প্রধান বিচারপতির প্রতি আইনজীবীদের শতভাগ আস্থা প্রকাশ

player
প্রধান বিচারপতির প্রতি আইনজীবীদের শতভাগ আস্থা প্রকাশ

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ফাইল ছবি

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আপনি ভীতি বা অনুগ্রহের বশবর্তী না হয়ে সবার প্রতি আইন অনুযায়ী আচরণ করার যে সাংবিধানিক শপথ গ্রহণ করেছেন, তা রক্ষা করবেন বলে আমরা শতভাগ আস্থাশীল।’

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর ওপর শতভাগ আস্থা প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

রোববার নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে সমিতির পক্ষ থেকে দেয়া সংবর্ধনায় তিনি এ আস্থার কথা জানান।

প্রধান বিচারপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর আপনি বিচারাঙ্গন থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধে শক্ত অবস্থানের কথা বলেছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিটি সদস্য আপনার এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সমর্থন জানিয়েছেন।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে বিচারপ্রার্থীর সবশেষ ভরসাস্থল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অঙ্গনকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা সদা সোচ্চার।’

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দুর্নীতি প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি মোশন বেঞ্চগুলো থেকে স্বল্পমেয়াদে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাথমিকভাবে ছয় মাস বা এক বছর।

‘জামিন প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে আদেশ নামানো, আদেশ ডেসপাস করা প্রতিটি ক্ষেত্রেই অহেতুক পয়সা খরচ করতে হয়। অথচ আদালতে ফাইল আনা, ফাইল পাঠানো বা আদেশ পাঠানো আইনগতভাবে ওই আদালতের প্রশাসনিক দায়িত্ব। নবীন আইনজীবীরা এটিই যে নিয়ম তা ভুলতে বসেছেন। এ কারণে বিচার প্রশাসনে নানা রকম দুর্নীতি ও অনিয়ম ঘটছে।’

তিনি বলেন, ‘আপনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন, তাই এই সমিতির সদস্যদের জন্য আপনি অভিভাবক হিসেবে কাজ করবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।’

প্রধান বিচারপতির ওপর আস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি ভীতি বা অনুগ্রহের বশবর্তী না হয়ে সবার প্রতি আইন অনুযায়ী আচরণ করার যে সাংবিধানিক শপথ গ্রহণ করেছেন, তা রক্ষা করবেন বলে আমরা শতভাগ আস্থাশীল।

‘আমরা বিশ্বাস করি, সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতা আপনাকে এ পদে অধিষ্ঠিত করেছে। ভবিষ্যতে উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও আপনি সততা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দেবেন। আইনের শাসন সুনিশ্চিতকরণ, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে আপনি অগ্রদূত হিসেবে কাজ করবেন।’

৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে নিয়োগ দেয় রাষ্ট্র। ৩১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি তাকে শপথবাক্য পড়ান।

রোববার প্রধান বিচারপতি হিসেবে তিনি বিচারিক কাজ শুরু করেন।

আরও পড়ুন:
মামলাজট কমাতে সেল গঠন: প্রধান বিচারপতি
দুর্নীতির বিষয়ে নো কম্প্রোমাইজ: প্রধান বিচারপতি
নতুন প্রধান বিচারপতির কাজ শুরু রোববার
‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব’
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অর্থ পাচারকারী ৬৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান যারা

অর্থ পাচারকারী ৬৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান যারা

অর্থ পাচারকারী হিসেবে প্যারাডাইস ও পানামা পেপার্সে যেসব বাংলাদেশির নাম এসেছে, তাদের একটি তালিকা তৈরি করে বিএফআইইউ। আদালতে দাখিল করা এ তালিকায় দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী-রাজনীতিকের নাম রয়েছে।

বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের নামের একটি তালিকা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ নিয়ে বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক প্রতিবেদনটি দাখিল করেন। তিনি জানান, আগামী রোববার এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ঠিক করে দিয়েছে হাইকোর্ট।

অর্থ পাচারকারী হিসেবে প্যারাডাইস ও পানামা পেপার্সে যেসব বাংলাদেশির নাম এসেছে, তাদের একটি তালিকা তৈরি করে বিএফআইইউ।

আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে দেখা যায়, তালিকায় দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী-রাজনীতিকের নাম রয়েছে।

প্যারাডাইস পেপার্সে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন মাল্টিমোড লিমিটেডের আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ফাতেমা নাসরিন আউয়াল, তাবিথ আউয়াল, মোহাম্মদ তাফসির আউয়াল, মো. তাজওয়ার আউয়াল, মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেডের ফয়সাল চৌধুরী, ওয়াই ফরিদা মোগল, শহিদ উল্লাহ, সামির আহমেদ, সেভেন সিজ অ্যাসেটস লিমিটেড, সোয়েন ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ এক্সপ্লোরেশন লিমিটেড, ইউনোকল শাহবাজপুর পাওয়ার লিমিটেড, ইউনোকল শাহবাজপুর পাইপলাইন লিমিটেড, এনএফএম এনার্জি (সিঙ্গাপুর) পিটিই লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক সেভেন লিমিটেড, ইউনোকল শাহবাজপুর লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক ফাইভ লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক টেন লিমিটেড, বারলিংটন রিসোর্সেস বাংলাদেশ লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লকস থারটিন অ্যান্ড ফরটিন লিমিটেড, ইউনোকল বাংলাদেশ ব্লক টুয়েলভ লিমিটেড, ফ্রন্টিয়ার বাংলাদেশ (বারমুডা) লিমিটেড ও টেরা বাংলাদেশ ফান্ড লিমিটেড।

পানামা পেপার্সে নাম আসা ৪৩ জন হলেন বেগম নিলুফার কাজী, হংকং সাংহাই টেক্সটাইল স্পিনিং লিমিটেডের জাফরুল্লাহ কাজী (কাজী জাফর উল্লাহ), কাজী রায়হান জাফর, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপ বিল্ডারের ক্যাপ্টেন সোহাইল হোসাইন (হাসান), স্পার্ক লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইফতেখারুল আলম, বাংলা ট্র্যাক লিমিটেডের আমিনুল হক, নাজিম আসাদুল হক ও তারিক ইকরামুল হক, আব্দুল মোনেম লিমিটেডের এ এস এম মহিউদ্দিন মোনেম ও আসমা মোনেম, বিএপিআইয়ের সাবেক সভাপতি ড. এ এম এম খান, মমিন টির আজমত মঈন, পাট ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার মোদী, অনন্ত গ্রুপের শরীফ জহির, মার্কেন্টাইল করপোরেশনের আজীজ খান, আঞ্জুমান আজীজ খান, আয়েশা আজীজ খান, জাফের উমায়ের খান ও ফয়সাল করিম খান, সি পার্লের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সিরাজুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপ অব কোম্পানির হাসান মাহমুদ রাজা, খন্দকার মঈনুল আহসান শামীম, আহমেদ ইসমাইল হোসেন, আখতার মাহমুদ, মাসকট গ্রুপের চেয়ারম্যান এফ এফ জোবায়দুল হক, সেতু করপোরেশনের মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও উম্মে রাব্বানা, স্কয়ার গ্রুপের স্যামসন এইচ চৌধুরী, ক্যাপ্টেন এম এ, এফ এম জোবায়দুল হক, সালমা হক, খাজা শাহাদাৎ উল্লাহ, মীর্জা ইয়াহিয়া, সৈয়দা সামিয়া মীর্জা, আমিনুল হক, তারেক একরামুল হক, জাহিদুল ইসলাম, মো. শহীদ, মোহাম্মদ ফয়সাল করিম, নজরুল ইসলাম, সৈয়দ সিরাজুল হক ও জুলফিকার হায়দার এবং বিটিএল।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত সংস্থা বিএফআইইউ এ প্রতিবেদন দাখিল করে।

ওই দিন ২৯ ব্যক্তি ও ১৪ প্রতিষ্ঠানের তালিকা দাখিল করা হয়। ওই তালিকা দেখে বিএফআইইউ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডি কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানানোর নির্দেশ দেয়া হয়। নতুন এই তালিকা দাখিল ও সে বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা শুনানির জন্য ৩০ জানুয়ারি দিন ঠিক করে দিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন:
মামলাজট কমাতে সেল গঠন: প্রধান বিচারপতি
দুর্নীতির বিষয়ে নো কম্প্রোমাইজ: প্রধান বিচারপতি
নতুন প্রধান বিচারপতির কাজ শুরু রোববার
‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব’
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি

শেয়ার করুন

প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা সাবেক সেনাসদস্য, জড়িত শিক্ষক-জনপ্রতিনিধি

প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা সাবেক সেনাসদস্য, জড়িত শিক্ষক-জনপ্রতিনিধি

প্রশ্ন ফাঁসের হোতা সাবেক সেনাসদস্য নোমান সিদ্দীকিসহ গ্রেপ্তার ১০ জনকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড সাবেক সেনা ওয়ারেন্ট অফিসার নোমান সিদ্দীকি। তিনি একসময় র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর প্রশ্ন ফাঁসে জড়িয়ে পড়েন। সেখান থেকে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা উপার্জন করেছেন।’

প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের আওতাধীন ডিফেন্স ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টে অডিটর পদে নিয়োগের প্রশ্ন ফাঁসের হোতা সাবেক সেনাসদস্য নোমান সিদ্দীকি। প্রশ্ন ফাঁস, সমাধান, উত্তর বিতরণ পুরো কাজটি নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।

আট বছর ধরে এই সেনাসদস্য বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত ছিলেন। তার চক্রে রয়েছেন শিক্ষক-জনপ্রতিনিধিসহ নানা পেশার মানুষ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় করা দুই মামলার তদন্তে এমনই সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড সাবেক সেনা ওয়ারেন্ট অফিসার নোমান সিদ্দীকি। তিনি একসময় র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর প্রশ্ন ফাঁসে জড়িয়ে পড়েন। সেখান থেকে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা উপার্জন করেছেন।’

একই সঙ্গে তার আত্মীয়স্বজনেরও চাকরির ব্যবস্থা করেছেন ফাঁস করা প্রশ্ন দিয়ে। সম্প্রতি তিনি তার চক্রে আরও একাধিক সদস্যকে যুক্ত করেন। এর মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষকও রয়েছে। তাকেসহ আরও একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি জানান, আট বছরে নোমান অনেক ব্যক্তিকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। চাকরি পেয়েছেন এমন ব্যক্তিদের তালিকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নোমান আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন। তদন্তের স্বার্থে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গ্রেপ্তার ১০ জনকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সোমবার হওয়া দুই মামলায় আবারও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

জানা গেছে, এ ঘটনায় পলাতক এনটিআরসিএতে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন পাওয়া ফারুকের সঙ্গে পূর্বপরিচয় ছিল মাহবুবা নাসরীন রূপার। তিনি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে ইডেন কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী। বিভিন্ন সময়ে রাজনীতিতে সময় পার করে দেয়ার কারণে তার সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তদবির-বাণিজ্য করেও কামিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা। সম্প্রতি তিনি সরকারি চাকরির জন্য বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন।

একপর্যায়ে ফারুকের মাধ্যমে পরিচয় নোমান সিদ্দীকির সঙ্গে। সেই সূত্র ধরে আরও কিছু পরীক্ষার্থী সংগ্রহ করেন রূপা। ওই সব পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়া হয় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা। সর্বমোট ১৮ পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়া টাকা বিকাশ ও রকেটে লেনদেনের বিষয়টি অস্বাভাবিক হওয়ায় নজরে আসে গোয়েন্দাদের। এরপর তারা নজরদারি শুরু করলে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এরপর ২১ জানুয়ারি কাফরুল থানার সেনপাড়া পর্বতার ৪৯৮/৪ ভবনের এ/২ ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় সেখান থেকে নোমান সিদ্দীকিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর তার বাসা ও দেহ তল্লাশি করে চারটি মোবাইল ফোন সেট ও একটি ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। পরে সেখান থেকে ছয় পাতা অডিটর নিয়োগ পরীক্ষার ২০২২-এর পার্ট-১-এর এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের ফটোকপি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে একই পরীক্ষার আট প্রার্থীর নামের তালিকা উদ্ধার করা হয়। ওই প্রার্থীরা হচ্ছেন ফারদিন ইসলাম, লুৎফর রহমান, আমিনুল ইসলাম, সেলিম মাতবর, আহাদ খান, পারুল বালা, আকলিমা খাতুন ও মোরশেদ।

একই সময় গ্রেপ্তার মাহমুদুল হাসান আজাদের দেহ তল্লাশি করে মফিজুর রহমান, পল্লব কুমার, হাসিবুল হাসান, সুরুজ আহম্মেদ নামে আরও চারজনের প্রবেশপত্র ও হাতে লেখা উত্তরপত্র উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে নাইমুর রহমান তানজীর ও শহিদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করলে তাদের কাছ থেকেও ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তরপত্র ও বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে একাধিক বিকাশ ও রকেটের নম্বর উদ্ধার করা হয়। সেখানে লাখ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে গুলশান জোনের এডিসি রেজাউল হক জানান, নোমান পুরো কাজটি সমন্বয় করতেন। আজাদ অডিটর হিসেবে চাকরি করতেন। তাকে বছরখানেক আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসে তার সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। তানজীর নোমানের ভাগ্নে। আর গ্রেপ্তার শহীদুল্লাহ ছাত্র।

রেজাউল হক বলেন, ‘আজাদ অনেক বাকপটু। তিনি এমনভাবে চাকরিপ্রত্যাশী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে ডিল করতেন, যেন তিনিই চাকরি দিচ্ছেন। আজাদের মূল যোগাযোগটা ছিল নোমানের সঙ্গে।’

চক্রের প্রধান আসামি নোমানের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানার চরআলগিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম মো. আবু তাহের মিয়া। প্রশ্নফাঁসের টাকায় তিনি ঢাকায় ও তার গ্রামের বাড়িতে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। এ বিষয়গুলোও তদন্তে তুলে ধরা হবে। এ ঘটনায় তার ছাপাখানার কেউ জড়িত আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকেও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

২১ জানুয়ারি নোমান সিদ্দীকির বাসায় অভিযান শেষে পুলিশ বিজি প্রেস স্কুলে অভিযান চালায়। সেখান থেকে পরীক্ষারত অবস্থায় ভাইস চেয়ারম্যান রূপাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জার থেকে হিরণ খান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে প্রশ্নফাঁস নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। এমনকি ফাঁস হওয়া প্রশ্নে কিছু উত্তরও পাওয়া যায়।

এরপর পুলিশ রূপার দেয়া তথ্যমতে রমনা থানার আওতাধীন ৫৫/১ নিউ শাহীন হোটেলের ২৪ নম্বর রুমে অভিযান চালায়। সেখান থেকে মো. আল আমীন আজাদ রনি, মো. রাকিবুল হাসান, মো. হাসিবুল হাসান ও নাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে অত্যাধুনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।

ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবস্থান করা পরীক্ষার্থীদের কাছে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সমাধান পাঠানো হচ্ছিল। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকেও একাধিক বিকাশ ও রকেটের সিম উদ্ধার করা হয়। ওই সব সিম দিয়েও মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।

গুলশান জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার খলিলুর রহমান জানান, রমনার হোটেল থেকে গ্রেপ্তারদের নামে রমনা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় আসামি পাঁচজন। এ ছাড়া পলাতক হিসেবে আরও একাধিক ব্যক্তির নামে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসা করা হচ্ছে, এ মামলায় প্রশ্নফাঁসের রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ২১ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও রমনার বিভিন্ন এলাকায় আলাদা দুটি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি ইয়ার ডিভাইস, ছয়টি মাস্টার কার্ড, মোবাইল সিম হোল্ডার, পাঁচটি ব্যাংকের চেক, সাতটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ১০টি স্মার্টফোন, ছয়টি ফিচার মোবাইল ফোন, ১৮টি প্রবেশপত্র ও চলমান পরীক্ষার ফাঁস হওয়া তিন সেট প্রশ্নপত্র জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন:
মামলাজট কমাতে সেল গঠন: প্রধান বিচারপতি
দুর্নীতির বিষয়ে নো কম্প্রোমাইজ: প্রধান বিচারপতি
নতুন প্রধান বিচারপতির কাজ শুরু রোববার
‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব’
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি

শেয়ার করুন

বাসের রেষারেষিতে মৃত্যু: দুই চালক রিমান্ডে

বাসের রেষারেষিতে মৃত্যু: দুই চালক রিমান্ডে

দুর্ঘটনায় পড়া বাসটিকে রেকারে করে সরিয়ে নিচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

রমনা মডেল থানার উপপরিদর্শক আবুল খায়ের দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দেয়।

রাজধানী মগবাজার মোড়ে দুই বাসের রেষারেষিতে পিষ্ট হয়ে কিশোর মো. রাকিবের মৃত্যুতে করা মামলায় বাসচালক মনির হোসেন ও ইমরানকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকা মহানগর হাকিম মোশাররফ হোসেন বুধবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আদেশ দেন।

রমনা মডেল থানার উপপরিদর্শক আবুল খায়ের দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দেয়।

বিষয়টি আদালতে রমনা থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. নিজামুদ্দিন ফকির নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টন ও মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর এলাকা থেকে দুই চালককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

জানা যায়, ২০ জানুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে মগবাজার মোড়ে এসে প্রতিযোগিতা করতে থাকে আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের দুটি বাস। এই রেষারেষির পাল্লায় বাস দুটির মাঝখানে চাপা পড়ে রাকিব। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পৌনে ৬টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় রাকিবের বাবা নুরুল ইসলাম ওই দিন রাতেই রমনা থানায় মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
মামলাজট কমাতে সেল গঠন: প্রধান বিচারপতি
দুর্নীতির বিষয়ে নো কম্প্রোমাইজ: প্রধান বিচারপতি
নতুন প্রধান বিচারপতির কাজ শুরু রোববার
‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব’
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি

শেয়ার করুন

ধষর্ণের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ায় বৃদ্ধের ১৪ বছরের জেল

ধষর্ণের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ায় বৃদ্ধের ১৪ বছরের জেল

প্রেমের সম্পর্ক জোড়া লাগানোর টোটকা দেয়ার কথা বলে ২০১৫ সালের নভেম্বরের বিভিন্ন সময়ে এলাকার দুই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন আল আমিন। সেসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সেগুলো স্থানীয়দের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন।

কবিরাজি চিকিৎসার নামে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেয়ার দায়ে বৃদ্ধের ১৪ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। সেই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায় আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।

রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জিয়াউর রহমান বুধবার দুপুরে এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ইসমত আরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আসামির নাম আল আমিন আকিল। ৬৬ বছরের আকিলের বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রামের চান্দাই গ্রামে। তিনি পলাতক।

প্রেমের সম্পর্ক জোড়া লাগানোর টোটকা দেয়ার কথা বলে ২০১৫ সালের নভেম্বরের বিভিন্ন সময়ে এলাকার দুই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন আল আমিন। সেসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সেগুলো স্থানীয়দের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন।

এ ঘটনার পর ওই কিশোরীদের একজনের বাবা বড়াইগ্রাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নাটোরের আদালতে আল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারার অংশটির বিচারের জন্য মামলাটি নাটোরের আদালত থেকে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। পরে রাজশাহীতে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন হলে এটি এখানে যায়।

৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলাটির রায় ঘোষণা করেছে আদালত।

পিপি ইসমত বলেন, রাজশাহীর আদালতে শুধু ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার বিচার হলো। ধর্ষণের জন্য মামলার অংশটির বিচার চলছে নাটোরের আদালতে। মামলা একটি হলেও ধারা আলাদা থাকার কারণে বিচারকাজ দুই আদালতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মামলাজট কমাতে সেল গঠন: প্রধান বিচারপতি
দুর্নীতির বিষয়ে নো কম্প্রোমাইজ: প্রধান বিচারপতি
নতুন প্রধান বিচারপতির কাজ শুরু রোববার
‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব’
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি

শেয়ার করুন

আবরার হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ জনের জেল আপিল শুনবে হাইকোর্ট

আবরার হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ জনের জেল আপিল শুনবে হাইকোর্ট

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ। ফাইল ছবি

আদালত বলেছে, ‘ডেথ রেফারেন্স ও সব আপিল একসঙ্গে শুনানি হবে। পেপারবুক তৈরি হয়ে আসুক, সব একসঙ্গে শুনানি হবে।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট।

আদালত বলেছে, ‘ডেথ রেফারেন্স ও সব আপিল একসঙ্গে শুনানি হবে। পেপারবুক তৈরি হয়ে আসুক, সব একসঙ্গে শুনানি হবে।’

বুধবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম মাসুদ রুমি।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। এছাড়া দণ্ডিত আসামিরা উচ্চ আদালতে ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল করতে পারেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৭ জন জেল আপিল করেন।

বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার হত্যা মামলায় ৮ ডিসেম্বর ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এরপর ৬ জানুয়ারি এ রায়ের ডেথ রেফারেন্স এবং মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টে আসে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, অনিক সরকার ওরফে অপু, মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মাজেদুর রহমান ওরফে মাজেদ, মুজাহিদুর রহমান ওরফে মুজাহিদ, খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম ওরফে তানভীর, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, শামীম বিল্লাহ, সাদাত ওরফে এ এস এম নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমী, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, এস এম মাহমুদ সেতু, সামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মাহমুদুল জিসান ও মুজতবা রাফিদ।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- অমিত সাহা, ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, আকাশ হোসেন, মুহতাসিম ফুয়াদ ও মোয়াজ ওরফে মোয়াজ আবু হোরায়রা।

আবরারকে যে রাতে হত্যা করা হয়, তার পরদিন ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর তার বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান ওই বছরের ১৩ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মোট ২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ১৮ নভেম্বর পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তাদের মধ্যে একজন পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে মামলাটি পরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ বদলির আদেশ দেয়া হয়। বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলাটির বিচারকাজ শুরু করেন।

দুই পক্ষে যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে গত ১৪ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য ২৮ নভেম্বর তারিখ রাখেন। তবে ওই দিন রায় লেখা বাকি থাকায় তারিখ পিছিয়ে ৮ ডিসেম্বর ঠিক করা হয়।

আরও পড়ুন:
মামলাজট কমাতে সেল গঠন: প্রধান বিচারপতি
দুর্নীতির বিষয়ে নো কম্প্রোমাইজ: প্রধান বিচারপতি
নতুন প্রধান বিচারপতির কাজ শুরু রোববার
‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব’
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি

শেয়ার করুন

রফিকুল মাদানীর বিচার শুরু

রফিকুল মাদানীর বিচার শুরু

পুলিশের হাতে আটক রফিকুল ইসলাম মাদানী। ফাইল ছবি

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে বুধবার দুপুরে রফিকুল ইসলাম মাদানীর পক্ষে তার আইনজীবী মো. রাব্বি অব্যাহতির আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গাজীপুরের গাছা থানায় করা মামলায় শিশুবক্তা হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।

এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো মামলাটির বিচার।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে বুধবার দুপুরে আসামির পক্ষে তার আইনজীবী মো. রাব্বি অব্যাহতির আবেদন করেন।

আদালত আবেদনটি নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয়। একই সঙ্গে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করা হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামিম।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মাদানীকে গত বছরের ৭ এপ্রিল নেত্রকোনায় তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে চারটি মোবাইলফোন জব্দ করা হয়। এসব মোবাইলে বেশ কিছু পর্ন ভিডিও পাওয়া যায়।

পরের দিন মাদানীকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানায় হস্তান্তর করে র‍্যাব। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। মামলাটি তদন্ত করে র‍্যাব-১।

মামলার এজাহারে মাদানীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ করা হয়। যদিও আদালতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজারের কলমেশ্বর এলাকায় একটি কারখানা চত্বরে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক ওয়াজ মাহফিলে সরকারকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন মাদানী। ওই ঘটনায় ৭ এপ্রিল গভীর রাতে গাছা থানায় র‍্যাব-১-এর ডিএডি আবদুল খালেক বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলায় মাদানীর বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৮ ও ৩১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করে আক্রমণাত্মক ও মিথ্যা ভীতি প্রদর্শন, তথ্য–উপাত্ত ইলেকট্রনিকস বিন্যাসে প্রকাশ ও সম্প্রচার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর অপরাধের কথা বলা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫ মার্চ বিক্ষোভকালে ঢাকার মতিঝিল এলাকা থেকে আটক করা হয় রফিকুল ইসলাম মাদানীকে। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ওই ঘটনার মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি।

আরও পড়ুন:
মামলাজট কমাতে সেল গঠন: প্রধান বিচারপতি
দুর্নীতির বিষয়ে নো কম্প্রোমাইজ: প্রধান বিচারপতি
নতুন প্রধান বিচারপতির কাজ শুরু রোববার
‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব’
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি

শেয়ার করুন

ঘ‌রের মে‌ঝে‌তে গৃহবধূর মরদেহ, ​স্বামী আটক

ঘ‌রের মে‌ঝে‌তে গৃহবধূর মরদেহ, ​স্বামী আটক

প্রতীকী ছবি

নিহ‌তের মা ফা‌তেমা বেগম ব‌লেন, ‘বি‌ভিন্ন সময় যা পে‌রে‌ছি, টাকা-পয়সা দি‌য়ে‌ছি। মে‌য়ে‌টি‌কে প্রায় সময় নির্যাতন কর‌ত তার স্বামী। দু‌টি বাচ্চা থাকায় তা‌দের মু‌খের দিক তা‌কি‌য়ে সব সহ্য কর‌ত সো‌নিয়া। তারপরও আমার মে‌য়ে‌কে জীব‌নে শেষ ক‌রে দি‌ল।’

খুলনার দিঘলদিয়া উপজেলায় এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলার দিঘ‌লিয়া গ্রা‌মের নিজ ঘর থেকে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে গৃহবধূ সো‌নিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিউজবাংলাকে দিঘ‌লিয়া থানার পু‌লিশ প‌রিদর্শক (তদন্ত) রিপন সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃত ২৬ বছর বয়সী সো‌নিয়া উপ‌জেলার প‌থেরবাজার এলাকার পা‌নিগা‌তির সোলাইমান বিশ্বা‌সের মে‌য়ে। তার স্বামী ইব্রা‌হিম খান একই উপ‌জেলার দিঘ‌লিয়া গ্রা‌মের ইসলাম খা‌নের ছে‌লে।

সো‌নিয়ার পরিবারের দাবি, যৌতু‌কের জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে।

সো‌নিয়ার বড় ভাই জামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে বোনের শ্বশুরবাড়ির পাশের একজনের কাছে খবর পেয়ে ছুটে যাই। গি‌য়ে দে‌খি ঘ‌রের মে‌ঝে‌তে ছোট‌ বোন সো‌নিয়ার নিথর দেহ প‌ড়ে র‌য়ে‌ছে।

‘পরে আশপাশের লোকজন এ‌সে পু‌লিশ‌কে খবর দেয়। পু‌লিশ ভোর ৫টার দি‌কে এ‌সে সো‌নিয়ার স্বামী ইব্রা‌হিম খান‌কে আটক ক‌রে থানায় নি‌য়ে গে‌ছে।’

নিহ‌তের মা ফা‌তেমা বেগম ব‌লেন, ‘বি‌ভিন্ন সময় যা পে‌রে‌ছি, টাকা-পয়সা দি‌য়ে‌ছি। মে‌য়ে‌টি‌কে প্রায় সময় নির্যাতন কর‌ত তার স্বামী। দু‌টি বাচ্চা থাকায় তা‌দের মু‌খের দিক তা‌কি‌য়ে সব সহ্য কর‌ত সো‌নিয়া। তারপরও আমার মে‌য়ে‌কে জীব‌নে শেষ ক‌রে দি‌ল।’

এ সময় অ‌ভিযুক্ত ইব্রা‌হিম খা‌নের দৃষ্টান্তমূলক শা‌স্তির দাবি জানান তিনি।

দিঘ‌লিয়া থানার পু‌লিশ প‌রিদর্শক (তদন্ত) রিপন সরকার বলেন, ‘রাত ৩টার দি‌কে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদ‌ন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল ক‌লেজ হাসপাতা‌লের ম‌র্গে পাঠানো হ‌য়ে‌ছে।

‘এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবা‌দের জন্য নিহ‌তের স্বামী ইব্রা‌হিম‌কে থানায় নিয়ে আসা হ‌য়ে‌ছে। ঘটনার বিষ‌য়ে তদন্ত চল‌ছে।’

আরও পড়ুন:
মামলাজট কমাতে সেল গঠন: প্রধান বিচারপতি
দুর্নীতির বিষয়ে নো কম্প্রোমাইজ: প্রধান বিচারপতি
নতুন প্রধান বিচারপতির কাজ শুরু রোববার
‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব’
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি

শেয়ার করুন