লকডাউনে আটকে খাবারের জন্য কাঁদছে চীনের মানুষ

player
লকডাউনে আটকে খাবারের জন্য কাঁদছে চীনের মানুষ

করোনা পরিস্থিতিতে মুখে মাস্ক পরে চীনের রাস্তায় সাধারণ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, লকডাউনে আটকে পড়াদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা খাবার পাচ্ছেন না।

করোনার উৎসভূমি হিসেবে পরিচিত চীনের একটি শহরে লকডাউনে আটকা পড়ে খাদ্যের জন্য কাঁদছে সাধারণ মানুষ।

১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের শহর জিয়ানের এমন পরিস্থিতি কর্তৃপক্ষকে নতুন করে ভাবাচ্ছে বলে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি

স্থানীয় প্রশাসন বলছে, খাবারের যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে। তবে কর্মী সংকটে এগুলো বিতরণ অসম্ভব হয়ে হয়ে পড়েছে।

গত সপ্তাহে শাআনশি প্রদেশের শহর জিয়ানে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। টানা ৯ দিন ধরে চলছে লকডাউন। নিত্যপণ্যের জন্যও বাইরে বের হতে পারছে না মানুষ।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, লকডাউনে আটকে পড়াদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা খাবার পাচ্ছেন না।

চীনের এই শহরটিতে লকডাউন ঘোষণার প্রথম দিকে প্রতি পরিবারের যেকোনো একজন সদস্য খাবার বা নিত্যপণ্যের জন্য দুই দিনে একবার বের হওয়ার সুযোগ পেতেন। তবে সোমবার থেকে করোনা পরীক্ষার ফল নিশ্চিত হয়ে বের হওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে একজন বলেন, ‘অনেক স্থানেই খাবার দেয়া হচ্ছে বলে শুনছি, তবে আমরা পাইনি। অনলাইনে কিছু নিত্যপণের অর্ডার দিয়েছি চার দিন, সেগুলোও পৌঁছায়নি। ঘরে কোনো সবজি নেই।’

চলতি সপ্তাহে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খাবার সংকট নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পুলিশের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায়।

রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, বাড়িতে খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা হয়েছে, কিন্তু এগুলো পৌঁছে দেয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবক পাওয়া যাচ্ছে না। যানবাহনের চালকদের অনেকেই কোয়ারেন্টিনে আছেন।

খাদ্য সংকটের কথা অস্বীকার করে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাসিন্দাদের জন্য যথেষ্ট খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনার অস্তিত্ব শনাক্ত হয়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩০; মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৬৯৯ জনের।

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
করোনা শনাক্তের হার ৮৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ
দেশে আরও ৩ জনের দেহে ওমিক্রন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মোমেনের ফোন

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মোমেনের ফোন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন চলতি বছর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে মালয়েশিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বর্তমান স্তরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার এই টেলিফোন আলাপের সময় তারা পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন চলতি বছর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে মালয়েশিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বর্তমান স্তরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রশংসা করে সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহ সম্পর্কটিকে ‘কৌশলগত পর্যায়ে’ উন্নীত করার ওপর জোর দেন।

টেলিফোন আলাপে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রশংসা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন অর্থনীতির সব সেক্টরে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন।

তিনি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন চ্যানেলের মাধ্যমে আরও কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতে বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তুতির কথা জানান। মন্ত্রী মোমেন মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি-প্রশিক্ষিত জনশক্তি নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানান।

সাইফুদ্দিন আবদুল্লাহ দুই দেশের আইসিটি কর্তৃপক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সব ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সহায়ক ভূমিকার প্রশংসা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য মালয়েশিয়াকে অব্যাহত সমর্থনের অনুরোধ জানান। মোমেন মালয়েশিয়া সরকারকে তাদের অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি করোনার টিকা অনুদানের জন্য ধন্যবাদ জানান।

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করে সাইফুদ্দিন বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে ১১ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশাল মানবিক পদক্ষেপের জন্য সমগ্র বিশ্ব কৃতজ্ঞ।’

মোমেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক ফোরামে বাংলাদেশি প্রার্থিতার পক্ষে মালয়েশিয়ার সমর্থন চান। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক সুবিধার সময়ে বাংলাদেশ সফরে সম্মত হন। এ সময় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
করোনা শনাক্তের হার ৮৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ
দেশে আরও ৩ জনের দেহে ওমিক্রন

শেয়ার করুন

উন্নয়ন নয়, বিএনপির ভালো লাগে মানুষ হত্যা: নৌমন্ত্রী

উন্নয়ন নয়, বিএনপির ভালো লাগে মানুষ হত্যা: নৌমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুরের কাহারোলে সার্বভৌম ভক্ত সম্মিলনী ৬৩তম বার্ষিক অধিবেশনে বক্তব্য দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘উন্নয়ন বিএনপির ভালো লাগে না। বিএনপির ভালো লাগে মানুষকে হত্যা করতে, কীভাবে গ্রেনেড মারতে হবে। বিএনপির এই ঘৃণ্য রাজনীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

দেশের উন্নয়ন বিএনপি চায় না, তাদের ভালো লাগে নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে, রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড ছুড়ে মারতে। এমন মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুরের কাহারোলে পরমহংস পরিব্রাজকাচার্য্য সদগুরু শ্রীশ্রী স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতীদেব প্রবর্তিত সার্বভৌম ভক্ত সম্মিলনী ৬৩তম বার্ষিক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিএনপি নির্বাচন কমিশন আইন মানে না কারণ তারা দেশের উন্নয়ন চায় না বলেও মন্তব্য করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

খালেদ বলেন, ‘এখন যখন নির্বাচন কমিশন আইন পাশ হয়ে গেছে, তখন তারা বলছেন, আমরা মানি না। সবার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সংসদে তো ৩০০ জন এমপি আছেন। এরা তো বাংলার ১৬ কোটি মানুষের সমর্থন নিয়ে সংসদে আছেন।’

তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপি বলছে, আমরা মানি না। মূল কথা এটা নয়। মূল কথা হলো- কেন পদ্মাসেতু হচ্ছে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর কেন হচ্ছে, কেন চট্টগ্রাম বন্দর হচ্ছে। কেন বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে? এসব উন্নয়ন বিএনপির ভালো লাগে না। বিএনপির ভালো লাগে মানুষকে হত্যা করতে, কীভাবে গ্রেনেড মারতে হবে। বিএনপির এই ঘৃণ্য রাজনীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

দলে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু অনুপ্রবেশকারী আমাদের দলের মধ্যে ঢুকে গেছে। ১২ বছর ক্ষমতায়, অনেকে লোভ সামলাতে পারে নি। আমাদের মধ্যে ঢুকে গেছে। এরা কিন্তু ভেতরে থেকে অনেক ধরনের কথা বলবে, উসকানি দেয়ার চেষ্টা করবে। আমাদের সাবধান থাকতে হবে।’

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মানবজাতি নিজেদের বিভিন্নভাবে বিভক্ত করে ফেলছি। এতে আমাদের কোন কল্যাণ বয়ে আসছে না। এ বিভক্তি, ধর্মীয় উগ্রতা আমাদের মধ্যে ভালো কিছু দিচ্ছে না। ধর্মের উম্মাদনা আমাদের জন্য ক্ষতি ছাড়া ভালো কিছু করছে না। যেটাই ধর্মীয় উম্মাদনা সেটাই ধ্বংসের কারণ।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন দেশের ওপর বড় আঘাত এসেছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছে, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ারা, তারা ধর্মকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু কোন ধর্মীয় কাজ করেনি। তারা সংখ্যাগুরু মুসলমানদের মিথ্যা কথা বলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জনশীল গোপাল।

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
করোনা শনাক্তের হার ৮৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ
দেশে আরও ৩ জনের দেহে ওমিক্রন

শেয়ার করুন

মংলায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ৩৮ কোটি টাকার প্রকল্প

মংলায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ৩৮ কোটি টাকার প্রকল্প

মংলায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পে বৃহস্পতিবার ডেনমার্কের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকায় ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত স্মারক অনুযায়ী, ২ কোটি ৯০ লাখ ডেনিশ ক্রোন দেবে বাংলাদেশের ডেনিশ দূতাবাস। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ৩৭ কোটি ৬৯ লাখ।

জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ বাগেরহাটের মংলা উপজেলায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পে ডেনমার্কের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।

ঢাকায় ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত এই স্মারক অনুযায়ী, ২ কোটি ৯০ লাখ ডেনিশ ক্রোন দেবে বাংলাদেশের ডেনিশ দূতাবাস। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ৩৭ কোটি ৬৯ লাখ।

‘এনহ্যান্সিং সেফ ড্রিংকিং ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স থ্রু রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং’ শীর্ষক প্রকল্প চলতি জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি মংলার ছয়টি ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করা হবে।

ব্র্যাকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, লবণাক্ততার ভয়াবহ বিস্তারের ফলে মংলা বাংলাদেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানীয় জলের সুবিধা পায় না। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও উপার্জনের অবস্থা নাজুক। ঘর-গৃহস্থালির কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে নারী ও মেয়েরাও বৈষম্যের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপজেলার সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছাকাছি নিরাপদ পানীয় জলের একটি উৎস তৈরি করে তাদের অবস্থার উন্নয়ন করা এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

ফলে লবণাক্ততা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মংলার ৬৭ হাজার ৩০০ মানুষ নিরাপদ পানীয় জলের সুবিধা পাবে। বাড়ি থেকে দূরের উৎস থেকে পানীয় জল আনার প্রয়োজন হবে না। এছাড়া উপজেলায় ৫৪টি ক্লাইমেট অ্যাকশন গ্রুপ করা হবে। যারা এগুলোর সমন্বয়, পরিকল্পনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের নেতৃত্ব দেবে।

সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্ট্রাপ পিটারসন বলেন, ‘২০২৩ সালের মধ্যে ডেনমার্ক বিশ্বব্যাপী অনুদান-ভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নে প্রতি বছর কমপক্ষে ৫ শ মিলিয়ন ডলার দেবে। বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এই অংশীদারত্ব ২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু অভিযোজন এবং প্রশমন কর্মসূচির জন্য বেশ কয়েকটি ডেনিশ অঙ্গীকারের শুভ সূচনার ইঙ্গিত দেয়।’

উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য জলবায়ু-অভিযোজিত ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ‘পানীয় জল আনতে কারও দুই কিলোমিটার হেঁটে যাওয়া উচিত নয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

‘নিরাপদ পানীয় জল পাওয়ার এই মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ব্র্যাক অবিরাম কাজ করে চলেছে। এই প্রচেষ্টায় ডেনমার্কের দূতাবাসের সমর্থনের জন্য আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি। আমরা একত্রে নিরাপদ পানি সরবরাহের মগ্রিক এবং টেকসই মডেল তৈরির লক্ষ্যে কাজ করব।’

ডেনমার্ক সরকারের উন্নয়ন কৌশল ‘দ্য ওয়ার্ল্ড উই শেয়ার’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পটি মংলায় ক্ষুদ্র স্তরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করবে।

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
করোনা শনাক্তের হার ৮৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ
দেশে আরও ৩ জনের দেহে ওমিক্রন

শেয়ার করুন

ভারতে খোলাবাজারে করোনা ভ্যাকসিন

ভারতে খোলাবাজারে করোনা ভ্যাকসিন

ভারতে খোলাবাজারে বিক্রির অনুমোদন দিলেও কোনো ওষুধের দোকানে পাওয়া যাবে না ওইসব ভ্যাকসিন। আপাতত তা হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে কিনতে হবে। প্রতি ডোজের দাম হতে পারে ২৭৫ টাকা।

ভারতে সহজলভ্য হতে চলেছে করোনাভাইসের ভ্যাকসিন। শুধু টিকাকরণ কেন্দ্র নয়, খোলাবাজারেও কোভিশিল্ড বা কোভ্যাক্সিনের মতো টিকা পাওয়া যাবে। শর্তসাপেক্ষে বাজারে টিকা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)। তবে সবাই সেই ভ্যাকসিন কিনতে পারবে না।

শর্তের অধীনে, সংস্থাগুলোকে চলমান ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ডেটা জমা দিতে হবে এবং টিকাকরণ কর্মসূচির জন্য নিয়মিত সরবরাহ করতে হবে ভ্যাকসিনগুলো। টিকাদানের পর প্রতিকূল ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা অব্যাহত থাকবে।

তবে এখনই ভারতে কোনো ওষুধের দোকানে পাওয়া যাবে না ওইসব ভ্যাকসিন। আপাতত তা হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে কিনতে হবে।

এতদিন পর্যন্ত ভারতে কেবল টিকাকরণ কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হতো। সাধারণ মানুষ চাইলেও টিকা কিনতে পারত না। এতদিন পর্যন্ত ভারতে জরুরিভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য এই দুই টিকায় অনুমোদন দিয়েছিল ডিসিজিআই। তবে এবার পূর্ণ অনুমোদন মিলল, যা ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোর জন্যও স্বস্তির খবর।

বাজারে টিকা বিক্রির অনুমোদন দেয়ার জন্য কোভ্যাক্সিনের উৎপাদক ভারত বায়োটেক ও কোভিশিল্ডের উৎপাদক সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে তথ্য দেয়া হয়েছিল ডিসিজিআই-কে। সেই তথ্য খতিয়ে দেখে বাজারে বিক্রির অনুমোদন দেয়া হলো।

গত বছরের ২৫ অক্টোবর ভ্যাকসিন খোলা বাজারে বিক্রির অনুমোদন চেয়ে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন সেরাম ইনস্টিটিউটের অন্যতম কর্তা প্রকাশ কুমার ঝা। এ ছাড়া ভারত বায়োটেকের পক্ষ থেকে আবেদন জানিয়েছিলেন ডিরেক্টর ভি কৃষ্ণ মোহন। কোভ্যাক্সিনের রসায়ন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল থেকে পাওয়া তথ্য সবটাই জমা দেয়া হয়েছিল। সে সব তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডিসিজিআই’র বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকরা জানান, এতদিন পর্যন্ত জরুরিভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য শুধু টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। প্রতি ১৫ দিন অন্তর টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত তথ্য দিতে হতো ডিসিজিআই-কে।

ভারতে এখনও পর্যন্ত কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন মিলিয়ে ১৬৪ কোটি ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। মোটামুটিভাবে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে এই টিকাগুলোর কার্যকারিতা রয়েছে এবং এগুলো নিরাপদ। তাই এবার টিকাগুলো বাজারে বিক্রি নিরাপদ বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিনের দাম কমতে পারে প্রতি ডোজ়ের দাম হতে পারে ২৭৫ টাকা। এর সঙ্গে অতিরিক্ত পরিষেবা চার্জ সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা হতে পারে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই’র প্রতিবেদন বলছে, করোনার এই দুই ভ্যাকসিনের দাম কমানোর বিষয়টি ডিসিজিআই’র কাছে পাঠানো হয়েছে। ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটিকে ইতোমধ্যে দাম নির্ধারণে কাজ শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
করোনা শনাক্তের হার ৮৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ
দেশে আরও ৩ জনের দেহে ওমিক্রন

শেয়ার করুন

জানুয়ারির একদিনও বিশুদ্ধ বাতাস পায়নি ঢাকাবাসী

জানুয়ারির একদিনও বিশুদ্ধ বাতাস পায়নি ঢাকাবাসী

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে বায়ুদূষণ নিয়ে গবেষণা তথ্য তুলে ধরা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকার বাতাস এতোটাই দূষণের শিকার যে গত ছয় বছরে মাত্র ৩৮ দিন বিশুদ্ধ বাতাস মিলেছে। সে হিসাবে ইট-পাথরের এই নগরের মানুষ বছরে গড়ে ছয়দিন বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেয়ার সুযোগ পেয়েছে।

আবহাওয়ার পরিবর্তনসহ মানবসৃষ্ট নানা কারণে দিন দিন ঢাকায় নির্মল বাতাস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন থেকে টানা ২৫ তারিখ পর্যন্ত একদিনও বিশুদ্ধ বাতাস পায়নি রাজধানীবাসী।

ঢাকার বাতাস এতোটাই দূষণের শিকার যে গত ছয় বছরে মাত্র ৩৮ দিন বিশুদ্ধ বাতাস মিলেছে। সে হিসাবে ইট-পাথরের এই নগরের মানুষ বছরে গড়ে ছয়দিন বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেয়ার সুযোগ পেয়েছে।

বেসরকারি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) গবেষণায় এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মজুমদার।

ক্যাপসের গবেষণা তথ্যের উল্লেখ করে কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণে আবহাওয়াজনিত ও ভোগোলিক কারণ ছাড়াও নগর পরিকল্পনায় ঘাটতি, আইনের দুর্বলতা, আইন প্রয়োগের সীমাবদ্ধতাসহ মানবসৃষ্ট নানা কারণ রয়েছে। অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং নির্মাণ কাজ থেকে সবচেয়ে বেশি ৩০ শতাংশ এবং ইটভাটা ও শিল্প-কারখানা থেকে ২৯ শতাংশ দূষণ হয়ে থাকে।

এছাড়া ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য যানবাহনের কালো ধোঁয়া ১৫, আন্তঃদেশীয় বায়ুপ্রবাহ ১০, গৃহস্থালি ও রান্নার চুলা থেকে নির্গত পদার্থ ৯ এবং বর্জ্য পোড়ানো ৭ শতাংশ দায়ী।

‘বিপজ্জনক মাত্রায় ঢাকার বায়ুদূষণ: জনস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যও তুলে ধরা হয়।

বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ক্যাপস চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৮ সালে দেশে বায়ুদূষণজনিত রোগে মারা যায় প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে শুধু ঢাকাতেই ১০ হাজার মানুষ মারা গেছে।

দ্য ইকনোমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তথ্য বলছে, পৃথিবীর বসবাস অযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। রাজধানী শহরগুলোর মধ্যেও দূষণে ঢাকা দ্বিতীয়। বায়ুদূষণের দিক দিয়ে ২০২০ ও ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে শীর্ষ অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।

ক্যাপসের ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ছয় বছরের জানুয়ারি মাসের বায়ুমান সূচকের তথ্য বলছে, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে গড় বায়ুদূষণের পরিমাণ বেড়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের চেয়ে ২০২১ সালে গড় বায়ুদূষণ বেড়েছে ৭ শতাংশ।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের টানা ২৫ দিনে ঢাকার মানুষ একদিনের জন্যও বিশুদ্ধ বায়ুতে শ্বাস নেয়ার সুযোগ পায়নি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, গত ছয় বছরের মধ্যে ঢাকার মানুষ মাত্র ২ শতাংশ বা ৩৮ দিন বিশুদ্ধ বায়ু গ্রহণ করেছে। এ সময়ের মধ্যে ২৬ শতাংশ বা ৫১০ দিন চলনসই মানের বায়ু, ২৯ শতাংশ বা ৫৭৭ দিন সংবেদনশীল বায়ু, ২২ শতাংশ বা ৪৪৩ দিন অস্বাস্থ্যকর, ১৯ শতাংশ বা ৩৮৫ দিন খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ২ শতাংশ বা ৩৭ দিন দুর্যোগপূর্ণ বায়ুতে শ্বাস নিয়েছে ঢাকাবাসী।

ছয় বছরের গবেষণার তথ্য বলছে, ঢাকা শহরে বায়ুর মান সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকে রাতে। বিকেল ৪টার পর থেকে বায়ুর মান খারাপ হতে শুরু করে। রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ খারাপ অবস্থায় পৌঁছে। গত ছয় বছরে রাত ১টার সময় বায়ুমান সূচক ছিল ১৬২।

দূষণের কারণ হিসেবে কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, রাত ১০টার পর উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে প্রচুর মালবাহী ট্রাক ঢাকায় প্রবেশ করে। এতে রাতে প্রচুর বায়ুদূষণ হয়। এছাড়াও রাতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা শহরের রাস্তা ঝাড়ু দেয়ায় বাতাসে ধূলাবালি উড়তে থাকে। রাত ৩টার পর থেকে বায়ুর মানের উন্নতি হয়। তবে অফিসগামী মানুষ এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চাপে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বায়ুদূষণে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকে। সকাল ১০টার পর থেকে বায়ুদূষণ ক্রমান্বয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কম দেখা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে ১৫টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা শহরে প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর পানি ছিটানো, নির্মাণ স্থান ঘেরাও দিয়ে রাখা ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সময় ঢেকে রাখা, রাস্তার ধূলা সংগ্রহে সাকশন ট্রাকের ব্যবহার করা, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে উন্নত প্রযুক্তির বিকল্প ইটের প্রচলন বাড়ানো, ব্যক্তিগত ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে নম্বর প্লেট অনুযায়ী জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে গাড়ি চলার প্রচলন করা।

মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপ হিসাবে প্রচুর গাছ লাগানো ও ছাদ বাগান উৎসাহিত করা, ঢাকার আশপাশে জলাধার সংরক্ষণ, আলাদা সাইকেল লেন, ইটের বিকল্প স্যান্ড বক্ল ব্যবহার, সিটি গভর্নেন্স প্রচলনের মাধমে সেবা সংস্থার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করা ইত্যাদি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আর দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে নির্মল বায়ু আইন-২০১৯ যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বাজেট বাড়ানো, নিয়মিত বায়ু পর্যবেক্ষণ স্টেশনের (ক্যামস) ব্যাপ্তি বাড়ানো, জনসচেতনতা তৈরি, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সরকারি সেবায় পরিবেশ ক্যাডার সার্ভিস এবং পরিবেশ আদালত চালু ও কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ক্যাপসের গবেষণা বলছে, ২০২১ সালে ঢাকা শহরের ১০টি এলাকার বায়ুতে বস্তুকণা ছিল বছরে গড়ে প্রতি ঘনমিটারে ৬৩ মাইক্রোগ্রাম। এই মাত্রা বার্ষিক আদর্শ মানের চেয়ে প্রায় ৪ দশমিক ২ গুণ বেশি। এ বছর সবচেয়ে বেশি দূষিত ছিল তেজগাঁও এলাকা। পরের স্থানে রয়েছে শাহবাগ, আহসান মঞ্জিল, আবদুল্লাহপুর, মতিঝিল, ধানমণ্ডি-৩২, সংসদ ভবন, আগারগাঁও, মিরপুর-১০ ও গুলশান-২।

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
করোনা শনাক্তের হার ৮৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ
দেশে আরও ৩ জনের দেহে ওমিক্রন

শেয়ার করুন

গাভী কেটে গোশত ‘চুরি’, পড়ে রইল গর্ভের বাছুর

গাভী কেটে গোশত ‘চুরি’, পড়ে রইল গর্ভের বাছুর

গাভী জবাই করে ফেলে রাখা হয় গর্ভের মৃত বাছুর। ছবি: ফেসবুক

মাধবদী বাজারের এম এ হালিম জানান, গভীর রাতে তার খামারের তালা ভেঙে পশুটি চুরি করা হয়। পরদিন খামারের পাশেই পড়ে থাকতে দেখেন এর চামড়া ও গর্ভের নাড়িভুঁড়িসহ মৃত বাছুর।

নাড়িভুঁড়ির পাশে মৃত বাছুরের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। ছবির সঙ্গে দেয়া পোস্টে বলা হচ্ছে, গর্ভবতী গাভী কেটে মাংস নিয়ে গেছে চোরেরা। ফেলে রেখে গেছে গর্ভের বাছুরটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ঘটনাটি নরসিংদীর মাধবদীর খোর্দ্দনওপাড়া গ্রামের। সেখানকার এক ব্যক্তির অভিযোগ, তার খামার থেকে গাভীটি চুরি হয় গত ২৪ জানুয়ারি।

ওই ব্যক্তি হলেন মাধবদী বাজারের এম এ হালিম। তিনি জানান, গভীর রাতে তার খামারের তালা ভেঙে পশুটি চুরি করা হয়। পরদিন খামারের পাশেই পড়ে থাকতে দেখেন এর চামড়া ও গর্ভের নাড়িভুঁড়িসহ মৃত বাছুর।

হালিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যবসার পাশাপাশি বহু বছর ধরে পশুর খামার করেছি। বছর তিনেক আগেও খামারভর্তি পশু ছিল। এখন অল্প কয়েকটা আছে।

‘কয়েক মাস আগেও একটা ষাঁড় গরু চুরি হয়ে যায় খামার থেকে। এবার ১০ মাসের গর্ভবতী গাভীটা জবাই করে গোশত নিয়ে পালিয়ে গেল চোর।’

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সৈয়দুজ্জামান জানান, গাভী চুরির ঘটনায় খামার মালিক অভিযোগ দিয়েছেন। জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
করোনা শনাক্তের হার ৮৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ
দেশে আরও ৩ জনের দেহে ওমিক্রন

শেয়ার করুন

আগামী বছর চালু জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল

আগামী বছর চালু জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি। ছবি: সংগৃহীত

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ভবিষ্যতে জাপানি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে আড়াইহাজারে স্থাপিত অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে।’

আগামী বছরই উৎপাদনে যাচ্ছে দেশে বিশেষায়িত জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল। রাজধানীর অদূরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এটি গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষায়িত এ অঞ্চলটির এখন প্রস্তুতি শেষ প্রান্তে। বিনিয়োগে আাগ্রহী জাপানি উদ্যোক্তারা এখানে বিভিন্নখাতে বিনিয়োগ করবেন।

বৃহস্পতিবার ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসে এমন তথ্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।

আলোচনায় জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ভবিষ্যতে জাপানি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে আড়াইহাজারে স্থাপিত অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে।

‘এ আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো বিকশিত করার সুযোগ রয়েছে। এজন্য বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও সহজ করতে হবে।’

বিশেষ করে পরিচালন মূলধনের জন্য ঋণের যোগান, ঋণপত্র খুলতে বিলম্ব, আয়কর ও ভ্যাটের উচ্চহার, বন্ড লাইসেন্সের নবায়ন জটিলতা এবং ইপিজেডের কারখানাগুলোর সঙ্গে বাইরের শিল্পের মজুরি পার্থক্যকে জাপানি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা বলে মন্তব্য করেন দেশটির রাষ্ট্রদূত। এসব সমস্যার সমাধান হলে এদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে মনে করেন ইতো নাওকি।

জবাবে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শতাধিক জাপানি কোম্পানি বহু বছর ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা করে আসছে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পেও বাংলাদেশের অন্যতম বড় অংশীদার জাপান।

‘তা ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারের আকারও বেড়েছে। এদেশে জাপানি পণ্যের জনপ্রিয়তাও তূলনামূলক বেশি। তাই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা যেকোন জাপানি কোম্পানির লাভজনক হবার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’

এ সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের নেয়া অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন নীতি সহায়তার কথা তুলে ধরেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর সহ-সভাপতি আমিন হেলালী ও মো. হাবিব উল্লাহ ডন, পরিচালক মো. নাসের, প্রীতি চক্রবর্তী ও মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

আরও পড়ুন:
দেশে নিজস্ব টিকা উৎপাদন কতদূর
করোনা শনাক্তের হার ৮৪ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ
দেশে আরও ৩ জনের দেহে ওমিক্রন

শেয়ার করুন