অভিযান-১০ লঞ্চের দুই চালক কারাগারে

player
অভিযান-১০ লঞ্চের দুই চালক কারাগারে

আগুনে পুড়ে যাওয়া অভিযান-১০ লঞ্চ। ফাইল ছবি

গত সপ্তাহে লঞ্চের ওই দুই চালক আত্মসমর্পণ করার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর পর থেকে তারা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার দুই চালককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

রোববার রাজধানীর মতিঝিলে স্থাপিত নৌ আদালতের বিশেষ বিচারক (যুগ্ম জজ) জয়নব বেগম এ আদেশ দেন।

আদালতে এদিন এই দুই আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে কারাগারে যাওয়ার আদেশ পাওয়া দুজন হলেন লঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত চালক মাসুম বিল্লাহ ও দ্বিতীয় চালক আবুল কালাম।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘তারা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সাধ্যমতো চেষ্টা করেও সফল হননি। এতে তাদের অবহেলা ছিল না। তাই তাদের জামিনের প্রার্থনা করছি৷

‘তারা তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাই যেকোনো শর্তে তাদের জামিন দেয়া হোক। তারা নিজেরাও এই দুর্ঘটনায় মারা যেতে পারতেন। ’

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রসিকিউটিং অফিসার বেল্লাল হোসাইন। তিনি আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘ইঞ্জিন রুমের সার্বিক দায়িত্ব ইঞ্জিন ড্রাইভারদের ওপর বর্তায়। তারা কেবল দায়িত্বে অবহেলাই করেননি, অগ্নিকাণ্ডের পর তাদের ভূমিকা ছিল ধৃষ্টতাপূর্ণ ও পলায়নপর।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইঞ্জিন রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। তারা যদি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তদারক করে সঠিকভাবে ইঞ্জিন রুম পরিচালনা করতেন; তাহলে হয়তো স্মরণকালের এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি এড়ানো যেত। কিন্তু তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি।’

এর আগে গত সপ্তাহে লঞ্চের ওই দুই চালক আত্মসমর্পণ করার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এর পর থেকে তারা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

গত ২৩ ডিসেম্বর ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও নিহতের ঘটনায় ২৬ ডিসেম্বর নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শফিকুর রহমান একটি মামলা করেন। ওই মামলায় লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখসহ আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

আরও পড়ুন:
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে নদীর বুকে লঞ্চে সেই আগুন
‘রেজাল্ট দিয়া মুই কি হরমু’
লঞ্চে আগুন: মারা গেলেন দগ্ধ আরেক নারী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিমু হত্যায় স্বামী রিমান্ডে

শিমু হত্যায় স্বামী রিমান্ডে

স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেলের সঙ্গে অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডে শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী নোবেলের সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় শিমুর। এর জেরে গত ১৬ জানুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে তাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে।’

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যা মামলায় পুলিশ তার স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু এসএমওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রাবেয়া বেগম মঙ্গলবার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক চুন্নু মিয়া দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান।

শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। আদালতে এ সময় আসামিপক্ষের কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। দেয়া হয়নি জামিনের আবেদন।

পারিবারিক বিষয়ে টানাপোড়েন ও দাম্পত্য কলহের জেরে অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর মরদেহটি গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে সোমবার শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে রাতেই তার স্বামী নোবেল ও নোবেলের বন্ধু ফরহাদকে আটক করে পুলিশ।

এ বিষয়ে ব্রিফিংয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডে শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু ফরহাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী নোবেলের সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় শিমুর। এর জেরে গত ১৬ জানুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে তাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে।

‘আমরা ইতিমধ্যে যে গাড়ি ব্যবহার করে লাশ গুমের চেষ্টা হয়েছিল সেই গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়েছি এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছি।’

রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসিন্দা অভিনেত্রী শিমুকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে রোববার তার পরিবারের পক্ষ থেকে কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

১৯৯৮ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় শিমুর অভিষেক হয়। পরে সিনেমার পাশাপাশি অসংখ্য নাটকেও অভিনয় করেছেন। সম্প্রতি ফ্যামিলি ক্রাইসিস নামের একটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে নদীর বুকে লঞ্চে সেই আগুন
‘রেজাল্ট দিয়া মুই কি হরমু’
লঞ্চে আগুন: মারা গেলেন দগ্ধ আরেক নারী

শেয়ার করুন

স্বামী হত্যায় স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

স্বামী হত্যায় স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্টেনোগ্রাফার রাশেদুল ইসলাম জানান, আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া হরিশপুর গ্রামের আছিয়া খাতুন ও মোহনপুর লাহিড়ীপাড়া গ্রামের রমজান আলী।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের স্টেনোগ্রাফার রাশেদুল ইসলাম।

এজাহারে বলা হয়, আছিয়া খাতুনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই রমজান আলীর বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক চলে আসছিল। এর জেরে রমজান আলী আছিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু আছিয়া খাতুন তার স্বামী জীবিত আছে এমন কারণ দেখিয়ে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

পরবর্তী সময়ে প্রেমের বাধা দূর করতে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক ২০১৬ সালের ১ জুন সন্ধ্যায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তারা আছিয়ার স্বামী আবু বক্কার মন্ডলকে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবু হানিফ উল্লাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেয়।

আরও পড়ুন:
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে নদীর বুকে লঞ্চে সেই আগুন
‘রেজাল্ট দিয়া মুই কি হরমু’
লঞ্চে আগুন: মারা গেলেন দগ্ধ আরেক নারী

শেয়ার করুন

হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন, ১ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন, ১ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

হত্যা মামলায় সাজা পাওয়া আসামিদের নেয়া হচ্ছে কারাগারে। ছবি: নিউজবাংলা

২০০৯ সালের ২৩ মে রাতে নিখোঁজ হন কুমারখালীর শহিদুল ইসলাম। পাঁচ দিন পর কালিতলা এলাকার একটি ডোবায় পাওয়া যায় তার গলাকাটা মরদেহ।

কুষ্টিয়ায় ১৩ বছর আগের এক হত্যা মামলার রায়ে এক আসামির আমৃত্যু ও দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাজুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনুপ কুমার নন্দী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসামি হলেন কুমারখালী উপজেলার কালিতলা এলাকার সালাম মোল্লা এবং যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিরা হলেন কুমারখালীর শানপুকুরিয়া এলাকার সাইফুল ইসলাম ও কালিতলা এলাকার রেজাউল জোয়ার্দার কালু।

২০০৯ সালের ২৩ মে রাতে নিখোঁজ হন কুমারখালীর শহিদুল ইসলাম। পাঁচ দিন পর কালিতলা এলাকার একটি ডোবায় পাওয়া যায় তার গলাকাটা মরদেহ। এ ঘটনায় শহিদুলের বাবা মুনছের আলীর করা মামলায় গ্রেপ্তার হন আসামিরা।

তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে নদীর বুকে লঞ্চে সেই আগুন
‘রেজাল্ট দিয়া মুই কি হরমু’
লঞ্চে আগুন: মারা গেলেন দগ্ধ আরেক নারী

শেয়ার করুন

প্রতারণার মামলায় সাহেদ-মাসুদের বিচার শুরু

প্রতারণার মামলায় সাহেদ-মাসুদের বিচার শুরু

সাহেদ করিমকে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

২০২০ সালের ৬ জুলাই রাজধানী উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে করোনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়। এরপর হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করে মামলা হয়। ১৫ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয় সাহেদকে।

প্রতারণার মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। এর মাধ্যমে মামলাটির বিচার শুরু হলো।

আদালত একই সঙ্গে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখও ঠিক করে দিয়েছে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান।

সাহেদ ও মাসুদ ছাড়া এদিন এ মামলায় বিচার শুরু হয়েছে রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার শিপন আলীরও।

আদালতে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী দবির উদ্দিন অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়। আসামিরা আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার চান।

শুনানিতে আসামি শিপন আলীর আইনজীবী মো. শাহারিয়ার ভুঁইয়া আদালতে বলেন, ‘চেকের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগেই মামলার বাদী এস এম শিপন আসামি শিপন আলীর নামে মামলাটি করেন। এতে প্রতারণার উপাদান সমৃদ্ধ নেই।’

আসামি সাহেদ ও মাসুদ পারভেজের পক্ষে তাদের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন অভিযোগের শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতায় তা নাকচ করে দেন বিচারক।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান আদালতকে বলেন, ‘বহুবার এই মামলার অভিযোগ শুনানি পেছাতে আসামিপক্ষ সময়ের প্রার্থনা করেছে, আদালত তা মঞ্জুরও করেছে। তাই আর সময় না দিয়ে অভিযোগ গঠন করার নিবেদন করছি।’

২০২০ সালের ২৪ জুলাই বালু ব্যবসায়ী এস এম শিপন দুই আসামির বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শিপন আলী ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর এস এম শিপনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ৫০ লাখ সিএফটি বালু কেনেন। এর মূল্য পরিশোধের জন্য দেয়া চেক ডিজঅনার হয়।

পরে আসামি শিপন জানান সাহেদ ও মাসুদের নির্দেশে তিনি এই বালু কেনেন। মামলার বাদী বুঝতে পারেন, তারা বালু বিক্রির ৬১ লাখ টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেছেন। এরপর মামলা করেন এস এম শিপন।

মামলাটি তদন্ত করে ২০২০ সালে ৮ নভেম্বর তিনজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির পুলিশের পরিদর্শক আকরাম হোসেন

সাহেদের নামে যত মামলা

সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে এই মামলাসহ মোট ৩৫ টি মামলা চলমান বলে নিউজবাংলাকে জানান তার পক্ষের প্রধান আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন। তিনি জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সাতক্ষীরাসহ কয়েকটি জেলায় মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এই ৩৫ মামলার বাইরে ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ করিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার জেষ্ঠ্য বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশ।

২০২০ সালের ৬ জুলাই রাজধানী উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে করোনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়। এরপর হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করে মামলা হয়।

১৫ জুলাই সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে অস্ত্রসহ সাহেদকে গ্রেপ্তারের দাবি করে র‌্যাব। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়।

আরও পড়ুন:
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে নদীর বুকে লঞ্চে সেই আগুন
‘রেজাল্ট দিয়া মুই কি হরমু’
লঞ্চে আগুন: মারা গেলেন দগ্ধ আরেক নারী

শেয়ার করুন

স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ২

স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ২

প্রতীকী ছবি

ডিমলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বদেব রায় বলেন, ‘আসামিদের আদালতে তোলা হবে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নীলফামারীর ডিমলায় এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে ওই দুইজনের বিরুদ্ধে ডিমলা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন ওই ছাত্রীর বড় ভাই। বর্তমানে সে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ১৫ বছরের সুজন ইসলাম ও ১৪ বছরের বুলু বাদশা। তাদের দুজনের বাড়িই চাপানি ইউনিয়নে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম।

এজাহারে বলা হয়, শিশুটির বাবা-মা চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে বাড়িতে রেখে এক আত্মীয়ের জানাজায় যান। এ সুযোগে শিশুকে বাড়িতে একা পেয়ে ওই দুজন ধর্ষণ করেন। রাত ৮টার দিকে শিশুর বাবা-মা বাড়ি ফিরে মেয়েকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তখন প্রথমে তাকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কুঞ্জকুলি রায় নিউজবাংলা বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে শিশুটিকে তার পরিবারের লোকজন নিয়ে আসে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই তাকে নীলফামারী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

ডিমলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বদেব রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসামিদের আদালতে তোলা হবে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে নদীর বুকে লঞ্চে সেই আগুন
‘রেজাল্ট দিয়া মুই কি হরমু’
লঞ্চে আগুন: মারা গেলেন দগ্ধ আরেক নারী

শেয়ার করুন

অরিত্রীর আত্মহত্যা: সাক্ষ্য দিলেন দুই শিক্ষিকা

অরিত্রীর আত্মহত্যা: সাক্ষ্য দিলেন দুই শিক্ষিকা

অরিত্রীর আত্মহত্যার পর বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারী ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর শান্তিনগরে নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অরিত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি-শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে আসামি করে মামলা হয়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির দুই শিক্ষিকা।

ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলমের আদালতে সোমবার তারা সাক্ষ্য দেন। তারা হলেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষিকা লুৎফুন নাহার করিম ও প্রভাতি শাখার খণ্ডকালীন শিক্ষিকা আফসানা আমাতু রাব্বী।

আদালত তাদের সাক্ষ্য নিয়ে আগামী ৩০ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য দিন ঠিক করে।

মামলাটির অভিযোগপত্রে থাকা রাষ্ট্রপক্ষের ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত আটজনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

আদালতে সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মামলার দুই আসামি নাজনীন ফেরদৌস ও জিনাত আক্তার কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাবিনা আক্তার দিপা নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর শান্তিনগরে নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় শিক্ষার্থী অরিত্রী। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।

অরিত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে পরদিন রাজধানীর পল্টন থানায় তার বাবা দিলীপ অধিকারী বাদী হয়ে মামলা করেন। আসামি করা হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি-শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী কামরুল ইসলাম দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শ্রেণি-শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদনও করেন তিনি।

২০১৯ সালের ১০ জুলাই ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখাপ্রধান জিনাত আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

এজাহারে অরিত্রীর আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে বলা হয়, অরিত্রীর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এ জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের (বাবা-মা) ডেকে পাঠায়। ৩ ডিসেম্বর স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, অরিত্রী মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এজাহারে অরিত্রীর বাবা আরও উল্লেখ করেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ মেয়ের সামনে আমাকে (বাবা) অনেক অপমান করেন। এ অপমান এবং পরীক্ষা দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে (অরিত্রী) আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।’

অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্কুল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় স্কুলের অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়।

আরও পড়ুন:
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে নদীর বুকে লঞ্চে সেই আগুন
‘রেজাল্ট দিয়া মুই কি হরমু’
লঞ্চে আগুন: মারা গেলেন দগ্ধ আরেক নারী

শেয়ার করুন

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে প্রতারিত হয়ে নিজেই প্রতারক’

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে প্রতারিত হয়ে নিজেই প্রতারক’

সিআইডির অভিযানে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয় মেহেদী হাসানকে। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য ফেসবুকে একটি চক্র প্রলোভন দিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সাইবার টিম বিষয়টি জানতে পেরে অভিযানে নামে।

ছোট ভাইকে অবৈধ উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য একজনকে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়ে এখন নিজেই সেই প্রতারণার পথ বেছে নিয়েছেন মেহেদী হাসান।

সোমবার সকালে নড়াইলের লোহাগড়া থেকে এমন অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজধানীর একটি সরকারি কলেজ থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছেন মেহেদী।

পুলিশ জানায়, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য ফেসবুকে একটি চক্র প্রলোভন দিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার টিম বিষয়টি জানতে পেরে অভিযানে নামে।

সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিআরইউআর চান্স ১০০% করে দিব’ নামের গ্রুপ থেকে একটি বার্তা ফেসবুকে শেয়ার করা হয়। এতে বলা হয়, যারা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাননি, তাদের চান্স পাইয়ে দেব। এতে খরচ হবে ২০ হাজার টাকা। অগ্রিম পেমেন্ট করতে হবে ৮৫০ টাকা।

‘একই গ্রুপ থেকে আরেকটি বার্তা শেয়ার করা হয়। সেখানে লেখা ছিল, যারা রেজাল্ট চেঞ্জ করার জন্য ৮৫০ টাকা দিয়েছেন তাদের রেজাল্ট চেঞ্জ হয়েছে। বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে রেজাল্ট পাবেন। বাকি টাকা ভর্তির পর দেবেন।’

বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, ‘সিআইডি সাইবার টিম এ ব্যাপারে তৎপর হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বেশ কয়েক দিন অনুসন্ধান চালানোর পর অবশেষে প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করা হয়।

‘অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রতারক চক্রটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গেও যুক্ত। চক্রটি বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিত। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২০১৭ সালে তার ছোট ভাইকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য একজনকে তিন হাজার টাকা দিয়ে প্রতারিত হন মেহেদী। এখান থেকেই তার এই প্রতারণার শুরু। তিনি বিভিন্ন সময়ে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন।

গ্রেপ্তারের সময় মেহেদীর কাছ থেকে বিকাশ সিমসহ মোট ১০টি সিম, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে নদীর বুকে লঞ্চে সেই আগুন
‘রেজাল্ট দিয়া মুই কি হরমু’
লঞ্চে আগুন: মারা গেলেন দগ্ধ আরেক নারী

শেয়ার করুন