× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
More than 418 motorcycles killed on the road in December
google_news print-icon

ডিসেম্বরে সড়কে নিহত ৪১৮, বেশি মোটরসাইকেলে

ডিসেম্বরে-সড়কে-নিহত-৪১৮-বেশি-মোটরসাইকেলে
সড়কে পড়ে আছে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল। নিউজবাংলা: ফাইল ছবি।
ডিসেম্বরে দেশে ১৬৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৭৮ জন, যা মোট নিহতের ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৩ দশমিক ৬০ শতাংশ।

সদ্য পার হওয়া বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৮৩টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪১৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৪৯৭ জন। সব মিলিয়ে সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এসব তথ্য জানায়। সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিসেম্বরে দেশে ১৬৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৭৮ জন, যা মোট নিহতের ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। সড়কে সব মিলিয়ে নিহতদের মধ্যে নারী ৬৩ জন এবং শিশু ৪৯ জন।

এ ছাড়া তিনটি নৌযানডুবির ঘটনায় ডিসেম্বরে তিনজন নিহত এবং আটজন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪৯ জন নিহত, ৩৪ জন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। আর ১৩টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ১৭৮ জন, বাসযাত্রী ১১ জন, ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি যাত্রী ১৮ জন, মাইক্রোবাস-প্রাইভেট কার-অ্যাম্বুলেন্স যাত্রী ১২ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-হিউম্যান হলার) ৪৫ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-লাটাহাম্বা-টমটম) ১৬ জন এবং প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান-বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৪৯টি জাতীয় মহাসড়কে, ১২৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৭টি গ্রামীণ সড়কে, ৩৯টি শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে চারটি হয়েছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৬২১টি। এর মধ্যে ট্রাক ১০৭টি, বাস ৭৬টি, কাভার্ড ভ্যান ২৪টি, পিকআপ ২১টি, ট্রলি ১৬টি, লরি ৫টি, ট্রাক্টর ৯টি, ড্রামট্রাক ৬টি, মাইক্রোবাস ১১টি, প্রাইভেট কার ৭টি, অ্যাম্বুলেন্স ৩টি, মোটরসাইকেল ১৭৪টি, থ্রি-হুইলার ৯১টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪৮টি এবং প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান-বাইসাইকেল-গরুরগাড়ি ১৩টি, অন্যান্য ১০টি।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারি পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ, প্রাণহানি ২৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, প্রাণহানি ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ, প্রাণহানি ১৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ, প্রাণহানি ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ, প্রাণহানি ১০ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ, প্রাণহানি ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ, প্রাণহানি ৬ দশমিক ২২ শতাংশ। ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ, প্রাণহানি ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১০২টি দুর্ঘটনায় নিহত ১১৩ জন। সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে। ১৬টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৯ জন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ২৩টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত। সবচেয়ে কম সুনামগঞ্জ জেলায়। তিনটি দুর্ঘটনা ঘটলেও কেউ হতাহত হয়নি। ঢাকায় ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হচ্ছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

সুপারিশ

দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে; চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে; বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে; পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা (সার্ভিস লেন) তৈরি করতে হবে; পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে; গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে; রেল ও নৌপথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে হবে; টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে; ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৩ জন নিহত হয়েছিলেন। গড়ে প্রতিদিন নিহতের হার ১৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ডিসেম্বরে ৩৮৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪১৮ জন নিহতের হিসাবে গড়ে প্রতিদিন নিহতের হার ১৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
টোল প্লাজায় ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল পুলিশ সদস্যের
সড়ক বিভাজকে উল্টে গেল কাভার্ড ভ্যান
দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ২

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Health Minister seeks the help of District Administrators to close illegal health centers in the district

জেলায় অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধে জেলা প্রশাসকদের সহায়তা চান স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জেলায় অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধে জেলা প্রশাসকদের সহায়তা চান স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘সারা দেশে অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে অভিযান চলছে। তবে, অনেক সময় কিছু অসাধু লোক বিভিন্ন উপায়ে এসব ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু রাখতে নানা অসাধু উপায়ে চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের এগুলো লক্ষ্য রাখতে হবে এবং সর্বাত্মক সহায়তা করতে হবে।’

জেলায় জেলায় অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধে ও বিভিন্নধরনের অনিয়ম রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান অভিযান পরিচালনায় জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা চেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা সামন্ত লালসেন।

রোববার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি অডিটোরিয়াম হলে চারদিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান। খবর বাসসের

সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘সারা দেশে অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে অভিযান চলছে। তবে, অনেক সময় কিছু অসাধু লোক বিভিন্ন উপায়ে এসব ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু রাখতে নানা অসাধু উপায়ে চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের এগুলো লক্ষ্য রাখতে হবে এবং সর্বাত্মক সহায়তা করতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জন্য ভালো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও আপনাদেরকে ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা সবাই মিলে একটি ইউনিটের মত কাজ করলে, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় অবশ্যই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

সম্মেলনে উপস্থিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা বলেন, স্বাস্থ্যখাতের দিকে সবাইকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে। হাসপাতালে বেডের তুলনায় রোগী দ্বিগুণ বা তিনগুণ হলেও হাসপাতাল থেকে কোন রোগীকে বের করে দেওয়া হয় না। চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে, এখন সময় এসেছে আমাদের অন্যান্য সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো একযোগে সমাধান করা। আমরা সবাই একটি ফুটবল বা ক্রিকেট টিমের মত এক হয়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করলে, স্বাস্থ্যখাতে খুব বেশি সমস্যা আর থাকবে না।

সম্মেলনে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ঝিনাইদহ জেলায় আত্মহত্যার হার বেশির জন্য সেখানকার সরকারি হাসপাতালে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের অনুরোধ জানালে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।

এছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক স্বাস্থ্যখাতে জনবলের ঘাটতি তুলে ধরলে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো জাহাঙ্গীর আলম দেড় মাসের মধ্যে জনবলের ঘাটতি অনেকটাই দূর করা হবে বলে জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব আজিজুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক টিটু মিয়া, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহান আরা বানু উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Power sector in deep crisis Rizvi

বিদ্যুৎ খাত গভীর সংকটে: রিজভী

বিদ্যুৎ খাত গভীর সংকটে: রিজভী রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: ফোকাস বাংলা
রিজভী বলেন, ‘তাপমাত্রা এখনও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে, অথচ দেশের মানুষ সকাল-সন্ধ্যা লোডশেডিংয়ে ভুগছে।’

দেশের বিদ্যুৎ খাত গভীর সংকটে নিমজ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি। খবর ইউএনবির

রিজভী বলেন, ‘বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

‘কাদের দাবি করেছেন, দেশের মানুষ শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। অথচ তার কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, দেশে স্বল্প পরিসরে হলেও লোডশেডিং থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘তাপমাত্রা এখনও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে, অথচ দেশের মানুষ সকাল-সন্ধ্যা লোডশেডিংয়ে ভুগছে।’

‘বিএনপি দেশের মানুষকে উপেক্ষা করে বিদেশি প্রভুর কাছে ধরনা দিচ্ছে’ ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যের নিন্দা করেন রিজভী।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সম্ভবত স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছে। কারণ তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচন ভুলে গিয়েছিলেন, যখন ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুজাতা সিং আওয়ামী লীগকে তাদের সমর্থন করতে এবং এইচএম এরশাদকে নির্বাচনে যোগদান করানোর জন্য বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।’

এটি একটি সার্বভৌম দেশে হস্তক্ষেপের স্পষ্ট লক্ষণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, সহ-অর্থনৈতিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
কোন খাতে কত বাড়ছে বিদ্যুতের দাম
আওয়ামী সিন্ডিকেটের মুনাফার জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে: রিজভী
মার্চ নয়, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
First Trade Permit to Shift Chemical Warehouse from Old Dhaka to Shyampur

পুরান ঢাকা থেকে শ্যামপুরে রাসায়নিক গুদাম স্থানান্তরের প্রথম বাণিজ্য অনুমতি

পুরান ঢাকা থেকে শ্যামপুরে রাসায়নিক গুদাম স্থানান্তরের প্রথম বাণিজ্য অনুমতি ফাইল ছবি
এর ফলে দীর্ঘ এক যুগ পর রাসায়নিক গুদাম হিসেবে প্রথম কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্য অনুমতি দিল দক্ষিণ সিটি।

নিমতলী ও চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের পর পুরান ঢাকা থেকে শ্যামপুরে রাসায়নিক গুদাম (কেমিক্যাল গোডাউন) স্থানান্তরিত করার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্য অনুমতি (ট্রেড লাইসেন্স) দিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

রোববার বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এর ফলে দীর্ঘ এক যুগ পর রাসায়নিক গুদাম হিসেবে প্রথম কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্য অনুমতি দিল দক্ষিণ সিটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক রাজধানীর শ্যামপুরে বাস্তবায়িত ‘অস্থায়ী ভিত্তিতে রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য নির্মিত গুদাম’ প্রকল্পে স্থানান্তরিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ‘মেসার্স রয়েল টন লেকার কোটিং’ নামক রাসায়নিক প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্য অনুমতি নবায়ন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

শ্যামপুরে স্থানান্তরিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাণিজ্য অনুমতি নবায়নের আবেদন করা হলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানকে নবায়নকৃত এই বাণিজ্য অনুমতি দেয়।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘শ্যামপুরে স্থানান্তরিত হওয়ায় আমি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে অন্যান্য রাসায়নিক গুদাম ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও সেখানে স্থানান্তরিত হবে। নিরাপদ হবে আমাদের পুরাতন ঢাকার সামগ্রিক পরিবেশ।’

যেসব প্রতিষ্ঠান স্থানান্তরিত হবে না, পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শ্যামপুরে অস্থায়ী ভিত্তিতে যে রাসায়নিক গুদামগুলো নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে অগ্নি নির্বাপণের আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়াও খোলামেলা পরিবেশ হওয়ার সেখানে ঝুঁকির মাত্রাও অনেক কম। পাশাপাশি এসব রাসায়নিক গুদাম ও প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ৩১০ একর জায়গার ওপর যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে আমরা জেনেছি। জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টিকারী এসব রাসায়নিক গুদাম ও প্রতিষ্ঠান যদি সেখানে স্থানান্তরিত না হয় তাহলে আমরা সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করব।’

গত বছরের ৪ জুন শ্যামপুরে ‘অস্থায়ী ভিত্তিতে রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য নির্মিত গুদাম’ প্রকল্প চালু করা হয়। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সেসব গুদাম উদ্বোধন করেন।

এ ছাড়া নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ২০১৩ সাল থেকে পুরান ঢাকায় অবস্থিত এসব রাসায়নিক গুদাম ও প্রতিষ্ঠানকে এবং চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের পর ২০১৯ সাল থেকে রাসায়নিক গুদাম ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিস্ফোরক জাতীয় রাসায়নিক ব্যবহৃত হয় এ ধরনের প্লাস্টিক কারখানা ও প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে বাণিজ্য অনুমতি দেয়া ও বাণিজ্য অনুমতি নবায়ন বন্ধ রাখে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Three of the 11 admitted have received clearance from the Burn Institute
বেইলি রোডের আগুন

বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১১ জন, ভর্তি তিন

বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১১ জন, ভর্তি তিন বেইলি রোডে গত বৃহস্পতিবার আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনের সামনে উৎসুক লোকজনের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে বেইলি রোডের ঘটনায় আমাদের হাসপাতালে যে ১৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন, তার মধ্যে আজ সকাল ১১টা পর্যন্ত আমরা ১১ জনকে ছুটি দিতে পেরেছি। তাদের অবস্থা এই মুহূর্তে ভালো আছে। স্টেবল আছেন তারা এবং ভালো ফিল করছেন। সুস্থ থাকায় তাদের ১১ জনকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি।’

রাজধানীর বেইলি রোডের ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ নামের ভবনে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ধরা আগুনে দগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া ১১ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

হাসপাতালটিতে এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনজন, যাদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি রোগীদের অবস্থা জানাতে রোববার প্রতিষ্ঠানটিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান আবাসিক চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম।

বেইলি রোডের ভবনটিতে আগুনে প্রাণহানি হয় ৪৬ জনের। এ ঘটনায় দগ্ধ ১৪ জনকে ভর্তি করা হয় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে বেইলি রোডের ঘটনায় আমাদের হাসপাতালে যে ১৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন, তার মধ্যে আজ সকাল ১১টা পর্যন্ত আমরা ১১ জনকে ছুটি দিতে পেরেছি। তাদের অবস্থা এই মুহূর্তে ভালো আছে। স্টেবল আছেন তারা এবং ভালো ফিল করছেন। সুস্থ থাকায় তাদের ১১ জনকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি।

‘হাসপাতালে এই মুহূর্তে ভর্তি আছেন তিনজন। এই তিনজনও ইমপ্রুভমেন্টের (উন্নতি) দিকেই আছেন। তাদের আগের শ্বাসককষ্ট, কাশি অপেক্ষাকৃত কম, তবে তারা এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ নন। এদের মধ্যে দুজনের আগে থেকে শ্বাসকষ্ট ছিল এবং আরেকজনের শরীরে কিছু ব্যথা-বেদনা রয়েছে। তো সবকিছু মিলিয়ে তারা পরিপূর্ণ সুস্থ নন বলে এই তিনজনকে এখন পর্যন্ত ভর্তি রাখা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
রাজধানীর আবাসিক এলাকায় রেস্তোরাঁ বন্ধ চেয়ে রিট
ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শেষে তিন মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন
কাচ্চি ভাইয়ের ম্যানেজার ও চা চুমুকের মালিকসহ রিমান্ডে ৪
বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় মামলা
ডিএনএ টেস্টের জন্য অভিশ্রুতি বা বৃষ্টির মরদেহ বার্ন থেকে ঢামেকে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Writ seeking closure of restaurants in residential areas of the capital

রাজধানীর আবাসিক এলাকায় রেস্তোরাঁ বন্ধ চেয়ে রিট

রাজধানীর আবাসিক এলাকায় রেস্তোরাঁ বন্ধ চেয়ে রিট সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ। ফাইল ছবি
রাজধানীর বেইলি রোডে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ নামের ভবনে আগুনে ৪৬ জনের প্রাণহানির পরিপ্রেক্ষিতে আবাসিক এলাকায় রেস্তোরাঁ স্থাপনের যৌক্তিকতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেছেন। এমন বাস্তবতায় এসব এলাকায় রেস্তোরাঁ বন্ধ চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

রাজধানীর বেইলি রোডসহ আবাসিক এলাকাগুলোতে রেস্তোরাঁর পাশাপাশি বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ রোববার রিটটি করেন।

রাজধানীর বেইলি রোডে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ নামের ভবনে আগুনে ৪৬ জনের প্রাণহানির পরিপ্রেক্ষিতে আবাসিক এলাকায় রেস্তোরাঁ স্থাপনের যৌক্তিকতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেছেন। এমন বাস্তবতায় এসব এলাকায় রেস্তোরাঁ বন্ধ চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি চ্যানেল টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘ঢাকার আবাসিক এলাকায় বেইলি রোডসহ কোনো রকমের রেস্টুরেন্টসহ বাণিজ্যিক কোনো কর্মকাণ্ড যাতে না করে, তাহা বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা চেয়ে আমি রিট করেছি এবং এই রিটটি আজকে শুনানি করব।’

আরও পড়ুন:
ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শেষে তিন মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন
কাচ্চি ভাইয়ের ম্যানেজার ও চা চুমুকের মালিকসহ রিমান্ডে ৪
বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় মামলা
ডিএনএ টেস্টের জন্য অভিশ্রুতি বা বৃষ্টির মরদেহ বার্ন থেকে ঢামেকে
গাউসুল আজম মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After collecting DNA samples the post mortems of the three bodies were completed
বেইলি রোড ট্র্যাজেডি

ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শেষে তিন মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শেষে তিন মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন
রমনা থানার এসআই হাবিবুর রহমান শনিবার বিকেলে মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শেষে ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক জাকিয়া তাসনিম ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। যাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে তারা হলেন- বৃষ্টি খাতুন বা অভিশ্রুতি শাস্ত্রী, মিনহাজ উদ্দিন ও অজ্ঞাত যুবক।

রাজধানী বেইলি রোডে বহুতল ভবন গ্রিন কোজি কটেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারানো নারী সাংবাদিকসহ তিনজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শেষে ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান শনিবার বিকেল ৫টার দিকে মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক জাকিয়া তাসনিম (লেকচারার) ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।

যাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে তাদের একজন হলেন বৃষ্টি খাতুন বা অভিশ্রুতি শাস্ত্রী। ২৬ বছর বয়সী এই তরুণীর পিতা সাহাবুল আলম ওরফে সবুজ শেখ, বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকশা উপজেলার বনগ্রাম গ্রামে। তার মাতা বিউটি বেগম।

তিন বোনের মধ্যে বৃষ্টি ছিলেন সবার বড়। তিনি কুষ্টিয়া মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকায় এসে ইডেনে মহিলা কলেজে দর্শন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। পাশাপাশি ‘দ্য রিপোর্ট’ নামে একটি নিউজ পোর্টালে সাংবাদিক পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

এসআই হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে নারী সাংবাদিক বৃষ্টি খাতুনের বাবা সাহাবুল আলম মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। তিনি বলেন- এটা আমার মেয়ের মরদেহ। এর পাশাপাশি সনাতন ধর্মের কয়েকজন দাবি করেন যে নিহত ওই সাংবাদিকের নাম বৃষ্টি খাতুন নয়, তার নাম অভিশ্রুতি শাস্ত্রী। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী।

‘নাম-পরিচয় নিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে রমনা কালী মন্দিরের সভাপতি শুক্রবার রাতে রমনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মেয়েটি সনাতন ধর্মের। তার নাম অভিশ্রুতি শাস্ত্রী। সে প্রায় সময় রমনা কালীমন্দিরে পূজো দিত। তার বাড়ি ভারতে।’

এসআই হাবিবুর আরও বলেন, ‘বৃষ্টির কপাল ঝলসানো ছিল। গলায় তুলসির মালা ও বাম হাতে লাল সুতা বাঁধা ছিল। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছে। মরদেহ নিয়ে সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখন আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে।’

হাবিবুর রহমান জানান, এছাড়া আগুনের ওই ঘটনায় প্রাণ হারানো কে এম মিনহাজ উদ্দিনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার পিতা মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ খান মরদেহ গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদরের গাছতলা গ্রামে দাফন করার জন্য নিয়ে যান। ২৬ বছর বয়সী মিনহাজ রাজধানীর বাসাবো খেলার মাঠ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি কম্পিউটার সফটওয়্যারের কাজ করতেন।

ময়নাতদন্ত শেষে অজ্ঞতনামা অপর যুবকের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। ২৫ বছর বয়সী এই তরুণের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
কাচ্চি ভাইয়ের ম্যানেজার ও চা চুমুকের মালিকসহ রিমান্ডে ৪
বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় মামলা
ডিএনএ টেস্টের জন্য অভিশ্রুতি বা বৃষ্টির মরদেহ বার্ন থেকে ঢামেকে
গাউসুল আজম মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে
নীলক্ষেতে গাউসুল আজম মার্কেটে আগুন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Letter to mark and seal dangerous buildings

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে সিলগালা করতে চিঠি

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে সিলগালা করতে চিঠি রাজউক ভবন। ফাইল ছবি
রাজধানীতে এরকম ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কতগুলো রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে সিলগালা করে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

বেইলি রোডের আগুনের ঘটনায় কারা দায়ী তা জানতে চেয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

শনিবার আইনজীবী এম আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া এ চিঠি দেন।

চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কেজি কটেজ ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন, ভবনটি যে ধরনের বাণ্যিজিকভাবে জন্য ব্যবহার হয়েছে তার অনুমোদন ছিল না এবং ভবনের সিঁড়ি নিয়ম অনুযায়ী তৈরি হয়নি। ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স ডিপার্টমেন্টের কাছে বারবার ভবনের এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য নোটিশ দেওয়ার পরও কেন কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

চিঠিতে তিনি বলেন, এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল সেটির সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে। ঘটনায় যাদের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে তাদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া, রাজধানীতে এরকম ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কতগুলো রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে সিলগালা করে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এই চিঠির একটি অনুলিপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সচিব, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য

p
উপরে