‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব’

player
‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব’

জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পরিদর্শন বইয়ে লেখেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ছবি: নিউজবাংলা

বিচারপতি পরিদর্শন বইয়ে লেখেন, ‘আমরা বিচারকাজে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব। আমরা সব শহীদের রক্তের কাছে দায়বদ্ধ।’

বিচারকাজে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব বলে মন্তব্য করেছেন দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

বিচারপতি পরিদর্শন বইয়ে লেখেন, ‘আমরা বিচারকাজে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব। আমরা সব শহীদের রক্তের কাছে দায়বদ্ধ।’

এ সময় আপিল বিভাগের বিচারপতিরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ছিলেন। আরও ছিলেন হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট ও আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলরা।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যান ঢাকা জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলামসহ প্রশাসন ও গণপূর্তের কর্মকর্তারা।

‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করব’


পরে সোয়া ১২টার দিকে স্মৃতিসৌধ এলাকা ত্যাগ করেন তারা।

দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

বঙ্গভবনের দরবার হলে শুক্রবার বিকেলে তাকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শপথ শেষে রীতি মেনে শপথ বইয়ে সই করেন প্রধান বিচারপতি। এরপর একই বইয়ে সই করেন রাষ্ট্রপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি।

আরও পড়ুন:
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি
২২ প্রধান বিচারপতি: চারজন হন রাষ্ট্রপতি, তত্ত্বাবধায়কের প্রধান
নতুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
অবসরে সাক্ষাৎকার দেব না: প্রধান বিচারপতি
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বিদায়ী সাক্ষাৎ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লবিস্ট ‘লেনদেন’ জানতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি

লবিস্ট ‘লেনদেন’ জানতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি

প্রতীকী ছবি

প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এ পর্যন্ত আটটি চুক্তি আমাদের হাতে এসেছে। এর মধ্যে বিএনপির পেয়েছি তিনটি। এর বাইরে আরও আছে, যেগুলোর এজেন্ট জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের চুক্তির কপিতে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেয়া নেই, তবে তাদের নাম রয়েছে। তারা পিস অ্যান্ড জাস্টিস নামে অরগানাইজেশন খুলে এ চুক্তিগুলো করেছে।’

দেশবিরোধী প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি লবিস্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে বিএনপি ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। দলটি কীভাবে বিদেশে এ পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছে তা জানতে চায় সরকার।

বিপুল এ অর্থের উৎস ও লেনদেন সম্পর্কে তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিন বিকেলে মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি লবিস্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে তিনটি ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে। যার মূল ঠিকানায় বিএনপির পুরানা পল্টনের অফিসের নাম দেয়া হয়েছে।

‘বিএনপির হয়ে যিনি চুক্তি করেছেন, তার নাম আব্দুস সাত্তার এবং একটি লবিস্ট কোম্পানির নাম ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিক এলএমসি। ২০১৮ সালে করা এ চুক্তিতে ১ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। সব মিলিয়ে দলটি তিনটি চুক্তিতে ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।’

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বিএনপি বিদেশে এসব টাকা কীভাবে পাঠিয়েছে, এ তথ্য জানতে চেয়ে সেসব চুক্তির কপি আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠাব। যাতে এ চুক্তি করতে বিদেশে যে অর্থ তারা পাঠিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তাতে অনুমোদন রয়েছে কি না তা যাচাই করতে পারে।

‘একই সঙ্গে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে দাখিল করতে হয়। নির্বাচন কমিশনে বিএনপি-জামায়াত এ অর্থের হিসাব দিয়েছে কি না, কমিশনও নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ পর্যন্ত আটটি চুক্তি আমাদের হাতে আছে। এর মধ্যে বিএনপির পেয়েছি তিনটি। এর বাইরে আরও আছে, যেগুলোর এজেন্ট জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের চুক্তির কপিতে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেয়া নেই, তবে তাদের নাম রয়েছে। তারা পিস অ্যান্ড জাস্টিস নামে অরগানাইজেশন খুলে এ চুক্তিগুলো করেছে।’

বিএনপি-জামায়েতের এসব চুক্তির অর্থ কীভাবে এল, তা খতিয়ে দেখতে মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লবিস্ট ফার্মের সঙ্গে তারা চুক্তি করেছে। তবে এই চুক্তির অর্থ কীভাবে এল, আমরা সে বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাই।’

আরও পড়ুন:
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি
২২ প্রধান বিচারপতি: চারজন হন রাষ্ট্রপতি, তত্ত্বাবধায়কের প্রধান
নতুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
অবসরে সাক্ষাৎকার দেব না: প্রধান বিচারপতি
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বিদায়ী সাক্ষাৎ

শেয়ার করুন

ভোজ্যতেলের দাম: সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ

ভোজ্যতেলের দাম: সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, কারিগরি কমিটি বিভিন্ন রিফাইনারি পরিদর্শন করে সেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যয় গত এক দশকে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছে। তবে এই বাড়তি দাম তেলের মূল্য নির্ধারণে ইতিমধ্যে সমন্বয় হয়েছে। মূল্য নির্ধারণের অন্যান্য কারিগরি দিকেও বড় কোনো অসংগতি দেখেনি কমিটি।

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমতে শুরু করেছে। সেই সময়টাতে দেশে এই ভোগ্যপণ্যের দাম লিটারপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়ানোর চেষ্টায় আছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

এ অবস্থায় ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না কমছে, নাকি বর্তমান দর অপরিবর্তিত থাকছে- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ বুধবার।

খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী ভোজ্যতেলের বর্ধিত দাম গত ৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে সরকার কৌশলী অবস্থানে থেকে ইতিমধ্যে বাড়তি দাম কার্যকর ছাড়াই ১০ দিন পার করে দিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ভোজ্যতেলের দাম পুনর্বিবেচনার বিষয়ে অনেক দিন থেকেই খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের চাপে রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভোজ্যতেলের উৎপাদক ও বাজারজাতকারী সংগঠন থেকে গত ২ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে ভোজ্যতেলের বর্ধিত দাম কার্যকরের কথা জানানো হয়।

ভোজ্যতেল খাত-সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন আজ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় বৈঠকটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ভোজ্যতেলের দাম পুনর্বিবেচনার বিষয়ে অনেক দিন থেকেই খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের চাপে রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভোজ্যতেলের উৎপাদক ও বাজারজাতকারী সংগঠন থেকে গত ২ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে ভোজ্যতেলের বর্ধিত দাম কার্যকরের কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন খুচরা বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনে ৮, খোলা সয়াবিনে ৯ ও খোলা পাম অয়েলে ১০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায়। তাদের এ সিদ্ধান্ত গত ৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

তথ্যমতে, অ্যাসোসিয়েশনের এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য দাঁড়াবে ১৪৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিনের খুচরা মূল্য পড়বে ১৬৮ টাকা। সে হিসাবে বোতলজাত ৫ লিটার সয়াবিন বিক্রি হবে ৮০০ টাকায়।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোজ্যতেল সমিতির এই সিদ্ধান্তে বাদ সেধেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কারণ বিশ্ববাজারে যখন পণ্যটির দাম কমছে, তখন দেশে বাড়ানোর প্রস্তাবটি সরকারের জন্য অনেকটাই বিব্রতকর। ফলে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কৌশলী অবস্থান নিয়ে ভোজ্যতেলের বাড়তি দাম ৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া থেকে ব্যবসায়ীদের বিরত রাখে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, এবার দাম পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার সার্বিক দিক দেখে-বুঝে এগোতে চাইছে। সে লক্ষ্যে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ও ব্যবসায়ীরা যে পদ্ধতিতে ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণ করে আসছে তা পাল্টাতে চায় সরকার। এ জন্য মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি সংশোধন ও ব্যয় বিবরণী হালনাগাদ করার কথা জানায় সরকার। এর পাশাপাশি সরকার, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এ সংক্রান্ত কারিগরি কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়।

বাড়তি দাম কার্যকরে খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নির্ধারণ করা সময়ের পর আরো দশ দিন গড়িয়ে গেছে। এ সময়টাতে কারিগরি কমিটি একাধিক নির্বাচিত পরিশোধন কারখানা পরিদর্শন করে। কমিটি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দর, বিভিন্ন দেশে পরিশোধিত তেলের বাজারমূল্য এবং দেশে মূল্য নির্ধারণের মানদণ্ডে গত এক দশকে পরিবর্তনগুলো চিহ্নিত করেছে। আবার মূল্য নির্ধারণের কারিগরি দিকগুলো একসঙ্গে যুক্ত করলে সে অনুযায়ী ভোজ্যতেলের প্রতি লিটার দাম বর্তমান বাস্তবতায় কত হওয়া উচিত তা-ও চিহ্নিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এসব কৌশলী কর্মযজ্ঞ শেষ হওয়ার পর গঠিত কারিগরি কমিটি বাণিজ্যমন্ত্রীকে একটি সুপারিশ দিয়েছে। সেই সুপারিশ সামনে রেখে ভোজ্যতেলের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছে সরকার।

সিটি গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার ভোজ্যতেলের দাম কমাতে বললে আমরা কমিয়ে দেব। তবে তার জন্য আমাদের ভ্যাট-ট্যাক্স ও শুল্কে ছাড় দিতে হবে। আর সেটা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে আমাদের বাড়তি দামের প্রস্তাব তো সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই দেখেছে। এখন সিদ্ধান্ত দেবে সরকার। সরকার যা বলবে, আমরা তাই শুনব।’

বুধবারের বৈঠকেই দাম পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত আসবে কি না তা জানতে চাওয়া হয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আমদানি) এএইচএম সফিকুজ্জামানের কাছে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এতদিন আমরা ব্যবসায়ীদের থামিয়ে রেখেছিলাম। এ সময়ে আমরাও আমাদের কাজগুলো গুছিয়ে এনেছি। বাণিজ্যমন্ত্রীকেও বিষয়গুলো অবহিত করেছি। এরপরই ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসার সময় নির্ধারণ করা হয়। এ বৈঠক থেকেই ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে।’

তবে দাম বাড়ছে না কমছে, নাকি অপরিবর্তিত থাকছে- সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।

ভোজ্যতেল আমদানি ও বাজারজাতকারী নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার ভোজ্যতেলের দাম কমাতে বললে আমরা কমিয়ে দেব। তবে তার জন্য আমাদের ভ্যাট-ট্যাক্স ও শুল্কে ছাড় দিতে হবে। আর সেটা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে আমাদের বাড়তি দামের প্রস্তাব তো সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই দেখেছে। এখন সিদ্ধান্ত দেবে সরকার। সরকার যা বলবে, আমরা তাই শুনব।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, কারিগরি কমিটি বিভিন্ন রিফাইনারি পরিদর্শন করে সেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যয় গত এক দশকে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছে। এই বাড়তি দাম তেলের মূল্য নির্ধারণে সমন্বয় হয়েছে। এ ছাড়া মূল্য নির্ধারণের অন্যান্য কারিগরি দিকেও বড় কোনো অসংগতি দেখেনি কমিটি।

ফলে সরাসরি দাবি করা না গেলেও বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অনেকটাই আঁচ করতে পারছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষের বৈঠকে ভোজ্যতেল বিষয়ে আয়োজিত আজকের বৈঠকে এফবিসিসিআিই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ও বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিসহ সিটি, মেঘনা, এস আলম ও টিকে গ্রুপের চেয়ারম্যান, বসুন্ধরা গ্রুপের এডিবয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, এনএসআই, ডিজিএফআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টিসিবি, দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাষ সেলের বাণিজ্য পরামর্শকসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

আরও পড়ুন:
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি
২২ প্রধান বিচারপতি: চারজন হন রাষ্ট্রপতি, তত্ত্বাবধায়কের প্রধান
নতুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
অবসরে সাক্ষাৎকার দেব না: প্রধান বিচারপতি
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বিদায়ী সাক্ষাৎ

শেয়ার করুন

আবুধাবিতে হামলার নিন্দায় বাংলাদেশ

আবুধাবিতে হামলার নিন্দায় বাংলাদেশ

হুথি মিলিশিয়াদের হামলায় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির কাছে পেট্রোলিয়াম ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ মনে করে, বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ করে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা এবং নিরীহ বেসামরিক লোক হত্যার ঘটনা সন্ত্রাসবাদ। এসব কাজ বেআইনি এবং কাপুরুষতাপূর্ণ। এ ধরনের অসংবেদনশীল এবং বেআইনি কাজ আন্তর্জাতিক আইন এবং সভ্য আচরণের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বিস্ফোরক-বোঝাই ড্রোন দিয়ে হুথি মিলিশিয়াদের হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানায়।

হুথি মিলিশিয়াদের এই হামলায় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির কাছে পেট্রোলিয়াম ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাণহানির পাশাপাশি এতে বেসামরিক সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও যেকোনো হুমকি মোকবিলায় সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকল প্রচেষ্টায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আল হুদায়াহ গভর্নরেটের উপকূলে গত ২ জানুয়ারি রাওয়াবি নামক একটি ইউএই পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ হাইজ্যাকের পর এটি একটি পুনরাবৃত্ত সন্ত্রাসী হামলা। সর্বশেষ হামলা ও হুথি মিলিশিয়াদের আগ্রাসন আরও উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ করে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা এবং নিরীহ বেসামরিক লোকদের হত্যা সন্ত্রাসবাদ। এসব কাজ বেআইনি এবং কাপুরুষতাপূর্ণ।

বাংলাদেশ মনে করে, এ ধরনের অসংবেদনশীল এবং বেআইনি কাজ আন্তর্জাতিক আইন এবং সভ্য আচরণের স্পষ্ট লঙ্ঘন। হুথি মিলিশিয়াদের এসব হামলার পুনরাবৃত্তি ও ইচ্ছাকৃত উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি
২২ প্রধান বিচারপতি: চারজন হন রাষ্ট্রপতি, তত্ত্বাবধায়কের প্রধান
নতুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
অবসরে সাক্ষাৎকার দেব না: প্রধান বিচারপতি
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বিদায়ী সাক্ষাৎ

শেয়ার করুন

‘শিমুকে হত্যার পর নিখোঁজের জিডি করেন নোবেল’

‘শিমুকে হত্যার পর নিখোঁজের জিডি করেন নোবেল’

চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু। ফাইল ছবি

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘পারিবারিক বিষয় ও দাম্পত্য কলহের কারণে শিমুকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রিন রোডের বাসায় রোববার সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে তার স্বামী নোবেল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।’

চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুকে হত্যার পর তার স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার কারণ দেখিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। রোববার রাত ১২টায় রাজধানীর কলাবাগান থানায় এই জিডি করা হয়।

এর আগে নোবেল তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদের সহযোগিতায় শিমুর মরদেহ দুটি চটের বস্তায় ভরেন। মরদেহ কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের আলীপুর ব্রিজের ৩০০ গজ উত্তরে পাকা রাস্তাসংলগ্ন ঝোপের ভেতর ফেলে আসা হয়।

সোমবার সকালে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর আটক করা হয় শিমুর স্বামী নোবেলসহ দুজনকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের উল্লেখ করে পুলিশের পক্ষ থেকে এমনটা দাবি করা হয়েছে।

‘শিমুকে হত্যার পর নিখোঁজের জিডি করেন নোবেল’
চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার নোবেল ও ফরহাদ। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা জেলা পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন নোবেল। হত্যার কারণ হিসেবে তিনি পারিবারিক কলহের কথা জানিয়েছেন। তবে বিস্তারিত তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ বলা যাবে।

শিমু হত্যার ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ভাই শহীদুল ইসলাম খোকন। নোবেল, তার বন্ধু ফরহাদ ও আরেকজনকে আসামি করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলাটি করা হয়।

এর আগে দুপুরে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, ‘পারিবারিক বিষয় ও দাম্পত্য কলহের কারণে শিমুকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করেছেন নোবেল এবং লাশটি গুম করতে সহায়তা করেছেন ফরহাদ। দুজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানা গেছে।’

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের উল্লেখ করে নিউজবাংলাকে মারুফ হোসেন বলেন, ‘রোববার সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে শিমুকে তার স্বামী নোবেল হত্যা করেন। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি যে কলাবাগানে গ্রিন রোডের বাসাতেই শিমুকে হত্যা করা হয়েছে।’

রোববার সকালে হত্যা করা হলেও মরদেহটি কখন কেরানীগঞ্জে ফেলা হয় তা জানাতে পারেনি পুলিশ।

কলাবাগান থানায় নোবেলের করা জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিপ্লব হাসান বলেন, ‘জিডিতে নোবেল উল্লেখ করেছেন যে তার স্ত্রী সকালে কাউকে না বলে বেরিয়েছেন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’

স্ত্রীকে হত্যার পর নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখতেই নোবেল জিডি করেছেন- এমন ধারণা কলাবাগান থানা পুলিশের।

পুলিশ পারিবারিক কলহের কথা বললেও শিমুর ভাই খোকন বলছেন, ‘টুকটাক সমস্যা সব পরিবারেই থাকে। এমন কোনো সমস্যা ছিল না, যেটার জন্য শিমুকে মেরে ফেলতে হবে।’

'ওই বাড়িতে আমাদের অন্য আত্মীয়স্বজনও থাকেন। শিমুকে হত্যার সময় তার দুই সন্তান ওই আত্মীয়দের বাসায় ছিল।’

তবে সন্তানরা নিজ বাসা ছেড়ে অন্য বাসায় কেন ছিল তা জানাতে পারেননি তিনি।

সোমবার মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দুপুরে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘শিমুর গলায় দাগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রশি বা এ জাতীয় কিছু দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

নোবেল ও ফরহাদ তিন দিনের রিমান্ডে

শিমু হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নোবেল ও নোবেলের বন্ধু আব্দুল্লাহ ফরহাদকে তিন দিনের হেফাজতে নিয়েছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক চুন্নু মিয়া মঙ্গলবার আসামিদের আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড চান।

শুনানি শেষে সন্ধ্যায় ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগম তিন দিন রিমান্ডের আদেশ দেন।

হত্যার কারণ সম্পর্কে নোবেল অনেক কিছুই বলেছেন বলে জানান কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী রমজানুল হক। রিমান্ড শেষে সেসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি
২২ প্রধান বিচারপতি: চারজন হন রাষ্ট্রপতি, তত্ত্বাবধায়কের প্রধান
নতুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
অবসরে সাক্ষাৎকার দেব না: প্রধান বিচারপতি
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বিদায়ী সাক্ষাৎ

শেয়ার করুন

জনগণের টাকায় সবার সংসার চলে: ডিসিদের রাষ্ট্রপতি

জনগণের টাকায় সবার সংসার চলে: ডিসিদের রাষ্ট্রপতি

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিনে মঙ্গলবার বঙ্গভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। ছবি: বঙ্গভবন

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দুর্নীতি উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায়। দুর্নীতির কারণে টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’

জনগণের টাকায় প্রজাতন্ত্রের সবার সংসার চলে উল্লেখ করে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ না করে দেশ ও জনগণের স্বার্থ সবার ঊর্ধ্বে স্থান দিয়ে দায়িত্ব পালনে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব ও ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। দায়িত্ব সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ অত্যাবশ্যক। তবে ক্ষমতার যাতে অপপ্রয়োগ না হয় তা নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরি। তাই কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব ও ক্ষমতার পার্থক্য সচেতনভাবে বজায় রাখবেন।

‘আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশটা স্বাধীন হয়েছিল বলেই আজ আমি রাষ্ট্রপতি, আপনারা সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক হয়েছেন।’

আমলাতন্ত্রের সবাই জনগণের সেবক জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনারা তাই দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সবার ঊর্ধ্বে স্থান দেবেন। আমরা ও আপনারা জনগণের সেবক। তাই জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেবেন। মনে রাখতে হবে জনগণের টাকায়ই আমাদের সংসার চলে।’

সেবা পাওয়া জনগণের অধিকার জানিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হামিদ বলেন, ‘জনগণকে সেবাদান কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য বা বদান্যতার বিষয় নয়।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দুর্নীতি উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায়। দুর্নীতির কারণে টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির জেলা প্রশাসকদের স্মরণ করিয়ে দেন আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘দেশের আনাচ-কানাচে মাদকের অপব্যবহার যুবসমাজকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকদ্রব্য যাতে যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে না দেয় সেদিকেও আপনাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ নিতেও জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা দেখতে চান রাষ্ট্রপ্রধান।

ডিসিদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনাদের মেধা ও দক্ষতা জনকল্যাণের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে যথাযথ অবদান রাখবে। আমার বিশ্বাস, আপনারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে দেশাত্মবোধ ও একাগ্রতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাবেন।

‘নবতর উদ্ভাবনী চর্চা ও সেবামূলক কর্মপ্রয়াসের দ্বারা আপনারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবেন- এটাই সবার প্রত্যাশা।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতিমধ্যে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ২০৩০ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ এসডিজির সব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে এবং ২০৪১ সালে উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে।’

দারিদ্র্যবিমোচন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি একটি কার্যকর মাধ্যম জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, ‘প্রকৃত দরিদ্ররা যেন এই কর্মসূচির সুফল ভোগ করতে পারে সে বিষয়ে আপনাদের সচেষ্ট হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জনগণের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা রয়েছে। গ্রামীণ বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার বেশির ভাগই জমিজমাসংক্রান্ত। ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং ভূমিসংক্রান্ত জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে।

‘ভূমি রেকর্ডের সময় একশ্রেণির অসাধু কর্মচারী স্থানীয় প্রভাবশালী দালাল চক্রের সহযোগিতায় অনেক অনিয়ম করছে এবং অবৈধ সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে জনভোগান্তি বেড়েছে। এসব ব্যাপারে আপনাদের কঠোর হতে হবে। যে কোনো অনিয়ম বন্ধ করতে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বিষয়টিও রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা সদরে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সামনে জলাশয় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এসব দেখার কেউ নেই। অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে বন, নদী ও পাহাড় রক্ষায় কঠোর হতে হবে। আর তা করতে পারলেই উন্নয়ন সুষম ও জনমুখী হবে।

আরও পড়ুন:
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি
২২ প্রধান বিচারপতি: চারজন হন রাষ্ট্রপতি, তত্ত্বাবধায়কের প্রধান
নতুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
অবসরে সাক্ষাৎকার দেব না: প্রধান বিচারপতি
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বিদায়ী সাক্ষাৎ

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কম্বোডিয়ার সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কম্বোডিয়ার সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন (ডানে); কম্বোডিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রী প্র্যাক সোখোন। ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আশিয়ানের সভাপতি হিসেবে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনে কাজ করার বড় সুযোগ পেয়েছে কম্বোডিয়া। মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের দারুণ সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে কম্বোডিয়া মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে পৌঁছুতে কাজ করবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আশিয়ানের বর্তমান সভাপতি ও মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ কম্বোডিয়ার সরাসরি সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে দেশটি ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বড় হৃদয়ের পরিচয় দিয়েছে উল্লেখ করে এই সংকটে বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন মঙ্গলবার কম্বোডিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রী প্র্যাক সোখোনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। মোমেন কম্বোডিয়ার আসিয়ানের সভাপতিত্ব গ্রহণ এবং প্র্যাক সোখোনের মিয়ানমারে আসিয়ান চেয়ারের বিশেষ দূত হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় কম্বোডিয়া সরকারকে অভিনন্দন জানান।

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উল্লেখ করে মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশ নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে কম্বোডিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করে।

‘আশিয়ানের সভাপতি হিসেবে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনে কাজ করার বড় সুযোগ পেয়েছে কম্বোডিয়া। মিয়ানমারের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে কম্বোডিয়া মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয়প্রাপ্ত রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে পৌঁছুতে কাজ করবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমারসহ বৃহত্তর অঞ্চলের জন্য রোহিঙ্গারা সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। এটা এসব বাস্তুচ্যুত জনগণের কট্টরপন্থা, চরমপন্থাকে উস্কে দিচ্ছে। দ্রুতই তারা সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

প্র্যাক সোখোন মিয়ানমারের ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত নাগরিককে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ ‘বড় হৃদয় দেখিয়েছে উল্লেখ এর প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বাংলাদেশ যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে এজন্য আমার সম্পূর্ণ উপলব্ধি এবং সহানুভূতি রয়েছে। সংকট সমাধানে একটি টেকসই সমাধান আনতে আমি সর্বোত্তম প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

দুই দেশের দারুণ সম্পর্কের উদাহরণ টানতে গিয়ে কম্বোডিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এর বড় উদাহরণ হলো দুই দেশের রাজধানীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দুই দেশের জাতির জনকের নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত। এটা দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।’

আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ স্ট্যাটাসের জন্য বাংলাদেশের বিড ত্বরান্বিত করতে কম্বোডিয়ার সহায়তার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধে কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সমর্থন প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে আসিয়ান সচিবালয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের আশ্বাস দেন।

মোমেন তার কম্বোডিয়ার প্রতিপক্ষকে বাংলাদেশ সফর এবং আশ্রয়প্রাপ্ত রোহিঙ্গা জনগণকে সরাসরি দেখার আমন্ত্রণ জানান। প্র্যাক তা গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি
২২ প্রধান বিচারপতি: চারজন হন রাষ্ট্রপতি, তত্ত্বাবধায়কের প্রধান
নতুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
অবসরে সাক্ষাৎকার দেব না: প্রধান বিচারপতি
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বিদায়ী সাক্ষাৎ

শেয়ার করুন

জন্মনিবন্ধনের ভুলে টিকা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

জন্মনিবন্ধনের ভুলে টিকা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে করোনার টিকা নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

‘সরকার থেকে বলা হয়েছিল জন্মনিবন্ধন সনদ ছাড়াও স্কুলের পরিচয়পত্র দিয়ে টিকা দেয়া হবে। কিন্তু জন্মনিবন্ধন সনদে ভুল থাকায় আমার ছেলেকে আজ টিকা দেয়া হয়নি।’

করোনার টিকা ছাড়া স্কুল ক্লাস নয়- সরকারের এমন ঘোষণার পর স্কুলে গিয়েও সবাই টিকা নিতে পারছে না। জন্মনিবন্ধন সনদে ভুলের কারণে এমনটি ঘটছে। স্কুল থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ ঠিক করে আনতে বলা হচ্ছে। কিন্তু এটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার।

এই জটিলতা যেন না হয়, সে জন্য সরকারের আরও একটি সিদ্ধান্ত ছিল যে যাদের জন্মনিবন্ধন সনদ নেই বা সেখানে কোনো ভুল আছে, তারা বিকল্প ব্যবস্থায় টিকা পাবে।

কিন্তু রাজধানীর কয়েকটি টিকাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলগুলো সরকারের নির্দেশনা মানছে না। জন্মনিবন্ধন সনদে ভুল এবং ডিজিট কম থাকায় টিকা নিতে পারছে না সব শিশু।

মঙ্গলবার রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ কেন্দ্রে মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আশিক আব্দুল্লাহকে নিয়ে টিকা দিতে যান তার বাবা আবু আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, জন্মনিবন্ধন সনদ ১৬ ডিজিটের হওয়ায় টিকা দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে বলা হয়েছিল জন্মনিবন্ধন সনদ ছাড়াও স্কুলের পরিচয়পত্র দিয়ে টিকা দেয়া হবে। কিন্তু জন্মনিবন্ধন সনদে ভুল থাকায় আমার ছেলেকে আজ টিকা দেয়া হয়নি।’

একই অভিযোগ করলেন আলী আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাবাসুম বিনতে হদ্রির মা আফরোজা বেগম।

তিনি বলেন, ‘টিকা দিতে আসলে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বললেন, আমার মেয়ের জন্মনিবন্ধনের সনদে ভুল আছে। তাই টিকা দেয়া যাবে না।’

ভিকারুননিসা টিকাকেন্দ্রেও একই সমস্যায় পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পাশেই উইলস লিটল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত ইসলামও টিকা পায়নি। তার বাবা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছে জন্মসনদ ঠিক করে আনতে। তাই আজ টিকা দেয়া হলো না।’

শিক্ষা কর্মকর্তা বললেন দুঃখজনক

তবে শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়লেও এর কিছুই জানেন না ঢাকা জেলার শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ।

তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, জন্মনিবন্ধন সনদ ছাড়াও পরিচয়পত্র দিয়ে টিকা দেয়া যাবে। এ জন্য অবশ্যই প্রতিষ্ঠানপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র লাগবে। কোনো শিক্ষার্থীর যদি জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকে অথবা ভুল থাকে তাহলে সে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানপ্রধানের প্রত্যয়ন নিয়ে টিকা গ্রহণ করতে পারবে।’

কিন্তু টিকা তো তারা দিতে পারছে না- এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘কেউ যদি এ নির্দেশনা না মেনে থাকেন তাহলে তা অবশ্যই দুঃখজনক।’

মন্ত্রীর যে ঘোষণা ছিল

গত ১০ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, ‘শিক্ষার্থীদের টিকা নিতে কোনো নিবন্ধন লাগবে না। পরিচয়পত্র দিয়েই টিকা দিতে পারবে। পরিচয় বলতে স্কুলের পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ড।’

মন্ত্রী সেদিন বলেন, ‘কেবিনেটের একটি সিদ্ধান্ত আছে, ১৩ তারিখের পর টিকা ছাড়া কেউ স্কুলে যেতে পারবে না। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সবার টিকা দেয়া হয়ে যাবে। এর মধ্যে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছে তারা ক্লাসে আসবে। না নেয়ারা অনলাইনে বা বিকল্প মাধ্যমে ক্লাস করবে।’

টিকাকেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না

স্কুলশিক্ষার্থীদের রাজধানী ঢাকায় মোট নয়টি কেন্দ্রে টিকা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে খিলগাঁও মডেল কলেজ, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষার্থীদের লম্বা লাইন দেখা যায়।

লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের অনেককেই নিদিষ্ট দূরত্ব বজায় না রেখেই খোশগল্পে মাততে দেখা যায়। এ সময় অনেকের মুখেই ছিল না মাস্ক। বলা যায়, টিকা কেন্দ্রের বাইরে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই ছিল না।

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যায় রাজধানীর ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। এ কেন্দ্রে তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করাতে দেখা যায়। নিদিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রেও স্কুল কর্তৃপক্ষের চেষ্টা দেখা গেছে।

কতজন টিকা পেয়েছে

দেশের ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ৬৪ শতাংশ করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

সোমবার সংসদে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী যে শিক্ষার্থীরা আছে, এই বিশাল শিক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ১ কোটি ১৬ লাখ ২৩ হাজার ৩২২। এদের মধ্যে আমরা গতকাল (রোববার) পর্যন্ত ৭৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৩৭ জনকে অর্থাৎ ৬৪ দশমিক ০৪ শতাংশ শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজ টিকা দিতে সক্ষম হয়েছি।

গত ১ নভেম্বর পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে ফাইজারের টিকা।

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
শপথ নিলেন প্রধান বিচারপতি
২২ প্রধান বিচারপতি: চারজন হন রাষ্ট্রপতি, তত্ত্বাবধায়কের প্রধান
নতুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
অবসরে সাক্ষাৎকার দেব না: প্রধান বিচারপতি
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বিদায়ী সাক্ষাৎ

শেয়ার করুন