× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Politics is heating up again
google_news print-icon

আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতি

আবার-উত্তপ্ত-হয়ে-উঠছে-রাজনীতি
সিরাজগঞ্জে সম্প্রতি বিএনপির সমাবেশ ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ। ছবি: নিউজবাংলা
নির্বাচনকালীন সরকার, ভোট নিয়ে দুই প্রধান দলের কথার লড়াই রাজপথে গিয়ে ঠেকছে। এরই মধ্যে একাধিক এলাকায় সংঘাতে জড়িয়েছে তারা। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষের পর সিরাজগঞ্জে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘাতে জড়ানোর ছবি এসেছে গণমাধ্যমে। বিএনপি নেতারা বলছেন, এখন যা হচ্ছে, সেটি ওয়ার্মআপ মাত্র। আওয়ামী লীগ বলছে, কেউ ভোটে না এলে জনগণ বসে থাকবে না।

নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপে বিএনপির না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি রাজনীতিতে সংঘাতের নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। দলটি স্পষ্টতই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ফিরে গেছে। রাজপথে কর্মসূচি বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়াচ্ছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি মীমাংসিত। এখানে বদলের আর কোনো জায়গা নেই।

দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি স্পষ্টতই ৯ বছর আগে ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল-পরবর্তী অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে।

সে সময় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কথার লড়াইয়ের পর সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ। এতে ঝরে বহু প্রাণ, সম্পদহানি ছিল ব্যাপক।

দুই পক্ষই আবার অনড় অবস্থান নেয়ার ইঙ্গিত দেয়ার পর প্রায় এক দশক আগের অচলাবস্থা ফিরে আসছে কি না, এ নিয়ে আলোচনা এরই মধ্যে শুরু হয়ে উঠেছে।

বিষয়টি কেবল কথার লড়াইয়ে সীমিত নয়। হবিগঞ্জের শায়েস্তানগরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষের পর সিরাজগঞ্জে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘাতে জড়ানোর ছবি এসেছে গণমাধ্যমে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবারও বিএনপি আন্দোলনে গেলে দেশে কিছু তো অস্থিতিশীল হবেই।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সংলাপে যাচ্ছে না। এটা দলের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে না। বরং সংলাপে গিয়ে গঠনমূলক প্রস্তাব রাখলে সেটা তাদের জন্য আরও ভালো ফল নিয়ে আসত। পরে তাদের দাবি না মানা হলে তারা বলতে পারত, তারা বলার পরও তাদের দাবি মানা হয়নি।’

তবে দেড় দশক ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির পক্ষে ২০১৩ থেকে ২০১৪-এর শুরু আর ২০১৫ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি সহজ হবে না বলে মনে করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আন্দোলন হবে আন্দোলনের মতো। আন্দোলন হবে সত্যের জন্য, মুক্তির জন্য।’

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আবার ২০১৩ সাল হবে কি না, জানি না। কেউ তো কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কিছু করে না। তবে দেশটা এখন একজনের হাতের ইশারায় নাচছে। ডিজিটালি মৃত্যু হচ্ছে। মানুষ পঙ্গু হয়ে আছে। সেই পঙ্গুত্ব থেকে উতরাতে হলে কঠোর আন্দোলনে যেতেই হবে।’

আন্দোলন হলে আবার সহিংসতা, মানুষের প্রাণহানি, সম্পদ নষ্ট হবে- এ বিষয়টি তুলে ধরলে গয়েশ্বর বলেন, ‘পাকিস্তানিদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে আমরা যুদ্ধ করিনি? স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করা হয়নি?’

বিএনপির এই হুমকির জবাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আন্দোলন বিরোধী দল করতেই পারে। কিন্তু আন্দোলনের নামে কেউ যদি গান পাউডার দিয়ে বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়, বাসে অন্তঃসত্ত্বাকে পুড়িয়ে মারে, সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারে, তাদের দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রতিহত করবে।

‘আওয়ামী লীগ জনগণের দল। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য আওয়ামী লীগ যা করণীয় তাই করবে।’

ক্ষমতাসীন দলের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মনে হচ্ছে বিএনপি ২০১৩-১৪ সালের মতো দেশে অগ্নিসন্ত্রাস করতে পারে। যদি তারা এমনটা করতে যায়, তাহলে আমরা তাদের রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করব।’

আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতি
হবিগঞ্জে সম্প্রতি বিএনপির প্রতিবাদ সভাকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ফাইল ছবি

২০১১-১২ সালের মতো বাগ্‌যুদ্ধ

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের বাকি আর দুই বছরের মতো। এরই মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্টতই ঘোষণা দিয়েছেন ‘ফয়সালা হবে রাজপথে।’

দলটির এখন রাজপথে তাদের প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরছে দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া। তবে এই দাবিতে জেলায় জেলায় কর্মসূচিতে লোকসমাগমের আরেক উদ্দেশ্যও আছে।

মির্জা ফখরুল আরেক দিন বলেছেন, এই কর্মসূচি তাদের ‘ওয়ার্ম-আপ’ তথা গা গরম। এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘আপনারা দেখেছেন খেলার আগে ফুটবলাররা ওয়ার্ম-আপ করে। ঠিক তেমনি সারা দেশে আন্দোলনের ওয়ার্ম-আপ শুরু হয়েছে।’

ওদিকে এর জবাব দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, বিএনপি যতই ওয়ার্ম-আপ করুক, কোনো কাজ হবে না। তাদের ভোটে আসতে হবে দলীয় সরকারের অধীনেই।

সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেছেন, ‘সরকার পতন, আন্দোলন এসব মুখরোচক শব্দবৃষ্টি করে কোনো লাভ নেই। নির্বাচনে জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যান আর আন্দোলনে চরম ব্যর্থতাই বিএনপির একমাত্র প্রাপ্তি।’

বিএনপি দুই দফা আন্দোলনে নেমে ব্যর্থ হয়ে গত সংসদ নির্বাচনে আসার বিষয়টিই বারবার ইঙ্গিত করছেন সরকারদলীয় নেতারা।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘গাধা যেমন পানি ঘোলা করে খায়, বিএনপিও পানি ঘোলা করে নির্বাচনে আসবে।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কেউ নির্বাচনে না এলে মানুষ বসে থাকবে না। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে দুই বছর কথার এমন লড়াই দেখা গিয়েছিল।

আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতি
নির্বাচনের দুই বছর আগেই বাগ্‌যুদ্ধে মেতেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে বিশেষভাবে উৎসাহী বিএনপি

বিএনপির নেতা ও মাঠের কর্মীদের তথ্য বলছে, দলটির এই সক্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে একটি অনুষঙ্গ হচ্ছে বাংলাদেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি পদক্ষেপ। বাহিনী হিসেবে র‌্যাব ও এর ছয় কর্মকর্তা ও পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিএনপি বিশেষভাবে আগ্রহী হয়েছে।

দলটি মনে করে, তারা ২০১৩ ও ২০১৫ সালে যে আন্দোলন করেছিল, সে সময় সরকার যে কঠোর ভূমিকা নিয়েছিল, এই পরিস্থিতিতে এসে তারা তা পারবে না।

২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এবং পরে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে টানা কয়েক মাস বিএনপির আন্দোলনে সহিংসতা ছিল ব্যাপক। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও ছিল কঠোর।

বিএনপির অভিযোগ, সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাদের অনেক নেতাকর্মীকে তুলে নেয়া হয়েছে, যাদের সিংহভাগই পরে আর ফেরেনি, অনেককে গুলি করা হয়েছে। এতে কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নেতাকর্মীর সংখ্যা ক্রমেই কমেছে। একপর্যায়ে ২০১৫ সালে বিএনপির ডাকা অবরোধ কর্মসূচি অকার্যকর হয়ে যায়। তখন থেকেই বড় ধরনের কোনো কর্মসূচিতে আর যাচ্ছে না দলটি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পর নেতারা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাঁধন এবার কিছুটা হলেও আলগা থাকবে। আর এই ধারণায় সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নানা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণও বেশি দেখা যাচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ২৪ ডিসেম্বর গাজীপুরে দলটির সমাবেশে বলেছেন, ‘র‌্যাবের সাত কর্মকর্তাকে আমেরিকা ভিসা বাতিল করে দিয়েছে। এই সরকারের পতন ঘণ্টা বেজে গেছে।’

অচলাবস্থা শুরু যেভাবে

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মুখে বিএনপি সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংযোজন করে। সে সময় বিধান করে, সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হবেন এই সরকারের প্রধান।

দুটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গঠন হয় এভাবে। ২০০৬ সালে তৃতীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, এ বিষয়টি নিয়ে বাধে গোল।

সে সময়কার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা দুই বছর বাড়ানোর পর এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয় যে, ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবেন কে এম হাসান। তবে তাকে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না আওয়ামী লীগ। এর কারণ হাসান তার রাজনৈতিক জীবনে ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক।

এ নিয়ে ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে ২০০২ সালের ২২ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যায় বিএনপির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মতোই এই নির্বাচনকে প্রতিহতের ডাক দিয়ে রাজপথে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ ও সমমনারা।

এ পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১১ জানুয়ারি জারি হয় জরুরি অবস্থা। দুই বছর পর জাতীয় নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে উচ্চ আদালতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিটের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আবেদনটি করা হয়েছিল তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বৈধ বলে ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারী পক্ষ আপিল বিভাগে গিয়েছিল।

আইনজীবী এম সলিম উল্লাহসহ কয়েকজন এ আবেদনটি করেন। সলিমুল্লাহর মৃত্যু হলে আব্দুল মান্নান খান নামে আরেকজন আইনজীবী রিট আবেদনটিকে এগিয়ে নেন।

২০১১ সালের ১০ মে আসে আপিল বিভাগের রায়। এই সরকারব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা বাতিল করে দেয়া হয়। পরে জাতীয় নির্বাচন ৩০ জুন এই সরকারব্যবস্থা বিলোপ করে জাতীয় সংসদ। সেদিনেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী থাকবে।

২০১২ সালে কর্মসূচি বাড়িয়ে পরে সংঘাত

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপের পর ২০১২ সাল থেকে রাজপথে কর্মসূচি বাড়াতে শুরু করে বিএনপি ও তার জোট ২০ দল। ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন-পরবর্তী এক সপ্তাহ চলে সংঘাত। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানোর দাবি ও নির্বাচন বানচালে সহিংস আন্দোলনে শত শত মানুষ পেট্রলবোমায় প্রাণ হারায়, হাজার হাজার মানুষ হয়েছে আহত। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতি হারায়, রপ্তানিতে প্রভাব পড়ার শঙ্কা জাগে।

ভোট শেষে বিএনপির জোট কর্মসূচি স্থগিত করলেও ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি ওই নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিন আবার সহিংস অবরোধে ফিরে যায়। এরপর এক মাসের বেশি সময় চলে সংঘাত-সহিংসতা। আবার বহু প্রাণ জ্বলে যায় পেট্রলবোমায়।

তবে সরকার অবস্থান থেকে সরেনি।

পরে আসে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সে সময় বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বদলে নিয়ে আসে ‘সহায়ক সরকার’-এর দাবি। তবে ওই সরকারের রূপরেখা কেমন হবে, সেটি দিতে পারেনি দলটি।

পরে আওয়ামী লীগের অধীনেই ভোটে আসে বিএনপি। তখন নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দুই পক্ষের বিবাদের আপাত অবসান হয়েছে বলে ধরা হলেও ভোট শেষে বিএনপি আবার ‘দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়’ অবস্থানে ফিরে যায়।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
When the time comes BNP will prosecute all murders and disappearances Minu

সুসময় এলে সব হত্যা-গুমের বিচার করবে বিএনপি: মিনু

সুসময় এলে সব হত্যা-গুমের বিচার করবে বিএনপি: মিনু শুক্রবার নওগাঁয় গুপ্ত হামলায় নিহত বিএনপির নেতা কামাল আহমেদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সান্ত্বনা দেন মিজানুর রহমান মিনুসহ বিএনপির অন্যান্য নেতা। ছবি: নিউজবাংলা
মিজানুর রহমান মিনু শুক্রবার নওগাঁয় গুপ্ত হামলায় নিহত বিএনপির নেতা কামাল আহমেদ ও কারাবন্দি বিএনপি নেতা মতিবুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ‘বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। এসব ঘটনার বিচার হয়নি। সুসময় এলে সব হত্যা-গুমের বিচার করবে বিএনপি।’

শুক্রবার বিকেলে নওগাঁয় গুপ্ত হামলায় নিহত বিএনপির নেতা কামাল আহমেদ ও কারাবন্দি বিএনপি নেতা মতিবুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা।

নওগাঁ পৌরসভার রজাকপুর এলাকায় নিহত কামাল আহমেদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় কেন্দ্রীয় বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহীর সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, নওগাঁ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, যুগ্ন আহবায়ক শহিদুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ রিপন, শেখ রেজাউল ইসলাম, জেলা যুবদলের আহবায়ক মাসুদ হায়দার, সদস্য সচিব রুহুল আমিন মুক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘কামাল আহমেদকে হত্যার ঘটনার পর তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমনকি এই ঘটনার রহস্য পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারেনি। অথচ নিহতের স্বজনেরা ও এলাকাবাসী সবাই জানে কামালকে নিহতের ঘটনায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জড়িত। ঘাতকদের সবাই চেনে। বিএনপির সুসময় এলে এই হত্যার বিচার করা হবে। সব অন্যায়ের প্রতিশোধ নেয়া হবে।’

এ সময় নিহত বিএনপি নেতা স্ত্রী ও সন্তানদের সান্ত্বনা দেন মিজানুর রহমান৷ দ্রুতই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাদেরকে আর্থিক অনুদানের আশ্বাস দেন তিনি।

গত বছরের ১৮ অক্টোবর রাত সোয়া ৯টার দিকে নওগাঁ-সান্তাহার সড়কের ইয়াদ আলীর মোড় এলাকায় কামাল আহমেদকে বহনকারী অটোরিকশার গতি রোধে হামলা করে হেলমেট ও মাস্ক পরা দুর্বৃত্তরা। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক কামাল আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পরদিন নওগাঁ সদর থানায় নিহত কামাল আহমেদের ছেলে নবাব আলী অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত কামাল আহমেদ নওগাঁ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সভাপতি। এছাড়া তিনি নওগাঁ জেলা ট্রাক বন্দোবস্তকারী কমিটির সাবেক সভাপতি।

এদিকে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর বিএনপি নেতা মতিবুল ইসলাম নওগাঁ কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা যান। মতিবুল নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সরকার পরিবর্তন অবশ্যই হবে: নজরুল
বিএনপি রোজা রমজান ঈদ কোনোটাই মানে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতে বিদ্যুৎ জ্বালানির দাম বাড়াচ্ছে সরকার: রিজভী
একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জনগণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়: বিএনপি
ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চলবে: বিএনপি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There are dozens of A League candidates in Chakaria in upazila elections

উপজেলা নির্বাচনে চকরিয়ায় আ.লীগের ডজনখানেক প্রার্থী

উপজেলা নির্বাচনে চকরিয়ায় আ.লীগের ডজনখানেক প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান হতে চকরিয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের যেসব নেতারা দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। কোলাজ: নিউজবাংলা
ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় অনেক নেতাই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। তবে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলগুলোর কোনো প্রার্থীর হাঁক-ডাক এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে। এরইমধ্যে নির্বাচনে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের ডজনখানেক প্রার্থীকে ভোটের মাঠ গরম করতে দেখা যাচ্ছে।

এসব নিয়ে দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেয়া না হলেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলায় ব্যাপক কোন্দলের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১১ মে অনুষ্ঠিত হবে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অনেকেই আগাম শুভেচ্ছা জানাতে ব্যস্ত।

তবে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলগুলোর কোনো প্রার্থীর হাঁক-ডাক এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে, এবারের উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের ‘নৌকা’ প্রতীক দেবে না দলটি। যার কারণে দলীয় প্রতীক পাওয়ার জন্য ঢাকায় তদবির চালিয়ে সময় নষ্ট না করে মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে মনোযোগী হয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে এর মধ্যেও দলীয় সমর্থন আদায় করতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন অনেকে। দলীয় সমর্থন পেলে ভোটে জয়ের পথ অনেকটা মসৃণ হয়ে যাবে বলে কারণ হিসেবে মনে করছেন তারা।

গণসংযোগসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজকর্মে অংশ নিচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদের আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। যোগাযোগ বৃদ্ধি করছেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে। মাঠের রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব তারা।

১৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চকরিয়া উপজেলার সবশেষ ২০১৯ সালের নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী। এবারও তিনি প্রার্থী হতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। জনগণ আমাকে চায়। দলীয় প্রতীক যেহেতু এবার নেই, তাই কে প্রার্থী হবে- সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনগণ আবারও প্রমাণ করবে, আমার বিগত দিনের সফলতা কী ছিল।’

চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে যাদের নামে গুঞ্জন রয়েছে, তারা হলেন- বর্তমান চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য এটিএম জিয়া উদ্দিন চৌধুরী, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক একেএম গিয়াস উদ্দিন, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সরওয়ার আলম, মাতামুহুরী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন জয়নাল, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম, মাতামুহুরী থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরে হাবিব তছলিম, চকরিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ ও চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা হলেন- বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মকছুদুল হক ছুট্টো, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পূজা কমিটির সভাপতি তপন কান্তি দাশ, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি হায়দার আলী ও বেলাল উদ্দিন শান্ত।

এদিকে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনে না যাওয়ার কারণে নির্বাচনি কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত বিএনপির কোনো সম্ভাব্য প্রার্থী বা নেতা-কর্মীর তৎপরতা দেখা যায়নি। জাতীয় পার্টির প্রার্থীদেরও দেখা মিলছেনা আপাতত। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত পেলে অনেকে প্রার্থী হতে পারেন বলে ধারণা স্থানীদের।

আরও পড়ুন:
উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জামানত বাড়ছে ১০ গুণ
সংসদ নির্বাচনের চেয়ে উপজেলা নির্বাচন ভালো হবে: ইসি আলমগীর
চার ধাপে উপজেলা নির্বাচন, প্রথম ধাপের ভোট ৪ মে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Government change must happen Nazrul

সরকার পরিবর্তন অবশ্যই হবে: নজরুল

সরকার পরিবর্তন অবশ্যই হবে: নজরুল বিএনপি নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ছবি: নিউজবাংলা
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে যেন অত্যাচার-নিপীড়ন থেকে মুক্তি পায়। সরকার যেন সহায়তা করে, পুলিশ যেন জনগণের সেবা করে সে রকম একটা সমাজ আমরা প্রতিষ্ঠা করব।’

গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে ‘সরকার পরিবর্তন অবশ্যই হবে’ বলে প্রত্যাশা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

রাজধানীর গোপীবাগে কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যু হওয়া ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের এ প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন চাই এবং বিশ্বাস করি এ পরিবর্তন অবশ্যই হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা অনেক আন্দোলনে বিজয়ী হয়েছি, স্বৈরাচারী এরশাদ পতনের আন্দোলনে আমরা বিজয়ী হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য চেষ্টা করছি। এ বিএনপি বাকশালের (একদলীয় শাসন ব্যবস্থা) গোরস্তানের ওপর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, এ বিএনপি সামরিক স্বৈরশাসনের অবসানে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। কাজেই এ বিএনপি ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে আবারও বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে।’

সরকার পরিবর্তনের একদফার যুগপৎ আন্দোলন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা যুগপৎ আন্দোলন করছি, সেই যুগপৎ আন্দোলন এখনও চলছে। তারা আমাদেরকে অভিযুক্ত করে যে, আমরা আন্দোলনে আর পারতেছি না… কয় বছর হয়েছে?

‘বিএনপি ক্ষমতার বাইরে ১৭ বছর। যাদের ২১ বছর লাগে ক্ষমতায় আসতে তাদের এই অভিযোগ করার কোনো অধিকার নাই যে, বিএনপি পারে না।’

বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আপনি যেকোনো সময়ে না জানিয়ে কাউকে উঠিয়ে নিয়ে যাবেন, যেখানে সেখানে ফেলে রাখবেন, চিকিৎসা দেবেন না, অসুস্থ মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে এটা কোনো রাষ্ট্রের নীতি হতে পারে না।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অত্যাচার-নিপীড়ন যদি এভাবে চলত, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হতো না। যদি অত্যাচারিরা চিরদিন অত্যাচার করতে পারত, তাহলে ফেরাউন-নসরুদের পতন হতো না, হিটলার-মুসলিনের পতন হতো না। আমরা তাদের রক্তের বিনিময়, তাদের প্রাণের বিনিময় এ দেশে গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা করব ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে যেন অত্যাচার-নিপীড়ন থেকে মুক্তি পায়। সরকার যেন সহায়তা করে, পুলিশ যেন জনগণের সেবা করে সে রকম একটা সমাজ আমরা প্রতিষ্ঠা করব।’

নজরুল ইসলাম জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তারা বুলবুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন। বিএনপি তার পরিবারের পাশে থাকবে বলেও জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

গত ২১ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হওয়া বুলবুল কাশিমপুর ২৪ নভেম্বর কাশিমপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে সোহরাওয়ার্দি হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

আরও পড়ুন:
সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি ছাড়লেন সাভারের এক নেতা
দখলদারত্বে নতুন নজির গড়েছে আ. লীগ সরকার: বিএনপি
ফখরুল-খসরু জামিনে মুক্তি পেতে পারেন বিকেলে
খালেদার ১১ মামলার শুনানি ২২ এপ্রিল
জামিন আবেদন নাকচ, চাঁদের ঠিকানা শেরপুর কারাগার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Road blockade in protest against Swachips attempt to form a pocket committee in Barisal

বরিশালে স্বাচিপের ‘পকেট কমিটি’ গঠন চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

বরিশালে স্বাচিপের ‘পকেট কমিটি’ গঠন চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ


বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা
ডা. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘২৬ বছর পর বরিশালে স্বাচিপের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তবে সেই ২৬ বছর আগে যারা কমিটিতে ছিল, তারাই জামায়াত-বিএনপির লোকজন নিয়ে ছাত্রলীগের সহযোদ্ধাদের বঞ্চিত করে কমিটি গঠনের পাঁয়তারা করছে। এই ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরা কঠোরতর আন্দোলনে যাব।’

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন এবং ‘পকেট কমিটি’ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন শের-ই-বাংলা মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা।

হাসপাতালের সামনে বৃহস্পতিবার রাতে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিক‌্যাল কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এ মিছিল করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বাচিপের ‘পকেট কমিটি’ মানি না স্লোগান দিয়ে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক‌্যাল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ইন্টার্ন হল থেকে মিছিল শুরু করে। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আসে। পরে তারা হাসপাতালের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে স্বাচিপের সম্মেলন ও কমিটি নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সড়কে ২০ মিনিট অবস্থান করে কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে এসে বিক্ষোভ মিছিল শেষ করেন।

মিছিলে ৫০ থেকে ৬০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং মেডিক‌্যালের ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ইমরান হোসাইন বলেন, ‘১৯৯৮ সালে স্বাচিপের বরিশালের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরপর থেকে কোনো কমিটি হয়নি। কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে।

‘এ উদ্যোগের খবর জানতে পেরে আমরা উজ্জীবিত হয়েছি, কিন্তু শুনতে পাচ্ছি সম্মেলনের নামে পকেট কমিটি গঠন করা হবে। এতে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকেও রাখা হবে।’

ডা. ইমরান বলেন, ‘আমরা চাই ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হোক। যারা দুর্দিনে সংগঠনের হাল ধরেছিল।’

ডা. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘২৬ বছর পর বরিশালে স্বাচিপের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তবে সেই ২৬ বছর আগে যারা কমিটিতে ছিল, তারাই জামায়াত-বিএনপির লোকজন নিয়ে ছাত্রলীগের সহযোদ্ধাদের বঞ্চিত করে কমিটি গঠনের পাঁয়তারা করছে। এই ধরনের ঘটনা ঘটলে আমরা কঠোরতর আন্দোলনে যাব।’

স্বাচিপের বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি ডা. কামরুল হাসান সেলিম সাংবাদিকদের জানান, বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বাচিপের বিভাগীয় সম্মেলন হবে। এতে স্বাচিপের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

তিনি জানান, সম্মেলনে বিভাগের ছয় জেলা ও বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক‌্যাল কলেজ ইউনিট কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা হবে। কমিটি গঠন হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতারা নেবেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Government will do everything to keep commodity prices bearable during Ramadan Who

রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে সরকার সব করবে: কাদের

রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে সরকার সব করবে: কাদের ফাইল ছবি
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ইতোমধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে টাস্কফোর্সের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে টাস্কফোর্সের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

ওবায়দুল কাদের বৃহতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন। বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতেই এই বিবৃতি। খবর বাসসের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দেশের মানুষের আয় বাড়েনি বলে বিএনপির এক নেতা নিলর্জ্জ মিথ্যাচার করছে। অথচ ২০০৬ সালে বিনএপি-জামাত শাসনামলে মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ ডলার, বর্তমানে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৬৫ ডলার। এই সময়ের ব্যবধানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৫ গুণের বেশি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির আমলে মঙ্গা-খরা ও দুর্যোগে না খেতে পেয়ে মানুষকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হতো, অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করতে হতো। আর সেখানে বাংলাদেশ আজ সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি করতে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে কেউ না খেয়ে মারা যায় না; বরং গৃহহীন মানুষেরও গৃহ ও খাদ্যের সংস্থান করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত বিএনপি নেতৃবৃন্দ দেখতে পায় না। তারা তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে কথা বলে না; গায়ের জোরে মিথ্যাচার করে, অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। একইভাবে তারা দ্রব্যমূল্য নিয়েও মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। অথচ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির মানসপটে যে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটেছিল, বিএনপি ধারাবাহিকভাবে সেই আদর্শ ও চেতনা বিরোধী রাজনীতি করে আসছে। যে কারণে তারা সর্বদাই মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শভিত্তিক গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতারা আজ সরকার বিরোধী সমালোচনার নামে মিথ্যা তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের বাক্যালাপে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়।

তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণ বিএনপিকে লাল কার্ড দেখিয়েছে। জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও বিএনপি তাদের অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকা- থেকে সরে আসেনি। সরকার নয়, বরং বিএনপিই একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গণতন্ত্র ও জনগণের ওপর জগদ্দল পাথরের ন্যায় চেপে বসেছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One class wanted to erase Bangabandhus contribution to the language movement the Prime Minister

একটা শ্রেণি ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান মুছতে চেয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী

একটা শ্রেণি ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান মুছতে চেয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ইতিহাস বিকৃত করা ও বাংলাদেশের মানুষকে হেয় করা এক শ্রেণির মানুষের মজ্জাগত। তাদের কিছুই ভালো লাগে না, রোগ। এক সময় আমি বঙ্গবন্ধুর ভাষা আন্দোলন নিয়ে বক্তব্য দেয়ার ফলে একজন লিখলেন, আমি এগুলো মিথ্যা বলেছি। পরে এম আর আক্তার মুকুল সাহেবকে দিয়ে জবাবটা লেখালাম।

একটা শ্রেণি ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে মুছে ফেলতে চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ইতিহাস বিকৃত করা ও বাংলাদেশের মানুষকে হেয় করা এই শ্রেণির মানুষের মজ্জাগত, তারা কিছুই ভালো লাগে না রোগে আক্রান্ত।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘ইতিহাস বিকৃত করা ও বাংলাদেশের মানুষকে হেয় করা এক শ্রেণির মানুষের মজ্জাগত। তাদের কিছুই ভালো লাগে না, রোগ। এক সময় আমি বঙ্গবন্ধুর ভাষা আন্দোলন নিয়ে বক্তব্য দেয়ার ফলে একজন লিখলেন, আমি এগুলো মিথ্যা বলেছি। পরে এম আর আক্তার মুকুল সাহেবকে দিয়ে জবাবটা লেখালাম। সে সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গোয়েন্দা রিপোর্ট, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী তখন তাকে দিলাম। বললাম, আপনিই লেখেন। আমরা তো চুনোপুঁটি। আমরা লিখলে হবে না। তো উনি লেখার পর সমালোচনাকারী, মিথ্যা দাবিকারীদের মুখ বন্ধ হয়ে গেল।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের কিছু আঁতেল এক সময় বলেছে, শেখ মুজিব ভালো প্রশাসক ছিলেন না। অথচ, যে সেক্টরে হাত দিয়েছি, দেখেছি মূল কাজটা বঙ্গবন্ধু করে দিয়ে গেছেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার কাজ করেছেন। স্বল্পোন্নত দেশ করে দিয়ে গেছেন। তার দেখানো পথেই আমরা এগিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধু তার সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। ভাষা আন্দোলন থেকে যে চেতনা, তার থেকেই আমাদের স্বাধীকার ও স্বাধীনতা আসে। জাতির পিতা এটি তার আত্মজীবনীতেও লিখেছেন, ৫২ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন একাত্তরের স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।’

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, ‘আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালে ও ছাত্রলীগ ১৯৪৮ সালে গঠিত। এই দেশের যতটুকু অর্জন, তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সব আন্দোলনে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।’

এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্রের সবক শুনতে হয়। অথচ তারা নানান উপায়ে বঙ্গবন্ধুকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে চলে যায় আমাদের পতাকা। ইনডেমনিটি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করেছে। খুনিদের পুনর্বাসন করে নানান জায়গায় পদায়ন করেছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে তুলে দিয়েছে আমাদের দেশের পতাকা।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আতাউর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান প্রমুখ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNP does not mean Ramadan Eid Foreign Minister

বিএনপি রোজা রমজান ঈদ কোনোটাই মানে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপি রোজা রমজান ঈদ কোনোটাই মানে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি যে ভুল করেছে, সেজন্য তাদের দলটা ধপাস করে পড়ে গেছে। এখন তারা কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়। এই ভুলের জন্য কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছে তাদের নেতারা। রমজানে কর্মসূচি দিলে তারা জনগণের তোপের মুখে পড়বে।’

বিএনপি রোজা, রমজান, ঈদ- কোনোটাই মানে না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘তারা এখন রমজানের মধ্যে কর্মসূচি দেয়ার কথা ভাবছে। ঈদের দিনও কর্মসূচি দেয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ‘বিএনপি রমজানে কর্মসূচি দেয়ার কথা ভাবছে’- প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি যে ভুল করেছে, সেজন্য তাদের দলটা ধপাস করে পড়ে গেছে। এখন তারা কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়। এই ভুলের জন্য কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছে তাদের নেতারা। রমজানে কর্মসূচি দিলে তারা জনগণের তোপের মুখে পড়বে।’

এ সময় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেয়ায় প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গাজায় নারী-শিশুদের নির্বিচারে হত্যাই শুধু নয়, সেখানে পানি-বিদ্যুৎসহ সকল বেসিক সাপ্লাই লাইন পরিকল্পিতভাবে ব্যাহত করা হচ্ছে; হাসপাতালে অভিযান, হামলা চালানো হচ্ছে; চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন-কানুনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

‘কেউ কেউ ইসরায়েলিদের নিরাপত্তার কথা বলে, তাহলে এই ফিলিস্তিনি নারী-শিশুদের নিরাপত্তা, অধিকার কোথায় গেল? যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত বন্ধুপ্রতিম সম্পর্ক, কিন্তু এই ভেটো প্রদান গভীর হতাশাব্যঞ্জক। আমরা কোথাও যুদ্ধ চাই না, যুদ্ধ বন্ধ হোক।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চিঠি ও তাদের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আখতারের আসন্ন সফরের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করলে ড. হাছান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চিঠি অত্যন্ত গুরুত্ববহ এবং তাদের কর্মকর্তাদের সফর আমাদের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে।’

সৌদি, মিশরের রাষ্ট্রদূত ও অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের সাক্ষাত

এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইওসেফ আল দুহাইলান, মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন ফাহমী এবং অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নার্দিয়া সিম্পসন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় সৌদি আরবের সঙ্গে শুধুমাত্র জনশক্তি রপ্তানি আর হজের সম্পর্ক ছিল। এখন এই সম্পর্ককে আমরা বিনিয়োগের সম্পর্কে রূপ দিতে চাই। সৌদি সরকারও এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।’

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ইকোনমিক জোনে সৌদি আরবকে ৩০০ একর জমির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, আরও ৩০০ একর জমি তারা চেয়েছে। বৈঠকে তাদের মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী পরিবেশ পরিকল্পনা ‘সৌদি গ্রিন ইনিশিয়েটিভ’-এ বাংলাদেশি কৃষিবিদসহ অন্যদের ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।”

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।’

চলতি বছর মিশরের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে। শিগগিরই এটি উদযাপিত হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মিশর তাদের দেশে পাট চাষ করতে চায়। এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশের সহায়তা চেয়েছে। আমরা বলেছি, এ বিষয়ে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আইসিটি, চামড়া খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তারা এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বড় উন্নয়ন অংশীদার অস্ট্রেলিয়াকে ইকোনমিক জোনগুলোতে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়েছি। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়েও আলাপ হয়েছে।’

মন্তব্য

p
উপরে