× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Jatiya Party Weak out of touch with power
google_news print-icon

জাতীয় পার্টি: ক্ষমতার সংস্পর্শে তেজি, বাইরে দুর্বল

জাতীয়-পার্টি-ক্ষমতার-সংস্পর্শে-তেজি-বাইরে-দুর্বল
এরশাদ সরকারের পতনের পরও অবস্থান ধরে রাখা বৃহত্তর রংপুরের সংসদীয় আসন ও স্থানীয় সরকারের প্রায় সব আসনই হাতছাড়া দলটির। ফাইল ছবি
এরশাদের পতনের পর তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির আসন ও ভোট ধারাবাহিকভাবে কমেছে। তবে ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ বা সমঝোতা করে নির্বাচনে যাওয়ার পর আসন বেড়েছে। দলটি সেসব জায়গাতেই জিতেছে, যেখানে আওয়ামী লীগ তাদের সমর্থন দিয়েছে। যেসব এলাকায় দুই দলেরই প্রার্থী ছিলেন, তার কোনোটিতেই জয় পায়নি সাবেক সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত দলটি। এই পরিস্থিতিতে ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসার স্বপ্নের কথা বলছেন নেতারা।

সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় দলের জন্ম। দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে টেক্কা দিয়ে দোর্দণ্ড প্রতাপ। তবে ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পর শীর্ষ নেতাদের একাংশ দল পাল্টে প্রধানত যান বিএনপিতে। পরে কেউ কেউ আসেন আওয়ামী লীগে।

১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত দলটি এবার পূর্ণ করেছে ৩৬ বছর। দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে তারা। নানা আয়োজন বক্তব্যে দাবি করছে, এখন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা তাদের ঘিরে।

তবে এই দাবি প্রমাণ করার মতো বাস্তবতা রাজনীতিতে দৃশ্যমান নয়। এরশাদ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দলটি ক্রমেই খারাপ করছে। আর তখনই আসন বেশি পেয়েছে, যখন বড় দলের সমর্থন তারা পেয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় দলটির নেতারা জিততে পারছেনই না, এমনকি সব জায়গায় প্রার্থীও দেয়া যাচ্ছে না।

এরশাদ সরকারের পতনের পরও অবস্থান ধরে রাখা বৃহত্তর রংপুরের সংসদীয় আসন ও স্থানীয় সরকারের প্রায় সব আসনই হাতছাড়া দলটির।

এর মধ্যেও তিন বছর ধরেই নেতারা বলছেন, জনগণ প্রধান দুই দলের প্রতি হতাশ, তাকিয়ে তাদের প্রতি। যদিও জনগণের ব্যাপক সমর্থনের দাবির প্রমাণ ভোটের বাক্সে নেই।

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের ফলাফল ঘেঁটে দেখা গেছে গত ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে যে ৮৫৭টি ইউনিয়নের ফল ঘোষণা করা হয়, তার মধ্যে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা জিতেছেন কেবল ১৫টিতে। অর্থাৎ মোট ইউনিয়নের ১ দশমিক ৭৫ শতাংশতে জয় পেয়েছেন দলটির প্রার্থীরা।

গত ২৬ ডিসেম্বর যে ৭৮১টি ইউনিয়নের ফল ঘোষণা হয়েছে, তার মধ্যে জাতীয় পার্টি জয় পেয়েছে আরও কম ৯টিতে। এবার মোট ইউনিয়নের মধ্যে জাতীয় পার্টি জয় পেয়েছে ১ দশমিক ১৫ শতাংশে।

দলের প্রার্থীরা হেরেছেন, এমনকি এরশাদ সরকার পতনের শক্তিশালী রংপুর অঞ্চলেও। এমনকি দলের প্রতিষ্ঠাতার জেলা রংপুরেও জয় পাননি প্রার্থীরা।

গত পৌরসভা নির্বাচনেও রংপুর-কুড়িগ্রামে অনেক এলাকায় প্রার্থীও দিতে পারেনি দলটি।

ভোটের মাঠে এই চিত্র দলেও দলক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে- এটা মানতেই নারাজ চেয়ারম্যান জি এম কাদের। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এটা বলার আগে বলতে হবে, নির্বাচন কি অবাধ-সুষ্ঠু হচ্ছে? জনগণের মতামতের প্রতিফলন হচ্ছে? যদি তাই হয়, তাহলে আমরা ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছি। আর এই মতামতের সঙ্গে যদি আপনি দ্বিমত প্রকাশ করেন, তাহলে ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছি না।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনব্যবস্থা যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলেই প্রকৃতভাবে আমাদের অবস্থানটা আমরা জানতে পারব, জনগণও জানতে পারবে। তবে আমরা মনে করি, আমাদের অবস্থান কোথাও খারাপ হয়নি।’

জাতীয় পার্টি: ক্ষমতার সংস্পর্শে তেজি, বাইরে দুর্বল

জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অবস্থান এখন কী- এমন প্রশ্নে মহাসচিব চুন্নু বলেন, ‘কারও সঙ্গে কোনো জোট নেই, কোনো মৈত্রী নেই, কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা নেই। জাতীয় পার্টি তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সারা দেশে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে আমরা যাব। আমরা জনগণের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেব যে, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে আমরা কী করব। একই সঙ্গে আমরা দলকে সংগঠিত করব।’

তিনি বলেন, ‘আগামীতে আমরা ৩০০ আসনে যোগ্য প্রার্থী দেব। সেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করব।’

৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার সক্ষমতা জাতীয় পার্টির রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সক্ষমতা তো আওয়ামী লীগ ও বিএনপিরও নেই। এ জন্যই তো তারা জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট করতে চায়। জাতীয় পার্টি কিন্তু জোট করতে চায় না। তার মানে তাদেরও ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার কনফিডেন্স নেই।’

দলে ভাঙন-বিভেদ

ক্ষমতা ছাড়ার পর দলের প্রভাবশালী নেতারা প্রধানত বিএনপি এবং পরে একাংশ আওয়ামী লীগে ভেড়ার পাশাপাশি প্রায় একই নামে নতুন দল গঠন করে দুই প্রধান দলের সঙ্গে জোটে ভিড়েছেন।

গত তিন দশকে দল ভেঙেছে অন্তত তিন দফা। এ ছাড়া দলের ভেতর এখন তৈরি হয়েছে নানা বলয়।

১৯৯৯ সালে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় পার্টি জোটে গেলে দলে ভাঙন ধরে। বরিশাল অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু একই নামে আরেক দল নিয়ে এগোন। ব্র্যাকেটবন্দি এ দলটির নাম জাতীয় পার্টি-জেপি। দলটি আওয়ামী লীগের জোটের শরিক হয় পরে।

মঞ্জুকে দলে ধরে রাখতে না পারার পর এরশাদ নিজেও পরে চারদলীয় জোট ছেড়ে যান। কিন্তু সে সময় দলটির দুই নেতা নাজিউর রহমান মঞ্জুর ও এম এ মতিন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বা বিজেপি নামে দল গঠন করে থেকে যান চারদলীয় জোটে। আরেকটি শক্তিক্ষয় হয় দলটির।

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে এরশাদের অংশগ্রহণের ঘোষণায় দলে ঘটে আরেক ভাঙন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ এবার চলে যান এরশাদকে ছেড়ে। গঠন করেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)। তিনি পরে যান ২০ দলীয় জোটে।

দশম সংসদ নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে নানা নাটকীয়তাও ঘটেছে। এরশাদ ভোটে আসার ঘোষণা দিয়েও একবার বেঁকে বসেন। পরে আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে ভর্তি করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। তখন এরশাদপত্নী বেগম রওশন এরশাদ নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

জাতীয় পার্টি: ক্ষমতার সংস্পর্শে তেজি, বাইরে দুর্বল

এ নিয়ে দল স্পষ্টত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এরশাদপন্থি ও রওশনপন্থি দুটি উপদলের মধ্যে রওশনপন্থিরা ভোটে গিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসেন। এরশাদ একটি আসন থেকে নির্বাচিত হলেও ভোটে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়া তার অন্য অনুসারীরা জিততে পারেননি।

২০১৯ সালের ১৪ জুলাই এরশাদের মৃত্যুর পর রওশন অনুসারীরা দলে প্রভাবশালী হয়ে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রয়াত সেনাশাসকের ভাই জি এম কাদের হন দলের চেয়ারম্যান। রওশন এখন অসুস্থ, তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন। এই পরিস্থিতিতে দলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি জি এম কাদেরের হাতেই। যদিও রওশনপন্থি হিসেবে এককালে পরিচিতি পাওয়া মুজিবুল হক চুন্নু এই দলের মহাসচিব এখন।

পরের শক্তিতে বলীয়ান

দল গঠন করার বছরেই হওয়া তৃতীয় জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে দ্বিতীয় অবস্থানে ঠেলে শীর্ষে উঠে আসে নতুন দল জাতীয় পার্টি। ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫৩টি দখলে যায় তাদের। মোট ভোটের মধ্যে ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ পায় দলটি।

সেই নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। ভোটের ফল নিয়ে তীব্র আপত্তি ছিল আওয়ামী লীগের। তবে ভোটের ফল ঘোষণা হয়ে গেলে আর কিছু করার থাকে না, সেটিই হয়েছে।

দুই বছর পর ১৯৮৮ সালের জাতীয় নির্বাচন বিএনপির মতো বর্জন করে আওয়ামী লীগ ও সমমনারাও। তাতে নির্বাচন আটকে থাকেনি।

একতরফা সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির আসন হয় ২৫১টি। মোট ভোটের ৬৮ দশমিক ৪ শতাংশ দেখানো হয় দলের প্রতীক লাঙ্গলে।

তবে এই প্রতাপের অবসান ঘটে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে এরশাদের পতনের পর।

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে পরের তিনটি নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে আসন কমেছে জাতীয় পার্টির। ভোটও হারিয়েছে তারা।

তবে ২০০৮ সাল থেকে পরের তিনটি জাতীয় নির্বাচনে তাদের আসন আবার বাড়ে। এর কারণ নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি নয়, দেশের অন্যতম প্রধান দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ রাজনীতি করা। আর এই সমীকরণে ভোট না বাড়লেও আসন বেড়ে যায়।

১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির আসন কমে হয় ৩৫টি। মোট ভোটারের ১১ দশমিক ৯ শতাংশের সমর্থন যায় তাদের বাক্সে। তবে এই ভোটার আর আসনের সিংহভাগই বৃহত্তর রংপুরের। গত তিন দশকে যে এলাকাগুলোও বলতে গেলে হারিয়েছে ফেলেছে দলটি।

১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির আসন আরও কমে হয় ৩২টি। তবে ভোটের হার কিছুটা বেড়ে হয় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

তবে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোটের হারে ধস নামে। আসন কমে যায় অনেক। ওই নির্বাচনে দলটির আসন কমে হয় ১৪টি, শতকরা হারে ভোটের হার কমে হয় ৭ দশমিক ২২ শতাংশ।

এই নির্বাচনের দুই বছর আগে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয় জাতীয় পার্টি। তবে ভোটের আগে আগে সে জোট ছেড়ে যান এরশাদ। কিন্তু দলের একটি অংশ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি নামে দল গঠন করে থেকে যান বিএনপি-জামায়াত জোটে।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ভোটে লড়ে আওয়ামী লীগের শরিক হিসেবে। এই নির্বাচনে ভোটের হার কমে ৭ শতাংশে নামলেও আসন বেড়ে হয়ে যায় ২৭টি। এর প্রতিটিতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী না দিয়ে জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দিয়েছিল।

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। সেই ভোটে আওয়ামী লীগের সমর্থনে জাতীয় পার্টি আসন পায় ৩৪টি। ভোটের শতকরা হার দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৩১ ভাগ।

এই নির্বাচন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি সব আসনে জোটবদ্ধ হয়ে না লড়লেও বিজয়ী জাপা প্রার্থীদের আসনগুলোয় আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয়নি। যেখানে যেখানে দুই দলেরই প্রার্থী ছিল, তার সবগুলোতেই পরাজয় বরণ করতে হয়েছে জাতীয় পার্টির।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয় জাতীয় পার্টি। এই নির্বাচনে দলটি আসন পায় ২৭টি।

ভোট শেষে আবার ভেঙে দেয়া হয় মহাজোট। এখন জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি।

আরও পড়ুন:
সংলাপ: ইসি গঠনে আইনের দাবি জানাবে জাপা
আগে শোষণ করত পাকিস্তানিরা, এখন নিজেদের লোক: জাপা
স্বৈরাচারের উত্থান এরশাদ পতনের পর: জাতীয় পার্টি
রাজনীতিতে একমাত্র বিকল্প জাতীয় পার্টি: জি এম কাদের
ই-কমার্স প্রতারণার শিকারদের নিয়ে জি এম কাদেরের উদ্বেগ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
A youth was killed in a clash between the A League parties in Munshiganj

মুন্সীগঞ্জে আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত

মুন্সীগঞ্জে আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত সংঘর্ষের পর ওই গ্রাম থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। কোলাজ: নিউজবাংলা
ঘটনার পর পুলিশের অভিযানে একটি পাইপ গান, ৭ রাউন্ড কার্তুজ, একটি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও ৭টি হকিস্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ সদরের ছোট মোল্লাকান্দি গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর পুলিশি অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ ও বুলেট প্রুফ জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ১টার দিকে পুলিশ গ্রামটিতে অভিযান চালায়।

এর আগে এদিন ভোরে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. ফয়সালের বিপ্লবের অনুসারী আহম্মেদ আলী ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসের অনুসারী মো. মামুনের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে।

এতে পারভেজ খান নামের ২০ বছর বয়সী এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান জানান, পুলিশের অভিযানে একটি পাইপ গান, ৭ রাউন্ড কার্তুজ, একটি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও ৭টি হকিস্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিত্যক্ত অবস্থায় ওইসব আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Strict suppression of any terrorist group Hanif

যেকোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে দমন: হানিফ

যেকোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে দমন: হানিফ কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। ছবি: বাসস
হানিফ বলেন, ‘কুকি-চিন বা কেএনএফ যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীই হোক না কেন, তাদের জায়গা এই বাংলার মাটিতে হবে না। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।’

যেকোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শুক্রবার দুপুরে এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

হানিফ বলেন, ‘কুকি-চিন বা কেএনএফ যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীই হোক না কেন, তাদের জায়গা এই বাংলার মাটিতে হবে না। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ দেশে একসময় বাংলা ভাইসহ বড় বড় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্ম হয়েছিল। তাদেরকে যেভাবে নির্মূল করা হয়েছে, এদেরকেও ঠিক সেভাবেই নির্মূল করা হবে। আর এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে পেছন থেকে কারা মদদ দিচ্ছে, তাদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা।’

বিরোধীদের বিষয়ে হানিফ বলেন, ‘যারা আজকে সরকারের বিরোধিতা করছেন, তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার সময় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন রেখে গিয়েছিল? মাথাপিছু আয় ৫৩৫ মার্কিন ডলার থেকে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় তা এখন ২৮০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। আজ বাংলাদেশ চরম ব্যর্থ রাষ্ট্র থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে। এটা যাদের ভালো লাগে না, তারাই এসব আবোল তাবোল কথা বলে।’

আরও পড়ুন:
নির্বাচন নিয়ে কথা বলে আর লাভ নেই: হানিফ
বিএনপি এখন বিলুপ্তির পথে: হানিফ
তারেক সন্ত্রাসী নেতা: হানিফ
আন্দোলনের নামে পুলিশ হত্যা করেছে বিএনপি: হানিফ
টাকা দিয়ে নোবেল কিনেছেন ড. ইউনূস: হানিফ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Opportunity to check popularity in upazila elections Tajul

উপজেলা নির্বাচনে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ: তাজুল

উপজেলা নির্বাচনে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ: তাজুল কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার পোমগাঁও গ্রামে নিজ বাড়িতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ঈদ পুনর্মিলনীতে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা
মন্ত্রী বলেন, ‘যারা কাজের মাধ্যমে জনগণের মন জয় করতে পেরেছে, অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল, মানুষকে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছে, তারা উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।’

দলীয় মনোনয়ন না থাকায় এবারের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘যারা কাজের মাধ্যমে জনগণের মন জয় করতে পেরেছে, অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল, মানুষকে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছে, তারা উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।’

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার পোমগাঁও গ্রামে নিজ বাড়িতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ঈদ পুনর্মিলনীতে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ওই সময় তিনি উপস্থিত সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উপজেলা নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নিরপেক্ষ থাকার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের যে কেউ চাইলে প্রার্থী হতে পারেন, তবে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কোথাও একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে।’

মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দুরাবস্থার মধ্যেও দেশের মানুষ তুলনামূলক ভালো অবস্থায় আছে। দেশে খাদ্য ঘাটতি দূর হয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে।’

ওই সময় মন্ত্রী মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘মানুষের সক্ষমতা ও রুচি উন্নত হলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। যোগ্যরাই টিকে থাকে। তাই মানবসম্পদ উন্নয়ন অপরিহার্য।’

সমাজে সবাইকে সৎ আচরণ অনুশীলন করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করলে মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে।’

ঈদ পুনর্মিলনী সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এলজিআরডি মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক দেওয়ান জসিম উদ্দিন, হাসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, লক্ষ্ণণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সেলিম কাদের চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান শামীম, সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বিপ্লব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. তাহসীন বাহার সূচসাসহ কাউন্সিলররা। অনুষ্ঠান শেষে তারা এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ওই সময় মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহাদাত হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে জনগণকে দিতে, বিএনপি আসে নিতে: প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনাকে ঈদের শুভেচ্ছা মোদির
ঈদের ছুটিতে দুই হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর
জিম্মি নাবিকরা ভালো আছেন, তবে উদ্ধারের দিনক্ষণ বলা কঠিন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Apolitical politics should be removed from the country forever Foreign Minister

অপরাজনীতি যেন দেশ থেকে চিরতরে দূর হয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অপরাজনীতি যেন দেশ থেকে চিরতরে দূর হয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজ গ্রামে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার সম্মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে আমাদের এই দেশ রচিত হয়েছে। আমাদের এই দেশ থেকে যেন সমস্ত সম্প্রদায়িক অপশক্তির বিনাশ ঘটে। এই দেশে যেন আমরা সব সম্প্রদায় এবং সব মত ও পথের মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য কাজ করতে পারি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, আমাদের দেশে যে সম্প্রীতি আছে, সেই সম্প্রীতির বন্ধনকে যেন আরও দৃঢ় করতে পারি। একইসঙ্গে আমাদের দেশ থেকে অপরাজনীতি যেন চিরতরে দূর হয়।’

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সুখবিলাস নিজ গ্রামের বাড়ি জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নির্বাচনি এলাকার জনসাধারণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে গণমাধ্যমকর্মীদের ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে পবিত্র ঈদের দিন। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাই।

‘মহান স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করি, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের দেশে যে শান্তি-স্থিতি বিরাজমান এবং আজকে বাংলাদেশ যে পৃথিবীর সামনে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, এই উন্নয়ন অগ্রগতি যেন আরও বেগবান হয়।’

তিনি বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার সম্মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে আমাদের এই দেশ রচিত হয়েছে। আমাদের এই দেশ থেকে যেন সমস্ত সম্প্রদায়িক অপশক্তির বিনাশ ঘটে। এই দেশে যেন আমরা সব সম্প্রদায় এবং সব মত ও পথের মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য কাজ করতে পারি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ফিলিস্তিনের মুসলমানদেরকে সেখানে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। নারী ও শিশুদেরকে হত্যা করা হচ্ছে। সেখানে যেন অবিলম্বে শান্তি স্থাপিত হয়। সেখানে ইসরায়েল যে বর্বরতা চালাচ্ছে, সে বর্বরতার যেন চির অবসান হয়। এটিই মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা।’

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে তার নেতৃত্বে দেশ যেন আরও এগিয়ে যায়, মহান আল্লাহর কাছে সেই প্রার্থনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There is no Eid joy in the families of BNP leaders and workers Rizvi

বিএনপি নেতা-কর্মীদের পরিবারে ঈদ আনন্দ নেই: রিজভী

বিএনপি নেতা-কর্মীদের পরিবারে ঈদ আনন্দ নেই: রিজভী বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি
বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘একদিকে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ওপর স্টিম রোলার চালাচ্ছে, অন্যদিকে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি দেশের গরিব মানুষের টাকা লুটপাট করে ফোর্বস ম্যাগাজিনের শীর্ষ ২০ ধনীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।’

দেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে আগামীকাল ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে যাচ্ছে, কিন্তু বিএনপি নেতা-কর্মীদের পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রাজধানীর কাফরুল থানা বিএনপির উদ্যোগে বুধবার ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের পরিবারে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্মম নির্যাতনে কেউ পা হারিয়েছে, কেউ চোখ হারিয়েছে।

‘আমরা যখন বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর বাসায় যাই, তখনই দেখি ওই কর্মী দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতা-কর্মীদের পরিবারগুলো তাদের ছেলে, ভাই, বাবা, স্বামীর জন্য চোখের জল নিয়ে ঈদ উদযাপন করছে।

‘১৫ বছরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা হয় জেলে, হাসপাতালে গিয়েছেন নয়তো জেল থেকে বের হয়েছেন।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘একদিকে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ওপর স্টিম রোলার চালাচ্ছে, অন্যদিকে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি দেশের গরিব মানুষের টাকা লুটপাট করে ফোর্বস ম্যাগাজিনের শীর্ষ ২০ ধনীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, কুইক রেন্টালের মতো উন্নয়নের নামে শেখ হাসিনার লুটেরারা গরিব মানুষের টাকা লুটপাট করে কানাডায় বেগম পাড়া, দুবাইয়ের গুলশান থ্রি, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম বানিয়েছে।’

এটা রূপকথা নয়, বাস্তব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কারণে শুধু বিএনপির নেতা-কর্মীরাই নয়, সাধারণ মানুয়েরও দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসার বিল পরিশোধ করতে না পেরে বাবা তার ছেলেকে বিক্রি করে দিয়েছেন, চরম দারিদ্র্যের কারণে মা তার সন্তানকে বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।’

কাফরুল থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আকরামুল হকের সভাপতিত্বে, যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুর রহমানের সঞ্চালনায় ও থানা বিএনপির সদস্য ওয়াহিদ আলমের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম, মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ারুজ্জামান, মহানগর সদস্য হাজি মো. ইউসুফ প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের ঈদের আনন্দ ম্লান: রিজভী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Peoples joy of Eid dimmed due to rise in commodity prices Rizvi

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের ঈদের আনন্দ ম্লান: রিজভী

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের ঈদের আনন্দ ম্লান: রিজভী বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দেড় লাখের উপরে মিথ্যা মামলায় প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মী আসামি। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদের প্রায় প্রতিদিন আদালতে সারা দিন পার করতে হচ্ছে। কেউ কারাগারে, কেউ মানবেতর অবস্থায় ঘরছাড়া।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘প্রতিদিন বিএনপির কেউ না কেউ হত্যা, না হয় গুমের শিকার হচ্ছে। আর না হয় জেলে বন্দি করা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে আবার মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদের প্রায় প্রতিদিন আদালতে সারা দিন পার করতে হচ্ছে। ফলে অধিকাংশ মানুষের চাকরি নেই, বন্ধ হয়ে গেছে ব্যবসা।

‘দেড় লাখের উপরে মিথ্যা মামলায় প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মী আসামি। কেউ কারাগারে, কেউ মানবেতর অবস্থায় ঘরছাড়া।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। বলেন, ‘সমাজে তৈরি হয়েছে ধনী ও গরিবের বিশাল ব্যবধান। অধিকাংশ মানুষের সামান্য প্রয়োজন মেটানোই যেন আজ দুঃস্বপ্ন। এবার ঈদযাত্রায় কেবল ঢাকা ছাড়তেই যাত্রীদের ৯৮৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

‘ট্রেনে টিকিট পাচ্ছে না মানুষ। ট্রেনের টিকিট কাটার প্রক্রিয়াকে দিন দিন জটিলতর করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে এলিট শ্রেণির বাহনে পরিণত হচ্ছে ট্রেন। কেননা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষ অনলাইনের এই জটিল ব্যবস্থা বুঝতে অক্ষম। ফলে নিম্ন-মধ্যম আয়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ ট্রেনে চড়ারই অধিকার হারিয়ে ফেলছে।’

বান্দরবানের প্রসঙ্গ টেনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, 'হত্যা, রক্তপাত, ছিনতাই আর ডাকাতি এ দেশে এখন জনজীবনের অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হতাহত হচ্ছে নিরীহ মানুষ।’

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ যুদ্ধ করিডোর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে কী না প্রশ্ন রিজভীর
সরকার দেশকে প্রতিবেশী দেশের অধীনতার দিকে ঠেলে দিয়েছে: রিজভী
আ. লীগ ও সহযোগী সংগঠন উন্নয়নের নামে লুটপাট করেছে: রিজভী
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়া আউট প্রচার চালাচ্ছে জনগণ: রিজভী
সরকার জনগণের কাছে সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিত: রিজভী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BUET should have both student politics and learning environment
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি ও শিক্ষার পরিবেশ দুই-ই থাকা উচিত

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি ও শিক্ষার পরিবেশ দুই-ই থাকা উচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি অবদান রেখেছে। সেই ছাত্র রাজনীতি থেকে অনেক দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদের জন্ম হয়েছে। কিন্তু আমি অবাক যে সেখানে একটি দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা হয়। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার জন্য আবার সেখানে আন্দোলনও হয়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বুয়েটে অবশ্যই ছাত্র রাজনীতি থাকা উচিত। তেমনই শিক্ষার পরিবেশ যেন বজায় থাকে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার বিতরণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

বাংলাদেশের সব অর্জনের সঙ্গে ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ যুক্ত বলে উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম, স্বাধীনতা যুদ্ধ, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশ গঠন এবং এরশাদ ও জিয়া যখন আমাদের গণতন্ত্রকে শেকল পরিয়েছিলেন তখন গণতন্ত্রকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ছাত্রলীগ ভূমিকা রেখেছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি অবদান রেখেছে। সেই ছাত্র রাজনীতি থেকে অনেক দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদের জন্ম হয়েছে- যারা দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, দিচ্ছেন। কিন্তু আমি অবাক যে সেখানে একটি দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা হয়। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার জন্য আবার সেখানে আন্দোলনও হয়।

‘এটা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক নয় এবং হঠকারী সিদ্ধান্ত বলেই আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই আদেশ বাতিল করেছে এবং সেখানে ছাত্র রাজনীতির দুয়ার খুলেছে।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগকে বলবো- সেখানে যেন নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতি হয়, হিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতি যেন না ঢোকে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতি থাকা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের নেতা তৈরি হয়।

এ সময় নিজের জীবনের উদাহরণ দিয়ে ড. হাছান বলেন, ‘আমি ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে পড়ার সময় থেকে ছাত্রলীগের কর্মী। আর ১৬ বছর বয়সে ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক হয়েছি।’

মন্ত্রী হাছান বলেন, ‘রাজনীতি যে দেশ ও মানুষের সেবা এবং সমাজ পরিবর্তনের একটি ব্রত, সেটি অনেক রাজনীতিবিদ ভুলে গেছেন। প্রকৃতপক্ষে রাজনীতি কারও পেশা হওয়া উচিত নয়।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা বস্তুগত উন্নয়নের সঙ্গে একটি মানবিক ও সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করতে চাই। সেই লক্ষ্যেই বঙ্গবন্ধু-কন্যা বহু কল্যাণ ভাতা চালু করেছেন। সেই ব্রত ধারণ করেই আজকে ছাত্রলীগ দুস্থ অসহায় মানুষের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য তাদেরকে অভিনন্দন।’

সভা শেষে সমবেতদের মাঝে ঈদ উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

আরও পড়ুন:
জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্রাজিল সফরের সম্ভাবনা, জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাকে সাড়া দেয়নি বিএনপি নেতা-কর্মীরাও: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
বিএনপি নেতারা ভোটে না আসার যন্ত্রণা বুঝতে পারছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মিয়ানমারের ১৮০ সেনা ফিরে যাবে, তবে এখনই নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে