‘স্বামীর অবাধ্য হয়ে ধ্বংস ডেকে আনা’ নারীটি কে?

player
ফ্যাক্টচেক

এমন পোস্ট ছড়িয়েছে ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে গত মাসে অনেকে পোস্ট করেছেন এই দুটি ছবি। আলোচিত নারীর নাম-পরিচয় এসব পোস্টে নেই। তবে পোস্টের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নারী তার স্বামীর ‘অবাধ্য’ হয়ে নিজের ভয়ংকর পরিণতি ডেকে এনেছেন।

বিছানায় হাঁটু ভাঁজ করে গুটিশুটি ভঙ্গিতে শুয়ে থাকা এক নারী। পেছন দিক থেকে তোলা ছবিতে বোঝা যায় চরম নিঃসঙ্গ এই নারী। দেহে প্রাণ আছে কি না, সেটি অবশ্য বোঝার উপায় নেই।

দ্বিতীয় ছবিতে ওই নারীর পুড়ে ক্ষত-বিক্ষত দেহ, যেন গলে পড়ছে হাড়-মাংস।

ফেসবুকে গত মাসে অনেকে পোস্ট করেছেন এই দুটি ছবি। আলোচিত নারীর নাম-পরিচয় এসব পোস্টে নেই। তবে পোস্টের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নারী তার স্বামীর ‘অবাধ্য’ হয়ে নিজের ভয়ংকর পরিণতি ডেকে এনেছেন।

ছবি দুটি একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে শিরোনামে বলা হয়েছে ‘একটি নারী ধ্বংসের মূল ৩টি কারণ’।

আর সেই কারণগুলো হলো:

১. যে নারী স্বামীর সাথে যেদ (জেদ) করে

২. যে নারী স্বামীর সাথে মুখে মুখে ত্বর্ক (তর্ক) করে

৩. যে নারী তার মা-বোনের কু-পরামর্শ (কুপরামর্শ) শুনে স্বামীর বাড়িতে অশান্তি সৃষ্টি করে।’

‘স্বামীর অবাধ্য হয়ে ধ্বংস ডেকে আনা’ নারীটি কে?
এসব পোস্ট ছড়াচ্ছে ফেসবুকে

‘স্বামীর অবাধ্য হয়ে নিজের ধ্বংস’ ডেকে আনা ওই নারীর পরিচয় খুঁজেছে নিউজবাংলা। আর তাতে দেখা গেছে, একটি ইনস্টলেশন আর্ট থেকে দুটি ছবি তুলে নারীর প্রতি চরম অমর্যাদাকর ভাষায় ফেসবুকে পোস্টটি দেয়া হয়। এরপর সেটি শেয়ার করেন বাংলাভাষী অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী।

ছবিটির উৎপত্তি যেভাবে

২০১১ সালের ঘটনা। হাসপাতালের বিছানায় ঘুমিয়ে আছেন এক নারী। বিমর্ষ দেখাচ্ছে খুব। চুলগুলো এলোমেলো। কিন্তু তার পরনে বেলজিয়ামের বিখ্যাত ফ্যাশন হাউস আ. এফ. ফান্ডেফর্স্ট-এর ডিজাইন করা পোশাক।

‘স্বামীর অবাধ্য হয়ে ধ্বংস ডেকে আনা’ নারীটি কে?
নেদারল্যান্ডসের আর্নহেম শহরে ২০১১ সালে হয় এই শিল্পকর্মের প্রদর্শনী

মোম দিয়ে তৈরি নারীর অবয়বজুড়ে বসানো বেশ কিছু সলতে। সবকটি জ্বলছে একসঙ্গে। ধীরে পুড়ে যায় মোমের গোটা অবয়ব।

হাসপাতালের বেডে ঘুমন্ত সেই নারীর দেহটি ছাড়াও যে ম্যাট্রেসের ওপর তিনি শুয়ে ছিলেন সেটিও মোমের তৈরি। এমনকি মাথার নিচে রাখা বালিশটিও ছিল মোমের।

পুরো দেহটি মোমবাতির মতো জ্বালাতে শরীরজুড়ে তৈরি করা খোপে বসানো হয় সুতো। তাতে আগুন দেয়ার পর দেহটি পুড়তে থাকে, আর গলতে থাকে মোমের শরীর।

‘স্বামীর অবাধ্য হয়ে ধ্বংস ডেকে আনা’ নারীটি কে?
মোম বাতি জ্বালানোর সময় শিল্পকর্মটি

চারুকলার ভাষায় এটি ইনস্টলেশন আর্ট। প্রদর্শনীর সময় উৎসুক দর্শকেরা দেখতে পান, পুড়তে থাকা নারীর শরীরেও আ. এফ. ফান্ডেফর্স্ট-এর পোশাক। ফলে শিল্পকর্মের পাশাপাশি নিজস্ব পণ্যের বিজ্ঞাপনও প্রচার করা গেছে ওই প্রদর্শনীতে।

নেদারল্যান্ডসের পূর্বাঞ্চলীয় শহর আর্নহেমে ২০১১ সালে ‘আর্নহেম মোড বিনালে’ শিরোনামের পোশাক প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয় শিল্পকর্মটি। এটি তৈরি করেন আ. এফ. ফান্ডেফর্স্ট-এর ডিজাইনার।

‘স্বামীর অবাধ্য হয়ে ধ্বংস ডেকে আনা’ নারীটি কে?
আগুনে গলতে শুরু করার মুহূর্তে সেই মোমের নারীদেহ

১০ বছর পর অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী সেই ইনস্টলেশন আর্টের ছবিতে ‘নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক বার্তা’ ছড়ানো শুরু করেছেন।

আশিক রহমান নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ছবিটি পোস্ট দিয়েছেন নিজের ফেসবুক ওয়ালে। আর ওই পোস্টে জান্নাতের মুসাফির নিক নেইমের একজন কমেন্ট করেছেন, ‘ইউ আর রাইট’। তবে ওয়াজিহা আবিয়াত মিহা নামের একজন লিখেছেন, ‘ইউ আর রং’।

‘স্বামীর অবাধ্য হয়ে ধ্বংস ডেকে আনা’ নারীটি কে?
মোম দিয়ে তৈরি সেই নারী অবয়ব আগুনে গলে যাওয়ার পরের ছবি

মন্তব্য করা দুজনকে একই উত্তর দিয়েছেন আশিক রহমান। রোমান হরফে বাংলায় লেখা কথাটি হলো: ‘সাধারণত যেসব ফ্যামিলিতে ওয়াইফদের এই কু-গুণগুলো আছে তাদের সংসারে অশান্তি লেগেই থাকে। যার কারণে এখানে ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে। ওকে…।’

আরও পড়ুন:
ভারতের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে গ্রহাণু!
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নামে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কবরে আগুন জ্বলছিল গাছের পাতা ও কাগজ থেকে

কবরে আগুন জ্বলছিল গাছের পাতা ও কাগজ থেকে

গাছের পাতা ও কাগজ দিয়ে কবরে আগুন জ্বালানো হয়েছিল। ছবি: নিউজবাংলা

নিউজবাংলাকে স্থানীয় মনির রহমান নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘গত ১০ জানুয়ারি মাগরিবের নামাজের সময় কে বা কারা কবরে গাছের পাতা, পলিথিন ও কাগজ দিয়ে আগুন লাগিয়েছিল। তা ভাইরাল করতে ফেসবুকে ডিভিওটি আপলোড করা হয়।’

সিরাজগঞ্জের পৌর এলাকার রহমতগঞ্জ কবরস্থানের একটি কবর থেকে আগুন জ্বলার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি জানাজানির পর কবরটি দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় বাড়ছেই।

বিষয়টি নজরে আসে নিউজবাংলার। অনুসন্ধানে জানা যায়, আগুন কবর থেকে জ্বলেনি; স্থানীয় কিছু তরুণ শুকনা পাতা, পলিথিন ও কাগজে আগুন লাগিয়ে কবরের ওপর রেখেছিল।

নিউজবাংলাকে স্থানীয় মনির রহমান নামের এক ব্যক্তি বলেন, গত ১০ জানুয়ারি মাগরিবের নামাজের সময় কে বা কারা কবরে গাছের পাতা, পলিথিন ও কাগজ দিয়ে আগুন লাগিয়েছিল। তা ভাইরাল করতে ফেসবুকে ডিভিওটি আপলোড করা হয়।’

স্থানীয় চা বিক্রেতা মোস্তফা শেখ বলেন, ‘মাগরিবের নামাজ শেষে দেখি কবরস্থানে আগুন জ্বলছে। আমাদের দেখে কিছু ছেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তাদের কাউকে চিনতে পারিনি।’

কবরস্থানের খাদেম আফজাল হোসেন বলেন, ‌'আমরা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। কেউ হয়তো ইচ্ছা করে মোবাইলে প্রচার করার জন্য এ কাজ করেছে। তবে আপনারা কেউ দয়া করে কবরের ছবি ওঠাবেন না। কবরের ছবি তোলা নিষেধ।’

জনি আহমেদ নামের স্থানীয় আরেক যুবক বলেন, ‘ছেলেদের হয়তো উদ্দেশ্য ছিল ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল করে তাদের পেজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। কারা এ কাজ করেছে, তাদের শনাক্ত করতে পারলে মূল ঘটনা জানা যাবে।’

স্থানীয় কাউন্সিলর জুলফিকার হাসান খান বলেন, ‘কিছু কুচক্রী মহল কুসংস্কার ছড়ানোর জন্য এ কাজ করেছে। কবরস্থানে পরিত্যক্ত আগাছা আর শুকনা পাতায় তারা আগুন ধরিয়েছিল। আমরা তাদের খুঁজচ্ছি। পাওয়া মাত্র প্রশাসনের হাতে তুলে দেব।’

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জানামাত্র তদন্তের জন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়েছি। আমার মনে হয়, টিকটক বানানোর জন্যই এ কাজ করেছে ছেলেরা।’

আরও পড়ুন:
ভারতের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে গ্রহাণু!
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নামে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন

আইভী-শামীমের ভাইরাল ছবিটি পুরোনো

আইভী-শামীমের ভাইরাল ছবিটি পুরোনো

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার চলাকাল শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভীর এ ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে।

ছবিটির উৎস খুঁজে বের করেছে নিউজবাংলা। ২০২১ সালের ২৭ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে তোলা হয়েছিল সেটি। সেদিন আইভীর বাড়িতে গিয়ে তার মাথায় হাত রেখে তাকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন শামীম। এর দুই দিন আগে বিকেলে শহরের দেওভোগের বাসায় ৭০ বছর বয়সে মারা যান আইভীর মা মমতাজ বেগম।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর মাথায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের হাত। একই দলের দুই নেতার মধ্যে আগের প্রজন্ম থেকে চলে আসা দ্বন্দ্বের মধ্যে চলছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই সময় ছবিটি তুমুল আলোচনা তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক মনে করে ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধান বলছে, ছবিটি ৫ মাস ১৬ দিন আগের।

আগামী ১৬ জানুয়ারির ভোটে শামীম ওসমান কোনো অংশ নন, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি প্রচারেও নামতে পারেন না। তবে আইভীর আক্রমণের মুখে পড়েছেন তিনি। নৌকার প্রার্থী নিজ দলের সংসদ সদস্যকে বলেছেন ‘গডফাদার’।

আইভীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের মার্কা ধানের শীষ নয়, হাতি। এর কারণ, আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভোট বর্জন করেছে দলটি। তার পরও ভোটে আওয়ামী লীগ-বিএনপির লড়াইয়ের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।

এর মধ্যে আইভী অভিযোগ করছেন, তৈমূর আসলে শামীমের প্রার্থী। আর এই অভিযোগের মধ্যে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে নৌকার পক্ষে তার অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। পর দিনই আইভীর মাথায় হাত রেখে শামীম ওসমানের ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে এ ছবিটির উৎস খুঁজে বের করেছে নিউজবাংলা। ২০২১ সালের ২৭ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে তোলা হয়েছিল সেটি। সেদিন আইভীর বাড়িতে গিয়ে তার মাথায় হাত রেখে তাকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন শামীম।

এর দুই দিন আগে বিকেলে শহরের দেওভোগের বাসায় ৭০ বছর বয়সে মারা যান আইভীর মা মমতাজ বেগম।

আইভীর বাড়িতে শামীম ওসমান- এমন খবরে সেখানে ছুটে যান গণমাধ্যমকর্মীরা। তাদের ক্যামেরায় বন্দি হয় এ ছবিটি।

আইভীর বাড়িতে যাওয়ার আগে তার মায়ের কবরেও যান শামীম ওসমান।

আইভী-শামীমের ভাইরাল ছবিটি পুরোনো
আইভীর বাড়িতে যাওয়ার আগে তার মায়ের করবও জিয়ারত করেন শামীম ওসমান

দৈনিক ইত্তেফাকে নারায়ণগঞ্জের ফটোসাংবাদিক তাপস সাহাও তুলেছিলেন সেই ছবিটি। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘শামীম ওসমান যখন আইভীর বাড়িতে এলেন, আমি তাকে দেখে অবাক হই। পরে ভাবলাম মেয়রের মায়ের মৃত্যু হয়েছে, সান্ত্বনা দিতে আসতেই পারেন। তবে সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি যখন দেখি আইভীর মাথায় হাত রেখে শামীম ওসমান তাকে সান্ত্বনা দিয়ে তার মায়ের স্মৃতিচারণ করছিলেন।

‘আমি ভাবতে পারিনি তাদের এমন একটা ছবি আমার ক্যামেরায় বন্দি করতে পারব- উল্লেখ করে তাপস সাহা জানান, ছবিটি তিনি তার কাছে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

ফটোসাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সবুজ বলেন, ‘আইভীর মায়ের মৃত্যুর পর সেখানে আরও অনেকে গিয়েছিলেন। শামীম ওসমানের বড় ভাই এমপি সেলিম ওসমানও গেছেন। তবে সবচেয়ে অবাক হওয়ার মতো ঘটনা ছিল, যেদিন শামীম ওসমান আইভীর বাড়িতে গিয়ে তার মাথায় হাত রাখেন। শুধু আমি নই, সেখানে থাকা অনেক ফটোসাংবাদিক এ ছবিটি তুলতে অস্থির হয়ে ওঠেন। আমরা তো ভেবেছিলাম এই বুঝি নারায়ণগঞ্জের সব ঝামেলা মিটে গেল। তবে তা আর হয়ে ওঠেনি।’

নানা সময়ে বিরোধের জেরে আলোচনায় এসেছেন আইভী ও শামীম ওসমান। ২০১১ সালের প্রথম সিটি নির্বাচনে দুজন ছিলেন পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী।

তবে দ্বন্দ্বের শুরু আরও বহু বছর আগের। দুই নেতার বাবার আমলে।

শামীম ওসমানের দাদা খান বাহাদুর এম ওসমান আলী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তার ছেলে ও শামীম ওসমানের বাবা আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জোহাও নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করতে অবদান রেখেছেন।

পাকিস্তান আমলে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিকাশে অবদান রাখেন আরেক নেতা আলী আহম্মদ চুনকা। এক দলের হলেও তার সঙ্গে শামসুজ্জোহার দ্বন্দ্ব ছিল। এই চুনকার মেয়েই আইভী। পূর্বপুরুষদের দ্বন্দ্ব এখন বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন শামীম-আইভী।

সিটি নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসানো নিয়ে আইভী ও শামীম ওসমানের সমর্থক এবং হকারদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আইভীসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন।

২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনের সময় আইভীকে ‘ছোট বোন’ আখ্যা দিয়ে তাকে নৌকা প্রতীকের ছবিসহ শাড়ি উপহার দেন শামীম ওসমান।

তবে এবার কোনো উপহার না দিয়ে শামীম ওসমান এই ভোটে সমর্থন দিয়েছেন আইভীর প্রতীককে, প্রার্থীকে নয়।

সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান বলেন, ‘কে প্রার্থী, হু কেয়ার্স? প্রার্থী আমগাছ হোক, আর কলাগাছ হোক। সব সময় নৌকার প্রতি সাপোর্ট।’

আরও পড়ুন:
ভারতের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে গ্রহাণু!
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নামে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন

সৈকতে পর্যটক-খরা কী কারণে

সৈকতে পর্যটক-খরা কী কারণে

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে সৈকতে সমাগম নেই পর্যটকদের। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজারের বেশির ভাগ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে ভরা মৌসুমেও রয়েছে হতাশা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, থার্টিফার্স্ট নাইটে হোটেল-মোটেলের ৫০ শতাংশের মতো কক্ষ ফাঁকা ছিল। পরের সাপ্তাহিক ছুটিতেও ৮০ শতাংশের মতো রুম ফাঁকা। একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়। পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার ধাক্কা সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন পূরণ হয়নি। 

কক্সবাজারে সম্প্রতি পর্যটকের সংখ্যায় ধস নেমেছে। এর পেছনে নিরাপত্তাহীনতা, খাবারের বেশি দামসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

আকস্মিকভাবে পর্যটকদের সৈকতবিমুখ হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা। এ ক্ষেত্রে কক্সবাজারের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণের সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটার দুই সপ্তাহের পরিস্থিতিও যাচাই করা হয়েছে।

দেখা গেছে, কক্সবাজারের মতো কুয়াকাটাতেও দুই সপ্তাহ ধরে পর্যটক-খরা চলছে। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের পর থেকেই মন্দা শুরু হয়। এর জন্য বেশ কয়েকটি কারণ দায়ী বলে মনে করছেন দুটি সৈকতের পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।

শীতে পর্যটনের ভরা মৌসুমে গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে ছিল টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি। এ সময়ে কক্সবাজারে ঢল নামে পর্যটকের। সে সময় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কক্সবাজারে শুধু ডাল-ভাতের দামই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা রাখা হচ্ছে। আবাসিক হোটেলের চড়া ভাড়া নিয়েও প্রকাশিত হয় বেশ কিছু প্রতিবেদন। এগুলো ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা যায়, হোটেল কক্ষের ভাড়া লাগামহীন হলেও ডাল-ভাতের দাম ৩০০-৪০০ টাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে খাবারের দাম আসলে কত?

এরপর ২৩ ডিসেম্বর সৈকত এলাকা থেকে এক ‘পর্যটক দম্পতি’কে অপহরণের পর সন্ত্রাসীরা স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। ধর্ষণের অভিযোগটি তদন্ত করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

তবে নিউজবাংলার আরেকটি অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ধর্ষণের অভিযোগ তোলা নারী পর্যটক হিসেবে সেখানে যাননি। তিনি স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে তিন মাস ধরেই কক্সবাজারে আছেন। ধর্ষণে অভিযুক্তরা তাদের পরিচিত।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে ‘ধর্ষণ’: যৌন ব্যবসার চক্র চালান ভুক্তভোগীর স্বামী

এ দুটি ঘটনার পর পরই কক্সবাজারে পর্যটক-খরা তৈরি হয়েছে। থার্টিফার্স্ট নাইটেও প্রাণহীন ছিল এই পর্যটন নগরী। এর এক সপ্তাহ পর সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দেখা যায়নি ভ্রমণপিপাসুর চাপ।

সৈকতে গত শুক্রবার যাদের দেখা গেছে তাদের বেশির ভাগই আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে এসেছেন। শহরের বেশির ভাগ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে ভরা মৌসুমেও রয়েছে হতাশা।

সৈকতে পর্যটক-খরা কী কারণে
আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে শুক্রবার কক্সবাজারে আসেন অনেকে

ব্যবসায়ীরা বলছেন, থার্টিফার্স্ট নাইটে হোটেল-মোটেলের ৫০ শতাংশের মতো কক্ষ ফাঁকা ছিল। পরের সাপ্তাহিক ছুটিতেও ৮০ শতাংশের মতো রুম ফাঁকা। অথচ স্বাভাবিক চিত্র হলো, বছরের এ সময়ে পর্যটকদের জায়গা দিতে হিমশিম খেতে হয়।

একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়। সেখানকার পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার ধাক্কা সামাল দিয়ে এই মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

দুটি সৈকতের ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাবারের দাম নিয়ে অপপ্রচার ও নারী ধর্ষণের অভিযোগ এবার ব্যবসার ক্ষতি করেছে। তবে এর সঙ্গে থার্টিফার্স্টের আগে লম্বা ছুটি, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণেও পর্যটকরা সৈকতে ছুটি কাটানোর আগ্রহ হারিয়েছেন।

কক্সবাজারের কলাতলী, সুগন্ধা বা লাবনীতে রয়েছে ৫১৬টি হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট। এসব হোটেলে দেড় লাখের বেশি পর্যটক থাকতে পারেন।

শহরের ব্যবসায়ীরা জানান, অতীতে পর্যটন মৌসুমে (শীতকালে) কক্সবাজারে ১৫ লাখের বেশি পর্যটক এসেছেন। সাপ্তাহিক ছুটি ঘিরে অন্তত দুই লাখ পর্যটকের সামগম থাকত। তবে এবার সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।

‘ভিজতা বে’ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক আব্দুল আউয়াল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থার্টিফার্স্টের আগে ৫০ শতাংশ রুম বুকিং ছিল। গত শুক্রবার তাও হয়নি। উল্টো অনেক বুকিং বাতিল হচ্ছে। বিকাশের একটি দল আসার কথা ছিল। রুমও বুকিং দিয়েছিল তারা। কিন্তু ওমিক্রনের কারণ দেখিয়ে পরে তা বাতিল করা হয়েছে।’

সুগন্ধা মোড়ের হোটেল হিল টাওয়ারের ব্যবস্থাপক আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের হোটেলে শতাধিক কক্ষ আছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার ছুটির দিন ঘিরে বুকিং ছিল মাত্র ১২টি, আগে এমন হয়নি।’

তবে সৈকতে কিছুটা পর্যটক ভিড় দেখা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলাতলীর হোটেল আমিন ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোহাম্মদ আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সৈকতে যাদের দেখা যাচ্ছে তাদের বেশির ভাগই কুমিল্লা, নোয়াখালী বা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ। এ ছাড়া কক্সবাজারের আশপাশের উপজেলার পর্যটক তো আছেনই। এদের অনেকে দিনে এসে দিনে চলে যান।’

তার কথার সত্যতা মেলে নোয়াখালী থেকে ঘুরতে আসা সাজ্জাদুর রহমানের কথায়। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা প্রায় ৮০ জনের মতো ব্যবসায়ী পিকনিক করতে এসেছি। দুটি বাসে ভোরে রওনা দিয়েছিলাম, পৌঁছেছি ১০টার দিকে। আবার রাতে ফিরে যাব।’

চট্টগ্রাম থেকে পরিবারের ১৪ সদস্য নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন মাওলানা রহিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহর থেকে ভোরে রওনা দিলে ৩ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজারে পৌঁছানো যায়। সে কারণে হোটেল ভাড়া নিইনি, রাতে আবার ফিরে যাব।’

কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থার্টিফার্স্টের আগে খাবারের দাম নিয়ে অপপ্রচার ও নারীকে ধর্ষণের মামলা আমাদের ব্যবসার ক্ষতি করেছে। সেই ক্ষতি বড় হয়ে উঠছে করোনার নতুন ধরন ঠেকাতে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের ঘোষণায়।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কক্সবাজারের নিরাপত্তা অনেক ভালো রয়েছে। যে নেতিবাচক প্রভাবের কথা বলা হচ্ছে, তেমন কিছু দেখছি না। তবে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে সচেতন করা হচ্ছে।’

কুয়াকাটাতেও হতাশা


কুয়াকাটার ইলিশ পার্ক রিসোর্টের মালিক ইমতিয়াজ তুষার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে টানা ছুটির সময় (বিজয় দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি) পর্যটকের অনেক চাপ ছিল। তখন সব হোটেল-মোটেল হাউসফুল ছিল। মূলত ওই ছুটি কাটিয়ে যাওয়ার কারণেই থার্টিফার্স্ট নাইট এবং জানুয়ারির শুরুর দিকে পর্যটক উপস্থিতি কম।’


সৈকতে পর্যটক-খরা কী কারণে
পর্যটক উপস্থিতি কমেছে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতেও


কুয়াকাটায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে পর্যটক সমাগমের পর ভিত্তিহীন কিছু প্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কুয়াকাটার সমুদ্রবাড়ী রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই সময়ে প্রচুর মানুষ কুয়াকাটায় আসেন। তখন বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম প্রচার করে কুয়াকাটায় কোনো সিট নেই। এর ফলে অনেকেই থার্টিফার্স্ট উদযাপনে আর কুয়াকাটাকে বেছে নেননি।’

গুজবের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কুয়াকাটার সব আবাসিক হোটেলে নভেম্বরে ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়েছিল। তবে ডিসেম্বরে ওই ছাড় বাতিল করা হয়। বিষয়টি না জেনে যারা কুয়াকাটা এসেছিলেন, তাদের অনেকে পরে ফেসবুকে বাড়তি ভাড়া নেয়ার গুজব ছড়ান।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আ. মোতালেব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকের মনের মধ্যে আশঙ্কা, করোনা দিন দিন বাড়ছে। যেকোনো সময় আবার লকডাউন হতে পারে। এ কারণেও অনেকে দূরে কোথাও যাওয়ার চিন্তা করছেন না।’

আরও পড়ুন:
ভারতের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে গ্রহাণু!
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নামে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন

মোয়ামোয়ায় তছনছ রেমিনের জীবন

মোয়ামোয়ায় তছনছ রেমিনের জীবন

অসুস্থতার আগে শারমিন জামান রেমিন। ছবি: সংগৃহীত

রেমিনের পরিবার মনে করছে বাজির শব্দেই তছনছ হয়ে গেছে তাদের সাজানো পরিবার। তবে ঢাকা ও ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাপত্রে রেমিন মস্তিষ্কের ধমনিসংক্রান্ত জটিল রোগ মোয়ামোয়ায় আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছিল স্ট্রোকের পাঁচ বছর আগে থেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ শব্দের সঙ্গে মোয়ামোয়া রোগের কোনো সম্পর্ক নেই।

শারমিন জামান রেমিন ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। ক্লাস ফাইভ ও এইটে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। এসএসসিতে পেয়েছে গোল্ডেন এ প্লাস। এরপর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ আঘাত।

২০১৭ সালে জুনে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে থমকে যায় রেমিনের স্বাভাবিক জীবন। তার পরিবারের দাবি, বাড়ির পাশে ফোটানো বাজির শব্দে ব্রেইন স্ট্রোক হয় রেমিনের। এরপর থেকে সে প্যারালাইজড। ২১ বছরে পৌঁছানো মেয়েটি এখন বলতে গেলে শয্যাশায়ী।

রেমিনের বাবা জাহিদ রিপন নিউজবাংলাকে জানান, ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুরে থাকতেন তারা। ঈদুল ফিতরের দুদিন আগের রাতে বাসার পাশে বিকট শব্দে বাজি ফোটাতে শুরু করে এলাকার কিছু শিশু। আর সেই শব্দে ব্রেইন স্ট্রোক হয় রেমিনের। এতে একপাশ পুরো প্যারালাইজড হয়ে যায়। দেশে-বিদেশে চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও তার ডান হাত আর ডান পা প্যারালাইজড।

সাড়ে চার বছর আগের ঘটনাটির রাতের বর্ণনা দিয়ে জাহিদ রিপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঈদের দুই দিন আগে আমার বাসার পাশে বাচ্চারা বাজি ফুটাচ্ছিল। আমি তাদের বলেছি, এদিকে ফুটাইয়ো না, ওই দিকে যাও। আমি না করার পরেও শোনেনি, আবার একটু পরে আসছে।

‘রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমার মেয়ে আমার পাশে বসা। আমরা খাচ্ছি। এমন সময় বোমার মতো শব্দে একটা বাজি ফুটেছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে মেয়েকে জড়িয়ে ধরেছি। পরে ও আর ভাতটা খেতে পারল না। এরপর রাতে ঘুমিয়েছে কি না আমরা অতটা খেয়াল করতে পারিনি। সকালবেলা আমি একটা প্রোগ্রামে ফরিদপুরের বাইরে চলে গেছি। ওর আম্মু ফোন করে জানাল, ঘুম থেকে উঠে মেয়েটা কেমন যেন করছে।‘

তিনি বলেন, ‘বাসায় ফিরে এসে মেয়েকে মেডিক্যালে নিলাম। সেখানে ডাক্তার দেখে রোগটা ধরতে পারেননি। উনি ওষুধ দিয়ে বললেন, রাতে মনে হয় স্বপ্ন-টপ্ন দেখেছে, ঠিক হয়ে যাবে। এরপর দুপুর পর্যন্ত যখন ঠিক হলো না, তখন আরেক জন ডাক্তার ফরিদপুর মেডিক্যালের সহযোগী অধ্যাপক আহাবউদ্দিনকে দেখালাম। উনিও দেখে বের করতে পারলেন না, বললেন ঢাকায় নিয়ে যান।‘

ঢাকায় এনে রেমিনকে ১০ দিন স্কয়ার হাসপাতালে রাখা হয়। অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদের অধীনেও তার চিকিৎসা চলে। পরে রেমিনকে ভারতের ভেলোরে ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নিয়ে যান জাহিদ রিপন। সেখানে ডা. আরি জর্জ চাকোর অধীনে চিকিৎসা হওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি তখন বাংলাদেশে ছিলেন।

এরপর রেমিনকে দেশে ফিরিয়ে এনে স্কয়ার হাসপাতালে ডা. আরি জর্জ চাকোর অধীনে অস্ত্রোপচার করানো হয়। ঢাকায় ফেরার আগে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালেও দেখানো হয় তাকে। তবে এত চিকিৎসার পরেও এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি রেমিন।

রেমিনের কেন এই দুর্বিষহ জীবন

রেমিনের পরিবার মনে করছে বাজির শব্দেই তছনছ হয়ে গেছে তাদের সাজানো পরিবার। তবে ঢাকা ও ভারতে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাপত্রে রেমিন মস্তিষ্কের ধমনিসংক্রান্ত জটিল রোগ মোয়ামোয়ায় আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনস হপকিন্স মেডিসিন ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, মোয়ামোয়া মস্তিষ্কের ধমনির একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ক্রমাগত বাড়তে থাকা রোগ। মোয়ামোয়া রোগে আক্রান্তদের মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলো সরু হয়ে যায়। এর ফলে ধমনি ব্লকও হয়ে যেতে পারে এবং এ থেকে ইসকেমিক স্ট্রোক (রক্ত জমাট বেঁধে স্ট্রোক), রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক ও খিঁচুনি হতে পারে।

জনস হপকিন্স মেডিসিন ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে মোয়ামোয়া রোগ বেশি দেখা যায়। আর পূর্ণবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের আক্রমণ করতে পারে।

নারী ও বংশগতভাবে এশিয়ানদের মধ্যে মোয়ামোয়া রোগের ঝুঁকি বেশি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এই রোগটির সঙ্গে জিনগত যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

মোয়ামোয়া শব্দটি জাপানি। এর অর্থ ঝাপসা ধোঁয়া বা মেঘ। মোয়ামোয়া আক্রান্ত রোগীদের এনজিওগ্রামে (মস্তিষ্কের স্ক্যান) রক্তনালিগুলোকে ঠিক তেমনটাই দেখা যায়। ওষুধ বা অস্ত্রোপচার করে লক্ষণগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই এর চিকিৎসা পদ্ধতি।

মোয়ামোয়া রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জনস হপকিন্স মেডিসিন ইন্টারন্যাশনালের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগে আক্রান্তদের ছোটখাটো স্ট্রোক হতে পারে, কারও ক্ষেত্রে মৃগীর লক্ষণ থাকতে পারে। এ ছাড়া ধমনিতে ব্লকের কারণে ইসকেমিক স্ট্রোক বা রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক করতে পারে। শরীরের যেকোনো একদিকে দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত দেখা দিতে পারে এবং ক্রমাগত স্ট্রোক ও রক্তক্ষরণের কারণে চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তি ক্রমশ কমতে পারে।

স্কয়ার হাসপাতালে ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট রেমিনের চিকিৎসাপত্রের একটি অনুলিপি পেয়েছে নিউজবাংলা। ডা. আরি জর্জ চাকোর সই করা ওই নথিতে রেমিন মোয়ামোয়া রোগে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে সংক্ষিপ্ত ক্লিনিক্যাল হিস্ট্রিতে বলা হয়, ১৬ বছর বয়সী মেয়েটি আমাদের কাছে একটি হুইলচেয়ারে চড়ে এসেছে। তার শরীরের ডান দিকে পাঁচ বছর ধরে ক্রমবর্ধমান ব্যথা ছিল। কৈশোর থেকে তার দুর্বলতা ছিল। পাঁচ বছর আগে লেখার সময় প্রথমবার তার দুর্বলতা ধরা পড়ে। এবং সাত মাস আগে তার মুখে দুর্বলতা শুরু হয় ও কথায় জড়তা চলে আসে। এর দুই দিনের মধ্যে তার ডান দিকের অংশে দুর্বলতা শুরু হয়। তখন থেকে তিনি হাঁটতে পারেন না। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ও ডান দিকে ফিজিওথেরাপি দেয়া হয়।

এর আগে ওই বছরের ১০ জুলাই এস.পি.আর.সি. অ্যান্ড নিউরোলজি হাসপাতালের দেয়া ছাড়পত্রে রেমিন মোয়ামোয়া রোগে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়। এই হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. কাজী দ্বীন মোহাম্মদের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ভারতের ভেলোরে ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও অ্যাপোলো হাসপাতালের নথিপত্রেও রেমিন মোয়ামোয়া রোগে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নথির কোনোটিতেই উচ্চশব্দজনিত কারণে রেমিনের অসুস্থতার বিবরণ নেই। এসব চিকিৎসাপত্রের অনুলিপি নিউজবাংলার কাছে থাকলেও রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার নীতি অনুসরণ করে সেগুলোর ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে না।

রেমিনের বাবা বলছেন, বাজির বিষয়টি জানানো হলেও চিকিৎসকরা তা আমলে নেননি। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আওয়াজের থেকে যে হয়েছে এটা ডাক্তাররা মানতে চান না। এই ঘটনাটা যখন ঘটল তখন আমি তো ওর (রেমিন) পাশে বসা। এর আগে-পরের সবকিছুই তো আমি জানি। কিন্তু ডাক্তাররা ওইটাকে (বাজির শব্দ) কিছু বলতে চান না। তারা বলেন যে এই (মোয়ামোয়া থেকে) সমস্যা হচ্ছে।’

রেমিনের ক্লিনিক্যাল হিস্ট্রিতে পাঁচ বছর আগে থেকেই সমস্যা থাকার বিষয়টি উল্লেখ থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে জাহিদ রিপন বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে ভোগা বলতে সে আসলে একটু ভীতু প্রকৃতির ছিল। ও শব্দ বেশি নিতে পারত না। একটু চুপচাপ থাকত। তবে এরপরেও সে ফাইভে বৃত্তি পেয়েছে, এইটে বৃত্তি পেয়েছে, এসএসসিতে সে এ প্লাস পেয়েছে। সে একটু ভীতু প্রকৃতির ছিল। সেটার জন্য তো আমরা ডাক্তারের ট্রিটমেন্টে ছিলাম। এটার জন্য অন্য কোনো সমস্যা ছিল না।’

‘ভীতু প্রকৃতির’ ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘স্নায়ু দুর্বল ছিল আরকি। মানে দুর্বল চিত্তের কিছু মানুষ থাকে না- যারা কিছু দেখলে ভয় পায়, আওয়াজ নিতে পারে না। ও দুর্বল চিত্তের ছিল।

‘সে প্রাণী দেখে ভয় পায় না। সে শুধু শব্দ নিতে পারত না। কুকুর ঘেউ করে উঠলেও সমস্যা। বাসার সামনে মোটরসাইকেল হর্ন দিলেও সমস্যা। আমার বাসাটা তো তিন রাস্তার মোড়ে। আমি সে কারণে নিজের এই বাসা ছেড়ে ভাড়া বাসায় চলে গিয়েছিলাম। পরে আর্থিক কারণে ফিরে আসি। আমি নিজের বাড়ি রেখে তিন বছর বাইরে ছিলাম। অন্য বাসায় ভাড়া ছিলাম।’

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

শারমিন জামান রেমিনের শারীরিক অবস্থা ও মোয়ামোয়া রোগটি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ ফাতিমার সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

শিশু নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. কানিজ বলেন, ‘মোয়ামোয়া রোগটি মূলত মস্তিষ্কের একটি সমস্যা। মস্তিষ্কের যেসব রক্তনালি থাকে সেগুলো জন্মগতভাবে বা পরবর্তী সময়ে সরু হয়ে যায়। এ কারণে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় রক্তের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এটা মাথাব্যথা দিয়ে শুরু হতে পারে ও পরবর্তীতে স্ট্রোক হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘মোয়ামোয়া রোগে মস্তিষ্কের কোনো একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলের রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ওই অঞ্চলে যে কাজগুলো থাকে মস্তিষ্ক সেটা আর করতে পারে না। ফলে শরীরের একটা পাশ অবশ হয়ে যেতে পারে, খিঁচুনি হতে পারে, মাথাব্যথা হতে পারে। এ কারণে মৃত্যুও হতে পারে।’

ডা. কানিজ ফাতিমা বলেন, ‘আমরা যেমনটা পাই যে ৩-৪ বছর থেকে সাধারণত রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে এটা জন্মগত সমস্যা বলে জন্মের সময় থেকেও সমস্যা দেখা যেতে পারে। তবে সেটা খুবই বিরল। বেশির ভাগ সময় ৩-৪ বছর বা ২ বছরেও পাই। এটা বড়দেরও হতে পারে।’

উচ্চ শব্দের সঙ্গে মোয়ামোয়া রোগের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান ডা. কানিজ। শব্দের কারণে ব্রেইন স্ট্রোকের সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন তিনি।

বিএসএমএমইউর এই সহযোগী অধ্যাপক বলেন, ‘শব্দের কারণে ব্রেইন স্ট্রোক হয় এমনটা আমরা কখনও শুনিনি। তবে কোনো শিশু অনেক বেশি অসুস্থ থাকলে সে শব্দ থেকে ভয় পেতে পারে। কিন্তু শব্দের কারণে ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা নেই।’

আরও পড়ুন:
ভারতের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে গ্রহাণু!
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নামে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন

খাঁটি মধুও কি জমে

খাঁটি মধুও কি জমে

খাঁটি মধু জমে যাওয়াকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন গবেষকরা। ছবি: সংগৃহীত

খাঁটি মধুও কেন জমে যায়, তার কারণ ব্যাখ্যা করে রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মৌ বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘পৃথিবীতে যত মধু রয়েছে তার প্রায় সবগুলোর জমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। কোনো কোনো মধু খুব দ্রুত জমে যায়; কোনো কোনো মধু জমতে সময় লাগে।’

বাজার থেকে বোতলজাত মধু কিনে কিছুদিন পর জমতে দেখলে অনেকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। তারা মনে করেন মধুতে নিশ্চয়ই ভেজাল আছে। আদতে বিষয়টি তা নাও হতে পারে।

মধু কেন জমে, তা জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে চট্টগ্রামভিত্তিক মধু গবেষক ও মধু জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মঈনুল আনোয়ারের সঙ্গে।

১৫ বছরের বেশি সময় ধরে মধু নিয়ে গবেষণা করা মঈনুল আনোয়ার প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর না দিয়ে ইমেইলে দেশ-বিদেশের কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতামত পাঠান।

খাঁটি মধুও কেন জমে যায়, তার কারণ ব্যাখ্যা করে রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মৌ বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, ‘পৃথিবীতে যত মধু রয়েছে তার প্রায় সবগুলোর জমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। কোনো কোনো মধু খুব দ্রুত জমে যায়; কোনো কোনো মধু জমতে সময় লাগে।

‘মধুর জমা মূলত নির্ভর করে মধুতে বিদ্যমান আর্দ্রতা, তাপমাত্রা এবং উৎসের ওপর। একই সঙ্গে মধুতে বিদ্যমান গ্লুকোজের পরিমাণের ওপরও এটি নির্ভর করে। যেসব মধুতে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি, সাধারণত সেসব মধু দ্রুত জমে যায়।’

জমে যাওয়া মধু নিরাপদ কি না, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মধু জমে যাওয়াটা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। জমে যাওয়া মধু সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এতে সব ধরনের গুণগত মান অটুট থাকে।

‘কোনো কারণে মধু জমে গেলে তা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১৫ মিনিট যদি রেখে দেয়া হয়, তাহলে সেটি আবার আগের তরল অবস্থায়, অর্থাৎ লিকুইড ফরমে চলে আসবে।’

খাঁটি মধুও কি জমে

মধু জমে যাওয়া নিয়ে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহসানুল হক স্বপন বলেন, ‘মধুতে প্রধানত চার ধরনের সুগার থাকে। এগুলো হলো ফ্রুকটোজ, গ্লুকোজ, সুক্রোজ ও ম্যালটোজ। সরিষার মধুতে দ্রুত জমে যাওয়ার বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিলক্ষিত হয়। সরিষার মধুতে ফ্রুকটোজ ও গ্লুকোজের অনুপাত প্রায় সমান সমান। অর্থাৎ সুন্দরবনের মধুর চেযে সরিষার মধুতে বেশি গ্লুকোজ থাকে।

‘ফ্রুকটোজের চেয়ে কম দ্রবণীয় গ্লুকোজ। পাকা সরিষার মধুতে পানির পরিমাণ কম থাকে। শীতকালে সরিষার মধু সংগ্রহ করা হয় বলে তাপমাত্রাও কম থাকে। এসব কারণে পাকা সরিষার খাঁটি মধু জমে যায়। আর এই জমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ও ভালো সরিষার মধু নির্দেশ করে।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বেয়ার হানি’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডাস্টিন ভ্যানেস বলেন, “মধুর ক্রিস্টালাইজেশন বা স্ফটিকায়ন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এর মানে এই নয় যে, মধুতে ভেজাল মেশানো হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের মধু ভিন্ন ভিন্ন অনুপাতে জমে যেতে পারে। এর মূল কারণ মধুতে থাকা খনিজ উপাদানগুলো।

“প্রায়ই দেখা যায়, কালো বর্ণের মধুগুলো হালকা বর্ণেরগুলোর চেয়ে দেরিতে জমাট বাঁধে। এ জমাট বাঁধার কারণ হলো ‘সুপার স্যাচুরেটেড দ্রবণ’ নামের একটি প্রক্রিয়া।”

খাঁটি মধুও কি জমে

এ খাদ্য নিরাপত্তা ও মান বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘মধুর দুটি অংশ—পানি ও চিনি। চিনি কঠিন পদার্থ। মধুতে ফ্রুকটোজের পরিমাণ বেশি থাকলে তা জমাট বাঁধতে শুরু করে, বিশেষ করে পাত্রের তলানিতে।’

আরও পড়ুন:
ভারতের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে গ্রহাণু!
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নামে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন

মোদি ফুল দিলেন, শাহজাহান কি হাত কেটেছিলেন?

মোদি ফুল দিলেন, শাহজাহান কি হাত কেটেছিলেন?

ছবি: অল্টারনেটিভ নিউজ

স্ত্রীর স্মৃতির উদ্দেশে তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন মোগল বাদশাহ শাহজাহান। ১৬৫৩ সালে সম্পন্ন হওয়া ওই সমাধিসৌধটি নির্মাণ করতে ২২ হাজার শ্রমিকের ২২ বছর লেগেছিল। লোকমুখে শোনা যায়, অনিন্দ্য সুন্দর এই সমাধিটি যারা নির্মাণ করেছিলেন, সেই সব শ্রমিকের হাত কেটে দিয়েছিলেন শাহজাহান। কিন্তু কথাটির সত্যতা কতটুকু?

লোকমুখে প্রায়ই শোনা যায়, তাজমহল নির্মাণের পর এর নির্মাণশ্রমিকদের হাত কেটে দিয়েছিলেন মোগল বাদশাহ শাহজাহান। আর এটা তিনি করেছিলেন যেন তারা এমন সুন্দর স্থাপত্য আর দ্বিতীয়টি তৈরি করতে না পারেন।

প্রচলিত এই কথাটি সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এলো যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাশী বিশ্বনাথ মন্দির উদ্বোধন করতে গেলেন।

গত ১৩ ডিসেম্বর সেই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্দিরটির পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে সম্মান জানান মোদি।

কিন্তু সেখানেই ঘটে বিপত্তি। কারণ এই অনুষ্ঠানটি কাভার করতে গিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটটিনের উপস্থাপক আমিশ দেবগন উচ্চারণ করে বসলেন, ইতিহাসের সেই বহুল প্রচলিত ধারণাটি।

তুলনা টেনে আমিশ বলেন, ‘মন্দিরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দিয়েছেন মোদি, আর তাজমহল নির্মাতাদের হাত কেটে দিয়েছিলেন শাহজাহান।’

শুধু তাই নয়, ভারতের গুজরাটেও একই বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তমারও। একটি সভায় গুজরাটি ভাষায় তিনি বলেন, ‘তাজমহলের কর্মীদের হাত কেটে ফেলা হয়েছিল। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী মোদি কাশী বিশ্বনাথ ধামের উন্নয়নে যারা কাজ করছেন তাদের ওপর ফুল ছিটিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।’

টুইটারে একই বক্তব্য পোস্ট করেছেন বিজেপি নেতা বিনয় টেন্ডুলকারও।

মোদি ফুল দিলেন, শাহজাহান কি হাত কেটেছিলেন?
কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর ফুল ছিটিয়ে দিচ্ছেন মোদি

ঘটনার এ পর্যায়ে এসে বিষয়টি নিয়ে সত্য অনুসন্ধান শুরু করে ফ্যাক্ট চেক সংস্থা অল্টারনেটিভ নিউজ।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যমও একই ধরনের বক্তব্য প্রকাশ করেছিল। সবচেয়ে বড় ব্যপার হলো- ওই ঘটনার ছয় বছর আগে যুক্তরাজ্যেরই শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানও তাজমহল শ্রমিকদের হাত কেটে নেয়ার তথ্য তুলে ধরেছিল।

এবার ইতিহাসবিদ এস ইরফান হাবিবের শরণাপন্ন হয় অল্টারনেটিভ নিউজ। ইরাফান হাবিব বলেন, ‘আমি বলতে পারি যে, এই গল্পটির যথার্থ কোনো প্রমাণ নেই। কোনো বিশ্বাসযোগ্য ইতিহাসবিদ কখনও এই দাবি নিয়ে হাজির হননি।’

তিনি দাবি করেন, প্রাচীন এই কাহিনিটি ১৯৬০-এর দশকেই ডালপালা মেলে। আর এটি মূলত মানুষের মুখে মুখেই শোনা যেত।

ইরফান হাবিবের মতে, ঘটনাটি শুরুর দিকে শাহজাহানের প্রতি বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও কালক্রমে এটি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এদিকে ১৯৭১ সালে রাচি ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগ থেকে প্রকাশিত ইতিহাস বিষয়ক একটি জার্নালে হাত কেটে নেয়ার ঘটনাটিকে একটি শহুরে কানকথা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

২০১৭ সালে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া তাজমহলের সঙ্গে সম্পর্কিত কতগুলো প্রচলিত কথা খণ্ডন করেছিল। এর মধ্যে একটি খণ্ডনে ওই হাত কাটার প্রসঙ্গটিও ছিল।

এ বিষয়ে সেই প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাত কেটে নেয়ার গল্পটির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তা ছাড়া তাজগঞ্জ নামে একটি লোকবসতির অস্তিত্ব এখনও বিদ্যমান। সারা দেশ থেকে বাছাই করে আনা কয়েক হাজার নির্মাণশ্রমিক, নকশাকার এবং স্থাপত্য সম্পর্কিত কর্মীদের জন্য ওই তাজগঞ্জের গোড়াপত্তন করেছিলেন মোগল বাদশা শাহজাহান। সেই সব মানুষের বংশধররা এখনও তাজগঞ্জে বসবাস করছেন। পুর্বপুরুষের বিদ্যা ও স্থাপত্যকৌশল তারা এখনও বংশ পরম্পরায় প্রয়োগ করছেন।

২০১৬ সালে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেও হাত কেটে নেয়ার গল্পটিকে একটি কানকথা হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

একই বছরে পাকিস্তানের ডন পত্রিকায়ও এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কারণ নিউ ইয়র্কের নাট্যকার রাজিব জোসেফ তার ‘গার্ড অ্যাট দ্য তাজমহল’ নামে একটি নাটকে ওই প্রচলিত হাত কেটে নেয়ার ঘটনাটিকেই ফুটিয়ে তুলেছিলেন। ডনের প্রতিবেদনে, ৪০ হাজার হাত কেটে নেয়ার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই বলেই দাবি করা হয়।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো- তাজমহলের ওয়েবসাইটেও এখন পর্যন্ত হাত কেটে নেয়া সম্পর্কিত কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। উপরন্তু ওই ওয়েবসাইটে এ সম্পর্কে একটি ব্লগ প্রকাশিত হয়েছে। হাত কেটে নেয়ার গল্পটি কীভাবে লোকমুখে এসেছে, তা নিয়েই মূলত একটি মতামত ছিল ওই লেখায়।

ওই ব্লগে দাবি করা হয়, শাহজাহান হয়তো তাজমহলের কর্মীদের ওপর একটি নৈতিক দায় চাপিয়ে দিয়েছিলেন। হয়তো তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো চুক্তি করেছিলেন, তারা যেন অন্য কোনো সম্রাটের অধীনে কোনো নির্মাণকাজে অংশ না নেয়। আজকের দিনে এই ব্যাপারটিই ‘হাত কেটে দেয়া’র মতো এক উপকথায় পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভারতের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে গ্রহাণু!
সান্তাক্লজকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নামে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া
নিজের সব দাঁত তুলে মালা বানিয়ে প্রেয়সীকে উপহার?

শেয়ার করুন