আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে শতাধিক আহত

player
আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে শতাধিক আহত

পৌর এলাকার কলেজ রোডে সংঘর্ষে দুই দলের নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত আলী বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে যাচ্ছি। সন্ধ্যা হয়ে গেছে, আমরা এখনও টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’

সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক আহত হয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশ ঘিরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে এ সংঘর্ষ বাধে।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

এ ঘটনায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছেন।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, দুপুর ১টার দিকে সমাবেশে যোগ দিতে আসা বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানস বাচ্চু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের লোকজন সমাবেশে আসার পথে যুবলীগ-ছাত্রলীগের লোকজন হামলা চালায়। তারা লাঠিসোটা, ইটপাটকেল, ককটেল নিয়ে হামলা চালিয়েছে।’

এতে তাদের ৬০ থেকে ৭০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘দেশের মানুষের এখন একটাই দাবি। খালেদা জিয়ার মুক্তি আর বিদেশে সুচিকিৎসা। তা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

‘তবে আজকে আমাদের সমাবেশে আসা নেতা-কর্মীদের ওপর যে হামলা করা হয়েছে, তার জন্য আমরা আইনিভাবে বিচার চাইব।’

নিউজবাংলাকে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দানিউল হক মোল্লা বলেন, ‘বিএনপি সমাবেশের নামে আমাদের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালায়। তারা সমাবেশ করবে কিন্তু তা না করে আমাদের নেতা-কর্মীদের উপর কেন হামলা হল, তার জন্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে জবাব দিতে হবে।’

জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীরা শহরের ইসলামিয়া কলেজ মাঠে সমাবেশে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক শ্লোগান দেয় এবং ব্যানার ছিঁড়ে ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় সরকারি ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন কাটাখালি সেতুর কাছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা এর প্রতিবাদ করলে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে আমাদের ৫০ থেকে ৬০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে সমাবেশের আয়োজন করে দলটি। এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১টার দিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। শহর জুরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে দেখা গেছে।

উভয় পক্ষের নেতাদের দাবি অনুযায়ী, সংঘর্ষে দুই পক্ষের শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে যাচ্ছি। সন্ধ্যা হয়ে গেছে, আমরা এখনও টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করছি। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।’

আরও পড়ুন:
জয়ী মেম্বর প্রার্থীর সমর্থককে মারধর, সংঘর্ষে আহত ৭
জমি নিয়ে ভাইদের বিরোধে সংঘর্ষ
যুবদল-ছাত্রদলের সংঘর্ষে পণ্ড খালেদার মুক্তির সমাবেশ
সরাইলে সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে মার খেল পুলিশ
পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের মামলায় আসামি ২ হাজার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মেয়েকে গুম, বাবার যাবজ্জীবন

মেয়েকে গুম, বাবার যাবজ্জীবন

আদালত প্রাঙ্গণে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত লুৎফর রহমান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার মকরমপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে রাবেয়া খাতুন ভালোবেসে বিয়ে করেন একই এলাকার আব্দুর রশীদ নামে এক যুবককে। এই বিয়ে কেন্দ্র করেই শুরু হয় দুই পরিবারের মধ্যে শত্রুতা।

নিজের মেয়েকে অপহরণ ও গুমের মামলায় বাবা লুৎফর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২।

বুধবার ওই আদালতের বিচারক মো. রোকনুজ্জামান রায়টি ঘোষণা করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার মকরমপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে রাবেয়া খাতুন ভালোবেসে বিয়ে করেন একই এলাকার আব্দুর রশীদ নামে এক যুবককে।

এ নিয়ে রাবেয়ার পরিবারের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে রাবেয়ার ভাশুর হোসেন আলী হত্যার শিকার হন।

এ ঘটনায় রাবেয়ার বাবাসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। মামলায় লুৎফর রহমানসহ অন্য আসামিরা নিম্ন আদালতে খালাস পান।

কিন্তু হত্যাকাণ্ডের একমাত্র চাক্ষুস সাক্ষী ছিলেন ৩৫ বছরের রাবেয়া খাতুন। এ ঘটনার পর রাবেয়া খাতুন অনেকবার তার বাবা লুৎফর রহমানকে হুমকি দেন, তিনি বিষয়টি উচ্চ আদালতে সাক্ষ্য দেবেন।

এর জের ধরে নিজের মেয়েকেই হত্যার পরিকল্পনা করেন লুৎফর রহমান।

২০০৩ সালের ২০ এপ্রিল মেয়ে রাবেয়াকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পীরগাছা চৌধুরানী বাজারে ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান লুৎফর। সেখানে তার বেশ কয়েকজন সহযোগীও ছিলেন। কিন্তু রাবেয়া বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করলে লুৎফর তাকে আবারও বাড়িতে নিয়ে যান।

একই বছরের ২৭ মে থেকে রাবেয়া নিখোঁজ হন। পরে তার ছেলে রাঙ্গা মিয়া পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সেটি আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালত সাধারণ ডায়েরিটিকে তদন্ত করে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।

পরে পুলিশ তদন্ত শেষে লুৎফর রহমানসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এর মধ্যে এক আসামি মারা যান। মামলায় ১৪ সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আসামি লুৎফর রহমানকে দোষি সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অন্য আসামিদের খালাস দেয় আদালত।

সরকারপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২-এর বিশেষ পিপি জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, দীর্ঘদিন পর চাঞ্চল্যকর একটি মামলার রায় হয়েছে। রায়ে প্রধান অভিযুক্ত সাজা পেলেও অন্য আসামিরা খালাস পেয়েছেন।

বাদীর সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
জয়ী মেম্বর প্রার্থীর সমর্থককে মারধর, সংঘর্ষে আহত ৭
জমি নিয়ে ভাইদের বিরোধে সংঘর্ষ
যুবদল-ছাত্রদলের সংঘর্ষে পণ্ড খালেদার মুক্তির সমাবেশ
সরাইলে সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে মার খেল পুলিশ
পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের মামলায় আসামি ২ হাজার

শেয়ার করুন

কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ৭ প্রার্থীর যত অভিযোগ

কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ৭ প্রার্থীর যত অভিযোগ

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা। ছবি: নিউজবাংলা

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘আব্দুল কাদের মির্জা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার অনুসারী জনবিচ্ছিন্ন প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে সাতটি ইউনিয়নে হীনচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ইতোমধ্যে তার সন্ত্রাসীদের দিয়ে এবং সশরীরে বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে উপস্থিত হয়ে আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।’

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বুধবার দুপুরে একসঙ্গে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই লিখিত অভিযোগ দেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘আব্দুল কাদের মির্জা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার অনুসারী জনবিচ্ছিন্ন প্রার্থীদের অবৈধভাবে নির্বাচিত করতে সাতটি ইউনিয়নে হীনচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ইতোমধ্যে তার সন্ত্রাসীদের দিয়ে এবং সশরীরে বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে উপস্থিত হয়ে আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। মোবাইল ফোনেও অনেককে হুমকি দিচ্ছেন। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

আরও বলা হয়, ‘তিনি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পৌরসভার সরকারি গাড়িতে তার সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ে বিভিন্ন গণসংযোগে উসকানিমূলক বক্তব্য রাখছেন। এতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় আব্দুল কাদের মির্জার এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধসহ তার অনুসারীদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি।

লিখিত অভিযোগ দেয়া প্রার্থীরা হলেন ২ নম্বর চরপার্বতী ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু, মুছাপুর ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী শাহীন, ৮ নম্বর চরএলাহী ইউপির প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক, ৬ নম্বর রামপুর ইউপির প্রার্থী সিরাজিস সালেকীন রিমন, ৩ নম্বর চরহাজারী ইউপিতে নুরুজ্জামান স্বপন, ৫ নম্বর চরফকিরা ইউপির প্রার্থী জায়দল হক কচি ও ১ নম্বর সিরাজপুর ইউপির প্রার্থী মাঈন উদ্দিন মামুন।

অভিযোগের বিষয়ে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা বলেন, ‘আমি কোনো সন্ত্রাসী নিয়ে চলি না। আমার দলের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে থাকে। অবাধ-সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য প্রশাসন আমার থেকে যে সহযোগিতা চায়, সে সহযোগিতা করব।’

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, অভিযোগ করার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এখনও অভিযোগপত্র আমার হাতে আসেনি।’

আরও পড়ুন:
জয়ী মেম্বর প্রার্থীর সমর্থককে মারধর, সংঘর্ষে আহত ৭
জমি নিয়ে ভাইদের বিরোধে সংঘর্ষ
যুবদল-ছাত্রদলের সংঘর্ষে পণ্ড খালেদার মুক্তির সমাবেশ
সরাইলে সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে মার খেল পুলিশ
পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের মামলায় আসামি ২ হাজার

শেয়ার করুন

সাত জেলায় বিয়ে করে অভিনব প্রতারণা, যুবক গ্রেপ্তার

সাত জেলায় বিয়ে করে অভিনব প্রতারণা, যুবক গ্রেপ্তার

প্রতারণার অভিযোগে আটক শাকিল আজাদ। ছবি: নিউজবাংলা

অভিযুক্ত শাকিল আজাদ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রথমেই নিম্ন আয়ের পরিবার খোঁজেন। পরে সেই পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করে শুরু করেন আসল প্রতারণা।

প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে বিয়েকেই বেছে নিয়েছিলেন অভিযুক্ত যুবক। যেখানে বিয়ে করেন, সেখানেই নিজেকে কাতার প্রবাসী পরিচয় দেন। পরে এলাকার বেকার যুবকদের কাতারে নেয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেন টাকা-পয়সা।

এভাবে একে একে সাত জেলায় সাতটি বিয়ে করেন ২৯ বছর বয়সী শাকিল আজাদ। তার বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে মঙ্গলবার গভীর রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে শাকিলকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্টও জব্দ করা হয়।

বুধবার বেলা ১টার দিকে কুমিল্লা র‌্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মেজর সাকিব জানান, গ্রেপ্তার শাকিল আজাদ প্রতারণার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত কুমিল্লা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, নীলফামারী ও ফরিদপুরে বিয়ে করেছেন।

প্রথমে তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ওই এলাকার নিম্ন আয়ের পরিবার খোঁজেন। পরে সেই পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির এলাকার বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় দান-খয়রাত করেন। নিজেকে পরিচয় দেন কাতার প্রবাসী হিসেবে।

এভাবে শ্বশুরবাড়ির এলাকার বেকার যুবকদের কাতার নেয়ার কথা বলে টাকা-পয়সা হাতিয়ে উধাও হয়ে যান। পরে প্রতারণার শিকার বেকার যুবকরা তার শ্বশুরবাড়ি গিয়ে টাকার জন্য চাপ দেন।

এসব ঘটনায় একদিকে কন্যাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য এলাকার যুবকদের চাপে অসহ্য হয়ে উঠত ওই পরিবারের মানুষদের জীবন।

২০১৮ সালে আজাদ চতুর্থ বিয়েটি করেন খুলনায়। ওই এলাকা থেকে তিনি বেশ কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে উধাও হন। পরে এলাকাবাসীর রোষানলে পড়ে ওই পরিবারটি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।

১৫ দিন আগে আজাদের চতুর্থ স্ত্রী কুমিল্লার র‌্যাব অফিসে একটি অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কমান্ডার সাকিব আরও জানান, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইতিপূর্বে আজাদের পাসপোর্টটি বাতিল করেছে। বর্তমানে তিনি ছদ্মবেশে চট্টগ্রামে একটি বেকারি খুলে ব্যবসা করছিলেন।

শাকিলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বরুড়া থানায় হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন:
জয়ী মেম্বর প্রার্থীর সমর্থককে মারধর, সংঘর্ষে আহত ৭
জমি নিয়ে ভাইদের বিরোধে সংঘর্ষ
যুবদল-ছাত্রদলের সংঘর্ষে পণ্ড খালেদার মুক্তির সমাবেশ
সরাইলে সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে মার খেল পুলিশ
পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের মামলায় আসামি ২ হাজার

শেয়ার করুন

নির্মাণকাজ ও বৃষ্টিতে টঙ্গীতে যানজট চরমে

নির্মাণকাজ ও বৃষ্টিতে টঙ্গীতে যানজট চরমে

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীতে থমকে থাকা যানবাহন। ছবি: নিউজবাংলা

বলাকা পরিবহনের যাত্রী রেজাউল করিম বলেন, ‘বিকেল ৪টায় টঙ্গীর চেরাগআলী থেকে উত্তরার রাজলক্ষ্মীর উদ্দেশে রওনা দিই। পথের দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিটের। অথচ টঙ্গী ব্রিজ পার হতেই সময় লেগেছে দেড় ঘণ্টা। সড়কের বিভিন্ন স্থান কাদায় মাখামাখি হওয়ায় হেঁটে যাওয়ারও উপায় নেই।’

বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের নির্মাণকাজের জন্য এমনিতেই তীব্র যানজটের মুখে পড়তে হয় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী এলাকা ব্যবহার করা যাত্রীদের। সেই ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে বুধবার সকাল থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে।

খানাখন্দে ভরা রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমায় যান চলাচল করছে ধীরগতিতে। আর এতেই দেখা দিয়েছে তীব্র জট। অনেকে বিকল্প রাস্তায় যাচ্ছেন গন্তব্যে।

পরিস্থিতি দেখতে সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীতে অবস্থান নেন নিউজবাংলার প্রতিবেদক।

দেখা যায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে বেলা ১১টা থেকে থেমে থেমে যান চলাচল করছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোগান্তি বাড়তে থাকে।

ঢাকামুখী লেন বন্ধ থাকায় টঙ্গী-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পুবাইল পর্যন্ত গাড়ির দীর্ঘ সারি। অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দিতে দেখা গেছে।

বলাকা পরিবহনের যাত্রী রেজাউল করিম বলেন, ‘বিকেল ৪টায় টঙ্গীর চেরাগআলী থেকে উত্তরার রাজলক্ষ্মীর উদ্দেশে রওনা দিই। পথের দূরত্ব মাত্র ১০ মিনিটের। অথচ টঙ্গী ব্রিজ পার হতেই সময় লেগেছে দেড় ঘণ্টা। সড়কের বিভিন্ন স্থান কাদায় মাখামাখি হওয়ায় হেঁটে যাওয়ারও উপায় নেই।’

মিলগেট এলাকায় যানজটে পড়ে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে বসে ছিলেন পিকআপ চালক ওসমান। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কলেজগেট থেকে মিলগেট আসতেই সময় লেগেছে এক ঘণ্টার বেশি। প্রায় ২০ মিনিট একই জায়গায় বসে আছি।’

ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছে, মহাসড়কে বিআরটির নির্মাণকাজের কারণে যানজট এই পথের যাত্রীদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বৃষ্টি হলে যানজট আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

যানজটের কারণে হেঁটে যাওয়ারও উপায় থাকে না। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দে পানি জমে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পুরো সড়ক কর্দমাক্ত হওয়ার ধীরগতিতে চলছে যানবাহন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (দক্ষিণ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে বিআরটি প্রজেক্টের কাজ চলার কারণে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। তা ছাড়া বৃষ্টিতে গাড়ি চলার গতি কমে যাওয়ায় ঢাকামুখী চাপ বেড়েছে। এতে উত্তরার যানজট টঙ্গীর চেরাগআলী পর্যন্ত পৌঁছেছে। ডিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত গাড়ি ঢাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছি।’

ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘শীত মৌসুমে যানজট আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তবে বর্ষার আগে যদি বিআরটির নির্মাণকাজ শেষ করা না যায়, তাহলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে চলাচলকারীদের।

আরও পড়ুন:
জয়ী মেম্বর প্রার্থীর সমর্থককে মারধর, সংঘর্ষে আহত ৭
জমি নিয়ে ভাইদের বিরোধে সংঘর্ষ
যুবদল-ছাত্রদলের সংঘর্ষে পণ্ড খালেদার মুক্তির সমাবেশ
সরাইলে সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে মার খেল পুলিশ
পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের মামলায় আসামি ২ হাজার

শেয়ার করুন

টিকা নিতে বাইকে রওনা ৩ স্কুলছাত্রের, বাসচাপায় নিহত ২

টিকা নিতে বাইকে রওনা ৩ স্কুলছাত্রের, বাসচাপায় নিহত ২

ফাইল ছবি/ নিউজবাংলা

করোনার টিকা নিতে ওই তিন বন্ধু স্কুলের সামনে জড়ো হয়। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে করে রওনা দেয় গৌরনদী সদরের টিকাকেন্দ্রের দিকে। সে সময় বরগুনা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।

করোনার টিকা নিতে মোটরসাইকেলে করে রওনা দিয়েছিল বরিশালের গৌরনদীর একটি মাধ্যমিক স্কুলের নবম শ্রেণির তিন ছাত্র। ওই স্কুলের সামনেই বাসচাপায় প্রাণ হারায় দুইজন। আরেকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদীর বার্থী তাঁরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে বুধবার সকালে এই দুর্ঘটনা হয়।

নিহত কিশোররা হলেন ওই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র অন্তর মৃধা ও রেদওয়ান ফকির। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাদের সহপাঠী মো. শান্ত।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ বেলাল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, করোনার টিকা নিতে ওই তিন বন্ধু স্কুলের সামনে জড়ো হয়। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে করে রওনা দেয় গৌরনদী সদরের এবি সিদ্দিক ডায়গনস্টিক সেন্টারের দিকে। সে সময় বরগুনার পাথরঘাটা থেকে চট্টগ্রামগামী বলেশ্বর পরিবহনের একটি বাস স্কুলের সামনেই মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।

স্থানীয় লোকজন আহতদের নিয়ে যান বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পথেই মৃত্যু হয় অন্তরের।

ওসি শেখ বেলাল জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান রেদোয়ানও।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাসটি আটকে ভাঙচুর চালায়। এতে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। হাইওয়ে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

হাইওয়ে থানার ওসি জানান, হতাহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। পাওয়া যায়নি বাসচালক ও হেলপারকে।

আরও পড়ুন:
জয়ী মেম্বর প্রার্থীর সমর্থককে মারধর, সংঘর্ষে আহত ৭
জমি নিয়ে ভাইদের বিরোধে সংঘর্ষ
যুবদল-ছাত্রদলের সংঘর্ষে পণ্ড খালেদার মুক্তির সমাবেশ
সরাইলে সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে মার খেল পুলিশ
পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের মামলায় আসামি ২ হাজার

শেয়ার করুন

‘নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করলে এলাকায় থাইকেন না’

‘নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করলে এলাকায় থাইকেন না’

ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণে আছি। অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা অফিসে থাকতে পারে। তবে আমি এই বিষয়ে অবগত নই।’

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়নে ‘বিদ্রোহী প্রার্থীর’ কর্মী-সমর্থকদের এলাকায় না থাকার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

তবে নৌকার প্রার্থী বলছেন, তিনি এ ধরনের কোনো কথাই বলেননি।

নারান্দী ইউনিয়নের শালংকা গ্রামে ২১ জানুয়ারি উঠান বৈঠক করেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম। এ সময় তার দেয়া বক্তব্য পরদিন ‘সত্যের সন্ধান’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট হয়।

ভিডিওতে প্রার্থীকে বলতে শোনা যায়, ‘মুখে জয় বাংলা বলবেন, আর কাজ করবেন নৌকার বিরুদ্ধে, আমি লালু, ভুলু ও শাকিলকে বলে দিতে চাই- আগামীকালের পর এলাকায় থাইকেন না।’

যাদেরকে এলাকায় না থাকার হুমকি দেয়া হয়েছে তাদের একজন শাকিল রেজা। তিনি নারান্দী ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শফিক গত নির্বাচনে যখন চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন তখন আমি, লালু আর কালু দিনরাত পরিশ্রম করে তাকে চেয়ারম্যান বানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে অসহায়দের কাছ থেকে ঘর দেবেন বলে টাকাপয়সা নিয়েছেন।

‘আমরা সেগুলোর প্রতিবাদ করেছি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আছে। তাই এবারের নির্বাচনে আমরা তার সঙ্গে নাই। আর এ জন্যই তিনি গ্রামে এসে আমাদেরকেই হুমকি দিচ্ছেন।’

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুছলেহ উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পুরো ইউনিয়নে ঘুরে নৌকার প্রার্থী বুঝতে পেরেছেন তার কোনো জনসমর্থন নাই। নির্বাচনে নিশ্চিত ভরাডুবি জেনে রাজনৈতিক প্রভাব এবং পেশিশক্তি ব্যবহারের এমন হীন তৎপরতায় জড়িয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘শফিক প্রতিনিয়ত আমার কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। আমার প্রচারে বাধা দিচ্ছেন। এ বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।’

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য আমি দেইনি। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন তারা এখনো নিজেদের এলাকায় অবস্থান করছেন। আমি বলেছি আপনারা আওয়ামী লীগ করবেন আবার দলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচন করবেন এমনটা ঠিক না।’

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াৎ হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা আমার কাছে নয় দেবেন ওই ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে।’

ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণে আছি। অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটা অফিসে থাকতে পারে। তবে আমি এই বিষয়ে অবগত নই।’

আগামী ৩১ জানুয়ারি ষষ্ঠ ধাপে জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমবারের মতো ভোট হবে ইভিএমে।

আরও পড়ুন:
জয়ী মেম্বর প্রার্থীর সমর্থককে মারধর, সংঘর্ষে আহত ৭
জমি নিয়ে ভাইদের বিরোধে সংঘর্ষ
যুবদল-ছাত্রদলের সংঘর্ষে পণ্ড খালেদার মুক্তির সমাবেশ
সরাইলে সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে মার খেল পুলিশ
পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের মামলায় আসামি ২ হাজার

শেয়ার করুন

লোকালয়ের ‘নাগরিক’ বুনোহাতির শাবক

লোকালয়ের ‘নাগরিক’ বুনোহাতির শাবক

মায়ের সঙ্গে ছয় দিন আগে জন্ম নেয়া হাতি। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বুনোহাতি সাধারণত জঙ্গলেই সন্তান প্রসব করে। লোকালয়ে শাবক জন্ম দেয়া বিরল ঘটনা। শাবক ও মা হাতি দুটোই সুস্থ আছে। বনকর্মীরা তাদের ওপর নজর রাখছেন।’

শীতের ভোরে হালকা কুয়াশার মাঝে ছোট্ট শাবককে নিয়ে ঘুরছে মা হাতি। কদিন আগেই জন্ম নিয়েছে এই শাবক।

তবে জঙ্গলে নয়, এই শাবকের জন্ম হয়েছে লোকালয়ে। বন কর্মকর্তা বলছেন, লোকালয়ে হাতির বাচ্চা প্রসব বেশ বিরল ঘটনা।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দেয়াং পাহাড়ে রাডার অফিসের সামনে এলাকায় গত বৃহস্পতিবার হাতিটির জন্ম। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে শনিবার।

স্থানীয় বাসিন্দা এইচ এম জাহিদ জানান, মঙ্গলবার ভোরে মা হাতি তার শাবক নিয়ে রাডার অফিস ও গুচ্ছগ্রাম এলাকায় ঘুরছিল। দুজনের চলাফেরাই বেশ শান্ত ছিল। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকটি হাতি ছিল।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বনকর্মীরা হাতিকে বাচ্চা প্রসব করতে দেখেন। তবে স্থানীয়রা বিরক্ত করতে পারে ভেবে প্রকাশ করা হয়নি।

‘বুনোহাতি সাধারণত জঙ্গলেই সন্তান প্রসব করে। লোকালয়ে শাবক জন্ম দেয়া বিরল ঘটনা। শাবক ও মা হাতি দুটোই সুস্থ আছে। বনকর্মীরা তাদের ওপর নজর রাখছেন।’

তিনি জানান, সম্প্রতি বন্য হাতির দল চট্টগ্রামের আনোয়ারা, সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর সংরক্ষিত বন ছেড়ে লোকালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। বিশেষ করে বিলের ফসলসংলগ্ন এলাকায় তারা ঘোরাফেরা করছে। স্থানীয়দের বাধায় এরা অনেক সময় জনবসতিতেও হামলা করছে। পাল্টা আক্রমণে মারাও পড়ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক ও হাতি বিশেষজ্ঞ ড. এ এইচ এম রায়হান সরকার বলেন, ‘লোকালয়ে হাতির বাচ্চা প্রসব বেশ বিরল ঘটনা। সম্ভবত জঙ্গলে যাওয়ার আগেই বাচ্চা প্রসব হয়ে গেছে।’

বন বিভাগের চট্টগ্রাম দক্ষিণ রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, পাহাড় ও জঙ্গল কেটে বসতি নষ্ট করায় হাতিরা লোকালয়ে চলে আসছে। হাতির খাবার জোগান দিতে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। হাতি নিয়ন্ত্রণেও বন বিভাগ কাজ করছে।

আরও পড়ুন:
জয়ী মেম্বর প্রার্থীর সমর্থককে মারধর, সংঘর্ষে আহত ৭
জমি নিয়ে ভাইদের বিরোধে সংঘর্ষ
যুবদল-ছাত্রদলের সংঘর্ষে পণ্ড খালেদার মুক্তির সমাবেশ
সরাইলে সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে মার খেল পুলিশ
পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের মামলায় আসামি ২ হাজার

শেয়ার করুন