কক্সবাজারে ‘ধর্ষণ’: ৪ আসামির সবাই গ্রেপ্তার

player
কক্সবাজারে ‘ধর্ষণ’: ৪ আসামির সবাই গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে ধর্ষণের অভিযোগে হওয়া মামলার আসামি বাবু পুলিশ হেফাজতে। ছবি: নিউজবাংলা

মামলায় নাম উল্লেখ করা চার আসামি হলেন আশিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ শফি ওরফে ইসরাফিল হুদা জয় ওরফে জয়া, মেহেদী হাসান বাবু ও জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটন। সবশেষ বাবুসহ চারজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কক্সবাজারে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার আসামি মেহেদী হাসান বাবুকে গ্রেপ্তার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

শহরের ঘোনারপাড়ার পাহাড়ী এলাকা থেকে সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের অভিযান চালিয়ে বাবুকে গ্রেপ্তার করে। তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কক্সবাজারে গত ২২ ডিসেম্বর স্বামী ও সন্তানকে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এরপর এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী চারজনের নাম উল্লেখ ও তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন।

মামলায় নাম উল্লেখ করা চার আসামি হলেন কক্সবাজার শহরের মধ্যম বাহারছড়া এলাকার আশিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ শফি ওরফে ইসরাফিল হুদা জয় ওরফে জয়া, মেহেদী হাসান বাবু ও জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটন।

সবশেষ বাবুসহ চারজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর বাইরে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী স্বামী-সন্তান নিয়ে ২২ ডিসেম্বর সকালে তারা কক্সবাজার পৌঁছান। এরপর শহরের হলিডে মোড়ের সি ল্যান্ড হোটেলের ২০১ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। বিকেলে সৈকতে গেলে সাড়ে ৫টার দিকে তার স্বামীর সঙ্গে এক যুবকের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

এর জের ধরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার কিছু পর পর্যটন গলফ মাঠের সামনে থেকে তার আট মাসের সন্তান ও স্বামীকে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়। আর তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জোর করে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ওই নারীর অভিযোগ, তাকে শহরের একটি ঝুপড়ি চায়ের দোকানে নিয়ে প্রথমে তিনজন ধর্ষণ করেন। তারপর নেয়া হয় হোটেল-মোটেল জোনের জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেলে। সেখানে আবারও তাকে ধর্ষণ করেন একজন।

অবশ্য ওই নারীর অভিযোগের সঙ্গে নিউজবাংলাকে দেয়া তার স্বামীর বক্তব্যে অনেকাংশে অমিল পাওয়া গেছে। স্বামী বলেছেন, জীবিকার তাগিদে ঘটনার অনেক আগে থেকেই কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন তারা।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার কারাগারে আশিক, রিমান্ড চায় পুলিশ
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট
কক্সবাজারে ‘ধর্ষণ’: যৌন ব্যবসার চক্র চালান ভুক্তভোগীর স্বামী
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: আসামি জয় রিমান্ডে
শ্রমিককে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, কারখানা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনশনের ডাক

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনশনের ডাক

তিন দফা দাবিতে শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হলেও রোববার ক্যাম্পাসে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনার পর আন্দোলনের মোড় ঘুরে যায়। শিক্ষার্থীরা এরপর উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রোববার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের জন্য বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানা হলে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ভিসি পদত্যাগ না করলে আমরা বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আমরণ অনশনে বসব। এর আগ পর্যন্ত আমরা এই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। আমাদের এই আন্দোলন বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে... আমরা আশা করছি শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভ আঁচ করতে পেরে উপাচার্য দ্রুত পদত্যাগ করবেন।’

এই আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে বাশার বলেন, ‘গুজবে যেন কেউ বিভ্রান্ত না হয় এই আহ্বান জানাই।’

এর আগে শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রস্তাব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতারা। তবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আন্দোলনে যারা সংহতি প্রকাশ করবেন কেবল তাদের সঙ্গেই আলোচনা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহারে মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দেন তারা।

তবে এ বিষয়ে তারা রাতে আর কিছু জানাননি।

পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান সোমবার রাতে বাদী হয়ে সিলেটের জালালাবাদ থানায় এই মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই-তিন শ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তিন দফা দাবিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় পুলিশের সংঘর্ষ হয়। অবরুদ্ধ উপাচার্যকে মুক্ত করতে গিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে এই সংঘাত বাধে। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনশনের ডাক

এ ঘটনার পর তিন দফা দাবির একটি অর্থ্যাৎ বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবি মেনে নেয়া হয়। রোববার রাতেই প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করেন।

এরপর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে ফের বিক্ষোভ শুরু করেন।

তাদের অভিযোগ, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নির্দেশে পুলিশ তাদের ওপর হামলা ও গুলি করে।

তবে পুলিশের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, রোববার আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ ‘উচ্ছৃঙ্খল’ শিক্ষার্থী পুলিশের কাজে বাধা দেয়।

সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ ছাড়া পুলিশকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীরা গুলি ছোড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

তবে এই মামলায় কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল।

মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেবে না। এ ছাড়া একটি মামলা হলেও কাউকে হয়রানি করা হবে না।’

আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে যাতে সমাধানে পৌঁছা যায় সেই পথ খোলা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান নাদেলেরও।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার আজবাহার আলী শেখও জানিয়েছেন, ‘কোনো ঘটনা ঘটলে মামলা করাটা আমাদের রুটিন কাজ। এ জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হবে না।’

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার কারাগারে আশিক, রিমান্ড চায় পুলিশ
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট
কক্সবাজারে ‘ধর্ষণ’: যৌন ব্যবসার চক্র চালান ভুক্তভোগীর স্বামী
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: আসামি জয় রিমান্ডে
শ্রমিককে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, কারখানা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

শাবির মাঠেই রান্না-খাওয়া শিক্ষার্থীদের

শাবির মাঠেই রান্না-খাওয়া শিক্ষার্থীদের

শাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মাঠে রান্নার আয়োজন করেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরের সামনের খোলা মাঠে রাতে মাটির চুলা তৈরি করে বড় হাঁড়িতে রান্না হয়েছে। মাঠে বসেই শিক্ষার্থীদের কেউ পেঁয়াজ-মরিচ-সবজি কেটেছেন। কেউ লাকড়ি জোগার করছেন। তবে রান্নার জন্য আনা হয়েছে বাবুর্চি।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, হল ছাড়ার নির্দেশনার পর সোমবার থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে হলের ক্যান্টিন। মঙ্গলবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ক্যাফেটেরিয়াও।

তবে হল ছাড়ার নির্দেশনা না মেনে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে আছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাতের খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় মাঠেই চুলা জ্বালিয়ে তারা রান্না করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরের সামনের খোলা মাঠে হয় রান্নার এই আয়োজন। খাওয়ার আয়োজনও মাঠেই।

ওই মাঠে রাত সাড়ে ৯টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, মাটির চুলা তৈরি করে বড় বড় হাঁড়িতে রান্না করা হচ্ছে। মাঠে বসেই শিক্ষার্থীদের কেউ পেঁয়াজ-মরিচ, কেউবা সবজি কাটছেন। কেউ লাকড়ি জোগাড় করছেন।

তবে রান্নার জন্য আনা হয়েছে বাবুর্চি।

শাবির মাঠেই রান্না-খাওয়া শিক্ষার্থীদের

রান্নার তদারকিতে থাকা অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ আহমদ বলেন, ‘আমাদের হলের ক্যান্টিন বন্ধ, আশপাশের রেস্টুরেন্টও বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। এখন আমরা খাওয়া নিয়ে সমস্যা পড়েছি।

‘তাই আমরা নিজেরা চাঁদা তুলে ও বড় ভাইদের সহযোগিতায় এখানে রান্নার আয়োজন করেছি। এখানেই সবাই খাব। আন্দোলন যতদিন চলবে এভাবে রান্নার আয়োজনও থাকবে।’

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টি ছাত্রী হল ও ৩টি ছাত্র হল রয়েছে। এগুলোতে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী থাকেন। তবে হল ছাড়ার নির্দেশনার পর অর্ধেক শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাস ছেড়ে গেছেন। আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য ক্যাম্পাসে হাজারখানেক শিক্ষার্থী রয়ে গেছেন।

শাবির মাঠেই রান্না-খাওয়া শিক্ষার্থীদের

বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। তারা রোববার উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে।

এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার কারাগারে আশিক, রিমান্ড চায় পুলিশ
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট
কক্সবাজারে ‘ধর্ষণ’: যৌন ব্যবসার চক্র চালান ভুক্তভোগীর স্বামী
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: আসামি জয় রিমান্ডে
শ্রমিককে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, কারখানা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

শাবি শিক্ষক নেতাদের আলোচনার প্রস্তাব শিক্ষার্থীদের প্রত্যাখ্যান

শাবি শিক্ষক নেতাদের আলোচনার প্রস্তাব শিক্ষার্থীদের প্রত্যাখ্যান

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে শাবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। গুলি করা হয়েছ। এখন আমাদের সঙ্গে কীসের আলোচনা। এখন উপাচার্য পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন- এটিই আমরা চাই।’

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। তবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আন্দোলনে যারা সংহতি প্রকাশ করবেন কেবল তাদের সঙ্গেই আলোচনা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহারে রাত ১০টা পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দিয়েছেন তারা।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলসী কুমার দাস ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহিবুল আলমের নেতৃত্বে শিক্ষক সমিতির কয়েকজন নেতা মঙ্গলবার বিকেলে আলোচনা করতে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে যান।

আলোচনার প্রস্তাব শিক্ষার্থীরা ফিরিয়ে দিলে চলে যান শিক্ষক নেতারা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। গুলি করা হয়েছ। এখন আমাদের সঙ্গে কীসের আলোচনা। এখন উপাচার্য পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন- এটিই আমরা চাই।’

তিনি বলেন, ‘কেউ আলোচনা করতে চাইলে আগে আমাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব দেয়ার আগে এদিন দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে তার বাসভবনে গিয়ে দেখা করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস।

উপাচার্য কার্যালয় থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর সমাধান সম্ভব। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। এভাবেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।’

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের করা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য রাত ১০টার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বিকেলে উপাচার্য ভবনের সামনে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের এই ঘোষণা মাইক থেকে জানানো হয়।

সোমবার রাতে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে সিলেটের জালালাবাদ থানায় এই মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই-তিন শ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তিন দফা দাবিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় পুলিশের সংঘর্ষ হয়। অবরুদ্ধ উপাচার্যকে মুক্ত করতে গিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে এই সংঘাত বাধে। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নির্দেশে পুলিশ তাদের ওপর হামলা ও গুলি করে।

তবে এবার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই হামলার অভিযোগ এনে মামলা করল পুলিশ।

এজাহারে বলা হয়, রোববার আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ ‘উচ্ছৃঙ্খল’ শিক্ষার্থী পুলিশের কাজে বাধা দেয়।

সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ ছাড়া পুলিশকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীরা গুলি ছোড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

তবে এই মামলায় কাউকে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল। মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে এসে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেবে না। এ ছাড়া একটি মামলা হলেও কাউকে হয়রানি করা হবে না।’

আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করতে এসে আলোচনার মাধ্যমে যাতে সমাধানে পৌঁছা যায় সেই পথ খোলা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান নাদেলও।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার আজবাহার আলী শেখও জানিয়েছেন, ‘কোনো ঘটনা ঘটলে মামলা করাটা আমাদের রুটিন কাজ। এ জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হবে না।’

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার কারাগারে আশিক, রিমান্ড চায় পুলিশ
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট
কক্সবাজারে ‘ধর্ষণ’: যৌন ব্যবসার চক্র চালান ভুক্তভোগীর স্বামী
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: আসামি জয় রিমান্ডে
শ্রমিককে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, কারখানা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

দাম্পত্য কলহে অভিনেত্রী শিমুকে হত্যায় স্বামী: পুলিশ

দাম্পত্য কলহে অভিনেত্রী শিমুকে হত্যায় স্বামী: পুলিশ

স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেলের সঙ্গে অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার জানান, শিমুকে হত্যার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন তার স্বামী নোবেল। মরদেহটি গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

পারিবারিক বিষয়ে টানাপোড়েন ও দাম্পত্য কলহের জেরে অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাহিনীটির দাবি, শিমুর স্বামী ও তার সহযোগীকে আটকের পর প্রাথমিক বিজ্ঞাসাবাদে তারা এ তথ্য দিয়েছেন।

রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে সোমবার শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে রাতেই তার স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু এসএমওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে আটক করে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়ে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার। তিনি জানান, শিমু হত্যার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন তার স্বামী নোবেল। মরদেহটি গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডে শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী নোবেলের সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় শিমুর। এর জেরে গত ১৬ জানুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে তাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে।

মারুফ হোসেন বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে যে গাড়ি ব্যবহার করে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে সেই গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়েছি এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছি। মডেল শিমুর স্বামী নোবেল এবং তার বাল্যবন্ধু ফরহাদ বর্তমানে থানা হেফাজতে আছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসিন্দা অভিনেত্রী শিমুকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে রোববার তার পরিবারের পক্ষ থেকে কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রথমে অজ্ঞাত থাকলেও হাতের আঙুলের ছাপ ও পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে শিমুর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তার মরদেহ রাখা আছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে।

১৯৯৮ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় শিমুর অভিষেক হয়। পরে সিনেমার পাশাপাশি অসংখ্য নাটকেও অভিনয় করেছেন।

সম্প্রতি ফ্যামিলি ক্রাইসিস নামের একটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেছেন তিনি।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি কর্তৃক ১৮৪ জন ভোটাধিকার হারানো শিল্পীর মধ্যে শিমুও ছিলেন। ভোটাধিকার ফিরে পেতে চলমান আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার কারাগারে আশিক, রিমান্ড চায় পুলিশ
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট
কক্সবাজারে ‘ধর্ষণ’: যৌন ব্যবসার চক্র চালান ভুক্তভোগীর স্বামী
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: আসামি জয় রিমান্ডে
শ্রমিককে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, কারখানা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

শাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই হামলা-গুলির অভিযোগ পুলিশের

শাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই হামলা-গুলির অভিযোগ পুলিশের

শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করেছে। গুলি ছুড়েছে। আমাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই-তিন শ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে সোমবার রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানায় এই মামলা করেন।

তিন দফা দাবিতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় পুলিশের সংঘর্ষ হয়। অবরুদ্ধ উপাচার্যকে মুক্ত করতে গিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে এই সংঘাত বাধে। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নির্দেশে পুলিশ তাদের ওপর হামলা ও গুলি করে।

তবে এবার শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই হামলার অভিযোগ এনে মামলা করল পুলিশ।

এজাহারে বলা হয়, রোববার আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ ‘উচ্ছৃঙ্খল’ শিক্ষার্থী পুলিশের কাজে বাধা দেয়।

সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ ছাড়া পুলিশকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীরা গুলি ছোড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

এতে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখসহ ১০ পুলিশ আহত হন বলে উল্লেখ করা হয় মামলায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই দিন পুলিশ ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ৩২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জালালবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু খালেদ মামুন বলেন, ‘রোববারের যে ঘটনা তার পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।’

তবে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বলেন, ‘পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করেছে। গুলি ছুড়েছে। আমাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।’

পুলিশের গুলি ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সোমবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়া মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ কোনো গুলি ছোড়েনি। ওই দিন ক্যাম্পাসে গুলি আনেনি পুলিশ।’

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার কারাগারে আশিক, রিমান্ড চায় পুলিশ
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট
কক্সবাজারে ‘ধর্ষণ’: যৌন ব্যবসার চক্র চালান ভুক্তভোগীর স্বামী
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: আসামি জয় রিমান্ডে
শ্রমিককে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, কারখানা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনড় শাবি শিক্ষার্থীরা

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনড় শাবি শিক্ষার্থীরা

শাবি ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ষষ্ঠ দিনের মতো আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সামিউল হাসান শাফিন বলেন, ‘উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে কালকে আমরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছি। আজ এই স্বাক্ষরসংবলিত চিঠি রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠাব। আমরা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করব। তবে এই সময়ে আমাদের আন্দোলনও চলমান থাকবে।’

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ষষ্ঠ দিনের মতো ​আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের সামনে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে জড়ো হয়ে মিছিল বের করেন তারা।

মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন হল ঘুরে গোল চত্বরে এসে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

সেখানে আন্দোলনকারীরা জানান, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরসংবলিত চিঠি আজ রাষ্ট্রপতি বরাবরে পাঠাবেন তারা।

একই সঙ্গে তাদের আন্দোলন চালিয়ে রাখার ঘোষণা দিয়ে তারা জানান, ​সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করবেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সামিউল হাসান শাফিন বলেন, ‘উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে কালকে আমরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছি। আজ এই স্বাক্ষরসংবলিত চিঠি রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠাবেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করব। তবে এই সময়ে আমাদের আন্দোলনও চলমান থাকবে।’

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনড় শাবি শিক্ষার্থীরা

আরেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া বিনতে বলেন, ‘আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

‘আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যাতে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়, আমরা এই আহ্বান জানাই।’

বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। রোববার আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এসে তা সহিংসতায় রূপ নেয়।

এদিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করলে সন্ধ্যায় অ্যাকশনে যায় পুলিশ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ক্যাম্পাস। লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সন্ধ্যার পর থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে অবস্থা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ ভিসির নির্দেশেই পুলিশ হামলা ও গুলি চালিয়েছে।

ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনড় শাবি শিক্ষার্থীরা

এই বিক্ষোভের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ছাড়ার নির্দেশনা আসে। এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে রোববার রাত থেকেই আন্দোলন শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরাও এসে যোগ দেন এই বিক্ষোভে। তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

সোমবার আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। ফলে মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসে এসেও নিজেদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। তাদের নিজ নিজ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

মঙ্গলবারও উপাচার্যের বাসভভনের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বাসভভনের ভেতরেই রয়েছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ।

সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদে দাবি করেন, এই আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে বহিরাগতরা।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার কারাগারে আশিক, রিমান্ড চায় পুলিশ
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট
কক্সবাজারে ‘ধর্ষণ’: যৌন ব্যবসার চক্র চালান ভুক্তভোগীর স্বামী
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: আসামি জয় রিমান্ডে
শ্রমিককে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, কারখানা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, উপাচার্যের মদদে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। শাবি উপাচার্যের নির্দেশে এই হামলা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে তারা এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে এই কর্মসূচি হয়।

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করতে পারেন। ক্যাম্পাস গণতন্ত্র ও মুক্তচিন্তা চর্চার জায়গা। এমন একটি স্থানে যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলা ন্যক্কারজনক।

‘এতে আমাদের অনেক শিক্ষার্থী ভাই ও বোনেরা গুরুতর আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দ্রুত হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি।’

ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. রিফাত বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন একটি ক্যাম্পাসের সর্বোচ্চ অভিভাবক। সেই অভিভাবকের মদদে যখন পুলিশ বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়, তখনই বোঝা যায় সেখানকার অবস্থা।

‘ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি আন্দোলনে হামলা চালানো হচ্ছে। এটি একটি দেশের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়।’

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে সোমবার দুপু‌রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সামশাদ নওশীন ব‌লেন, ‘শা‌বিপ্রবি‌তে শিক্ষার্থীরা যৌ‌ক্তিক দাবিতে আন্দোলন কর‌ছেন। উপাচা‌র্যের নি‌র্দেশে তা‌দের উপর পু‌লি‌শের হামলা ও গু‌লিবর্ষণ বর্বরো‌চিত কাণ্ড। পু‌লিশ শা‌বিপ্রবি ক‌্যাম্পা‌সে একটা তুলকালাম কাণ্ড সৃ‌ষ্টি ক‌রে‌ছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হ‌য়ে‌ছেন।

‘এই ঘটনার বিচার চাই আমরা, তা না হ‌লে ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় শিক্ষার্থীরাও ক‌ঠোর আন্দোলনে নাম‌বেন।’

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করেন। ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের ভোলা সড়কের মোড় হয়ে ফের ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয় মিছিলটি।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মানববন্ধনে তারা শাবির শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানান।

বক্তারা জানান, পুলিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে উপাচার্য তার পদে থাকার নীতিগত অধিকার হারিয়েছেন।

তারা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সব দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং অবিলম্বে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ভিসির পদত্যাগের দাবি করেন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনার পর রোববার রাতেই বিক্ষোভ করেন সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ চলে সোমবারও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৪৯তম ব্যাচের আয়োজনে মানববন্ধন হয়।

ওই ব্যাচের ছাত্র ইমরান হোসেন শুভ বলেন, ‘বাংলাদেশে যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে তার কোনোটাই ছাত্রবান্ধব না। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় যেন ছাত্রবান্ধব হয়। নিজের অধিকার আদায় করতে শিক্ষার্থীদের যেন আর রক্ত ঝরাতে না হয়।’

মানববন্ধনে একাত্মতা জানান বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ও সাংস্কৃতিক জোট।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজার কারাগারে আশিক, রিমান্ড চায় পুলিশ
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট
কক্সবাজারে ‘ধর্ষণ’: যৌন ব্যবসার চক্র চালান ভুক্তভোগীর স্বামী
কক্সবাজারে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: আসামি জয় রিমান্ডে
শ্রমিককে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, কারখানা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন