৩ কোটি ৩২ লাখ মানুষকে টিকাদানে ক্যাম্পেইন শুরু

player
৩ কোটি ৩২ লাখ মানুষকে টিকাদানে ক্যাম্পেইন শুরু

এর আওতায় ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী সবাইকে টিকা দেয়ার টিকা দেয়া হবে। নিবন্ধন করে যারা টিকা পায়নি তাদের যেমন এই টিকা দেয়া হবে, যারা নিবন্ধন করেনি, তারাও শুধু জাতীয় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট নিয়ে আসলে টিকা নিতে পারবেন। একইসঙ্গে টিকা কেন্দ্রে নিবন্ধনেরও সুযোগ থাকছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচি নতুন বছরের প্রথম দিনই গতি পেল। সকাল ৯টা থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে বিশেষ ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন। এর আওতায় ৩ কোটি ৩২ লাখ জনকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা সরকারের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান সম্প্রসারণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর শামসুল হক শনিবার সকালে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নতুন বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে গতি আনতে চমক হিসেবে এই কর্মসূচি নেয়ার হয়েছে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী সবাইকে টিকা দেয়ার টিকা দেয়া হবে। নিবন্ধন করে যারা টিকা পায়নি তাদের যেমন এই টিকা দেয়া হবে, যারা নিবন্ধন করেনি, তারাও শুধু জাতীয় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট নিয়ে আসলে টিকা নিতে পারবেন। একইসঙ্গে টিকা কেন্দ্রে নিবন্ধনেরও সুযোগ থাকছে।

টিকাদানের এই বিশেষ ক্যাম্পেইন চলবে ১ মার্চ পর্যন্ত। এর আওতায় গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে টিকা দেয়া হবে। পাশাপাশি স্বাভাবিক টিকাদান কর্মসূচি ও বুস্টার ডোজ দেয়া চলমান থাকবে।

শামসুল হক বলেন, ‘দেশের ৪ হাজার ৬১১টি ইউনিয়নে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৬৪৬ কেন্দ্রে এই টিকা দেয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০০ ডোজ টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ক্যাম্পেইনে শুধু প্রথম ডোজ দেয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদেরকে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত দেশে টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে মোট ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬২৩ জনকে এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৫ কোটি ১৮ লাখ ১ হাজার ৫২ জন। এগুলো দেয়া হয়েছে অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রাজেনেকা, চীনের তৈরি সিনোফার্ম, ফাইজার ও মডার্নার টিকা।

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
স্কুলশিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা দেয়ার নির্দেশ
স্কুলশিক্ষার্থীদের করোনার টিকা নিয়ে পরিকল্পনা জানাল মাউশি
নষ্ট হয়েছে পৌনে এক কোটি করোনা টিকা
টিকা কিনতে আড়াই হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে হাসপাতালে চাপ কম

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে হাসপাতালে চাপ কম

ব্যাপক সংখ্যায় আক্রান্ত হলেও হাসপাতালগুলোয় করোনা রোগীর ভিড় কম। ফাইল ছবি

ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি ৩২টি করোনা হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা ৪ হাজার ৭৩৬টি। শয্যা খালি রয়েছে ৩ হাজার ৫৬১টি। ১ জানুয়ারি রাজধানীর করোনা হাসপাতালগুলোয় মোট রোগী ভর্তি ছিল ৩৫৫ জন। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১৭৫ জন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছে দেশ। গত তিন সপ্তাহে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৮ হাজার জনের। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আক্রান্ত অনুপাতে হাসপাতালে রোগীর ভিড় নেই। বাড়েনি অক্সিজেনের চাহিদাও।

করোনা সেবায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাড়তি উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে হাসপাতালগুলো। বাড়ানো হচ্ছে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী আর অক্সিজেন সরবরাহ।

ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি ৩২টি করোনা হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা ৪ হাজার ৭৩৬টি। শয্যা খালি রয়েছে ৩ হাজার ৫৬১টি। ১ জানুয়ারি রাজধানীর করোনা হাসপাতালগুলোযয মোট রোগী ভর্তি ছিল ৩৫৫ জন। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭৫ জন।

রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় মোট আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৭৭৮টি। এর মধ্যে খালি রয়েছে ৬৩৩টি। তিন সপ্তাহ আগে ১৩৮টি আইসিইউ বেডে রোগী ছিল। কিছুটা বেড়ে বর্তমানে আইসিইউতে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫ জন।

ঢাকায় করোনা আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষায় ৭০ শতাংশের মধ্যেই ওমিক্রন ধরন পাওয়া গেছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এ তথ্য জানায়। ওমিক্রন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তদের ৭০ শতাংশই ঢাকা বিভাগের। এ কারণে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে ঢাকার হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ কিছুটা বেশি।

সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি ৪৩৬টি করোনা হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে মোট শয্যা রয়েছে ১৩ হাজার ৫১৬টি। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৮১টি শয্যাই খালি পড়ে আছে। এসব হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১ হাজার ২৩৭টি, যার মধ্যে ১ হাজার ১২টি খালি। তিন সপ্তাহ আগে আইসিইউর শয্যা খালি ছিল ১ হাজার ২১৩টি।

ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরিসংখ্যান অনেক কম। একই সঙ্গে আইসিইউ এবং অক্সিজেনও তুলনামূলক অনেক কম লাগছে।

দেশে হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেনের দৈনিক চাহিদা ১২০ থেকে ১৫০ টন। এখনও চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ফের হাসপাতালগুলোকে পুনরায় প্রস্তুতির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স ও চিকিৎসদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে করোনা নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে হাসপাতালে রোগীর জায়গা দেয়া সম্ভব হবে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘ওমিক্রন রোগীদের চিকিৎসা অধিকাংশই হচ্ছে বাসাবাড়িতে। হাসাপাতালে রোগী আসছে কম। তবে কিছুদিনের মধ্যেই দেশে এই চিত্র পাল্টে যাবে। কারণ দেশে করোনা চিকিৎসা সরকার বিনা মূল্যে দিচ্ছে।

‘দেশে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সংখ্যাটা মূলত ধরা যায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার। এর ৩ থেকে ৫ শতাংশ লোক হাসপাতালে ভর্তি হয়।’

ডা. সায়েদুর রহমান, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবার আগে ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকা দিতে হবে। তা ছাড়া আগের করোনা ঢেউয়ে আক্রান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে হবে। তাহলেই হাসপাতালে রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যাটা কম থাকবে।

‘তবে দেশে এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ। এখনও ৬০ শতাংশ মানুষ টিকার বাইরে। সংক্রমণ এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালগুলো রোগীতে ভর্তি হয়ে যাবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শঙ্কাটা অবশ্যই ঠিক।

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
স্কুলশিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা দেয়ার নির্দেশ
স্কুলশিক্ষার্থীদের করোনার টিকা নিয়ে পরিকল্পনা জানাল মাউশি
নষ্ট হয়েছে পৌনে এক কোটি করোনা টিকা
টিকা কিনতে আড়াই হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ

শেয়ার করুন

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

গত ২ সপ্তাহে করোনা রোগী ও সংক্রমণ হার বৃদ্ধি পেয়েছে টানা।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে গত ৪ অক্টোবর। গত ৯ জানুয়ারি তা ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। দুই সপ্তাহের মাথায় শনাক্তের হার এখন ৩০ ছুঁইছুঁই।

টানা ১৫ দিন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেল। শনাক্তের হার এখন অবশ্য ৩০ শতাংশ ছুঁইছুঁই।

গত ৭ জানুয়ারি পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ ছাড়ানোর পর প্রায় প্রতিদিনই এর চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো তথ্যে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনার নতুন রোগী পাওয়া গেছে ১১ হাজার ৪৩৪ জন। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার পাওয়া গেছে ২৮ দশমিক ৪৯।

এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে দেশে আক্রান্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৬ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৯৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে মারা গেছে ১২ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৯২ জনের।

আগের দিন শনাক্ত হয়েছিল ১০ হাজার ৮৮৮ জন। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার করোনা আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজন। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

করোনার ঢেউ মানে কী

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি থেকে এর নিচে নেমে এলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ধরা হয়। উল্টোপথে যাত্রা অর্থাৎ সংক্রমণের হার ৫-এর নিচে থেকে ৫ ছাড়ালে পরবর্তী ঢেউ আঘাত হেনেছে ধরা হয়।

তবে এক দিনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না। পরপর দুই সপ্তাহ যদি সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি বা কম থাকে, তাহলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বা পরবর্তী ঢেউ আঘাত হেনেছে বলে ধরা হয়।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে গত ৪ অক্টোবর।

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার করোনা আক্রান্ত রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামাচ্ছেন স্বজনরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

এরপর থেকে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ক্রমেই কমছিল। এক পর্যায়ে ২ শতাংশের নিচে নেমে ১ শতাংশের কাছাকাছি চলে আসে। তবে শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণের হার ক্রমে বাড়তে থাকে।

গত ৭ জানুয়ারি শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এক দিন ছাড়া প্রতিদিনই এই হার বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা।

এই ১৫ দিনে রোগী ১ হাজার ১৪৬ জন থেকে বেড়ে ছয় গুণ হয়ে গেছে এবং প্রায় প্রতিদিনই তা বাড়ছে।

এই কয়দিনে কেবল দুটি শনিবার আগের দিনের তুলনায় কম রোগী পাওয়া গেছে। এর কারণ অবশ্য ভিন্ন। প্রতি শুক্রবার সাধারণত করোনার পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নমুনা কম জমা পড়ে। এ কারণে পর দিন কম রোগী পাওয়া যায়।

তৃতীয় ঢেউয়ে শনাক্ত বাড়লেও মৃত্যু কম

তবে প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় এবার মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম।

করোনার প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার দিন পর্যন্ত সারা দেশে শনাক্ত হয়েছিল পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৫ জন। সেদিন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছিল আট হাজার ১৬১ জন।

গত বছরের ২০ মার্চ যেদিন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিশ্চিত হয়, সেদিন পর্যন্ত দেশে ভাইরাসটিতে শনাক্ত হয়েছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৭০৬ জন। মৃত্যু হয় ৮ হাজার ৬৬৮ জনের।

করোনার প্রথম ঢেউয়ে ছড়ায় ইতালীয়, ইউকে ও সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট।

গত ৪ অক্টোবর যেদিন দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসা নিশ্চিত হয়, সেদিন পর্যন্ত দেশে ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয় সেদিন পর্যন্ত দেশে শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৮ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয় ২৭ হাজার ৫৯১ জনের।

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার করোনা আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে যাচ্ছেন এক স্বজন। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

অর্থাৎ দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বেশি। এই ঢেউয়ে শনাক্ত হয় ৯ লাখ ৯০ হাজার ৫২ জন। আর মৃত্যু হয় ১৮ হাজার ৯২৮ জন।

প্রাণঘাতি দ্বিতীয় ঢেউয়ে ছড়ায় করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নামে ভারতীয় ধরন। তৃতীয় ঢেউয়ে ছড়াচ্ছে নতুন ধরন ওমিক্রন, যদিও ডেল্টাও ছড়াচ্ছে সমানতালে।

তবে গত ৯ জানুয়ারি থেকে সংক্রমণের হার ও রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলেও মৃত্যুর সংখ্যা ৪ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জন পর্যন্ত উঠানামা করে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল অবশ্য মনে করেন, এই পরিসংখ্যানের কারণে অসতর্ক থাকার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই বলেছিল ওমিক্রনে মৃত্যুর হার কম। সেটা জেনে লোকজন স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অনীহা দেখাচ্ছে। এমনকি সরকার যে বিধিনিষেধ দেখাচ্ছে, সেটিও সঠিকভাবে মানছে না। তবে এখনও ডেল্টার প্রাধান্য রয়েছে।

‘ডেল্টায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা খুবই অসুস্থ হচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। তাদের সমস্যা আগের মতোই হচ্ছে। এ ছাড়া যাদের মধ্যে ডায়াবেটিকস, উচ্চ রক্তচাপ ছাড়া অন্যান্য ক্রনিক ডিজিজ আছে, এই ধরনের রোগীরা করোনায় আক্রান্ত হলে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোর হওয়া উচিত।

আসছে নতুন নতুন বিধিনিষেধ

তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় গত ১৩ জানুয়ারি থেকে নানা বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে, তবে এগুলো অনেকটাই কাগুজে বাঘে পরিণত হয়েছে।

তবে বিপর্যয়ের আশঙ্কায় সরকারের পক্ষ থেকে ‘অ্যাকশন নেয়ার’ ঘোষণা এসেছে। যেদিন তৃতীয় ঢেউ নিশ্চিত হয়েছে, সেদিন স্কুল-কলেজ আবার বন্ধ করে দেয়ার আদেশ এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সশরীরে ক্লাস বাদ দিয়ে আবার অনলাইনে ক্লাস নেয়ার ঘোষণা এসেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

পাশাপাশি টিকা কার্ডের শর্তে সামাজিক অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১০০ জনকে ঢুকতে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বই মেলা ও বাণিজ্য মেলায় কোনো সীমা বেঁধে দেয়া না হলেও সেখানে টিকা সনদ ছাড়া যাওয়া যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত সাধারণ ছুটি, লকডাউন বা শাটডাউনের মতো বিধিনিষেধ দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে সরকার।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় ঢেউয়ে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল থেকে প্রথমে লকডাউন ও ১ জুলাই থেকে শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ দেয়া হয়। গত ১১ আগস্ট শাটডাউন প্রত্যাহার করা হয়।

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
স্কুলশিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা দেয়ার নির্দেশ
স্কুলশিক্ষার্থীদের করোনার টিকা নিয়ে পরিকল্পনা জানাল মাউশি
নষ্ট হয়েছে পৌনে এক কোটি করোনা টিকা
টিকা কিনতে আড়াই হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ

শেয়ার করুন

টিকা কার্ডের শর্তে রাজনৈতিক-সামাজিক অনুষ্ঠানে ১০০ জন

টিকা কার্ডের শর্তে রাজনৈতিক-সামাজিক অনুষ্ঠানে ১০০ জন

করোনায় যে কোনো ধরনের সমাবেশে ১০০ জনের বেশি যোগ দিতে পারবেন না। ফাইল ছবি

নির্দেশনা বলা হয়, যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই করোনা প্রতিরোধী টিকা সার্টিফিকেট বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরটি-পিসিআর টেস্টের ফল সঙ্গে নিতে হবে।

এখন থেকে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সমাবেশ বা অনুষ্ঠানসমূহে ১০০ জনের বেশি জনসমাগম করা যাবে না বলে নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঁচ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় সামাজিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। যা শুক্রবার থেকেই বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের ক্লাস পরীক্ষার বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনা বলা হয়, যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই করোনা প্রতিরোধী টিকা সার্টিফিকেট বা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরটি-পিসিআর টেস্টের ফল সঙ্গে নিতে হবে।

পাশাপাশি আরেক নির্দেশনায় বলা হয়, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প-কলকারখানাগুলোতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবশ্যিকভাবে করোনা টিকার সার্টিফিকেট নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে দায়িত্ব নিতে বলেছে।

বাজার, মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশনসহ সব ধরনের জনসমাবেশে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি মনিটর করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনা জারির পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সংবাদ সম্মেলনে এসে বলেন, ‘প্রতিদিন আক্রান্তের হার বেড়ে যাচ্ছে। ১১ দফা দেয়ার পরেও সাধারণ মানুষ তা মানছে না। এভাবে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকলে হাসপাতালের বেড খালি থাকবে না। স্কুলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আগামী দুই সপ্তাহ স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি বন্ধ থাকবে।’

দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের কারণে সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। গত বছরের আগস্টের পর বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে। এদিন শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৮৮৮ জন।

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
স্কুলশিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা দেয়ার নির্দেশ
স্কুলশিক্ষার্থীদের করোনার টিকা নিয়ে পরিকল্পনা জানাল মাউশি
নষ্ট হয়েছে পৌনে এক কোটি করোনা টিকা
টিকা কিনতে আড়াই হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ

শেয়ার করুন

অর্ধেক জনবলে চলবে অফিস: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অর্ধেক জনবলে চলবে অফিস: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অর্ধেক লোকবল নিয়ে অফিস পরিচালনা করার বিষয়ে প্রতিটি অফিসে আমরা বার্তা দিয়েছি। প্রত্যেকটি অফিস-আদালত অর্ধেক জনবল নিয়ে পরিচালনা করতে হবে।'

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অর্ধেক লোকবল নিয়ে অফিস পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অর্ধেক লোকবল নিয়ে অফিস পরিচালনা করার বিষয়ে প্রতিটি অফিসে আমরা বার্তা দিয়েছি। প্রত্যেকটি অফিস-আদালত অর্ধেক জনবল নিয়ে পরিচালনা করতে হবে।'

শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধসহ পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এরপর সংবাদ সম্মেলনে এসে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অফিস-আদালত অর্ধেক লোক দিয়ে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই নোটিশও শিগগির দেয়া হবে সংশ্লিষ্টদের। নোটিশ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

পরিস্থিতি বুঝে অর্ধেক জনবল দিয়ে অফিস পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে গণপরিবহনে যাতে ভোগান্তি না হয়, সে জন্য অর্ধেক লোক দিয়ে অফিস করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

কয়েকটি জেলায় সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশের ওপরে, সেসব জেলায় আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘গোটা দেশের পরিস্থিতি একই রকম। আলাদাভাবে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ কার্যক্রম হবে না। যে জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেশি বাড়ছে, সেই সব জেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আলাদাভাবে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।’

কেন করোনা বাড়ছে এমন প্রশ্ন রেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানছি না। যে কারণে করোনা বাড়ছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে ১১ দফা স্বাস্থ্যবিধি দেয়া হয়েছে। সে বিধিনিষেধ যদি যথাযথ বাস্তবায়ন হয়, তাহলে কারোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সংক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে ৩৩ শতাংশ শয্যা ইতিমধ্যে পূর্ণ হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। তাই, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী দুই সপ্তাহ স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিয়েশাদি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি অংশ নিতে পারবে না এবং সবার টিকা সনদ থাকতে হবে।’

১১ দফা বিধিনিষেধ সবাইকে মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো কার্যকরের চেষ্টা চলছে। সংক্রমণ যাতে কমে সে জন্য এই সিদ্ধান্ত। পরিবার, দেশে ও নিজের সুরক্ষার জন্য আমাদের নিয়মগুলো মানতে হবে। সরকার বিধিনিষেধ দেন, যাতে আমরা মেনে চলি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে খেলাধুলা আছে সেখানে টিকা সনদের পাশাপাশি টেস্টের সনদও লাগবে। এগুলো বইমেলায়ও দেখাতে হবে। সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে বইমেলা পেছানো হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতোই আমরাও চলমান পরিস্থিতির বাইরে নই।’

নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রশাসনের জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাইব, তারা যেন আরও নজরদারি বাড়ান। জনগণের দায়িত্ব আরও বেশি। নিজেদের সুরক্ষায় এটি নিজেদেরই পালন করতে হবে। সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়।’

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
স্কুলশিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা দেয়ার নির্দেশ
স্কুলশিক্ষার্থীদের করোনার টিকা নিয়ে পরিকল্পনা জানাল মাউশি
নষ্ট হয়েছে পৌনে এক কোটি করোনা টিকা
টিকা কিনতে আড়াই হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ

শেয়ার করুন

ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য কেন

ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য কেন

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে জোর দিতে বলেছে সরকার। ফাইল ছবি

দেশে ওমিক্রন ছড়াচ্ছে, কিন্তু এটি কতটা বিস্তার লাভ করেছে? এ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে তথ্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে মিল নেই বিএসএমএমইউ-এর গবেষণার। এদিকে আইইডিসিআরও এ বিষয়ে কোনো পরিষ্কার চিত্র দিচ্ছে না। 

দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ (কমিউনিটি ট্রান্সমিশন) ছড়িয়ে পড়েছে। বিদেশ ভ্রমণ কিংবা যাতায়াত করেননি এমন ব্যক্তির দেহে এ ধরন শনাক্ত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওমিক্রন শনাক্ত ৭১ রোগীর নমুনা জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জায় (জিআইএসএআইডি) জমা পড়েছে। এদের অর্ধেকের বেশির দেশের বাইরে যাওয়ার ইতিহাস নেই।

পাশাপাশি সংক্রমণ ঢাকার বাইরেও ছড়িয়েছে। সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া আট রোগী চট্টগ্রামের। এর আগে রোববার যশোরে তিনজনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

তবে ওমিক্রন বিস্তার নিয়ে সরকারের কোনো সংস্থা এখনও পরিষ্কার কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। গতবার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে একাধিক গবেষণা প্রকাশ করে সরকারের সংস্থা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। এবার এই সংস্থাটিও অনেকটা নীরব।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ওমিক্রন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে।

ওমিক্রন ছড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত সোমবার বলেন, ‘জিনোম সিকোয়েন্সে দেখা গেছে, রাজধানীতে বর্তমানে করোনা আক্রান্তের ৬৯ শতাংশের শরীরে ওমিক্রনের উপস্থিতি রয়েছে। এটা শুধু ঢাকায় করা হয়েছে। তবে ঢাকার বাইরেও আমরা মনে করি একই হাল হবে। এ কারণেই করোনা সংক্রমণ বেড়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওমিক্রন বিস্তার নিয়ে যে তথ্য দিয়েছেন, সেটির উৎস কী, জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আমল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে তথ্য দিয়েছেন, সেটা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের। আমাদের হাতে এই তথ্য এসেছে। তবে এখনই বিস্তারিত বলতে পারব না।’

‍তিনি বলেন, এখনও ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাধান্য রয়েছে। এ ছাড়া ওমিক্রন ২০ শতাংশ ছড়িয়েছে। গ্রামে এই ধরনের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

গবেষণাটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে আইইডিসিআর-এর পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওমিক্রনে দৈনিক কতজন আক্রান্ত, কতজন মারা গেলেন, সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারব না। পুরুষ ও নারী কতজন সে তথ্য দেয়াও সম্ভব নয়। একটা কথা মনে রাখতে হবে, এই মুহূর্তে ওমিক্রন নিয়ে না ভেবে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে।

‘কারণ সংক্রমণ আজ ১০ শতাংশ, কাল বেড়ে ১৫ শতাংশ আবার পরশু তা কমে ৫ শতাংশে আসতে পারে। এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। ডেল্টার ক্ষেত্রেও তাই। এভাবে আলফা, বিটা ধরন এসেছিল, সেটা চলে গেছে, আবার আসতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ধরনটি দ্রুত পরিবর্তনশীল। সুতরাং এই বিষয়গুলোকে এত বেশি গুরুত্ব না দিয়ে ওমিক্রনের উপস্থিতি যে বাংলাদেশে আছে, সে ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। ধরনটি তাড়াতাড়ি ছড়ায়। যত বেশি ছড়াবে, তত বেশি মানুষ আক্রান্ত হবে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রোগী বাড়তে পারে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুও বাড়তে পারে।

‘আরেকটি বিষয় হলো, ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রনে মৃত্যুহার কম। কিন্তু যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যাদের কো-মরবিডিটি আছে, তাদের ক্ষেত্রে জটিল হতে পারে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে যাতায়াতের ইতিহাস না থাকা এবং ঢাকার বাইরে রোগী শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়, ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়েছে। ওমিক্রনের প্রভাবে দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। তাই এ বিষয়ে এখনই সর্তক হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ওমিক্রনের বিস্তার নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করে, সেখানে দেখা গেছে দেশে শনাক্ত হওয়া ২০ শতাংশ রোগীই বর্তমানে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত।

প্রকাশিত গবষণার প্রধান গবেষক ডা. লায়লা আনজুমান বানু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক মাসে ৯৬টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছে। এখানে ২০ শতাংশ করোনা রোগীর দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই গবেষণাটি ৮ জানুয়ারি শেষ হয়। যেহেতু সংক্রমণ বাড়ছে, ওমিক্রনের বিস্তার বাড়তে পারে, এটা স্বাভাবিক। তবে এ বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট তথ্য থাকা ভালো। ৮ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত সংগৃহীত নমুনার ২০ শতাংশই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ও ৮০ শতাংশ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। পরবর্তী মাসে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট গুণিতক হারে বৃদ্ধির আশঙ্কা করা যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, জিনোম সিকোয়েন্স অনেক ব্যয়বহুল। একটি জিনোম সিকোয়েন্স করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগে। যে কারণে সব রোগীর জিনোম সিকোয়েন্স করা সম্ভব হয় না। অনেক প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে এই জিনোম সিকোয়েন্স করতে হয়। ভিন্ন ভিন্ন গবেষণায় ভিন্ন ভিন্ন ফল আসতে পারে। এ ছাড়া সময় ও দিনের ব্যবধানে চিত্রের পরিবর্তন হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়তো আইইডিসিআরের একটা সোর্স থেকে এ কথা বলেছেন। এগুলো অনুমাননির্ভর জিনিস। ওমিক্রনে বেশির ভাগ আক্রান্ত ব্যক্তির মৃদু উপসর্গ বা আপার রেসপেরিটরি ইনফেকশন দেখা দেয়। ফলে বেশিসংখ্যক নমুনা নিয়ে কাজ না করলে সঠিকভাবে বলা কঠিন কোন ধরণটি বেশি সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। তা ছাড়া জিনোম সিকোয়েন্সিং সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এটা নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তবে রোগী শনাক্তে দৈনিক কতটি নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, কতজনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়, সে ব্যাপারে আইইডিসিআর ভালো বলতে পারবে। তবে আইইডিসিআরের বরাত দিয়ে যেহেতু স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, এটাকে আপাতত ধরে নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
স্কুলশিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা দেয়ার নির্দেশ
স্কুলশিক্ষার্থীদের করোনার টিকা নিয়ে পরিকল্পনা জানাল মাউশি
নষ্ট হয়েছে পৌনে এক কোটি করোনা টিকা
টিকা কিনতে আড়াই হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ‘ওমিক্রন’

চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ‘ওমিক্রন’

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে ৭ ব্যক্তির দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব মিলেছে। তবে শতভাগ নিশ্চিতের জন্য নমুনাগুলো জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। রোববার ফল পাওয়া যাবে। আমরা ৯০ ভাগ নিশ্চিত তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত।’

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ৭ জনের শরীরে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে নমুনা পরীক্ষায় এর অস্তিত্ব মেলে। ঢাকায় জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ওমিক্রন শনাক্তের কিটে ৭ ব্যক্তির দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব মিলেছে। তবে শতভাগ নিশ্চিতের জন্য নমুনাগুলো জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। রোববার ফল পাওয়া যাবে। আমরা ৯০ ভাগ নিশ্চিত তারা ওমিক্রনে আক্রান্ত।’

সিভাসুর মাইক্রো বায়োলজি ও ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কোভিড-১৯ ল্যাবের টিম লিড ড. ইফতেখার আহমেদ রানা বলেন, ‘বিশেষ কিটে ৩৭টি নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রামে ৭ জনের দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ৭ ব্যক্তিই মৃদু উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিতে এসেছিলেন।

‘তাদের হালকা সর্দি-কাশি থাকলেও শরীরের তাপমাত্রা ৯৯-১০০ ডিগ্রির মতো ছিল। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, তাদের দেহে ওমিক্রনের অস্তিত্ব আছে কি না।’

এদিকে সিভাসুতে ওমিক্রন শনাক্তে গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা হয় বিশেষ ধরনের ১০০টি কিট। যার মাধ্যমে ৩-৫ ঘণ্টার মধ্যে ওমিক্রনের উপস্থিতি জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
স্কুলশিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা দেয়ার নির্দেশ
স্কুলশিক্ষার্থীদের করোনার টিকা নিয়ে পরিকল্পনা জানাল মাউশি
নষ্ট হয়েছে পৌনে এক কোটি করোনা টিকা
টিকা কিনতে আড়াই হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের কাছে টিকার বিনিময়ে ‘টাকা আদায়’

শিক্ষার্থীদের কাছে টিকার বিনিময়ে ‘টাকা আদায়’

প্রতীকী ছবি

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বখতিয়ার আল মামুন বলেন, ‘সরকার টিকা সরবরাহের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করে। সেখানে টিকা পরিবহনে টাকা তোলার প্রশ্নই ওঠে না। অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করি সঠিক সত্যটি বেড়িয়ে আসবে।’

করোনার টিকার জন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ না দিলেও স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হাশেম।

যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি হলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।

ইউএনও জানান, শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দিতে সার্বিক খরচ বহন করছে সরকার। সেখানে শিক্ষার্থী বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নেয়ার কোনো নিয়ম নেই।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিছু প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা আছে কিনা জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে জেলা সদর থেকে টিকা আনার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, টিকা পরিবহনের জন্য স্কুলপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এই টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তোলা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, বরিশাল থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ২২ শ টাকা করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের টিকা আনার জন্য ১৩ দিনে ২২ শ টাকা হিসেবে ২৮ হাজার ৬ শ টাকা এবং আরও দুই দিন টিকা আনার ভাড়া বাবদ চালককে দেয়া হয়েছে ৩ হাজার টাকা। টিকা সরবরাহের জন্য সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছে ৩৪ হাজার ৬ শ টাকা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বখতিয়ার আল মামুন বলেন, ‘সরকার টিকা সরবরাহের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করে। সেখানে টিকা পরিবহনে টাকা তোলার প্রশ্নই ওঠে না। শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুনেছি। অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করি সঠিক সত্যটি বেড়িয়ে আসবে।’

আঞ্চলিক উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। টিকা দেয়ার জন্য টাকা তোলার নিয়ম নেই। যদি কেউ এমন কাজ করে তার বিরুদ্ধে ব‌্যবস্থা নেয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘টিকা আগৈলঝাড়ায় এনে দেয়ার জন্য পাঁচজন শিক্ষক নেতা মিলে বিভিন্ন স্কুল থেকে টাকা তুলেছেন। সেই টাকা জমা রেখেছিলেন শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক মন্টু বাবুর কাছে। আগামী রোববার টাকার হিসেব দেয়ার কথা, কিন্তু তার আগেই বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

‘এমনভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে যেন মনে হচ্ছে টিনের বক্সে একদিকে ৫০ টাকা ফেলেছেন অন্য দিকে টিকা নিয়েছেন। বিষয়টি তেমন নয়। শিক্ষক নেতারা টাকা উত্তোলন করে এখন আমার ওপর দায় দিচ্ছেন। ৭ লাখ টাকা উত্তোলন হাস্যকর বিষয়। সম্ভবত ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন হতে পারে, কিন্তু এর মধ্যে আমাকে কেন জড়ানো হচ্ছে তা বুঝতে পারছি না।

এর আগে নওগাঁপাবনাতেও করোনাভাইরাসের টিকা বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
স্কুলশিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা দেয়ার নির্দেশ
স্কুলশিক্ষার্থীদের করোনার টিকা নিয়ে পরিকল্পনা জানাল মাউশি
নষ্ট হয়েছে পৌনে এক কোটি করোনা টিকা
টিকা কিনতে আড়াই হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ

শেয়ার করুন