শিক্ষায় আর পিছিয়ে থাকতে চায় না সিলেট

player
শিক্ষায় আর পিছিয়ে থাকতে চায় না সিলেট

সিলেটে এখন ছেলে-মেয়েদের পড়াতে আগ্রহী হচ্ছে অনেক পরিবার। ছবি: নিউজবাংলা

সুনামগঞ্জের সরকারি সতিশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজ মুহাম্মদ মাসহুদ চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার প্রতি আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বেড়েছে। এ ছাড়া সরকার, শিক্ষক, অভিভাবক সবাই শিক্ষার ব্যাপারে আন্তরিক। এই সম্মিলিতি প্রচেষ্টার ফসল এবারের এসএসসির ফল।’

সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগানের বাসিন্দা শেফালি মুণ্ডা এ বছর এসএসসি পাস করেছে। একই বাগান থেকে আরও তিনজন পাস করেছে মাধ্যমিকে।

শেফালি মুণ্ডার বাবা সজল মুণ্ডার ভীষণ উচ্ছ্বসিত। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আগে তো আমাদের মধ্যে কেউ তেমন পড়ালেখা করত না। বাগানে পড়ালেখার সুযোগও তেমন ছিল না। এখন পড়ালেখায় আগ্রহ বাড়ছে। খেয়ে না খেয়ে হলেও সবাই ছেলেমেয়েদের পড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা যাতে চা-শ্রমিকের এই অভিশপ্ত জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারে সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। বাগানের পাশে একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হওয়ায় সুযোগও বেড়েছে।’

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের পাথরশ্রমিক আজমত আলী। তার ছেলেও স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ে।

আজমত বলেন, ‘পড়ালেখার গুরুত্ব এখন আমরা বুঝতে পারছি। নিজেরা পড়ালেখা না করে জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছি। বাচ্চাদের জীবনও যাতে নষ্ট না হয় তাই তাদের সাধ্যমতো পড়ালেখা করানোর চেষ্টা করছি।’

শিক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই পিছিয়ে সিলেট। দেশের মধ্যে শিক্ষার হারেও সবচেয়ে তলানিতে অবস্থান এই বিভাগের। পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলগুলোতেও সিলেটের অবস্থান থাকে পেছনের দিকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। শিক্ষায় আগ্রহ বাড়ছে এখানকার মানুষের। সরকারের পক্ষ থেকেও সিলেটের শিক্ষার হার বাড়াতে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এতে মিলছে সাফল্যও।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার (এসএসসি) ফলাফলে সিলেট বোর্ডে ৯৬.৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, গত এক দশকের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

প্রবাসমুখিতা, ভৌগোলিক সমস্যা, দারিদ্র্য, ধর্মীয় গোঁড়ামি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সংকটসহ নানা কারণে সিলেটের শিক্ষায় পিছিয়ে থাকার কথা আলোচনায় আছে।

দেশের চা-বাগানগুলোরে বেশির ভাগ সিলেট অঞ্চলে। সামান্য মজুরিতে কাজ করেন চা-শ্রমিকরা। ফলে দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থান সিলেটের প্রায় ৩ লাখ চা-শ্রমিকের। বাগান এলাকায় তেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নেই। ফলে চা-শ্রমিকের সন্তানেরাও পিছিয়ে রয়েছে শিক্ষায়।

পাথরশ্রমিকসহ বিভিন্ন দরিদ্র ও পশ্চাৎপদ এলাকার জনগোষ্ঠীর মধ্যেও শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহ ছিল কম।

বিভাগের বিশাল অঞ্চলজুড়ে হাওর। এর মধ্যে হাওরপ্রধান জেলা সুনামগঞ্জ। সেখানে দারিদ্র্যের আঘাত আছে। এসব এলাকার যোগাযোগব্যবস্থাও নাজুক। রয়েছে শিক্ষকের সংকট। এসব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা আছে।

শিক্ষায় সিলেটের পশ্চাৎপদতা সম্পর্কে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. সৈয়দ হাসানুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিলেটের প্রবাসমুখিতার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। এখনো এখানকার বেশির ভাগ তরুণের প্রধান স্বপ্ন কোনো রকমে বিদেশে যাওয়া, বিশেষত ইংল্যান্ডে। ফলে লেখাপড়া শেষ না করেই অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আবার মেধাবীদের অনেকেও উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশে যাচ্ছে।

‘এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তার অভাবও উচ্চ শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। দেশে চাকরির সংকট রয়েছে। উচ্চ শিক্ষা নিয়েও অনেকে চাকরি পাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘হাওর এলাকার যোগাযোগ সমস্যা, হাওর ও চা-বাগানবেষ্টিত এলাকার দারিদ্র্য এবং অনীহার কারণেও শিক্ষায় সিলেট পিছিয়ে আছে।

তবে মোড় যে ঘুরছে, সেটিও স্পষ্ট হচ্ছে। এসএসসিতে পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে হাওরপ্রধান জেলা সুনামগঞ্জ। জেলার প্রতি ১০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯৭.২৯ জন।

সুনামগঞ্জের সরকারি সতিশ চন্দ্র (এসসি) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজ মুহাম্মদ মাসহুদ চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার প্রতি আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। হাওর এলাকার যোগাযোগব্যবস্থাও আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বেড়েছে। এ ছাড়া সরকার, শিক্ষক, অভিভাবক সবাই শিক্ষার ব্যাপারে আন্তরিক। এই সম্মিলিতি প্রচেষ্টার ফসল এবারের ফলাফল।’

দেশের বাইরে যাওয়ার জন্যও এখন পড়ালেখার প্রয়োজন উল্লেখ করে উচ্চ শিক্ষায় বিদেশ গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরামর্শক হিসেবে কাজ করা আদনান আহমদ বলেন, ‘এখন আর আগের মতো যে কেউই বিদেশ যেতে পারছে না। বিশেষত ইউরোপ-আমেরিকায় শিক্ষিত ও দক্ষ লোকদের কদর বেশি। ফলে বিদেশ যাওয়ার জন্যও পড়ালেখায় আগ্রহ বেড়েছে।’

অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক শুধাংশু তালুকদার বলেন, ‘এখন সব অভিভাবকই চান তাদের সন্তানদের ভালো লেখাপড়া করাতে। যিনি দরিদ্র, নিজে পড়ালেখার সুযোগ পাননি, তিনিও তার সন্তানদের শিক্ষিত করে তুলতে চান। নিজেদের সাধ্যমতো শিক্ষায় বিনিয়োগ করেন তারা। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ বেড়েছে। এসব কারণে ধীরে ধীরে সিলেটের অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে।’

আট বছরে পরীক্ষার্থী বেড়ে দ্বিগুণ

শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেটের এই পরিবর্তনের চিত্র পাওয়া যায় গত ৯ বছরের এসএসসির ফলাফল আর অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর তথ্যেও।

২০১৩ সালে এ বোর্ডে ৫৮ হাজার ৫০৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৮৮.৯৬ শতাংশ। আট বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

২০১৪ সালে ৬৮ হাজার ৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করে ৮৯.২৩ শতাংশ।

২০১৫ সালে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭২ হাজার ২৪ জন শিক্ষার্থী। পাস করে ৮১.৮২ শতাংশ।

২০১৬ সালে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮৪ হাজার ৪৪৮ জন। পাসের হার ছিল ৮৪.৭৭ শতাংশ।

২০১৭ সালে ৯৩ হাজার ৯১৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৮০.২৬ শতাংশ।

২০১৮ সালে ১ লাখ ৮ হাজার ৯২৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাসের হার ছিল ৭০.৪২ শতাংশ।

২০১৯ সালে পরীক্ষায় বসে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৭১ জন। পাসের হার ছিল ৭০.৮৩।

২০২০ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ১০৪ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ৭৮.৭৯ শতাংশ।

আর এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৪ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৯৬.৭৮ শতংশ।

এই সময়ে সারা দেশেই পরীক্ষার্থী বেড়েছে। কিন্তু দ্বিগুণ হয়ে যায়নি।

কী বলছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা

সরকারের নানা উদ্যোগের কারণেও সিলেটে শিক্ষার চিত্রে পরিবর্তন আসছে বলে মনে করেন ভাষাসৈনিক ও সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক আব্দুল আজিজ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা, ভৌগোলিক অবস্থান, পাহাড়, টিলা, হাওর, চা-বাগান পরিবেষ্টিত অঞ্চলে দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে ছিল সিলেট। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ানো, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত বাড়ানোসহ সরকারের নানা উদ্যোগে এখন এসব সমস্যা ছাপিয়ে শিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে সিলেট।’

একই মত সিলেট এমসি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র চন্দেরও। এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘এখন উপজেলা পর্যায়ের অনেক কলেজেও অনার্স কোর্স চালু হয়েছে। নতুন নতুন কলেজ হচ্ছে এবং তরুণদের মধ্যে লেখাপড়ার আগ্রহও বাড়ছে। আগামী ১০ বছর পর এসবের সুফল পাওয়া যাবে।’

পাসের হারকেই সবকিছু মানতে রাজি নন তারা

তবে পাসের হার বাড়া আর শিক্ষার অগ্রগতি এক নয় বলে মনে করেন সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির উদ্দিন আহমদ। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগের চেয়ে শিক্ষার আগ্রহ বেড়েছে। অভিভবকরা সচেতন হয়েছেন। এগুলো যেমন সত্য, তেমনি পাসের হার বাড়ার সঙ্গে শিক্ষার অগ্রগতি মেলানো যাবে না। শিক্ষার মান বাড়ছে কি না তা এখনই বলা যাবে না। তার জন্য আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।’

শিক্ষা বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, অন্যান্য বছর বেশির ভাগ শিক্ষার্থী গণিত ও ইংরেজিতে ফেল করে। এবার এই দুই বিষয়ের পরীক্ষা হয়নি। এর প্রভাব পড়েছে পাসের হারে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুণ কান্তি পাল বলেন, ‘বেশির ভাগ শিক্ষার্থী থাকে মানবিক বিভাগে। এ বছর সে সংখ্যা ছিল প্রায় ৯০ হাজার। এবার মানবিকে পাসের হার প্রায় ২২ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলাফলে।’

তবে এবারের পরীক্ষায় পূর্ণাঙ্গ মেধা যাচাইয়ের সুযোগ ছিল না বলে মনে করেন সিলেটের মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল ফতেহ ফাত্তাহ। এই শিক্ষাবিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার যে সিলেবাসে পরীক্ষা হয়েছে তা দিয়ে মেধা যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে এটা সত্য, এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে। এখন শিক্ষার মান বাড়ানোর ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আট শিক্ষকের করোনায় স্কুল বন্ধ

আট শিক্ষকের করোনায় স্কুল বন্ধ

পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: নিউজবাংলা

স্কুলের প্রধান শিক্ষক শম্পা রানী জানান, প্রথমে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি নিজেই। পরে নমুনা পরীক্ষা করলে বাসায় তার স্বামীরও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর তিনি স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদেরও নমুনা পরীক্ষা করতে বলেন। বাকিদের পরীক্ষা করা হলে আরও সাত শিক্ষকের করোনা ধরা পরে।

কুমিল্লার লাকসামে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ আট শিক্ষকের করোনা শনাক্তের পর স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

করোনায় সংক্রমিতদের সবাই উপজেলার পশ্চিমগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

শিক্ষকদের করোনায় শনাক্তের খবরে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আতঙ্কে রয়েছেন।

এ ঘটনায় লাকসাম উপজেলা শিক্ষাকর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন পরিস্থিতি বিবেচনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করেছেন।

নিউজবাংলাকে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শম্পা রানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

করোনায় আক্রান্তরা অন্যান্য হলেন সহকারী শিক্ষক মো. শাহ আলম, মো. একরামুল হক খন্দকার, শিক্ষক মন্টু চন্দ্র ঘোষ, উম্মে কুলসুম, বিলকিছ নাসরিন, কামরুন্নাহার ও রুবিনা ইসলাম।

প্রধান শিক্ষক শম্পা রানী জানান, প্রথমে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি নিজেই। পরে নমুনা পরীক্ষা করলে বাসায় তার স্বামীরও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর তিনি স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদেরও নমুনা পরীক্ষা করতে বলেন। বাকিদের পরীক্ষা করা হলে আরও সাত শিক্ষকের করোনা ধরা পরে।

নিউজবাংলাকে লাকসাম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধ করে দিয়েছি। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে।

‘আমরা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের খোঁজ-খবর রাখছি। কারও মধ্যে কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে তাদের করোনা পরীক্ষা করা হবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ সময় স্কুুলের অন্যন্য কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজিয়া বিনতে আলম বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সকল শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।’

শেয়ার করুন

‘আমরা কি টিকা পাব না?’

‘আমরা কি টিকা পাব না?’

চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকার জগলু, সোহেল, শরীফদের কোনো জন্মসনদ নাই। ছবি: নিউজবাংলা

শুধু জগলু, সোহেল বা শরীফের মা নন, টিকা পাওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন শাহেদ, জসিম, নয়ন, কাকলির মতো সুবিধাবঞ্চিত অনেক পথশিশু ও কিশোরের।

সরকারি নির্দেশনায় ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হচ্ছে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়াম ও রীমা কমিউনিটি সেন্টারে। এর মধ্যেই ঘটল এক বিপত্তি!

গত ১৫ জানুয়ারি টিকার জন্য নির্ধারিত লাইনে স্কুলশিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যায় সুবিধাবঞ্চিত কিছু পথশিশু ও কিশোর। কিন্তু জন্মনিবন্ধন না থাকায় শেষ পর্যন্ত টিকা পায়নি তারা। ফিরে যায় নিরাশ হয়ে।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর সিআরবি এলাকায় এমন কয়েকজন পথশিশুর দেখা মেলে। এর মধ্যে জগলু নামে ১৩ বছরের এক পথশিশু বলে, ‘জন্মনিবন্ধন ছাড়া করোনার টিকা নাকি দেয়া যাবে না। আমার জন্মনিবন্ধন নাই। মা-বাবাও নাই। তাহলে আমি কি টিকা পাব না?’

এ সময় বায়েজীদ এলাকা থেকে সিআরবি এলাকায় বোতল কুড়াতে আসা ১৫ বছরের কিশোর সোহেল বলে, ‘১২ থেকে ১৮ বছরের ছেলেমেয়েদের টিকা দিচ্ছে শুনে গত শনিবার (১৫ জানুযারি) আমি লাইনে দাঁড়াই। দীর্ঘক্ষণ পর তারা আমার কাছে জন্মনিবন্ধন আছে কি-না জানতে চায়। নাই বলায় আমাকে লাইন থেকে বের করে দেয়। এটা ছাড়া কি টিকা পাব না?’

সোহেল আরও বলে, ‘ঘূর্ণিঝড়ের (সিডর) সময় আমি ছোট ছিলাম। বাবা তখন মারা গেছেন। মা আমাদের তিন ভাইবোনকে নিয়ে বরগুনা থেকে চট্টগ্রাম চলে আসেন। এখন গার্মেন্টসে চাকরি করে। আমি বোতল কুড়াই। জন্মনিবন্ধন কীভাবে করব?’

নগরীর খুলশী থানার কাজীর দেউরি এলাকায় পথশিশু শরীফের মা হাফছা বেগম জানান, তার ১৩ বছর বয়সী ছেলের কোনো জন্মনিবন্ধন নাই; স্কুলেও যায় না, বোতল কুড়ায়। এ অবস্থায় ছেলের টিকা পাওয়া নিয়ে তিনি এখন দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন।

হাফছা বলেন, ‘আমার কোনো ঘর-দুয়ার নাই। দুই বেলা ঠিকমতো খাওন জোটে না। শুনছি, জন্মনিবন্ধন করতে অনেক খরচ লাগে। এত খরচ আমি কোথায় পাব? করোনাভাইরাসে মানুষ মারাও যায়। কিন্তু টিকা কীভাবে দেব। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় নাই।’

শুধু জগলু, সোহেল বা শরীফের মা নন, টিকা পাওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন শাহেদ, জসিম, নয়ন, কাকলির মতো সুবিধাবঞ্চিত অনেক পথশিশু ও কিশোরের। পেটের তাগিদে সারা দিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে হয় বলে তাদেরও করোনাভাইরাসের ভয় আছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা, বন্দর এলাকা, আগ্রাবাদ, টাইগারপাস, নিউ মার্কেট, চকবাজার, শাহ আমানত সেতু, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, মতিঝর্না, সিআরবি, কাজীর দেউড়ি, ঝাউতলা, সিইপিজেড, কেইপিজেডসহ সব বাসস্টেশন, রেলস্টেশন, অফিস চত্বর, পার্ক ও ফুটপাতে এমন হাজারও সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু-কিশোর রয়েছে। তারাও করোনাভাইরাসের বাহক হতে পারে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) ও ইউনিসেফের ২০০৫ সালে পরিচালিত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৮ পথশিশু রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে ৫৫ হাজার ৮৫৬ পথশিশু।

আইন অনুযায়ী, শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক। কিন্তু দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ এখনও জন্মনিবন্ধনের বাইরে। নানা জটিলতার কারণে জন্মসনদ নিয়ে তারা চরম ভোগান্তির মধ্যে আছে।

বেসরকারি এনজিও সোসাইটি ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট অব রুরাল পিপলের (সার্প) নির্বাহী পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত ১২ হাজার ৫০০ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য সরকারিভাবে ২০টি এনজিও নিযুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া ব্যক্তিগত ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে পথশিশুদের প্রাথমিক অক্ষরজ্ঞান দেয়া হলেও জন্মনিবন্ধন না থাকায় এসব শিশু বেশি দূর এগোতে পারে না। তাদের পিতা-মাতার পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় জন্মনিবন্ধন করাতে গেলে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী বলেন, ‘জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে প্রথম ধাপে ১২ থেকে ১৮ বছরের শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ না থাকাসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে টিকার জন্য অনলাইনে যাদের রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ নেই, এ ধরনের জনগোষ্ঠীকেও টিকার আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে।

শেয়ার করুন

সেই সুরাইয়ার চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন শিক্ষক

সেই সুরাইয়ার চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন শিক্ষক

স্কুল শিক্ষকদের সঙ্গে সুরাইয়া ও তার মা। ছবি: নিউজবাংলা

বাবা বাচ্চু ভুইয়া বলেন, ‘মেয়ে ভালো আছে। সিআরপিতে চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, ১৫ দিন চিকিৎসা চলবে। এরপর বাড়ি নিতে পারব। স্কুলের ম্যাডাম সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমার মেয়ের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন তা চালু হওয়ায় আমাদের আনন্দের শেষ নেই।’

বাবা বাচ্চু ভুইয়া চায়ের দোকানি। যা আয় তাতে চলে পাঁচজনের সংসার। এরপর কিছুই সঞ্চয় থাকে না। সুরাইয়ার চিকিৎসা নিয়মিত করার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে তার আর হয়নি।

যারা কথা দিয়েছিল মেয়েটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেবেন তাদের কেউ আর যোগাযোগ করেননি।

এর মধ্যে ২ জানুয়ারি স্কুলে ভর্তি হয় মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ সেই সুরাইয়া। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সহযোগিতায় অবশেষে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) সাভার শাখায়।

চিকিৎসার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভুইয়া।

প্রায় ছয় বছর আগে ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই মাগুরা শহর এলাকার দোয়ারপাড়ায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন বাচ্চুর স্ত্রী নাজমা বেগম। সে সময় গর্ভে থাকা সুরাইয়া গুলিবিদ্ধ হয়।

মাগুরা সদর হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার জন্ম হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই সে বেড়ে উঠছে। হাঁটতে পারে না মেয়েটি। একটি চোখ অন্ধ অন্যটিতেও সমস্যা।

সুরাইয়ার বাবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই ঘটনার পর গুলিতে সুরাইয়ার ডান চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। বাম চোখের অবস্থাও ভালো না। শরীরের ডান পাশটিও ঠিকভাবে কাজ করছে না। সে কিছুই পারে না। কারও সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারে না।’

মাগুরা পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে সুরাইয়ার ভর্তি রোল ৩২। এর মধ্যে একবার স্কুল গিয়ে নতুন বই নিয়েছে মেয়েটি। তবে করোনার কারণে ক্লাস বন্ধ থাকায় আর শ্রেণি কক্ষে বসা হয়নি।

সেই সুরাইয়ার চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন শিক্ষক


স্কুলে ভর্তির দিন সুরাইয়াকে প্রথম দেখেন শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদাউস। মেয়েটিকে দেখে তার খারাপ লাগাটা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে সুরাইয়ার ছবি তুলে নিজের ফেসবুকে আপলোড করেন।

এই শিক্ষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কথা ঠিক মতো বলতে না পারলেও সুরাইয়ার মেধা আছে। ভাবলাম বাচ্চাটার শারীরিক এসব সমস্যা চিকিৎসা করালে হয়তো ভালো হয়ে যাবে।

‘ফেসবুকে ছবি আপলোডের পর সুরাইয়ার বিষয়টি আবারও সবার সামনে আসে। আমাকে ফোন করেন সমাজকর্মী ওহিদুর রহমান টিপু ভাই। তিনি সহায়তার হাত বাড়ান। সোমবার মেয়েটি ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে।’

হাসপাতালে সুরাইয়ার সঙ্গে আছেন তার বাবা-মা। বাবা বাচ্চু ভুইয়া বলেন, ‘মেয়ে ভালো আছে। সিআরপিতে চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, ১৫ দিন চিকিৎসা চলবে। এরপর বাড়ি নিতে পারব। এরপর প্রতি মাসে একবার করে হয়তো নিয়ে আসতে হবে। স্কুলের ম্যাডাম সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমার মেয়ের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন তা চালু হওয়ায় আমাদের আনন্দের শেষ নেই।’

সুরাইয়ার স্কুলে ভর্তি নিয়ে ৩ জানুয়ারি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় নিউজবাংলাতে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক রোখসানা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুরাইয়ার মেধা ভালো। আমাদের ভর্তির দিন মুখস্থ ছড়া শুনিয়েছে। আশা করি সে আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠবে।’

শেয়ার করুন

দুই ফেরি নষ্ট, দৌলতদিয়ায় ট্রাকজট

দুই ফেরি নষ্ট, দৌলতদিয়ায় ট্রাকজট

পারের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকের দীর্ঘ সারি। ছবি: নিউজবাংলা

ঘাটে পারের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকচালক হামিদ মিয়া বলেন, ‘ভোর থেকে জ্যামে আটকে আছি। বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আগে পার করায় ট্রাকের সিরিয়াল নেই। ঘাট থেকে অনেক দূরে থাকায় ভোগান্তির শেষ নেই আমাদের। এখানে খাবার হোটেল ও টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। আমাদের ভোগান্তি দেখার মনে হয়, তা দেখার কেউ নেই।’

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ট্রাকের দীর্ঘ জট তৈরি হয়েছে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকগুলোর সারি দীর্ঘ হয়েছে। ফলে চালকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

ফেরিঘাটে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পদ্মার মোড় পর্যন্ত মহাসড়কের ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পারের অপেক্ষায় রয়েছে শত শত ট্রাক।

ট্রাকের চালকরা জানিয়েছেন, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আগে পার করায় ট্রাকের সিরিয়াল নেই। এতে দীর্ঘ সময় পারের অপেক্ষায় থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের।

কর্তৃপক্ষ বলছে, রাতে দুইটি ফেরি নষ্ট হওয়ার কারণে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি পার করা হচ্ছে।

তবে দুপুরের পর বাসের চাপ কমে যাওয়ায় পণ্যবাহী ট্রাক পার করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাকে যশোর থেকে আসা ট্রাকচালক হামিদ মিয়া বলেন, ‘ভোর থেকে জ্যামে আটকে আছি। বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আগে পার করায় ট্রাকের সিরিয়াল নেই। ঘাট থেকে অনেক দূরে থাকায় ভোগান্তির শেষ নেই আমাদের। এখানে খাবার হোটেল ও টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। আমাদের ভোগান্তি দেখার মনে হয়, তা দেখার কেউ নেই।’

ঘাটে পারের অপেক্ষায় থাকা আরেক ট্রাকচালক আসলাম খাঁ বলেন, ‘সকাল থেকে পারের অপেক্ষায় বসে আছি। কখন পার হতে পারব জানি না। আমাদের ১২ মাসই এইরকম ভোগান্তি পোহাতে হয়। মনে হয় না পদ্মা সেতু হওয়ার আগে এই ভোগান্তি কমবে।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারি ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাতে দুইটা ফেরিতে সমস্যা হয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে বর্তমানে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। এতে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি পার করা হয়েছে।

‘তবে ঘাটে এখন বাস না থাকায় পণ্যবাহী ট্রাকগুলো পারাপার করা হচ্ছে। দ্রুতই যানবাহনের চাপ কমে যাবে।’

শেয়ার করুন

দার্জিলিংয়ের ‘সাদকি’ কমলা নীলফামারীতে

দার্জিলিংয়ের ‘সাদকি’ কমলা নীলফামারীতে

বাগানে সাদকি কমলার গাছ ধরে ছেলেকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন লেবু মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকার সাদকি কমলার চাষ করছেন নীলফামারীর লেবু মিয়া। এই কমলার সুখ্যাতি আছে বিভিন্ন দেশে।

‘দেখতে যেমন সুন্দর ও ঝকঝকে, তেমনি খেতেও সুস্বাদু’, নীলফামারীর ‘সাদকি’ কমলার বাগানে ঘুরতে এসে এমন বর্ণনা দিচ্ছিলেন অতুল রায়।

মঙ্গলবার সদর উপজেলার রানগর ইউনিয়নের বাহালিপাড়া এলাকা থেকে কচুকাটা বাজার এলাকার লেবু মিয়ার এই কমলার বাগান দেখতে এসেছিলেন তিনি।

দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকার সাদকি কমলার চাষ করছেন লেবু মিয়া। এই কমলার সুখ্যাতি আছে বিভিন্ন দেশে।

নিউজবাংলাকে অতুল রায় বলেন, ‘ভাবতাম আমাদের দেশে এই ফল চাষ সম্ভব না। কিন্তু এ অসম্ভবও বাংলাদেশে সম্ভব হয়েছে।’

লেবু মিয়ার বাগানে বাগানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছেন তার ছেলে আশেকে রসুল মামুন ওরফে এ আর মামুন। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকার এই কমলা দেশের মাটিতে চাষ করে সাফল্য দেখিয়েছেন বাবা ও ছেলে।

শুধু সাদকি কমলাই নয়, চায়না কমলা, সাউথ আফ্রিকান মাল্টা, ভিয়েতনাম মাল্টা, বারি মাল্টা, লিচু, আম, বরই (কূল), কাজুবাদাম, বারোমাসি আমলকি, ত্বীনফল, চেরিফল, আপেল আবাদেও সফল তারা।

সম্প্রতি ১৬ শতাংশ জমিতে মামুনের বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, পুষ্টিসমৃদ্ধ সাদকি কমলায় ভরে গেছে ৬০টি গাছ। তিন থেকে সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি গাছে কমলা ধরেছে অনন্ত ৪০কেজি। যা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বাগানেই। এ ছাড়া ৬০০টি কমলার চারা রাখা হয়েছে চার বিঘা এলাকা জুড়ে।

মামুন বলেন, ‘২০১৩ সালে বাবাকে নিয়ে ভারতের দার্জিলিং যাই। সেখান থেকে দুটি সাদকি কমলার চারা নিয়ে এসে নার্সারিতে লাগাই। পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু চারা তৈরি হয়। এখন ৬০টি পরিপূর্ণ গাছে কমলা হচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে কমলা হচ্ছে এ
কমলা বাগানে।’

তিনি জানান, ২০০১ সালে এক বিঘা জমিতে নার্সারি শুরু করেন তার বাবা লেবু মিয়া। বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন শুরু করেন তিনি। বর্তমানে ৪৫ বিঘা জমির নার্সারিতে চাষ করছেন নানা ফল। জমির ১৩ বিঘা নিজের আর বাকি ৩২ বিঘা ভাড়ায় নেয়া হয়েছে।

স্থানীয় রমজান আলী বলেন, ‘মামুন ভাইয়ের বাগানে গেলে মনটা ভরে যায়। চেষ্টা করে সফল হইছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ তার বাগানের কমলা নিয়ে যাচ্ছেন। চারা নিয়ে যাচ্ছেন বাগান করতে। নীলফামারী এখন কমলার জেলায় পরিচিতি লাভ করছে।’

নার্সারি মালিক লেবু মিয়া জানান, তার বাগানে কমলার দুটি গাছ লাগানোর এক বছর পর ফল দেয়া শুরু করে। গাছের সংখ্যা পরে বাড়ানো হয়। আগে দুজন কাজ করলেও এখন ২৫ জন কাজ করছেন পুরো নার্সারিতে।

তিনি বলেন, ‘এখন ভারত নয় নীলফামারীর সমতল ভূমিতে কমলা আবাদ হচ্ছে। অনেক ভালো মানের কমলা উৎপাদন হচ্ছে। যারা বাগান করতে চান আমার বাগানে দেখে যেতে পারেন।’

ছেলে মামুন বলেন, ‘দেশের ৬৪ জেলায় সাদকি কমলার চারা যাচ্ছে আমাদের বাগান থেকে। বাস-ট্রেন এমনকি কুরিয়ারেও পাঠানো হচ্ছে চারা। বিভিন্ন সময়ে এ বাগান পরিদর্শন করেছেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

‘সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সাদকি কমলার খবর পেয়ে আমাকে ফোন করেছিলেন। বাগান পরিদর্শনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারীর উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘এ জেলার মাটি লেবু জাতীয় ফল চাষের জন্য উপযোগী। এখানে আবহাওয়া ও মাটি অনুকূল থাকায় প্রচুর মাল্টা ও কমলার চাষ হচ্ছে।’

নিউজবাংলার প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘সম্ভবনাময় সাদকি কমলার চাষ বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে আমাদের কৃষকরা। অন্যদিকে পুষ্টি চাহিদা পুরণেও এ ফল ভূমিকা রাখবে।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীর চিলাহাটিতে আব্দুল্লাহ, সোনারায়ে রিয়াসাত, পঞ্চপুকুরে মনিরুজ্জামান বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন প্রজাতির কমলা চাষ করছেন।

শেয়ার করুন

স্বামী হত্যায় স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

স্বামী হত্যায় স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্টেনোগ্রাফার রাশেদুল ইসলাম জানান, আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া হরিশপুর গ্রামের আছিয়া খাতুন ও মোহনপুর লাহিড়ীপাড়া গ্রামের রমজান আলী।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের স্টেনোগ্রাফার রাশেদুল ইসলাম।

এজাহারে বলা হয়, আছিয়া খাতুনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই রমজান আলীর বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক চলে আসছিল। এর জেরে রমজান আলী আছিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু আছিয়া খাতুন তার স্বামী জীবিত আছে এমন কারণ দেখিয়ে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

পরবর্তী সময়ে প্রেমের বাধা দূর করতে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক ২০১৬ সালের ১ জুন সন্ধ্যায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তারা আছিয়ার স্বামী আবু বক্কার মন্ডলকে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবু হানিফ উল্লাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেয়।

শেয়ার করুন

হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন, ১ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন, ১ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

হত্যা মামলায় সাজা পাওয়া আসামিদের নেয়া হচ্ছে কারাগারে। ছবি: নিউজবাংলা

২০০৯ সালের ২৩ মে রাতে নিখোঁজ হন কুমারখালীর শহিদুল ইসলাম। পাঁচ দিন পর কালিতলা এলাকার একটি ডোবায় পাওয়া যায় তার গলাকাটা মরদেহ।

কুষ্টিয়ায় ১৩ বছর আগের এক হত্যা মামলার রায়ে এক আসামির আমৃত্যু ও দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাজুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনুপ কুমার নন্দী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসামি হলেন কুমারখালী উপজেলার কালিতলা এলাকার সালাম মোল্লা এবং যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিরা হলেন কুমারখালীর শানপুকুরিয়া এলাকার সাইফুল ইসলাম ও কালিতলা এলাকার রেজাউল জোয়ার্দার কালু।

২০০৯ সালের ২৩ মে রাতে নিখোঁজ হন কুমারখালীর শহিদুল ইসলাম। পাঁচ দিন পর কালিতলা এলাকার একটি ডোবায় পাওয়া যায় তার গলাকাটা মরদেহ। এ ঘটনায় শহিদুলের বাবা মুনছের আলীর করা মামলায় গ্রেপ্তার হন আসামিরা।

তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

শেয়ার করুন