ঢাবির ছাত্রী হলে প্রার্থনা কক্ষের দাবি সনাতন শিক্ষার্থীদের

player
ঢাবির ছাত্রী হলে প্রার্থনা কক্ষের দাবি সনাতন শিক্ষার্থীদের

ঢাবির সনাতন সংঘের পক্ষ থেকে রোববার বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্রীদের জন্য তাদের হলগুলোতে প্রার্থনার কোন স্থান ছিল না। এ জন্য হলে উপাসনালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা। এটা ধর্মীয় মূল্যবোধের একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পাঁচটি ছাত্রী হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনার জন্য আলাদা কক্ষের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন সংঘের পক্ষ থেকে রোববার বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সঙ্গে দেখা করে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

এ সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি তিলোত্তমা শিকদারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রায় ৮-১০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

তিলোত্তমা শিকদার বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্রদের জন্য আলাদা হল এবং উপাসনালয় রয়েছে। তবে ছাত্রীদের হলে প্রার্থনার জন্য কোন উপাসনালয় নেই। অসাম্প্রদায়িক এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতন ছাত্রীবোনদের জন্য প্রার্থনা কক্ষ বরাদ্দের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের দাবির বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।’

ঢাবির ছাত্রী হলে প্রার্থনা কক্ষের দাবি সনাতন শিক্ষার্থীদের

ঢাবির সনাতন সংঘের পক্ষ থেকে রোববার বিকেলে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সঙ্গে দেখা করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘ছাত্রীরা চাইলেও সবসময় ঢাকেশ্বরী বা অন্য কোথাও প্রার্থনা করতে পারে না। সেজন্য আমরা মেয়েদের হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আলাদা হলের দাবি জানাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‍উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্রীদের জন্য তাদের হলগুলোতে প্রার্থনার কোন স্থান ছিল না। এ জন্য হলে উপাসনালয় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা। এটা ধর্মীয় মূল্যবোধের একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’

আরও পড়ুন:
‘শিক্ষকরা নির্বাচনে, ডাকসু কেন নির্বাসনে?’
হৃদরোগে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কীসের ভয়ে খালেদাকে বিদেশ যেতে দেয়া হচ্ছে না: সাদা দল
ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন: ৩৬ পদের পেছনে ৩৩০ জন
‘সব শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে হবে’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিএনপির সংহতি

এবার শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিএনপির সংহতি

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী বলেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা এই আন্দোলনে সংহতি জানাতে এসেছি। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আমরাও একমত। এই উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।’

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন সিলেটের বিএনপি নেতারা।

সিলেট মহানগর বিএনপির ছয়-সাতজন শীর্ষ নেতা বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

এর দুদিন আগে আওয়ামী লীগ নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানান।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকীর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বিকেলে দলটির নেতারা শাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনস্থলে আসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী, যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদ হোসেন, রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সালেহ আহমদ খসরুসহ কয়েকজন। তারা সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী বলেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা এই আন্দোলনে সংহতি জানাতে এসেছি। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আমরাও একমত। এই উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেহেতু চাচ্ছে, তাহলে ওনার (উপাচার্যের) সরে যাওয়াই উচিত।’

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনে যে কেউ সংহতি জানাতে পারেন। যেকোনো দলের নেতারাই আসতে পারেন। তবে এটি কোনো দলীয় আন্দোলন নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম মঙ্গলবার বলেছিলেন, ‘আমাদের দল ও সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এই সংকট থেকে বের হয়ে আসার একটি পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।

‘আমি আপনাদের দাবির প্রতি একমত। আপনাদের প্রাথমিক দাবিগুলো যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন হয় সে চেষ্টা করব। তবে আমাদের একটু সময় দিতে হবে। যাতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসে সে চেষ্টা চালাব।’

শফিউল আলমের সঙ্গে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক বিধান কুমার সাহাসহ আরও অনেকে ছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘শিক্ষকরা নির্বাচনে, ডাকসু কেন নির্বাসনে?’
হৃদরোগে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কীসের ভয়ে খালেদাকে বিদেশ যেতে দেয়া হচ্ছে না: সাদা দল
ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন: ৩৬ পদের পেছনে ৩৩০ জন
‘সব শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে হবে’

শেয়ার করুন

শাবি ভিসির বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশ

শাবি ভিসির বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশ প্রাপ্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শাবি উপাচার্যকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছে।

জাবির সাবেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশ প্রাপ্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শাবি উপাচার্যকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের হল সারারাত খোলা রাখার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে দেশের অপর একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন শাবি উপাচার্য। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপ থেকে এসব জানা যায়। শাবি উপাচার্য বলেছেন তার ওই বক্তব্যে বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েদের কেউ সহজে বউ হিসেবে নিতে চায় না। কারণ সারারাত এরা ঘুরাফিরা করে।’

আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই জ্ঞানপাপী অশোভন আচরণ ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে ভিসি তো দূরের কথা, শিক্ষক পদে থাকার যোগ্যতাও হারিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
‘শিক্ষকরা নির্বাচনে, ডাকসু কেন নির্বাসনে?’
হৃদরোগে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কীসের ভয়ে খালেদাকে বিদেশ যেতে দেয়া হচ্ছে না: সাদা দল
ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন: ৩৬ পদের পেছনে ৩৩০ জন
‘সব শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে হবে’

শেয়ার করুন

ইউনিক আইডি নিয়ে ৪ নির্দেশনা

ইউনিক আইডি নিয়ে ৪ নির্দেশনা

ইউনিক আইডির ডাটা এন্ট্রি চলবে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ফাইল ছবি

বৃহস্পতিবার ইউনিক আইডির ডাটা এন্ট্রি নিয়ে চার দফা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)।

দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি ‘ইউনিক আইডি’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত সব তথ্য থাকবে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ইউনিক আইডির ডাটা এন্ট্রি। যা চলবে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার ইউনিক আইডির ডাটা এন্ট্রি নিয়ে চার দফা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)।

নির্দেশনাগুলো হলো

১. ২০২২ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের তথ্য ফরম পূরণ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

২. মুদ্রিত শিক্ষার্থী তথ্যছকে শিক্ষার্থীর শ্রেণি অনুযায়ী Data Entry করতে হবে। অর্থাৎ ফরমে শিক্ষার্থীদের যে শ্রেণি উল্লেখ রয়েছে সেই শ্রেণি হিসেবেই Data Entry দিতে হবে। অর্থাৎ সকল শিক্ষার্থীর তথ্য ২০২১ সাল বিবেচনা করে Entry করতে হবে।

৩. শিক্ষার্থীর পিতা/মাতা/অভিভাবকের জন্মনিবন্ধন থাকলে অবশ্যই ১৭ ডিজিটে দিতে হবে। অর্থাৎ ১৩ ডিজিটের নম্বরের শুরুতে জন্মসাল দিতে হবে।

৪. শিক্ষার্থীর BRN এবং জন্মতারিখ এন্টির পর শিক্ষার্থীর নাম প্রদর্শিত না হলে অন্যান্য তথ্য Entry দেয়া যাবে না। এবং প্রথম Page Save হবে না।

ইউনিক আইডি কেন

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় রাখার জন্য তৈরি করা হচ্ছে ইউনিক আইডি। শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে এই আইডি জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) রূপান্তরিত হবে।

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)। আর প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরি করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

কেন শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক আইডি তৈরি করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলেই স্থানীয় সরকার বিভাগের অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেলের আওতায় তার জন্মনিবন্ধন হয়। আর ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া সবার জন্য আছে জাতীয় পরিচয়পত্র। কিন্তু যারা প্রাইমারি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী, অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮-এর নিচে তারা এই সিস্টেমের বাইরে। এ জন্য তাদের সিস্টেমের মধ্যে আনতেই ইউনিক আইডি তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

ফরমে যেসব তথ্য দিতে হয়

স্ট্যাবলিশমেন্ট অফ ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইআইএমএস) প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা চার পৃষ্ঠার ফরমে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ফরমে শিক্ষার্থীর নাম, জন্মনিবন্ধন নম্বর, জন্মস্থান, জেন্ডার, জাতীয়তা, ধর্ম, অধ্যয়নরত শ্রেণি, রোল নম্বর, বৈবাহিক অবস্থা, প্রতিবন্ধিতা (ডিজ-অ্যাবিলিটি), রক্তের গ্রুপ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কি না, মা-বাবার নামসহ বেশ কিছু তথ্যের ঘর রয়েছে।

বৈবাহিক অবস্থার অপশন হিসেবে অবিবাহিত, বিবাহিত, বিধবা, বিপত্নীক ছাড়াও স্বামী-স্ত্রী পৃথক বসবাস, তালাকপ্রাপ্ত, বিয়েবিচ্ছেদের ঘরও রয়েছে ফরমে।

আরও পড়ুন:
‘শিক্ষকরা নির্বাচনে, ডাকসু কেন নির্বাসনে?’
হৃদরোগে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কীসের ভয়ে খালেদাকে বিদেশ যেতে দেয়া হচ্ছে না: সাদা দল
ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন: ৩৬ পদের পেছনে ৩৩০ জন
‘সব শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে হবে’

শেয়ার করুন

৪৩তম বিসিএস: প্রিলির ফল প্রকাশ

৪৩তম বিসিএস: প্রিলির ফল প্রকাশ

৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন।ফাইল ছবি

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নুর আহ্‌মদ। তিনি বলেন, ‘৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে।’

৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। লিখিত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫ হাজার ২২৯ জন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নুর আহ্‌মদ।

তিনি বলেন, ‘৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে।’

এসএমএসে ফল জানতে টেলিটক মোবাইল থেকে BCS লিখে স্পেস দিয়ে ৪৩ লিখে স্পেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। আটটি বিভাগীয় শহরের ৩৬৯ কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা হয়। পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেন ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২ চাকরিপ্রার্থী, যা বিসিএসের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদনের রেকর্ড। আর এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৩ লাখ ২১ হাজার ৬৫০ প্রার্থী।

লিখিত পরীক্ষা জুলাই মাসে

প্রিলিমিনারি ফল প্রকাশের সঙ্গেই ৪৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষারও সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে জুলাই মাসে লিখিত পরীক্ষায় বসতে হতে পারে প্রার্থীদের।

ফলাফল প্রকাশের বিবৃতিতে লিখিত পরীক্ষা নিয়ে বলা হয়েছে, ৪৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা চলতি বছরের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সূচি কমিশনের ওয়েবসাইটে ও প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নুর আহ্‌মদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজকের কমিশনের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪৩তম বিসিএসে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণদের আগামী জুলাই মাসে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য কমিশন সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৩তম সাধারণ বিসিএসের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় পিএসসি। সে বছরের ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় আবেদন প্রক্রিয়া। শুরুতে আবেদনের শেষ সময় গত বছরের ৩১ জানুয়ারি করা হলেও পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সুপারিশে সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়।

৪৩তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৮১৪ জনকে নিয়োগ দেবে। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ হবে ৩০০ জন। পুলিশের এএসপি পদে নিয়োগ হবে ১০০ জন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেয়া হবে ২৫ জনকে।

শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি ৮৪৩ ক্যাডার নিয়োগ দেয়া হবে। এ ছাড়া অডিটে ৩৫, ট্যাক্সে ১৯, কাস্টমসে ১৪, সমবায়ে ২০, ডেন্টাল সার্জন পদে ৭৫ ও অন্যান্য ক্যাডারে নিয়োগ দেয়া হবে ৩৮৩ জনকে।

আরও পড়ুন:
‘শিক্ষকরা নির্বাচনে, ডাকসু কেন নির্বাসনে?’
হৃদরোগে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কীসের ভয়ে খালেদাকে বিদেশ যেতে দেয়া হচ্ছে না: সাদা দল
ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন: ৩৬ পদের পেছনে ৩৩০ জন
‘সব শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে হবে’

শেয়ার করুন

অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শাবির আন্দোলনকারীরা

অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শাবির আন্দোলনকারীরা

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ছবি: নিউজবাংলা

আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তাব দেন। তবে শিক্ষার্থীরা এই প্রস্তাবেও সম্মত হননি।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাদের মধ্যে কাজল দাস নামের একজনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পাঁচজনের হাতে অনশনস্থলেই স্যালাইন লাগানো হয়েছে।

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৪ জন বুধবার দুপুর থেকে অনশন শুরু করেন। তীব্র শীত আর অনাহারে রাতভর রাস্তায় থাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাদের শরীর খারাপ হতে থাকে।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে একজন চিকিৎসক তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যান।

এর এক ঘণ্টা পর কাজল দাস নামের এক অনশনকারীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কাজল পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীরা জানান, রাতে কাজলের কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। এ ছাড়া তার রক্তচাপ কমে যায়।

অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শাবির আন্দোলনকারীরা


সিলেটের যে হাসপাতালে কাজল দাসকে নেয়া হয়েছে সেখানকার চিকিৎসক বাবলু হোসেন বলেন, ‘জ্বর ও রক্তচাপ কমে যাওয়ায় তার অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছিল। তবে হাসপাতালে আনার পর তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।’

শিক্ষক প্রতিনিধিরা দুই দফায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে যান। তবে শিক্ষার্থীরা আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তাব দেন। তবে শিক্ষার্থীরা এই প্রস্তাবেও সম্মত হননি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সাব্বির আহমদ বলেন, ‘ঠান্ডা ও অনাহারে আমাদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তবু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন:
‘শিক্ষকরা নির্বাচনে, ডাকসু কেন নির্বাসনে?’
হৃদরোগে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কীসের ভয়ে খালেদাকে বিদেশ যেতে দেয়া হচ্ছে না: সাদা দল
ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন: ৩৬ পদের পেছনে ৩৩০ জন
‘সব শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে হবে’

শেয়ার করুন

শাবি ভিসি অপসারণ না হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন: ছাত্রদল

শাবি ভিসি অপসারণ না হলে সরকারবিরোধী আন্দোলন: ছাত্রদল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ছাত্রদল। ছবি: নিউজবাংলা

রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ‘শিগগিরই শাবি ভিসিকে অপসারণ না করলে ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রদল বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন গড়ে তুলবে।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদল।

শাবি ভিসিকে শিগগিরই অপসারণ করা না হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সরকারের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

শাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

ছাত্রদল সভাপতি খোকন বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও পুলিশ হামলা করেছে। তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহার এবং উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি।’

ভিসি ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগকে শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি মন্তব্য করে ফজলুর রহমান বলেন, শাবি ভিসিকে অপসারণ না করলে ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রদল বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিতে সারা দেশে উত্তাল আন্দোলন গড়ে তুলবে।’

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘শুধু শিক্ষার্থীই নয়, ঢাকাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও বর্তমান অবৈধ সরকারের হাতে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এই সরকার ঢাবি অধ্যাপক তাজমেরী ইসলামের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।’

সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম,সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. রাকিবুল ইসলাম।

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

এক হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের আন্দোলন রোববার থেকে রূপ নিয়েছে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে। ওই প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের পর শিক্ষার্থীদের এখন একটাই দাবি, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন লিজার বিরুদ্ধে খাবারের খারাপ মান, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আনেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তার প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সরে যান তারা। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

এরপর মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ।

বিকেলে তারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। এরপর পুলিশ উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায়।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর রোববার অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রোববার রাতে উপাচার্য ফরিদ প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগের বিষয়টি জানান। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে নামেন।

এর মাঝে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীকে আসামি করে সোমবার রাতে সিলেটের জালালাবাদ থানায় মামলা করে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে এই মামলা প্রত্যাহারের জন্য পুলিশকে সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে এ দাবি মানা না হলে আমরণ অনশনে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। এদিন দুপুরে আলটিমেটামের সময় পার হলে ২৪ শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ আন্দোলন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল করেন।

আরও পড়ুন:
‘শিক্ষকরা নির্বাচনে, ডাকসু কেন নির্বাসনে?’
হৃদরোগে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কীসের ভয়ে খালেদাকে বিদেশ যেতে দেয়া হচ্ছে না: সাদা দল
ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন: ৩৬ পদের পেছনে ৩৩০ জন
‘সব শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে হবে’

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের দাবি ‘সংহতি’, শিক্ষকরা জানালেন ‘সহমর্মিতা’

শিক্ষার্থীদের দাবি ‘সংহতি’, শিক্ষকরা জানালেন ‘সহমর্মিতা’

অনশনের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার দুপুরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ছবি: নিউজবাংলা

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন করে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনশনকারীদের একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। কাজল দাস নামের ওই শিক্ষার্থীকে নগরের রাগিব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিক্ষকদের আলোচনার প্রস্তাব আবারও ফিরিয়ে দিয়েছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার দুপুরে অর্ধশতাধিক শিক্ষক উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে যান।

তবে এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তাদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি না জানালে শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করবেন না।

শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, ‘প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে এ ঘটনার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করা হবে। যার দোষ পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে তারাও শরিক হবেন।’

তবে শিক্ষকদের এমন কথায় আশ্বস্ত না হয়ে আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। পরে সমঝোতায় ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান শিক্ষকরা। তবে যাওয়ার আগে জানিয়ে যান, আলোচনার জন্য আবারও আসবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন করে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনশনকারীদের একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। কাজল দাস নামের ওই শিক্ষার্থীকে নগরের রাগিব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেন শিক্ষার্থী নাফিজা আনজুম। তিনি বলেন, ‘যে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলির নির্দেশ দেন। তার কাছে আমরা শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই নিরাপদ অনুভব করছি না। তার অধীনে আমরা কিছুতেই ক্লাসে ফিরে যাব না। তাকে পদত্যাগ করতেই হবে।’

শিক্ষকদের আলোচনার প্রস্তাব প্রসঙ্গে আন্দোলকারী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, ‘আমরা নায্য দাবিতে আন্দোলন করছি। উপাচার্য আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছেন। আমরা তার পদত্যাগ চাই। এখন আর আলোচনার সুযোগ নেই। আমরা চাই আমাদের শিক্ষকরাও এই দাবির সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমাদের আন্দোলনে শরিক হবেন। এই স্বৈরাচারী উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করবেন।’

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যর্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বেলন, ‘আমরা তাদের বলেছি, এ ঘটনায় যারাই দায়ী তাদের তদন্ত করে খুঁজে বের করা হবে। যদি উপাচার্যেরও দোষ পাওয়া যায়, তাহলে আমরাও তার পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হব। তবে তদন্তের সময় দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা রাগ করেছে। তবে আমাদের রাগ করলে চলবে না। আমরা তাদের কাছে আবারও আলোচনার জন্য আসব। বারবার আসব।’

এর আগে বুধবার রাতে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে ও আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষকরা উপাচার্য ভবনের সামনে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে চান। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ না করলে শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। প্রায় ২ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান শিক্ষকরা।

বুধবার রাতে আন্দোলন চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন দুই শিক্ষার্থী। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘শিক্ষকরা নির্বাচনে, ডাকসু কেন নির্বাসনে?’
হৃদরোগে ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কীসের ভয়ে খালেদাকে বিদেশ যেতে দেয়া হচ্ছে না: সাদা দল
ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন: ৩৬ পদের পেছনে ৩৩০ জন
‘সব শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে হবে’

শেয়ার করুন