থার্টিফার্স্ট নাইটের উৎসব খোলা জায়গায় নয়

player
থার্টিফার্স্ট নাইটের উৎসব খোলা জায়গায় নয়

থার্টি ফার্স্ট নাইটে খোলা স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। ফাইল ছবি

ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো বার খোলা রাখা যাবে না। ফাস্টফুড দোকান খোলা থাকবে রাত ১০টা পর্যন্ত। রাত ৮টার পর হাতিরঝিল এলাকায় কাউকে অবস্থান করতে দেয়া হবে না।’

ইংরেজি নববর্ষকে স্বাগত জানাতে থার্টিফার্স্ট নাইটের উৎসব খোলা জায়গায় করা যাবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

এদিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে আতশবাজি ও পটকা ফোটানোতে। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে কঠোরভাবে। রাজধানীতে সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো বার খোলা রাখা যাবে না। ফাস্টফুড দোকান খোলা থাকবে রাত ১০টা পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে থার্টিফার্স্ট নাইটের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ব্রিফিং করেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। দুটি বছর আমাদের খুব খারাপ কেটেছে, সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা নতুন বছরে করোনা থেকে মুক্ত হয়ে যেন আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারি।

‘নববর্ষের শুরুতে আমাদের সন্তানরা আতশবাজি পুড়িয়ে ও পটকা ফুটিয়ে আনন্দ করে থাকে। এতে অসুস্থ ও বয়স্করা অস্বস্তিতে পড়েন। এ জন্য এগুলো না করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’

থার্টিফার্স্ট নাইটের উৎসব খোলা জায়গায় নয়
থার্টিফার্স্ট নাইটের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বৃহস্পতিবার ব্রিফিং করেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নববর্ষের অনুষ্ঠান ঘিরে হুমকি নেই। যা নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তা সতর্কতামূলক।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পরে বহিরাগত কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না জানিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় থাকা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাড়ি নির্ধারিত সময়ের পর পরিচয় দিয়ে শাহবাগ ক্রসিং হয়ে ঢুকতে পারবে। পরিচয় দিয়ে নীলক্ষেত ক্রসিং দিয়েও হেঁটে ঢোকা যাবে।

গুলশান ও বনানী এলাকায় রাত ৮টার পর বহিরাগতরা ঢুকতে পারবে না। তবে সে এলাকায় বসবাস করা নাগরিকরা নির্ধারিত সময়ের পর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ (কাকলী ক্রসিং) এবং মহাখালী আমতলী ক্রসিং দিয়ে পরিচয় দিয়ে ঢুকতে পারবেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাত ৮টার পর হাতিরঝিল এলাকায় কাউকে অবস্থান করতে দেয়া হবে না। গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বসবাস করা নাগরিকদের রাত ৮টার মধ্যে নিজ এলাকায় ফিরতে অনুরোধ জানাচ্ছি।

‘ঢাকা মহানগরীতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর কোনো বার খোলা রাখা যাবে না। ফাস্টফুড দোকান খোলা থাকবে রাত ১০টা পর্যন্ত।’

এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, জনসমাবেশ ও উৎসবস্থলে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র বহন না করার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানান ডিএমপি কমিশনার।

তিনি জানান, নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) মীর রেজাউল আলম, অতিরিক্ত কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত কশিনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমানসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বড়দিন-থার্টি ফার্স্টে অনুষ্ঠান নয়
ঢাকায় বর্ষবরণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পল্লবীর ওসিসহ ১৭ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

পল্লবীর ওসিসহ ১৭ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

রাজধানীর পল্লবী থানা। ছবি: সংগৃহীত

অভিযোগে বলা হয়, ওসি পারভেজ ইসলামের নেতৃত্বে আসামিরা বাদীর ঘরের মালামাল তছনছ এবং শাড়ি, টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এতে বাদীর ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। বাদীকে না পেয়ে পুলিশ তার ভাই দুলারাকে গ্রেপ্তার করে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেয়।

রাজধানীর পল্লবী থানার ওসিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ভাংচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন পারভেজ আহম্মদ নামের ব্যক্তি।

ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে হাজির হয়ে তিনি বৃহস্পতিবার এ আবেদন করেন।

আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আগামী রোববার আদেশের জন্য তারিখ ঠিক করেন।

মামলার আবেদনে আসামি করা হয়েছে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউসার মাহমুদ, জহির উদ্দিন আহমেদ, নূরে আলম সিদ্দিকী, মো. সজিব খান, মামুন কাজী, মিল্টন দত্ত, মহিদুল ইসলাম, পার্থ মল্লিক, পিন্টু কুমার, মো. শাহরিয়ার নাঈম রোমান, মোহাম্মদ মোরশেদ আলম, মো. আনোয়ার ইসলাম ও ফেরদৌস রহমানকে।

এছাড়া আসামি করা হয়েছে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সোহেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, হরিদাস রায়, মো. আকিজুল ইসলাম এবং পুলিশ সোর্স খোকনকে।

আবেদনে বলা হয়, গতবছর ১ নভেম্বর বাদীর ঘরের তালা ভেঙে অভিযান চালায় পুলিশ। ওসি পারভেজ ইসলামের নেতৃত্বে আসামিরা ঘরের মালামাল তছনছ করে এবং গোপন স্থানে থাকা মূল্যবান শাড়ি, টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।

বাদী রাতে বাসায় ফিরে দেখতে পান আসামিরা বাসার সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে হার্ডড্রাইভ নিয়ে গেছে। এতে বাদীর ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। বাদীকে না পেয়ে পুলিশ তার ভাই দুলারাকে গ্রেপ্তার করে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেয়।

আরও পড়ুন:
বড়দিন-থার্টি ফার্স্টে অনুষ্ঠান নয়
ঢাকায় বর্ষবরণ

শেয়ার করুন

সাংবাদিককে অজ্ঞান করে নিয়ে গেল টাকা

সাংবাদিককে অজ্ঞান করে নিয়ে গেল টাকা

শামনের বন্ধু মাহবুব জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে শীতল পরিবহনে আসার পথে বাসে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অচেতন হন এই সাংবাদিক। তার কাছে ৫০ হাজার টাকা ছিল। এই টাকা নিয়ে গেছে প্রতারকরা।

নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা আসার পথে বাসে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সঙ্গে থাকা টাকা খুইয়েছেন এক সাংবাদিক।

বৃহস্পতিবার অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর তার পাকস্থলী পরিষ্কার করা হয়।

ভুক্তভোগী শামন হোসেন দৈনিক মানবজমিনে ক্রীড়া বিভাগে রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন।

শামনের বন্ধু মাহবুব জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে শীতল পরিবহনে আসার পথে বাসে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অচেতন হন এই সাংবাদিক।

তিনি বলেন, ‘গুলিস্তান এলে বাস থেকে নামিয়ে আমরা তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসি। তাকে পাকস্থলী পরিষ্কার করার পর মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

মাহবুব জানান, শামনের কাছে ৫০ হাজার টাকা ছিল। এই টাকা নিয়ে গেছে প্রতারকরা।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়াও শামনের অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন:
বড়দিন-থার্টি ফার্স্টে অনুষ্ঠান নয়
ঢাকায় বর্ষবরণ

শেয়ার করুন

রাজধানীতে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় আবার মৃত্যু

রাজধানীতে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় আবার মৃত্যু

দুর্ঘটনায় পড়া বাসটিকে রেকারে করে সরিয়ে নিচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুটি বাসই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল। সিগন্যাল ছাড়ার পর বাস দুটো সামনে এগিয়ে যেতে টান দেয়। তখনই রাকিব নিচে পড়ে।’

রাজধানীর মগবাজারে আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের দুটি বাসের প্রতিযোগিতায় এক বাসের চাপায় এক কিশোরের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর বাস ফেলে পালিয়ে গেছেন দুই চালক ও তাদের সহকারীরা।

বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে মৌচাক থেকে মগবাজার আসার পথে ঘরোয়া হোটেলের পাশে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজধানীর সদরঘাট থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা রুটে যাত্রী বহন করা বাস দুটি মৌচাক থেকে মগবাজারের দিকে আসছিল।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুটি বাসই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল। সিগন্যাল ছাড়ার পর বাস দুটো সামনে এগিয়ে যেতে টান দেয়। তখনই রাকিব নিচে পড়ে।’

রাজধানীতে একই রুটে চলা দুই বাসের যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় মৃত্যু এর আগেও ঘটেছে নানা সময়। পুলিশ ও পরিবহন মালিকরা এই সমস্যার সমাধানে দৃশ্যত কিছুই করতে পারছেন না।

রাকিবকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা এক মুদি দোকানদার মো. হারুন ঢাকা মেডিক্যালে বলেন, এই শিশু রাস্তায় মাস্ক, চিপস বিক্রি করে। আজমেরী পরিবহনের দুটি বাসের প্রতিযোগিতায় চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয় রাকিব। পরে আমি তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মগবাজারে নিহত কিশোর রাকিব বাসে বাসে নানা পণ্য বিক্রি করত। সে আজমেরীর একটি বাসে উঠেছিল। সেই বাস থেকে নেমে অন্য বাসে ওঠার চেষ্টায় ছিল। এ সময় যাত্রী তোলার চেষ্টায় পেছনে থাকা একই পরিবহনের আরেকটি বাসের ধাক্কায় আহত হয়।

দুর্ঘটনার পর দুটি বাস রমনা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্রাফিক রমনা জোনের সহকারী কমিশনার রেফাতুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাকিব ওই এলাকায় ফেরি করত। আজমেরী গ্লোরী পরিবহনের একটি বাসের পেছনের চাকায় আঘাত পায়। আশপাশের লোকজন আদদ্বীন হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।’

রাকিবকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা এক মুদি দোকানদার মো. হারুন ঢাকা মেডিক্যালে বলেন, ‘এই শিশু রাস্তায় মাস্ক, চিপস বিক্রি করে। আজমেরী পরিবহনের দুটি বাসের প্রতিযোগিতায় চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয় রাকিব। পরে আমি তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

নিহতের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন, ‘মগবাজার থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক শিশুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়েছিল। আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

আরও পড়ুন:
বড়দিন-থার্টি ফার্স্টে অনুষ্ঠান নয়
ঢাকায় বর্ষবরণ

শেয়ার করুন

কেন পুলিশের দিকে টাকা ছুড়েছিলেন চীনা নাগরিক?

কেন পুলিশের দিকে টাকা ছুড়েছিলেন চীনা নাগরিক?

রাজধানীতে ট্রাফিক পুলিশের দিকে এক চীনা নাগরিকের টাকা ছুড়ে মারার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

চীনা নাগরিকের চিৎকার ও টাকা ছুড়ে মারার দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন স্যাম আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। এরপর তিনি ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করেন। তবে নিউজবাংলার পক্ষ থেকে স্যামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, পুলিশের টাকা দাবির অভিযোগ তুললেও বিষয়টি তিনি নিজে দেখেননি বা কারও কাছ থেকে শোনেননি। ধারণা থেকেই তিনি অভিযোগটি তুলেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রাজধানীতে এক চীনা নাগরিক ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছেন। এক পর্যায়ে ‘তুমি টাকা চাও, এই নাও টাকা’ বলে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের দিকে টাকা ছুড়ে মারেন তিনি।

কী ঘটেছিল, কেন ওই বিদেশি ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের দিকে টাকা ছুড়ে মারেন- সেসব প্রশ্নের জবাব খুঁজেছে নিউজবাংলা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকেলের। আর ঘটনাস্থল মহাখালী রাওয়া ক্লাব সংলগ্ন ফ্লাইওভারের নিচে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশে।

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, রাওয়া ক্লাবের পাশ দিয়ে একটি সড়ক গেছে মহাখালী ডিওএইচএসের দিকে। ডিওএইচএস থেকে আসা গাড়িগুলো যাওয়ার জন্য এই পয়েন্টে জাহাঙ্গীর গেট থেকে আসা গাড়ির সারিকে কিছু সময় পর পর সিগন্যাল দিয়ে থামানো হয়।

এই সিগন্যালে যান নিয়ন্ত্রণ ও গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করতে পুলিশের একাধিক সদস্য নিয়োজিত। পাশেই রয়েছে শেরে বাংলানগর ট্রাফিকের পুলিশ বক্স।

প্রত্যক্ষদর্শীরা নিউজবাংলাকে জানান, মঙ্গলবার বিকেলে নিয়মিত চেকের অংশ হিসেবে একটি প্রাইভেটকার থামান কনস্টেবল রুহুল আমিন খান। চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজ নিয়ে যাচাই করতে নিয়ে যান পাশেই দায়িত্বপালনরত টিএসআই হারুন অর রশীদ সরকারের কাছে।

গাড়ি থামিয়ে চালকের কাছ থেকে কাগজ নেয়া, যাচাই করার জন্য টিএসআইয়ের কাছে যাওয়া এবং সেগুলো ফেরত দেয়া পর্যন্ত কিছুটা সময় লেগেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পথচারী বলেন, ‘এর মাঝেই হঠাৎ গাড়ি থেকে নেমে আসেন একজন বিদেশি। তিনি তাড়া দিচ্ছিলেন। তার চালককে কাগজগুলো ফিরিয়ে দিয়ে যেন যেতে দেয়া হয়। তবে ‍পুলিশ কাগজপত্র চেক করতে সময় নিচ্ছিল।’

এই পথচারী বলেন, ‘আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কী কথা হচ্ছিল তা বোঝা যাচ্ছিল না। বিদেশি ভদ্রলোক যখন চিৎকার শুরু করেন, আমরা এগিয়ে গেলাম। গিয়ে দেখি, উনি পুলিশের সঙ্গে রাগারাগি করছেন। এক পর্যায়ে টাকা ছুড়ে দেন পুলিশের দিকে।’

চীনা নাগরিকের ওই চিৎকার ও টাকা ছুড়ে মারার দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন স্যাম আহমেদ নামে একজন ব্যক্তি। এরপর তিনি ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করেন।

স্যাম পোস্টের বিবরণে লিখেন, “গতকাল রাওয়া ক্লাব এর সামনে এই সাদা রঙের গাড়িতে থাকা বিদেশিদের দেখে ট্রাফিক পুলিশের মাথা নষ্ট হয়ে যায়৷ সব কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও ড্রাইভারকে লেইম একটা অজুহাত দেখিয়ে যখন টাকা দাবি করলো তখন বিদেশি ভদ্রলোকটি পুলিশকে অনুরোধ করে বলেন, ‘HE IS A POOR MAN PLEASE DON DO THIS’. কে শোনে কার কথা টাকা দিতেই হবে না হলে কাগজপত্র দেবে না মামলা ছাড়া। অতঃপর বিদেশি ভদ্রলোকটি পুলিশের মুখে টাকা ছুড়ে মেরে ড্রাইভারকে বাঁচিয়ে নেয় পুলিশের হাত থেকে।”

তবে নিউজবাংলার পক্ষ থেকে স্যামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, পোস্টে তিনি পুলিশের টাকা দাবির অভিযোগ তুললেও বিষয়টি তিনি নিজে দেখেননি বা কারও কাছ থেকে শোনেননি। ধারণা থেকেই তিনি টাকা দাবির অভিযোগ তুলেছেন।

স্যাম বলেন, ‘টাকা না চাইলে তো চাইনিজ লোকটা টাকা ছুড়ে মারতো না।’

চীনা নাগরিকের ক্ষেপে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশ ড্রাইভারকে পাশে থাকা বক্সে যাওয়ার জন্য বলছিল। কিন্তু চাইনিজ নাগরিক তার ড্রাইভারকে দ্রুত ছাড়িয়ে নিতে চাইছিলেন। তার হয়ত তাড়া ছিল, সেজন্য ক্ষেপেছেন মনে হয়।’

স্যাম পরে তার পোস্টগুলো সরিয়ে নেন। তবে এর আগেই ভিডিওটি ডাউনলোড করে আরও অনেকে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

ঘটনাস্থলের ১০ গজের মধ্যে ছিলেন সিগারেট বিক্রেতা ফজলুল হক। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ কোনো টাকা চায়নি। কাগজ দেখতেছিল। বিদেশি হুদাই চিল্লাইছে। ‍উল্টা উনি পুলিশের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে।’

চীনা নাগরিক যে প্রাইভেটকারে ছিলেন তার চালক রফিকুল ইসলামের সঙ্গেও কথা বলেছে নিউজবাংলা। পুরো বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে দাবি করে রফিক বলেন, ‘ছোট একটা ঘটনা, এটারে অন্যরা এতো বড় বানাইছে। একটা ভুল বোঝাবুঝি হইছে। এই বাইরে কিছু হয় নাই।’

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই চীনা নাগরিক ঢাকার একটি বায়িং হাউজে কর্মরত।

ঘটনা নিয়ে যা বলছে ট্রাফিক পুলিশ

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিউজবাংলাকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নজরে আসতেই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ওই দিনই দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল রুহুল আমিন খান ও টিএসআই হারুন অর রশীদ সরকারকে ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের উপ কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশের দায় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-শেরে বাংলানগর জোন) শোভন চন্দ্র হোড় প্রাইভেটকার চালকের বরাত দিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশ নরমালি গাড়ি থামিয়ে কাগজ চেক করছিল। ওই ফরেইনার যে গাড়িতে ছিলেন সেটা থামান একজন কনস্টেবল। থামিয়ে চালকের কাছ থেকে কাগজগুলো নেন।

‘এরপর কাগজগুলো যাচাই করার জন্য ওখানে দায়িত্বে থাকা টিএসআই এর কাছে নিয়ে যান। টিএসআই হারুন অর রশীদ তখন অন্য আরেকটি গাড়ির কাগজ চেক করছিলেন। যে কারণে ওই গাড়ির কাগজটি চেক করতে দেরি হয়। আর তখনই গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন চীনা নাগরিক। চিৎকার শুরু করেন। টাকা ছুড়ে মারেন।’

গাড়ি চালকের কাছে কোনো টাকা চাওয়া হয়নি বলে জানান শোভন চন্দ্র হোড়। তিনি বলেন, ‘টাকা চাইলে চালকের কাছে চাইত। কিন্তু চালক বলছে তার কাছে কোনো টাকা চাওয়া হয়নি। চীনা নাগরিকের কোনো একটি মিটিং ছিল। চেকিংয়ের কারণে তার হয়তো দেরি হচ্ছিল। যে কারণে তিনি উত্তেজিত হয়ে যান। ভেবেছেন টাকার জন্য আটকে রাখছে। যেটা মোটেও ঠিক না। একটি গাড়ি থামানো থেকে শুরু করে চেক করে কাগজগুলো ব্যাক করতে একটা সময় প্রয়োজন হয়। সেই সময়টুকু চীনা নাগরিক দিতে চাননি।’

তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাহেদ আল মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জানার পরই তদন্ত শুরু করি। প্রতিটি পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের দুই সদস্যের কোনো অপরাধ পাইনি। এরপরেও তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডিসি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

‘এছাড়া গাড়ি চালক ও চীনা নাগরিকের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। চালকের কাছে আমাদের ট্রাফিক সদস্যরা কোনো টাকা দাবি করেননি। এমনকি চীনা নাগরিকের সঙ্গেও আমাদের সদস্যদের কোনো কথা হয়নি। উনি ধারণা করেছিলেন, টাকার জন্য হয়ত আটকিয়েছে। এই ধারণা থেকে তিনি এমন আচরণ করেছেন।’

এমন আচরণের জন্য চীনা ওই নাগরিক ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানান সাহেদ আল মাসুদ। তিনি বলেন, ‘ফোনে ওই চীনা নাগরিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি এমন আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তার প্রতিক্রিয়া এভাবে ভাইরাল হয়ে যাবে এমনটি বুঝতে পারনেনি এবং এ ধরনের কোনো ইনটেনশন তার ছিল না বলেও জানিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
বড়দিন-থার্টি ফার্স্টে অনুষ্ঠান নয়
ঢাকায় বর্ষবরণ

শেয়ার করুন

‘অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে’ যুবকের মৃত্যু

‘অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে’ যুবকের মৃত্যু

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি

ইয়াসিনের শ্যালিকা স্বর্ণা বলেন, ‘আমার দুলাভাই ও আপুর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।’

রাজধানীর খিলগাঁওতে ‘অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে’ এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তার স্বজনেরা। ওই যুবকের নাম মোহাম্মদ ইয়াসিন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২ টায় অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

ইয়াসিনের শ্যালিকা স্বর্ণা বলেন, ‘আমার দুলাভাই ও আপুর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত বলে জানান।’

স্বর্ণা আরও জানান, ইয়াসিন খিলগাঁও এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি একটি গ্যারেজে কাজ করতেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বড়দিন-থার্টি ফার্স্টে অনুষ্ঠান নয়
ঢাকায় বর্ষবরণ

শেয়ার করুন

ভাড়া নিয়ে তর্ক, পিটিয়ে রাস্তায় ফেলার পর যাত্রীর মৃত্যু

ভাড়া নিয়ে তর্ক, পিটিয়ে রাস্তায় ফেলার পর যাত্রীর মৃত্যু

গ্রিনবাংলা পরিবহনের বাসে ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। বাসটি জব্দ করার পাশাপাশি চালক ও তার সহকারীকে থানায় নিয়েছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

বাসে ইরফানের সঙ্গে ছিলেন আব্দুল কাদের। তিনি জানান, সকালে ডেমরা থেকে নবাবপুরের কর্মস্থলে যেতে গ্রিনবাংলা পরিবহনে উঠেন তারা। টিকাটুলির জয়কালী মন্দিরের সামনে আসার পর ভাড়া নিয়ে ইরফানের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয় ভাড়া তুলতে থাকা সহকারীর। এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে ইরফানকে কিল, ঘুষি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয়।

রাজধানীতে ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কির পর এক যাত্রীকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ধেয়ার পর তার মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম ইরফান আহমেদ।

এই ঘটনায় সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

পুলিশ বাসটি জব্দ করার পাশাপাশি চালক ও তার সহকারীকেও থানায় নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ওয়ারীর টিকাটুলির জয়কালী মন্দিরের সামনে সেই যাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার আগে কিল, ঘুষিও দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন নিহতের সঙ্গী।

আহত ইরফানকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে দুপুরের দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

বাসে ইরফানের সঙ্গে ছিলেন আব্দুল কাদের। তিনি জানান, সকালে ডেমরা থেকে নবাবপুরের কর্মস্থলে যেতে গ্রিনবাংলা পরিবহনে উঠেন তারা। টিকাটুলির জয়কালী মন্দিরের সামনে আসার পর ভাড়া নিয়ে ইরফানের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয় ভাড়া তুলতে থাকা সহকারীর।

এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে ইরফানকে কিল, ঘুষি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন কাদের। বলেন, ‘গুরুতর অবস্থায় টিকাটুলি সালাউদ্দিন হাসপাতাল নিয়ে যাই। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।’

এই ঘটনায় বাসে চালকের সহকারী মোজাম্মেল হোসেনকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দেয় বলেও জানান কাদের।

নিহতের ভাই এনাম আহমেদ জানান, ইরফান নবাবপুর এলাকায় একটি ইলেকট্রিক দোকানে চাকরি করেন। তাদের বাড়ি ডেমরার দেউল্লা বামৈল এলাকায়।

ইরফান এক কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘টিকাটুলি এলাকায় বাস থেকে ফেলে দেয়া এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান। এই ঘটনায় হেলপারকে ওয়ারী পুলিশ আটক করেছে।’

ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কন্ডাক্টরের সঙ্গে ঝামেলাটা হয়েছিল। আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেই বাসের ড্রাইভার ও হেলপারকে থানায় এনেছি। বাসটাও জব্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বড়দিন-থার্টি ফার্স্টে অনুষ্ঠান নয়
ঢাকায় বর্ষবরণ

শেয়ার করুন

রাস্তায় সাইড না দেয়া নিয়ে বিরোধে বাইকযাত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

রাস্তায় সাইড না দেয়া নিয়ে বিরোধে বাইকযাত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

মোটরসাইকেলকে সাইড না দেয়ায় একটি পিকনিকের বাসের গতিরোধ করেন নিহত সুফিয়ান ও তার বন্ধু। সেখানে ঝগড়ার পর বাসটি ছেড়ে যাওয়ার পর যাত্রীরা আবার গালাগাল করে। পরে সুফিয়ান চিটাগাং রোড ফর অ্যাকটিভ হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেল দিয়ে বাসটি আবার আটকান। সেখানে বাসের চালক, সহকারী ও পিকনিক যাত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। পরে সুফিয়ান ও তার বন্ধুকে বেধড়ক পেটানো হয়।

নারায়ণগঞ্জে মোটরসাইকেলকে বাসের সাইড না দেয়া নিয়ে পিকনিক যাত্রীদের সঙ্গে তর্কাতর্কির জেরে একজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের নাম মোহাম্মদ সুফিয়ান।

বুধবার রাত ১১টার দিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মামাতো ভাই আব্দুল্লাহ জানান, গত রাতে পল্টনে তার এক আত্মীয়ের দোকান থেকে বন্ধু অনিককে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সিদ্ধিরগঞ্জ যাচ্ছিলেন সুফিয়ান। শনির আখড়া এলাকায় সাইড না দেয়ায় একটি পিকনিকের বাসের গতিরোধ করেন তারা। সে সময় বাসচালক ও তার সহযোগীর সঙ্গে সুফিয়ানের তর্কবিতর্ক হয়।

এরপর বাসটি ছেড়ে যায়। সে সময় বাসে থাকা পিকনিকের লোকজন তাদের আবার গালাগাল করলে সুফিয়ান চিটাগাং রোড ফর অ্যাকটিভ হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেল দিয়ে বাসটি আবার আটকান। সেখানে বাসের চালক, সহকারী ও পিকনিক যাত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়।

পরে বাসের স্টাফ ও পিকনিকের লোকজন সুফিয়ান ও অনিককে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় সুফিয়ানকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়।

এ ঘটনায় গাড়িটি জব্দের পাশাপাশি চালক ও সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

সুফিয়ানের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার সাইনবোর্ড পশ্চিমপাড়া পুকুরপাড় গ্রামে। তিনি ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ছিলেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। তার দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে আছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে মারধরের শিকার হয়ে এক যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ মেডিক্যাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বড়দিন-থার্টি ফার্স্টে অনুষ্ঠান নয়
ঢাকায় বর্ষবরণ

শেয়ার করুন