই তাদের সবার প্রতি।’

একজন রাজনীতিবিদের বক্তব্যের চেয়ে কবিতা আরও বেশি শক্তিশালী, মানুষকে আরও বেশি উদ্বেলিত করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বৃহস্পতিবার সকালে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় আবৃত্তি উৎসব ২০২০-২২’-এর উদ্বোধন এবং ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জাতীয় আবৃত্তি পদক ২০২০-২২’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কবিতার মধ্য দিয়ে অনেক না বলা কথা বলা যায়। রাজনীতিবিদরা অনেক কথা বা বক্তব্য দেন, কিন্তু একটি কবিতার মধ্য দিয়ে মানুষ অনেক বেশি উদ্বুদ্ধ হয়। আমি কথা বলে একটি মানুষকে যতটুকু উদ্বুদ্ধ করতে পারি, তার চেয়ে অনেক বেশি উদ্বুদ্ধ হয় মানুষ একটা কবিতা, গান, নাটক বা সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে। যার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ের কাছে পৌঁছনো যায়।’

গ্রাম-বাংলার চিরায়ত ‘কবিগান’-এর আসরের প্রসঙ্গ টেনে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমাদের দেশে আগে কবিয়ালদের লড়াই হতো। আসলে বাঙালিরা সহজাতভাবেই কবি, এটা হলো বাস্তবতা।’

কবিতা, গান, নাটক তথা সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে যেভাবে প্রতিবাদের ভাষা বেরিয়ে আসে এবং মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়, তা আর কোনো কিছুতে হয় না বলেও মত তার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের পর যখন রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল, তখনও প্রতিবাদ করেছেন কবি ও আবৃত্তিকাররা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নাট্যকার দীন বন্ধু মিত্রের নীল দর্পণ নাটকের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন যেভাবে এগিয়ে গিয়েছিল- একটি কবিতার শক্তি যে কত বেশি সেটা তো আমরা নিজেরাই জানি। ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর যখন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা যাচ্ছিল না, তখন আমাদের কবিতার মধ্য দিয়েই প্রতিবাদের ভাষা বেরিয়ে আসে এবং মানুষ সেখানে উদ্বুদ্ধ হয়।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের ওপর কতবার আঘাত এসেছে; কিন্তু বাঙালি বসে থাকেনি, প্রতিবারই প্রতিবাদ করেছে। কারণ আমাদের সাহিত্য চর্চা তো বৃথাই হয়ে যেত। এক-একজন কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, আবৃত্তিকার আমাদের যা কিছু দিয়ে গেছেন এগুলো আমাদের সম্পদ।’

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর প্রতিবাদে যারা এগিয়ে এসেছেন, তাদের মধ্যে কবিদের অবদানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমি বলব যে, এ দেশের আন্দোলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে এ দেশের কবিদের এবং আবৃত্তিকারকদের। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই তাদের সবার প্রতি।’

কারও নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সে সময় অনেকেই যে যেভাবে পেরেছেন, লিখেছেন, নাটক করেছেন, সাহিত্য রচনা করেছেন, বই ছাপিয়েছেন, প্রতিবাদ করে গ্রেপ্তারও হতে হয়েছে কাউকে কাউকে, কিন্তু থেমে থাকেননি কেউ।’

বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত পাঁচ দিনের এই আবৃত্তি উৎসবের উদ্বোধনী দিনে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জাতীয় আবৃত্তি পদক ২০২০-২২’ দেয়া হয়। বিজয়ীদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

শেয়ার করুন

নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা নিশ্চিতেই এই আইন: আইনমন্ত্রী

নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা নিশ্চিতেই এই আইন: আইনমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল ২০২২ ওপর বক্তব্য রাখেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ছবি: টিভি ফুজেট

এই আইনে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে রাষ্ট্রপতিকে সর্বময় ক্ষমতা দেয়া হয়েছে বলে জানালেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘(ইসি নিয়োগের ব্যাপারে) আমরা ওনাকে বলতে পারি না। কারণ সংবিধান ওনাকে এই ক্ষমতা দিয়েছে। আমরা বলতে পারি না অমুককে নিয়োগ দিয়ে দেন। আমরা বলতে পারি, আপনাকে সংবিধান যে ক্ষমতা দিয়েছে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করার সময় এই জিনিসগুলো দেখেন। কেন? নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা ধরে রাখার জন্য।’

নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগ আইন প্রণয়নে তড়িঘড়ি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ধরে রাখতেই এই আইন করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে কণ্ঠ ভোটে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল ২০২২’ পাস হওয়ার আগে এর বিরোধিতাকারীদের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

সংবিধান অনুযায়ীই আইনটি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আইনটি তড়িঘড়ি করে করার আইন নয়। ফেব্রুয়ারির মধ্যে বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফলে এই সময়ের মধ্যে আইন তৈরি সম্ভব।

এই আইনে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে রাষ্ট্রপতিকে সর্বময় ক্ষমতা দেয়া হয়েছে বলে জানালেন আইনমন্ত্রী। বলেন, ‘তিনি (রাষ্ট্রপতি) যা খুশি তা-ই করতে পারেন, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিতে পারেন। আইনে তার পরিধির বাইরে কিছু বলা হয়েছে। পার্লামেন্ট থেকে তাকে আমরা কিছু বাধ্যবাধকতার মধ্যে এনেছি ইন দ্য লাইট অফ দ্য কনস্টিটিউশন, যা সংবিধানের বাইরে নয়।

‘(ইসি নিয়োগের ব্যাপারে) আমরা ওনাকে বলতে পারি না। কারণ সংবিধান ওনাকে এই ক্ষমতা দিয়েছে। আমরা বলতে পারি না অমুককে নিয়োগ দিয়ে দেন। আমরা বলতে পারি, আপনাকে সংবিধান যে ক্ষমতা দিয়েছে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করার সময় এই জিনিসগুলো দেখেন। কেন? নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা ধরে রাখার জন্য।’

আলোচিত আইনের খসড়াটি পাসের দিনও আপত্তি জানিয়ে বক্তব্য রেখেছেন বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। আইনটি প্রণয়নে তাড়াহুড়া না করে তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানোর দাবি করেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান।

৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই বিল সংসদে আনায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রতি ধন্যবাদ জানান জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু। তবে ইসি গঠনে সার্চ কমিটিতে কোনো রাজনীতিক না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

মুজিবুল হক বলেন, ‘আপনাদের জন্ম সেনানিবাসে হয়নি। আপনারা স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাহলে কেন বিচারক ও আমলানির্ভর হলেন।’

সার্চ কমিটিতে আইনপ্রণেতাদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান এই সাংসদ।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দুজন বিশিষ্ট নাগরিকের কথা আসছে তো, আমরা কি আইনে বলে দিয়েছি, এমপি সাহেবকে ডাকা যাবে না, তাদের বিশিষ্ট নাগরিক বানানো যাবে না? আমরা কি বলে দিয়েছি, কাউকে বিশিষ্ট নাগরিক বানাতে হলে এ রকম ক্রাইটেরিয়া লাগবে? না, আমরা তা করিনি। ফলে আমরা কাউকে বাদ দিইনি। আমরা সেটা রাষ্ট্রপতির হাতে ছেড়ে দিয়েছি। এই সংবিধান তাকে ক্ষমতা দিয়েছে এই ব্যাপারে।’

সংরক্ষিত আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন বাধ্যতামূলক। কিন্তু সব অংশীজনের মতামত ছাড়া তাড়াহুড়া করে এত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি আইন পাস করা আইওয়াশের বেশি কিছু নয় বলে আমি মনে করি।’

বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো এবং সুশীল সমাজ, আইনবিদরা এই আইন প্রত্যাখ্যান করেছেন বলেও দাবি করেন রুমিন। এই আইন প্রণয়নে সবার মত নেয়ার পরামর্শ দেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা।

এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সত্য স্বীকার করতে হবে। সত্য হচ্ছে কী, সত্য হচ্ছে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সত্য কী, সত্য হচ্ছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে খুন করেছে বিএনপি। সত্য কী, সত্য হচ্ছে বিএনপি ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করতে দেয়নি। সত্য হচ্ছে, যারা খুনি তাদের পুনর্বাসিত করেছে।

‘এসব সত্য মেনে, জনগণের কাছে মাফ চেয়ে তারপরে আমরা ঐকমত্যে আসব। ইয়েস, দিস ইস অ্যান অফার। অ্যাকসেপ্ট ইট, উই উইল কাম টু ঐকমত্য।’

শেয়ার করুন

র‌্যাব নিয়ে ইইউ পার্লামেন্ট সদস্যের চিঠি ‘ব্যক্তিগত’

র‌্যাব নিয়ে ইইউ পার্লামেন্ট সদস্যের চিঠি ‘ব্যক্তিগত’

ডিআরইউর বৃহস্পতিবারের মিট দ্য প্রেসে ইইউর দূত চার্লস হোয়াইটলি। ছবি: নিউজবাংলা

ইইউর দূত বলেন, ‘র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এ বিষয়ে সঠিক তথ্যও আমার কাছে নেই, তবে ইইউর পার্লামেন্টের একজন সদস্য যে চিঠি দিয়েছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত মতামত। এর সঙ্গে ইইউর কোনো সম্পর্ক নেই।’

র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্টের একজন সদস্য যে চিঠি দিয়েছেন, তার সঙ্গে ইইউর কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত জোটটির দূত চার্লস হোয়াইটলি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বৃহস্পতিবার মিট দ্য প্রেসে এ কথা জানান তিনি।

বিচারবহিভূর্ত হত্যা ও গুমের অভিযোগে র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইইউর কাছে চিঠি পাঠান ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভান স্টেফানেক।

স্লোভাকিয়ার এ নাগরিক ইইউর পররাষ্ট্র এবং নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেপ বরেল ফন্টেলেসের কাছে গত ২০ জানুয়ারি চিঠিটি পাঠান।

ওই চিঠির বিষয়ে দূত বলেন, ‘র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এ বিষয়ে সঠিক তথ্যও আমার কাছে নেই, তবে ইইউর পার্লামেন্টের একজন সদস্য যে চিঠি দিয়েছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত মতামত। এর সঙ্গে ইইউর কোনো সম্পর্ক নেই।’

দূত জানান, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন গঠনসহ এ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ২০২৩ সালে যে জাতীয় নির্বাচন হবে, সেদিকে গভীরভাবে নজর রাখা হচ্ছে। নির্বাচন সবসময় আগ্রহের একটা জায়গা। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রতিটি ঘটনাই আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।

‘পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনসহ এ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। বাংলাদেশ সরকার ও অন্যদের সঙ্গে ইইউর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সারা বিশ্বে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে থাকে।’

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হোয়াইটলি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমরা অনেক কাজ করেছি; এখনও করছি, তবে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য করছে, তা সত্যিই অকল্পনীয়।’

ডিআরইউ সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু মিট দ্য প্রেসে সভাপতিত্ব করেন। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাসিবসহ ডিআরইউ নেতারা।

শেয়ার করুন