রাষ্ট্রপতির সংলাপ: বঙ্গভবনে গণফোরাম, নেই ড. কামাল

player
রাষ্ট্রপতির সংলাপ: বঙ্গভবনে গণফোরাম, নেই ড. কামাল

রোববার বিকেলে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের একাংশের নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির খানের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে প্রবেশ করে। ছবি: নিউজবাংলা

গণফোরামের নেতৃত্বে আছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসন থেকে বিজয়ী মোকাব্বির খান। ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদির লুনার মনোনয়ন বাতিল হলে তাকে সমর্থন দেয় বিএনপির জোট।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নিতে এই মুহূর্তে বঙ্গভবনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের একাংশ। তবে দলের প্রতিষ্ঠাতা নেই প্রতিনিধি দলে।

রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় দলের নির্বাহী সভাপতি মোকাব্বির খানের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে প্রবেশ করে।

সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে গণফোরামের সংলাপের কথা রয়েছে।

সম্প্রতি ড. কামালের নেতৃত্বাধীন দলটিতে ভাঙন দেখা গিয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টুকে সভাপতি ঘোষণা করে আরেকটি কমিটি গঠন হয়েছে।

মোকাব্বির খান যে কমিটিতে আছেন, তাতে সভাপতি হিসেবে আছেন ড. কামাল

একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদির লুনার মনোনয়ন বাতিল হলে গণফোরামের নেতা মোকাব্বিরকে সমর্থন দেয় বিএনপির জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। উদীয়মান সূর্য নিয়ে তিনি নির্বাচিত হন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেয়নি বিএনপি। তবে জোটের মধ্যে যোগাযোগ আর নেই।

বিএনপি এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতির এই সংলাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দলটির পাশাপাশি বামপন্থি সিপিবি, বাসদ, ধর্মভিত্তিক দল ইসলামী আন্দোলনও বঙ্গভবনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এখন পর্যন্ত যারা সংলাপে অংশ নিয়েছে, তাদের মধ্যে সবগুলোই আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী, অথবা সমমনা।

বঙ্গভবনে আসা গণফোরামের প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন: ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিক উল্লাহ, সদস্য মোশতাক আহমেদ, হারুনুর রশিদ তালুকদার, সুরাইয়া বেগম, সেলিম আকবর, আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর ও শাহ নুরুজ্জামান।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হচ্ছে কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের। এরপর যে কমিশন গঠন হবে, সেটিই আগামী জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করবে।

বর্তমান কমিশনের আগে কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন কমিশনও রাষ্ট্রপতি গঠন করেন সংলাপ করে। তবে এই দুটি কমিশনের অধীনে করা দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী পক্ষের আপত্তি আছে। তাদের অভিযোগ, দুটি নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পরেনি। তবে আওয়ামী লীগ ও সমমনারা একে পরাজিতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছে।

আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপতির সংলাপ সফল হবে: আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির ডাকা সংলাপ অর্থহীন: ইসলামী আন্দোলন
রাষ্ট্রপতির সংলাপে যাবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
সংলাপে বিএনএফের তিন প্রস্তাব
গণতন্ত্রকে নির্বাচনে সীমাবদ্ধ না রেখে ছড়িয়ে দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লবিস্ট ফার্মে দেয়া অর্থের হিসাব দিতে হবে বিএনপিকে: প্রধানমন্ত্রী

লবিস্ট ফার্মে দেয়া অর্থের হিসাব দিতে হবে বিএনপিকে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি ভিডিও থেকে নেয়া

নির্বাচন সামনে রেখে লবিস্টের অর্থের হিসাব দিতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর, ২০০১ থেকে ক্ষমতায় থেকে জনগণের টাকা লুট করে, পাচার করে, সেই টাকা দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত। কেন? যাদের দেশপ্রেম নেই, জনগণের প্রতি যাদের দায় নেই, জনগণের মঙ্গল চায় না, তারাই বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থামাতে চায়।’

অর্থ পাচার করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করতে লবিস্ট ফার্মে বিনিয়োগ করা কোটি কোটি ডলারের হিসাব বিএনপিকে দিতে হবে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার জন্য দেশটির প্রশাসনকে নয়, বরং ‘ঘরের ইঁদুর’ বিএনপিকে দুষছেন সরকারপ্রধান।

জাতীয় সংসদে শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

লবিস্ট ফার্মে বিএনপির বিনিয়োগের একটি তালিকা দেখিয়ে তা স্পিকারের কাছে জমা দেয়া হবে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কত লাখ ডলার এই বিএনপি খরচ করেছে। লাখ লাখ ডলার তারা লুট করেছে, কোটি কোটি ডলার তারা বিনিয়োগ করেছে। আমার প্রশ্ন, এই অর্থ তারা কোথা থেকে পেল? এটা তো বৈদেশিক মুদ্রা। এই বৈদেশিক মুদ্রা তারা কোথা থেকে পেয়েছে? কীভাবে খরচ করেছে? কীভাবে তারা লবিস্ট রেখেছে?

‘সেই লবিস্ট কিসের জন্য? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানোর জন্য, নির্বাচন বানচাল করার জন্য, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য, জঙ্গিদের রক্ষার জন্য, জাতির পিতার হত্যাকারীদের রক্ষার জন্য, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সেটাকে বাধা দেয়ার জন্য। কোনো ভালো কাজের জন্য নয়।’

অসত্য তথ্য দিয়ে বিএনপি সবাইকে বিভ্রান্ত করে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, এই অর্থ কীভাবে বিদেশে গেল, বিদেশি ফার্মকে লাখ লাখ কোটি কোটি ডলার তারা পেমেন্ট করল, জবাব তাদের দিতে হবে, ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

নির্বাচন সামনে রেখে লবিস্টের অর্থের হিসাব দিতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর, ২০০১ থেকে ক্ষমতায় থেকে জনগণের টাকা লুট করে, পাচার করে, সেই টাকা দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত। কেন? যাদের দেশপ্রেম নেই, জনগণের প্রতি যাদের দায় নেই, জনগণের মঙ্গল চায় না, তারাই বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা থামাতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে, আস্থা আছে, ওই সব কথায় তারা বিভ্রান্ত হয় না। আমার বিশ্বাস।’

‘ঘরের ইঁদুর বাঁধ কাটলে কাকে দোষ দেবেন?’

র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা নিয়ে দেশটির কড়া সমালোচনা করেন সরকারপ্রধান। তুলে ধরেন হলি আর্টিজান পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দেয়ার বিষয়টি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাদের তারা স্যাংশন দিল, তাদের হিসাব যদি করি তারা সন্ত্রাস দমনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল। তারা কেন আমেরিকার কাছে এত খারাপ হলো। সব থেকে ভালো ভালো অফিসার যারা সেই অপারেশনে (হলি আর্টিজান) ছিল। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে কিন্তু আর কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটতে পারেনি।’

জনগণকে সম্পৃক্ত করেই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ সাফল্য পেয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমার মনে হয় যারা সন্ত্রাস দমনে সফল, যারা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ থেকে দেশটাকে রক্ষা করতে পেরেছে, সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করেছে, সাধারণ মানুষের মানবাধিকার সংরক্ষণ করেছে, তাদের ওপরই যেন আমেরিকার রাগ।’

তার পরও আমেরিকাকে দোষ দিতে চান না প্রধানমন্ত্রী। নিজের যুক্তি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমেরিকাকে আমি দোষ দিই না। ঘরের ইঁদুর বাঁধ কাটলে কাকে দোষ দেবেন?’

নির্বাচন প্রসঙ্গ

পঁচাত্তর-পরবর্তী দেশে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল এবং নির্বাচনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশন ইলেকশন- এটাই তো প্রমাণ করে দেয় আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু হতে পারে এবং হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা করা আমাদের কাজ, কেড়ে নেয়া নয়। আমরা সেটা রক্ষা করে যাচ্ছি এবং যাব।’

নির্বাচন কমিশন গঠনে পাস হওয়া বিল এই অধিবেশনে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিলে ২২টি সংশোধনী বিরোধী দলের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির সংশোধনী, বিএনপির সংশোধনী, জাসদের সংশোধনী, ওয়ার্কার্স পার্টির সংশোধনী- সবার সংশোধনী গ্রহণ করেছি। তাতে এই বিল আর সরকারি বিল না, এটা বিরোধী দলের তৈরি করা বিল হয়ে গেছে। একটা বিলে যদি ২২টি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়, এটা অধিকাংশই তো হয়ে গেল বিরোধী দলের।’

বিএনপি শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনাও তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, ‘আজ ২৭ জানুয়ারি, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়া সাহেবকে গ্রেনেড মেরে হত্যা করা হয়েছিল। সেই হত্যাকাণ্ডেও বিএনপি জড়িত। সেটাও বেরিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে এই বিচারের কাজটায় বারবার বাধা দিচ্ছে তার পরিবার। যখন বিচারকাজ শুরু হয়, তখন একটা বাধা দেয়। কেন দেয় আমি জানি না।’

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার পর কারান্তরীণ দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সময়ে দেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করার বিষয়ে নিজের ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘চিন্তা করেছিলাম এই দেশটাকে আমি এভাবে পিছিয়ে যেতে দেব না।’

পঁচাত্তর-পরবর্তী তার শরণার্থী জীবনের কথাও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, জনগণের কল্যাণে এবং স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিজ্ঞা নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম।’

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক বাধা, অনেক বিপত্তি, অনেক গুলি, অনেক গ্রেনেড, অনেক কিছুই, অনেক অপপ্রচার- আমি কখনও ওসব নিয়ে চিন্তা করিনি। আমি জানি ন্যায় ও সত্য পথে থাকলে, একটা লক্ষ্য স্থির করে চললে, সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব। সেই লক্ষ্য আমরা অর্জন করতে পেরেছি।’

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অর্থনীতি কিছুটা পিছিয়ে গেছে বলে জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা। তার মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। এমনকি আমেরিকার মতো দেশে আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। কিন্তু আমি বলতে পারি, বাংলাদেশে কেউ দারিদ্র্যসীমার নিচে যায়নি এই করোনাকালে। বরং দারিদ্র্যের হার বিএনপির আমলের ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি, আমি বিশ্বাস করি আমরা আরও কমাতে পারব।’

দেশে খাদ্য ঘাটতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত আছে। সামনে বোরো ধান আসবে। খাদ্যের কোনো ঘাটতি হবে না। কিছু জায়গায় দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়, সেটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় আমরা দেখছি।’

করোনাভাইরাসের সংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নিয়ে সতর্ক করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপতির সংলাপ সফল হবে: আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির ডাকা সংলাপ অর্থহীন: ইসলামী আন্দোলন
রাষ্ট্রপতির সংলাপে যাবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
সংলাপে বিএনএফের তিন প্রস্তাব
গণতন্ত্রকে নির্বাচনে সীমাবদ্ধ না রেখে ছড়িয়ে দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গায় আমার পরিবারের জমি নেই: দীপু মনি

বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গায় আমার পরিবারের জমি নেই: দীপু মনি

নিজ বাসায় বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদপুরে আমার ক্রয়সূত্রে কোনো জমি নেই। পৈতৃক সূত্রে থাকতে পারে। আমার কাছে যা তথ্য-প্রমাণ আছে, তা থেকে বলতে পারি আমার বড় ভাই অধিগ্রহণের আগেই বিক্রি করে দেন।’

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত জায়গায় নিজ পরিবারের কারও জমি নেই বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানী হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে তার পরিবার ও স্বজনদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে এ দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদপুরে আমার ক্রয়সূত্রে কোনো জমি নেই। পৈতৃক সূত্রে থাকতে পারে। আমার কাছে যা তথ্য-প্রমাণ আছে, তা থেকে বলতে পারি আমার বড় ভাই অধিগ্রহণের আগেই বিক্রি করে দেন।

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই জায়গায় আমার বা পরিবারের কারও জমি নেই। রাজনৈতিক কোনো সহকর্মীর জমি থাকতে পারে।’

অভিযোগ উঠেছে, জেলা শহর থেকে চার কিলোমিটার দক্ষিণে লক্ষ্মীপুর গ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য যে জমি অধিগ্রহণ হয়েছে সেখানে মৌজা দরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দাম দেখিয়ে জমি দলিল করেছেন কয়েকজন। এ কারসাজিতে জড়িতদের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর নিকটাত্মীয়ও রয়েছেন।

গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রকাশিত তথ্যকে উদ্দেশ্যমূলক বলেও মন্তব্য করেন দীপু মনি।

তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তবে অন্য কেউ দুর্নীতি করেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

দলীয় এক সংসদ সদস্যের প্রতি ইঙ্গিত করে দীপু মনি বলেন, ‘তার প্রতি গণমাধ্যমে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। যা বলার দলীয় ফোরামে বলবো।

‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত করলে প্রশ্ন দেখা দেবে। তাই অন্য কেউ তদন্ত করলে ভালো হয়। আমিও চাই তদন্ত হোক।’

তিনি বলেন, ‘চাঁদপুর শহর, ভাঙনের কারণে অনেক ছোট ও অনেক ঘনবসতিপূর্ণ। আমরা জানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো সমস্যা হলে হাইওয়ে বন্ধ হয়ে যায়। সেই বিবেচনায় আমরা জমিটি পছন্দ করি।

‘এ ছাড়াও আমরা যখন জমি পছন্দ করি তখন এর সঙ্গে প্রশাসনের লোকজনও জড়িত ছিলেন। এই জমির সঙ্গে টেকসই বাঁধ রয়েছে। জায়গাটি নিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ও ছাড়পত্র দিয়েছিল।’

চাঁদপুর মেডিক্যাল কলেজের বিষয়েও একই সমস্যার কথা অনেকে জানিয়েছেন বলে জানান দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘আসলে যখনই কোনো বড় প্রকল্প শুরু হচ্ছে তখনই এমন বাধা আসছে।’

আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপতির সংলাপ সফল হবে: আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির ডাকা সংলাপ অর্থহীন: ইসলামী আন্দোলন
রাষ্ট্রপতির সংলাপে যাবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
সংলাপে বিএনএফের তিন প্রস্তাব
গণতন্ত্রকে নির্বাচনে সীমাবদ্ধ না রেখে ছড়িয়ে দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

শেয়ার করুন

নির্বাচন কমিশন আইন মানি না: ফখরুল

নির্বাচন কমিশন আইন মানি না: ফখরুল

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

‘সরকার পতনের ব্যাপারে সত্যিকার অর্থেই আশাবাদী হয়ে উঠেছি। কারণ কিছুদিন ধরে আয়োজন করা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে দলীয় সমাবেশগুলোয় আমরা জনগণকে বেরিয়ে আসতে দেখেছি।’

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া নির্বাচন কমিশন আইন মানেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘বাকশাল-গণতন্ত্র হত্যার কালো দিবস’ শিরোনামে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর বিএনপি (উত্তর ও দক্ষিণ)।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনের আইন করেছে সরকার। বাকশাল করে যেমন রক্ষা পাওয়া যায়নি, তেমনি নির্বাচন কমিশন গঠনের আইন করেও আওয়ামী লীগের শেষ রক্ষা হবে না। এই সংসদের নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইন পাসের কোনো এখতিয়ার নেই। এটা কারও কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এই হাসিনা সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনের প্রশ্ন উঠতে পারে না।’

সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। পদত্যাগ করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার পতনের ব্যাপারে আমি সত্যিকার অর্থেই আশাবাদী হয়ে উঠেছি। কারণ কিছুদিন ধরে আয়োজন করা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে দলীয় সমাবেশগুলোয় আমরা জনগণকে বেরিয়ে আসতে দেখেছি।

‘আমাদের এমন কর্মসূচি নিয়ে আসতে হবে যাতে সরকার বাধ্য হয়...।’

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা দুর্নীতি করেও বহালতবিয়তে আছেন। এরা খারাপ লোক। এদের সমর্থনে অনেক সময় অনেক কিছু ঘটে। তবে এগুলো সাময়িক। করোনার ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনটাও ওদের সাহায্য করছে। আমরা যখনই একটু জোরেশোরে এগোতে শুরু করি, তখনই করোনাভাইরাস এসে হাজির হয়।’

আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি দুর্নীতি করেছেন উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় ও উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপতির সংলাপ সফল হবে: আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির ডাকা সংলাপ অর্থহীন: ইসলামী আন্দোলন
রাষ্ট্রপতির সংলাপে যাবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
সংলাপে বিএনএফের তিন প্রস্তাব
গণতন্ত্রকে নির্বাচনে সীমাবদ্ধ না রেখে ছড়িয়ে দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

শেয়ার করুন

উন্নয়ন নয়, বিএনপির ভালো লাগে মানুষ হত্যা: নৌমন্ত্রী

উন্নয়ন নয়, বিএনপির ভালো লাগে মানুষ হত্যা: নৌমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুরের কাহারোলে সার্বভৌম ভক্ত সম্মিলনী ৬৩তম বার্ষিক অধিবেশনে বক্তব্য দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘উন্নয়ন বিএনপির ভালো লাগে না। বিএনপির ভালো লাগে মানুষকে হত্যা করতে, কীভাবে গ্রেনেড মারতে হবে। বিএনপির এই ঘৃণ্য রাজনীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

দেশের উন্নয়ন বিএনপি চায় না, তাদের ভালো লাগে নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে, রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড ছুড়ে মারতে। এমন মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুরের কাহারোলে পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য্য সদগুরু শ্রীশ্রী স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতীদেব প্রবর্তিত সার্বভৌম ভক্ত সম্মিলনী ৬৩তম বার্ষিক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিএনপি নির্বাচন কমিশন আইন মানে না কারণ তারা দেশের উন্নয়ন চায় না বলেও মন্তব্য করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

খালেদ বলেন, ‘এখন যখন নির্বাচন কমিশন আইন পাশ হয়ে গেছে, তখন তারা বলছেন, আমরা মানি না। সবার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সংসদে তো ৩০০ জন এমপি আছেন। এরা তো বাংলার ১৬ কোটি মানুষের সমর্থন নিয়ে সংসদে আছেন।’

তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপি বলছে, আমরা মানি না। মূল কথা এটা নয়। মূল কথা হলো- কেন পদ্মাসেতু হচ্ছে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর কেন হচ্ছে, কেন চট্টগ্রাম বন্দর হচ্ছে। কেন বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে? এসব উন্নয়ন বিএনপির ভালো লাগে না। বিএনপির ভালো লাগে মানুষকে হত্যা করতে, কীভাবে গ্রেনেড মারতে হবে। বিএনপির এই ঘৃণ্য রাজনীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

দলে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু অনুপ্রবেশকারী আমাদের দলের মধ্যে ঢুকে গেছে। ১২ বছর ক্ষমতায়, অনেকে লোভ সামলাতে পারে নি। আমাদের মধ্যে ঢুকে গেছে। এরা কিন্তু ভেতরে থেকে অনেক ধরনের কথা বলবে, উসকানি দেয়ার চেষ্টা করবে। আমাদের সাবধান থাকতে হবে।’

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মানবজাতি নিজেদের বিভিন্নভাবে বিভক্ত করে ফেলছি। এতে আমাদের কোন কল্যাণ বয়ে আসছে না। এ বিভক্তি, ধর্মীয় উগ্রতা আমাদের মধ্যে ভালো কিছু দিচ্ছে না। ধর্মের উম্মাদনা আমাদের জন্য ক্ষতি ছাড়া ভালো কিছু করছে না। যেটাই ধর্মীয় উম্মাদনা সেটাই ধ্বংসের কারণ।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন দেশের ওপর বড় আঘাত এসেছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছে, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ারা, তারা ধর্মকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু কোন ধর্মীয় কাজ করেনি। তারা সংখ্যাগুরু মুসলমানদের মিথ্যা কথা বলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপাল।

আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপতির সংলাপ সফল হবে: আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির ডাকা সংলাপ অর্থহীন: ইসলামী আন্দোলন
রাষ্ট্রপতির সংলাপে যাবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
সংলাপে বিএনএফের তিন প্রস্তাব
গণতন্ত্রকে নির্বাচনে সীমাবদ্ধ না রেখে ছড়িয়ে দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

শেয়ার করুন

ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন টিএসসিতে, থাকতে পারছেন না কর্মীরা

ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন টিএসসিতে, থাকতে পারছেন না কর্মীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে হবে ছাত্রলীগের সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালন করব। করোনা বিধিনিষেধ মাথায় রেখে শুধু পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে প্রোগ্রাম আয়োজন করব। কোনো কর্মী উপস্থিত থাকবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের হল সম্মেলন হবে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে। ৩০ জানুয়ারি বেলা ১১টায় শুরু হবে সম্মেলন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে বিধিনিষেধের কারণে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর হতে যাওয়া এই সম্মেলন হবে সীমিত পরিসরে। শুধু পদপ্রত্যাশীদের নিয়েই হবে এ আয়োজন। কোনো কর্মী থাকার সুযোগ পাচ্ছেন না।

বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এসব তথ্য জানান।

হল সম্মেলন উপলক্ষে ছাপানো একটি পোস্টার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার দিয়েছেন সাদ্দাম হোসেন। তা থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

বিশেষ অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন থাকবেন প্রধান বক্তা। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাঁধন।

সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতারা সশরীরে উপস্থিত থাকবেন কি না জানতে চাইলে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সেটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।’

সাদ্দাম বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালন করব। করোনা বিধিনিষেধ মাথায় রেখে শুধু পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে প্রোগ্রাম আয়োজন করব। কোনো কর্মী উপস্থিত থাকবে না।’

তবে এমন উদ্যোগেও মানা সম্ভব হবে না সরকারের বিধিনিষেধ। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেকোনো প্রোগ্রামেই ১০০ জনের বেশি উপস্থিত থাকতে পারবে না। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ১৮টি হলে ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীর সংখ্যাই তিন শতাধিক।

আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপতির সংলাপ সফল হবে: আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির ডাকা সংলাপ অর্থহীন: ইসলামী আন্দোলন
রাষ্ট্রপতির সংলাপে যাবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
সংলাপে বিএনএফের তিন প্রস্তাব
গণতন্ত্রকে নির্বাচনে সীমাবদ্ধ না রেখে ছড়িয়ে দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

শেয়ার করুন

লবিস্ট নিয়োগে কারা কত টাকা পাচার করেছে, প্রশ্ন চুন্নুর

লবিস্ট নিয়োগে কারা কত টাকা পাচার করেছে, প্রশ্ন চুন্নুর

বুধবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুজিবুল হক চুন্নু। ছবি: নিউজবাংলা

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী অথবা বিএনপি বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করে থাকলে এর উদ্দেশ্য ও অর্থের উৎস জনগণকে জানাতে হবে। আর সরকারিভাবে লবিস্ট নিয়োগ করে থাকলে সরকারকেই বলতে হবে কেন এবং কীভাবে টাকা দেয়া হলো।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ‘মানুষ জানতে চায় বিদেশে লবিস্ট নিয়োগে কারা কত টাকা পাচার করেছে।

বুধবার জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে জাতীয় যুব সংহতি আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবং তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি সরকারিভাবে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করে থাকে, তাহলে সরকারকেই বলতে হবে কেন এবং কীভাবে টাকা দেয়া হলো। আর আওয়ামী লীগ যদি দলীয়ভাবে লবিস্ট নিয়োগ করে থাকে, তা হলেও বলতে হবে এই টাকার উৎস কী এবং এই টাকা বৈধ না অবৈধ।

‘বিএনপি লবিস্ট নিয়োগ করলেও প্রকাশ করতে হবে কী উদ্দেশ্যে তারা লবিস্ট নিয়োগ করেছে এবং এত টাকা তারা কোথায় পেয়েছে। দেশের মানুষ জানতে চায় বিদেশে লবিস্ট নিয়োগে কারা এবং কত টাকা পাচার করেছে।’

চুন্নু আরও বলেন, ‘দুর্নীতি, দুঃশাসন আর কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর অতি উৎসাহে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের ওপর বিরক্ত। আবার বিএনপির বক্তব্যেও এটা স্পষ্ট নয় যে তারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কী করবে। দেশের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রাখছে না। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিপরীতে জাতীয় পার্টিকে বিকল্প শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। তারা জাতীয় পার্টিকে আরও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখতে চায়। তাই জাতীয় পার্টিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপতির সংলাপ সফল হবে: আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির ডাকা সংলাপ অর্থহীন: ইসলামী আন্দোলন
রাষ্ট্রপতির সংলাপে যাবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
সংলাপে বিএনএফের তিন প্রস্তাব
গণতন্ত্রকে নির্বাচনে সীমাবদ্ধ না রেখে ছড়িয়ে দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

শেয়ার করুন

সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন: কাদের

সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন: কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ষড়যন্ত্র ও বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের দুঃস্বপ্নে বিভোর বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাল হারিয়ে ফেলেছেন। একবার তারা নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের দাবি তোলেন; আবার সরকারের পক্ষ থেকে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হলে তার বিরোধিতা করেন।’

সংবিধান মেনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এমন মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ষড়যন্ত্র ও বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের দুঃস্বপ্নে বিভোর বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাল হারিয়ে ফেলেছেন। একবার তারা নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের দাবি তোলেন; আবার সরকারের পক্ষ থেকে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হলে তার বিরোধিতা করেন।

‘একদিকে তারা নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাঁয়তারা চালান। অন্যদিকে তাদের কেউ কেউ নির্বাচন কমিশন নিয়ে কথা বলার দরকার নেই এবং নির্বাচন কমিশন কোনো ফ্যাক্টর নয় বলে মন্তব্য করে। আসলে রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা নেই।‘

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ীই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোন সরকারের অধীনে হবে তা সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে। আমরা বার বার বলে আসছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের উচ্চ আদালত কতৃক একটি মীমাংসিত ইস্যু।

‘আমরা মনে করি, নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে শেখ হাসিনা সরকারের যে উদ্যোগ বিএনপি নেতৃবৃন্দ সে উদ্যোগে মূল্যবান মতামত দিতে পারেন।’

বিবৃতিতে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য পাতানো নির্বাচন আওয়ামী লীগ করে না। পাতানো রাজনৈতিক খেলা বিএনপির সংস্কৃতি।’

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একই ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান যারা করেছিল, দলীয় লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে যারা গোপনে বিচারপতিদের বয়সসীমা বাড়িয়েছিল- তারাই পাতানো খেলা আর গোপন ষড়যন্ত্রের কারিগর।’

বর্তমান সংসদ অবৈধ- বিএনপি নেতাদের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নেতারা কথায় কথায় ২০১৮ সালের নির্বাচন ও একদশ জাতীয় সংসদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অথচ ২০১৮ সালের নির্বাচন ছিল সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছিল এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে।

‘একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নিবাচন কমিশনে নিবন্ধিত স্থানীয় ১১৮টি সংস্থার মধ্যে ৮১টি সংস্থা অনুমতিপ্রাপ্ত ছিল। সংসদে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিও আছেন। তাহলে বিএনপির সংসদ সদস্যরা কিভাবে নির্বাচিত হলেন? সংসদ অবৈধ হলে তাদের সংসদ সদস্যরা কিভাবে সেখানে প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিদিন সংসদে বক্তব্য রাখছেন?’

আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপতির সংলাপ সফল হবে: আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির ডাকা সংলাপ অর্থহীন: ইসলামী আন্দোলন
রাষ্ট্রপতির সংলাপে যাবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
সংলাপে বিএনএফের তিন প্রস্তাব
গণতন্ত্রকে নির্বাচনে সীমাবদ্ধ না রেখে ছড়িয়ে দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

শেয়ার করুন